গাউছুল আজম সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.) এর ১ম বার্ষিক ওরশে মাইজভান্ডার শরীফে লাখো ভক্ত-জনতার ঢল

হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.) এর
১ম বার্ষিক ওরশে মাইজভান্ডার শরীফে লাখো ভক্ত-জনতার ঢল

ইসলামের মানবতাবাদী দর্শন প্রচারে ও মানব সেবায় শাহ্সূফী
সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)’র ত্যাগ ও অবদান
যুগে যুগে স্মরণীয় হয়ে থাকবে
-শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)
বিশ্বনন্দিত আধ্যাত্মিক সূফী সাধক ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দিকপাল, হিজরী পঞ্চদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, শায়খুল ইসলাম, হযরত মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.) এর ১ম বার্ষিক ওরশ আজ ১৭ আগষ্ট’২০১২ শুক্রবার, মাইজভান্ডার শরীফে হাজার হাজার ভক্ত-জনতার অংশ গ্রহণে আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। হযরত শাহ্সুফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)’র বার্ষিক ওরশ শরীফে যোগ দিতে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন পরিবহনে আসা হাজার হাজার ভক্ত-জনতার উপস্থিতিতে মাইজভান্ডার শরীফে আধ্যাত্মিক আবহ ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার থেকেই মাইজভান্ডার শরীফ অভিমুখে জনস্রোত নামে। হযরত শাহসূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছ্.িআ.)’র রওজা শরীফকে ঘিরে জিকির, মাইজভান্ডারী মরমী সঙ্গীত, ছেমা’, মিলাদ, মাজার জিয়ারত ও দরূদ-মুনাজাতে শামিল হন ভক্ত-আশেকরা। এ সময় পুরো দরবার এলকায় ভাবগম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
আজ ১৭ আগষ্ট’২০১২ শুক্রবার ফজরের নামাজের পর হযরত শাহসূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)’র রওজা শরীফে গিলাফ চড়ানোর মধ্য দিয়ে ওরশ শরীফের কর্মসূচি শুরু হয়। ওরশ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও মোন্তাজেম, আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার সভাপতি, আওলাদে গাউছুল আ’যম মাইজভান্ডারী হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আল্-মাইজভান্ডারী (ম.জ্.িআ.)। তিনি বলেন, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ বিশ্ব মানবতার জন্য আল্লাহর করুণা লাভের একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। দল-মত-শ্রেণী ও গোষ্ঠীগত পার্থক্য ভেদাভেদের উর্ধ্বে ওঠে মাইজভান্ডারী মহাত্মারা সর্বস্তরের মানুষকে তাওহিদ, রেসালত ও বেলায়তের শাশ্বত পথের দিকে আহবান করেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে সর্বজনীন মানব প্রেমের দীক্ষা দেয়াই মাইজভান্ডার শরীফের মহাত্মাদের জীবন দর্শন। তিনি আরো বলেন, সারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে শান্তি, গণকল্যান ও ইনসাফ ভিত্তিক মাইজভান্ডারী দর্শন সর্বোত্তমভাবে তুলে ধরেছিলেন শায়খুল ইসলাম শাহূসূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)। ইসলামের মানবতাবাদী দর্শন প্রচারে আজীবন নিজেকে নিবেদিত রাখেন এ মহান সূফী ব্যক্তিত্ব। তাঁর ত্যাগ ও অবদান যুগে যুগে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অশান্ত-দ্বন্দ্বমুখর আজকের দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে নাজাত পেতে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)’র প্রদর্শিত শান্তি ও মানবিক সম্প্রীতির পথে সবাইকে ফিরে আসার আহ্বান জানান আল্লামা হাসানী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র আল্হাজ্ব এম. মন্জুর আলম, শাহ্জাদা সৈয়দ ফরাদ উদ্দীন আহমদ, শাহ্জাদা সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন, শাহ্জাদা সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন।
হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভান্ডারী (ক.ছি.আ.)’র জীবন দর্শনের উপর আলোচনায় অংশ নেন পীরানে পীর (রাদ্বি.)’র দরবার শরীফের প্রতিনিধি ও খাদেম সৈয়দ আবদুল্লাহ আবদুল কাদের, আন্জুমান সাধারণ সম্পাদক খলিফা শাহ্ মুহাম্মদ আলমগীর খান, সোবহানীয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হারুনুর রশীদ, কালুশাহ্ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম খান, এডভোকেট ওয়াজীউদ্দীন মিয়া, রহমানিয়া মইনীয়া র্দসে নেজামী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম মুহাম্মদ খান সিরাজী, মুফতী সালেহ সুফিয়ান ফরহাদাবাদী, মাওলানা বাকের আনসারী, মাওলানা রুহুল আমীন ভূঁইয়া মাইজভান্ডারী, মাওলানা শেখ সাদী আব্দুল্লাহ, সিঙ্গাপুরের খলিফা শাহ্ মুহাম্মদ মোতাহের, আরব আমিরাত আন্জুমান সভাপতি খলিফা আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন- আন্জুমান চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি খলিফা শাহ্ মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক কাজী মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, উত্তর জেলার সভাপতি খলিফা মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ, হাজী মুহাম্মদ মাসুদ মিয়া, খলিফা মুহাম্মদ আজিম উদ্দীন, আন্জুমান বিভাগীয় সহ-প্রচার সম্পাদক ও লক্ষীপুর জেলার যুবলীগ নেতা শাহ্ মুহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়া প্রমুখ।
ওরশ শরীফে ইরাকের বাগদাদ শরীফের হযরত গাউছুল আ’যম সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী (রাদ্বি.) এর আওলাদ ও দরবার শরীফের প্রতিনিধি খাদেম আবদুল্লাহ আবদুল কাদের, দরবার শরীফের মসজিদের ইমাম ফরিদ সোহানী এবং মিশর থেকে আগত আবদুর রহিম হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)’র রওজা শরীফে গিলাফ চড়ানোর জন্য উপহার হিসেবে পীরানে পীর (রাদ্বি.)’র রওজা শরীফের গিলাফ শরীফ মাইজভান্ডার শরীফে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)’র নিকট হস্তান্তর করেন। এ সময় হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.) বাগদাদ থেকে আগত পীরানে পীর (রাদ্বি.)’র দরবারের প্রতিনিধি দলকে গাউছুল আ’যম আবদুল কাদের জিলানী (রাদ্বি.)’র রওজা মোবারকের চড়ানোর জন্য মাইজভান্ডার দরবার শরীফের পক্ষ থেকে একটি গিলাফ উপহার প্রদান করেন। এছাড়াও মালয়েশীয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, দুবাই, মিশর ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হজুর কেবলা (ক.ছি.আ.)’র ভক্ত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ওরশ শরীফে অংশ গ্রহণ করেন।
মাহফিলে বিশেষ অতিথী বাগদাদ গাউছুল আ’যম দরবার শরীফের আবদুল্লাহ আবদুল কাদের বলেন, বিশ্বব্যাপী মাইজভান্ডারী ত্বরীক্বার প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শাহূসূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আল্-মাইজভান্ডারী (ক.ছি.আ.)। তাঁকে হারিয়ে আজ আমরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছি। আল্লাহ্পাক যেন সবাইকে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণের তওফিক দান করেন।
রাতে সালাত-সালাম শেষে অশান্তি-দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ, দেশের অব্যাহত শান্তি-অগ্রগতি এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনায় আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আল্-মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.)।
শান্তিপূর্ণভাবে ওরশ উদ্যাপনে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়ায় আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

Posted in Uncategorized | Comments Off on গাউছুল আজম সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.) এর ১ম বার্ষিক ওরশে মাইজভান্ডার শরীফে লাখো ভক্ত-জনতার ঢল

মুসলিম মিল্লাতে ঈদুল ফিতর এর প্রভাব

মুসলিম মিল্লাতে ঈদুল ফিতর এর প্রভাব
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম রেজভী
আরবী প্রভাষক গর্জনীয়া রহমানিয়া ফাযিল মাদরাসা
ও খতিব মুবারকখান চৌধুরী জামে মসজিদ।

মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন, এই মহা বিশ্বের নিয়ন্দ্রন কর্তা, সৃষ্টিকর্তা-লালনকারী, পালন কারী, তাই তিনি সৃষ্টি জগত সৃষ্টি করে এর বিধান ও নিয়ন্ত্রনের জন্য খলিফা বা প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করার সুন্দর নিয়ম নীতি দিয়ে এই বিশ্বকে তড়িৎ প্রলয় থেকে রক্ষা করেছেন। সৃষ্টির বিস্তার করার ও ব্যাপকতার জন্য আদম আলাইহিস্ সালামকে সর্ব প্রথম মহামানব হিসাবে ভূ-পৃষ্টে পাঠিয়াছেন এই ভাবে ভূ-পৃষ্টে প্রথম মানবের বিচরণ। এই মানব মন্ডলী দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকেন, বৃদ্ধি পেতে পেতে মানুষ অসমাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে এর থেকে পরিত্রানের জন্য আল্লাহ্ তা’য়ালা পূর্ণাঙ্গ শরীয়তের প্রচারক নবী হিসেবে নুহ আলাইহিস্ সালামকে প্রেরণ করেন। এরই ধারা বাহিকতায় আল্লাহ্ তা’য়ালা বিভিন্ন নবী রাসূলের মাধ্যমে ঐশী বানির ফাল্গুদ্বারা এই পৃথিবীতে প্রসার করেন। এই ঐশী বাণীর শেষ দ্বারা প্রিয় নবী হুজুর করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অর্পন করে আল্লাহ্ তা’য়ালা সমগ্র বিশ্বের মানব-দানব এর জন কল্যাণের বিধান হিসাবে মহাগ্রন্থের মত মহা নিয়ামত বিশ্ববাসীকে উপহার দেন। পবিত্র কুরআনের বৃহত্তম সূরা বাক্বারা শরীফের মধ্যে মানব কল্যাণও হিত সাধনের জন্য দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এর শেষে ঈদুল ফিতরের মত একটি মহা সমাবেশের ব্যবস্থা করেন যা দুনিয়ার অপরাপর সমাবেশের চেয়ে উন্নত পূত: পবিত্র রহমতের ফাল্গুদ্বারার প্রবাহমাণ, যা দুনিয়ার অন্য যে কোন সমাবেশের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অনন্য। এই ঈদুল ফিতর সুখের আনন্দের সম্প্রীতির বন্ধরচনার যে সমাবেশে সত্যর বাণীর প্রয়োগের বাস্তব উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায়, থাকে না ভেদা-ভেদ হিংসা-বিদ্বেষ কলহ-মারামারি। মানুষের অন্তরে প্রেম-স্নেহ বন্ধনের ঢেউ প্রবাহিত হয়। ঈদ গাহের সমাবেশকে লক্ষ্যে করে মহান আল্লাহ্ ফেরেশতাদের আহ্বান করে বলবেন হে আমার ফেরেশতারা একজন পরিপূর্ণ শ্রমব্যয় করে যদি কোন মালিকের দেয়া দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করে তাঁর কি পারিশ্রমিক হয় বা দেয়া যায়? তাঁরা বলবেন পরিপূর্ণ পারিশ্রমিক দেয়া। আল্লাহ্ বলবেন তোমরা সাক্ষী থাকো আজ ঈদ গাহে রোজা পালন শেষে আগত আমার রোজাদার বান্দাদেরকে আমি নিষ্পাপ নব জাতকের ন্যায় করে দিলাম। “ঈদ” আরবি শব্দ। এর অর্থ আনন্দ, খুশি। এই আনন্দ, উৎসব, খুশি অর্থ শব্দটির প্রয়োগ কুরআনে করিমে দেখতে পাওয়া যায়। পবিত্র হাদীস শরীফে ও শব্দটি আনন্দ, খুশি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অপর দিকে ঈদ শব্দটি “অউদুন” হতে নির্গত হতে পারে। এর অর্থ ফিরে আসা। এই অর্থে “ঈদ” বলতে ঐ আনন্দ উৎসব কে বুঝায় যা প্রতি বৎসর ফিরে আসে। ঈদের উৎপত্তি ও ইতিবৃত্ত সম্পর্কে হাদীস শরীফ থেকে জানা যায় যে, প্রখ্যাত সাহাবী খাদেমে রাসূল হযরত সৈয়ুদুনা আনাদা রাদিআল্লাহ্ আনহু হতে বর্ণিত আছে তিনি বর্ণনা করেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা শরীফে হিজরত করার পর দেখতে পান; মদীনাবাসী বৎসরে দুইটি দিবসকে আনন্দ উৎসবের দিন রূপে জাকজমকের সাথে পালন করছে। তিনি তাদের কাছে জানতে চাইলেন তোমরা এই দুইটি দিন কে কেন উৎসবের দিন রূপে গুরুত্ব সহকারে পালন করে থাক? তখন তাঁরা বলল জাহিলিয়া (বরবর) যুগে আমরা এ দুদিনের উৎসব করতাম, সেটাই এই উৎসবের দিন সমূহ, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন মহান আল্লাহ্ তা’য়ালা সে দুদিনের পরিবর্তে তদাপেক্ষা উত্তম দুটি দিন তোমাদেরকে দান করেছেন (মিশকাত শরীফ)।
এই ঈদের উৎসব সরাসরি কুরআনে পাওয়া যায় যা আনন্দ উৎসব অর্থে ব্যবহৃত। হযরত ঈসা আলাই হিস্সালাম তাঁর কপটবিশ্ববাসী অনুসারীদের অনুরোধে আল্লাহ্ তা’য়ালার দরবারে আসমান হতে খাদ্য সহ একটি “দস্তুর খান” নাজিল করার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। যাতে করে পূর্বাপর সকলের জন্য এদিনটি পৌন পৌনিক ঈদ বলে পালিত হয়। ইরশাদ হচ্ছে মরিয়ম তনয় ঈসা বললেন হে আল্লাহ্! আমাদের প্রতিপালক। আমাদের জন্য আসমান হতে একটি খাদ্যপূর্ণ খাবাঞ্জা বা দস্তরখান নাজিল করুন, এটা আমাদের এবং আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য আনন্দোৎসব স্বরূপ ও আপনার নিকট হতে নির্দশন স্বরূপ হবে এবং আমাদের জীবিকা দান করুন অবশ্যই আপনি উত্তম জীবিকা দাতা (সূরা মায়েদা)।

এ আয়াত থেকে স্পষ্ট ভাবে বুঝা যায় যে, ঈদ বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মাঝে প্রচলিত একটি উৎসব-আনন্দ যা বিভিন্ন জাতির কাছে খুব বেশী মর্যাদা পূর্ণ পালনীয় উৎসব। মুসলিম মিল্লাতের মাঝে এ উৎসব প্রতি বছর আবেগঘন মুহুর্তে আমেজ-আনন্দ হিল্লোল নতুন পরশ প্রীতির বন্ধন নিয়ে আগমন করে। মদীনা বাসীরা ঈদের পূর্বে দুটি উৎসব পালন করত। একটির নাম ‘নওরোজ’ অপরটির নাম ‘মেহেরজান’।
ঈদুল ফিতর রমজানের সিয়াম সাধনের পরের উৎসব। হিজরী ২য় সালে সর্ব প্রথম উম্মতে মুহাম্মদীর উপর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামায ওয়াজিব করা হয়। হিজরী ২য় সালের শাবান মাসে যাকাত ফরয হওয়ার পূর্বে সদক্বা-এ-ফিতর ওয়াজিব হয়। ঈদের দিনের পূর্বে ‘সদক্বায়ে ফিতর’ আদায় করা না হলে ঐ দিন নামাজ আদায়ের পূর্বেই তা আদায় করতে হয় বিধায় এ উৎসবকে ঈদুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এমনকি হাদীস শরীফে ঈদের দিবসে রোজা পালন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। কেননা ঈদের দিবসে রোজা পালন করলে আনন্দ-উৎসবে ভাটা পড়বে যাতে সার্বজনীন খাবার গ্রহণ উপহার উপটোকন আদান-প্রদানের মাধ্যমে ঈদের প্রকৃত বাস্তবতা পাওয়া যায় তাই ঈদের দিবসে রোজা রাখা নিষেধ। ঈদের দিবসে থাকে না হিংসা-বিদ্বেষ। মানুষের মাঝে প্রীতির বন্ধন দেখা যায় শুধু ঈদে। এরূপ বন্ধন অন্য কোন দিবসে দেখা যায় না এজন্য ঈদুল ফিতর মুসলিম মিল্লতের উপর বড়ই প্রভাব ফেলে, যা অন্য কোন অনুষ্ঠানে পরিলক্ষিত হয় না। সবার জন্য ঈদ উৎসব সমান আনন্দ করে তোলার জন্য মহান আল্লাহ্ ধনীর উপর সদক্বায়ে ফিতর ওয়াজিব করে দিয়েছেন যাতে ঈদের আনন্দে দরিদ্র ব্যক্তি পরিবারের সদস্যরাও অংশ গ্রহণ করতে পারে। যুগে যুগে এ ঈদের আনন্দ ছিল আছে বাঙলা সাহিত্যের বিভিন্ন কবিদের কবিতায়ও পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে উনবিংশ শতাব্দীর একেবারে শেষের দিকে বিশেষ করে বিংশ শাতাব্দীর শুরুর কাল থেকে মুসলিম সম্পাদিত পত্র পত্রিকা বের হতে থাকে ঈদ উপলক্ষ্যে। সৈয়দ এমদাদ আলীর (১৮৮০-১৯৬৫) কবিতা গ্রন্থ ‘ডালি’র দ্বিতীয় সংস্করণে (১৯৬৬) ‘ঈদ’ নামে দু’টি কবিতা আছে প্রথমটির প্রথমছত্র ‘কুহেলী তিমিরসরায়ে দূরে’ এবং দ্বিতীয়টির প্রথমছত্র বিশ্ব জুড়ে মুসলিমের গৃহে গৃহে আজি।
কুহেলি তিমির সরায়ে দূরে
তরুণ অরুণ উঠিছে ধীরে
রাঙিয়ে প্রতি তরুর শিরে
আজ কি হর্ষ ভরে।
আজি প্রভাতের মৃদুল রায়
রঙে নাচিয়া যেন কয়ে যায়
মুসলিম জাহান আজি একতায়
দেখ কত বল ধরে।
এটা ১৯০৩ ঈসাব্দে প্রথম প্রকাশিত সৈয়দ এমদাদ আলী সম্পাদিত নবনূর পত্রিকায় প্রকাশিতে ঈদ সংখ্যা প্রকাশ করে। এই কবিতার মাধ্যমে কবি বুঝাতে চেয়েছেন তরুণ অরুণের ধমণীতে ঈদের আনন্দে আমেজের বর্ণনা দিয়ে বুঝায়ে দেন যে, প্রত্যেকের শিরায় শিরায় আনন্দ উৎসের কোলাহল, এবং ঈদের দিবসের প্রভাতে আনন্দের হিমেল প্রবাহিত হয়ে রঙে রঙে নাচিয়ে যেন মুসলিম জাহান একাকার হয়ে যায় সম্প্রীতির বন্ধনে।
অপর আরেক বিখ্যাত বাঙালী কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) এর কবিতায় দেখা যায় ঈদের বর্ণনা। তিনি লিখেছেন-
এই ঈদ বিধাতার কিসে শুভ উদ্দেশ্য মহান,
হয় সিদ্ধ, বুঝে না তা স্বার্থপর মানব সন্তান।
এ নহে শুধু ভবে আনন্দ উৎসব ধূলো খেলা,
এ শুধু জাতীয় পূণ্য মিলনের এক মহা মেলা।
ভুলে যাও হিংসা- দ্বেষ, দলাদলি শত্র“তা ভীষণ,
মুসলিম জগতে আজি বিশ্বব্যাপী মহা সম্মেলন।
এ কবিতায় কবি মহান আল্লাহর এক মহা নেয়ামত ঈদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কবি এ লেখনীর মাধ্যমে মুসলমানদের জাগ্রত করতে তিনি লিখেছেন যে-
আজি এই ঈদের দিনে হয়ে সবে এক মনঃ প্রাণ,
জাগায়ে মুসলিম সবে গাহ আজি মিলনের গান।
ডুবিয়ে না ভরে আর ঈদের এ জ্যোতিষ্মান রবি,
জীবন সার্থক হবে, ধন্য হইবে এ দরিদ্র কবি।
কবি মোজাম্মেল হক (১৯৬০-১৯৩২) ঈদ কবিতায় লিখেছেন যে-
মোসলেমের আজ ঈদ শুভময়
আজ মিলনের দিন,
গলায় গলায় মাখামাখি
আমীর ফকীর হীন।
আজ সবারি হস্ত পূত
ধোওয়া স্বরূপ নীরে,
তাইরে চুমোর ভিড় লেগেছে
নম্র নত শিরে।
শেখ ফজলুল করিম (১৮৮২-১৯৩৬) ঈদ কবিতায় লিখেছেন যে-
অলস অধম মোরা এখনো কি অবহেলে
যার রসাতলে?
অদৃষ্টের উপহাস এখনো কি আনিবে না
চেতান ফিরিয়া?
এখনো লাঞ্চিত মোরা বুঝিবেনা হিতাহিত
রহিব ঘুমিয়া?
জীবন প্রভাত আজি বিস্ময়ে দেখরে চাহি
মহা জাগরণ,
সাহসে বাধিয়া বুক হও অগ্রসর
নতুবা মরণ।
কবি কাজী কাদের নেওয়াজ ঈদ বিষয়ক একটি কবিতায় লিখছেন যে-
কিসমিস আঙ্গুরর খোর্ম্মার নির্যাস
পান করি অঙ্গেতে দাও আতরের বাস।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম ঈদুল ফিতর কবিতায় লিখেছেন যে-
কোথা মক্কা- মায়াজ্জমা মদিনা কোথায়
প্রাণ কেন্দ্র এ মহা সাম্যের
কোথা আমি ভারতের প্রান্ত তটে ক্ষুদ্র ঈদগাহে।
সিন্ধু-মরু-গিরি-দরী কান্ডার তটিনী,
রচিয়াছে ব্যবধান দুর্জয় বিপুল
তবু শুনি বায়ুস্তুরে দুর্জয় তরঙ্গদোলায়
ভেসে আসে উদাও মন্দ্রিত নির্ঘোষ
সাম্যের দিশারী আমি-আমি মুসলমান
দেশ-কাল-পাত্র মোর সর্ব একাকার
বহুত্বে একক আমি
আত্মার আত্মীয় মোর দুনিয়া জাহান,
গোলাম মোস্তফার ঈদ উৎসব কবিতায় লেখছেন যে-
সকল ধরা মাঝে বিরাট মানবতা মুরতি লভিয়াছে হর্ষে
আজিকে প্রাণে প্রাণে যে ভাবে জাহিয়াছে, রাখিতে হবে সারাবর্ষে;
এ ঈদ হোক আজি সফল ধন্য
নিখিল ক্ষানবের মিলন জন্য

অন্যত্রে কবি নজরুল তাঁর ঈদ মোবারক কবিতায় লেখছেন যে-
আজি ইসলামী ডঙ্কা গরজে ভরি জাহান
নাই বড়ছোট সকল মানুষ এক সমান
রাজা প্রজা নয় কারো কেহ।
ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই
সুখ-দুঃখ সমভাগ করে নেব সকলে ভাই
নাই অধিকার সঞ্চয়ের।
কারো আাঁখি জলে কারো কারো ঝারে
কি করে জ্বলিবে দ্বীপ?
দুজনার হবে বুলন্দ নসিব।
লাখে লাখে হবে বদনসিব,
এনহে বিধান ইসলামের ।
ঈদুল ফিতর শীর্ষক কবিতায় কবি শাহাদত হোসেন লেখছেন যে-
আরবের আরছায়া ধীরে সৌরে গেল
পশ্চিমের চাঁদোয়ার বুকে
স্বচ্ছ নীলিমায়
অপরূপ রূপালী স্বপনে
দেখা দিল শাওয়ালের চাঁদ।
খুশির সালামে
আনন্দের আবেদনে করিল নিখিল।
পূণ্য চাঁদে ব্রত উদ্যাপন
অবসান রমযান
দরুদ গুঞ্জনে
আল বেদায় ধ্বনিল জাহান।
কবি গোলাম মোস্তফা বাঙলা সাহিত্যে ইসলামী ভাবধারার আরেক রূপকার।
তিনি “ঈদ উৎসব” শীর্ষক কবিতায় লেখছেন যে-
আজিকে আমাদের জাতীয় মিলনের পূণ্য দিবসের প্রভাতের
কে গো ঐ দ্বারে ডাকিয়া সবাকারে ফিরিছে
বিশ্বের সভাতে
পুলকে সদা তাঁর চরণ চঞ্চল
উড়িছে বায়ু ভরে বসন অঞ্চল
সকল তসু তাঁর শুভ্র সুকুমার
স্নিগদ্ধ প্রভাতের আলোতে।
মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ (১৯৭৪) ঈদুল ফিতরের বর্ণনা দিয়ে লেখছেন যে-
তোমার মৃত্যু সমুদ্র মোহনায়
জীবনের আস্বাদ,
তোমার জীবন রমজান সাধনায়
স্বপ্ন ঈদের চাঁদ–(সিরাজামমুনীরা)

কবি কাজী আবদুল ওদুধ (১৯৮৪-১৯৭০) ঈদুল ফিতর প্রবন্ধের মধ্যে লেখছেন যে-
সর্ব প্রকারের জড়তা থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ যোগ্য ভাবে ধর্ম পালন করুক,
পালন করে উৎকর্ষ লাভ করুক,
ঈদুল ফিতরের দিনে এই প্রার্থনা কারি।
কবি তালিম হোসেন মোবারক নামক কবিতায় লেখছেন যে-
ঈদ মোবারক! হেবন্ধু, এই খুশির দিন
নূতন সজ্জা, নব আনন্দ, নয়ালীচিন;
প্রাণের ভবনে উৎসব করে তৃপ্তি সুখ
আজি জাগরণী নূতন দিনের ক্ষুন্নী হীন।
তাঁর আরেকটি ঈদের ফরিয়াদ শীর্ষক কবিতায় লেখছেন যে-
ঈদগাহ হতে ফিরিয়া এসেছি পিছনের সারি হতে
ঘরেতে আমার ঈদ হয় নিকো, ফিরিয়াছি পথে পথে।
উনানে আজিও হাঁড়ি চড়েনিকো, ঈমাণের মায়া নিয়ে
ঈদের প্রহরে গৃহিনী বসেছে জায়নামাযেতে গিয়ে।
বাচ্চারে তাঁর পাঠায়ে দিয়েছে বাহিরে নাঙ্গা গায়ে
দুটি পয়সার ফিৎরা যাগিতে দৌলতীদের পায়ে।
কবি আহসান হাবীব ঈদের উৎসব কবিতায় লেখছেন যে-
পাখার কুঞ্চন তলে কেপে ওঠে কৃপ আলোকে
তারি ফাঁকে দেখায় যায় বর্ণহীন পুরানো পালক
এখনি করিয়া যাবে মিথ্যা প্রত্যয়ের পবিরাহ,
এ আলো ওদের তরে দীপ্তি নয় এনেছে প্রদাহ
এ আলো কুটিল আর এ আলোর দৃষ্টি অভিজাত
এ আলোর মহিমায় হবে আজ আনন্দ নিবিড়
নিবিড় আঁধার তবু ঘিরে রবে এদ্বীপের তার।
কবি সৈয়দ আলী আহসান (ঈদ সংখ্যা ১৩৫০) লেখছেন যে-
এসেছে নতুন দিন
ভয় নাই প্রিয়, দ্বারে কারো করাঘাত
শল্কাহরণ অভয়মন্দ্র শোনো শোনো কামপাতি।
বনভূমি আজ চর্কিত হােিসত হঠাৎ পেয়েছে সাড়া
সুরমা মেঘেছে আখির কোণায় কন্ঠে তুলেছে গান
পঙ্গু আহত বির্মষ দিন হঠাৎ পেয়েছে প্রাণ।
কবি সুফিয়া কামালের কবিতায় ঈদের ও
ইসলামের সাম্যের প্রতিফলন ঘটেছে
কাল ঈদ গাহে ধনী-দরিদ্র মিলিবে যে বুকে বুকে
কাল ঈদ গাহে ধনীর ধনের দীন ও হবে ভাগীদার
পুরাতে হইবে কত দিবসের খালী অঞ্জলী ভার।

এভাবে অগনিত কবিতা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষায় ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য প্রস্ফুটিত হয়েছে। এ ঈদুল ফিতর মুসলিমের সবচেয়ে ধর্মীয় মিলন মেলা। এ মেলার দৃশ্য সাম্য ভ্রাতৃত্ব অন্য কোন অনুষ্ঠানে উৎসবে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। তাই ঈদুল ফিতরের প্রভাব বিভিন্ন ভাষা-ভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে ঐক্য-সাম্য-ভ্রাতৃত্ব বোধ প্রতিষ্ঠার অনন্য উৎসব।
ঈদের দিনে পুরানো ঝগড়া-বিবাদ ভুলে গিয়ে নতুন ভাবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ঘোটা পৃথিবীর মানুষ যেন বন্ধনের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেছে সে রকম অনুভব হয়। ঈদুল ফিতর মুসলিমে মিল্লাতের ঐক্যের প্রতীক ও বড় সমাবেশের মাধ্যমে মুসলিম শক্তির প্রচার-প্রসার ঘটে তাই ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম।

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Comments Off on মুসলিম মিল্লাতে ঈদুল ফিতর এর প্রভাব

সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) পবিত্র চেহলাম সম্পন্ন॥

সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) পবিত্র চেহলাম সম্পন্ন॥

সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) ছেহলাম শরীফ উপলক্ষে ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে লাখো ভক্তের আগমন ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আশেক ভক্ত অনুরক্তরা বিভিন্ন যান বাহন যোগে মাইজভান্ডারে এসেছেন। বিশ্বের প্রখ্যাত অলি গাউসুল আজম শাহসুফী ছৈয়দ গোলামুর রহগমান প্রকাশ বাবা ভান্ডারীর নাতি সায়খুল ইসলাম আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) এর ছেহলাম শরীফের দুইদিন ব্যাপী ওরশ চলছে।
গতকাল সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) ছেহলাম শরীফ ও স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন,
বিশ্বের দরবারে সুন্নিয়ত ও মাইজভান্ডারী তরিকার বিকাশে সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) একজন বিশ্ব ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও সংস্কারক হিসেবে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণি ভুমিকার পালন করেছেন। তাঁর জীবন ইসলামের জন্য উৎসর্গ করেছেন। তিনি জাতি সংঘ কতৃক আয়োজিত ২০০০ সালের আর্ন্তজাতিক শান্তি ও সুফি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০৫ সালে ঘানা সরকার ও কতৃক আর্ন্তজাতিক সুফীজম কতৃক শান্তি পুরষ্কার পান। এছাড়াও তিনি আমেরিকাতে ও থাইল্যান্ডে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাশিয়াতে কমিনিষ্ট সরকার মুসলমানদের এবাদতের স্থান মসজিদ বন্ধকরে দেন। তাঁরই উদ্যোগে রাশিয়ান সরকার পুনরায় মসজিদ গুলো এবাদতের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। আওলাদে রাসুল (দ.) তথা বাবা ভান্ডারীর আওলাদ হিসেবে তিনি ছিলেন ইসলাম ও সুন্নিয়তের সঠিক পথ প্রদর্শক। তার জীবন চরিত্রে আকর্ষিত হয়ে জাতিসংঘের সাবেক সহাসচিব কপি আনানের উপদেষ্ঠা ড. আহাম্মদ মইনুদ্দিন তার কাছে বায়েত গ্রহণ করেছিলেন।
আনজুমানে রহমানিয়া মঈনিয়া মাইজভান্ডারীয়া কতৃক আয়োজিত ছেহলাম শরীফ ও স্মরণ সভায় লাখো ভক্ত অনুরক্তরা অংশগ্রহণ করেছেন। এতে সভাপতিত্ব করেন হুজুর কেবলার স্থলাভিষিক্ত খেলাফতপ্রাপ্ত ও শাজ্জাদানশীন শাহজাদা শাহছুফী ছৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ আলহাছানী আল মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ.)।

ছেলামশরিফ উপলক্ষে আনজুমানে রহমানিয়া মঈনিয়া মাইজভান্ডারীয়া মঞ্জিল ব্যপক কর্মসূচীর আয়োজন করেছে। খতমে কোরান, খতমে গাউছিয়া, রওজায় গিলাপ ছড়ানো, ওয়াজ মাহফিল মাহফিল, মিলাদ ওজিকির, ছেমা মাহফিল চলে। রাত গভীরে আল্লাহু আল্লাহু জিকিরে কম্পিত হয় মাইজভান্ডার এলাকা। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিন ব্যাপী চলে ওরশ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত অনুরক্তরা শত শত যান বাহন নিয়ে দরবারে এসেছেন। মাইজভান্ডারে বিশাল এলাকাজুরে আশেক ভক্তদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রহমানিয়া মঈনিয়া মঞ্জিলের শাজ্জাদানশীন শাহজাদা শাহছুফী ছৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ রহমত ও হেদায়তের উজ্জল ঠিকানা। এ দরবারে লক্ষ লক্ষ আশেখ ভক্ত প্রতিনিয়ত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর ফয়েজপ্রাপ্ত হচ্ছে। মানবপ্রেমই তরিকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার মুল সুর। আল্লামা ছৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ (ক.) এ প্রেমময় আবেদন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে বিশ্ববাসির হ্নদয়ে স্থান করে নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরে তিনি মুসলিম উম্মা দেশ জাতি ও সর্বমানবতার কল্যাণ কামনা করে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্টানের সমাপ্ত করেন। শনিবার সকাল থেকে ভক্তরা কাফেলা সহ যার যার বাড়ীতে ফিরে যান।
এতে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলার সাবেক এমপি আলহাজ্ব রফিকুল আনোয়ার, পি এইচ পি গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফী মিজানুর রহমান মাইজভান্ডারী, আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ার, সামির আহামদ খান, বোরহান উদ্দিন, নাজিমুদ্দৌলা , আনজুমান সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. আলমগীর খান। আলহাজ্ব মো ইকবাল চৌধুরী, আলহাজ্ব মো. কবির চৌধুরী, শাহজাদা মাওলানা ছৈয়দ সামসুল কবীর, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইববাল রিসালপুরী, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেন খান, এ এফ এম মাহমুদুর রহমান প্রমুখ।

Posted in Uncategorized | Comments Off on সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) পবিত্র চেহলাম সম্পন্ন॥

মাইজভান্ডার শরীফে গাউছুল আ’যম হযরত বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.) বার্ষিক ওরশ শরীফে লাখো ভক্ত জনতার অংশগ্রহণ

মাইজভান্ডার শরীফে গাউছুল আ’যম হযরত বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.)
বার্ষিক ওরশ শরীফে লাখো ভক্ত জনতার অংশগ্রহণ

গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (ক.) অসীম আধ্যাত্মিক
শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আজীবন মুক্তিপ্রত্যাশী মানুষের কল্যাণ করে গেছেন
-শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

নূর-এ-রহমান চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ঃ দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ছুটে আসা লক্ষ লক্ষ ভক্ত জনতার অংশ গ্রহণে ফটিকছড়ি মাইজভান্ডার শরীফে গাউছুল আ’যম হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.) ৭৬তম বার্ষিক ওরশ শরীফ পালিত হয়েছে। মাইজভান্ডার শরীফের অন্যতম আধ্যাত্মিক প্রাণপুরুষ হযরত বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.)’র ২২ চৈত্র ৫ এপ্রিল’২০১২ ঈসাব্দ বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী ওরশ কর্মসূচীতে ছিল খত্মে কুরআন, খত্মে গাউসিয়া, দুঃস্থদের মাঝে ফ্রি-মেডিকেল চিকিৎসা প্রদান, রওজায় গিলাফ ছড়ানো, জেয়ারত, জীবনী আলোচনা, জিকির ও মিলাদ মাহফিল শেষে আখেরি মুনাজাত। ওরশ শরীফে অংশ গ্রহণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনযোগে আসা ভক্ত জনতার স্রোতে মাইজভান্ডার শরীফের পাঁচ বর্গ কিলোমিটার এলাকা লোকারণ্য হয়ে ওঠে। জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে মাইজভান্ডার শরীফ এলাকায় বিরাজ করে উৎসব মুখর আধ্যাত্মিক আমেজ। গাউছুল আযম হযরত বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.) করুণাধারায় সিক্ত হবার মাধ্যমে নিজেদের কৃত পাপ মোচন ও অশান্তি-দুর্যোগ থেকে নাজাত পাবার আশায় ভক্ত জনতা জেয়ারত, জিকির মুনাজাতে শামিল হয়। তাঁরা অশ্র“সিক্ত নয়নে আল্লাহর রহমত ও আউলিয়ায়ে কেরামের অনুগ্রহধন্য হবার ফরিয়াদ জানায়। এছাড়াও মাইজভান্ডার শরীফের বিরাট এলাকাজুড়ে বসে লোকজ গ্রামীণ মেলা। কুটির শিল্প, খাদ্য পন্যসহ বিভিন্ন পসরা নিয়ে বসা দোকানগুলোতে প্রচুর ভিড় দেখা যায়। বেচাকেনাও চলে জমজমাট। আজ ৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ওরশ শরীফের শেষ দিনে হযরত বাবাভান্ডারী (ক.ছি.আ)’র স্মরণে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও মোন্তাজেম আওলাদে গাউছুল আ’যম শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাইজভান্ডার শরীফ বিপন্ন সমস্যাগ্রস্ত মুক্তিকামী মানুষের বিশেষ আশ্রয়স্থল। এখানে এলে শত দুঃখ-দুর্দশা সত্ত্বেও মানুষ শান্তি ও স্বস্তি খুঁজে পায়। সমগ্র দুনিয়ায় আজ অশান্তি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। লোভ-হিংসার আগুনে পুড়ছে মানুষ। ক্ষমতাধরদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার নগ্ন মহড়ায় দেশে দেশে মুসলমানসহ নিরীহ মানুষের করুণ আর্তনাদ ভেসে আসে। এই অশান্ত হিংসা জর্জর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মানুষে মানুষে ঐক্য ও মিলনের বিকল্প নেই। মাইজভান্ডারী মহাত্মারা মানবিক সম্প্রীতিবোধ প্রতিষ্ঠা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দিকে মানুষকে উজ্জীবিত রেখেছেন। তিনি বলেন, গাউছুল আ’যম হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (ক.ছি.আ.) অসীম আধ্যাত্মিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আজীবন মুক্তিপ্রত্যাশী মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গীত করেছেন। তাঁর দর্শন হল শান্তি, সম্প্রীতি ও গণকল্যাণ। লোভ, হিংসা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার রেশ থেকে সৃষ্ট অশান্তি ও অরাজকতার বিষবাষ্প থেকে মুক্তি পেতে হলে আউলিয়ায়ে কেরামের প্রদর্শিত শান্তি ও গণকল্যাণ চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, মাইজভান্ডারী শান্তি ও সম্প্রীতির দর্শন বিশ্বসভায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দিকপাল, শায়খুল ইসলাম, হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ) এর বিরল অবদান বিশ্ব স্বীকৃত। তিনি মুর্শিদ কেবলার প্রদর্শিত পথে চলে জীবন ধন্য করতে ভক্ত-মুরিদদের প্রতি আহবান জানান। মাহফিলে হযরত বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.)’র জীবন দর্শনের ওপর আলোচনায় অংশ নেন শাহ্জাদা সৈয়দ ফরাদ আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.), বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ার, শাহ্জাদা সৈয়দ মাশুকে মইনুদ্দীন আল্-হাসানী, শাহ্জাদা সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী, আন্জুমান কেন্দ্রীয় মহাসচিব শাহ্ আলমগীর খান মাইজভান্ডারী, এডভোকেট ওয়াজিউদ্দীন মিয়া মাইজভান্ডারী, মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া, মাওলানা শেখ সাদী আব্দুল্লাহ, মাওলানা আবদুল সাত্তার, রহমানিয়া মইনীয়া দরসে নিজামী মাদরাসার অধ্যক্ষ জনাব গোলাম মুহাম্মদ খান সিরাজী, আমতল ছিদ্দিকীয়া মইনীয়া সুন্নীয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বাকের আনসারী, মুফতী মাওলানা আলী আযম রেজভী প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আন্জুমান সভাপতি খলিফা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আন্জুমান সাধারণ সম্পাদক খলিফা কাজী মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ্, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিফা মোজাহেরুল আলম, খলিফা মুহাম্মদ আজিমুদ্দীন, আন্জুমান কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক শাহ্ মুহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়া মাইজভান্ডারী প্রমুখসহ আন্জুমানের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। রাতে সালাত-সালাম শেষে মুসিলম উম্মাহর ঐক্য-সংহতি, বিশ্বশান্তি ও দেশ-জাতির ওপর আল্লাহর রহমত কামনায় আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.) এর প্রপৌত্র, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীক্বত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আল্-মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.)।

Posted in Uncategorized | Comments Off on মাইজভান্ডার শরীফে গাউছুল আ’যম হযরত বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.) বার্ষিক ওরশ শরীফে লাখো ভক্ত জনতার অংশগ্রহণ

মালয়েশিয়ায় আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর বাৎসরিক ওরশ শরীফ পালিত

মালয়েশিয়া আন্জুমানের উদ্যোগে
আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর
বাৎসরিক ওরশ শরীফ পালিত

আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়া ও প্রবাসীদের যৌথ উদ্যোগে ২২ সেপ্টেম্বর ২০১২ ঈসায়ী শনিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালামপুরের কোতারাইয়া বিস্মিল্লাহ্ হোটেলের হল রুমে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দিকপাল, শায়খুল ইসলাম, হুজুর গাউছুল ওয়ারা আল্লামা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভান্ডারী (ক.) এর ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন-আন্জুমান কেন্দ্রীয় সভাপতি, দরবারে গাউছুল আ’যম মাইজভান্ডারীর সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। তিনি বলেন- রাসূল প্রেম ব্যতিত আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও বিশ্ব শান্তি স্থাপন সম্ভব নয়। আর প্রিয় মুরর্শিদ হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) বিশ্ববাসীকে সেই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় আজ কিছু জ্ঞান পাপী ও বিকৃত মতাদর্শী লোক ইচ্ছাকৃত ভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননার দৃষ্টতা দেখাচ্ছে। অথচ সকল যুগের জ্ঞানী মনীষীরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক বাক্যে সর্বকালের সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব ও মহামানব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননা করে আমেরিকায় চলচ্চিত্র নির্মাণ ও ফ্রান্সে পত্রিকায় কার্টন ছাপানোর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতিসংঘ, আরবলীগ, ও.আই.সি ও আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথীর মাহমুদ সহ বিশ্বসংস্থা সমূহকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহব্বান জানান। বিশেষ অতিথি ছিলেন- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী। সভাপতিত্ব করেন-কুয়ালামপুর আন্জুমান আহ্বায়ক মুহাম্মদ শিপন আলী। হুজুর কেবলার জীবন দর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মুহাম্মদ মাসুদ রানা, মুহাম্মদ কবির মিয়া, মুহাম্মদ আক্তার হোসেন, মুহাম্মদ মনির হোসেন, আবু কাউছার ভূঁইয়া, মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, আব্দুর রউফ, মুহাম্মদ সেলিম, মুহাম্মদ ওমর ফারুক প্রমুখ। বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র বলেন আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) তাঁর বেলায়তী ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার মাধ্যমে ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়াকে বিশ্ব দরবারে সু-প্রতিষ্ঠিত ভিত্তির উপর দাঁড় করে দিয়ে গেছেন। তিনি এ ত্বরীক্বার প্রেমবাদ নীতি অনুসরণের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে মাইজভান্ডারী ত্বরীক্বার পতাকা তলে ঐক্য বদ্ধ করতে শান্তির মিশন নিয়ে জাতিসংঘ সহ প্রাচ্য ও প্রাচ্যত্বের বিভিন্ন দেশ সফর করে জাতি ধর্ম-নির্বিশেষে সকলকে ইসলামের সু-শীতল ছায়াতলে একত্রিত হওয়ার প্রেরনা জুগিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন হুজুর কেবলার সান্নিধ্যে গেলে যে কোন লোকের অন্তরে আল্লাহ্ ভীতি ও রাসূল প্রেম পয়দা হতো। পরে মুসলিম উম্মাহ ও সর্বমানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)।

Posted in Uncategorized, বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী | Comments Off on মালয়েশিয়ায় আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর বাৎসরিক ওরশ শরীফ পালিত

মালয়েশিয়ায় আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর বাৎসরিক ওরশ শরীফ পালিত

মালয়েশিয়া আন্জুমানের উদ্যোগে
আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর
বাৎসরিক ওরশ শরীফ পালিত

আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়া ও প্রবাসীদের যৌথ উদ্যোগে ২২ সেপ্টেম্বর ২০১২ ঈসায়ী শনিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালামপুরের কোতারাইয়া বিস্মিল্লাহ্ হোটেলের হল রুমে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দিকপাল, শায়খুল ইসলাম, হুজুর গাউছুল ওয়ারা আল্লামা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভান্ডারী (ক.) এর ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন-আন্জুমান কেন্দ্রীয় সভাপতি, দরবারে গাউছুল আ’যম মাইজভান্ডারীর সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। তিনি বলেন- রাসূল প্রেম ব্যতিত আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও বিশ্ব শান্তি স্থাপন সম্ভব নয়। আর প্রিয় মুরর্শিদ হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) বিশ্ববাসীকে সেই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় আজ কিছু জ্ঞান পাপী ও বিকৃত মতাদর্শী লোক ইচ্ছাকৃত ভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননার দৃষ্টতা দেখাচ্ছে। অথচ সকল যুগের জ্ঞানী মনীষীরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক বাক্যে সর্বকালের সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব ও মহামানব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননা করে আমেরিকায় চলচ্চিত্র নির্মাণ ও ফ্রান্সে পত্রিকায় কার্টন ছাপানোর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতিসংঘ, আরবলীগ, ও.আই.সি ও আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথীর মাহমুদ সহ বিশ্বসংস্থা সমূহকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহব্বান জানান। বিশেষ অতিথি ছিলেন- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী। সভাপতিত্ব করেন-কুয়ালামপুর আন্জুমান আহ্বায়ক মুহাম্মদ শিপন আলী। হুজুর কেবলার জীবন দর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মুহাম্মদ মাসুদ রানা, মুহাম্মদ কবির মিয়া, মুহাম্মদ আক্তার হোসেন, মুহাম্মদ মনির হোসেন, আবু কাউছার ভূঁইয়া, মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, আব্দুর রউফ, মুহাম্মদ সেলিম, মুহাম্মদ ওমর ফারুক প্রমুখ। বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র বলেন আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) তাঁর বেলায়তী ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার মাধ্যমে ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়াকে বিশ্ব দরবারে সু-প্রতিষ্ঠিত ভিত্তির উপর দাঁড় করে দিয়ে গেছেন। তিনি এ ত্বরীক্বার প্রেমবাদ নীতি অনুসরণের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে মাইজভান্ডারী ত্বরীক্বার পতাকা তলে ঐক্য বদ্ধ করতে শান্তির মিশন নিয়ে জাতিসংঘ সহ প্রাচ্য ও প্রাচ্যত্বের বিভিন্ন দেশ সফর করে জাতি ধর্ম-নির্বিশেষে সকলকে ইসলামের সু-শীতল ছায়াতলে একত্রিত হওয়ার প্রেরনা জুগিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন হুজুর কেবলার সান্নিধ্যে গেলে যে কোন লোকের অন্তরে আল্লাহ্ ভীতি ও রাসূল প্রেম পয়দা হতো। পরে মুসলিম উম্মাহ ও সর্বমানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)।

Posted in Uncategorized, বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী | Comments Off on মালয়েশিয়ায় আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর বাৎসরিক ওরশ শরীফ পালিত

আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সঠিক আক্বিদার সংরক্ষক ও প্রচারক হিসেবে মাইজভান্ডারী ত্বরীক্বার বিকল্প নেই

আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সঠিক আক্বিদার সংরক্ষক ও প্রচারক হিসেবে মাইজভান্ডারী ত্বরীক্বার বিকল্প নেই -আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উদ্যোগে ফটিকছড়ি নাজিরহাট সুন্নি সম্মেলনে-আল্লামা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রাম ফটিকছড়িস্থ নাজিরহাট জারিয়া কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন ময়দানে ১১ মে’২০১২ ঈসাব্দ, জু’মাবার সুন্নি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন- মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীক্বত হযরতুলহাজ্ব মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.)।

তিনি বলেনÑ ৫৭০ ঈসাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র জগতবাসীর জন্য রহমত হিসেবে রেসালাতের মহান গুরু দায়িত্ব নিয়ে এ পৃথিবীতে তশরীফ আনেন। তাঁর আগমনে সমগ্র সৃষ্টিকুল আনন্দ-উল্লাস ও জুলুস করে সে আনন্দের বহি: প্রকাশ ঘটায়। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবার হতে লা’নত প্রাপ্ত হয়ে বিতাড়িত ইবলিশ শয়তান খুশী হতে পারে নাই। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন আজ এক শ্রেণীর মুসলমান নামধারী কিছু লোক প্রশ্ন করে বলে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ঈদ? তাঁরা ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শান-মান নিয়ে কটাক্ষ করে কথা বলে। তাদের জানা উচিত নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালবাসাই ঈমানের মূল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শানে বেয়াদবী করে কখনও ইসলাম কায়েম করা যাবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন সুন্নীয়ত প্রতিষ্ঠায় মাঠে ময়দানে বাতিলের বিরুদ্ধে সকল সুন্নী ওলামা মাশায়েখ ও সুন্নী জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি সকল সুন্নী পীর মাশায়েখ আলেম ওলামাকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্নীয়তের ঝান্ডাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন মছলকে আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামাতের সঠিক আক্বিদার সংরক্ষক ও প্রচারক হিসেবে মাইজভান্ডারী ত্বরীক্বার বিকল্প নেই।

সম্মেলনে উদ্বোধক ছিলেন মতি ভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত মাওলানা কাজি আব্দুল হালিম শাহ জয়নাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন- ভক্তপুর হোসাইনিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হযরতুল আল্লামা কাজী মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম আল-কাদেরী, জনাব এম ছালামত উল্লাহ চৌধুরী চেয়ারম্যান, জনাব এস. এম. শফিউল আলম চেয়ারম্যান।

আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন- রাঙ্গুনিয়া গোছারা বাজার জামে মসজিদের খতিব হযরতুলহাজ্ব আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ রুহুল আমিন সাহেব, আমতল ছিদ্দিক্বীয়া রহমানিয়া মইনীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বাকের আনছারী, নাজিরহাট জে. এম. আহমদিয়া কামেল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুল ছালাম শরীফি, রাণীরহাট ইসলামীয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা আবুল কালাম বয়ানী, হাদীনগর দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আল্লামা সহিদুল আলম শাহ আল-হাদী, হযরত মাওলানা আলী মর্তুজা সিরাজী, আলহাজ্ব কবির আহমদ (মুছার বাপ), মুহাম্মদ আবুল কাশেম তালুকদার প্রমুখ ছাড়াও আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মাহফিল শেষে দেশ জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)।

সুফি দেস্ক্

Posted in Uncategorized | Comments Off on আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সঠিক আক্বিদার সংরক্ষক ও প্রচারক হিসেবে মাইজভান্ডারী ত্বরীক্বার বিকল্প নেই

উপ মহাদেশের আধ্যাত্মিক সম্রাট খাজা মইনুদ্দীন চিশ্তী (রহ.) এর জীবনাদর্শ অনুসরণের মধ্যে মানব কল্যাণ নিহিত

উপ মহাদেশের আধ্যাত্মিক সম্রাট খাজা মইনুদ্দীন চিশ্তী (রহ.) এর জীবনাদর্শ অনুসরণের মধ্যে মানব কল্যাণ নিহিত

গত ১৪ জুন’২০১২ ঈসাব্দ চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ কমপ্লেক্স ময়দানে সুলতানুল হিন্দ হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজের ৮০০তম সালানা ওরশ শরীফ উদ্যাপন উপলক্ষে আশেকানে গরীবে নেওয়াজ পরিষদের ব্যবস্থাপনায় বিশাল মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্ফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শাহ্জাদায়ে গাউছুল আ’যম শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী মাইজভান্ডারী বলেন, বিশ্বব্যাপী আজ মুসলিম জাতির উপর যে নিপীড়ন নির্যাতন চলছে, সে নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হলো আউলিয়া-ই-কেরামের আদর্শ অনুসরণ করা। তিনি বলেনÑ উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক সম্রাট খাজা মইনুদ্দীন চিশ্তী (রহ.) এর জীবনাদর্শ অনুসরণের মাঝেই মানব কল্যাণ নিহিত।

অধ্যক্ষ জালালুদ্দীন আল্-কাদেরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ মেহমান ছিলেন আল্হাজ্ব সুফী মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন সম্মেলন উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক আলহাজ্ব কবীর চৌধুরী। তকরীর করেন অধ্যক্ষ আ.ন.ম. দেলাওয়ার হোসাইন আল্-কাদেরী, মুফতী আল্লামা অছিয়ুর রহমান, আল্লামা কাজী মইনুদ্দীন আশরাফী, আল্লামা হাফেজ আনিসুজ্জামান, মাওলানা ইউনুস রেজভী, আলহাজ্ব মাওলানা ইউনুস তৈয়বী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আল্হাজ্ব মাওলানা নুর মুহাম্মদ ছিদ্দিকী।

পরিশেষে সালাত-সালাম সমাপান্তে দেশ ও জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আওলাদে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.)।

সুফি দেস্ক্

Posted in Uncategorized | Comments Off on উপ মহাদেশের আধ্যাত্মিক সম্রাট খাজা মইনুদ্দীন চিশ্তী (রহ.) এর জীবনাদর্শ অনুসরণের মধ্যে মানব কল্যাণ নিহিত

সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.ছি.আ.) এর রওজা শরীফ কমপ্লেক্স বিনির্মাণে তুর্কী স্থপতি প্রকৌশলীদের অভিপ্রায় ব্যক্ত

সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.ছি.আ.) এর রওজা শরীফ কমপ্লেক্স বিনির্মাণে তুর্কী স্থপতি প্রকৌশলীদের অভিপ্রায় ব্যক্ত

তুরস্কের স্থপতি প্রকৌশলীদের একটি দল মাইজভান্ডার গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মন্জিলে সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আ’যম মাইজভান্ডারী আল্হাজ্ব শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী (ম.জি.আ.) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং আওলাদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শায়খুল ইসলাম, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.) এর রওজা শরীফ কমপ্লেক্স নির্মাণ সংক্রান্ত আলোচনা করেন।

আলোচনায় সাজ্জাদানশীন হুজুর বলেন বাবাজানের রওজা শরীফ কমপ্লেক্সটি হবে একটি বিশ্ব মানের, সে নির্মাণ শৈলীতে থাকবে ইসলামী মুল্যবোধ, ধর্মীয় চেতনা, আধ্যাত্মিক ভাব গাম্ভীর্য ও নয়নাভিরাম স্থাপত্য। থাকবে মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, হেফজখানা, গবেষণাগার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদী। তুর্কী স্থপতি প্রকৌশলীগণ অনুরূপ একটি রওজা শরীফ কমপ্লেক্স স্থাপনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন এবং কমপ্লেক্সের সীমানা ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন।

তাদের সাথে আগত অতিথিদের মধ্যে বিশিষ্ট শিল্পপতি সূফী মিজানুর রহমান সাহেব ও মাইজভান্ডার রহমানিয়া মইনীয়া দরসে নেজামী মাদসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা গোলাম মুহাম্মদ খান সিরাজী উপস্থিত ছিলেন।

সুফি দেস্ক্

Posted in Uncategorized | Comments Off on সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.ছি.আ.) এর রওজা শরীফ কমপ্লেক্স বিনির্মাণে তুর্কী স্থপতি প্রকৌশলীদের অভিপ্রায় ব্যক্ত

আন্জুমানের উদ্যোগে মতলবে খলিফা নওশের আলী স্মরণে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

আন্জুমানের উদ্যোগে মতলবে খলিফা নওশের আলী স্মরণে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়া চাঁদপুর, মতলব উত্তর শাখার উদ্যোগে ২০ মে, ২০১২ঈসাব্দ, রবিবার খলিফা শাহ্ মুহাম্মদ নওশের আলী মাইজভান্ডারীর স্মরণে তাঁর নিজ বাড়িতে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, আন্জুমান কেন্দ্রীয় সভাপতি রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীক্বত হযরতুল্হাজ্ব মাওলানা সৈয়দ সাাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.)।

তিনি বলেন- ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়ার গোলামীর স্বীকৃতি স্বরূপ, মুর্শিদে মোকারম আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.) খলিফা শাহ্ নওশের আলীসহ অসংখ্য লোককে খিলাফতের মহান নেয়ামত দান করে ধন্য করেছেন। যার ফলশ্র“তিতে ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়ার প্রচার-প্রসার আরো বেগবান হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাহফিলে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, অনলবর্ষী বক্তা খলিফায়ে গাউছুল আ’যম মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া মাইজভান্ডারী, মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মুহাম্মদ নূরে আলম, মুহাম্মদ মনির হোসেন প্রমুখসহ আন্জুমান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মাইজভান্ডারী আশেক ভক্তসহ সুন্নী জনতার উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়।

সুফি দেস্ক্

Posted in Uncategorized | Comments Off on আন্জুমানের উদ্যোগে মতলবে খলিফা নওশের আলী স্মরণে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত