নৈরাজ্য ইসলাম সমর্থন করে না- শাহ্ এস এম আক্তারুজ্জামান আল্-মাইজভান্ডারী

নৈরাজ্য ইসলাম সমর্থন করে না-
শাহ্ এস এম আক্তারুজ্জামান আল্-মাইজভান্ডারী

সকল গুনগান, স্তব আর প্রশংসাগীতি সবই মহান সৃষ্ঠিকর্তা আল্লাহর জন্য যিনি সর্বময় মতার প্রকৃত মালিক। যিনি জগতের সকল কল্যাণ আর নানন্দিক রূপ সৌন্দর্যের স্রষ্টা। তাঁর উদ্দেশ্যেই আমাদের সকল বন্দনা আর উপাসনা। তিনি আমাদেরকে শান্তি, সাম্য ও শৃংখলার ধর্ম ইসলামে বিশ্বাস ও আনুগত্যের যে তাওফীক দিয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর একক হুকুমেই সবকিছুই পরিচালিত ও আবর্তিত হচ্ছে। তাঁর রাজত্বে একক প্রভুত্বে আর কেউই নেই। তিনি লা শরীক। তিনিই স্রষ্টা, রিজিকদাতা ও উপাস্য পালনকর্তা। পরিবার সদৃশ্য সৃষ্ট জগতকে তিনিই রা ও পালন করেন। আমাদের জীবন মৃত্যুর মালিক তিনিই। আল্লাহই তাঁর সৃষ্টির রনাবেন করেন। তাই কেউ মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি ভঙ্গ করলে তা হয় আল্লাহর কাছে গুরুতর অপরাধ, মহাপাপ। এমনকি তার সৃষ্টিতে কোন বিপর্যয় ঘটানোকে তিনি নরহত্যার চেয়েও জঘন্য ও গুরুতর পাপ বলে পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেন। ইরশাদ হয়েছে “আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করো তাদের সাথে যারা লড়াই করতে আসে তোমাদের সাথে। আর তোমরা সীমালংঘন করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না”(সুরা বাকারাঃ আয়াত -১৯০)। আবার একই সুরার ২১৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে “—–আর গোলযোগ সৃষ্টি করা ত খুনোখুনির চাইতেও কঠিন গুনাহের কাজ ”।
মানুষকে কষ্ট দেয়া, ত্রাস সৃষ্টি করা, জানমালের তিসাধন করা, বিপর্যয় ও ফাসাদ সৃষ্টি করা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও রক্তপাত করা, মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘিœত করা শুধু প্রচলিত আইনেই অপরাধ নয়, বরং ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে তা নরহত্যা থেকেও জঘন্যতর অপরাধ। আর ইসলাম রার নামে এ ধরনের অনৈসলামিক কর্মকান্ড চালানো হলে তা হবে ইসলামকে কলঙ্কিত করার মত আরো একটি অমার্জনীয় অপরাধ। পবিত্র কুরআনের কয়েকটি আয়াত এ প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য। ইরশাদ হচ্ছে, “যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি। যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার নর-নারীকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে”। (৩৩ঃ৫৭-৫৮)
ইসলামের স্বার্থ রার নাম দিয়ে যারা মানুষের উপর চড়াও হয়, লাঠিসোটা নিয়ে নিরীহ পথচারীর উপর হিংস্র হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়ে, নিরপরাধ মানুষের সম্পদ বিনষ্ট করে, গাড়ি ভাংচুর করে, আগুন লাগায়; তারা ইসলামের বন্ধু হতে পারে না বরং শান্তির ধর্ম ইসলামকে তার শত্র“দের চোখেও হেয় ও ঘৃণ্য প্রতিপন্নকারী।
রাসুলে পাক (দঃ) ইরশাদ করেন, “কেবল সে-ই মুসলমান, যার হাত ও মুখের অনিষ্টতা থেকে অন্য মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে; কেউই কষ্ট না পায়। আর কেবল সে-ই মুমিন যার কাছ থেকে মানুষ তাদের রক্ত ও ধনসম্পদের বিয়য়ে নিরুদ্বেগ থাকে”। (মাযহারীর বরাতে তাফসীরে মা-আরেফুল কুরআন)
যারা মনে করে থাকে ইসলামের নাম দিয়ে করলে সব রকম নৈরাজ্য লুটপাট বা জিহাদ বৈধ, তাদের মনে রাখা উচিত, মুসলমান আক্রান্ত না হলে অস্ত্র ধারণ করাও হারাম। প্রিয় নবীর ইরশাদ, “যে অন্যায় ভাবে কারও প্রতি অস্ত্র প্রয়োগ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়”। হাজীদের জন্য আসওয়াদ চুম্বন করা অতীব পূণ্যময় কাজ। কিন্তু হজ্বের মাসআলায় স্পষ্ট আছে যে, কোন মুসলমানকে কষ্ট দিয়ে সেই আসওয়াদকে চুমো দেওয়া গুণাহ। প্রয়োজনে ইস্তলাম বা ইশারায় বিকল্প চুমো দেবে, আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহর মেহমানদের কষ্ট দিয়ে করা সে পূণ্য আল্লাহর কাছে প্রহণযোগ্য নয়। বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদীসে রয়েছে, “কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম অবস্থানে থাকবে সেই ব্যক্তি, যার তির আশংকায় সাধারণ মানুষ তার থেকে দুরে থাকে”। ইয়াজীদ মসনদকে কষ্টকমুক্ত করার হীন উদ্দেশ্যে ইমাম হুসাইন ও আহলে বাইতের প্রতি অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়েছেন যা ইয়াজীদিদের কাছে বৈধ। পান্তরে ইমাম হুসাইন (রাঃ) নিজ অনুসারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, যতণ পর্যন্ত শত্র“রা তাদের দিকে তীর না ছোঁড়ে ততণ পর্যন্ত তারা যেন কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধের সূচনা না করেন। প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি কোন মুমিন ব্যক্তিকে কষ্ট দেয়, সে আমাকেই কষ্ট দিয়েছে। আর যে ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দেয় সে তো আল্লাহকেই কষ্ট দিল”।
পৃথিবীতে অনর্থ, বিপর্যয় সৃষ্টি ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা করাও ইসলাম সম্মত নয়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “আর এমন কিছু লোক রয়েছে, যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা আপনাকে চমৎকৃত করবে। আর নিজের মনের মাঝে যা আছে তাতে আল্লাহকে স্ব্যা উপস্থাপন করে। প্রকৃতপে তারা কঠিন ঝগড়াটে। যখন তারা ফিরে যায় তখন পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করে। আর শস্যত্রে ও প্রজম্মের বিনাশ সাধন করতে সচেষ্ট হয়। আল্লাহ তাআলা ফাসাদ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না”। (২:২০৪-২০৫) তিনি আরো ইরশাদ করেন, “পৃথিবীতে সংস্কার সাধনের পর তোমরা তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না”। (৭:৫৬) এতে পৃথিবীর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় প্রকার সংস্কারের কথাই বলা হয়েছে। বাহ্যিক সংস্কার, যেমন-একে চাষাবাদ, চলাফেরা ও বসবাসের উপযোগী করা যাতে উৎপাদন ও উৎপন্ন সামগ্রী মানুষের কল্যাণে আসে। এর ব্যত্যয় ঘটানোই বিপর্যয় ও অনর্থ সৃষ্টি করা, যা হারাম। আর এর অভ্যন্তরীণ সংস্কার যেমন-নবী রাসুল ও হেদায়তের গ্রন্থ দিয়ে এটাকে কফুর, শির্ক ও মানবতা বিপর্যয় অন্যায় থেকে মুক্ত করে মানুষের শুদ্ধবুদ্ধির উদয় ঘটায়। এটার পরিপন্থীতাই ফাসাদ।
রাজনৈতিক দলমতের অন্তর্ভূক্ত না হলেই অনেকে প্রতিপকে কাফির মুশরিক সাব্যস্ত করে তাদের মালসম্পদ লুটে নেয়া, তাদেরকে হত্যা করাও পূণ্য মনে করে এরকম কিছ ধর্ম ব্যবসায়ী। একাত্তরে হিন্দুদের মাল সম্পদ ও সম্ভ্রম লুট করে আতœপ্রসাদ লাভ করেছিল এ ধরনের কিছু কুলংগার। অথচ আল্লাহর রাসুলের ফরমান, “মনে রেখো, যদি কোন মুসলমান কোন অমুসলিমের উপর নিপীড়ন চালায় বা তার অধিকার খর্ব করে, বা তাকে সাধ্যের অতিরিক্ত কাজে বাধ্য করে বা জবরদস্তি কিছু কেড়ে নেয়, তবে হাশরের দিন আমিই তার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে আল্লাহর কাছে নালিশ করবো”। (আবু দাউদ)
সুতরাং আল্লাহর রাজ্যে কাহারোই আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের আদেশ নিষেধকে অমান্য করার সুযোগ নেই।আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর পথে চলার তৌফিক দান করুন।

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged | Comments Off on নৈরাজ্য ইসলাম সমর্থন করে না- শাহ্ এস এম আক্তারুজ্জামান আল্-মাইজভান্ডারী

সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর দুবাই সফর

সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর সম্প্রতি দুবাই সফর করেছেন

Posted in Uncategorized, ছবি গ্যালারী, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর দুবাই সফর

ভিডিও

Posted in Uncategorized, ভিডিও | Tagged , , | Comments Off on ভিডিও

সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ এর পবিত্র ৭৪ তম খোশরোজ শরীফে খালেদা জিয়ার বানী

আওলাদে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শায়খুল ইসলাম, মুজাদ্দিদ-এ-জামান, গাউছ দাঁওরা শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী এর পবিত্র ৭৪ তম খোশরোজ শরীফে খালেদা জিয়ার বানী

Posted in বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী | Tagged | Comments Off on সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ এর পবিত্র ৭৪ তম খোশরোজ শরীফে খালেদা জিয়ার বানী

সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী এর পবিত্র ৭৪ তম খোশরোজ শরীফে প্রেসিডেন্টর বানী

আওলাদে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শায়খুল ইসলাম, মুজাদ্দিদ-এ-জামান, গাউছ দাঁওরা শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী এর পবিত্র ৭৪ তম খোশরোজ শরীফে প্রেসিডেন্টর বানী

Posted in বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী | Tagged , , , | Comments Off on সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী এর পবিত্র ৭৪ তম খোশরোজ শরীফে প্রেসিডেন্টর বানী

নবী করিম (দঃ) কে ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান করার আবশ্যকতা

নবী করিম (দঃ) কে ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান করার আবশ্যকতা

আল্লাহ সুবহানাহুতা’য়ালা বলেন, হে নবী! নিশ্চয় আমিই আপনাকে (রাসূল বানিয়ে) প্রতক্ষদর্শী সাক্ষ্যদাতা ও সুসংবাদেও বাহক এবং সতর্ককারী হিসাবে পাঠিয়েছি যাতে (হে মুসলমানেরা!) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাছুলের উপর ঈমান আনবে,তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করবে তাঁর প্রতি আদব-সম্মান শ্রদ্ধা দেখাবে এবং সকাল সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করবে। (আল-ফাতহঃ ৯) হে ঈমানদারারা! (কোন ব্যাপারেই) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আগ বাড়িয়ে এগিয়ে যেও না। আল্লাহকে ভয় করো (যাতে কখনও রাসূলের সাথে বেআদবী না হয়ে যায়)। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু জানেন। (হুজরাতঃ ৯) হে ঈমানদারারা! তোমরা নিজেদের আওয়াজ কণ্ঠস্বর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কণ্ঠস্বর থেকে উঁচু করো না। এমন উচ্চশব্দে কথা ও বলবে না যেভাবে তোমরা একে অপরের সাথে উঁচু গলায় বল। এমন যেন না হয় যে, তোমাদের সমস্ত আমলই (ঈমানসুন্ধ) বরবাদ হয়ে যাবে, আর তোমরা (তোমাদের ঈমান আমল বরবাদ হওয়ার ব্যাপারটি ঘুণাক্ষরেও টের পাবে না। নিঃসন্দেহে যেসব লোক আল্লাহর রাসূলের দরবারে কথা বলার সময় আদব রক্ষার্থে নিজেদের আওয়াজ নিচু রাখে আসলে তারা সেই লোক যাদের অন্তরকে আল্লাহ তাকওয়ার জন্য যাচাই করে বাছাই করে নিয়েছেন। এদেরই জন্য ক্ষমা ও বড় ধরনের পুরস্কার রয়েছে।
নিশ্চয়ই যারা আপনাকে হুজরাগুলোর বাইরে থেকে ডাকাডাকি করে এদের জন্য অধিকাংশই (আপনার উচ্চ মর্যাদা ও আপনাকে সম্মান জানানোর পন্থা ও পদ্ধতির ব্যাপারে) কিছুই বুঝে না।(হুজরাতঃ ৩-৪)
আল্লাহতা’য়ালা বলেন, (হে মুসলমান!) নিজেদের মাঝে রাসূলকে ডেকে আনাকে তোমাদের একে অপরকে ডেকে আনার মত ব্যাপার মনে করো না।(নুরঃ ৬৩)
ওপরের আয়াতসমূহ এ কথার স্পষ্ট দলিল প্রমান যে, আল্লাহতা’য়ালা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভক্তি শ্রদ্ধা করা এবং তাঁর প্রতি যথাযত ইজ্জত সম্মান দেখানো মুমিন মুসলমানের ওপর বাধ্যতামূলক ও অবশ্য পালনীয় করে দিয়েছেন। ওপরে উদ্ধৃত প্রথম আয়াতটিতে ঈমান আনার নির্দেশের সাথে সাথেই সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ব্যাপারটি উল্লেখ করেছেন। এর পরেই আল্লাহর তসবীহ তথা গুনগানের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ স্বয়ং নিজের তসবীহ তথা গুণগানের আগেই নিজের প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করেছেন।
এতে বুঝা যায়, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধাবোধ ও চেতনা ঈমাননে সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আল্লাহ চান তাঁর হাবীবের প্রতি শ্রদ্ধা সহকারে বান্দাহ আল্লাহর তাসবীহ গুণগান তথা ইবাদত-বন্দেগী করুক। আল্লাহর ইচ্ছা ও পছন্দ এটাই। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, ‘তুআজ্জেরুহু’ অর্থাৎ তোমরা তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা কর। আরবী ভাষায় প্রখ্যাত মুফাসসির ও ব্যাকরণবিন ‘মুবরাদ’ এর অর্থ করেছেন তোমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও আতিশয্য করো। ‘আখফাশ’ বলেছেন এর অর্থ তোমরা তাকে সহায়তা সহযোগিতা কর। আল্লামা তাবারী এ থেকে নূসরত ও মদদ অর্ধ নিয়েছেন। কোন কোন কেরআতে ‘তুআজ্জেরুহু’ শব্দটি দু’টি যা (আরবি হরফ) সহকারে পাঠ নিয়ে এর অর্থ করা হয়েছে, তাকে ইজ্জত সম্মান কর। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর ছ’লবসহ অন্যান্য ভাষাবিদগণ বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ‘আগ বাড়িয়ে যাওয়ার যে নিষেধাজ্ঞা’-এর অর্থ হচ্ছে- কোন কথা হুজুর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বলার আগেই না বলা অথবা হুজুরের সাথে কথাবার্তার সময় আগে আগে বলে বেআদবী না করা।
হযরত সাহল (রাঃ) বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বলার আগে তোমরা বলে ফেলবে না। তিনি যখন কথা বলেন তখন কান লাগিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং চুপ থাকবে। মুসলমানদেরকে এ কথাও বলা হচ্ছে, কোন ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফয়সালা সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগেই তারাহুরা করে আগে আগে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিও না, তাদেরকে এও নিষেধ করা হয়েছে যে, যুদ্ধ কিংবা অন্যান্য যে কোন বিষয় ও দ্বীনি ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মতের পরিপন্থি কোন মত বা সিদ্ধান্ত যেকারো কাছ থেকে না নেয়। একই বক্তব্য হযরত হাসান বশরী, মুজাহিদ, দাহ্‌হাক, সুদ্দী এবং সুফিয়ান সওরী (রহঃ) সবার।
এরপর আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে এর পরিপন্থি কাজ যাতে না করে সে জন্য উপদেশ দিয়েছেন এবং সতর্কও করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তিনি সবকিছু শুনেন সবকিছু জানেন’।(হুজরাতঃ ১)
ইমাম আবু মোহাম্মদ মক্কী (রহঃ) বলেন, কর্কশ ও অশোভন ভাষায় রাসূলের সাথে কথা বলার চেষ্টা করো না বরং তাঁর প্রতি সর্বোচ্চ মাত্রায় অত্যান্ত আদব ও ভদ্রতার সাথে তাকে ডাকবে যেমন ইয়া রাসূল্লাহ! ইয়া নবী আল্লাহ! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “তোমরা রাসূলাল্লাহকে এমনভাবে ডেকো না যেমন নিজেদের মধ্যে একে অপরকে ডাকো।” (নুরঃ ৬৩)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের রীতি প্রথাঃ–
সাহাবায়ে কেরাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। হযরত আমর ইবনে আস (রাঃ) বর্ননা করেন, আমার কাছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তুলনায় অধিক প্রিয় আর কেউ ছিলেন না। অত্যধিক ভক্তি শ্রদ্ধা ও সমীহ করার কারনে আমি জীবনে কখনও তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারিনি।
ইমাম তিরমিযী হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণণা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘর থেকে বের হয়ে আসতেন তখন উপস্থিত সাহাবাদের দৃষ্টি নিচের দিকে নত হয়ে যেত।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সর্বাবস্থায় মনোযোগ নিবদ্ধ রাখা এবং তাঁর আনুগত্য করা প্রত্যেক ঈমানদারের উপর ফরজ।

মদীনা মুনওয়ারা

Posted in Uncategorized | Tagged , | Comments Off on নবী করিম (দঃ) কে ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান করার আবশ্যকতা

গাউসুল আজম বাবা মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (মাঃজিঃআঃ) ইমাম প্রশিক্ষনের সনদ দিচ্ছেন

গাউসুল আজম বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্ হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী (মাঃজআঃ) ইমাম প্রশিক্ষনের সনদ দিচ্ছেন

Posted in বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী | Tagged | Comments Off on গাউসুল আজম বাবা মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (মাঃজিঃআঃ) ইমাম প্রশিক্ষনের সনদ দিচ্ছেন

গাউছুল আযম হযরত শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসইনী মাইজভান্ডারী (কঃ) এর জীবনাদর্শঃ

গাউছুল আযম হযরত শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসইনী মাইজভান্ডারী (কঃ) এর জীবনাদর্শ ঃ

**সূর্য্যেও উপর আধ্যাত্মিক প্রভাব ঃ-
নানুপুর নিবাসী মুন্সি খায়ের উদ্দিন ডাক্তার সাহের, একদা বর্ণনা করিয়াছেন, তাহার ভ্রাতুষ্পুত্রের শ্বাশুগিহযরতের একজন নিষ্ঠাবতী ভক্ত রমণী ছিলেন। তিনি সিময় সময় হযরতের খেদমতে হাজির হইতেন। এক সময় দোয়া প্রার্থীনী হইয়া তিনি সন্ধ্যাকালে তাঁহার খেদমতে হাজির হন। পানাহাওে রাত্রি অধিক ুিহইয়া যাওয়ায তিনি বাড়ী যাইতে অপরাগ হন। তবুও তিনি বাড়ী যাইবার জন্য হযরতের নিকট প্রার্থনা জানাইলেনর। হযরত তাহাকে নিয়েধথ করিলেন। তিনি খুব ভোওে চলিয়অ যাইবেন বলিয়া মন স’ করিলেন। সকালে ঘুম হইতে জাগিয়া তিনি যাখন চলিয়া যাইবার জন্য তৈয়ার হইলেন তখন দেখিলেন সূর্য প্রায় উঠিবার সময় হইয়াছে। পূর্বদিকেত প্রায় রক্তবর্ণ ধারণ করিয়াছে। তাড়াতাড়িহযরতের নিকট আসিয়া বলিলেন, হুজুর! গত রাত্রে আপরি যাইতে বারণ করায় আমি যাই নাই মনে করিয়াছিলাম সকালে সূর্য উঠার যাইতেছে। চারিদেকে লোকজন চলাফেরা করিতেছে। বাড়ীতে না গেলে আমার স্বামী বিশেষ অসন’ষ্ট হইবেন। এখন কি করি। তাহাকে অত্যন- ব্যাকুল দেখিয়া হযরত বলিলেন, “তোমার তোন প্রকার আশংকা নাই তোমাকে কেহ দেখিবে না, সূর্য উদয়ের পূর্বেই তুমি বাড়ী পৌঁছিয়া যাইবে। আল্লাহ আল্লাহ করিয়া নিুেদে্বগে বাড়ী চলিয়া যাও্র। তোমার না পৌঁছা পর্য্যন- সূর্য্যোদয় হইবে না।” কালবিলম্ব না করিয়া হযরতের আদেশ মত তিনি বাড়ী রওয়ানা হইলেন। পথে কোন জনপ্রাণীর সাক্ষাৎ পাইলেন না। দরবার শরীফ হএত তাহার বাড়ী প্রায় সাড়ে তিন মাইল দূওে অবসি’ত। এই সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করিয়া যাওয়ার পরও দেখিলেন সূর্য্যোদয় হয় নাই। ইহাতে তিনি হযরতের পবিত্র বাণীর প্রভাব উপলদ্ধি করিয়া হযরতের অত্যাধিক অনুরক্ত হইয়অ পড়িয়া এবং আল্লাহ ত’লার দরবাওে শোকরিয়া আদায় করিতে লাগিলেন। **হযরতের প্রতি ব্যাঘ্রের অনুগত্যতা ঃ-
একদিন হযরতের প্রিয়তমা কন্যা মোছাম্মৎ সৈয়দা আনওয়ারুন্নেছা বিবি হযরতের নিকট ছোট কালে আবদার করিয়া জানাইয়াছিলেন, “বাবা আমি তো কোন দিন বাঘ দেখি নাই। বাঘ দেখিতে আমার বড়ই ইচ্ছা। আমাকে বাঘ দেখাইতে হইবে।” ঘযরতে তাঁহাকে উত্তর দেলেন, “আচ্ছা মা।” একদিন অনেকত রাত্রে হযরত ডাকিয়া বলিলেন, “তোমরা বাঘ দেখিতে কে কে ইচ্ছা করিয়াছ! বাহিরে তাকাইয়া দেখ। বাঘ আসিয়া তোমাদের সামনে উঠানে দাঁড়াইয়াছে।” তখন সবাই ঘওে তাকিয়া উকি মারিয়া বাঘ দেখিতে লাগিল দেখিল, প্রকাণু বলিষ্ঠকায় একটি বাঘ, নির্ভয়ে নিশ্চিনে- উঠানে দাঁড়াইয়া রহিয়াছে কে যেন উহাকে মন্ত্রমুগ্ধবৎ বন্দী করিয়া রাখিয়াছেন। যেন কাহারো পোষা শিক্ষিত বাঘ। এইরূপ প্রায় সময়ে নিঝুম রাত্রে সর্প, ব্যাঘ্র ইত্যাদি হিংস্র প্রাণীদিগকেও হযরত আকাদাছের খেদমতে আসিতে দেখা যাইত।
**ঘযরতের আধ্যাত্মিক প্রভাবে সাধারণ দ্রব্যে অদ্ভুতভাবে কলেরা রোগ নিরাময়ঃ-
ঘযরতের এক ভক্ত জিয়াউল হোসাইনের স্ত্রীর এক সময় কলেয়া রোগ হয়। ডাক্তার চিসিায় হতাশ হইয়া এবং রোগীর অবস’া ভয়ানক দেখিয়া তিনি উন্মাদেও মত যাইয়া হযরতের পায়ে স্ত্রীর প্রাণ ভিক্ষা প্রার্থনা করেন। হযরত তাহাকে অভয় দিয়া বলিলেন, “ভাই সাহেব অতি শীঘ্র আপনার বিবিকে নারিচপাতার ঝোল পাকাইয়া খাওয়াইয়া দিন। আল্লাহর হুকুমে আপনার বিবি আরোগ্য লাভ করিবে।” তিনি অতি সত্বও বাড়ী গিয়া হযরতের নির্দ্দেশমত নারিচ পাতার ঝোল পাকাইলেন এবং রোগীকে খাওয়অইতে উদ্যত হইলে ডাক্তার কবিরাজগণ যাহারা যেখানে উপসি’ত ছিলেন, তাহারা বলিলেন যে উহা খাওয়াইলে রোগী এখনই মারা যাইবে। তিনি কাহারো কথায় কর্ণপাত না করিয়া পূর্ণ একপাত্র নারিচ পাতার ঝোল রোগীকে কলেরার উপসর্গ সমূহ বন্ধ হইয়া রোগী ক্রমশঃ ঘুমাইয়া পড়িলেন। রোগী ঘুম হইতে জাগিলে খুব দুর্বলতা অনুভব করেন এবং হযরতের নির্দেশিত নারিচ পাতার ঝোল পুনরায় খাইতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। হিয়াউল হোসাইন সাহেব রোগীকে পুনরায় নারিচ পাতার ঝোলও কিছু শাকভাত খাওয়াইয়া দিলেন। কি ভয়ানক ব্যাপার। ইহাতে রোগীর অবস’া ক্রমশঃ খারাপের দিকে যাইতে থাকে। কলেরার উপসর্গ সমূহ দ্বিগুণবেগে আরম্ভ হইল। তিনি দৌড়িয়া হযরতের সমীপে উপসি’ত হইয়া সমস- কথা হুজুরের খেদমতে প্রকাশ করিলেন । হযরতের তাহাকে বলিলেন আমি তো আপনাকে দুইবার খাওয়াইতে বলিনাই এবং শাকভাতও দিতে বলিনাই। যান পুনরায় শুধু ঝোল খাওয়াইয়া দেন।” তিনি বাড়ীতে গিয়া পুনরায় নারিচের ঝোল খাওয়াইয়া দেন। ইহাতে রোগী পুনরায় শান-ভাবে ঘুমাইয়া পড়েন রোগের উপসর্গ সমূহ তিরোহিত হইয়া। যায়। খোদার ফজলে রোগীকে অন্য ঔষধ খাওয়াইতে হয় নাই। রোগী ক্রমশঃ আরোগ্য হইয়া যায়।
** যষ্ঠির প্রকাওে কুষ্ঠরোগ নিরাময়ে হযরতের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা প্রকাশ ঃ-
চট্রগ্রাম টাউন নিবাসী একজন ধনী লোক কুষ্ঠরোগাক্রান- হইয়া বহুদিন যাবত কষ্ট পাইতেছিলেন। তিনি হযরতের বেলায়তী প্রভাবের কথা লোকমুখে শুনিয়া, রোগমুক্তির আশাবাদ কামনায় একদিন হযরতের দরবারে উপসি’ত হন। তিনি হযরতকে অভিবাদন পূর্বক বলিতে লাগিলেন, হুজুর! আমি যত জায়গায় যত বড় কবিরাজ ডাক্তারের নাম শুনিয়াছি তাহাদেও দ্বারা সাধ্যাতীত অর্থ ব্যয়ে চেষ্টা করিয়া দেখিয়াছি, আমার জটিল রোগ কিছুতেই আরোগ্য হয় নাই। আমি রোগ যন্ত্রণায় জীবনের আশা ছাড়িয়া দিয়াছি। অতঃপর আপনার কথা শুনিয়া অতি আশায় শেষ বারের মত চেষ্টা করিতে হুজুরের দরবাওে আসিয়াছি।” ইহা শুনিয়া হযরত বলিয়া উঠিলেন, “আওে কমবখ্‌ত নাফরমান! তুমি খোদাকে ভয় কর নাই কেন? তোমর মত পাপীকে দোর্‌রা মারা দরকার।” ইহা বলিয়াই তিনি তাঁহার হস-সি’ত যষ্টি দ্বারা তাহাকে স্বজোও পে্রহার করিতে আরম্ভ করিলেন। এমন ভাবে প্রহার করিতে লাগিলেন যে, উপসি’ত লোকেরা হায় হায় করিতে লাগিল। একেতো কুষ্ঠরোগে শরীর ক্ষতবিক্ষত, তদুপরি হযরতের লাঠির আঘাত। লোকেরা কানাকারি করিতে লাগিল যে, হযতঃ লোকটির জীবনায়ু ফুরাইয়া আসিয়াছে। হযরতের লাঠির আঘাতে লোকটি বিচলিত হইল না বা যন্ত্রণা সূচক কোন শব্দ করিল না। কিছুক্ষণ প্রহার করার পর হযরত আন্দর হুজরায় চলিয়া গেলেন। লোকটি ধীরে ধীরে উঠিয়া গোসল করিয়া আসিলেন। অতঃপর হযরত বহির্বাটিতে আগমন করিলে লোকটি হযরতকে কদমবুচি করিয়া চলিয়া যান। প্রায় তিন মাস পর লোকটি পুনরায় হযরতের খেদমতে আসেন। এখন তাহার শরীওে আর কুষ্ঠরোগ নাই। ক্ষতের কোন চিহ্ন পর্যন- দেখা গেল না। লোকেরা জিজ্ঞাসা করায় লোকটি বলিলেন যে, তিনি এখান থেকে যাওয়ার পর আর কোন ঐষধ ব্যবহার করে নাই। হযরতের লাঠি মোবারকের আঘাতেই তাহার জন্য আল্লাহর আশীর্বাদ বরিষণ করিয়াছে। হযরতের ফয়েজ রহমত ও দোয়ার বরকতে অশা করি আমি চিরতরে আরোগ্য লাভণ করিয়াছি। এইরূপ হযরত বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাঁহার ফয়েজ রহমত দান ও আধ্যাত্মিক প্রভাবে মানবের উপকার করিতেন।
**যষ্ঠির প্রহারে আধ্যাত্মিক ফয়েজ ও অনুগ্রহ বর্ষণঃ-
রাউজান থানার অধিবাসী জনৈক বৌদ্ধ দারোগা, দারোগার চাকুরীর জন্য পরীক্ষা দিতে যখন শহরে আসেন, তখন তাহার মাতা নিয়ত করেন যে, আমার ছেলে চাকুরী পাইলে, প্রথম বেতন হইতে এক টাকার মিশ্রি লইয়া ছেলেকে মাইজভাণুারে ফকীর মাওলানা সাহেবের খেদমতে পাঠাইব।” ছেলে পরীক্ষা দিয়া খোদার ফজলে চাকুরী পাইল। প্রথম মাসের বেতন লইয়া বাড়ীতে গেলে তাহার মাতা বলিলেন,-“বাবা তোমার প্রথম মাসের বেতন হইতে এক টাকার মিশ্রি লইয়া তোমাকে মাইজভান্ডার পাঠাইবার আমার নিয়ত ছিল। সুতরাং এক টাকার মিশ্রি লইয়া তুমি মাইজভান্ডার ফকীর মাওলানা সাহেবের কাছে যাও।” ছেলে বলিলেন, “মা এক টাকার তো প্রায় পাঁচ সের মিশ্যি পাওয়া যাইবে। এত মিশ্যি’ কি ফকীর সাহেবকে দিলে বোধ হয় ভাল হইবে।” ইহা বলার সঙ্গে তাহার মা বলিয়অ উঠিলেন, “সর্বনাশ! তুমি কি রলিতেছ। আমার যাহা নিয়ত তাহা করিবে। ক্ষমা চাও। তিনি সব গোপন কথা জানেন।” ছেলে বলিলেন “মা! আমি ভুল করিয়াছি ক্ষমা চাহিতেছি।” ।তঃপর এক টাকার মিশ্রি লোকজন খুব কম। সবাই যেন ভয়ে ভয়ে দূরে দূরে রহিয়াছে। হযরত ভীষণ জালালী অবস’ায় আছেন। লোকজন সামনে গেলে লাঠি প্রহার করেন। রাউজানের বৌদ্ধ লোকটি একজন খাদেমকে ডাকিয়া তাহাকে হযরতের সামনে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করিলেন। কারণ কারণ তাহার মায়ের আদেশ আছে, যে কোন প্রকারেই হউক ফকীর সাহেবের সাথে দেখা। তাহাকে দেখিয়া হযরত বলিয়া উঠিলেন, অত মিশ্রি কেন আনিয়াছ, ফকীর সাহেব কি অত মিশ্রি খাইবে? দু্‌ই একসের হইলেতো হয়।” ইহা শুলিয়া বৌদ্ধ দারোগা সাহেবের মায়ের কথা মনে পড়িল। তিনি অবনত মস-কে হযরতের পায়ে লুটাইয়া পড়িলেন। এবং ক্ষমা প্রার্থনা করিলেন। হযরত সজোওে দারোগা সাহেবকে লাঠি দ্বারা তিনটি আঘাত করিলেন। তারপর তাহাকে এক টুকরা মিশ্রি হাতে দিয়া বলিলেন, “চলিয়া যা এই মিশ্রি টুকরা তোর মাকে দিস। অসৎ, অসৎ কাজে গিয়াছিলি! সৎভাবে থাকিস্‌। ভাল হইবে।” এই বলিয়া তাহাকে বিদায় দিলেন। হযরত মওলানা শাহ-ছুফী সৈয়দ দেলোয়ার হোসেইন সাহেব যিনি হযরত কেবলা কাবার একমাত্র সাজ্জাদানশীন্‌ আওলাদ ও ওয়ারেচ, তিনি বলেন, “যখন আমি হযরতের নামে প্রতিষ্ঠিত জুনিয়ার মাদ্রাসা ঘরের বিলের টাকা উঠাইয়া আনিতে চট্টগ্রাম শহওে যাই; সেখানে ট্রেজারীতে আসাকালীন উক্ত অবসর প্রাপ্ত বৌদ্ধ দারোগা বাবুর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। আমার পরিচয় পাইয়া হঠাৎ তিনি শিহরিয়া উঠেন এবং শরীর হইতে জামা ও কোট খুলিয়া আমাকে বলেন, “দেখুন, তাঁহার নাম শুলিয়া আমার গায়ের লোম কি ভাবে খাড়া হইয়া গিয়াছে। তিনি কি সহজ আউলিয়া ছিলেন।” অল্প সময়ে দারোগা বাবু আমাকে তাহার সাধ্যমত সমাদও ও ভক্তি খোইলেন এবং উপওে লিখিত ঘটনাটি বলিলেন। তিনি আরো বলিলেন, “আমি দিব্য করিয়া বলিতে পারি তিনি আমাকে যখন আঘাত করিয়াছিলেন তখন আমি শুধু আঘাতের শব্দ শুনিয়া ছিলাম কিন’ আঘাত জনিত কোন কষ্ট পাই নাই। আচ্ছা বাঘের মুখে নিক্ষেপ্তি লোটাটি কি এখনও আছে? যাহাকে তিনি সেই লোটা নিক্ষেপ পূর্বক বাঘের মুখ হইত রক্ষা করিয়াছিলেন, তিনি আমাদেও এলাকার লোক।” আমি জানাইলাম যে, হ্যাঁ লোটাটি এখনও আছে।
**পানি তবরুক দানে গলক্ষত রোগ আরোগ্য ঃ-
রাউজান থানার রায়বাহাদুর রাজকুমার বাবুর ছোটকালে গলার ভিতর এক বিষাক্ত গল ক্ষত রোগ হয়। বহু চিকিৎসার পরও কোন সুফল না পাওয়ায় তাহার পিতা মহাশয়, “ওয়ালীমস-ান” নমে হযরতের এক ভক্তের সঙ্গে একপাত্র দুধ নিয়া তাহাকে হযরত সাহেবের খেদমতে পাঠাইয়া দেন। দুধের পাত্র হযরতের সামনে রাখিয়া “ওয়ালীমস-ান সাহেব” হযরত সমীপে রাজকুমার বাবুর রোগ আরোগ্যও জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। হযরত দুধগুলি একিট বড় পাত্রের ঢালিয়া রাখিতে আদেশ দেন। দুধ ঢালিয়া রাখা হইলে
“ওয়ালীমস-ান” উক্ত ভান্ডে কারিয়া পুকু ও হইতে কিছু পানি ইনয়া হযরতে সমীপেট রাখেন এবং দমক দিয়া দিতে অনুরোধ করেন। হযরত পানির প্রতি দৃষ্টি করিয়া দূওে থাকিয়া একটি মাত্র দম করিলেন। মোস-ান সাহেব পানির পাত্রটি বাহিওে আনিয়া রাজকুমার বাবুকে সমস- পানি পান করাইলেন। পানের সময় ুদেখিলেন, উহা এত গরম যে, যেন ফুটন- পানি; অথচ পানে কোন কস্ট হয় নাই। তাহারা বিদায় লইয়া বাড়ী রওয়ানা হইরেন। পথে সত্ত্বাখালে নামিয়া রাজকুমার বাবু ভাবিলেন, “পারি পান করিতে খুব কস্ট হইত! অথচ হযরতের “দমকরা” পারিতে তোন কোন কষ্ট হয় নাই। এখন খালের কিছু পারি পান করিয়া দেখিলেন। কই না তো! কেনা কষম্‌ট হয় ইহাতে তিনি অত্যন- আনন্দিত হইলেন। বাড়ীতে ডগয়া তাহার বাবাকে তাহার আরোগ্য সংবাদ দলিেন। তাহার মাতা তাহার রোগ আরোগ্য বিষয় পরীক্ষা করার জন্য তাহাকে চিড়া দধি খাইতে দিলেন। রাজকুমার স্বচ্ছন্দে খাইয়া ফেলিলেন। ইহাতে তাহার রিতামাতা অত্যন- খুশি হইয়া রাজকুমারকে সামনে সপ্তাহে পুনরায় ফকীর সাহেবের জন্য পেরা মিঠাই লইয়া পাঠাইতে মনস’ করিলেন। পর সপ্তাহে ওয়ালী মস-ানের সহিত রাজকুমারকে পেরা মিঠাই দিয়া পুনরায় পাঠাইলেন এবং যাহাতে রাজকুমার ভবিষ্যতে ধনেজনে বিদ্যাবুদ্ধিতে ঐশ্বর্য্যশালী ও দীর্ঘায়ূ হয়, তহাহার জন্য দোয়া চাহিতে বলা হয়। এইবার হযরত তাহাকে যথারীতি নামদাম পিতার নাম প্রভৃতি জিজ্ঞাসা করিলেন। রাজকুমার উত্তর করিলেন, “হুজুর নাম রাজকুমার। বাবা আমাকে এই পেরাগুলি লইয়া আপনার কাছে পাঠাইয়াছেন। আমি ্‌পনার আশীর্বাদে গলক্ষত রোগ হইতে আরোগ্য লাভ করিয়াছি। আমার দীর্ঘায়ূ, বিদ্যাবুদ্ধি !” হযরত সাহের আমার মাথা ও পিঠের উপর হাত বুলাইয়া বলিলেন, “আচ্ছা-আশীর্বাদ করিলাম। তুই বড় লোক হবি।” ইহার পর হইতে কোন দিন কোন পরীক্ষয় তিনি অকৃতকার্য হন নাই। বি. এ, পাশ করিয়া এম, এল. সি, হইয়াছেন। রায়বাহাদুর খেতাব পাইয়াছেন। মওলানা শাহ সৈয়দ দেলাওয়ারে হোসাইন সাহেব বলেন, “যখন মরহুম শাহজাদা খায়রুল বশর মিঞা, হাইদকান্দি নিবাসী মৌং ছিদ্দিক আহমদ বি, এল ও সৈয়দ ছায়াদুল্লাহ সহ তখনকার ‘বি’ ডিভিসনের এস, ডি ও মৌং সৈয়দ আহম্মদ হামিদ হাছান নোমানী সাহেবের বাসায় দরবার শরীফস’ মোচাফেরদেও সুবিধার্থে কতেক গঠনমূলক কার্য্যেও পরামর্শ ও সমিতি সম্বন্ধে আলোচনা করিতে যাই তখন উক্ত এস, ডি ও সাহেব, রায়বাহাদুর হযরতের পবিত্র নাম উচ্চারণ করিবার সাথে সাথে বলিয়া উঠিলেন, “কি বলিলেন! আমার তো সমস- শরীর আলোড়ন করিয়া উঠিয়াছে। উনিকি সেই ফকীব হযরত সাহেবের পৌত্র! যাঁহার আশীর্বাদে আজ আমি রায়বাহাদুর বলিয়া আপনাদেও সাথে দিন তিনি তাহার বাল্যকালের উপরোক্ত ঘটনাটি আমাদেও কাছে বর্ণনা করেন।
**তবরুক মাধ্যমে জটিল রোগমুক্তি ঃ-
নোয়াখালী জিলার অন-র্গত ছিলনীয়ার নেয়াজপুর গ্রাম নিবাসী মরহুম মাইজুদ্দিন ভুঁইয়ার পুত্র হাজী হাফেজ আহমদ উল্লাহ ভূঁইয়া সাহেব বলেন,- আমি কোন এক সময় এমন এক রোগে আক্রান- হইয়াছিলাম, যাহার কোন প্রকার চিকিৎসা না পাইয়া আমি জীবনের আশায় একেবারে হতাশ হইয়া পড়িয়াছিলাম। শেষে লোকমুখে হযরতের আধ্যাত্মিক ক্ষমতার প্রশংসা শুনিয়া তাহার খেদমতে দোয়া প্রার্থী হইয়া আসিতে বাধ্য হইলাম। আমি এক সের খোরমা লইয়া হযরতের দরাবাওে আসিয়া বহির্দায়েরা শরীফে প্রবেশ করিতেই ভিতর বাড়ী হইতে ছয় সাত বসরের একজন চেলে আসিয়া বলিলেন, “নোয়াখালী হইতে আগত মোচাফেরকে হুজুর তলব করিয়াছেন।” সেখানকার কেহ ইহাতে সাড়া না দেওয়ায় আমি বলিলাম আমি তো নোয়াখালীর লোক। তখন বালকটি আমাকে বলিলেন,- আপনাকে হুজুর ডাকিয়াছেন। পরিচয় জিজ্ঞাসায় জািিনলাম, বালকটি হযরতের নাতি ” যিনি বর্তমান গদীনশীন, হযরত মাওলানা শাহ ছুফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন সাহেব যাহাকে হযরত অতি স্নেত ভরে ‘দেলাময়না’ নামে অভিহিত করিতেন।” অতঃপর আমি তাহার সহিত আন্দর বাড়ীতে হযরতের ‘হুজুরায়’ হাজির হইলাম। হযরত তখন চক্ষু মুদিতাবস’ায় বসিয়া আছেন। আমি প্রবেশ করিয়া সালাম দিতেই আমাকে নাম জিজ্ঞাসা করিলেন। আমি তিনবার তাহার প্রশ্নোত্তরে নাম বলিলাম। তিনি চক্ষু বন্ধাবস’ায় আবার জিজ্ঞাসা করিলেন। “আপরি কেন আসিয়ছেন, আমি বিনীতভাবে তাঁহার কাছে আরজ করিলাম। হুজুর! অনেক দিন যাবত রোগে কষ্ট পাইতেছি। কোন ঔষধেই ফল পাইতেছিনা। নিরূপায় হইয়া হুজুরের খেদমতে দোয়ার জন্য আসিয়াছি। এই বলিয়া খোরমাগুলি তাহার সামনে রাখিলাম। তিনি কোরমাগুলির উপর হাত রাখিয়া একটি খোরমা আমাকে দিয়া বলিলেন; দোয়া করিতেছি” উপসি’ত লোকদের মধ্যে এক একটি খোরমা বন্টন করিয়া দিয়া একটি খোরমার অর্ধেকাংশ তিনি নিজ মুখে দিলেন এবং অপরাংশ তাঁহার পৌত্র দেলাময়নার হাতে দিয়া বলিলেন, খোরমাগুলি সৈয়দের বেটিকে দিয়া আসেন।” আমি বিমারের কথা বলিলাম বটে: কিন’ তিনি আমার কি বিমার তাহা জিজ্ঞাসা করিলেন না। আমিও বলিলাম না। মনে করিয়াছিলাম পওে বলিব কিন’ ইহার পূর্বেই তিনি আমাকে বিদায় পাইয়া দিয়া দিলেন। কি করিব! হযরতে খেদমত হইতে বিদায় পাইয়া অগত্যা বাড়ীর প্রতি রওয়ানা হইলাম। পথে চিন-া করিতে লাগিলাম; কি ব্যাপার; আমি যে নোয়াখালী হইতে আসিয়াছি তাহা তিনি কি করিয়া জানিলেন। নিশ্চয় তাঁহার কশ্‌ফ আছে। অসুখের কথা কিছু খুলিয়া বলিতে পারিলাম না। মনকে প্রবোধ দিলাম, আমি না বলিলেও নিশ্চয় তিনি জানেন বলার হয়তো দরকার ছিল না। তাই জিজ্ঞাসাও করেন নাই। আমি বাড়ী যাওয়ার পর হইতে খোদার ফজলে ও হযরতের দোয়ার বরকতে দিন দিন আরোগ্যের পথে অগ্রসর হইতে লাগিলাম এবং কিছু দিনের মধ্যে সম্পুর্ণভাবে সুস’ হইয়া গেলাম। একটি মাত্র খোরমার দ্বারা হযরত আমাকে কি মহৌষধ যে খাওয়াইয়া দিয়াছেন তাহা তিনি জানেন! সেই হইতে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁহার প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস ও ভক্তি বাড়িয়া গেল! বুঝিতে পারিলাম তিনি একজন সর্বশ্রেষ্ঠ অলিউল্লাহ। সেই হইতে আমি প্রায়ই দরবার শরীফ যাওয়া আসা করিতেছি।
**সরবত দানে হযরতের ফয়েজ বর্ষণ ও আত্মশুদ্ধি করণঃ-
একদা হযরত স্বীয় কাদেম হেদায়ত আলীকে রমজানের দিনে সরবত পান করাইতেছিলেন। ইহা দেখিয়া হযরত সাহেবানী বলিলেন সে তো রোজা রাখিয়াছে। আপনি রোজার মধ্যে তাহাকে সরবতপান করাইতেছেন কেন? তাহাকে তাড়াইয়া দেন। সে কোন জাজ কর্ম কওে না, শুদু বসিয়া খাইতেছেন।; হযরত সাহেব উত্তর করিলেন, “তাহাকে ছাপ করিয়া দেলাম।” দেখিলাম সংসাওে তাহার বাড়ীঘর নাই। সুতরাং তাহাকে তাড়াইয় দিলে সে কোথায় যাইবে। সে আপনার বাড়ীর আস-ানায় ঝাড়- দিবে। আপনি আঙ্গিনায় পড়িয়া থাকিবে। আর না দিলে পানি খাইয়া থাকিবে। হযরতের কথায় হযরত সাহেবানী চুপ হইয়া গেলেন। মাগরেবের নামাজানে- তিনি মোরাকাবায় বসিয়া দেখিতে লাগিলেন। হযরত, হেদায়ত আলীর কি ছাফ করিতেছেন! তিনি দেখিলেন হেদায়ত আলী বক্ষের উপরিভাগ সাহা, তদ্‌ নিম্নভাগ লাল ও দ্‌ নিম্নবাগ লাল ও কাল বাগ ক্রমশঃ সাদা হইয়া সর্বোপরি সাদা ভাগের সঙ্গে মিশিয়অ যাইতেছে। তখন হযরত সাহেবানী বুঝিতে পারিলেন হযরত সরবত দানে হেদায়ত আলীর আত্মশুদ্ধিই করিতেছেন। সেই দিন হইতে তিনি আর হযরতের কোন কাজে আপত্তি করিতেন না।
**হযরতের আদেশের প্রভাবে দুধ ও কলা খাইয়া কামড়ি রোগ মুক্ত ঃ-
বরমা হাইস্কুলের ভুত্বপূর্ব হেড মৌলভী মীর আহমদ ফারুকী সাহেব বলেনর, তিনি মোহছনঈয়া মাদ্রাসায় পড়াকালীন তাহার মামা মৌলভী লুৎফর রহমান সাহেবের সহিত মাইজভান্ডার হযরত সাহেব কেব্‌লার খেদমতে আসেন। তিনি তাহার আম্মাজানের পেটকামড়ি রোগের আরোগ্যের জন্য হযরতের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন। হযরত তাহাকে বলিলেন, “তোমারী আম্মীকো কেলা আওর দওধ খানে কো বলো আচ্ছা হো যায়েগী।” বাড়ী যাইয়া তিনি তাঁহার মাতাকে বলিলেন। তাহার মাতা তিন দিন উহা খাওয়ার পর সম্পূর্ণ সারিয়া উঠেন। ইহাতে তাহার মাতা অত্যন- আশ্চর্য্য হইয়া গেলেন। এতদিন এত দুধ ও কলা খাইয়াছেন; কত ঔষধ খাইয়াছেন; কোন ফল হইল না অথচ হযরতের আদেশে তিনদিন, ইহা নিশ্চয় হযরতের আদেশের ফয়েজ বরকত মাত্র।
**রুটি প্রদানে ফয়েকজ এনায়ত ঃ-
উপরের বর্ণনাকারী মৌলভী মীর আহমদ ফারুকী সাহেব আরো বলেন, তাঁহার মামা মৌলভী লুৎফর রহমান সাহেব, হযরতের নিকট বায়াত গ্রহণের নিমিত্ত তিনবার আসিয়া চেষ্টা করেন। পুনরায় একটিন বায়াত করিলেন না। আমরা সেখাান হইতে বিদায় গ্রহণ করিয়া বাহিরের ঘওে আসিয়া ভাহ খাইতে চাহিলাম। উত্তর আসিল পাওয়া যাইবেন। অল্পক্ষণ পওে দেখা গেল, পাঁচখানা বড় রেকাবীতে অল্প অল্প জল ভাত, লটিয়া শুটকি ও মিঠাকোমড়ার তরকারী সহ আমাদের জন্য আনা হইয়াছে আমরা উহগা খাইতে আরম্ভ করিরাম। পরে ধেখি আবিার গরমভাত গোস- আডসিয়াছে তাহা হইতে আমরা পেট ভরিয়া খানা খাইলাম। আন্দও বাড়ী হইতে একজন খাদেম আসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন “লুৎফর রহমানকে। কেবলা তোমাকেই খাইতে দিয়াছেন” আমার মামু সহেব অত্যন- আনন্দেও মসহিত উহা খাইয়া ফেলিলেন, সেই দিন হইতে দেখা গেল তাহর আধ্যাত্মিক প্রেরণা দিন দিন প্রবল হইয়া গেল।
**হযরত অপূর্ব কেরামত ব্যাঘ্রের কবল হইতে প্রাণ রক্ষাঃ

বরিশাল নিবাসী একজন রেঅক হযরতের কামালিয়অত সম্বন্ধে নিয়া অত্যাগ্রহে তাহার দরবারে আসিয়া তাহার হাতে বাযঅত গ্রহণ করিতে নিয়ত করিলেন। নিজামপুর আসিয়া তিনি বারৈয়াঢালা পার হইয়অ মাইজভান্ডার অঅসিবার মানসে পার্বত্য পথ ধরিলেন। কিছুদূর অগ্রসর হইবার পর তাহার অত্যনত্ম পায়খানার হাজত হয়। তিনি রাসত্মার পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে পাযখানার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। আবশ্যকীয় কার্য্য সমাধা করিয়অ তিনি দণ্ডায়মান হইলে হঠাৎ দেখিতে পাইলৈণ এক ভীষণাকৃতি ব্যাঘ্র বজ্রের মত গর্জ্জণ করিয়অ তাহার সম্মুখে দাড়াইয়া রহিয়াছে। তিনি ব্যাঘ্রের বিকট মূর্তি দর্শনে ভয়ে জ্ঞানহারা হইয়া দাড়াইয়া রহিলেন। ভাবিলেনে হায়! আর বুঝি রক্ষা নাই। জীবন বোধ হয় ব্যাঘ্রের কবলে হারাইতে হইবে। আমার মত হতভাগা আর কে আছে! একজন অলি আল্লাহর দরবারে যাইয়া পাপময় জীবনকে সার্থক করিব মনে করিয়াছিলাম। তাহা আর হইল কই? বোধ হয় তাহার কেধমতে যাওয়া আমার ভাগ্যে নাই। হায়! আল্লাহ! তোমার দোসেত্মর দরবারে যাইতে বুঝি আমাকে দিলে না? এই সমসত্ম চিনত্মা করিতে হঠাৎ দেখিতে পাইলেন, এক সর্মমুর্তি পুরুষ হঠাৎ কোথা হইতে আসিয়া দূর হও হারামজাদা বলিয়অ হষ্কার দিয়া তাহা রহসত্মসি’ত লাঠি দিয়া ব্যাঘ্রটির মাথায় সজোরে আঘাত করিলেন। যষ্টির ভীষণ আঘাতে ব্যাঘ্রটি চিৎকার করিয়া পালাইয়া গেল, সঙ্গে সঙ্গে সেই লোকটিও কোথায় অদৃশ্য হইয়া গেলেন। তিনি এই অদ্ভুত ঘটনা দেখিয়া সত্মম্ভিত হইয়া দাড়াইয়া রহিলেন। তিনি চিনত্মা করিতে লাগিলেণ, এই মহাসষ্কট হইতে কে এই মহাপুরুষ আমার প্রাণ রক্ষা করিলেন? তিনি যখন প্রকৃতিস’ হইলেন তখন পথ চলিতৈ লাগিরেন। তিনি চিনত্মা করিতে লাগিলেন, আমি মাইজভান্ডারীর দরবারে যাইতেছি, সেই জন্র বোধ হয় আল্লাহ গায়েবী সাহায্য দ্বারা আমার প্রাণ রক্ষা করিয়াছেন। দরবারের প্রতি তাহার ভক্তি পূর্ব অপেক্ষা আরো বাড়িয়া গেল। দরকার শীফে হাজির হইয়া তিনি হযরতকে দেখিয়া বিষ্মযে হতবাক হইয়া রহিলেন। তিনি তাহার আপদমসত্মক পর্যব্‌েখষণ করিয়া হঠাৎ এক চিৎকার দিয়া উঠিলেন এবং হযরতের পায়ে পড়িয়অ দাতিে লাগিলেন। হযরত তাহার পিঠেল উপর হাত দিয়া বলিতৈ লাগিলেন, মিঞা! আল্লঅহর কুদরত দেখিয়া এতই আশ্চর্য্যান্বিত হইতেছে কেন? আল্লাহতালা ইহা অপেক্ষা আরো দয়ালু, আরো ক্ষমতাবান। তিনি সব কিছু করিতে পারেন। হযরতের মধূর কালাম শুনিয়া লোকটি চুপ হইলেন: হযরত আন্দর হুজরায় তশরিফ নিয়া গেলেন। উপসি’ত লোকগন তাহার চিৎকার করার কারণ জিজ্ঞাসা করায় তিনি পথের সমসত্ম ঘটনা তাদের নিকট বর্ণনা করেন। লোকটি বলিলেন পথের মধ্যে আমাকে উদ্ধারকারী লোকটিকে আমি কোন ফেরেসত্মা অথবা খিজির (আঃ) বলিয়া মনে করিয়াছিলাম। কিন’ এখানে আসিয়া দেখিতেছি যে, হযরত সাহবেই তাহার এই লাঠি দিয়া বাঘের মাথায় আঘাত করিয়া আমাকে রক্ষা করিয়াছেন। আমার প্রাণ রক্ষাকারীকে হঠাৎ দেখিয়াই আমি নিজেই স্মরণ করিতে না পারিয়া হঠাৎ চিৎকার করিয়অ উঠিয়াছিলাম। সকলে ঘটনাটি শুনিয়া অবাক হইল।
**হযরতের অদ্ভুত অধ্যঅত্মিক প্রভাবে ব্যাঘ্রের মুখে লোটা নিক্ষেপে ভক্ত উদ্ধারঃ

একদিন হযরত কেবলা জালালী হালতে পুকুর পাড়ে বসিয়া অজু করিতেছেন হঠাৎ। তিনি বলিয়া উঠিলেন, “হারামজাদা তুই এখান হইেিত দুর হস্‌ নাই”। এই বলিয়অ তাহার হসেত্মর লোটাটি জোরে পুকুরের জরে নিক্ষেপ করিলেন। তখনও তাহার াজু সমাপন করা হয় নাই। তাড়াতাড়ি খাদেমগণ অন্য লোটা আনিয়া দিলেন। তিনি অজু সমাপন করিয়া দায়ের শরীফে চলিয়া যান। এদিকে হযরত পুকুরে লোটা ফেলিয়া দিয়েছেন দেখিয়া খাদেমগন পুকুরে নামিয়অ লোটা তালাস করিতে লাগিরেন। অনেক তালাসের পরও যখন পাওয়া গেলনা, তখন তাহারা হতাশ চিত্তে উঠিযা গেলেন। অলি উল্লাহদের কার্য্য বুঝা মুস্কিল। তিনি গালি দিলেন কাকে এবং লোটাই বা পুকুরে কেন নিক্ষেপ করিলেন সকলে চিনত্মা করিতে লাগিলেন। এত তারঅসের পর লোটা পাওয়া না যাওয়ার কারণই বা কি? ইহার দুই দিন পর রাঙুনিয়অ নিবাসী আছমত আলী নামক হয তের জনৈতিক ভক্তশিষ্য কিছু নাসত্মা ও হযরতের পুকুরে নিক্ষেপ করা লোটাটি লইয়অ দরবার শরীফ হাজির হইলেন। তিনি হযরতের খেদমতে যাইয়অ লোটা ও নাসত্মাগুলি সামনে রাখিলেন এবং কদমবুচি করিয়া অনেকক্ষন যাবত হযরতের কাছে দাড়াইয়া কাদিতে লাগিলেন। পরে বাহিরে আসিলে সকলে তাহাকে লোটা কেথায় পাইলেন জানিতে চাহিল। তিনি বলিতে লাগিলেন সেই এক অপূর্ব ঘটনা। এই লোটার মারফত হযরত আমার প্রাণ রক্ষা করিয়াছেন। ভাই, আমি গরীব মানুষমনে করিয়াছিলাম পাহাড় হইতে কিছু লাকড়ী আনিব এবং বিক্রয় করিয়া যাহা পাইব তা দিয়া নাসত্মা তৈয়ার করিয়অ হযরতের জন্য আনিব। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ হইতে প্রায় ৪২ মাইল দূরে রাঙ্গুনীয়া কোদালা পাহাড়ে গিয়া কাট সংগ্রহ করিয়া এক গাছ তলায় আটি বাধিতেছিলাম। এমন সময় এক বিরাট বাঘ কোথা হইতে হঠাৎ আসিয়া আমার সামনে হাজির হইল। বাঘের আকস্মিক আক্রমণ প্রচেষ্টায় অনন্যেপায় হইয়া আমি “এয়া গাইছুল আজম” বলিয়া চিৎকার করিয়া উঠিলাম। ইহা বলিতে না বলিতেই অকস্মাৎ শূন্য হইতে একটি লোটা আসিয়া ভাগের মুখের উপর পতিত হইল। ভাগটি ভয়ে চিৎকার করিয়া পালাইয়া গেল। আমি অপ্রত্যাশিত ভাবে ব্যাঘ্রের কবল হইতে রক্ষা পাইলাম। লোটাটি হাতে লইয়া দেখিলাম ইহা হযরতের লোটা। লোটাটি হযরতকে ব্যবহার করিতে আমি দেখিয়অছি। তাই লোটাটি ও লাকড়ীগুলি লইয়া বাড়ী আসিলাম এবং বিক্রয় করিয়া হযরতের কেধমতে আনিতে সামান্য নাসত্মা তৈয়ার করিলাম। অদ্য এই লোটা ও নাসত্মা লইয়া হযরতের কেধমতে হাজির হইয়াছি। আমাকে হযরত অসীম দয়া করিয়া তাহার বেলায়তী ক্ষমতায় নরখাদকের কবল হইতে রক্ষা করিয়াছেন! না হয়তো আমার উপায় ছিল না। আয়নারে বারী”।
**হযরতের যষ্ঠির প্রহারে ফয়েজ রহমত দান ও মৃত দেহে প্রাণ সঞ্চারঃ

ভুজপুর নিবাসী কবি সৈয়দ আবদুল ওয়ারেছ সাহেব হযরতের অন্যতম ভক্ত ও শিষ্য ছিলেন। তিনি অধিকাংশ সময় হযরতের খেদমতে থাকিতেন। সর্বদা রোজা রাখিতেন। ইহাতে তাহার শরীর অতিশয় দুর্বল ও কৃশ ছিল। তিনি সময় সময় হযরতের পদযুগল এমনবাবে জড়াইয়া ধরিতেন যে, বাহিরের লোকজন আসিয়া তাহাকে হযরতের পা হইতে ছাড়াইয়া লইতে হইত। একদিন হযরত বাড়ীর সামনে পুকুর পাড়ে “জজব” হালতে বসিয়া রহিয়াছেন। তখন সৈয়দ আবদুল ওয়ারেছ দৌড়িয়া আসিয়া হযরতের পা মোবারক দুই হাতে এমনভাবে জড়াইয়া ধরিলেন যে, কেহই তাহাকে চিনাইয়া নিতে পারিতেছেন না। হযরত তাহাতে হসত্মসি’ত লাঠি দ্বারা ভীষণভাবে প্রহার করিতে আরম্ভ করিরেন। এতে তো দুর্বল শরীর, তদুপরি হযরতের ষষ্ঠির প্রহার। তিনি বেশিক্ষণ সহ্য করিতে পারিলেন না। ধরাশায়ী হইয়অ পড়িরেন। নাকে মুখে ফেনা আসিল, মৃত্যুর লক্ষণ দেখা দিল। উপসি’ত লোকজন তাহার এই ভয়নাক অবস’া দর্শনে ভীত ও ব্যবসত্ম হইয়া পড়িল। খবর রচিল কবি আবদুল ওয়ারেছ সাহবে মারা গিয়াছেন, লোকজন ভয়ে পালাইতে লাগিল। অনেক্ষন পর হযরতের শানত্ম অবস’া ফিরিয়া আসিল। তিনি দৃষ্টি করিতেই আবদুল ওয়ারেছের অবস’া গুরুতর বলিয়া উপলব্ধি করিলেন কি যেন তিনি ভাবিলেন। ক্ষণকাল চক্ষু বুঝিয়অ রহিলেন। হঠাৎ এ দিক ও দিক তাকাইয়া দেখিলেন। সেখানে কেহ নাই। সকরেই পালাইয়অ গিয়াছে। হযরত ডাকিয়অ বলিলেন, ওখানে কে আছে। হারিচান্দ নামক হুজুরের ভক্ত তখনও পুকুরের পাড়ে বাশ আড়ালের মধ্যে লুকাইয়া ছিল। সে উত্তর করিল “হুজুর আপনার এক নরাধম গোলঅম আছি। হযরত তাহাকে সজোরে এক বান্ডিল বাশ পুকুরে নিক্ষেপের আদেশ দিলেন। হারিচান্দ্র এক বান্ডিল বাশ তাাড়াতাড়ি জলে নিক্ষেপ করিতে “ঝুপ” করিয়া এক ভীষণ শব্দ হইল। খোদার রহস্য বুঝা ভার, বাশে শব্দ শুনিতেই মৃতপ্রায় সৈয়দ আবদুল ওয়ারেছ আসেত্ম আসেত্ম চক্ষু খুলিয়অ উঠিয়া বসিলেন। তিনি সংজ্ঞাপ্রাপ্ত হইলেন। তাহার অবস’াদৃষ্টি মনে হইল তিনি যেন বহুক্ষণ নিদ্রার পর জাগ্রত হইয়া উঠিয়াছেন। হযরত প্রস’ান করিলেন। সকলে তাহাকে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল যে, তাহার কেমন বোধ হইতেছে? কোন প্রকার অসুবিধা অনুভব করিতেছেন কিনা ? কিন’ তিনি যে কিছুই জানেন না। বলিলেন যে, তিনি এইমাত্র ঘুম হইতে জাগিয়েছেন। তখন সকলেল ধারণা হইল, ইহা হযরতের আধ্যাতিম্‌ক লীলা ছাড়া আর কিছুই নহে। আউলিয়অদের কেরামত বুঝা আরো মুস্কিল। চারিদিকে খবর ছড়াইয়া পড়িল। মৃত আবার জীবিত হইয়াছে।

**হযরতের বেলায়তী প্রভাবে পূর্ণজীবন প্রাপ্তঃ

হযরতের প্রিয়তম পৌত্র, তাহার নয়নমণি, হযরত মাওলানা শাহছুফী সৈয়দ দেলোয়ার হোসাাইন সাহেব শিশুকালে একবার কটিন রোগাক্রানত্ম হন। তাহার বয়স তখন মাত্র দুই বৎসর। রোগের চিকিৎসা চলিল। কিন’ দিন দিন রোগ বৃদ্ধি ছাড়া আরোগ্য দেখা গেলনা। অকস্মাৎ একদিন ভীষণভাবে রোগাক্রানত্ম হইয়া তাহার শ্বাস প্রশ্বাস ক্রিয়া বন্ধ হইয়অ গেল। শিরা বসিয়া গেল। সকলে পরীক্ষা করিয়া দেখিল, তিনি আর ইহজগতে নাঈ। কান্নাকাটির রোল পড়িল কেহ কেহ দৌড়িয়া হযরতের হুজরা শরীফে যাইয়া তাহাকে সংবাদ দিল। হযরত তশরীফ নিয়া দেখিলেন, তিনি মৃত। তখন হযরত কি আর নীরব থাকিতে পারেন। তিনি তো হযরতের ভাবী খলিফা! তাহারই একমাত্র উত্তরাধিকারী। এক্ষেত্রে কি তিনি তাহার গুপ্ত রহস্য ব্যক্ত না করিয়া পারেন ! তবুও তিনি খোলাখুলি ক্ষমতা জাহির করিতে নারাজ। তাহার নিরাবরবণীয় বেলায়তী শক্তির উপর আবরণ দিতে চেষ্টা করিতেছেন, একটি উছিলা ঠিক করিলেন “কে আছ, একটি জলপূর্ণ কলসী উঠানে নিক্ষেপ কর। তাহাই করা হইল। কলসী ভাঙ্গার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাহার আধ্যঅত্মিক নয়ন দৃষ্টিতে তদীয় নয়ন পুত্তলী পৌত্রের পানে রহমত বর্ষণ করিতে লাগিলেন। কলসী ভাঙ্গার শব্দ ও হযরতের দৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে তিনি কাদিয়া উঠিলেন। তখন আর তাহার মুমূর্ষ অবস’া নাই। রোগ যেন সারিয়অ গেল। সেই দিন হইতে তাহার দাদী আম্মা হযরতের সাহেবানী প্রায় বলিতেন, তুমি তো জয়নাল আবেদীন । তোমাকে তো হযরত কারবালা প্রানত্মরের মৃত্যু কবল হইতে ফিরাইয়া আনিয়াছেন।

**হযরতের আধ্যাত্মিক প্রভাবে গরুর দুগ্ধ তিক্ত স্বাদে রূপায়িতঃ-

হযরত প্রতিবেশী মোহাম্মদ ওয়াশীল নামক এ ব্যক্তি একটি বাজা অথাৎ বন্ধ্যা গরু খরিদ করে। লোকটি খোদার দরবারে প্রার্থনা জানায় যে, যদি তাহার গুরুটি প্রসব করে, প্রথম দিনের সমসত্ম দুধ হযরতের জন্র নিয়া যাইবে। কিছুদিন পরে আল্লাহর রহমতে গরুটি গর্ভবর্তী হইল এবং যথাসময়ে একটি বাচ্ছা প্রসব করে। দুগ্ধ দোহন করিয়া সে খাইবার জন্র ঘরে রাখিয়া দেয়। অনেক দিনের কথা হওয়ায় নিয়তের কথা তাহার স্মরণ ছিল না। রাত্রে সে মেহমান লইয়া খাইতে বসিল। খাওয়ার পর দুধ আনা হইল। দুধ মুখে দিয়ে দেখিল, এত তিক্ত যে, খাওয়া অসম্ভব কেহই দুধ খাইতে পারিলনা। মনে করিল দুধে কিছু পড়িয়াছে। দুধ তিক্ত হওয়ার কোন কারণ দেখিতে পাইল না। অনুসন্ধানে জানিল দুধে কিছু পড়েও নাই। গরুর দুধ তিক্ত হইতে জীবনে শুনেও নাই। কি অস্বাভাবিক ব্যাপার। হঠাৎ তাহার স্মরণ হইল যে প্রথম দিনের দুগ্ধ লইয়া হযরতের জন্র আনিবার নিয়ত করিয়াছিল। অতত্রব পরদিন দুগ্ধ সে হযরতের দরবারে আনিল। দুধ হযরতের সামনে রাখিতেই তিনি বলিয়া উঠিলেন, “প্রথম দিনের দুগ্ধই আমাকে দেওয়ার কথা, ইহ তুমি লইয়া যাইও।” ছেলেমেয়ে লইয়া খাইও।” তখন মোহ্মমদ ওয়াশীল মিঞা হযরতের খেদমতে ক্ষমা ভিক্ষা চাহিল। বলিল, “হুজুর আমি একেবারে ভূলিয়া গিয়াছিলাম। আমাকে ক্ষমা করুন। দুগ্ধ ভাল হওয়ার জন্য দোয়া চাই।” তখন হযরত দুগ্ধ গ্রহণ করিলেন পরদিন হইতে দেখা গেল গাভীর গুদ্ধ স্বাভাবিক হইয়াছে। তার কোন দোষ বা তিক্ততা নাই। সকলে ব্যাপার বুঝিতে পারিল। অলি আল্লাহদের কোন কাজে অবহেলা বা গাফেলতি করা অন্যায়।
**হযরতের আধ্যঅত্মিক প্রভাবে বন্য জন’র কবল হইতে ইক্ষু ক্ষেত রক্ষাঃ

এক ব্যক্তি সাদা আখের ক্ষেত করিত। প্রতি বৎসর বন্য শৃগাল তাহার ক্ষেত নষ্ট করিত। কয়েক বৎসর ক্ষতিগ্রস’ হইয়া সে নিয়ত করিল যে, এবার আল্লাহ যদি তাহার ক্ষেত নিরাপদে রাখেন, তবে সে গাউছুল আজম মাইজভান্ডার িহযরত সাহেব কেবলার জন্য এক গাইট ইক্ষু ও এক কলসী ইক্ষুগুড় হাদিয়া নিবে। আল্লাহ’লার অসীম কৃপা। এই বৎসর তাহার ক্ষেত অক্ষয় অবস’ায় রহিল। বৎসরানেত্ম ইক্ষু চিবাইয়া সে মনে করিল, “এতগুলি নিব কেন! অল্প করিয়া নিয়া যাই।” অতত্রব তাহার খেয়ার মতো দুইখানা ইক্ষু ও দুই সের মিঠা লইয়া হযরতের দরবারে আসিল। ইহা দেখিয়া হযরত অতিশয় রাগান্বিত হইয়া উঠিল, আমি সারা বৎসর তোমার ক্ষেত পাহারা দিয়া শৃগাল তাড়াইয়া হযরান হএতছি; আর তুমি এক গাইট ইক্ষু ও এক কলসী মিঠা দিতে কুন্ঠিত? যাও আমি কৃপন লোকের দ্রব্য খাইনা। নিয়া যাও এই বরিয়া দ্রব্যগুলিসহ তাহাকে তাড়াইয়া দিলেন লোকটি পুনরায় নিয়ত মত দ্রব্য লইয়া হযরতের খেদমতে আসিল। অনেক ক্ষমা চাওয়া ও কাতর মিনতির পরও হযরত আর উহা গ্রহণ করিলেন না। ইহার পর বৎসরও লোকটি আবার নিয়ত করিল। কিন’ আর তাহার নিয়ত ফলে নাই।

**ধান্য ক্ষেত হেফঅজতে হযরতের প্রভাব ঃ

হাটহাজারী থানার অনত্মর্গত এনায়েতপুর নিবাসী সৈয়দ ওহাব উল্লাহ সাহেব বলেন, তাহাদের গ্রামের প্রাণকৃষ্ণধুপি এক বৎসর তাহাদের পাহাড়ী জমিতে ধান্য রোপন করিয়াছিল। সে এলাকায় প্রতি বৎসর বন্যাবরাহ ও বানর দ্বারা ফসল নষ্ট হইত। কেহ ধান্য আনিতে পারিত না। প্রাণ কৃষ্ণনিয়ত করিল, আল্লাহ যদি তাহার ধান্য নিরাপত্তা বাড়ীতে আনিয়া দেয় তবে সে প্রতি বৎসর ফকীর মাওলানা সাহেবের জন্য কিছু কিছু চাউল দিবে। খোদার ফজরে সেই বৎসর তাহার ধান্য সম্পর্ণ নিরাপদে রহিল। কোন জানোয়ারই তাহার ধান্রেল কাছে আসিল না। নিরাপদে ধান্য বাড়ীতে আনিল এবং একমন চাউল তৈয়ার করিয়া হযরতের দরবারে চাউল দিত। ইহা দেখিয়া অন্যাণ্য কৃষকগনও নিহত করিতে লাগিল। ইহাতে তাহার বুঝিতে পারিল বনের হিংস্র পশু পক্ষী পযৃণ্‌ত হযরতের আধ্যাত্মিক প্রভাবে প্রভাবান্বিত এবং হযরতের চরণে অনুগত।

**হযরতের পবিত্র জুতা মোবারকের ধুলার বদৌলেত দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ঃ

হযরত মৌলানা কাঞ্চনপুরী সাহেবের মামু সাহেব কঠিন কলিজা কামড়ী রোগে ভুগিতেছিলেন। অনেক চিকিৎসার পরও কোন ফল না হওয়ায় হযরতের দরবারে দোয়ার জন্য আসিবেন মনস’ করিয়াছেন। এমন সময় ডাক্তার সামসুজ্জামান তাহাকে একটি ঔষধ লিখিয়া দিলেন। ইহা দেখিয়া মির্জাপুরী মৌলানা সৈয়দ মছিউল্লাহ সাহেবের পুত্র মৌলভী ফজলুল বারী সাহেব তাহাকে বলিলেন যে এক নিয়তে হযরতের জুতা মোবারকের ধুলা মালিশ করিলে তাহার কামড়ী রোগ আরোগ্য হইয়া যাইবে। তাহার অত্যনত্ম বিশ্বাস হইল। তিনি দরবার শরীফ াাসিয়া হযরত কেবলা কাবার জুতা মোবারক হইতে কিছু মাটি নিয়া দরদের জাযগায় মালিশ করিতে লাগিলেন। আল্লঅহর রহমতে এবং হযরতের আলৌকিক প্রভাবেতাহার কামড়ী রোগ চিরতরে নিমুৃল হইয়া যায়। তিনি বলেণ, তাহার মেষ জীবন পর্যনত্ম এই কামড়ী রোগ অঅর আক্রমণ করে নাই। এইরূপ হযরতের জুতা মোবারকের মাধ্যমে ফয়েজ প্রাপ্ত হইয়অ শতশত লেঅক রোগারোগ্য হইয়াছে বলিয়া প্রমাণ আছে। “আয়নায়ে বারী”

**কাঠালের অর্ধাংশ রাখিয়া বাকী অংশ ফেরত দানে কশ্‌ফ শক্তির পরিচয়ঃ

ইছাপুরী জনাব মৌলানা আবদুচ্ছালাম সাহেব বলেন, একদিন তাহার জেঠা মুন্সী আবদুল আজিজ সাহেব নিয়ত করিণে, “এয়া আল্লাহ! আমার কাঠাল গাছে যদি কাঠাল ফলে, সবচেয়ে বড় ফলটি মাইজভান্ডারী ফকীর মাওলানা সাহেবকে হাদিয়া দিব।” কয়েক বৎসর যাবত তাহার এই কাঠাল গাছে কোন ফলই ফলিতে ছিলনা। খোদার মহিমায় সেই বৎসর গাছে যথেষ্ট পরিমাণ ফল ফলিল।
তিনি যখন বড় কাঠালটি কাটিয়া হযরতের জন্য নিতে প্রস’ত হইলেন, তখন তাহার স্ত্রী বলিরেণ, ফকীর মাওলানা সাহেব কি এতবড় কাঠাল সবটা খাইতে পারিবেন। অর্ধেক কাঠাল নিলৌ তো চরে। ইহাতে তাহার জেঠা আবদুল আজিজ সাহেব তাহার জেঠাই সাহেবার উপর অতি অসন’ষ্ট হইলেন এবং তাহাকে তিরস্কার করিলেন। অতঃপর তিনি কাঠালটা লইয়া হযরতের দরবারে পৌছিলেন। হযরতের সামনে কাটালটি রাখা হইল। হযরত তাহাকে বলিণেন “মুন্সী সাহেব! ফকীর সাহেব কি এতবড় কাটাল খাইতে পারেন। আপনি অর্ধেক কাঠাল রাখিয়া বাকী অর্ধেক আপনার বিবি সাহেবানীর জন্য বাড়ীতে নিয়ে যান।” ইহা বরিয়া হযরত নিজ হাতে ছুড়ি দিয়া কাঠালটিকে দুই ভাগ করিলেন এবং অর্ধেক রাকিয়া বাকী অর্ধেক তাহাকে ফেরত দিলেন। হযরত মানুষের অনত্মরের কথার পর্যনত্ম খবর রাখিলেন। কোন প্রকারের নিয়ত বেশ কম কিছু হইলে তাহা গ্রহণ করিতেন না এবং কেহ মনে কষ্টা আনিয়া কিছু তাহাকে দিলে তাহা তিনি ফেরত দিয়া দিতেন তাহার নিকট কিছু হাদিয়া আনিতে হইলে অতি পবিত্র ও খালেছ নিয়তে আনিতে হইত।

**হযরতের প্রভাবে দোয়াতের মাধ্যমে জীবিকা অর্জণঃ

নানুপুর নিবাসী জনাব মৌলভী অঅবদুল লতিফ সাহেব অনেক বৎসর দরবার শরীফ হযরত সাহেবের পুত্র জনাব মৌলভী শাহ সৈয়দ ফয়েজুল হক সাহেবকে পড়াইতেন। বিদায়কালে তিনি হযরতের খেদমতে আরজ করিলেন, “হুজুর আমি গরীব ও মাজুর মানুষ! এতদিন হুজুরের দরবারে শাহজাদাকে পড়াইয়াছি। বর্তমানে ামি বাড়ী যাইতেছি! আমি কোন কাজকর্ম করিতে পারি না। হুজুর দয়া করিয়া সম্মানের সহিত জীবিকার্জন করিতে পারি মত কোন উপায় আমাকে করিয়া দেন।” হযরত সাহেব তাহার প্রার্থনা কবুল করিলেন। তাহাকে একটি দোয়াত দান করিয়া বলিলেন, “আপনি এই দোয়াতটি নিয়া ঘরে বসিয়া থাকুন। দোয়াতের কালি শুকাইতে দিবেন না আল্লাহতা’লা আপনার রিজিক ঘরেই মিলাইয়া দিবেন।” মৌলভী সাহেব হযরত প্রদত্ত দোয়াতটি লইয়া বাড়ীতে গেলেন এবং উহা লইয়া হযরতের আদশে মত বসিয়া রহিলেন। এরপর দেখা গেল প্রত্যহ তাহার বাড়ীতে তাবিজের জন্য লেঅকজন আসিতে লাগিল। তিনি উক্ত দোয়াতের কালি দিয়া তাবিজ লিখিয়া দিতেন। হযরতের কালামে ও প্রদত্ত দোয়াতে এমনই খোদাদাদ রহস্য নিহিত ছিল যে, এই দোয়াতের দ্বারা তিনি যাহাই লিখিতেন, অবশ্যই সুফল ফলিত। প্রতিদিন তাহার যথেষ্ট পরিমাণ টাকা পয়সা আয় হইতে লাগিল এই দোয়াতের উছিলায়। তিনি প্রায় ত্রিশ বৎসর কাল অতি সুখে সম্মান ও সুনামের সহিত স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করিয়া পরলোক গমন করেন। তাহার পর এই দোয়াতটি এখনও উত্তরাধিকারীগনের নিকট বিদ্যমান আছে।

** টাকার মাধ্যমে প্রভাব বিসত্মার ও কর্জ হইতে মুক্তি দান ঃ

চট্টগ্রাম হাজীরখিল গ্রামের আবদুল হালিম চৌধুরীর পুত্র আহমদ মিঞা চৌধুরী বলেন, অঅমার বয়স যখন ৯/১০ বৎসর তখন একদিন আমার পিতার সহিত আমি দরবার শরীফ হযরতের খেদমতে আসি। আমরা আসিতে হযরতের জন্র এক সের গরুর দুধ সঙ্গে আনি। আমিও আমার বাবা হযরতের কদমবুচি করিয়া দুধগুলি তাহার সামনে পেশ করিলাম। তিনি আমাকে দেখিয়া আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করিলেন, “এই ছেলেটি কার?” বাবা নিজের ছেলে বরিয়অ পরিচয় দিলেন। হযরত সাহেব আমাকে বলিলেন “তোমার পেট খুব বড়। তুমি সাত গড়্গঅস সরবত পিও।” এই বরিয়অ আমাদের আনিত দুধ দ্বারা সরবত তৈয়ার করিয়া একগড়্গঅস নিজে পান করিলেন এবং আমাকে সাত গ্লঅস সরবত পান করাইরেণ। উপসি’ত আরো দশ বারোজন লোক ছিল। তাহাদের প্রত্যেককে একগড়্গঅস করিয়া সরবত পান করাইলেণ। ইহা ও দেখি যে আমাদের আনিত দুধ দ্বারা প্রায় বিশ গড়্গঅস সরবত তৈয়ার করার পর দুধ যেন পূর্ব পরিমাণ মত জমা রহিয়াছে। তৎপর হযরত নিজ হাতে পচিশটি টাকা দিয়া বলিলেন, “তোমার পেট বড় ভারী তুমি টাকাগুলি খাও।” আমি টাকাগুলি হাতে লইতে চাহিলোম। তিনি আমার হাতে না দিয়ে টাকাগুলি আমার মুখের মধ্যে প্রবেশ করাইয়া দিলেন এবং বলিলেন, চলিয়া যাও। তুমি আমার গোলাম।” বিদায়ের পর অঅমার মনে নানা প্রকার প্রশ্ন জাগিতে লাগিল তাহার কার্য্যকলাপ কিছুই বুঝিতে পারিলাম না। সবই আমার কাছে বিপরীত মনে হইল। আমার বাবাকে জ্ঞিাসা করিলাম কি নিয়তে একানে অঅসিয়াছেন। আমাকে কেন এইরূপ বলিলেন বাবা উতত্তেরে বলিলেন যে, বর্তমানে তিনি অনেক টাকার কর্জদার আছেন। আমরা বাড়ীতে গেলাম। অপ্রত্যাশিতভাবে অঅমার বাবার রোজগার হইতে লাগিল। এমন কি এক বৎসরের মধ্যে আমার বাবা সমসত্ম কর্জ পরিশোধ করিয়া স্বচ্ছল হইয়া গেলেন। তখন আমার বুঝে আসিল, হযরত কেন আমাকে টাকা মুখে প্রবেশ করাইয়া দিয়াছিলেন। ইহাতে তিনি হযতঃ ইঙ্গিত দিয়াছিলেন যে, বিনা চেষ্টা আমাদের উপার্জন হইবে। বাসত্মবিকই আমার বাবাকে লেঅকে ডাকিয়া নানা উচিলায় টাকা দিতেন। ইহা একমাত্র হযরতের দোয়া ও একাত্মিক শক্তিতেই হইয়াছিল।
**উকিল বাবুর প্রেরিত কলা রাখিয়া দুগ্ধ ফেরৎঃ

ফটিকছড়ি থানা, নাম অতি সুন্দর, মাইজভান্ডার গ্রাম এক, তাহার ভিতর। শুভক্ষণে শুভযুগে দয়া করি আল্লাহ, সেই দেশে জম্মাইল শাহ াঅহমদ উল্লাহ সুপন্ডিত আরবীতে মুখস’ কোরান, ফকির মাওলানা বরে বিসত্মর সম্মান। বাল্যাবধি স্বধর্মেতে ছিরেন নিষ্টঅবান, করিতেন জগতের সতত কল্যাণ। নিরপেক্ষ লোক তিনি প্রসিদ্ধ ফকির, মনুষ্য কুলেতে হন সকলেল পীর। মানবের উপকার করিবার তরে, সতত প্রস’ত ছিলের প্রফুল্ল অনত্মরে।নান জিলা হতে লোক আসিয়া তথায়, ইচ্ছামত কার্য্যলভে তাহার কৃপায়। দেশদেশানত্মরে আছে তাহার বড় নামে, সর্বলোকে গোষে যশঃ কীর্তি অনিবার।। লোকের মনের কথা জানিতেন তিনি, নানা প্রকার গুণ ছিল অতি বড় জ্ঞানী।। ভোগ লিপসা নাহি ছিল তাহার অনত্মরে, খেতে দিতেন অতিথিদের নানা উপচারে।। শিষ্য সাগরিদ আছে তার ভিন্ন ভিন্ন স’ানে কার্য্যসিদ্ধ হয় সবার তার নাম নিলে।। ফটিকছড়ির নববাবুর উকিল সরকার, জ্ঞাতিজ্যেষ্ঠ ভাই হয় সম্পর্কে আমার।। কার্য্যেপলক্ষে আমি সেই বাসায় ছিনু, ফকিরের গুণ দেখি আ্‌চর্য্য হইনু। উকিল বাবুর এক গাভী প্রসবিল, বহুদুগ্ধ গাভী হইতে পাইতে লাগিল।। ভাগ্যক্রমে সেই সময় বাসাতে তাহার, পাকিল কাবুলি কলা অতি চমৎকার।। তাহা দেখি নবাবু ভক্তি সহিতে, গুদ্ধ কলা দিতে চাইলেন ফকীর বাড়ীতে।। কহিল মনের কথা কেরানীর ঠাই, অদ্যকার দুগ্ধ সব তথা দিতে চাই। কেরানী শুনিয়া তাহার মনে মনে ভাবে, তিনি সের দুগ্ধ কবির নাহি সাইবে। জনৈক বাহক দিয়া কলা দুই কান্দি, এক সের দুগ্ধ দিল ভান্ড মুখ বান্দি।। ফকীরের কাছে গিয়া বাহক কহিল, উকিল সরকার বাবু দ্রব্য পাঠাইল।। “এত দুধ নাহি খায়”, ফকির কহিয়া, কলা রাখি দুগ্ধ সব দিরেন ফিরাইয়অ বলিলৈণ ফকির এত দুগ্ধ নাহি খায় বুঝিতে না পারি তার কিবা অভিপ্রায়। তদনত্ম করিয়অ জানি কেরানীল কথা, পরদিন পাঠাইল সবদুধ তথা ফকীর, সন’ষ্টি হইয়অ রাখে সেই দুগ্ধ, চক্ষে তাহার গুন দেখি হইলাম মুগ্ধ।। রচনায়।

**মোক্তার অনুকুল চন্দ্র বিশ্বাস-চট্টগ্রাম কোর্ট হয়রতের নির্দেশে বিস্ময়কর উন্নতিঃ

একদা রাউজান থানার গচ্ছিকুল নিবাসী হযরতের এক ভক্ত ওয়ালী মসত্মান সাহেব, অত্যনত্ম অভাব অনটনে ছিলেন। তাহার বহু টাকা র্জ হইয়া গিয়াছিল। তিনি একদিন নিরূপায় হইয়া হযরতের কেধমতে আসিয়া আরজ করিলেন, “হুজুর আমি একজন হুজুরের গোাম। খুব অভাব অনটনে আছি। অনেক টাকা কর্জ হইয়াছে। আমার এমন জায়গা জমি নাই, যাহাতে কর্জ শোধ করিয়া দৈনন্দিন খরচ নির্বাহ করিয়া জীবন যাপন করিতে পারি। আমাকে এই অনটনের আজাব হইতে রক্ষা করার আদেশ হয়। না হইলে আমার ইজ্জত রক্ষা হইতেছে না। হযরত উত্তর করিলেন, “হিজরত কর।” ওয়ারী মাসত্মান, হযরতের আদেশ মত গচ্ছিকুল ত্যাগ করিয়া রাঙ্গামাটি হিজরত করিনে। ততায় তাহার নানা প্রকার উপার্জন হইতে লাগিল। লেঅকজন তাহাকে খুব ভক্তি করিত। ইহাতে ক্রমে তাহার াবস’ার সম্পূর্ণ পরিবর্তণ হইয়অ গেল। তাহার বিসত্মর জায়গা জমিও টাকা পয়সা জমিয়া গেল। বর্তমানে মসত্মান সাহেবের ছেলে-হাজী ইমামুদ্দিন সাহেব সেখানকার বাসিন্দা হিসেবে বিদ্যমান াঅছেন। তিনি একজন ধনীলোক বরিয়া লোক সমাজে পরিচিত। সেখানে তাহার পিতা ওয়ালী মাসত্মানের মাজার আছে। তাহার মাজারের উপর পাকা দালান নির্মাণ করা হইয়াছে। এইরূপ হযরত তাহাকে হিজরত করাইয়অ তাহার শুভদৃষ্টি দ্বারা ধনী ও সুপরিচিত করাইলেন।

**সুদখোরের পয়সা নিক্ষেপানেত্ম দেহে প্রভাব বিসত্মার রহস্যময় কেরামত প্রদর্শনঃ

নোয়াখালী জেলার রৌসন আলী নামক এক সুদখোর একদিন হযরতের কেধমতে াঅসিল। সে হযরতের সামনে আট আনা পয়সা দিল। তাহার প্রতি হযরতের দৃষ্টি পড়িতেই হযরত জাঅর হইয়া উঠিলেন এবং পয়সা বাহিরে নিক্ষেপ করিয়া দিলেন। সে পয়সাগুলি আবার আনিয়া হযরতের সামনে দিল। হযরত পয়সাগুলি পুনরায় বাহিরে ফেলিয়অ দিলেন। সে আবার যাইয়অ পয়াসগুলি কুড়াইয়া পুনরায় বাহিরে ফেরিয়অ দিলেণ। সে আবার যাইয়অ পয়সাগুলি কুড়াইয়া আনিয়া বলিতৈ লাগিল, হুজুর আট আনা পয়সা আপনার কাছে কিছুই নহে বটে কিন’ আমার কাছে মূল্যবান। আপনি ছাড়া আমার গোনাহ্‌ মাফ করাইতে পারে-এমন আর কেহ নাই মনে করিয়অই আপনার খেদমতে আসিয়াছি।” ইহা বরিযঅ আবার পযসাগুলি হযরতের সামনে রাখিল। হযরত এবারও পয়সাগুলি সজোরে বাহিরে নিক্ষেপ করিলেন। সে আবার উহা কুড়াইয়া আনিল এবং বলিতে লাগিল” আমার গোনাহ মাপ না হওয়া পর্যনত্ম আমি যাইব না। আমার গোনাহ্‌ মাফ করাইতেই হইবে। তৎপর হযরত যেন তাহার প্রতি সহৃদয় দৃষ্টিপাত করিলেন। তাহার হাতে একখানা বাতাসা দিলেন এবং বলিলেন, “মসজিদের পুকুরে গোসল করিয়া ইহা খাইয়া ফেল।” সে হযরতের আদেশে মসজিদের পুকুরে গোসল করিয়া উহা খাইতেই তাহার অবস’া পরিবর্তন হইয়া গেল। সে পাগলামী করিতে করিতে লোকজনকে মারিতে লাগিল হযরতের কাছে নালিশ করিলে হযরত তাহাকে বাধিয়া রাখার আদেশ দেন। বাধা অবস’ায় ঘরে সে পায়খানা প্রস্রাব করাতে তাহাকে চাড়িয়া দেওয়া হয়। পুনরায় সে অশানিত্ম সৃষ্টি করায় কুলাল পাড়ার লোকেরা তাহাকে পুকুরে ফেলিয়া এমন ভীষন ভাবে প্রহার করে যে তাহার শরীর ক্ষতবিক্ষত হইয়া যায়। পুনরায় তাহাকে হযরতের সামনে আনা হয়। হযরত তহার হাতে একখানা মিঠাই দিয়া খাইতে আদেশ দেন। সে মিঠাই খানা খাইতেই তাহার পাগলামী ভাবের পরিবর্তন হইয়অ শানত্মভাব ফিরিয়া আসে এবং সুস’ হইয়া উঠে। ইহার পর হইতেই সে হারাম ব্যবসা ছাড়িয়া দীনদার মুওকী ও খোদায়ী প্রেম প্রেরণায় দিন কাটায়। এমন করিয়া তাহার আধ্যাত্মিক প্রভাবে সুদখোরকে সংশোধন করিয়া দীনদার আশেক করিয়া লইলেন ও হারাম কার্য্য ত্যাগ করাইলেন।

**হযরতের আলৌকিক প্রভাবে বৃষ্টি বারি বরিষণঃ

এক বৎসর চাষের মৌসুমে ভাদ্রমাসে বৃষ্টিপাত একেবারে বন্ধ হইয়অ যায়। সমসত্ম দেশ খাল-বিল শুকাইয়া গ্রীষ্মকালের রূপ ধারণ করে। পানির অভাবে চাষ বন্ধ থাকে। রৌদ্রের প্রখরতার ধান্য চারাসমূহ মরিয়া যাইতে আরম্ভ হয়। কৃষকদের মদ্যে হাহাকার পড়িয়া যায়। চারিদেক দাওয়াত, খতমে কোরআন ও নানা প্রকার আল্লাহর দরবারে বৃষ্টির জন্র দোয়া প্রার্থণা শুরু হয়; কিন’ কিছুতেই বৃষ্টিপাত হইল না! সেই সময় শহর কুতুব নজির শাহ মিঞা, যিনি হযরতের একজন অন্যতম ভক্ত ছিলেন, তিনি দরবার শরীফ আসিয়া হযরতের দরবারে বৃষ্টির জন্য ফরিয়াদী হন। তিনিই দু্‌ই দিন না খাইয়া দায়েরা শরীফে পড়িয়া থাকেন। ইহার পর শেষ রাত্রে উঠিয়অ তিনি বকাবকি আরম্ভ করেন। “লেঅকে ধান চাউল না পাইলে খোদার জন্য কোথা হইতে দিবে? খোদা কি দেখিতেছে না এই সমসত্ম বলিতে বলিতে তিনি এ’দিন ওদিক পায়চারী করিতে লঅগিলেন। প্রভাত হইল। হযরত সাহেব কেবলা; খাদেম মৌলভী আহমদ ছফা সাহেবকে বলিলেন, “মিঞা! আমি নাজিরহাট যাইব্‌। আমার কাপড় আন।” মৌলভী সাহেব তাহার জামা কাপড় আনিয়অ দিলেন। হযরত একখানা ঢিলা তহবন্দ, একটি কোর্ত্তা ও হলদে রঙ্গের একখানা আবা গায়ে পড়িয়অ বাড়দিক্ষিণ দিক বাহির হইলেন। সঙ্গে সঙ্গে খাদেমগণ ও অন্যাণ্য হাজতী, মুকছদি অনেক লোক তাহার পিছনে পিছনে যাইতে লাগিল। বাড়ীর দক্ষিণ পশ্চিমে অবসিত্মথ মরা খালটি পার হইয়া বিলে উঠতেই একজন রোক আসিয়া হযরতকে সালাম জানাইলেন। হযরত তাহাকে বলিলেন, “মিঞা, তোমার বাড়ী কোথায়?” লোকটি উত্তর করিল, “হুজুর খন্দকিয়া” ইহাতে হযরত জালাল হইয়া লোকটিকে তিরস্কার করিয়অ বলিতৈ লাগিলেণ, “মিঞা খন্দকে বেঙই থাকে। তুমি খন্দকে থাক কেমনে?” লোকটি কাতরভাবে বলিলেন হুজুর আমার গ্রামের নাম খন্দকিয়া” হযরত ভীষন জালাল হইয়অ তাহার হসত্মসি’ত লাঠি দিয়া লোকটিকে দুই তিনটি আঘাত করিলেন। পরে দক্ষিণ দিকে হাটিতে লাগিলেন। রহম আলী নামক খাদেম হযরতের হাতি ধরিয়া পিছনে যাইতেছিলেন। কিছুদূর যাইয়া হযরতকে বলিলেন, হুজুর, নাজিরহাট যাইতে হইলে পশ্চিম দিকে যাইতে হইবে। হযরত তিরস্কার করিয়া তাহাকে আড়াইলে তিনি দূরে সরিয়া গেলেন। তখন রৌদ্রের প্রখর তেজ। হযরতের গায়ে সুর্য়ের কিরণ পড়িতেছে। হযরত সূর্যের প্রতি তাকাইয়অ তিরস্কার করিতে করিতে পথ চলিতেছেন। সামনে বাশের সেতু দেখিয়া আরো অধিক জালাল ও রাগান্বিত হইয়অ উঠিলেন। এমন সময় রাউজান নিবাসী ডাক্তার আবদুল হামিদ সাহেব একজাম সরবত লইয়া, হযরতের সামনে পেশ করিলেন। হযরত সরবতগুলি এক চামিচ করিয়া সকলকে বাটিয়া দিতে নির্দেশ করিলেন। সেই সময় হযরতের চতুর্পাশ্বে ৫০/৬০ জন লোক জমায়েত হইয়া গিয়েছে। সকলকৈ এক চামিচ করিয়া সরবত দেওয়া হইল। হযরত জিজ্ঞাসা করিলেন, “আর কি পরিমাণ আছে?” তিনি বলিলেন, “হুজুর আরো অনেক আছে।” আদেশ দিলেন, “তুমি এক চামিচ খাও, আমাকে এক চামিচ দাও।” তাহা করা হইলে আবার বলিলেন, “তুমি আরো এক চামিচ খাও।” তৎপর মাটির প্রতি লক্ষ্য করিয়া বলিলেন “এক চামিচ এই হারামজাদীর “গুপ্ত স’ানের ফাটলের মধ্যে দাও।” তিনি আরো এক চামিচ খাইলেরন এবং এক চামিচ মাটিতে ঢালিয়া দিলেন। তৎপর আবার জিজ্ঞাসা করিলেন “আর কি আছে?” উত্তর করিলেন হুজুর এখনও আরো কিছু আছে।” বলিলেন, “হারাম জাদীকে আরো তিন চামচ দাও। “মাটিতে আরো তিন চামচ ঢালিয়া দেওয়অ হইল। হযরত আবার বলিলেন, আর কি আছে? আরো কিছু আছে বলাতে হযরত জালালী হালতে উচ্চঃস্বরে গর্জিয়া বলিলেন, “সব তাহার ফোরজের” মধ্যে ঢালিয়অ দাও। সব মাটিতে ঢালিয়া দেওয়া হইল। অতঃপর হযরত দ্রুত বাড়ী রওয়ানা হইলে, অন্যাণ্যরাও তাহাদের নিজ নিজ পথে চলিয়া যায়। খোদার কি অসীম করুনা। হঠাৎ দক্ষিণ দিক হইতে একখানা মেঘ আসিয়া সমসত্ম আকাশ ছাইয়া ফেলিল। দেখিতে দেখিতে বৃষ্টিাত আরম্ভ হইয়া গেল। সকলে দৌড়াদৌড়ি করিয়া বৃষ্টি জলে ভিজিতে ভিজিতে বাড়ী পৌছিল। প্রথমে কিছু বৃষ্টি হইয়অ একটুখানি থামিল। তারপর আবার বৃষ্টি আরম্ব হইয়া অনেকক্ষন রহিল। পুনঃ কিছুক্ষন থামিয়া এমনভাবে বৃষ্টি পড়িতে আরম্ভ হইল যে, লোকজন পর্যনত্ম বাহির হওয়া অসম্ভব হইয়া উঠিল। একদিনের বৃষ্টিতে সমসত্ম নদী নালা খাল বিল ভরিয়া মাঠঘাট জলে ডুবিয়া রহিল। আবদুল হামিদ সাহেব বলেন, পরদিন হুজুর আমাকে বাড়ী যাইতে আদেশ দিলেন। আমি অতি কষ্টে বৃষ্টির জল ভাঙ্গিয়া বাড়ী পৌছিলাম।

**হযরত কেবলার বেলায়তী প্রভাব ষ্টিমার রক্ষা ও মহমারী নিবারণঃ

জনৈক মৌলভী সাহেব বলেন, “আমি বহুপ্রকার ব্যবসা বাণিজ্রেল চেষ্টা করিয়া ক্ষতিগ্রসত্ম হইয়াছি। কোন ব্যবসাতেই সফলখাম হইতে না পারিয়া দেওয়ার জন্য একদিন কিছু বাতাসা হাদিয়া লইয়া হযরতের কেধমতে রওয়ানা হইলাম। দরবার শরীফ ৗেছিতেই দেখিতে পাইলাম হযরত সাহেব মসজিদের দক্ষিনের রাসত্মা দিয়া যাইতেছেণ। আমিও পিছনে পিছনে চলিলাম। তিনি মাঠের মধ্যে যাইয়াই একটি মাটির ঢেলা লইয়া জমিনের ফাটলে রাখিয়া নিজ পাদুকা দিয়া উহাকে ভিতরে প্রবেশ করাইয়া জমিনের ফাটল বন্ধ করিতে চেষ্টা করিতেছেন। আমি একটি মাটির ঢেলা লইয়অ বলিলাম হুজুর! আমি বন্ধ করিয়া দিব কি? তখন হযরত অঅমার প্রতি মুখ ফিরাইয়অ বলিলেন, মিঞা, দেখিতেছনা, দুইটি বলিষ্ট ভইস ঠেলাঠেলি করিয়অ উপর দিকে উঠিতেছে। আমি তাহা বন্ধ করিয়া দিলাম।” তৎপর হযরত যাইয়া বিনাজুরী খালের ধারে বসিলেন! চারিদিক হইতে হাদিয়া লইয়া আগন’কগণ তথায় আনিত দ্রব্যাদি সামনে পেশকরিতে লাগিল। আমিও আমার বাতাসাগুলি হযরতের সামনে দিলাম। হযরত পাচখানা বাতাসা আমাকে দিয়অ বলিলেন, মিঞা! চলিয়া যাও। বাড়ীতে সকলকে খাইতে দিও এবং নিজেও খাইও। সহসা চলিয়অ যাও। আসিয়া দেখিলাম আমাদের পাড়ায় কলেরা আরম্ভ হইয়াছে। দুইজন লোক মারা গিয়াছে। আরো চারি পাঁচজন লোক আক্রানত্ম অবস’ায় আছে। আমি তাড়াতাড়ি তবারোকগুলি বাড়ীস’ সকলকেবণ্টন করিয়অ দিলাম। সামান্য নিজেও খাইলাম। কলেরায় পাড়ার অনেক লোক মারা গেল। প্রায় সকলেই আক্রানত্ম হইল। খোদার কৃপায় আমাদের বাড়ীতে যাহারা এই তবারোক খাইয়াছিল, তাহার সকলেই নিরাপদে রহিল। কিছুদিন পরে আমি পুনরায় মাইজভান্ডার শরীফে যাই। সেই দিন আরো একজন ব্যভসায়ী লোক, হযরতের দরবারে সওগাত হাদিয়া লইয়া উপসি’ত হন। তিনি দরবারের লোকের নিকট প্রকাশ করেন যে, কিছুদিন পূর্বৈ তিনি ছোট একখানা ষ্টিমারে করিয়া কিছু সওদা লইয়া আরকান হইতে আসিতেছিলেন। পথে সমুদ্রে তাহার ষ্টিমারখানা বিপদে পতিত হয় এবং ষ্টিমার ছিদ্র হইয়া যায়। তখন ষ্টিমারে প্রবলবেগে পানি উঠিতে থাকে, তিনি নিরূপায় হইয়অ নিয়ত করিলেন, আল্লাহতা’লা যদি তাহাকে জানে মালে নিরাপদে রক্ষা করেন তিনি বাড়ী যাইয়া মালগুলি বিক্রয় করিয়া মাইজভান্ডারী হযরত সাহেব কেবলার জন্য হাদিয়া লইয়া দরবার শরীফ যাইবেন। ষ্টিমার কর্মচারীগণ তখন ছিদ্র বন্ধ করিতে প্রাণপণ চেষ্টা করিতেছে। ষ্টিমার তখন প্রায় ঘাটের কাছে আসিয়া পৌছিয়াছে। হঠাৎ কোথা হইতে কি যেন হইয়া গেল। ষ্টিমারের পানি উঠা বন্ধ হইল। ষ্টিমার ধীরে ধীরে ঘাটে আসিয়া ভিড়িল। খোদার আপার রহমতে এবং হযরতের দয়ায় তাহার মালপত্র রক্ষা পাইল। তিনি তাই তাহার নিয়ত মতে দরবারে পাকে হাজির হইয়াছেন। লোকটির বর্ণনামতে দেখিলাম-তাহাদের ষ্টিমার দূর্ঘটনার তারিখ এবং আমি যেইদিন হযরতের দরবারে বাতাসা লইয়া আসিয়াছিলাম এবং হযরত সাহেরে মাটির ঢিলা দিয়অ জমির ফাটিল বন্ধ করিয়াচিলেন তাহা একই তারিখ ও একই সময়। হযরতের পবিত্র কালাম “আগুন জ্বলিতেছে সহসা বাড়ী যাও।” তাহার মর্ম আমি বাড়ীতে গিয়াই বুঝিয়াছিলাম কিন’ তাহার ঢেলা দিল ফটল বন্ধের তাৎপর্য উপরোক্ত ঘটনা বর্ণনার পর বুঝিতে পারিলাম। কিছুদিন পর আমি গাছের ব্যবসা আরম্ভ করি। হযরতের দোয়ায় তাহাতে বিশেষভাবে লাভবান হই। বর্তমানে চট্টগ্রাম ষ্ট্রান্ড রোডে আমার যেই হোটেলটি আছে, তাহা হযরত সাহেবেরই দান।

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on গাউছুল আযম হযরত শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসইনী মাইজভান্ডারী (কঃ) এর জীবনাদর্শঃ

হযরত গাউছুল আযম শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী বাবাভান্ডারী (ক:) এর জীবনাদর্শ ঃ

হযরত গাউছুল আযম শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী বাবাভান্ডারী (ক:) এর জীবনাদর্শ ঃ

**হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলার পবিত্র দেহের গঠন বিবরণীঃ
তিনি মধ্যম আকার বিশিষ্ট মানব ছিলেন, কিন’ বিসত্মর লোকের মধ্যে দণ্ডায়মান হইলে তাহাকে সব চাইতে লম্বা দেখাইত। তাঁহার পবিত্র দেহের রং ছিল গ্মন্দমী লালিমা যুক্ত, সময় সময় লাল জবা ফুলের মত। আবার কখনও তাহার পবিত্র দেহ কা’চা হলুদের রং পরিস্ফুট হইত। কোন সময় পূর্ণ চাদের সম উজ্জল দেখাইত। আবার কখনও ধুসর বর্ণ ধারণ করিত। ইহা তাহার জালালি, জামালি, ছলুকি এবং হায়রতি অবস’াদির অভিব্যক্তি ছিল। তাহার মধ্যম আকারের মসত্মকে কর্ণদ্বয়ের লতি পর্যনত্ম কৃষ্ণ বর্ণ মসৃন বাবরি কাটা চুলে সিংগার করিলে অতি সুন্দর দেখাহত। তিনি লিম্মা, জুম্মা, ও আফরা পদ্ধতির চুল রাখিতেন। শশিসন মনোরম জ্রেঅতি বিশিষ্ট জশসত্ম কপাল, অবিছিন্ন ভ্রুযুগল নব চন্দ্রের ব্যায় চিকন, চক্ষুদ্বয় বড় লজ্জাপূর্ণ সুরমা যুক্ত অক্ষি পুটদ্বয় পাতলা, মুখ সুশী, দনত্মপাটীদ্বয় মুক্ত ছড়ার ন্যায় সমান ও উজ্জল দেখাইত। নাসিকা সামান্য উচু ও মনোরম, গন্ডদ্বয় মাংসপূর্ণ, ওষ্ঠদ্বয় সরুলাল বর্ণ, দাড় মোবারক অনতিদর্ঘি ও ঘন এবং গ্রীবাদেশ মোটা ও লম্বা। তাহার হাতলীদ্বয় প্রসস’লালচে রং যুক্ত, বাহুদ্বয় আজানু লম্বিত আংগুলগুলি কলমি, নখগুলি কর্পূর রংধারী অংগ প্রত্যংগাদি মাংস পূর্ণ এবং উরুদ্বয় অল্প মাংস বিশিষ্ট ছিল। তাহার বক্ষস’ল প্রশসত্ম ও চওড়া, মাংশাল, লোম ও কেশবিহীন ছিল। ুদর চওড়া ও লম্বা এবং হাতার দেহের চামড়া কাগজের মত পাতলা ছিল। পিঠে লেঅম ছিল না। উদর ও পিঠ আয়নার মত পরিষ্কার ছিল। তাহার পদদ্বয় সরু ও পাতলা, পায়ের আঙ্মল লম্বা, চিকন ও অবিচ্ছিন্ন ছিল। পায়ের তালু রক্তিম বর্ণ ছিল। তিনি মস’র গতিতে চলিতেন। তিনি মিষ্টিভাষী ছিলেন, তাহার কন্ঠের আওয়াজ অতিমধুর ছিল। তিনি যেই পথ দিয়া চলিতেন সেই পথ গোলাবের সুঘ্রাণে পূর্ণ থাকিত। তাহার চক্ষুতে চুম্বকের মত এক মনোহর আকর্ষণী শক্তি বিদ্যামন ছিল। তাহার পোষাক পরিচ্ছেদ হিসাবে সাধারণতঃ সাদা মসৃণ কাপড়, চটিজুতা ও জবাকুসুম তৈল ব্যবহৃত হইত। তাহার পানাহারে কমলালেবু, চা, তামাক, মাগুর মাছ, সিমের দানা ব্যবহারে সন’ষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পাইত।
**হযরত বাবাভান্ডার িকেবলার পরলোক গমণের পূর্বাভাবঃ

বড় শাহজাদা সৈয়দ খায়রুল বশর সাহেব জনাব বাবাভান্ডারী কেবলার পরলোক গমণের কযেকদিন পূর্বাস্বপ্ন যোগে দেখের যে, “গাউছিয়া রহমান মনজিল” প্রবল ভূমি কম্পের দ্বারা ভষিণভাবে কাপিতেছে। এই দুঃস্বপ্ন দেখিয়অ তিনি জীবত হইয়া অত্যনত্ম ভতি হইলেন এবং স্বীয় কামরার দরজা খুলিয়া বারান্দায় পদার্পর্ণ করেন, তিখন মাওলানা সৈয়দ অঅবদুস ছালাম ইছাপুরী সাহেব মেহমান খানা হইতে বাহির হইয়া সেই বারান্দায় অতিক্রম করতঃ বাবা ভান্ডার িকেবলা কাবার হুজরা শরীফে যাইতেছিলেন। তখন রাত তিন ঘটিকা। শাহজাদা সাহেব তাহাকে দেখিয়া ব্যসত্মতার সহিত বলিলেন, “আসুন! আমি আপনাকে ডাকিতে মনস’ করিয়াছি, আপনি নিজেই আসিয়াছেন, বেশ হইয়াছে। আপনার সহিত আমার বিশেষ আলাপ আছে।” ইছাপুরী সাহেব হুজুরা শরীফ হইতে আসিয়া আলাপ করিবেন বরিয়অ হুজুরা শরীফে প্রবেশ করিলেন। শাহজাদা সাহেবও হুজুরা শরীফের দরজায় থাকিয়া বাবাভান্ডারী কেবলাকে তাজিম করিলেন। ইছাপুরী সাহেব হুজরা শরীফে প্রবেশ করিয়া দেখেন যে, বাবাভান্ডারী কেবলা অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাহার দিকে তাকাইতেছেনে ইছাপুরী সাহেব বিনীতভাবে তাজিম করিলে বাবাভান্ডারী কেবলা তাহার দিকে তাকাইয়া চাঁদর দিয়া স্বীয় মুখমন্ডল আবৃত করিয়া লইলেন। পুনরায় তিনি তাজিম প্রদর্শণ করিয়া হুজরা শরীফ হইতে প্রস’ান করিয়া শাহজাদার কামরায় প্রবেশ করিবেন। শাহজাদা সাহেব তাহাকে সেই স্বপ্নের কথা বর্ণনা করিলেন। ইছাপুরী সাহেব বলিলেন, “বোধ হয় আপনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা হৃদয়ংগম করিতে পারিয়াছেন। আমার অনুমান বাবাভান্ডারী কেবলার পরলোকগমনের দিন অতি সন্নিকট।” শাহজাদা সাহেব বলিলেন, “আমিও তাহাই ভাবিয়াছি”। ময়মনসিংহ জিলার অনত্মর্গত করিমগঞ্জ নিবাসী আবদুল কাদের ভুইয়া বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি একদা হুজুরা শরীফে জনাব বাবাভান্ডারী কেবলার সম্মুখে হাজির হইলে বাবাভান্ডারী তাহাকে বলেন যে, “তুমি আমার জন্য একখানা ঘর বানাইয়া দাও আমি সেই ঘরে থাকিতে চাই।” তাহার পরলোক গমনের পূর্বে এইরূপ আরও অসংখ্য আভাষ পাওয়া গিয়াছিল। বেচাল শরীফ আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বন্ধুদের পরলোক গমনের বিষয়ে পবিত্র কোরআনে গোষণা করিয়াছেন, “এবং যাহারা আল্লাহর পথে নিহত হইয়াছে, তাহাদিগকে মৃত বলিওনা, বরং তাহারা জীবিত, কিন’ তোমরা তাহা অবগত নও।” সাধারণতঃ মানুষ ইহধাম পরিত্যাগ করিয়া পরধামে স’ানানত্মরিত হওয়াকে মৃত্যু বলা হয়। নবী, রাসুল, গাউছ এবং কুতুবগনের মৃত্যুকে বেচাল বলা হয়। নবী, রাসুল, গাউছ এবং কুতুবগনের মৃত্যুকে বেচাল বলা হয়। সমদুয় সৃষ্টির (মওজুদাত) জীবন িশক্তির মুল্যোৎপাটন হওয়া মৃত্যুনামে অভিহিত। মৃত্যু একখানা সেতু সদৃশ যাহা অত্রিম করার পর বন্ধু তাহার পরম বন্ধুর সহিত মিলিত হয়। সৃষ্টির আদিকাল হইতেই মৃত্যু উহার সাথে সাথে আসিয়া আদেশ অপেক্ষায় কাল অতিবাহিত করে। মৃত্যু দ্বারা সমদুয় সৃষ্টি লয় প্রাপ্ত (নিসত্ম) হয় না বরং তাহা স’ানানত্মরিত বা রূপানত্মরিত হয় মাত্র। অতঃপর তাহার জন্য বাহন প্রদান করা হয় যাহা, ধ্যানের জগতে (অঅরমে বরজখ) মৃত্যু ব্যক্তির উপযুক্ততা অনুসারে প্রদত্ত হয়। তাই সেই সৃষ্টি (মওজুদ বরজখ) মরে না, বরং চিরস’ায়ী জীবন প্রাপ্ত হয়। তাহার শরীরের অংশ সমূহ পৃথক হইয়া যায় না। ইহধামে যেই অবস’ায় ছিল, অনুরূপ অবস’ায় স’ায়িত্ব লাভ করে। ইহা নবী, রসুল ও অলি আরেফের ফজিলত। ১। কোরআন সুরা বাকারা, ১৫৪ আয়াত। ২। ফছুছুল হেকম মহিউদ্দিন ইবনুল আরবী ১৬৯ পৃষ্ঠা। হযরত বাবাভান্ডরী কেবলা সুদীঘৃ একাত্তর বৎসর ছয় মাস কাল ইহধামে আধ্যাত্মিক লীলা সমাপন করিয়া ১৯৩৭ খৃষ্টাব্দের ৫ই এপ্রিল, ১৩৫৬ হিজরী সালের ২২ শে মোহরম, ১৩৪৩ বাংলার ২২শে চৈত্র, সোমবার ভোর ৭ টা ৫৫ মিনিটের সময়ে পরম প্রিয়তম মহান আল্লাহর সহিত শুভ মিলনার্থে বিশ্ববাসীকে ছাড়িয়া পবিত্র অমর ধামে শুভ যাত্রা করেন। তাহার পবিত্র মহান আতমআর উপর অবিরাম আল্লাহতায়ালার অফুরনত্ম শানিত্ম ও করুনাবারী বর্ষিত হউক। বাবাভান্ডারী নাই। বাবাভান্ডারী নাই। ধরণীর অনত্মস’ল হইতে একটা অস্ফুট আর্তনাদ উত্থিত হইয়া আকাশ বাতাস উতলা করিয়া তুলিল। এতদিন যাহাকে পাইয়া বিশ্ব প্রকৃতি শানত্ম হইয়াছিল, আজ আবার তাহাকেহারাইয়া হাহাকার করিতে লাগিল। মিলনোৎসবের প্রধান অতিথি চলিয়া গেলে সভাগৃহ যেমন নিষপ্রভ হইয়া যায়, বাগ-বাগিচা হইতে বুলবুল উড়িয়া গেলে যেমন করিয়া তরূপল্লবে বিরহ ঘনায়, বিশ্ব ধরণীরও আজ সেই দশা হইল। যাহার আগমন তোরণে প্রেরণে একদিন বাশী বাজিয়া ছিল নানা পত্র পুষ্পে যাহাকে অীভনন্দিত করা হইয়অ ছিল, দিকে দিকে আনন্দ মেলা বসিয়াছিল, সেই সম্মানিত অীতথি আজ চলিয়া গেলেন। উৎসব ভূমি আজ মলিন, নিষ্ট্রভ হইয়া পড়িল। জলে স’লে, লতায়, পাতায়, ফুলে, ফলে, তৃণে তৃণে শোকের ছায়া নামিল। সমসত্ম হাসি গান থামিয়া গেল; দিকে দিকে শুধু একটা করুন ক্রন্দনের সুর শুনা যাইতে লাগিল। জড় চেতনে আজ এমনি করিয়া শোকের মাতম উঠিল। সকলেই মনে করিতে লাগিল কী যোন তাহার নাই কি যেন সে আজ হারাইয়া ফেলিয়াছে, কোথায় যেন খানিকটা শুণ্র হইয়া গিয়অছে। মুহুর্তের মধ্যে টেলিগ্রাম যোগে হযরত বাবা ভান্ডারীর মৃত্যু সংবাদ পাক ভারত ও সুদৃর বার্মার চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িল, দেশ বিদেশে হইতে আশেকান ও মুরিদানের উপসি’তির অপৈক্ষায় ৪৮ ঘন্টা পর্যনত্ম তাহার দাফন কাফনের কাজ স’গিত রাখা হইল। বুধবার পূর্বাহ্ন আট ঘটিকায় তাহার লাশ মোবারক গোছলের কাজ সমাধা করেন। অতঃপর তাহার লাশ মোবারক সাদা সুতার কাপড়ের কাফনে আচ্ছাদিত করা হয় এবং তাহাকে তাহার পালষ্কের উপর স’াপন করতঃ হুজুরা শরীফের সামনের ময়দানে সামিয়নার তলে রাখা হয়। বেলা ১১ টার সময় তাহার লাশ মোবারক মহাসমারোহের সহিত লক্ষ কন্ঠে আল্লাহ আকবর ধ্বনি সহকারে বাড়ীদক্ষিণ দিকস’ মাঠে লইয়া যাওয়া হয়। বড় শাহজাদা সৈয়দ খায়রুল বশর সাহেবের আদেশে শাহজাদা সৈয়দ আবুল বশর সাহেব জানাযার নামাযের ইমামতি করেন। অতঃপর তদীয় লাশ মোবারক পাক দরবারের ময়দানে সামিয়ানার তলে রাখা হয়। লাশ মোবারক বাহকগনের সকলেই একবাক্যে বর্ণনা করিয়াছিলেন যে, তাহার লাশ মোবারক বণৃনাতীত ভারী ছিল জোহরের নামাজ শেষে মাওলানা আবু সৈয়দ মোফায়েল আহম্মদ সাহেবের ইমামতিতে দ্বিতীয় বার জানাযার নামাজ সমাপন করা হয়। এই মাজায়াতেও প্রায় দশ হাজার লোক সামিল ছিল, তাহার কবরে নতুন পাটি, তোশক চাঁদর দুইটি বালিশ ওেয়ার জন্য সৈয়দ মোহাম্মদ হাশেম আদিষ্ট ছিলেন। তাই তাহা পালন করিতে দেওয়া হয়। মাইজভান্ডার ও আজিম নগর গ্রাম নিবাসীগন তাহার কবরের কাজে াংশ গ্রহণ করিয়াছিলেন। বাকলিয়া নিবাসী সুতার মিস্ত্রিগন ও রাজমিস্ত্রিগন যথাক্রমে সেগুন কাটেল তাবুত এবং কবর পাকা করার কাজ সমাধা করে। কবরের কাজ অল্পক্ষনের মধ্যে সমাধা করা হয়। তারপর অনুরক্ত ভুক্ত ও আশেকান আতর, গোলাপ কর্পূর তাজা ফুল ইত্যাদি নানা প্রকার সুগন্ধি দ্রব্যাদি মাটির সহিত মিশাইয়া দেয়। অতঃপর আল্লাহু আকবর ধ্বনি সহকারে দিক বিদিক মুখরিত করিয়া তাহার লাশ মোবারক তাবুতের আন্দর রাখা হয়। এই সময় উপসি’ত ভক্ত শিষ্যদের অবস’া এবং ঐ স’ানের দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। দাফনের কাজ সমাধা করার পর মাগরেবের নানাবিধ আলো প্রজ্বলিত হইলে রওজা পাকের চারিদেকে হাফেজ ক্কারী মৌলানা মৌলবীগন কোরআন তেলাওয়াত, তসবিহ তাহলির ও মিলাদ পাঠে মনোনিবেশ করেন। এই ভাবে চাহরম শরীফ পর্যণ্‌ত রওজা পাকে বিপুল জন সমাবেশ হইতে থাকে। তাহার বেচাল পর্বের তৃতীয় সাল ১৯৩৬৯ খৃষ্টাব্দের ৫ই এপ্রিল তারিখ তদানীনত্মন বৃটিশ সরকারের উজির কাজী মোশার ১। (ক) মদারেজুন নবুয়াত-মাওলানা আবদুল হক দেহলভী ২য় খন্ড ওফাতে রসুল করিম অধ্যায়ের ৮১৫ পৃষ্ঠা। (খ) মৃত্যুর দুয়ারে মানবতার রূপ মাওলানা আবদুল কামাল আজাদ, রেহাতরে করিম অধ্যায় ২৫ পৃষ্ঠা। রফ হোসেন পবিত্র রওজার ইমামরত কাজে ভিত্তি স’াপন করেন। ক্রমান্বয়ে রওজা মোবারকের কাজ সমাধা করা হয়। এই রওজা মোবারকের সংলগ্ন সত্মানের মাইজভখান্ডার শরীফে প্রতি বৎসর ২ শে চৈত্র তাহার পবিত্র ওরছ শরীফ মহাসমারোহের সহিত সমাপন করা হয়।

**হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা উত্তরাধিকারী আওলাদঃ
হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলার ইনেত্মকালের সময় তাহার চারি পুত্র ও দুই কন্যা উত্তরাধিকারী রাখিয়া যান। প্রথমপুত্র- শাহজাদা সৈয়দ খায়রুল বশর, দ্বিতীয়পুত্র- শাহজাদা সৈয়দ আবুল বশর, তৃতীয়পুত্র-শাহজাদা সৈয়দ মাহবুবুল বশর, চতুর্থপুত্র-শাহজাদা সৈয়দ শফিউল বশর, প্রথমকন্যা-শাহজাদী সৈয়দা মায়মুনা খাতুন, দ্বিতীয় কন্যা-শাহজাদী সৈয়দা সাজেদা খাতুন। ইহা ছাড়া অসংখ্য আধ্যাত্মিক ওয়ারেশ অলীয়ে কামেল তাহার উত্তারাধিকারী খলিফা বিদ্যমান আছে।

হযরত বাবা ভান্ডারীল বেচালের পর ফয়েজ ও রহমত দানঃ হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা ইহধাম ত্যাগ করিয়া পরলোক গমন করিয়াছেন বটে কিন’ তাহার আধ্যাত্মিক প্রভাব, প্রেম প্রীতি ও আকর্ষণ পূর্বের মতই অপরিবর্তীত ভাবেই বিদ্যমান রহিয়াছে। সশরীরে তাহার দৈহিক দর্শন ও তাহার পবিত্র দেহের মিলনই মানব চোখের ানত্মরালে বিরাজ করিতেছে। তাহার অনুরক্ত ভক্ত ও আশেকান সকল সময় তাহার চোখের সামনে রহিয়াছে। তাহার ধ্যানের ঘোরে অথবা মোরাকবার আসরে তাহার বেলায় তের জ্যোতি প্রত্যক্ষ অবলোকন করিয়া যথারীতি তাহার অনুগ্রহ লাভ করিতেছে। তাহার স্বপ্নযোগে দৈববাণী যোগে তাহার নিকট হইতে াঅদেশ নির্দেশ লাভ করিয়া নিরাপদে জীবন যাপন করিতেছে। বলা বাহুল্য, আল্লাহর পথে যাহারা জীবন উৎসর্গ করিয়া মৃত্যু বরণ করিয়াছেন, তাহারা মরিয়অও অমর হইয়া আছেন। সেই অলি আল্লাহগন তাহাদের অনুরক্ত ভক্তদের সহিত কিরূপ সম্পর্ক রাখিবেন তাহা মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি (রঃ) তাহার মসনবী গ্রনে’ বর্ণনা করিয়াছেন। গোফত জানম াঅজ মুহিবুবাদুর নিসত্ম লেকেবেরু আমদন দস’র নিসত্ম সেই অলিমগণের প্রাণ তা’হাদের শিষ্য ও বন্ধুবর্গের নিকট হইতে দুরে থাকিবে না। কিন’ তাহা (স’ুল দৃষ্টিতে) দেখা যাওয়অর রীতি প্রচলন নাই, তাহা অনুভূতির বিষয়। এই প্রসংগে হযরত বাবাভান্ডারী কেবলার অনত্মর্ধামের পরের কিছু অলৌকিক কেরামত লিপিবদ্ধ করিলাম।

(১) চট্টগ্রাম জিলার পটিয়া থানার অনত্মর্গত নলআন্ধা নিবাসী হাফেজ আবু সৈয়দ শাহের বর্ণনাঃ
পটিয়া থানার ছনহারা মৌজা নিবাসী এজাহার মিঞা নামক এক ছেলে পাগল হওয়ার পর বোবায় পরিণত হয়। সে অমাার সাথে বাবাভান্ডারীর দরবারে যায়। সে দরবারে কেধমতে থাকিয়া রহমত লাভ করার অীভলাষে শাহজাদা সৈয়দ মাহবুবুল বশর সাহেবের কামরায় থাকে। সে তথায় থাকিয়া কিছু কিছু কেধমত কাজ নির্বাহ করিত। একদা কাজের ত্রুটির জন্য সে প্রহৃত হয় এবং কান্নার সাথে সাথে তাহার জবান খুরিয়া যায়। এখন সে নিয়মিত পরিস্কার ভাবে কথা বলিতৈ সক্ষাম। বাবাভান্ডারীল মহিমা বলে এই বোবা ছেলে জবান ফিরিয়া পাইল।
(২) শাহজাদা সৈয়দ আবুল বশর সাহেবের নিকট ডি এস পি ইউছুপ সাহেবের চিঠিঃ
তিনি লিখিয়াছেন, “আমি এখন আজমীর শরীফে আছি। একদিন দেখিলাম সদর রাসত্মার এক পার্শ্বে বাবাভান্ডারী কেবলা উপবিশষ্ট। তিনি আমাকে দেখিয়া বলিলেন “অমনাইয়া তামাক খাওয়াবি”। অর্থাৎ ওহে বৎস আমাকে তামাক পরিবেশন কর। তাহাকে অপ্রত্যাশিত ভাবে সদর রাসত্মার পাশ্বে দেখিতে পাইয়া বুঝিলাম তিনি আজমীর শরীফে াাসিয়াছেন। আমি এক দোকানদারকে একটি টাকা জমা দিয়া তাহার নিকট হইতে একটি হুক্কা সাজাইয়া আনি। ততক্ষনে বাবাভান্ডারী কেবলা ঐ স’ানে হইতে প্রস’ান করিয়াছেন। তারপর বেশ অনুসন্ধানের পর তাহার কোন সন্ধান পাওয়া গেল না। অতত্রব, আপনার নিকট জানিতে চাই যে, তিনি আজমীর শরীফ আসিয়া কোথায় আছেন? এই ঘটনার পূর্বে বাবাভান্ডারী কেবলা ইনেত্মকাল ফরমাইয়াছেন। অতত্রব, তাহার ইনেত্মকাল হওয়ার পর তাহাকে আজমীর শরীফে দেখিতে পাওয়া তাহার কেরামতে পরিগণিত হয়।
(৩) গুজরাটের অনত্মর্গত কাটিয়ার জিলা নিবাসী মসত্মান আহমদ সাহেবের বর্ণনাঃ
আমি মনোহরী মালের সওদাগর ছিলাম। ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার কিছুকাল পূর্বে হিন্দু মুসলমানের মধ্যে সামপ্রদায়িক দাংগা (জরড়ঃ) আরম্ভ হয়। হিন্দু মহল্লায় ছিল আমার দোকান। একদা হিন্দু গুন্ডার দল একত্রিত হইয়া ঐ মহল্লা নিবাসী মুসলমানগরের হাত পা বাধিয়া তাহাদিগকে ট্রাকে উঠাইতেছিল। সকলের সংগে াঅমিও তাহাদের হাতে বন্দী হইলাম। ট্রাকখানা ভর্তি হওয়ার পর রওয়ানা হইল। অল্পক্ষণের মধ্যে ট্রাকখানা হিন্দুদের শ্মাশানে আসিয়া পৌছিাল। তারপর ট্রাক হইতে মুসলমান বন্দীদিগকে নামাইয়অ হত্যা করার পূর্ব আরম্ভ হইল। তখন আমার মনের অবস’া কেমন হইয়াছিল তাহা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এমতাবস’ায় আমি বাবা ভান্ডারীর দরবারে আমার জীবন ভিক্ষা চাইতেছিলাম। অন্য সকল বন্দী গিদকে হত্যা করার পর আমার পালা আসিলেই তাহার। তাড়াতাড়ি করিয়া আমাকে নিহতদের মদ্যে ফেলিয়া ট্রাক লইয়া ছুটিয়া পালাইল। তারপর আমি হাতের বাধন দাতে কাটিয়া বহু কষ্টে গুজরাট শহর হইতে চট্টগ্রাম শহরে চলিয়া আসিলাম। এরপর বাবা ভান্ডারীর দরবারের হাজির হইয়অ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিলাম।
(৪) চট্টগ্রামের অনত্মগর্ত পূর্ব ষোলশহর নিবাসী হাফেজ কালাম আহমদের বর্ণনাঃ
আমি একজন সওদাগর। আমার গাছের ব্যবসায়ে যতেষ্ট উপার্জন আছে। আমার ঔরসে চারিটি মেয়ে সনত্মান জন্মগ্রহণ করে। আমার ধন-সম্পত্তি সামলাইয়াবার জন্য কোন পুরুষ আওলাদ না থাকায় আমি বিশেষ চিনিত্মত হইলাম। একদা চান্দগাও নিবাসী মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে আমার এই দুঃখের কথা বলিলাম। তিনি আমার কথা শুনিয়া অনুতপ্ত হইলেন। তাহার উপদেশ অনুসারে হযরত বাবা ভান্ডারীর দরবারে আমার এই ফরিয়াদ পেশ করার জন্য যথারীতি সব কিছু করিলাম। তারপর আমার একটি পুত্র সনত্মান জন্মগ্রহণ করে।
(৫) চট্টগ্রামের অনর্ত্মগত চান্দগাও নিবাসী জনাব ওবেদুর রহমান চৌধুরী সাহেবের বর্ণনাঃ
১৯৪৭ খ্রষ্টাব্দের কথা। তখন আমি কলিকাতা ও মাদ্রাজে কাপড়েরর ব্যবসায়ী ছিলাম। একদা বাবাবভান্ডারী কেবলা আমাকে স্বপ্নযোগে অঅদেশ করিলেন “তুমি চট্টগ্রাম চলিয়া যাও।” তখন মাদ্রাজে প্রায় চারি লক্ষ টাকা পাওনা আছি। এতগুলি টাকা আদয় না করিয়া কিভাবে চলিয়া আসি, তাহাই চিনত্মার বিষয় হইল। তার পরদিন পুনরায় বাবাভান্ডারী কেবলা আদেশ করিলেন, “তুমি চট্টগ্রাম চলিয়া যাও।” আমি তোমার রিজিকের মালিক। অতত্রব বিনাদ্বিধায় সপ্তাহের মধ্যে সমসত্ম মালপত্র গুছাইয়া ষ্টীমার যোগে চট্টগ্রাম পাঠাইয়া দিলাম। আমি টাকা পয়সা সংগেকরিয়া ট্রেনযোগে কলিকাতা হইতে চট্টগ্রাম আসিয়া পৌছিলাম। তখন হিন্দুস’ান ও পাকিসআনের মধ্যে কোন বিবাদ আরম্ভ হয় নাই এবং যাতায়াতের ব্যাপারেও কোন কড়াকড়ি নাই। আমি চট্টগ্রাম পৌছিবার পরদিনই ঘোষিত হয় যে, সরকারী অনুমোদন ছাড়া এক এলাকা হইতেঅন্য এলাকায় মালপত্র আনা নেওয়া নিষিদ্ধ। তখনই বুঝিতে পারিলাম বাবাভান্ডারী কেবলার হুকুমের মহিমা।

(৬) চট্টগ্রামের অনত্মর্গত সীতাকুন্ড নিবাসী মাইজভান্ডারী গানের সর্বপ্রথম বেতার শিল্পী মলকুতুর রহমানের বর্ণনাঃ
আমার প্রতিবেশী এক মাইজভান্ডারী ভক্ত নতুন দায়রা ঘর নিমার্ণ করিয়াছে। আমরা বারজন আশেকানে ভান্ডারী সেই দায়রার মিলাদ পাঠের পর ছেমা, হাল্কা ও অজদের মাহফিল আরম্ভ করিয়াছি। তখন রাত ১১টা গ্রামের তথাকথিত মৌলভীদের প্ররোচনায় প্রায় ৬০ জন লোক আমাদিগকে আক্রমন করিতে আসে তাহারা ঘরে প্রবেশ করিয়া সর্বপ্রথম আমার মাথার উপর লাঠির আঘাত করে। ফলে আমার মাথা ফাটিয়া রক্তধারা প্রবাহিত হইতে থাকে। আমি ঘর হইতে পিছন দরজা দিয়া পালাইতে ছিলাম। এমন সময় বাবাভান্ডারী গায়েবী আওয়াজে আমাকে নির্দেশ করিণে, “বাচ্চা মাত হটো”। সুতরাং আমি আর পালাইতে পারিলাম না। লাঠিয়ালগন শোর করিয়া বলিতেছিল, মার মলকুতকে, জোরে মার। তাহার কেবল মলকুতকে মারিতেছে অতছ একটি লাঠিও আর আমাকে আঘাত করিতেছে না। তাহাদের দলের কয়েকজন লোক মাথা ফাটিয়া মৃত প্রায় হইয়া পড়িল। অতঃপর তাহারা তাহাদের আহত লোকগিদকে লইয়া পলায়ন করিল। বাবাভান্ডারীল মহিমা বলে তাহারা মারিতে আসিয়া মার খাইল।
(৭) চট্টগ্রামের অনত্মর্গত চান্দগাও নিবাসী জহির আহমদ চৌধুরীর বর্ণনাঃ
১৯৬২ খৃষ্টাব্দের রমজানের রোজার দিনে চট্টগ্রামে শহরের লয়েল রোডের পার্শ্বের রিফিউজী ক্যাম্পে আগুন ধরিয়া যায়। রমজানের ঈদ উপলক্ষে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকার কাপড় আমার দোকানে মওজুদ ছিল। আগুন ক্রমঃসমপ্রসারিত হইতে থাকে। আমার দোকানের সামনে পরছাতি আগুনে পুড়িয়া যাওয়ার পর মূল দোকান গৃহে আগুন লাগার উপক্রম হইল। আমি অনন্যোপায় হইয়া বাবাভান্ডরীর সাহায্য প্রার্থণা করিতছিলা। তখন আগুন লাফ দিয়া অন্য দিকে চলিয়া গেল। বাবাভান্ডারীর মহিমা বলে আমার সম্পূর্ণ মাল ও দোকান এই প্রচন্ড অগ্নিকান্ড হইতে রক্ষা পাইল।
(৮) চট্টগ্রাম জিলার বোয়ালখালী থানার অনত্মর্গত গোমদণ্ডী গ্রাম নিবাসী কবিয়াল রমেশ চন্দ্রের পুত্র শ্রী জজ্ঞেশ্বরের বর্ণনাঃ
আমার বাড়ীর স্বাবিত্রী বালা শীল দুই তিন মাস ধরিয়া রক্ত স্রাবে বিশেষ কষ্টভোগ করিতেছিল। গ্রাম্য ডাক্তার কবিরাজ তাহার চিকিৎসা করিয়া ব্যর্থ হয়। অতিরিক্ত রক্তস্রাসের ফলে তাহার মুখ মন্ডলের রং বিবর্ণ হইয়া যায়। এইরুপে রোগীনি জীবন আশা পরিত্যাগ করিয়া হতাশ হইয়অ পড়ে। আমি ইহা শুনিয়া তাহাকে বাবাভান্ডালীর রওজা শরীফের কিছুজল পান করাইয়া দিলাম। অতঃপর বাবাভান্ডারী কেবলার করুনা বলে তাহার রক্তস্রাব বন্ধ হইয়া গেল এবং সে সুস’ হইয়া পড়ে।
(৯) চট্টগ্রাম জিলার পাচলাইশ থানার অনত্মর্গত বহদ্দার বাড়ী নিবাসী মৌলভী ছেয়দুর রহান চৌধুরী সাহেবের বর্ণনাঃ
১৯৬৬ খৃষ্টাব্দের জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহের কথা। একদা আমি চকবাজারে পাক নর্দমায় পতিত হইয়া অজ্ঞান হইয়া পড়ি তারপর প্রায় তিন মাস ধরিয়া চিকিৎসা করার পর কোন প্রকার আরোগ্য রঅভ না করিয়া বিশেষ চিহ্নিত হইয়া পড়ি। এমতাবস’অয় এক রাতে বাবাভান্ডারী কেবলা স্বপ্নযোাগে আমাকে দেখা দেন এবং আমার মাথা ও ডান হাতের উপর তাহার পবিত্র হাত বুলাইয়া দেন। পরদিন হইতে আমি আরোগ্য লাভ করি।
(১০) জনাব মাহমুদুল হক, ই,পি,সি,এস (ডেপুটি সেক্রেটারী) ই,উ, ্‌ খ,এ, উঊচঞঞ (পূর্ব পাকিসত্মান সরকার) নিম্নলিখিত বর্ণনা লিখিয়াছেনঃ
১৯৫৭/৫৮ সালে জমিদারী রাষ্ট্রায়ত্ব করণের জন্র সারা প্রদেশে যে সেটেলমেন্ট কার্য্যক্রম গ্রহণ করা হইয়াছিল তার াাওতায় আমি খুলনা জোনে সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্যে নিয়োজিত ছিলাম। একবার রেভেনিউ সার্কেল এবং সেটেলমেন্ট সার্কেলের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের যুক্তভাবে তদনত্ম করিবার জন্য খুলনা জিলার অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার মিঃ কাজমী সি,এস,পি এবং আমি ঐ জিলার সাতক্ষীরা এবং কলারোয়া থানায় এক যুক্ত ভ্রমন প্রোগ্রাম করি। ভ্রমনের যাত্রার দিনের পূর্বৈর রাত্রি আমি স্বপ্ন দেখি, বাবাজান কেবলা কাবা একটি অফিস কক্ষে একটি চেয়ারে উপবিষ্ট আছেন। তাহার সম্মুখে একটি টেবিল ও টেবিলের পাশে আমি দণ্ডায়মান। বাবাজান কেবলা আমাকে লক্ষ্য করিয়া ফরমাইলেন, তোমার আয়ুকঅর শেষ হইয়াছে দেখিতেছি। আমি উৎসুখ হইয়া টেবিেরল দিকে চাহিলে দেখিতে পাইলাম, একটা ছক আকা কাগজে বাবা জান কেবলা হিসাব মিলাইলেন। আমিও বুঝিলাম যে অঙ্কিত ছকের হিসাব ানুযায়ী আমার আয়ু আর নাই। পর্দায় যেমন ছবি দেখায়, এরূপ ভাবে আরও দেখিলাম কাজমী সাহেব এবং আমি একখানি জীপ গাড়ীতে ভ্রমন করিয়া আসিতেছি, সেটেলমেন্ট অফিসের পিয়ন সরাফত আলী ও ঐ গাড়ীতে আছে। আমাদের আগে আগে একটা ট্রাক গাড়ী চলিয়াছে। আমরা ট্রাক গাড়ীটি অতিক্রম করিয়া যাইবার চেষ্টা করিলেই এক দুর্ঘটনার পতিত হই এবং আমি প্রাণ হারাই। আমি এক অস্বসিত্মকর অবস’ার মধ্যে জিহআসু নেত্রে বাবাজার কেবলার দিকে তাকাইয়া রহিলাম। কিছু বলিবার সাহসও পাইতেছিনা এবং কি বলিব ভাবিয়াও পাইতেছি না। এমন সময় হযরতে আকদস আমার পাশে আসিয়া দাড়াইলেন। হযরতে আকদসকে দেখিয়া আমার মনে সাহসের সঞ্চার হইল। আমি হযরতে আকদসকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলাম, “হুজুর আমার আয়ু নাকি ফুরাইয়া গিয়াছে। “এ্যা? দেখি” এই বলিয়া হযরত আকদস টেবিলের উপরের কাগজে অংকিত ঐ ছকের হিসাব মিলাইলেন এবংউচ্চারণলণ করিলেণ “সত্যই তো।” আমি হযরতে আকদসের নিকট নিবেদন কলিাম “হুজুর তাহা হইলে কেমন হইবে।” হযরত আকদস বলিলেন, ‘তাইতো!’ এবং বাবাজান কেবার দিকে ফিরিয়া বলিলেন” একটু ঠিক করিয়া দিলে………” এ পর্যনত্ম শুনার পরই আমার ঘুম ভাঙ্গিয়া যায়। একি দেখিলাম ও শুনিলাম আমি অনুধাবন করিতে থাকি। বাকী রাত অঅর ঘুমাইতে পারি নাই। আমি বেশ বুঝিতে পালিঅম যে আমার কাল ফুরাইয়াছে। হযরত আকদসের শেষ উক্তির ফল কি হইল তাহা জানিবার পূর্বৈই এমন কি উক্তিটা শেষ হইবার পূর্বেই আমি জাগিয়া গিয়াছিলাম। সুতরাং অনত্মরে কোন ভরসা পাইতেছিলামনা। পরেরদিন ভোরে অফিসে গিয়া আমার ব্যাংকে যা টাকা জমা চিল উঠাইয়া আনিলাম এবং আমার স্ত্রীর হাতে দিয়া বলিলাম আজ বিকাল বেলাই টু’র (ভ্রমণ) করিতে যাইতেছি। যান বাহনের ভ্রমণ আজকাল নিরাপদ নয়। যদি কোন অঘটন ঘটে, হৈচৈ না করিয়া, ্‌এখানকার সংসার গুটাইয়া সোজা বাড়ী চলিয়া যাইবে। আমার স্ত্রী প্রশ্ন করিল হঠাৎ আজ একথা কেন? অঘটন ঘটিবার এমন কি কারণ আছে। তাকে বুঝাইতে ছেস্টা কলিাম যান বাহনে ভ্রমণে তো দূর্ঘটনা লেগৈই আছে, এরূপ ভ্রমণ সর্বদা নিরাপদ হয়না। রেল মোটর ইত্যাদির দুর্ঘটনা তো নতুন কিছু নয়। সে কিছুতেই বুঝতে চায়না, প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে এবং বলে যে, মটর ও জীব ইত্যাদিতে হারদম ই-তো ভ্রমণ করা হইতেছে, অঘটনের কথা আগোতো কোন দিন উঠে নাই। দুর্ঘটনা কোন ক্ষেত্রে হইলেও, ইহা এবার ঘটিতে পারে এরূপ সন্দেহ এবং টাকা আনিয়া হাতে দিয়া তার পরের ব্রবস’া কি কারিতে হইবে তাহার উপদেশ দেওয়া, এটা নেহায়েত নতুন। সুতরাং এর কি কারণ আছে তাহাকে জানিতেই হইবে। অগত্যা তাহাকে স্বপ্নের কাথা কুলিয়া বলিলাম। সে তখন বকলিল ভ্রমনই তাহা হইলে বন্ধ করিতে হইবে সেই দিন টুরে যাওয়া হইবেনা। টুরে না গেরৌ মরণের সমসয়ের এক মিনিট এদিক ওদিক হইবেনা একটু তাহাকে বুঝাইবার চেষ্টা করিলাম; সে বুঝিবেন না। ছেলেেেময়েদের আমার পিছনে লাগিয়ে দিল। অনন্যোপায় হইয়া কাজমী সাহেবকে সেইদিন সাতক্ষীরা ডাক বাংলায় গিয়অ অঅমা রজন্য অপেক্ষা করিতে অনুরোধ করিলাম যাতে পরের দিন গিয়া তথায় আমি তাহার সাক্ষাৎ পাই। পরের দিন যাত্রা করিলাম। আমার স্ত্রী জীপের ড্রাইভারকে আমার স্বপ্নের কথা বর্ণনা করিয়া সর্তকতার সহিত গাড়ী চালাইবার জন্য অনুরোধ করিলেন, সাতক্ষীরা নিরাপদেই পৌছিলাম। তথায় তদনত্ম কাজ সমাধা করিয়া সর্তকতার সহিত গাড়ী চালাইবার জন্য অনুরোধ করিলেন, সাতক্ষীরা নিরাপদেই পৌছিলাম। তথায় তদনত্ম কাজ সমাধা করিয়া কলারোয়া থানার অফিসের দিকে রওয়ানা হইবার সময় জাকমী সাহেব চাইলেন, আমরা দুজনে একই গাড়ীতে আলাপ আলোচনা করিতে করিতে যাই। আমি আমরা উভয়ের একই গাড়ীতে ভ্রমণ এড়াইবার জন্র, আমার কয়েক মিনিট দেরী হইবে বলিয়া তাহাকে কিছুক্ষণ আগেই রওয়ানা করাইয়া দিলাম। পরে কলারোয়া থানার কাজ শেস হইলে কাজমী সাহেব আমাকে তাহার গাড়ীতে যাইবার জন্য অনুরোধ করিয়া তাহার গাড়ীতে উঠিলেন। কিন’ হঠাৎ যেন তাহার গাড়ী বিকল হইয়া গেল, কোন মতেই ষ্টার্ট নিল না। প্রায় ঘন্টা খানেক চেষ্টা করিয়াও তিনি বিফল হইলেন। গাড়ী কোন মতেই নড়িল না। এভাবে তাহাকে ওখানে ফেলিয়া আসা চরম অভদ্রতা হইবে বিধায় বাধ্য হইয়া তাহাকেও আমার গাড়ীতে উঠাইতে হইল। কাজমী সাহেব নিজে ড্রাইভ করিতে চাহিলেন। ড্রাইভিং এ তার হাত পাকাই ছিল। তবুও যৌবনের গতি চঞ্জলতার মাদকতায় বেপরোয়া জোরে গাড়ী চালাইলে দুর্ঘটনাকে টানিয়া আনা হইবে, এ অঅশংকায় আমি তাহাকে বারণ করিতে লাগিলাম। কিন’ তিনি নাছোড়বান্দা, এ দেখিয়া ড্রাইভার তাহাকে স্বপ্নের কথা খুলিয়া বলিল। এইবার তিনি বিরত হইলেন বটে, বুঝাই গেল যে আমাদের সংস্কারের হেতুর যৌকতিকতায় তিনি বিশ্বাস স’াপন করিতে পারেন নাই। কলোরোয়া হইতে যশোহর পর্যনত্ম আসিয়া আমার আরও ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করিলাম। কাজমীসাহেবের ড্রাইভার তাহার জীপ গাড়ীটি নিয়অ আসিয়া পৌছিতে পারিল না। আবার একই গাড়ীতে খুলনার দিকে রওনা হইলাম। এবার কাজমী সাহেব বলিলেন, “হক সাহেব ততক্ষণে বোধ হয় আপনার স্বপ্নের বিপদ কাটিয়া গিয়াছে। আমি উত্তরে বলিলাম, “পথ এখনও ৪০ মাইলের মত বাকী আছে। তিনি আর জোর করিলেন না। যশোহর টাউন ছাড়িয়া ৫/৭ মাইল অঅসিতেই দেখিলাম আমাদের অঅগে আগে রাশি রাশি ধুলা উড়াইয়া একখানা ট্রাক গাড়ী চলিয়াছে। আমাদের গাড়ীর হর্ণটি ঐ জায়গায় আসিয়াই নষ্ট হইয়া গেল। কোনশব্দই হয়না ট্রাকের পিছন ভাগেও কোন লোক ছিল না যে ড্রাইভারকে জানাইয়অ দিবে যে, আমরা তার পিছনে ধুলা খাইতেছি। সুতরাং ট্রাকখানা আমাদের জন্য পথ ছাড়িতেছে না। আমাদের ড্রাইভার স্বপ্নের বৃত্তানত্ম স্মরণ করিয়া ট্রাক গাড়ীটাকে অতিক্রম করিবার কোন চেষ্টাই করিতেছে না, অথচ ধুলা বেশী চিল যে ট্রাকের পিছনে গাড়ী চালাইয়া যাওয়া শুধু বিরক্তিকর নয়, যথেষ্ট কষ্টদাযক এবং অস্বাস’্যকর ও ছিল। আমাদের ড্রাইভারকে অবশেষে বলতেই হলো যে রাসত্মা যথেষ্ট প্রশসত্ম পাওয়া গেলে, সে যেন পাশ কাটিয়া ট্রাকখানা অীতক্রম করিয়া যায়। কিছুদূর যাওয়ার পর বেশ প্রশসত্ম পার্শ্ব পাওয়া গেল এবং আমাদের ড্রাইভার ডান পাশ দিয়া গাড়ীর গতি বাড়াইয়া দিল। কিন’ অমাাদের গাড়ী ট্রাকখানার বনেট বরাবর যাইতেই দেখি আমাদের গাড়ীর সামনে রাসত্মায় এক প্রশসত্ম ও গভীর কাটা খাদ। গাড়ীর বেগ তীব্রই ছিল ফলে ধপ করিয়া গাড়ী পড়িয়া ধাক্কা খাইল এবং এক লাফ দিল। আমার বুকে বেশ শক পাইলাম এবং ষ্টিয়ারিং হইতে ড্রাইভারে রহাত ছুটিয়া গেল। কিন’ লাফ দিয়া উঠিবার সময় গাড়ী নিজে নিজেই বাম দিকে মোড় নিয়া রাসত্মার উপরই উঠিল। দৈবাৎ যদি গাড়ীটি ডান দিকে মোড় নিত এবং ডান পাশে রাসত্মার নায়ান জুলির খাদে পড়িত আমাদের আর রক্ষা ছিল না। গাড়ীর দুএকটি অংশ বাকিয়অ গেল বিশেষ করে টি,সি, রডটি অল।প এবং তার সিপ্রং একটি বাকা হইয়া গেল, গাড়ীটা সম্পূর্ণ অচল হইল না। আমাদের অবস’া দেখিয়া ট্রাক ড্রাইভার থামিয়া গিয়াছিল। কাজমী সাহেব নামিয়অ তাহাকে বকিতে আরম্ভ করিলেন। আমি তাহাকে ফিরাইয়া আনিলাম এবং বলিলাম “যা অদৃষ্টের লিখন ছিল তাহাই ঘটিয়া গেল প্রাণে বাচিয়া গিয়াছি এই যথেষ্ট। তিনি বলিলে হা আপনার স্বপ্ন সত্য হইয়াছে। আমার আর বুঝিতে বাকী রহিল না যে হযরত আকদসের সুপারিশে বাবাজান কেবলা আমার জীবনের চর পরিবতৃণ করিয়া দিয়াছেন এবং এ যাত্রা রক্ষা পেলাম।
11

12

১৩। হযরত আক্‌দস ও বাবা ভান্ডারী কেবলার জীবন চরিত্র প্রণেতা মৌলানা সৈয়দ আবদুস সালাম ইছাপুরী সাহেবের বর্ণনা।
একবার বাবা ভান্ডারী কেবলা মওলানা ইছাপুরীর চাচা ফারুখ আহমদ সাব রেজিষ্ট্রার সাহেবের অফিসে পালংকের উপর প্রায় মাসাধিক কাল অতিবাহিত করেন। সেইখানে প্রতিদিন বহু লোক তাহার খেদমতে হাজির হইত। রাতদিন বাড়ীতে লোকের ভীড় জমিয়া থাকিত। সর্বদা গানবাদ্য হাল্কা অজদ মাহফিল চলিত পিকরের মজলিশে সাধারণত কেবল মাইজভান্ডার দরবারের মুরিদানই উপসি’ত থাকিত। ইহাতে সাধারণ লোকেরা যোগদান করিত না। স’ানীয় আলেমগণ ঐ রূপ জিকিরের মজলিশ করা নাজায়েজ বলিয়অ প্রচার করিতে লাগিল ইহাতে সর্ব সাধারনের মধ্যে একটু চাঞ্চল্য সৃষ্টি হইল বাবা ভান্ডারী কেবলার সঙ্গে মৌলানা আমিনুল হক মাইজভান্ডারী প্রকাশ ছোট মৌলানা সাহেব, মৌলানা আবদুল গণি কাঞ্চনপুরী এবং আহলা নিবাসী মৌলানা আছদ আলী প্রমুখ প্রসিদ্ধ আলেমগণ ও ছিলেন। তাঁহারা রূপ হাল্কা ও জিকির জায়েজ বলিতেন এবং নিজেরাও করিতেন। তখন এক রাতে কয়েকজন আলেম বহু বিরুদ্ধবাদী লোক লইয়া মাইজভান্ডারী তারিকা পন’ী মওলানাগণের সহিত তকৃ করিতে আসিল। ছোট মওলানা সাহেব ও অন্যান্য মুরিদগণ পার্শ্বেও চৌচালা গৃহে ছিলেন সেইখানে বিপক্ষের মৌলানা আবদুস সাহেরগণ সগদলবলে প্রবশ করিয়া ছোট মওলানা সাহেবের সহিত তর্ক আরম্ভ করিল। এই সময়ে যাহারা বাবা ভান্ডারী কেবলার খেদমতে ছিল তাহার ও তর্ব শুলিবার জন্য যাইতে চাহিলে বাব ভান্ডারী কেবলা বলিলেন বাচা একটু পাখা হেলাও। তাই তিনি পাখা করিতে লাগেলেন। অল্পক্ষণের মধ্যে বাবা ভান্ডারী কেবলার চেহারা মোবারক সন্ধ্যাকালীন অস-ায়মান সমূর্যেও মত লোহিত বর্ণ ধারণ করিল তাঁহার দুই নয়ন হইতে যেন অগ্নি স্ফুলিঙ্গ বাহির হইতে এই হাল দেখিয় তিনি ভয়ে জড়সড় হইয়া অতি জোওে পাখা হেলাইতেছিলেন। ঐ দিকে মৌলভী সাহেবদের তর্ক ক্রমর্শ বৃদ্ধি পাইয়া ঝগড়ায় পরিণত হইল। কারণ গোড়া মৌলভী সাহেবগন ক্রোধের বশীভুত হইয়া তর্কের নিয়মাবলী ভুলিয়া পড়িয়অছে। তাহারা যুক্তি প্রমাণের ধার ধারে না নিজেরা বদ্ধমুল ধারণার বিপরীত কিছু কেহ কোরআন দিয়া প্রমাণা করিলেও তাহা তাহারা না মানিয়া উহার রিরুদ্ধে জেহাদেও নামে লড়িতে প্রস-ত হয়। বিপক্ষীয় জনৈক মৌলভী তর্ক করিতে করিতে অবশেষে রাগে অসি’ও হইয়া ক্রুদ্ধস্বরে চেঁচাইয়া উঠিল। মাইজভান্ডারী মুরীদগণ বেদায়াতহী মোশরেক কাফের তাহদের স্ত্রী তালাক হইয়াছে। ইত্যাদি অকথ্য প্রলাপ আরম্ভ করিল। ছোট মওলানা সাহেব ইহা শুনিয়া বাবা ভান্ডারীর সম্মুখে আসিয়া অভিমান স্বরে কাঁদিয়া বলিলেন, আমাদেও উপর এই অত্যাচার হইতেছে আর আপনি বসিয়া তামাসা দেখিতেছেন ইহা শুনা মাত্র বাবা ভান্ডারী কেবলা সিংহের মত গজন করিয়া ঘরের সিড়ির উপর আসিয়া দাঁড়াইলেন, মস-ক মোবারক হেলাইয়া বজ্য নিনাদে হক, হক, হম, বলিয়া এবং সকলের অজদ আরম্ভ হইল। তাহাদেও হক হক আওয়াজে ও পায়ের গুম্‌ গুম্‌ শব্দে সারা গ্রাম কাঁপিতে লাগিল। লোককারণ্য আর জনাব বাবা বান্ডারী কেবলা দক্ষিণমুখী হইয়া দাঁড়াইয় আছেনর। ত৭াহার সূর্য কান- মণি সদূশ বদন মোবারকের উপর পুণ শশধরের কিরণ পতিত হইয়া অপূর্ব সৌন্দর্য ধারণ করিয়াছে। তাহার মস-ক সঞ্চালনের সঙ্গে আকর্ণ লম্বিত মসৃণ কেশরাশি ঈষৎ হেলিয়া দুলিয়া যেন নৃত্য করিতেছে। তদ সঙ্গে সপক্ষের ও বিপক্ষের শত শত লোক তাঁহার দিকে তাকাইয়া হক হক আওয়াজ করিয়া অজদ করিতেছে। নানপুর নিবাসী মৌলভী আবুল ফজল প্রকাশ কালা মিয়া ডাক্তার অজদরত ভক্তগণের ঈমাম স্বরূপ সকলের সম্মখের কাতাওে ছিলেন। তিনি আল্লাহু আকবর আকবর বলিয়া সিজদায় পতিত হইলে তাহার পাছেন সব লোক উচ্চস্বও আেল্লাহু আকবর বলিয়া দাঁড়াইয়া অজদ আরম্ভ করিল। ইতিমধ্যে বিরুদ্ধবাদী মৌলভীগণ অন্য কে কোন দিকে পালাইল উহার পাত্তা রহিল না্‌ বিরুদ্ধবাদী মৌলভীদের অন্য তম সদস্য মৌলভী আবদুল লতীফ প্রকাশ মৌলভী বাচা সাহেবও এই হাল্কায় যোগদান করেন্‌ অতপর যে কেহ ময়দানে আসিতে লাগিল তাহার অজদ আরম্ভ হইল। পটিয়া থানা নিবাসী ডাকতার কমল কাপ্ত নামক হিন্দু ব্রাক্ষণ সেই স’ানে এক ঘরে থাকিতেন। তিনি এই অপূর্ব দৃশ্য দেখিয়া ভয়ে কামড়ার দরজা বন্ধ করিয়া দিলেন। সেইখানেই তাহার অজদ আরম্ভ হইলা্‌ ইহা দেখিয়া সমাগত হিন্দুগণ বলিতে লাগিল পালা ও পালাও । ফকির সাহের মক্কা চালান দিয়াছেন। এইখানে যে থধাকিবে তাহার এই অবস’া ঘটিবে মৌলানা আবদুস ছালাম ইছাপুরী সাহেব বাবা ভান্ডারী কেবলাকে পাখা করিতেছিলেন তাহার কলবেও গুরু গুরু শব্দ হইতে ছিল। তাহার চাচা সাব রেজিষ্ট্রার সাহেব ঘরের এক কোনে চেয়াওে বসিয়াছিলেন সেইখানে তাঁহার ও অজদ হয়। অতঃপর বাবা ভান্ডারী কেবলা মৃদুগতিতে নিজ আসনে গিয়া বসিলেন এবং মৌলানা আবদুস ছালাম ইছাপুরীকে আদেশ করিলেন বাচা একটু তামাক সাজাও। তিনি তাড়াতাড়ি তামাক সাজাইয়া দিলেন বাবা ভান্ডারী কেবলা কিছুক্ষণ তামাক সেবন করিয়া হো হো করিয়া হাসিয়অ আপাদমস-কে চাদও আবৃত করিয়া শয়ন করিলেন ঐ দিকে হাল্কা অজদ থামিয়া গেল। ঐ দিনের পর হইতে বাবা বান্ডারী কেবলা যেই বাড়ীতেই যাইতেন সেইখানে ছেমা, হাল্কা ও অজদের মাইফিল হইতে লাগিল। প্রকাশ থাকে যে, এর পূর্বে হযরত আকদসের সম্মুখে এবয় বাবকা ভান্ডারীর সামনে খাছ মুরিদগণই কেবল ছেমা, হাল্কা ও অজদের মাহফিল করিতেন। এই ঘটনার পর হইতেই ভক্ত সাধারণের মধ্যে ও ছেমা হাল্কা এবং অজদ মাইফিলের প্রচলন হইল।
১৪. কুমিল্লা জিলার অন-র্গত কদমতলী গ্রাম নিবচাসী দেওয়ান মৌলভী আবুল কাসেম মুহাম্মদ ইয়াসিন শাহের বণনাঃ
আমি একবার দেশ হইতে আটজন লোকসহ রওয়ানা করিয়া বারিয়া ঢালার নিকটস’ ষ্টেশনে রেলগাড়ী হইতে অবতরণ করি। বারিয়া ঢালার পাথে মাইজভান্ডার শরীফের দিকে যাত্রা করিলাম। কিছুদুর অগ্রসর হওয়ার পর দেখিতে পাইলাম প্রায় পাঁচশত হনুমান পথের উপর লাফালাফি করিয়া ক্রীড়া করিতেছে। ইহা দেখিয়অ আমরা একটু ভীত হইলাম। এমন সময় বাবা ভান্ডারী কেবালার কৃপায় একটা গায়েবী কালাম প্রাপ্ত হইলাম এবং তিনি আদেশ কলিলেন তুমি উহা বলা আমি সেই পবিত্র কামাম পাঠ করার সাথে সাথেই হনুমান দল সেজদায় পড়িয়া আসিলাম। তখন ও হনুমান দল সেজদায় পড়িয়া থাকে। তখন আর একটি কালাম প্রাপ্ত হইলাম। উহা পাঠ করা মাত্রই হনুমানগুলি জঙ্গলে পলাইয়া গেল।
১৫। রংপুর জিলার অন-র্গত লালমাই নিবাসী বসিরুদ্দিন ফকিরের (প্রকাশ রংপুরী) বর্ণনাঃ-
আমি পাটের ব্যবসায়ী ছিলাম। একবার জ্বও আেক্রান- হইয়া অত্যন- দুবর্ল হইয়া পড়ি। এমন অবস’ায় একদিন দ্বিপ্রহরে বন্ধ করিয়া জানালার পাশে বসিয়া নানা বিষয়ে চিন-া করিতেছিলাম। হঠাৎ জানালার পার্শ্বে আসিয়া এক সুপুরুষে অতি মিষ্টি ভাষায় আমার সিকট এক গ্লাস পানি চাহিলেন। তাহাকে জবাবে বলিলাম, “উঠিতে পারিতেছিনা। তবও তিনি আবার পানি চাহিলেন। অগত্যা অতি কষ্টে উঠিয়া ত’াহাকে এক গ্লাস পানিস দিলাম। তিনি ইহা দেখিয়া বলিলেন যে, থাক জল পান করিব না। তোমার পরিশ্রমের পারিতোষিক একটি বস- দিতেছি ইহা গ্রহন কর বলিয়া হস- প্রসারিত করিলেন। আমি হাত বাড়াইয়া সেই বস-টি লইতে উদ্যত হইরৈ তাহা মাটিতে পড়িয়া অদৃশ্য হইয়া যায়। তখন তিনি বলিলেন যে, তুমি এ জিনিশটি বহু কষ্টের পর আবার ফিরিয়া পাইবে। এই বলিযয়া তিনি অদৃশ্য হইয়া যান। আমি কয়েক দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করিলাম। অতঃপর সেই মহাপুরুষের সন্ধানে কুচবিহার, আসাম, জয়ন-ী ডিগবয় ইত্যাদি স’ান ঘুরিয়া ফিলিয়া ভগ্ন হৃদয়ে বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম। তারপর সেই একদিন মনকিরচর গ্রামের রহিমুদ্দিনের নিকট্‌ একখানা গানের বইয়ে মাইজভান্ডার শরীপের বর্ণনা দেখিতে পাই। তথায় নোয়াখালী নিবাসী জনৈক দর্জিও সাক্ষাতে মাইজভান্ডার শরীফে যাওয়ার বিস-ারিত কথা জান্‌িয়া খোদার নামের উপর ভরসা করিয়া যাত্রা করিলাম। মাইজভান্ডার শরীফে আসিয়া পৌঁছিলাম। অত্যন- পরিতাপের বিষয়, দৈনিক হাজার হাজার লোক এইখানে আসিয়া বাবা ভান্ডারীর দর্শন লাভ করতঃ স্বীয় মনস্কাম পূর্ন করিয়া চলিয়া যায়। কিন’ আমি হতভাগ্য যখন ত’াহাকে দেখিবার জন্য হুজুরা শরীফে প্রবেশ করি, তখন ত’াহাকে পালংকের উপর দেখিরতে পাই না। আমার পরিতাপের আর সীমা রহিল না। অবশেষে এক সপ্তাহকাল পরে। তিনি দয়াপরবশ হইয়া এই অধমকে দর্শন দান করিয়া কৃতার্থ করিলেন্‌ ত’াহাকে দেখিবা মাত্রই চিনিতে পারিলাম। তিনি সেই মুসাফির মহাপুুেষ, যিনি কিছুকাল পূর্বে আমার বাড়ীর জানালার ধাওে দাড়াইয়া এক গ্লাস পানি চাহিয়াছিলেন। তারপর হইতে ত’াহার মুসাফির খানায় বাবুর্ছিও পদে কাজ করিয়া প্রায় ৩৫ বৎসরকাল অতিবাহিত করি।
১৬। মযমনসিংহ জিলা নিবাসী মন-ান ইউসুফ আলীর বণর্না
আমি প্রথম মহাযুদ্ধে বৃটিশ সরকারের সিপাহী দলে চাকরী গ্রহন করি। একদা দুপুর বেলায় আমরা ট্রেঞ্চে ঘুমাইতে ছিলাম। সেইখানে স্বপ্নযোগে বাবা ভান্ডারী কেবলা আমাকে বলিলেন, “ইউসুফ আলী, উঠ এবং ত্রিতলায় চলিয়া যাও, অল্পক্ষণ পর এইখানে জার্মানীর বোমা পগিড়বে। আমি ঘুম হইতে জাগিয়া দেখি আমার পাশেই বাবা ভান্ডারী দাড়াইয়া আছেন। আমি তাহাকে দেখিয়া সম্মান সুচক অভিবাদন জানাইলাম এবং বলিলাম বাবাজান ঐ ত্রিতলায় যাইতে পারিব না। ইহা শুনিয়া তিনি আমাকে জোওে টানিয়া সেই ত্রিতলায় পৌঁছাইয়া দিয়া অদৃশ্য হইয়া যান। অল্পক্ষনের মধ্যে জার্মানীর বোমা বিস্ফোরিত হইল। সেই ট্রেঞ্চের উপর। ট্রেঞ্চে অবস’ানরত সিপাহীগণ নিহত হইল।
১৭। হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলার সহোদও ভ্রাতা সৈয়দ আবদুল ওহাব সাহেবের বর্ণনাঃ-
আমি একবার বাবা ভান্ডারীর আদেশক্রমে দুইজন মস-ানকে উট কিনার জন্য দারোয়ানী মেলায় পাঠাইলাম। তারপর আমি সফওে বাহির হইয়া পড়ি। অল্পদিনের মধ্যে দারোয়ানী মেলার নিকটস’ গ্রামে দাওয়াত গ্রহন করি। সেইখানে আমার আগমন সংবাদ জানিয়া সেইমস-ানদ্বয় বিষন্ন বদনে হাজির আমাকে জানাইল যে মেলা ম্যাহিষ্টেট্র উট ক্রয়ের অনুমতি দিতেছেন না। এই সংবাদ পাওয়ার অল্পক্ষণ পরই একজন মজজুব পাগল আসিয়া জানাইয়া গেল, !মেলায় ওলাওঠা ছড়াইয়াকে। মেলার এনে-জাম ভার আপনার উপর র্অপিত হইয়াছে।” আমি সেই মজজুবের কথা শুনিয়া মেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের স্ত্রী মারাত্মকভাবে কলেরায় আক্রান- হইয়াছে। মেলার এনে-জাম ভার আপনার উপর র্অপিত হইয়াছে।” আবাসস’লে উপসি’ত হইলাম। মেলার ডাকতার হতাশ হইয়া পড়িয়াছে। কারণ মেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সহিত পরিচিত হইয়া তাহার অনুমতিক্রমে রোগিনীকে দেখিতে যাই। হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলার হস- স্পৃষ্ট কয়েক ফোটা জল রোগিনীকে পান করাইলাম, হযরত আক্‌দসের পরিত্যক্ত পুরানো জুতা তাহার বক্ষের উপর রাখিয়া দিলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগিনীর জ্ঞান ফিরিয়া আসিল। তখন সে পানি চাহিলে বাবা ভান্ডারী হস-স্পৃষ্ট আরও কয়েক ফোটা পানি পান করাইলাম। অল্পক্ষণ পরই রোগীনি বলিয়া উঠিল, বাবা আমাকে বসাইয়া দেন আমি তাহাকে বসাইয়া দিলাম। ডাক্তার আসিয়া রোগিনীর নাড়ী পরীক্ষা করিয়া, বলিল রোগিনীর বিপদসীমা অতিক্রম হইয়াছে, তখন আমি মেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে আদেশ করিলাম যে, বাবা ভান্ডারীর দরবারের জন্য একটি উট দিতে হইবে। তিনি একটি উট কিনিয়া দিলেন। আমি এই উটসহ পাক দরবারে ফিরিয়া আসিলাম।
১৮। চট্টগ্রাম জিলার পাচঁলাইশ নিবাসী মৌলভী আবদুস ছোবহান শাহেন বর্ণনাঃ-
হাটহাজারী থানার অন-র্গত বুড়িশ্চর গ্রাম নিবাসী আলা মিয়া চৌধুরী বেঙ্গুর শহরে বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তাহার চারি খানা জাহাজ রেঙ্গুন হইতে মান্‌দিলী লাইনে যাতায়াত করিত পাইন্যা গাঁও নামক স’ানে তাহার অফিস ছিল। একদা দুপুর বেলায তাঁহার পায়খানার উদ্ধেগ হয়। তখন গ্রীস্মকাল ছিল। অত্যধিক গরম পড়িতেছিল তাই তিনি টিনের নির্মিত পায়খানায় না যাইয়া কিছুদুরে ঝোপের আড়ালে যাইতে ছিলেন। এমন সময় বাবা ভান্ডারী কেবলা গায়েবী আওয়াজে আদেশ করিলেন, “আলা মিয়া, সে দিকে যাইও না কাল নাগিণী ওম পাতিয়াছে।” বাবা ভান্ডারীর এই গায়েবী ডাক শুনিয়া তাঁহার সারা দেহ থর থর করিয়া কাপিতে লাগিল। তিনি পায়খানা করার কথা ভুলিয়া গিয়া অফিসের বারান্দায় দাঁড়াইয়া পুব দিকে তাকাইয়া সেই বন পথ ধরিয়া অফিসের দিকে আসিতেছিল। সেইখানে এক ভীষন কাল নাগিনী বাহির হইয়া পালের বড় মহিষটিকে দংশন করিল। তৎক্ষনাৎ মহিষটি ধরাশায়ী হইয়া নিহিত হইল। পালের অন্য মহিষ গুলি ডাক ছাড়িয়া ছুটিয়া পলায়ন করিল। তারপর রাখাল ছেলেটিাকেও দংশন করিল। সে সেইস’ানে আর্তনাদ করিয়া মৃত্যূমুখে পতিত হইল।
১৯। উপরোক্ত বর্ণনাকারীর দ্বিতীয় বর্ণনাঃ-
চট্টগ্রাম নিবাসী জনাব আবদুল বারী চৌধুরী বেঙ্গল ষ্টীমার কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টও ছিলেন। চট্টগ্রাম ও রেঙ্গুন ষ্টীমার লাইনে বেঙ্গল কোম্পারী ও বলুক ব্রাদার্সেও মধ্যে ভয়ানক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরম্ভ হজয়। বলুক ব্রাদার্স বিনরা টিকেটে যাত্রী বহন করিয়া বিশেষ ক্ষতিগ্রস’ হইয়া পড়ে। সেই বিদেশী কোম্পানী আবদুল বারী চৌধুরী সাহেবচকে নিধন করিবার ষড়যন্ত্র করিয়া তাহার জেরবাদী পালক পুত্রকে হাত করেন। একদা চৌধুরী সাহেব দুপুর বেলায় পানাহার করার জন্য অফিস হইতে আবাসগৃহে ফিরিয়া আসেন। খাবার তৈরীর কাজে একটু বিলম্ভ হওয়াও তিনি আরাম কেদারায় শুইয়া একটু বিশ্রাম নিতেছিলেন। ইহাতে তাহার একটু তন্দ্রার ভাব আসিয়াছিল। তখন সেই পালক পুত্র উম্মুক্ত ছুরি হাতে করিয়া তাহেক বধ করিতে উদ্যত হয়। সেই সময়ে বাবা ভান্ডার ী কেবলা গায়েরী আওয়াজে বলিলেন, “আবদুল বারী, তোম ছোতে হো, তোমকো কতল করতা হ্যায়।” চৌধুরী সাহেব বাবা ভান্ডারীর সেই গায়েবী আওয়াজ শুনিয়া চমকিয়া উঠেন এবং দেখিলেন সত্যই তাহার পালক পুত্র উম্মুক্ত ছুরি হাতে তাহার পাশে দাড়াইয়া আছে। তিনি জোর পূর্বক তাহার হাত হইতে ছুরি কাড়িয়া লন। এই ঘটনার পর তিনি তাহাকে তাড়াইয়া দেন।
২০। চট্টগ্রাম জিলার বোয়ালখালী থানার অন-র্গত কোলাগাঁও নিবাসী ফকির আলী আহমদ মিস্ত্রীর বর্ণনাঃ-
আমি প্রথম মহাযুদ্ধে জাহাজের ড্রাইবার হিসাবে বৃটিশ কোম্পানীর মিলিটারী দফতরে চাকুরী গ্রহন করিয়া বসরা যাই। একদা দুপুর বেলায় বসরা খাড়িতে জাহাজ নঙ্গর করিয়াছি। এমন সময় বাবা ভান্ডারী কেবলা গায়েবী আওয়াজে বলিলেন “আলী আহাম্মদ, কুলে উঠিয়া খেজুর বাগানে ঢুকিয়া পড়।” আমি কাল বিলম্ভ না করিয়া সহকমীগণ সহ খেজুর বাগানে পড়ি। এমন সময় জাহাজ খানার উপর জার্মানরা বোমা বিস্ফোরণ করিয়া ইহাকে চুর্ণ বিচুণৃ করিয়া দিল।
২১। কুমিল্লা জিলা অন-র্গত রাজাপুর নিবাসী জনাব মওলানা অলি উল্লাহ শাহ রাজাপুরীর বর্ণনাঃ-
হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা পূর্ব পাহাড় ভ্রমণ কালে আমি কয়েকদিন তাহার সংগে ছিলাম। একদা তিনি এক পাহাড়ের শৃঙ্গে ঊপবিষ্ট ছিলেন, তখন তিনি আমাকে আদেশ করিয়া ছিলেন “পানি লও।” পাহাড়ের পাদদেশের ছোট ছড়া হইতে পারি আনিতে ছুটিয়া গিয়াছিলাম। সেই স’ানে এক নেকড়ে বাঘ আমার দিকে শিকারে বসিয়াছিল। আমি সেই দিকে না তাকাইয়া পানি লইয়া তাহার খেদমতে হাজির হইলাম এবং আবার পারি আনিতে আদেশ করিলেন, এইভাবে ক্রমান্বয়ে তিনবার পানি আনিয়া তাহার হাত মোবারকে পারি ঢালিতে থাকি। বাবা ভান্ডারীর আদেশের মহিমাবলে সেই নেকড়ে আমার উপর আক্রমণ করিল না।
২২। চট্টগ্রাম জিলার অন-র্গত বড় উঠান নিবাসী জনাব বদরুও হক খাঁন এডভোকেট সাহেব বর্ণনা করেনঃ-
হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা দেয়াং পাহাড় ভ্রমণকালে হামিদ আলী খাঁ সাহেবের বাড়ী তশরীফ লইয়া যান। খাঁ সাহেবের ভ্রাতুস্পুত্র আজিজুর রহমান খাঁ বিবাহের উপযুক্ত হইয়াছিল। তাই আনোয়ার খানের কণিষ্ঠা শালীর সহিত তাহার বিবাহ সম্বন্ধ সি’র করার জন্য ঘটক উকিলগন তদবির করিতেছিল। আনোয়ার আলী খান এই বিবাহে সম্মত ছিলেন না। এমতাবস’ায় জনাব বাবা ভান্ডারী কেবলা হমিদ আলী খানের আন্দর বাড়ী প্রবেশ করেন । সেইখানে তিনি একখানা ধুতি কাপড় মেয়ে লোকের মত পরিধান করিয়া পুকুর হইতে এক কলসী জল উঠাইয়া তাহাদের রান্নাঘরে রাখেন। তারপর সেই কাপড় বদলাইয়া তথা হইতে তিনি প্রস’ান করেন। এরপরই আনোয়ার আলী খান সেই বিবাহে সম্মতি প্রদান করেন এবং বিবাহ কার্য সমাধা করা হয়।
২৩। চট্টগ্রাম জিলার অন-গর্ত চান্দগাঁও নিবচাসী মওলানা মুহাম্মদ আলী সাহেবের বর্ণনাঃ-
মওলানা আমিনুল হক হারবাংগিরি শাহ বাবা ভান্ডারী কেবলার বিশিষ্ট খলিফা ছিলেন। তিনি রেঙ্গুন ছফরে যাইবার জন্য বাবা ভান্ডারী কেবলার দরবারে আরজ পেশ করেন। বাবা ভান্ডারী কেবলা তাহাকে একটি মোমবাতি জ্বালাইয়া দিয়া বিদায় করেন। তার পর তিনি রেঙ্গুন সফওে যান। সেইখানে তাহার বেলায়েত জ্যোতি ছড়াইয়া পড়িল। তিনি সেইখানে কিছুকাল ধরিয়া তরিকতের প্রদীপ জ্বালাইয়া অনি-ম শয্যায় শায়িত হন। তথায় চট্টগ্রাম জিলার অন-র্গত কুলগাঁও নিবাসী মওলানা অলি আহমদ সাহেব তাহার মাজার পাকা করিয়া দেন। সেই হইতে প্রতি বছর তাহার ওরছ করা হয়।
২৪। কুমিল্লা জিলার অন-র্গত ঘিলাতলা নিবাসী মওলানা বেশারত আলী শাহ ছাহেবের বর্ণনাঃ-
তিনি কুমিল্লা মাদ্রাসায় লিখাপড়া শেষ করিয়া হিন্দুস’ান ইউপির রামপুর মাদ্রাসায় হাদীসের কালেম জামায়াতে লেখা পড়া করিতে যান। তিনি কামেল পরীক্ষায় কৃতার্থী ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম হইয়াছিলেন। তারপর রামপুর মাদ্রাসায় কিছুকাল অধ্যাপনার কাজ নির্বাহ করেন। তিনি ১৩২০ বাংলায় রামপুরে ষ্টেটের খানকাহে এনায়েতীয়া আলীয়া মোজাদ্দিদীয়ায় প্রসিদ্ধ পীর খাজা হাফেজ এনায়েত উল্লা খান (রঃ) এর হাতে নকশেবন্দীয়া এবং মোজাদ্দিদীয়া তারিকায় বায়আত গ্রহন করেন। ২৩২৪ বাংলার কথা। একদা তিনি ফয়রের নামাজ শেষ করিয়া যথারীেিত মোরাকবায় ধ্যানমগ্ন ছিলেন। এমতাবস’ায় তিনি এলহাম যোগে জ্ঞাত হইলেন মাইজভান্ডার যাওয়অর কথা। চট্টগ্রাম নিবাসী মওলানা ছফিয়ুর রহমান সাহেব তাহার সহপাঠী বন্ধু ছিলেন। মওলানা ছফিয়ুর রহমান সাহেব উক্ত এল হামের কথা শ্রবণ কলিয়া মাইজভান্ডার শরীফ সমপর্কে বিস-ারিত আলোচনা করিলেন। অতঃপর তিনি ১৩৩৫ বাংলায় মাইজভান্ডার শরীফে হাজির হইয়া হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলার ছোহবত লাভ করিয়া কৃতার্থ হন।
২৫। চট্টগ্রাম শহরের মিয়াখান নগর নিবাসী জনাব আলহাজ্ব মিয়াখান সওদাগর সাহেবের প্রথম পুত্র জনাব আলহাজ্ব ছালামত আলী খান সাহেবের বর্ণনাঃ-
তখন আমি চট্টগ্রাম সরকারী মুসলিম হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র। বার্ষিক পরীক্ষা সন্নিকট। তাই পরীক্ষায় পাশ করার জন্য দোয়াপ্রার্থী হইয়া মইজভান্ডার শরীফে যাই। তখন হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা বিদ্যমান ছিলেন। আমি তাহাকে সাধারণ ফকির মনে করিয়া তাহার কামালিয়ত (পরিপুর্ণতা) পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আল্‌ কোরআনের কিছু আয়াত পাঠ করিয়া এক লোটা পানি লই এবং ইহা তাহার হাতের তালুর উপর ঢালিতে থাকে। এমন সময় তিনি এক কোশ পানি আমার চোখের দিকে ছিটাইয়া নিক্ষেপ করেন। আশ্চর্যের বিষয়, পানির বিচ্ছুরিত বিন্দু আমার চোখের উপর বিদ্যুতের আলোর ন্যায় বিচ্ছুরিত হইল। ইহা আমার চোখ ঝলসাইয়া দিল। আমি ভীত হইলাম্‌ অপরিণত বয়সের হেতুতে ইহার রহস্য বুঝিয়া উঠিতে পারিলাম না। তাই পানির লোটা জনৈক খাদেমের হাতে দিয়ো সরিয়া পড়িলাম। এই ঘটনার পর পাঁচ বৎসরের মধ্যে আমি আর মাইজভান্ডার শরীফ যাই নাই। তারপর আমি খাজা মঈনউদ্দিন চিশতী (রঃ) এর আদেশক্রমে আবার মাইজভান্ডার শরীফ আসি। তারপর বাবা ভান্ডারী কেবলা কবার সহচর্য লাভ করিয়া কৃতর্থি হই।
২৬। চট্টগ্রাম নিবাসী প্রাঙ্গনস প্রাদেশিক যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব সুলতান আহমদ সাহেবের বর্ণনাঃ
তিনি ১৯৬৮ খৃষ্টাব্দে মাইজভান্ডার শরীফ জেয়ারতে যান তথায় তিনি বিশিষ্ট জনগনের সমাবেশে বলেন যে, তিনি এর পূর্বে তার পাঠ্য জীবনে। সেই সময়ে মাইজভান্ডের যাওয়ার ভাল কোন রাস-া ছিল না। তাই তাহাকে নৌকাযোগে আসিতে হইয়াছিল। তাহার নৌকা যখন মাইজভান্ডার আসিয়া টৌঁছে তখন সন্ধ্যা ঘনাইয়াছিল। তিনি ও তাহার চাচা, তাহাদেও আনিত সামগ্রী লইয়া হযরত বাবা ভান্ডরী কেবলার হুজরা শরীফে প্রবেশ করেন এবয় দোয়া প্রার্থী হন। হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা তাহার আসনে উপরিষ্ট ছিলেন। তনি িতাহার আনিত ঢাকাই কুল হইতে কয়টি গ্রহন করিয়াছিলেন। মন্ত্রী সাহেব অতি ভক্তির সহিত বলেন যে। তিনি সেই সময়ে হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলায় পবিত্র কপাল হইতে প্রভাতরাগের অনুরূপ রঙ্গিনর আলো উদ্ভাসিত হইতে দেখিয়াছিলেন। উহা তাহাকে অভিভুত করিয়াছিল। আজও সেই দৃশ্য তাহার মানসনয়নে ভাসিতেছে।

Baba Bhandari's Rawja

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on হযরত গাউছুল আযম শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী বাবাভান্ডারী (ক:) এর জীবনাদর্শ ঃ

সুলতানুল মাশায়েখ গাউছে জমান হযরত শাহবছুফী মাওলানা সৈয়দ আবুল বশর আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী (কঃ)

সুলতানুল মাশায়েখ গাউছে জমান হযরত শাহবছুফী মাওলানা সৈয়দ আবুল বশর আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী (কঃ)
ইসলাম হচ্ছে আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম। যা রাসূলে পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ত্মে মাধ্যমে পৃথিবীতে পূর্ণতা লাভ করেছে। তাঁরই তিরোধানের পর খোলাফায়ে রাশেদীন তাবেঈন তাবে- তাবেঈন এবং পর আল্লাহর প্রিয় বন্ধু আউলিয়া এ-কেরামের মাধ্যমে বিশ্বের প্রত্যন- অঞ্চলে ইসলামের প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে। ইসলামের এ মহান সূফী সাধক তথা আউলিয়া-এ-কেরামগণ নিষ্ঠা সহকারে ধর্মীয় অনুশাসনসমূহ পারন করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানদেরকে এর প্রশিক্ষণ দান করেন। তাঁরা এমন চরিত্র এবং মহা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, যার প্রশংসাং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরানে এরশাদ করেন- হে মুমিনগণ! তোমারা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হয়ে যাও”। এই উপমহাদেশের শাসকক’লের উপর দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, মুহাম্মদ বিন কাসেম, সুলতান মুহাম্মদ গজনবী, মুহাম্মদ গৌরা ও মাহাম্মদ বখাতিয়ার কলজী সকলেই ছিলেন বিজয়ী বীর। ইতিহাসের বিচারে তারা কেউই ইসলাম প্রচারক ছিলেন না। যা হয়েছে তা কিন’ এ দেশের হক্কানী আলেম, সুফী, দরবেশগণের প্রচেষ্টায় তাদের অলৌকিক প্রভাবে। সাদা- সিধে জীবন যাপন ইসলামের উদারনীতে প্রচারে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষায় মুগ্ধ হয়ে সত্য ও সভ্য জাতী রূপে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়েছে।
বিশেষ করে সুলতানুল হিন্দ খাজা গরীবে নেওয়াজ (রাঃ) সুলতানুল আউলিয়অ হযরত শাহ্‌ জালাল ইয়ামনী (রহঃ), গাউসুল আযম হযরত শাহ্‌ছুফী মাওলানা সৈয়দ আহ্মদউল্লাহ আল-মাইজভান্ডারী (কঃ), গাউসুল আযম শাহ্‌সুফী মাওলঅনা য়ৈদ গোলামুর রহমান আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল- মাইজভান্ডারী (কঃ) প্রমুখের প্রচেষ্টায় উপ-মহাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসার লাভ করেছে। এ-রকম একজন আওলাদে রাসূল (দঃ) সুলতানুল মাশায়েখ গাউছে জমান হযরত শাহ্‌ছুফী মাওলানা সৈয়দ আবুল বশর আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী (কঃ)’র নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।
জন্ম ও বংশ পরিচিতিঃ
১৯০৬ ইংরেজী সনের এক শুভক্ষণে পৃতিবীর পঞ্চম তীর্থ স’ান মাইজভান্ডার শরীফের সহান আধাত্ম সাধক প্রাণ পুরুষ অলিকুল শিরোমনি গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্‌ছুফী সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবভান্ডারী কেবলা কাবার পতিত্র ঔরশে জন্ম গ্রহণ করেন। এ নূরানী শিশুর আগহমনে আনন্দিত ও পুলকিত হয়ে সকলেই বলতে লীগল, এ শিশু মানব নয়, এ যেন নুরের পুতুল। সৃষ্টির কর্তৃত্ব নিয়েই যেন এর আগমন! কালে হয়ে ছিলোও তাই।
বাল্যকাল ও শিক্ষা জীবনঃ
শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক স-রগুলো দরবার শরীফ থেকেই অতিক্রম করেন। পরবর্তীতে কলিকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকেত অত্যন- কৃতিত্বের সাথে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেন।
কর্মময় জীবনঃ
শিক্ষা জীবন সমাপানে- তিনি স্বীয় পিতা অলিকুল শিরোনাম গাউসুল আযম বাবাভান্ডারীর পবিত্র খেদমতেই নিয়োজিত থাকতেন। বাবাভান্ডারী কেবলা কাবা (কঃ) নিজ আদরের সন-ানকে আদ্যাত্মিকতার পরম পরশে যাগ সেরা অলীরূপে গড়ে তোলেন। মহান আধ্যাত্ম সাধক বাবাভান্ডারী কেবলা কাবা বায়াতে খাছ এর মাধ্যমে তাঁকেই খিলফত দান করে ত্বরীকার মহান খিদমত আনজামের জীম্মিাদারী অর্পন করেন।
বৈবাহিক ও আধ্যাত্মিক জীবনঃ
বৈবাহিক ও আধ্যাত্মিক জীবন উভয় ছিলো চমৎকারিত্বে পরিপূর্ণ। তাঁর পারিবারিক বা সাংসারিক জীবন ছিলো হাবিবে কিবরিয়অ ছাল্লাল্লাহু ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী কেবলার চেহারা মোবারক সুদৃশ্যতা থাকায় বাবাভান্ডারীর বেছলের পর আশেক, ভক্ত, অলিকুল তাঁর চেহারা দেখেই তৃষ্ণা মেটাতেন। গাউসুল আযম বাবাভান্ডারী কেবলা কাবার নূরানী আওলাদে পাকদের মধ্যে যোগ্যতম ও আধ্যাএকতায় সিক্ত হযরত শাহ্‌ছুফী মাওলানা সৈয়দ আবুল বশর মাইজভান্ডারী বাবাভান্ডারী কেবলা কাবার জানাজা শরীফের ইমামতি করেন।
বেছাল বা ওফাতঃ
বিশাল কর্মময় ও আধ্যাত্মিক জগতের স্বর্ণ শিখরে আরোহন পূর্বক স্রষ্টার লীলা সমাপন করে ঊনষাট বৎসর কালে ১৯৬৫ ইংরেজী সনের ১৬ই ডিসিম্বর ৩০ শে অগ্রাহয়ন মাবুদে হাকিকী তথা আল্লাহর একান- সান্নিধ্যে চলে যান।
স’লাভিসিক্ত ও আওলাদে পাকঃ
সাত শাহ্‌জাদা ও পাঁচ শাহ্‌জাদা আওলাদে পাকদের মধ্যে নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক মহা সমুদ্রে অবগাহনকারী মেঝ শাহ্‌জাদা বর্তমান জমানার যুগ শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিন, শায়খুল ইসলাম ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রেসিডেন্ট ও মাইজবান্ডারী ত্বরীকার দিক নির্দেশক সুফীকুল শিরোমণি হযরত আলহাজ্ব শাহ্‌ছুফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দিন আহম্‌দম আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারীর কেবলা কাবাকে তৎস’লভিসিক্ত করে যান। আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন মইন বাবা মাউজভান্ডারীর পদাঙ্ক অনুসরনের মাধ্যমে গাউছিুল আযম মাইজবান্ডারী কেবলা কাবার সন’ষ্টি অর্জন করার তৌফিক দান করুন। আমিন! বেহুরমতে সৈয়্যদিল মুরসালিন।

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on সুলতানুল মাশায়েখ গাউছে জমান হযরত শাহবছুফী মাওলানা সৈয়দ আবুল বশর আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী (কঃ)