সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী ১৭ এপ্রিল ২০১২ থেকে ২৪ এপ্রিল ২০১২ ইং পর্যন্ত দুবাইতে অনুষ্ঠিত সুফী সম্মেলনে যোগদান করেন।

দুবাইয়ে আন্জুমান আয়োজিত ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) মাহফিলে যোগদানের জন্য
শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.) এর বাংলাদেশ ত্যাগ

আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি ও মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আল্-মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.) সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে ১৭ এপ্রিল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। ইউ এ ই আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার বিভিন্ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) মাহফিলে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য রাখবেন। হুজুর ক্বেবলা (ম.জি.আ.) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছলে আন্জুমানের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী তাঁকে ফুলেল সংবর্ধনা জানায়। বিমান বন্দরে আন্জুমান ইউ এ ই শাখার সভাপতি খলিফা শাহ্ মুহাম্মদ আহমদ উল¬াহ কুদ্দুস, খলিফা মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, খলিফা শাহ মুহাম্মাদ আফতাব উদ্দিন, তথ্য সম্পাদক মুহাম্মদ পলাশ মাইজভান্ডারী, মুহাম্মাদ রুহুল আমিন পাখি সহ আন্জুমান নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। হুজুর ক্বেবলাকে কাছে পেয়ে প্রবাসী ভক্ত জনতার মাঝে উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। এসময় শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী প্রবাসীদের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করেন। উলে¬খ্য ১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শারজা আল্-মোবারক সেন্টারে বাদে মাগরিব থেকে আয়োজিত সুন্নী কনফারেন্সে হুজুর ক্বেবলা প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়াও ইউ এ ই’র বিভিন্ন এলাকায় আরো কয়েকটি মাহফিলে যোগদান শেষে আগামী ২৪ এপ্রিল তিনি দেশে ফিরে আসবেন।

Posted in Uncategorized | Comments Off on সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী ১৭ এপ্রিল ২০১২ থেকে ২৪ এপ্রিল ২০১২ ইং পর্যন্ত দুবাইতে অনুষ্ঠিত সুফী সম্মেলনে যোগদান করেন।

ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত এই মহররম-

ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত এই মহররম-
সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (মাঃজিঃআঃ)।

১৩ ডিসেম্বর ২০১১ ইং মঙ্গলবার বাদ মাগরিব “আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়া”’র বাবুবাজার ঢাকা শাখার উদ্যোগে খলিফায়ে গাউসূল আজম হাজী মোহম্মদ আফসার উদ্দীন আল্ মাইজভান্ডারীর নেতৃত্বে শোহাদায়ে কারবালা স্মরনে এক আলোচনা,ওয়াজ মিলাদ ও জিকিরের মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনূষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবী করিম(দঃ) এর ৩১তম বংশধর সাজ্জাদানশীন দরবার-এ গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী হযরতুলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্ হাসানী মাইজভান্ডারী (মাঃজিঃআঃ)।

প্রধান অতিথী তাঁর বক্তব্যে বলেন- তাগের মহিমায় মহিমান্বিত এই মহররম। আলাহ ও তাঁর রাসুল (দঃ) এর দ্বীনের আদর্শ ও মর্যাদা রক্ষাকল্পে, সত্যের মানদন্ড অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে নবী দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রাঃ) কারবালার ঐতিহাসিক রনাঙ্গনে পরিবার পরিজন সহ শাহাদাত বরন করেন যা ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয় বিদারক ঘটনা। এই মহান ইমাম অন্যায় ও মানবতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সত্যের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা আমাদের জন্য এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। তিনি তাঁর এই ত্যাগের মাধ্যমে বুঝিয়ে গেছেন যে, সত্য ও ন্যায়ের জন্য ত্যাগেই রয়েছে মর্যাদা আর অন্যায়ের কাছে মাথানত করার মধ্যে রয়েছে বঞ্চনা আর গানী। শোহাদায়ে কারবালা থেকে অসত্য ও অন্যায় প্রতিরোধ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ত্যাগের শিক্ষা গ্রহন করে বাংলাদেশের এই বিজয়ের মাসে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ইমানদারের পরিচয় রাখতে পারি।

উক্ত মাহফিলে ওয়ায়েজীন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতীয়ে আহলে সুন্নাহ হযরতুলহাজ্ব মাওলানা নূরুল ইসলাম জামালপুরী, মুফতী আলামা বাকী বিলাহ আযহারী, আলহাজ্ব মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাদপুরী,মাওলানা শেখ সাদী আবদুলাহ সাদকপুরী,মাওলানা আবদুস সাত্তার আল্ মাইজভান্ডারী।
পরিশেষে দুরুদ-সালাম ও জিকিরের পর সম্মানিত প্রধান অতিথি আলাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে সকল মুসলিম উম্মাহ ও বাংলাদেশের শান্তি-সম্প্রীতি-ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

Posted in Uncategorized | Comments Off on ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত এই মহররম-

আওলাদে রাসূল (দঃ) গাউছে দাওরাঁ আল্লামা শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (কঃছিঃআঃ) এর জীবন চরিত।

আওলাদে রাসূল (দঃ) গাউছে দাওরাঁ আল্লামা শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (কঃছিঃআঃ) এর জীবন চরিত।

বিশ্ব আধ্যাত্মিক পরিমন্ডল অন্যতম প্রাণকেন্দ্র মাইজভান্ডার দরবার শরীফ। এ পবিত্র ভূমিতে শায়িত আছেন তরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার স্থপতি গাউছুল আজম হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (কঃ) এবং তরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার প্রাণপুরুষ অলিকুল শিরোমনি গাউছুল আজম হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (কঃ)।

হযরত গাউছুল আজম বাবাভান্ডারী কেবলা কাবা (কঃ) হিজরী ১৩৫৬ সালের ২২শে মুহররম মোতাবেক ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের ২২শে চৈত্র রোজ সোমবার ভোর ৭টা ৫৫ মিনিটে একাত্তর বছর ৬ মাস এ নশ্বর জগতে আধ্যাত্মিক লীলা সমাপন করে পরপারে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।

হযরত গাউছুল আজম বাবাভান্ডারী কেবলা (কঃ) এর বেছালের পর তাঁরই মেঝ শাহজাদা সুলতানুল মাশায়েখ শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ আবুল বশর মাইজভান্ডারী আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (কঃ) এর ওরসে নবী বংশের উজ্জল প্রদীপ আমাদের প্রাণাধিক প্রিয় মুর্শেদ কেবলা আল্লামা শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী বিংশ শতাব্দীর এমন এক যুগ-সন্ধিক্ষণে মাতৃগর্ভ থেকে ধরাধামে তশরীফ আনয়ন করেন, যখন সমগ্র বিশ্বে চলছিল অনাচার, জুলুম, নির্যাতন, মুসলিম দুনিয়া সুন্নীয়তের মূল দর্শন থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল। আধুনিক জাহেলিয়াত ও বাতিল পন্থীদের খপ্পরে পড়ে ঈমানহারা হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানও তরকতের সঠিক দিক-নির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল মুসলিম উম্মাহ, বিশ্বশান্তি বিঘিœত করে পরাশক্তিগুলো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। মানবতা ভুলুন্ঠিত, নির্যাতিত জনগোষ্ঠির আর্তনাদে খোদার আরশ কাঁপছিল; ঠিক এমনি নাজুক পরিস্থিতিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর প্রদর্শিত এবং সাহাবায়ে কেরাম ও আউলিয়া-ই-কেরামের অনুসৃত পথে সঠিক প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্যে ১৯৩৮ ইংরেজী সালের ১০ই ফেব্রুয়ারী মোতাবেক মহান ২৭শে মাঘ ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ অনুযায়ী ৯ই জিলহজ্ব ১৩৫০ হিজরী রোজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় মাইজভান্ডার শরীফের পূণ্যভূমিতে প্রেরণ করেন।
“মারহাব ইয়া মারহাবা ইয়া মারহাবা
শায়খুল ইসলাম মইনুদ্দীন মারহাবা”

মাইজভান্ডার দরবার শরীফে তিনি তাঁর আব্বাজান শাহজাদায়ে গাউছুল আজম শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ আবুল বশর মাইজভান্ডারী আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (রঃ) এর তত্বাবধানে ইলমে দ্বীন কুরআন-সুন্নাহ এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করে ঐতিহ্যবাহী সরকারী কলেজিয়েট উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে মেট্রিক পাশ করেন অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. ইউনুস, সাবেক নৌ-বাহিনী প্রধান মোহাইমনুল ইসলাম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানসহ দেশ বরেন্য কৃতি সন্তানগণ তাঁর স্কুল জীবনের সহপাঠী ছিলেন। আগ্রাবাদস্থ চট্টগ্রাম সরকারী কমার্স কলেজ থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে বি.কম পাশ করেন। আরবী-ফারসী-উর্দুতে তাঁর আব্বাজান এবং বিংশ শতাব্দীর বিশ্ববরেণ্য ওলামায়ে কেরাম থেকে কুরআন-সুন্নাহ তথা ইলমে দ্বীন ইসলাম চর্চা করে প্রভূত জ্ঞান লাভ করেন। তাঁর সবচাইতে বড় কারামত হলো জম্মের পর থেকে অদ্যবধি মুখ থেকে কুরআন-সুন্নাহর বাইরে কোন অযথা বাক্য প্রকাশ পায়নি। যা বলেন আল্লাহ ও রাসূলের (দঃ) শান, আউলিয়া-ই-কেরামের শানে বলেন। যা আমাদের জন্য ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির পাথেয় স্বরূপ।

১৯৫৯ ইংরেজীতে তদানীন্তন হাবীব ব্যাংকে অফিসার হিসাবে যোগদান করে জেনারেল ম্যানেজার পদে যখন উন্নীত হন, ঠিক তখনি ১৯৬২ইং সালে ৫ই এপ্রিল মহান ২২শে চৈত্র রাত ২.৩০ মিনিটে তাঁর আব্বাজানের নির্দেশক্রমে চাকুরী ছেড়ে বায়াতে খাছ গ্রহণ করে খেলাফত লাভের মাধ্যমে তরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার প্রচার-প্রসার কল্পে আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্রতী হন। ১৯৬৬ ইংরেজীতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন চট্টগ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সাথে। বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনীতিবীদ মরহুম ইসলাম মিয়া টিকে তাঁর শ্বশুর ছিলেন। তাঁরই কন্যা মরহুমা ফাতেমা বেগম (মুন্নিকে) জীবন সঙ্গীনি হিসেবে গ্রহন করেন, তিনি তাঁর জীবনের উন্নতির সোপানে আরোহনের চির সঙ্গীনি ছিলেন। গাউছুল আজম বাবাভান্ডারী (কঃ) ও হযরত কেবলার (কঃ) তরীকা মতে নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। তাঁর দুই শাহজাদা যথাক্রমেঃ শাহজাদায়ে গাউসুল আজম আলহাজ্ব শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ), শাহজাদায়ে গাউছুল আজম আলহাজ্ব সৈয়দ শহিদ উদ্দিন আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ) এবং দুই শাহজাদী যথাক্রমেঃ শাহজাদী আল্হাজ্বা সৈয়দা সায়েমা আহমদ (সোমা), ও শাহজাদী সৈয়দা সাহেদা আহমেদ (রুমা)। ১৯৮০ ইং সালে তাঁর স্ত্রী ইন্তেকাল করে জান্নাতবাসী হন। এরপর তিনি আর দ্বিতীয় বিবাহ করেননি। কঠোর রিয়াজত করে চলেছেন।

মাদারজাত (মাতৃ গর্ভকালীন) অলী হুজুর কেবলা

হযরত গাউছুল আজম বাবাভান্ডারী (কঃ) যেদিন ইহকালীন লীলা সমাপন করে আপন রবের সান্নিধ্যে চলে যান অর্থাৎ বাবাজান কেবলার বেছালের দিনই তিনি মাতৃগর্ভে তাশরীফ আনয়ন করেন। সোবাহান্নাল্লাহ! হযরত গাউছুল আজম বাবাভান্ডারী কেবলা (কঃ) বেছালের দিনই তাঁর গাউছিয়তের মহান জিম্মাদারী আনজামের লক্ষ্যে রূহানী জগতে আপন প্রিয় নাতী আমাদের প্রাণপ্রিয় মোর্শেদ মইনুদ্দিন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ) কে খলীফাতুল মুসলেমীন এবং তরীকত ও মারেফতের দিশারী হিসাবে মনোনীত করেন। তাঁরই আগমনে আজ পৃথিবীতে আশেকানে মোস্তফা (দঃ) ধন্য। তাঁর পবিত্র জীবনে অসংখ্য কারামত রয়েছে, কতিপয় কারামত আমরা “শাজরায়ে কাদেরীয়া গাউছিয়া মাইজভান্ডারীয়া” গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।

বায়াতে খাছ ও খিলাফত লাভ

১৯৬২ ইং সালের ৫ই এপ্রিল মাসে ২২শে চৈত্র রাত ২.৩০ মিনিটে তার আব্বাজান সৈয়দ আবুল বশর আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (কঃ) তাঁকে ডেকে নিয়ে একান্তে বসায়ে খাছ ভাবে বয়াত করান এবং সাজ্জাদানশীন হিসেবে খিলাফত দান করে বয়াত করনোর অনুমতি প্রদান করেন। সেদিন থেকেই তরীকত ও সিলসিলার খিদমত আনজাম দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু বাংলাদেশ, পাক-ভারত উপ-মহাদেশেই নয়; বরঞ্চ সমগ্র বিশ্বে শরীয়ত ও তরীকতের খিদমত আন্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলার খাজা মইনুদ্দিন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ)

ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে ভারত-বর্ষে যেসব আউলিয়া-ই-কেরাম আগমত করেন, তদ্মধ্যে সুলতানুল হিন্দ হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী আজমিরী (রঃ) সবার শীর্ষে। যিনি তাঁর জীবদ্দশায় নব্বই মতান্তরে নিরান্নব্বই লাখ অমুসলিমকে মুসলমান বানিয়েছিলেন। সোবহানাল্লাহ! তাঁদেরই পদাংকনুসরন করে বাংলার খাজা মুর্শেদ মইনুদ্দিন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ) লক্ষাধিক অমুসলিম নর-নারীকে এ পর্যন্ত ইসলামে দাখিল করান। সোবহানাল্লাহ! দ্বীনের প্রচারের দায়িত্ব তো আহলে বায়েতের সদস্য আউলিয়া-ই-কেরামই পালন করেন। আমেরিকার ভূখন্ডের বিশিষ্ট নওমুসলিমগণই মুর্শেদের হাতে মুসলমান হওয়ার অন্যতম জাজ্বল্যমান প্রমাণ। সম্প্রতি ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা সফরে বহু অমুসলিম ইসলামে দাখিল এবং বায়াতের মাধ্যমে তরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ায় প্রবেশ করেন।

সূফীবাদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক

সূফীবাদ ইসলামের মূল দর্শন। সূফীবাদই মানুষকে সোনার মানুষ হিসাবে নিজকে গড়ার তালিম দেয়। সূফীবাদী যারা, তাঁরাই মানবতার-শান্তি ও কল্যাণের দিশারী। সাম্য-মৈত্রী সৃষ্টি করে। ১৯৯৬ ইং সালে ইন্টারন্যশনাল এসোসিয়েশন অব সূফীজম আমেরিকার (ওহঃবৎহধঃরড়হধষ অংংড়পরধঃরড়হ ড়ভ ঝঁভরংস অসবৎরপধ) এর ব্যবস্থাপনায় আমেরিকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সূফী সেম্পোজিয়ামে মুর্শেদ কেবলা বাংলাদেশ হতে বিশিষ্ট প্রতিনিধি হিসাবে অংশগ্রহন করেন। তাঁর আগমনে খুশী হয়ে উক্ত এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাগণ তাকে উপদেষ্ট (অফারংড়ৎ) মনোনীত করেন। তিনি কাদেরীয়া, চিশতিয়া, নক্শবন্দীয়া, মুজাদ্দেদীয়া, মৌলভীয়া, সোহরাওয়ার্দীসহ সকল হক তরীকতপন্থী ওলামা-মাশায়েখের পৃষ্ঠপোষকতায় করে যাচ্ছেন।

বিশ্বব্যাপী কর্ম বি¯তৃত“শায়খুল ইসলাম” উপাধিতে ভূষিত

১৯৯৭ ইং সালে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত “ইন্টারন্যাশনাল সূফী সেম্পোজিয়ামে” আগত বিশ্বেও শ্রেষ্ঠ সূফী সাধকগণ সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করেন, যা বিরল এক সম্মান বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য।

আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রেসিডেন্ট মুর্শেদ কেবলা

১৯৮৮ ইং সালে ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আহমদীয়া সুন্নীয়া আলীয়া ময়দানে তাঁকে বাংলাদেশের ওলামা মাশায়েখ আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ এর সম্মানিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন সর্বসম্মতিক্রমে। সুন্নিয়তের প্রসারে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু বাংলাদেশ পাক-ভারতেই নয়, বরঞ্চ সমগ্র বিশ্বে। বর্তমানে তিনি ওয়ার্ল্ড আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট।

জাতিসংঘে ভাষণ ও মিলাদে মোস্তফা (দঃ) এর শুভ উদ্বোধন

বিগত ২০০০ সালের ২৮-৩১শে আগষ্ট জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বশান্তি সম্মেলন (ঞযব গরষষবহরঁস ডড়ৎষফ ঢ়বধপব ংঁসসরঃ ড়ভ জবষরমরড়ঁং ধহফ ঝঢ়রৎরঃঁধষ খবধফবৎ) অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে উদ্বোধন করেন তৎকালিন জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান। এ সম্মেলনে পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের শীর্ষ স্থানীয় ধর্মগুরু ও আধ্যাত্মিক শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন আওলাদে রাসূল (দঃ) শায়খুল ইসলাম হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ)।
জাতিসংঘে আয়োজিত উক্ত কনফানেন্সে হুজুর কেবলা ভাষণে বলেনঃ আজকের জাতিসংঘ বিশ্ব-শান্তি ও সকল ধর্মের ও বর্ণের মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ, হানাহানি, যুদ্ধ, ক্ষুধা ও দরিদ্র নিসনের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) ‘মদিনার সনদের’ মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে উপহার দিয়েছিলেন, যা জাতিসংঘ আজ বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্মেলন সমাপনী দিবসে প্রার্থনা পর্বে আওলাদে রাসূল (দঃ) সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ) মিলাদ শরীফ (ছালাত ও সালাম) পরিচালনা করেন এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করেন। জাতিসংঘের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যাক্তিত্ব, যিনি মিলাদে-মোস্তফা (দঃ) এর শুভ উদ্বোধন করেন। মিলাদ মাহফিলে রাবেতার মহাসচিব আবদুল্লাহ ওমর নাসিফ, ইরাক, ইরান, ভারত ও পাকিস্থানসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উজবেকিস্তান সরকার ও ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ব-আধ্যাত্মিক সম্মেলনে আমন্ত্রিত এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ কর্তৃক বিপুলভাবে বিরল সম্মানে ভূষিত।

২০০০ ইং সালের ১৭-১৮ই সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তান সরকার প্রধানের আমন্ত্রণে এবং ইউনেস্কোর তত্ত্বাবধানে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে হোটেল শেরাটনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক সম্মেলনে অষ্ট্রেলিয়া, আজারবাইজান, বেনিন, চীন, ফ্রান্স, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইস্রাইল, জাপান, সুদান, কাজাখাস্তান, মরক্কো, সউদী আরব, স্পেন, শ্রীলংকা, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তিউনিশিয়া, তুরস্ক, ভ্যাটিকান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে ধর্মীয় আধ্যাত্মিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহন করেন। বড় শাহজাদা আল্হাজ্ব শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ) সফরসঙ্গী ছিলেন। জর্দানের প্রিন্স আল্-হাসান বিন্ তালাল স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কো সদর দপ্তর হতে আগত ডাইক্টের ডায়েন (উড়ঁফড়ঁ উরবহব)। ইন্টারন্যাশনাল এ কনফানেন্সে মুর্শেদ কেবলা বিশেষভাবে সমাদৃত হন। তাসখন্দ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উজবেকিস্তান সরকার তাঁকে বিশেষ ফ্লাইটে পবিত্র বুখারী নগরীতে নিয়ে যান। তিনি হযরত ইমান বুখারী (রঃ), ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রঃ) এবং শায়খ বাহাউদ্দিন নক্শবন্দী (রঃ) প্রমুখ মনীষীদের মাজার জিয়ারত করেন।

বিপন্ন মানবতার পাশে সৈয়দ মইনুদ্দিন

১৯৮৮, ১৯৯৮ ইং সালের শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যা কবলিত বিপন্ন মানুষের পাশে ত্রাণ-সামগ্রী নিয়ে হাজির হন আওলাদে রাসূল (দঃ) মুর্শেদ কেবলা। ১৯৯১ ইং সালের ভয়াবহ জলোচ্ছাসে ক্ষতিগ্রস্থ পতেঙ্গা এলাকার দুঃখী মানুষের পাশে গিয়ে দাড়ান হুজুর কেবলা। ২০০৭ ইং সালের বন্যা এবং শতাব্দীর ভয়াবহ সিডরে ক্ষতিগ্রস্থ দুঃখী অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে ত্রান-সামগ্রী নিয়ে দাড়ান আমাদের নিবেদিত প্রাণ আশেকান তাঁরই নির্দেশক্রমে। তিনি এতিম-অনাথ দুঃখী মানুষের বন্ধু ও কান্ডারী। বিশ্ব মানবতার সেবাই যার জীবনের ব্রত।

তরীকতের সিপাহ্সালার ও দিক্ নির্দেশক

তরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দিক-নির্দেশক হিসাবে সারা বাংলার আনাচে-কানাচে খিদমত আন্জাম দিয়েছেন। এ তরীকাকে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার মূল সুর আল্লাহ ও রাসূল (দঃ) এবং মানবতার প্রেম। সাম্য-মৈত্রী সৃষ্টি। ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করা। তাই তিনি বাংলাদেশে আট সহস্রাধিক খানকা শরীফ কায়েম করেন। এমনিভাবে বর্হিবিশ্বে ও এ তরীকার খিদমত অব্যাহত রেখেছেন। ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, আবুধাবী, ওমানসহ সমগ্র বিশ্বে খানকা শরীফ, মসজিদ ও ইসলামী রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। যুগের সকল তরীকতের প্রতিনিধিগণের সাথে তাঁর রয়েছে রূহানী নিবিড় সম্পর্ক। তিনি পীরানে পীর। সোলতানুল আউলিয়া। সমগ্র বিশ্বে তাঁর লাখো-কোটি ভক্ত অনুরক্ত রয়েছে। রয়েছে হাজারো খলিফা ও প্রতিনিধি। তরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার চর্চা ও তালিম সমগ্র বিশ্বে সম্প্রসারিত করেন আওলাদে রাসূল (দঃ) শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ)।

শতাব্দীর সংস্কারক মুর্শেদ কেবলা

প্রিয় নবীজি (দঃ) ইরশাদ করেন- “নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা প্রতি শতাব্দীর মাথায় এমন ব্যাক্তিকে দুনিয়াতে প্রেরণ করবেন, যিনি দ্বীন ইসলামের সংস্কারের খিদমত আন্জাম দেবেন”। মহানবী (দঃ) এর পবিত্র বানীর আলোকে মুর্শেদ কেবলা ইসলামের সংস্কারক হিসাবে খিদমত আন্জাম দিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বব্যাপী নিরলসভাবে। একদিকে তরীকত পন্থীদের মাঝে সংস্কারের মাধ্যমে তরীকতের ছহীহ খিদমত আন্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। সকল অনাচারের বিরুদ্ধে তাঁর জিহাদ অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে প্রেম-ভালবাসা দিয়ে অমুসলমানদেরকে ইসলামে দীক্ষিত করছেন। “ইসলাম উদারতায়’ তলোয়াওে নয়”, যার বাস্তব প্রতিচ্ছবি মুর্শেদ কেবলা সৈয়দ মুইনুদ্দিন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ)।

ইলমে দ্বীনের খিদমত

জ্ঞান পিপাসু মাহজ্ঞানী সৈয়দ মইনুদ্দিন। তিনি তাঁর আশেকান ও তাদের সন্তানদেরকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য সর্বদা উৎসাহিত করে যাচ্ছেন। জ্ঞানী ও শিক্ষাবিদকে তিনি অত্যন্ত ভালবাসেন। পড়াশুনার প্রতি অত্যাধিক গুরুত্ব দেন। তিনি মানুষ গড়ার এক নিপুন কারিগর। তিনি সাচ্চা হাফেজ তৈরীর লক্ষ্যে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে মাইজভান্ডার রহমানিয়া মইনীয়া হেফজখানা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স (৫ তলা বিশিষ্ট ভবন) প্রতিষ্ঠা করেন। এতিমখানার ছাত্রদের ভরন-পোষন-চিকিৎসা এমনকি জামা-কাপড় পর্যন্ত ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ব্যয় ভার বহন করে থাকেন। সুন্নী যোগ্য আলেম তৈরীর মানসে নিুোক্ত মাদ্রাসাসমূহ প্রতিষ্ঠা করেনঃ
 শরীফপুর রহমানিয়া মইনীয়া দাখিল মাদ্রাসা, রায়পুরা, নরসিংদী
 শরীফপুর রহমানিয়া মইনীয়া হেফজখানা ও এতিমখানা, রায়পুরা, নরসিংদী
 ডিমডুল রহমানিয়া মইনীয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, বরুড়া, কুমিল্লা
অসংখ্য সুন্নী কামিল-ফাজিল-আলিম মাদ্রাসায় বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। ওলামায়ে আহলে সুন্নাতের পৃষ্ঠপোষকাত করছেন আর্থিক ভাবে নীরবে অকাতরে।
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষার্থী ও গবেষণারত অনেকের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে। এতিম-দুঃখী ও বিপন্ন মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু সৈয়দ মইনুদ্দিন। বহুজনকে কর্মসংস্থানে সহযোগিতা করেন তিনি।

হজ্বে বায়তুল্লাহ ও জিয়ারতে মদিনা মনোয়ারা

আওলাদে রাসূল (দঃ) সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ বহুবার পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন আশেকান ওলামায়ে কেরামকে নিয়ে। অনেক আলেমকে পবিত্র হজ্ব পালনে পূর্ণ আর্থিক সহযোগিতা করেন তিনি। আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহকে ধরে আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে এবং মদিনা শরীফে কদমে মোস্তফায় (দঃ) ভক্তদেরকে হাওলা করেন তিনি। দোয়ার প্রতিটি পবিত্র স্থানে তিনি দেশ-জাতি-মুসলিম উম্মাহ সহ আশেকানদের কল্যাণের জন্য নিভূতে আবেগ জড়িত কন্ঠে ফরিয়াদ করেন। ১৯৯৭ সালে পবিত্র মক্কায় মিনার তাবুতে যখন আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছিল। তখন তিনি “ইয়া গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী, ইয়া গাউসুল আজম বাবাভান্ডারী” ৩ বার বলা মাত্র আগুন অন্যদিকে চলে যায়। বাংলাদেশী হাজীরা নিরাপত্তা লাভ করেন গায়েবী ভাবে। প্রিয় নবীজি (দঃ) স্বয়ং তাঁকে হজ্ব কবুলসহ অসংখ্য সু-সংবাদ প্রদান করেন। রহমতের ফিরিশতা মুজদালেফায় তাঁকে আরাফাতের দোয়া কবুলের সুসংবাদ দিয়ে যান এবং আরশ-আজীম তাঁর মাথার উপর ঘুরতে দেখেন।
আওলাদে মোস্তফা (দঃ) সৈয়দ মইনুদ্দীনের অসংখ্য কারামত ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রত্যক্ষ করেছেন হজ্ব কাফেলা সাথীগণ পবিত্র হারামাইনের ভূখন্ডে। আল্লাহ ও রাসূল (দঃ) তাঁর উপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তাঁর বুজুর্গী সর্বত্র পরিলক্ষিত হয়। ২০০৬ সালে প্রিয় নবীজি (দঃ) রিয়াতুল জান্নাতে তাঁকে এবং উনার আওলাদে পাকগণসহ আশেকান হাজীদের প্রতি বিশেষ নজরে করম এনায়েত করেন। বাবে জিব্রিলের সম্মুখে বহুবার তাঁর বুজুর্গী পরিলক্ষিত হয় ।

সুন্নীয়তের ময়দানে তাঁর অবদান

আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রেসিডেন্ট হিসাবে সমগ্র বিশ্বে তাঁর অবদান সর্বজন বিদিত। রাজধানী ঢাকায় প্রতি বছর ১২ই রবিউল আউয়াল পবিত্র জশ্নে জুলুসে-ঈদে-মিলাদুন্নবী (দঃ) এর বিশাল সমাবেশ তাঁরই নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শুধু বাংলাদেশ নয় বরঞ্চ তাঁর নির্দেশেই আশেকান মাইজভান্ডারী সমগ্র বিশ্বে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) জুলুস সহকারে উদ্যাপন করে আসছে। থাইল্যান্ডের খলিফা আলহাজ্ব গাফফার চৌধুরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মিলাদুন্নবী (দঃ) এর সমাবেশে সেখানকার রাজ প্রধান অতিথি হিসাবে আসন অলঙ্কিত করে থাকেন। সুন্নীয়তের প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে তিনি বহু মাদ্রাসা-মসজিদ ও খানকাহ শরীফ নির্মাণ করেন। সুন্নীয়তের মুখপাত্র হিসাবে “নূর-এ রহমান” তাঁরই পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত হচ্ছে নিয়মিতভাবে। শরীয়ত-তরিকত ও সুন্নীয়তের এবং বিশ্ব মানবতার খিদমতের লক্ষে তিনি ‘আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়া’ নামক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এ আন্জুমান বাংলাদেশ তার অগ্রযাত্রাকে যেমনি অব্যাহত রেখেছে। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকাসহ সমগ্র বিশ্বে আন্জুমানের বৈদেশিক শাখাসমূহ রয়েছে।

বিশ্বশান্তির দূত হুজুর কেবলা

তিনি শুধু শরীয়ত ও তরীকতের প্রচার-প্রসারেই ক্ষান্ত নন, বরঞ্চ বিশ্বশান্তির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গত ২৭শে আগষ্ট ২০০৫ আফ্রিকার ঘানার ভাইস প্রেসিডেন্ট কর্তৃক পুলিশ লাইন ময়দানে “ অভৎরপধহ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ওংষধসরপ গরংংরড়হ ভড়ৎ ড়িৎষফ ঢ়বধপব ্ এযধহধ ঘধঃরড়হধষ ঈবষবনৎবঃরড়হং” এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনে “ ঞযব এৎধহফ অসনধংংধফড়ৎ ভড়ৎ ওংষধস, টহরাবৎংধষ ঢ়বধপব, জবপড়হপরষরধঃরড়হ, ঝঢ়রৎরঃঁধষ টঢ়ষরভঃসবহঃ ধহফ উবাড়ষড়ঢ়সবহঃ ড়ভ ঃযব ঐঁসধহরঃু ওহঃবৎহধঃরড়হধষ অধিৎফ ড়ভ ঃযব উবপধফব ভড়ৎ ঃযব ুবধৎ ২০০৫” ‘বিশ্বশান্তির দূতের’ সম্মননায় ভূষিত হন, যা সমগ্র বাঙ্গালী ও মুসলিম উম্মাহ্র জন্য বিরল সম্মান। প্রিয়নবী রাহ্মাতুল্লিাল আলামিনের নূরানী আওলাদ হিসাবে সমগ্র বিশ্বে তিনি শান্তির দূত হিসাবে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বেলায়েতের সম্রাট গাউছে দাওরাঁ হুজুর কেবলা

আমাদের প্রাণপ্রিয় মুর্শেদ কেবলা (মাঃজিঃআঃ) তো মাদারজাত (মাতৃগর্ভ) অলী হিসাবে পৃথিবীতে আগমন করেন। বাল্যকাল থেকেই যাঁর বেলায়তের প্রকাশ ঘটেছিল। একবিংশ শতাব্দীর ত্রাণকর্তা ও দিশারী হিসাবে আমরা তাঁকে পেয়েছি। তাঁর হাজারো কারামত রয়েছে। তিনি “ কারামতের মুখাপেক্ষী নন, বরং কারামত তাঁর মুখাপেক্ষী”। ‘শাজরায়ে কাদেরীয়া গাউছিয়া মাইজভান্ডারীয়া’ অধ্যয়ণ করলে আমরা তার কিছু কারমতের নমুনা খুঁজে পাবো। এছাড়া ‘একটি জীবন, একটি দর্শন’ নামে তার পূর্নাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ আমরা তা বিস্তারিতভাবে জানতে পারবো। তরীকতে তাঁর তালিম অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিখুঁত। তাঁর সাহচর্য যারা লাভ করেছেন, তাঁরা হয়েছেন সোনার মানুষ, সঠিক তাপস, তরীকতের নামে সমাজে যে বিদয়াত ও কুসংস্কার ছিল, তার বিরুদ্ধে সারা জীবন তিনি আপোষহীন সংগ্রাম করে যান। দুনিয়ার কোন মোহ-লোভ-লালসা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। বাতিল ও অসত্যের সাথে তিনি কোনদিন আপোষ করেননি। তিনি তো হযরত ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইনের রক্তীয় বংশীয় ধারা, নবী বংশের উজ্জল প্রদীপ। ১৯৮৮ ইং সালে ঢাকায় প্রেস কনফারেন্সে ঘোষণা করেন “সুন্নীয়ত ও ঈমানের জন্য রক্ত দিতে হলে সর্বপ্রথম আমি মইনুদ্দীনই রক্ত দিতে প্রস্তুত”।
পরিশেষে আমরা বাংলাদেশ সরকার বিশেষতঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে সবিনয় অনুরোধ করছি, বাংলার এ কৃতি সন্তানের জীবনাদর্শ ও কর্মকান্ডকে পাঠ্যক্রমের তালিকা ভুক্ত করুন।
আমরা নোবেল পুরস্কার অথরিটীর কাছে আকুল আহবান জানাচ্ছি, চলতি শতকের এ মনীষী ও শান্তির দূতকে আধ্যাত্মিক ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদানে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। তাতে মানবতার মান বাড়বে। গুণীদের সম্মান সমুন্নত হবে। ইতিহাস আপনাদেরকে স্মরণ করবে।

সারা বিশ্বের মানবতা ও মুক্তির দিশারী, অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের শান্তির দূত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার কল্যাণাকামী, আধাঁরে আলোর পথ প্রদর্শক, এ সময়ের মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শিরমণি, নবী (দঃ) এর ত্রিশ তম বংশধর, গাউছে দাওরাঁ, শায়খুল ইসলাম হযরতুলহাজ্ব আল্লামা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী মাইজভান্ডারী (কঃ ছিঃ আঃ)। তিনি চলে গেলেন, বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখো-লাখো ভক্ত আশেকানদের অশ্রু জলে ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। তিনি গত ১৭ আগষ্ট সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নানিল্লাহে…………..রাজিউন)। তাঁর এই প্রয়াণে সুন্নীয়তের ঝান্ডা বাহক অসীম সাহসী নির্লোভ, ত্যাগী একজন মহা-মানবকে আমরা হারালাম।

প্রতি বছর মাইজভান্ডার দরবার শরীফের এ মহান আউলিয়া, গাউছে দাওরাঁ, শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, শায়খুল ইসলাম আওলাদে রাসূল (দঃ) হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ) এর মহান ২৭শে মাঘ মোতাবেক ৯ই ফেব্রুয়ারী পবিত্র জন্মদিন এবং প্রতি বছর ১৭ ই আগষ্ট পবিত্র ওফাত দিবসে হাজির হয়ে তাঁর ফয়ুজাত ও বরকত লাভে ধন্য হই এবং সঠিক পথে চলার দিশা গ্রহণ করি। আল্লাহ পাক আমাদেরকে তাঁরই সান্নিধ্যে হাজির হয়ে গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) ও গাউছুল আজম বাবাভান্ডারী কেবলা (কঃ) নূরানী নেগাহে করম হাসিল করে ধন্য হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন!

শাহ্ এস এম আকতারুজ্জামান

Posted in Uncategorized, বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী | Comments Off on আওলাদে রাসূল (দঃ) গাউছে দাওরাঁ আল্লামা শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (কঃছিঃআঃ) এর জীবন চরিত।

অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক মাইজভান্ডার দরবার শরীফঃ অধ্যাপক শাহ আহমদ নবী।

অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক মাইজভান্ডার দরবার শরীফঃ অধ্যাপক শাহ আহমদ নবী।

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ জাল্লাশানুহুর প্রতি এবং লাখো-কোটি দরুদ ও সালাম পেশ করছি পরাক্রমশালী ও দয়ালু আল্লাহর মহা সৃষ্টি আম্বিয়াকূল শিরোমণি ও রাহমাতুল্লিল আলামীণ হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর নূরানী দরবারে। আমার ভক্তিপূর্ণ ও অবনত মসতকে কদমবুসি জানাচ্ছি গাউছুল আযম শাহছুফী সৈয়দ মাওলানা আহমদ উল্লাহ (কঃ) মাইজভান্ডারী ও গাউছুল আযম ইউসুফে ছানী সৈয়দ মাওলানা গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কঃ) এর কদম কোবারকে। যাতে গাউছে ধনের “মাইজভান্ডার দরবার শরীফ” সম্পর্কে অধম দোয়া প্রার্থীকে উপযুক্ত জ্ঞান দান করেন। এ দরবার শরীফ উপমহাদেশের প্রধান আধ্যাত্মিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র এবং এটি কেবল একটি ত্বরীকা বা দর্শন, একটি পারলৌকিক সাধনা কিংবা একটি চেতনার নাম নয় বরং একটি মানবতাবাদী, অসামপ্রদায়িক এবং বিচার সাম্য মূলক সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রাম। অসামপ্রদায়িক ঐক্য এবং ইহ ও পারলৌকিক সাধনার মূর্ত প্রতীক। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ’ এর স’গিত ও প্রাণ পুরুষ ত্বরীকার প্রবর্তক গাউছুল আযম শাহচুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) ও ভ্রাতুস্পুত্র গাউছুল আযম ইউসুফে সানী সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কঃ) মাইজভান্ডারী দর্শনের পরিপূর্ণ রূপকার হিসেবে এ দরবার প্রতিষ্ঠা করেছেন। সবধরনের গোড়ামী ও মানবতা বিরোধী অশুভ শক্তির বিরুদ্দে একটি সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক বিপ্লব। ভৌগোলিক অবস’ানগত, ভাষাগত ও জাতীয়তার নিরিখে মাইজভান্ডার দরবার শরীফের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে। বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইমামূল আম্বিয়া নূরে মোজাচ্ছম রসূলে করীম (দঃ) এর প্রচারিত শানি-র ধর্ম ইসলামের বাণীকে বিশ্ব মানবতার শানি-র জন্য বিবর্তনিক ধারায় তদ্বীয় খলিফা খোলাফায়ে মাইজভান্ডারী আওলাদে রাসূল (দঃ) বা তদ্বীয় উত্তরাধিকারীগণের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রিয়নবী (দঃ) এর বেলায়াত শক্তি বিতরণের মাধ্যমে ত্রাণ কর্তৃত্ব ও কর্ম কর্তৃত্ব (গাউছিয়ত ও কুতুবিয়ত) জারি রেখেছেন। সুক্ষ্মতর ও চূড়ান- বিশ্লেষণে কেবল মানুষ নয়, মহান আল্লাহর সৃষ্টি সকল জীবই বিচার সাম্যের প্রত্যাশী। মাইজভান্ডারী জীবন দর্শনের এ চেতনা একদিকে যেমন মানবতাবাদী মানুষকে করেছে তুমূল আলোড়িত, অন্যদিকে তেমনি মাইজভান্ডারী সঙ্গীতের সূর বিশ্ব সংগীত জগতকে করেছে প্রভাবিত। এ মাইজভান্ডারী দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে শাশ্বত মরমী বাংলার লোক সংস্কৃতির অবয়বে নূতন রঙে নতুন ঢঙে, নতুন সুরে ও রুপে আবির্ভূত রয়েছে বিশ্বের লৌক সংস্কৃতির সুবিশাল চত্বর। মাইজভান্ডার দর্শনে ধর্ম সাম্যের যে বক্তব্য, তার বাসতব প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয় মাইজভান্ডারী ত্বরীকার প্রবর্তক শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ)’র কর্ম কান্ডের ভেতরে। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠি নির্বিশেষে স্ব-স্ব ধর্মে থেকে কাজ করার ও আল্লাহকে স্মরণ করার পরামর্শ দিতেন। সমপ্রদায়গত ভেদ বুদ্দির উর্দ্বে তার কর্মকান্ড সকল সমপ্রদায়ের মানুষকে দারুনভাবে প্রভাবিত করে। এ কারনে দেখা যায় ধীরে ধীরে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ পরিণত হয়ে উঠে সকল ধর্মের মানুষের এক অপূর্ব মিলন কেন্দ্র রুপে। তাছাড়া হযরত কেবলা কাবার খলীফা নির্বাচনের প্রতিফলন সুস্পষ্ট । যেমন-হিন্দু মনমোহন দত্ত, কালাচান সাধ, কবিয়াল রমেশ শীল, বৌদ্ধ ধনঞ্জয় বড়-য়া, খ্রিষ্টান মাইকেল পেনারু প্রমুখকে আধ্যাত্ম অনুক’ল্য প্রাপ্ত সিদ্ধ পুরুষ হিসেবে পরিচিতি দান স’ান ও কালের বিচারে রীতিমত যুগানতকারী ঘটনা মাইজভান্ডারী দর্শনের সমন্বয় ধর্মী, বিশ্বমানবতার মিলন মন্ত্রের যে বীজ রোপন করেছিলেন হযরত গাউছুল আযম মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্‌ মাইজভান্ডারী (কঃ) তার তিরোধানের পর তারই ভ্রাতুস্পুত্র ও নয়নমনি ইউসুফে ছানী হযরত গাউছুল আযম সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কঃ) ফলে ফলে সুশোভিত করে বিশ্বব্যাপী পরিপূর্ণ বিকাশের ব্যবস’া করে যথাযথ রূপদান করেছেন। বিগত শতাধিক বছর ধরে এ দরবার শরীফ পাপী-তাপী, শোষিত, নির্যাতিত, মোহান্ধ, অবহেলিত, রোগাক্রানত, দিশেহারা ও পথহারা নীতিহারা এবং অভাবগ্রস’, দীনহীন মানবতার আশ্রয় স’ল, পদপ্রদর্শক, আল্লাহপাকের সন’ষ্টি অর্জনের উপায ও ধর্ম সাম্যের স’তি গেয়ে আধ্যাত্মিক লৌকিক, পারলৌকিক শানি-র ঠিকানা হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। এ দরবার শরীফে শায়িত আছেন গাউছুল আযম শাহসূফী হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজান্ডারী (কঃ) গাউসুল আযম ইউসুফে ছানী সৈয়দ গোামুর রহমান (কঃ) বাবাভান্ডারী। যুগল গাউছুল আযম সহ অসংখ্য আওলাদে রাসূল (দঃ) এর আউলিয়া স’ান হিসেবেও মহিমান্বিত। বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলিম, খৃষ্টান ও ইহুদী সমপ্রদায়ের জন্য তীর্থ স’ান। কিন’ মাইজভান্ডার দরবার শরীফ জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত। প্রাণের তাগিদে, ত্রাণের তাগিদে তাই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফে।
ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলাদেশ ভূ-খন্ডের বার আউলিয়ার পূণ্য ভুমি চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবার শরীফ ধর্মের বাণী, প্রেমের বাণী ও ধর্ম সাম্যের নীতিতে প্রচারিত মাইজভান্ডারী দর্শনের এ উদার ও অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক বিশ্ববাসীকে বিতরণ করে যাচ্ছে অফুরনত খোদায়ী নিয়ামত। সর্বোপরি, সমন্বয়ধর্মী বক্তব্য বিশ্ববাসীর নিকট যথাযথভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হলে বিশ্ব মানবতার ও সভ্যতার বিকাশের নতুন দিগনেতর দ্বার উম্মোচিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। দীর্ঘকাল ধরে সূফী সাধকদের অসমাপ্রদায়িক উদার মানবতাবাদী নীতি ও শিক্ষা বাঙালী জনজীবনের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিসতার করে আছে, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ তারই অন্যতম দৃষ্টানত। সূফী সাধকদের প্রবাহমান অবদানের ধারায় মাইজভান্ডার দৃষ্টি আকষণীয় ও উল্লেখযোগ্য হারে নতুন মাত্রার সংযোগ ঘটিয়েছে অসমপ্রাদায়িক কর্মকান্ড দ্বারা। তাই এ দরবার শরীফে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের এক মহামিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আমরা মানবজাতির বিশ্বাস ও ইগু সম্পর্কিত ইতিহাস অধ্যয়ন করলে দেখতে পাই বিশ্বাসজনিত সংঘাতই ঐতিহাসিকভাবে এক চরম সংকট। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ক্রম:ধারায় স’ান-কাল, পাত্র ও বর্ণভেদে ভিন্ন ভিন্ন মত পার্থক্যগত বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে বিশ্বের কত লক্ষ-কোটি অধিবাসীকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে? তার হিসাব বের করা কঠিন। এখনো মানুষ মানুষকে হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। বিশ্বাস জনিত নানা দ্বন্দে। রাহমাতুল্লিল আলামীন ইসলামী জিহাদ যুগে প্রতিটি যুদ্ধের সেনাপতিদের পবিত্র কুরলান ছুয়ে শপথ করাতেন যেন নিরীহ মানুষ হত্যা করা না হয়। (২) নারী ও শিশু হত্যা কোন অবস’ায় করা যাবে না। (৩) অসহায ও পঙ্গু ব্যক্তিদের কে হত্যা করা যাবে না। (৪) ধর্মের প্রতি চরম আঘাত না আনা পর্যনত বিধর্মী বা কাফেরদের প্রতি তলোয়ার চালানো যাবে না। (৫) ব্যক্তিগত আক্রোশে কাউকে অন্যায়ভাবে কতল করা যাবে না। (৬) ভূমি ধবংস, শস্যক্ষেত ধবংস বা উদ্ভিদরাজী তথা প্রকাৃতিক পরিবেশকে বিপন্ন করা যাবে না। (৭) খাদ্য ও পানীয় জল নষ্ট করা যাবে না। অথচ সমপ্রতি আমাদের দেশের সীমানত রক্ষীগণ বাতিল ইসলামী গ্রুপের সদস্য জেএমবিদের ন্যায় পৈশাচিক ও শতাব্দীর নির্মম হত্রা কান্ড পরিচালনা করে দেশের মেধাবী,ত চৌকস ও নিবেদিত প্রাণ সেনাবাহিনীর অসংখ্য কর্মকর্তাকে কিবাবে ব্রাশ ফায়ার করতে পারল? তাদের কি একটুও বুক কাপল না? কিসের স্বার্থে সুশৃংখল সেনা কর্মকর্তাদের অমূল্য জীবন ধবংশ করেছিল? নৈতিক মূর‌্যবোধ ও ধর্মের গুঢ় রহস্য সম্পর্কে তারা ওযাকিবহাল আছে কি? যে প্রাণী পিপড়া তৈরি করতে অক্ষম সে কিবাবে আল্লাহর সৃষ্টিকে তছনছ করতে চায়? আল্লাহপাক বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতিকে ইহুদী-নাসারা চক্রের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। আমিন। ধর্মের নামে, বর্ণের নামে, জাতীয়তার নামে সংস্কৃতির নামে বর্বরতাই অনাদিকাল থেকে আমাদের পৃথিবীকে অশানত ও বিপন্ন করেছে। হিংসা ও লোভের বিষাক্ত থাবায় বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি আদম সনতান হত্যার শিকার হয়েছে। তারা জীবন র্দনকে জানবার, বুঝবার কিংবা উপভোগ করার পূর্বেই ঘৃণার তপ্ত আগুনে নিঃশেস করেছে অগণিত প্রাণ। ধর্মগত বিশ্বাসে মানুষের মধ্যে দুই ধরনের সংঘাত রূপ ধারণ করে। যেমন-১. স্ব-স্ব র্ধরে কাঠামোর মধ্যে উপদলীয় কোন্দল ও হানাহানি। ২. নিজ ধর্মের প্রাধান্যতা ও অন্য ধর্মের প্রতি অজ্ঞতা প্রসূত অবজ্ঞা ও বিদ্বেষজনিত হানাহানি। ধর্মীয় পরিমন্ডল থেকে মানুষ নৈতিকতার শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন। অথচ ধর্মীয় পরিমন্ডলেল অনতঃকলহ, পারস্পরিক ধর্মীয় প্রতিযোগিতার দ্বন্দ্ব, ধর্মীয় কৌলিন্যের সংঘাত সমগ্রভাবে মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রানে- দাড় করিয়েছে। ধর্মের এহেন সংঘাতময় পরিসি’তি থেকে উত্তরণের জন্য দরকার একজন খোদায়ী ছিফাতধারী যুগ সংষ্কারক। যিনি রুপে, গুনে ও কর্মকান্ডে অতুলনীয় ও অনুসরনীয় এবং অনুকরণীয় গুনে গুনাণ্বিত হবেন। মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রাণ পুরুষ, রূপকার, দিক-পাল ও সংস্কারক হিসেবে এং ত্রান কর্তৃত্ব ও কর্ম কর্তৃত্ব মত সম্পন্ন বুজর্গদের মধ্যেকার অসমপ্রদায়িক, ধর্ম সাম্য ও মানবতার রক্ষাকবচ নীতি বিশ্ববাসীকে দান করেছে অনুপম শানি- ও মানবিক গুনাবলী বিকাশের খনি। মহানবী (দঃ) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত রাসূল। ইসলাম ধর্ম শানি- ও মানবিক ধর্ম। আমাদের প্রিয়নবীজি কোন একক জাতি, সমপ্রদায় বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। আল্লাহ বারাক তা’য়ালা সমগ্র বিশ্ব মানবতার হেদায়েতের জন্য তাঁকে পঠিয়েছেন, তাইতো তিনি সমগ্র জগতের জন্য রহমত বা আর্শীবাদ স্বরূপ। মানবজাতির জন্য রহমতের এ করুনাধারা তদ্বীয় বংশধর, ছাহাবী ও বেলায়েত প্রাপ্ত প্রতিনিধিগণ কর্তৃক বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের প্রতিটি আনাচে কানাচে পৌছানো হয় প্রিয়নবী (দঃ) এর বিদায় হজ্বের উদাত্ত আহ্বান। নির্দেশ ও সর্তককারী বানী প্রত্যেকের কর্ণ কূহরে হসতানতরের মাধ্যমে। অতঃপর পবিত্র মদিনা মনোয়ারা থেকে দূর দূরানে-, এবং প্রত্যত্ম অঞ্চলের সর্বসাধারনের নিকট সূফী সাধকগন কর্তৃক ইসলামের দাওয়াত প্রেরিত ও প্রচারিত হয়ে আসছে। ইসলামের চিরনতন বাণী, শ্বাশ্বত রূপকে সর্বসাধারণের নিকট অবিকৃতভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে পবিত্র সূফী সাধকেরা নির্মোহ ও নৈব্যিকৃতকভাবে যুগ

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Comments Off on অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক মাইজভান্ডার দরবার শরীফঃ অধ্যাপক শাহ আহমদ নবী।

বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (রহঃ) ওফাত হয়েছেন।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত দরবার-এ গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর সাজ্জাদানশীন আওলাদে রাসুল (দঃ) বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (কঃ) গত ১৭ ই আগষ্ট ২০১১ ওফাত হন। তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় নামাজে জানাজা মাওলানা নুরুল ইসলাম জামালপুরীরে ইমামতীতে ঢাকার মিরপুরে হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহঃ) এর মাজার প্রাংগনে অনুষ্ঠিত হয় । তৃতীয় নামাজে জানাজা মাওলানা জালালুদ্দিন কাদরীর ইমামতীতে চট্রগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ ও ইদগাহ প্রাংগনে অনুষ্ঠিত হয় । চতুর্থ জানাজা বাবা জান কেবলার বড় শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইসীর নেতৃত্বে ও ইমামতীতে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ ফটিকছড়ি চট্রগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে মাদ্রাসা মাঠে তাঁর মাজারে সমাহিত করা হয়।

Posted in বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী | Comments Off on বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (রহঃ) ওফাত হয়েছেন।

ইলমে হাদীসের মহান সম্রাট ইমাম বোখারী (রাঃ) —-দর্পণ ডেস্ক

ইলমে হাদীসের মহান সম্রাট ইমাম বোখারী (রাঃ)—-দর্পণ ডেস্ক

কোরআন- হাদীসের নীতি ও আদশকে শধু মুখের বুলিতে আবদ্ধ না রেখে তিনি সমাজের সর্বস্তরে কোরআন হাদীসের বাস্তব এবং প্রত্যক্ষ ষ্শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কোরআন শরীফে আল্লাহপাক এরশাদ করেছেনঃ
হে মানবকজাতি ! স্বীয় প্রতিপালকের ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই থেকে তার জোড়া (সঙ্গিনী) সৃষ্টি করেছেন; আর এ দুজন থেকে বহু নর- নারী বিস্তার করেছেন। (সূরা নিসা, আয়াত নং-১)
উপরোক্ত আয়াতের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করলে একজন মুসলমান কখনো অধার্মিক ও মানবতাবিরোধী কোন কাজ করতে পারে না। কেননা মূলতঃ পৃথিবীরন সকল মানষুই আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) থেকে উদ্ভুত । ১৮ বছর বয়সে কাযাইয়া সাহাবা ওয়াত তাবেয়ীন নামক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি হিজাজে ৬(ছয়) বছর জ্ঞান সাধনায় কাটিয়ে স্বদেশ ফিরে আসেন। ইমাম বোখারী নিজেই বর্ণনা করেন যে, তখন ইমাম আবু হানিফা (রাঃ) এর শিষ্য আবদুল্লাহ ইবনুল মোবারক ওকী এর সমস্ত কিতাব সমূহ আমার মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল। অতঃ পর তারিখে কবীর” নামক গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। বুস্তানুল মোহাদ্দিস নমক গ্রন্থে ঘটনাটি বর্ণনা হয়েছে।
ইমাম বোখারী (রাঃ) অসাধারন স্মৃতির অধিকারী ছিলেন । তিনি নিজেই বলেছেন যে, তার এক লাখ সহীহ বিশুদ্ধ এবং দু লাখ গায়রে সহীহ হাদীস মুখস্ত ছিল। তাঁর এ অস্বভাবিক ও বিস্ময়কর স্মৃতি শক্তির খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন শহরের মুহাদ্দীসগন তাঁর স্মৃতি শাক্তির পরীক্ষা করে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেছেন। সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন যে, হাদীস শাস্ত্রে তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। ইমাম বোখরী (রাঃ) এর সহস্রাধিক ওস্তাদ ছিল। তাঁর প্রসিদ্ধ ওস্তাদের নাম নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ
(১) মক্কী ইবনে ইব্রাহীম (রাঃ)। (২) ইব্রাহীম ইবনে মুনয়ের (রাঃ)
(৩) মুহাম্মদ ইবনে মক্কী ইউসুফ (রাঃ) (৪) ইমাম হুমাইদী (রাঃ)
(৫) আবাদ ইবনে আবি আয়াস (রাঃ) (৬) আহমদ ইবনে হাম্বাল (রাঃ)
(৭) আলী ইবনে মাদানী সালাম (রাঃ) (৮) আলী ইবনে মাদানী (রাঃ)
(৯) ইসহাক ইবনে রাহওয়াই (রাঃ) (১০) আবদুল্লাহ ইবনে মুসা (রাঃ)
(১১) আবদুল্লাহ ইবনে সালেহ (রাঃ)

তাঁর ছাত্রবৃন্দ ইমাম বোখারী (রাঃ) থেকে বুখারী শ্রবণকারীর সংখ্যা ৯০ হাজারেরও অধিক বলে বর্ণনা করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েক জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
(১) আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ (রাঃ) (২) আবু ঈসা ইমাম, তিরমিযী (রাঃ) (৩) আবু আব্দুর রহমান নাসাঈ (রাঃ) (৪) আবু হাতেম (রাঃ) (৫) আবু জোয়রা (রাঃ)।

উল্লেখ্য যে, ইমাম বোখারী (রাঃ) যাদের নিকট হতে হাদীস সংগ্রহ করেছেন তাদের সঠিক সংখ্যার নির্ণয় অনেকাংশেই অসম্ভব। তবে ইমাম জাফর ইবনে মোহাম্মদ (রাঃ) বর্ণনায় তাদের সংখ্যা এক হাজারের অধিক।
বোখারী শরীফ রচনায় ইমামের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও শিষ্ঠাচারিতাঃ
এ পর্যন্ত যত হাদীস গ্রন্থ রচিত হয়েছে সব গ্রন্থের প্রতিপাদ্য বিষয় হাদীসে রসূল(দঃ)। সে দৃষ্টিকোণ থেকে সকল কিতাবকে আল্লাহর কিতাব বলা হয় । গ্রন্থকার স্বরচিত কিতাবকে বলা হয় রাসূলের কিতাব আর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহিস সালাম বোখারী কিতাবকে আমার কিতাব বলা হয় এক কথা নয়। গ্রন্থকারের দাবী অনুযায়ী আল্লাহর রাসূলের অনেক কিতাব থাকতে পারে। কিন্ত রাসূলের দাবীকৃত তাঁর কিতাব একমাত্র আল-জামিউস সহীহিল বোখারী। বোখারী শরীফ সম্পর্কে আল্লাহর হাবীবের এই স্মরণীয় অভিব্যক্তি শুধু হাদিসের কিতাব কিংবা এর রচনা শৈলীর কারণে নয়। বরং আল্লাহর রাসূলের প্রতি ইমাম বোখারীর অতুলনীয় ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালবাসা যার কারণে তিনি বোখারী শরীফ গ্রন্থগার ক্ষেত্রে সর্বেচ্চে সতর্কতা শিষ্ঠাচারিতা ও শালীনতা রক্ষায় এক মুহুর্তের জন্যও উদাসীন ছিলেন না। তিনি দীর্ঘ ষোল বৎসর অক্লান্ত পরিশ্রম করে মক্কাতুল মোক্কারমা, বসরা ও বোখারায় অবস্থান করে ছয় লক্ষ হাদীসের উপর গবেষণা চালিয়ে কয়েক হাজার হাদীসকে নিয়ে বোখারী শরীফের প্রথম খসড়া কপি তৈরী করেন। অতঃপর আরো গভীর অনুসন্ধান ও যাচাই করে হাদিসের সনদ ও মত সম্পর্কে প্রাথমিকভারে নিশ্চিত হয়ে ২য় পান্ডুলিপি তৈরি করেন মসজিদুল হারামে বসে। ৩য় ও শেষ বার মূল কপি তৈরির জন্য ইমাম মদিনাতুর রাসূলে উপস্থিত হয়ে রাওজায়ে আকদাসের পাশে বসে প্রতিটি হাদীসে আল্লাহর রাসূলের নিকট দরূদ পাঠ করতেন। যে হাদীসের ব্যাপারে সরাসরি অথবা স্বপ্নযোগে হাদিসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে রাসূল (দঃ) সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করতেন সে হাদীসটি মূল সংকলন লিপিবদ্ধ করার পূর্বে গোসল করতেন। অতঃপর দুই রাকআত নফল নামাজ আদায় করতেন তারপর হাদীসটি লিখতেন। কোন কোন বর্ণনাকারীর মতে মসজিদুল হারামে অবস্থান করে মূল কপিতে হাদীস লিপিবদ্ধ করার পুর্বে জমজমের পানি দিয়ে গোসল করতনে। অতঃপর হেরেম শরীফে দুই রাকআত সালাতুল ইস্তিখারা আদায় করে হাদীস খানা লিখতেন। এভাবে বোখারীর মূল কপি মক্কা শরীফে তৈরী করে মদীনায়ে মনোয়ারায় রাওযায়ে আকদাসে বসে তারাজমি আবওয়াব লিখেছেন। এই বর্ণনা মতে বুঝা যায় যে, বুখারী শরীফের মূল সংকলন তৈরীর পূর্বে একটি মাত্র খসড়া তৈরী করা হয়েছিল। কিন্ত ইমাম বোখারী রাহমাতুল্লাহি তা’আলা আলায়হি এর অন্যতম ছাত্র মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতেম আল ওয়াররাক বর্ণনা করেন আমি ওস্তাদজী (ইমাম বোখারী) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আল জামিউস সহীতে যে হাদীসগুলো আপনি লিপিবদ্ধ করেছেন সব হাদীস কি আপনার স্মরণে আছে? এর উত্তরে ইমাম বলেছেন; আল জামিউস সহীর কোস হাদীস আমার অজানা নয় কারণ এই হাদীসগুলোকে আমি তিনবার লিখেছি। এ দ্বারা বুঝা যায় ইমাম বোখারী রাহমাতুল্লাহি তা’আলা আলায়হি বোখারী মূল কপি তৈরীর প্রর্ব দুটি খসড়া কপি তৈরী করার মতটি াধিকতর নির্ভরযোগ্য বলে গবেষণা মনে করেন। বোখারী শরীফের কপিগুলোত কোন কোন ক্ষেত্রে (অধ্যায় লিখে শিরোনাম না লেখা এবং শিরোনাম লিখেও কোন হাদীস উল্লেখ করার মত) গরমিল হয়তো এ কারণেই হয়ে থাকতে পারে।
[ হাদিয়ূস সারী, আশিয়াপতুল লোমআত, তাযকিরাতুল মোহাদ্দেসীন]
বোখারী শরীফের মূল পরিচয় এই কিতাক রাসূলুল্লা (দঃ) । এ পর্যায়ে আল্লাহর মহান অলী হযরত আবু যাঈ মরুযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এর স্বপ্নটি বিশেস তাৎপর্যপূর্ণ। হযরত আবু সাহাল মুহাম্মদ ইবনে আহমদ মরুযী হতে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত তিনি বলেন- হযরত আবু সাঈদ মরুযীকে বলতে শনেছি যে আমি ক্বাবা শরীফের হজরে আসওয়াদ ও মোকামে ইব্রাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে ঘুমাচ্ছিাম। এমতাবস্থায় স্বপ্নে হুজুরের (দঃ) দিদার নসিব হলো। হুজুর বললেন আবু যাইদ (ইমাম) শাফীর কিতাব আর কত পড়তে থাকবে? আমার কিতাব পড় না কেন? আমি সবিনয়ে জানতে চাইলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ (দঃ) আপনার কিতাব কোনটি? তখন হুজুর এরশাদ করলেন আমার কিতাব জামি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল তথা বোখারী শরীফ। (তাযাকিরাতুল মোহাদ্দেসীন) হযরত ইব্রাহিম ও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম এর ইশকে এলাহী নিদর্শন ক্বাবা শরীফকে আল্লাহ পাক বাইতিয়” আমার ঘর বলার কারণে এই ঘরে মানুষের সম্মিলন কেন্দ্র ও শান্তির আলো হিসেবে বিশ্বাসীর লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়। তদ্রুপ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহীমের ইশকে রসূলের নিদর্শন বোখারী শরীফকে হুযুর ছাল্লাল্লাহ তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কিতাব উল্লেখ করায় এই কিতাব স্বতন্ত্র মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়ে জনপ্রিয়তার উচ্চ শিখরে পৌঁছে যায়। যাবতীয় বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতম স্থানের অধিকারী কোরআনুল করিমের পরে এই হাদীস গ্রন্থের স্থান।
ইলমে হাদীসের এই মহান সম্রাট ইমাম বোখারী (রাঃ) ২৫৬ হিজরী শনিবার ঈদুল ফিতরের রাত্রে এশার নামাজের সময় ইহলোক ত্যাগ করেন।
পরিশেষে মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট দোয়া পেশ করছি যেন ইমাম বোখারীর (রাঃ) সুনজর প্রদ্যেক মুসলমানকে দান করেন। আমিন

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Comments Off on ইলমে হাদীসের মহান সম্রাট ইমাম বোখারী (রাঃ) —-দর্পণ ডেস্ক

গাউছুল আযম হযরত মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কুঃ ছিঃ আঃ) মানবতার মুক্তির বার্তাবাহী আধ্যাত্মিক সম্রাট— শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী

গাউছুল আযম হযরত মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কুঃ ছিঃ আঃ) মানবতার মুক্তির বার্তাবাহী আধ্যাত্মিক সম্রাট— শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী
মানবতার মুক্তি ও কল্যাণের নিমিত্তিই সকল ধর্মের আবির্ভাব হয়েছে। মানবতার বিকাশ ও সকল মানুষের মুক্তির দিশারী রূপে পৃথিবীতে যুগে যুগে অসংখ্য নবী রাসূল, অলী আওলিয়া ও সাধকগণ আবির্ভূত হয়েছিল। পৃথিবীতে পাশাপাশি সষ্টি হয়েছে অসংখ্য ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ধর্মীয় চিন্তাবীদ ,আলেম উলামা ও মুফতি, জ্ঞানী- গুণী । সবার দ্বারা যে মানবকল্যাণ সাধিত হয়েছে তা জোর দিয়ে বলা যায় না। জ্ঞান, বিবেক বুদ্ধিকে মানুষের কাজে না লাগালে তা অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়। ইসলাম ধর্মের এরূপ কিছু লোক ছিল এবং হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে যারা কিছু ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও নিয়ম-কানুন মেনে চলাকেই ধর্ম বলে মনে করে। মানবতার বিকাশ, এর লালন ও উৎকর্ষতার সাধনে অনেকেই কাঙ্খিত ভূমিকা রাখতে অক্ষম বলেই অনুমতি হয়। ফলে ইসলামকে দুনিয়ার সামনে এক নিষ্ঠুর ধর্ম হিসেবে প্রকাশ করার অপচেষ্টা চলছে অথচ ইসলাম শান্তি, কল্যাণ, সৌহার্দ্য ও সমপ্রীতির ধর্ম। সলম’ ধাতু থেকে ইসলাম শব্দের উৎপত্তি। সলম’ অর্থই শান্তি। হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইনতেকালের পর যুগে যুগে যে সকল মুসলিম মনীষী, চিন্তাবীদ, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও অলী -আল্লাহগণ পৃথিবীতে শান্তি কল্যাণ ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করেছন তারাই প্রকৃত মহামানব ও ধর্মের প্রকৃত ধারক ও বাহক। ইসলামসহ সকল ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও গোষ্ঠীর তথা বিশ্ব মানবতার কল্যাণ ও মুক্তির দিশারী হিসেবে ঊনবিংশ শতাব্দীতে মাইজভান্ডার শরীফে আবির্ভূত হয়েছিলেন মানবতার মূর্ত প্রতীক মহান সাধক, গাউসুল আযম হযরত মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কুঃ ছিঃ আঃ) । তিনি তাঁর পবিত্র আওলাদ, সম্মানিত খলিফাবৃন্দ ও হাজার হাজার ভক্ত, মুরীদ ও অনুরক্তের মধ্যেও সুমহান আদর্শ মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ধর্মের নামে সকল সংকীর্ণতা, নিষ্ঠুরতা, র্ববরতা, পৈশাচিকতা, হীনমন্যতা ও অমানবতার মূলে কুঠারাঘাত হেনে ধর্মের আসল ভিত প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। পৃথিবীতে বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে খাজা গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা বাবা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী সঞ্জরী-আজমেরীর (রহঃ) পরপরই যাঁর দরবারের জাতি,ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নির্বিশেষে সকল মানুস অবারিতভাবে ঠাঁই নিয়েছেন তিনি হচ্ছেন যুগশ্রেষ্ঠ মহাসাধক, মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কুঃ ছিঃ আঃ) ।

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged | Comments Off on গাউছুল আযম হযরত মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কুঃ ছিঃ আঃ) মানবতার মুক্তির বার্তাবাহী আধ্যাত্মিক সম্রাট— শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী

গাউসুল আজম বাবা ভাণ্ডারী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ

গাউসুল আজম বাবা ভাণ্ডারী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ

Posted in Uncategorized, ছবি গ্যালারী | Tagged | Comments Off on গাউসুল আজম বাবা ভাণ্ডারী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ

অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক মাইজভান্ডার দরবার শরীফঃ অধ্যাপক শাহ আহমদ নবী।

অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক মাইজভান্ডার দরবার শরীফঃ অধ্যাপক শাহ আহমদ নবী।

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ জাল্লাশানুহুর প্রতি এবং লাখো-কোটি দরুদ ও সালাম পেশ করছি পরাক্রমশালী ও দয়ালু আল্লাহর মহা সৃষ্টি আম্বিয়াকূল শিরোমণি ও রাহমাতুল্লিল আলামীণ হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর নূরানী দরবারে। আমার ভক্তিপূর্ণ ও অবনত মসতকে কদমবুসি জানাচ্ছি গাউছুল আযম শাহছুফী সৈয়দ মাওলানা আহমদ উল্লাহ (কঃ) মাইজভান্ডারী ও গাউছুল আযম ইউসুফে ছানী সৈয়দ মাওলানা গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কঃ) এর কদম কোবারকে। যাতে গাউছে ধনের “মাইজভান্ডার দরবার শরীফ” সম্পর্কে অধম দোয়া প্রার্থীকে উপযুক্ত জ্ঞান দান করেন। এ দরবার শরীফ উপমহাদেশের প্রধান আধ্যাত্মিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র এবং এটি কেবল একটি ত্বরীকা বা দর্শন, একটি পারলৌকিক সাধনা কিংবা একটি চেতনার নাম নয় বরং একটি মানবতাবাদী, অসামপ্রদায়িক এবং বিচার সাম্য মূলক সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রাম। অসামপ্রদায়িক ঐক্য এবং ইহ ও পারলৌকিক সাধনার মূর্ত প্রতীক। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ’ এর স’গিত ও প্রাণ পুরুষ ত্বরীকার প্রবর্তক গাউছুল আযম শাহচুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) ও ভ্রাতুস্পুত্র গাউছুল আযম ইউসুফে সানী সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কঃ) মাইজভান্ডারী দর্শনের পরিপূর্ণ রূপকার হিসেবে এ দরবার প্রতিষ্ঠা করেছেন। সবধরনের গোড়ামী ও মানবতা বিরোধী অশুভ শক্তির বিরুদ্দে একটি সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক বিপ্লব। ভৌগোলিক অবস’ানগত, ভাষাগত ও জাতীয়তার নিরিখে মাইজভান্ডার দরবার শরীফের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে। বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইমামূল আম্বিয়া নূরে মোজাচ্ছম রসূলে করীম (দঃ) এর প্রচারিত শানি-র ধর্ম ইসলামের বাণীকে বিশ্ব মানবতার শানি-র জন্য বিবর্তনিক ধারায় তদ্বীয় খলিফা খোলাফায়ে মাইজভান্ডারী আওলাদে রাসূল (দঃ) বা তদ্বীয় উত্তরাধিকারীগণের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রিয়নবী (দঃ) এর বেলায়াত শক্তি বিতরণের মাধ্যমে ত্রাণ কর্তৃত্ব ও কর্ম কর্তৃত্ব (গাউছিয়ত ও কুতুবিয়ত) জারি রেখেছেন। সুক্ষ্মতর ও চূড়ান- বিশ্লেষণে কেবল মানুষ নয়, মহান আল্লাহর সৃষ্টি সকল জীবই বিচার সাম্যের প্রত্যাশী। মাইজভান্ডারী জীবন দর্শনের এ চেতনা একদিকে যেমন মানবতাবাদী মানুষকে করেছে তুমূল আলোড়িত, অন্যদিকে তেমনি মাইজভান্ডারী সঙ্গীতের সূর বিশ্ব সংগীত জগতকে করেছে প্রভাবিত। এ মাইজভান্ডারী দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে শাশ্বত মরমী বাংলার লোক সংস্কৃতির অবয়বে নূতন রঙে নতুন ঢঙে, নতুন সুরে ও রুপে আবির্ভূত রয়েছে বিশ্বের লৌক সংস্কৃতির সুবিশাল চত্বর। মাইজভান্ডার দর্শনে ধর্ম সাম্যের যে বক্তব্য, তার বাসতব প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয় মাইজভান্ডারী ত্বরীকার প্রবর্তক শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ)’র কর্ম কান্ডের ভেতরে। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠি নির্বিশেষে স্ব-স্ব ধর্মে থেকে কাজ করার ও আল্লাহকে স্মরণ করার পরামর্শ দিতেন। সমপ্রদায়গত ভেদ বুদ্দির উর্দ্বে তার কর্মকান্ড সকল সমপ্রদায়ের মানুষকে দারুনভাবে প্রভাবিত করে। এ কারনে দেখা যায় ধীরে ধীরে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ পরিণত হয়ে উঠে সকল ধর্মের মানুষের এক অপূর্ব মিলন কেন্দ্র রুপে। তাছাড়া হযরত কেবলা কাবার খলীফা নির্বাচনের প্রতিফলন সুস্পষ্ট । যেমন-হিন্দু মনমোহন দত্ত, কালাচান সাধ, কবিয়াল রমেশ শীল, বৌদ্ধ ধনঞ্জয় বড়-য়া, খ্রিষ্টান মাইকেল পেনারু প্রমুখকে আধ্যাত্ম অনুক’ল্য প্রাপ্ত সিদ্ধ পুরুষ হিসেবে পরিচিতি দান স’ান ও কালের বিচারে রীতিমত যুগানতকারী ঘটনা মাইজভান্ডারী দর্শনের সমন্বয় ধর্মী, বিশ্বমানবতার মিলন মন্ত্রের যে বীজ রোপন করেছিলেন হযরত গাউছুল আযম মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্‌ মাইজভান্ডারী (কঃ) তার তিরোধানের পর তারই ভ্রাতুস্পুত্র ও নয়নমনি ইউসুফে ছানী হযরত গাউছুল আযম সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কঃ) ফলে ফলে সুশোভিত করে বিশ্বব্যাপী পরিপূর্ণ বিকাশের ব্যবস’া করে যথাযথ রূপদান করেছেন। বিগত শতাধিক বছর ধরে এ দরবার শরীফ পাপী-তাপী, শোষিত, নির্যাতিত, মোহান্ধ, অবহেলিত, রোগাক্রানত, দিশেহারা ও পথহারা নীতিহারা এবং অভাবগ্রস’, দীনহীন মানবতার আশ্রয় স’ল, পদপ্রদর্শক, আল্লাহপাকের সন’ষ্টি অর্জনের উপায ও ধর্ম সাম্যের স’তি গেয়ে আধ্যাত্মিক লৌকিক, পারলৌকিক শানি-র ঠিকানা হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। এ দরবার শরীফে শায়িত আছেন গাউছুল আযম শাহসূফী হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজান্ডারী (কঃ) গাউসুল আযম ইউসুফে ছানী সৈয়দ গোামুর রহমান (কঃ) বাবাভান্ডারী। যুগল গাউছুল আযম সহ অসংখ্য আওলাদে রাসূল (দঃ) এর আউলিয়া স’ান হিসেবেও মহিমান্বিত। বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলিম, খৃষ্টান ও ইহুদী সমপ্রদায়ের জন্য তীর্থ স’ান। কিন’ মাইজভান্ডার দরবার শরীফ জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত। প্রাণের তাগিদে, ত্রাণের তাগিদে তাই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফে।
ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলাদেশ ভূ-খন্ডের বার আউলিয়ার পূণ্য ভুমি চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবার শরীফ ধর্মের বাণী, প্রেমের বাণী ও ধর্ম সাম্যের নীতিতে প্রচারিত মাইজভান্ডারী দর্শনের এ উদার ও অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক বিশ্ববাসীকে বিতরণ করে যাচ্ছে অফুরনত খোদায়ী নিয়ামত। সর্বোপরি, সমন্বয়ধর্মী বক্তব্য বিশ্ববাসীর নিকট যথাযথভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হলে বিশ্ব মানবতার ও সভ্যতার বিকাশের নতুন দিগনেতর দ্বার উম্মোচিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। দীর্ঘকাল ধরে সূফী সাধকদের অসমাপ্রদায়িক উদার মানবতাবাদী নীতি ও শিক্ষা বাঙালী জনজীবনের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিসতার করে আছে, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ তারই অন্যতম দৃষ্টানত। সূফী সাধকদের প্রবাহমান অবদানের ধারায় মাইজভান্ডার দৃষ্টি আকষণীয় ও উল্লেখযোগ্য হারে নতুন মাত্রার সংযোগ ঘটিয়েছে অসমপ্রাদায়িক কর্মকান্ড দ্বারা। তাই এ দরবার শরীফে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের এক মহামিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আমরা মানবজাতির বিশ্বাস ও ইগু সম্পর্কিত ইতিহাস অধ্যয়ন করলে দেখতে পাই বিশ্বাসজনিত সংঘাতই ঐতিহাসিকভাবে এক চরম সংকট। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ক্রম:ধারায় স’ান-কাল, পাত্র ও বর্ণভেদে ভিন্ন ভিন্ন মত পার্থক্যগত বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে বিশ্বের কত লক্ষ-কোটি অধিবাসীকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে? তার হিসাব বের করা কঠিন। এখনো মানুষ মানুষকে হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। বিশ্বাস জনিত নানা দ্বন্দে। রাহমাতুল্লিল আলামীন ইসলামী জিহাদ যুগে প্রতিটি যুদ্ধের সেনাপতিদের পবিত্র কুরলান ছুয়ে শপথ করাতেন যেন নিরীহ মানুষ হত্যা করা না হয়। (২) নারী ও শিশু হত্যা কোন অবস’ায় করা যাবে না। (৩) অসহায ও পঙ্গু ব্যক্তিদের কে হত্যা করা যাবে না। (৪) ধর্মের প্রতি চরম আঘাত না আনা পর্যনত বিধর্মী বা কাফেরদের প্রতি তলোয়ার চালানো যাবে না। (৫) ব্যক্তিগত আক্রোশে কাউকে অন্যায়ভাবে কতল করা যাবে না। (৬) ভূমি ধবংস, শস্যক্ষেত ধবংস বা উদ্ভিদরাজী তথা প্রকাৃতিক পরিবেশকে বিপন্ন করা যাবে না। (৭) খাদ্য ও পানীয় জল নষ্ট করা যাবে না। অথচ সমপ্রতি আমাদের দেশের সীমানত রক্ষীগণ বাতিল ইসলামী গ্রুপের সদস্য জেএমবিদের ন্যায় পৈশাচিক ও শতাব্দীর নির্মম হত্রা কান্ড পরিচালনা করে দেশের মেধাবী,ত চৌকস ও নিবেদিত প্রাণ সেনাবাহিনীর অসংখ্য কর্মকর্তাকে কিবাবে ব্রাশ ফায়ার করতে পারল? তাদের কি একটুও বুক কাপল না? কিসের স্বার্থে সুশৃংখল সেনা কর্মকর্তাদের অমূল্য জীবন ধবংশ করেছিল? নৈতিক মূর‌্যবোধ ও ধর্মের গুঢ় রহস্য সম্পর্কে তারা ওযাকিবহাল আছে কি? যে প্রাণী পিপড়া তৈরি করতে অক্ষম সে কিবাবে আল্লাহর সৃষ্টিকে তছনছ করতে চায়? আল্লাহপাক বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতিকে ইহুদী-নাসারা চক্রের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। আমিন। ধর্মের নামে, বর্ণের নামে, জাতীয়তার নামে সংস্কৃতির নামে বর্বরতাই অনাদিকাল থেকে আমাদের পৃথিবীকে অশানত ও বিপন্ন করেছে। হিংসা ও লোভের বিষাক্ত থাবায় বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি আদম সনতান হত্যার শিকার হয়েছে। তারা জীবন র্দনকে জানবার, বুঝবার কিংবা উপভোগ করার পূর্বেই ঘৃণার তপ্ত আগুনে নিঃশেস করেছে অগণিত প্রাণ। ধর্মগত বিশ্বাসে মানুষের মধ্যে দুই ধরনের সংঘাত রূপ ধারণ করে। যেমন-১. স্ব-স্ব র্ধরে কাঠামোর মধ্যে উপদলীয় কোন্দল ও হানাহানি। ২. নিজ ধর্মের প্রাধান্যতা ও অন্য ধর্মের প্রতি অজ্ঞতা প্রসূত অবজ্ঞা ও বিদ্বেষজনিত হানাহানি। ধর্মীয় পরিমন্ডল থেকে মানুষ নৈতিকতার শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন। অথচ ধর্মীয় পরিমন্ডলেল অনতঃকলহ, পারস্পরিক ধর্মীয় প্রতিযোগিতার দ্বন্দ্ব, ধর্মীয় কৌলিন্যের সংঘাত সমগ্রভাবে মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রানে- দাড় করিয়েছে। ধর্মের এহেন সংঘাতময় পরিসি’তি থেকে উত্তরণের জন্য দরকার একজন খোদায়ী ছিফাতধারী যুগ সংষ্কারক। যিনি রুপে, গুনে ও কর্মকান্ডে অতুলনীয় ও অনুসরনীয় এবং অনুকরণীয় গুনে গুনাণ্বিত হবেন। মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রাণ পুরুষ, রূপকার, দিক-পাল ও সংস্কারক হিসেবে এং ত্রান কর্তৃত্ব ও কর্ম কর্তৃত্ব মত সম্পন্ন বুজর্গদের মধ্যেকার অসমপ্রদায়িক, ধর্ম সাম্য ও মানবতার রক্ষাকবচ নীতি বিশ্ববাসীকে দান করেছে অনুপম শানি- ও মানবিক গুনাবলী বিকাশের খনি। মহানবী (দঃ) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত রাসূল। ইসলাম ধর্ম শানি- ও মানবিক ধর্ম। আমাদের প্রিয়নবীজি কোন একক জাতি, সমপ্রদায় বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। আল্লাহ বারাক তা’য়ালা সমগ্র বিশ্ব মানবতার হেদায়েতের জন্য তাঁকে পঠিয়েছেন, তাইতো তিনি সমগ্র জগতের জন্য রহমত বা আর্শীবাদ স্বরূপ। মানবজাতির জন্য রহমতের এ করুনাধারা তদ্বীয় বংশধর, ছাহাবী ও বেলায়েত প্রাপ্ত প্রতিনিধিগণ কর্তৃক বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের প্রতিটি আনাচে কানাচে পৌছানো হয় প্রিয়নবী (দঃ) এর বিদায় হজ্বের উদাত্ত আহ্বান। নির্দেশ ও সর্তককারী বানী প্রত্যেকের কর্ণ কূহরে হসতানতরের মাধ্যমে। অতঃপর পবিত্র মদিনা মনোয়ারা থেকে দূর দূরানে-, এবং প্রত্যত্ম অঞ্চলের সর্বসাধারনের নিকট সূফী সাধকগন কর্তৃক ইসলামের দাওয়াত প্রেরিত ও প্রচারিত হয়ে আসছে। ইসলামের চিরনতন বাণী, শ্বাশ্বত রূপকে সর্বসাধারণের নিকট অবিকৃতভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে পবিত্র সূফী সাধকেরা নির্মোহ ও নৈব্যিকৃতকভাবে যুগ যুগ ধরে ঐতিহাসিক গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা পরিবর্তিত পরিসি’তির প্রেক্ষাপটের সাথে সাথে সামঞ্জস্য রেখে স’ান, কাল ও পাত্র ভেদে প্রয়োজনে নতুন আঙ্গিকে, নতুন সূরে ধর্মের সার্বজনীন বানীকে জনসম্মুখে তুলে ধরেন নিরলস ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে এবং রুহানী শক্তি দিয়ে। সূফীগনের গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের সুমহান ধারায় মক্কা-মদিনার পবিত্র ভূমি থেকে মধ্য প্রাচ্য হয়ে গাউছুল আযম শায়খ সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল কাদের জিলানী আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী (রাঃ) থেকে ভারত বর্ষে সূফীদের ধারা এসে স’ানীয় প্রেক্ষাপট নতুন আঙ্গিকে, উপস’াপনার কায়েদার, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। আজমীর শরীফে হিন্দেল আলী আতায়ে রাসূল গরীবে নেওয়াজ খাজা মইনুদ্দীণ চিশ্‌তী (রঃ) এ ধারায় বাংলাদেশে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রঃ), হযরত শাহ পরান (রঃ) চট্টগ্রামে বার আউলিয়াসহ অসংখ্য সূফী সাধকের আগমন ঘটে। কয়েক শতাব্দী ধরে চট্টগ্রামের মাটিতে এ সমসত সূফী সাধকদের উপসি’তি, সাধনা, ওফাতের পর তাদের মাজার শরীফকে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিক সাধনায় নতুন যাত্রা যোগ হয়ে চট্টগ্রামের লোক সাহিত্যের ঐতিহ্রের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মাহত্ন শরাফত সূফীবাদের ইতিহাসে যুগানতকারী ও এক বিপ্লবী রূপানত্মরের সূচনা করে। যেমন যেমন ধর্মগত বা জাতিগত বিভাজন নয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিমেষে সকল মানুষকে এক সৃষ্টি কর্তার বিশ্বাসী সকল আদম সন-ানকে একই পতাকাতলে সমবেত করার বক্তব্য নিয়েই শুরু করে মাইজভান্ডারীয়া ত্বরীকা ও দর্শন। এ দর্শণ ও ত্বরীকার প্রবর্তক গাউছুল আজম শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) এর নিকট প্রথম জীবনে বিভিন্ন ধর্মাবলীর লোকজনের আগমন ঘটলে, ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হবার ইচ্ছা পোষণ করলে তিনি বলতেন স্ব-স্ব র্ধমে থাকুন নিজ নিজ ধর্মে থেকে সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করুন। ধনঞ্জয় বড়-য়া নামক একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভক্ত জাহেরী জবানীতে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে চাইলে হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) বলেছিলেন “তুমি তোমার ধর্মে থাক! আমি তোমাকে মুসলমান বানালাম।” সচরাচর আমরা যা দেখি তা হল একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ধর্মীয়, নৈতিক ও মানসিক প্রশানি-ও অন্বেষণে মন্দিরে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বৌদ্ধ মন্দিরে, খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী গীর্জায় ও মুসলিম ধর্মাবলম্বী কেবল মসজিদে গমন করে পবিত্রতা অর্জন করার লক্ষ্যে। পক্ষান-রে বল প্রয়োগ করেও একজন মুসলমানকে গীর্জায় বা মন্দিরে, বৌদ্ধ ভিক্ষুককে মসজিদে কিংবা হিন্দু ব্রাহ্মণ বা ধর্মগুরুকে অন্য ধর্মের উপসনালয়ে গমনে বাধ্য করা যায় না বরং তা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভবও না। অথচ মাইজভান্ডার দরবার শরীফে অবাধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান বা উপজাতি গোষ্ঠী মহাতীর্থস’ান রুপে গণ্য করে স্ব স্ব ধর্মের স্বকীয়তা বজায রেখে মহান গাউছুল আজমের দরবারে সর্বপ্রকার উদ্দেশ্যে হাছিলের জন্য হাজিরা দিয়ে আসছেন শতাধিক বছর ধরে। কথিত আছে একদা ফটিকছড়ির শুয়াবিল এলাকার এক চাষা তার পেপে বাবাজান কেবলার জন্য নিয়ে যাবেন। কথামত বসনে-র এক দুপুর চাষা ২/৩টি বড় আকারের পেপে ঝুড়িতে করে বাবাজান কেবলার দরবারে আনার পথে গুরুদাস নামক বাবাজানের ভক্ত (এক হিন্দু সন্নাসী) ঐ চাাষার ঝুড়িতে থাকা পেপের একটি তাকে দিতে ধমক দেন। তারপর বাবাজানের দরবারে পেপে নিয়ে চাষাকে হাজির দেখে মুচকি হেসে বাবাজান চাষাকে বললেন-তুমি আমার গুরুদাস পাগলকে একটি পেপে দিয়ে আসতে পারতে। সেতো দুটো পেপের ফলই খেয়ে ফেলেছে। তুমি পেপে কেটে দেখ ভেতরের শাস সে খেয়ে ফেলেছে। যথারীতি পেপে কাটারপর দেখা গেল চামড়া বাইরে অবিকল আছে অথচ ভেতরের পাকা অংশ নেই। ঐ ঘটনার পর গুরুদাস পাগলা, গুরুদাস ফীকর নামে পরিচিতি লাভ করেন। সুক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় মাইজভান্ডার দরবার শরীফ অসামপ্রদায়িক ঐক্যের এক মূর্ত প্রতীক হিসেবে ধর্ম সাম্যের বক্তব্য নিয়ে আধ্যাত্মিক পরিমন্ডলে মানবতার জয়গান এ মুখরিত হিন্দু, মুসলিম বৌদ্ধ, খৃষ্টান সকল জাতির জন্য এক অপূর্ব মিলন কেন্দ্র। বিগত শতাধিক বছর ধরে এ দরবার শরীফ রীতিমতো এক সমন্বয় ধর্মী ঐতিহ্যের সৃষ্টি করেছে। এ দরবারের দুই মহান আধ্যাত্মিক পুরুষের শানে বা মাহাত্মে বর্ণনায় রচিত কয়েক সহস্র মাইজভান্ডারী গানের শিল্পী ও গীতিকারগন নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যেই সমপ্রদায়িক সমপ্রীতি ও শানি-পূর্ণ সহাবস’ানের মাধ্যমে সঙ্গীত সাধনা করেছেন। তাদের মধ্যে মাওলানা আবদুল গণি কাঞ্চনপুরী, মাওলানা আবদুল হাদী, করিম বক্স, কবিয়াল রমেশ শীল, মনমোহন দত্তের নাম উল্লেখযোগ্য। আল্লাহ জাল্লাশানুহু সুরা আনামের ১৬২ নং আয়াতে কারিমায় ঘোষনা দিয়েছেন “বল নিশ্চয় আমার প্রার্থনা, আমার উৎসর্গ ও আমার যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।পবিত্র কুরআন এর অন্যত্র বলা হয়েছে-“যারা বিশ্বাস করে, যারা ইহুদী এবং খৃষ্টান ও সাবিঈন, যারাই আল্লাহ ও শেষ দিবসে (কেয়ামত) বিশ্বাস করে ও সৎ কাজ করে তাদের জন্য পুরস্কার, তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে। তাদের কোন ভয় নেই, এবং তারা দুঃকিত ও হবে না। ” হযরত শায়েখে আকবর ইবনুল আরবীর (১১৬৫-১২৪০ খঃ) এর মতে “প্রেমই যাবতীয় ইবাদতের ভিত্তি”। মৌলানা জালালুদ্দীন রুমী (রঃ)র মত হল “সমস- সৃষ্টির মূলে রয়েছে প্রেম। প্রেমের রাজা সকলকে স্বাগতম জানাচ্ছে। “প্রেম সমপ্রদায় দুনিয়ার সমস- সমপ্রদায় হতে ভিন্ন।” যারা আল্লাহর প্রেমিক তাদের জন্য একমাত্র আল্লাহ-ই তাদের সমপ্রদায় এবং আল্লাহ-ই তাদের ধর্ম” এখানে হিন্দু মুসলিম, বৌদ্ধ খৃষ্টানের কোন ভেদাভেদ নেই কোন আপন পর পার্থক্য জ্ঞান নেই। মাইজভান্ডার দরবার শরীফে সব ধর্মের বিচার সাম্যের মরমী সূর শতাব্দীর অধিক সময আল্লাহর সৃষ্টি জগতের জন্য প্রবাহমান রয়েছে এবং কিয়ামত অবধি এ সিলসিলার ধারক ও বাহকগনের মাধ্যমে চলমান থাকবে। এ কথা সহজেই অনুমেয়। সর্বোপরি, এ দরবার শরীফের খলীফাবৃন্দ ও খেলাফত প্রাপ্ত আওলাদগণের ভেতর দিয়ে অর্গল মুক্ত ঐশী প্রেমের বাণী বিশ্বব্যাপী বিস-ার লাভ করেছে।
পরিশেষে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মাইজভান্ডারীয়া ত্বরিকায় ধর্ম-সাম্য ও অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেমবাদের ঘোষণার মধ্যে মূর্ত ঐক্যের অসামপ্রদায়িক বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে অতি সুন্দর ও সাবলীল জীবন ঘনিষ্ঠভাবে। যে কারণে এ দরবারের যুগল গাউছুল আজমের জীবদ্দশায় মুসলমান শিষ্যের পাশাপাশি হিন্দু বৌদ্ধ, খৃষ্টান স্ব-স্ব ধর্ম কাঠামোর মধ্যে থেকে এ ত্বরীকা ও ধর্ম থেকে স্ব-স্ব আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য প্রয়োজনয়ি উপকরণ অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। যেমন-কবিয়াল রমেশ শীল গেয়ে উঠেছিলেন-“মাটির মূর্তির পূজা ছেড়ে মানুষ পূজা কর, সপ্তদ্বীপ, আঠার আলম মানুষের ভেতর। ছাড় আভিজাত্যের খেদ, মানুষে মানুষে নাই জাতের ভেদাভেদ, ঘুচিলে মানুষের প্রভেদ দেখবি গুরু তার ভেতর।” অন্যত্র লিখেছেন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খৃষ্টান সকর ধর্মের এক কথা, নীতি রদ বদল মাত্র গন-ব্য স’ান দুটি কোথা?”

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Comments Off on অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক মাইজভান্ডার দরবার শরীফঃ অধ্যাপক শাহ আহমদ নবী।

সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর ওমরাহ হজ্জ পালন

বাবা সয়ৈদ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী এপ্রলি ২০১১ইং পবত্রি ওমরাহ হজ্জ পালন করনে।সফরকালে তাঁর সফরসংগী ছলিনে শাহজাদা সয়ৈদ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী,সয়ৈদ মাসূক-এ মইনুদ্দীন,সয়ৈদ মহেবুব-এ মইনুদ্দীন,খলফিা আলমগীর খান,খলফিা ওয়াজউদ্দীন, প্রমূখ

Posted in বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী | Comments Off on সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর ওমরাহ হজ্জ পালন