চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক ও সূফীতাত্ত্বিক মণীষী আওলাদে রাসূল (দ.) হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র দ্বিতীয় বার্ষিক ওরশ শরীফ পালিত।

হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র দ্বিতীয়
বার্ষিক ওরশে মাইজভাণ্ডার শরীফে লাখো ভক্ত জনতার ঢল
অশান্ত সংঘাত মুখর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আউলিয়ায়ে কেরাম
অনুসৃত ইসলামের সূফীতাত্ত্বিক দর্শনের বিকাশ ঘটাতে হবে

চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক ও সূফীতাত্ত্বিক মণীষী আওলাদে রাসূল (দ.) হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র দ্বিতীয় বার্ষিক ওরশ শরীফ দেশের দূর-দুরান্ত থেকে আগত লাখো ভক্তজনতার অংশগ্রহণে এবং দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-কল্যাণ কামনায় আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। আজ ১৭ আগস্ট শনিবার ওরশ শরীফের প্রধান দিবসে আয়োজিত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, হুযুর কেবলার স্থলাভিষিক্ত আওলাদ, রাহবারে শরীয়ত ও ত্বরীক্বত হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। ওরশ শরীফ উপলক্ষ্যে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানীর (ক.) রওজা শরীফে ভক্ত জনতা জিয়ারত, জিকির, কুরআন তেলাওয়াতসহ মিলাদ মাহফিলে শামিল হয়ে আল্লাহর অনুগ্রহ ও আপন মুর্শিদের করুণাধন্য হবার লক্ষ্যে অশ্র“সিক্ত আকুতি-ফরিয়াদ জানান। ওরশ শরীফের দিনব্যাপী কর্মসূচীতে ছিল রওজায় গিলাফ চড়ানো, মুর্শিদ কেবলার (ক.) জীবনদর্শনের ওপর আলোচনা, মিলাদ মাহফিল এবং জিকির, সালাত ও সালাম শেষে আখেরী মুনাজাত। ওরশ মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.) বলেন, মাইজভাণ্ডার দরবার আল্লাহর ওলীদের পরশধন্য একটি আধ্যাত্মিক প্রাণকেন্দ্র। এখানকার মহাত্মা ওলী-বুজুর্গগণ সর্বমানবতার কল্যাণ-শান্তি ও সমৃদ্ধির শ্রেষ্ঠতম ওসিলা। ঠিক তেমনি নিজের অসীম আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ও তুলনারহিত ব্যক্তিত্বের আকর্ষণে সর্বস্তরের অনুগ্রহ প্রত্যাশীদের হাজত মকসুদ পূরণের আধ্যাত্মিক ঠিকানা ছিলেন আওলাদে রাসূল (দ.) হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)। তিনি বলেন, ইসলামের আসল রূপ ও দর্শন হচ্ছে সূফীবাদ। মাইজভাণ্ডারী ত্বরীক্বা ও দর্শন ইসলামেরই নির্যাস মাত্র। যুগেযুগে সকল দেশে সূফীবাদী দর্শনের প্রচার-প্রসারে অতুলণীয় ভূমিকা রাখেন মানবশ্রেষ্ঠ আউলিয়ায়ে কেরাম। শান্তি-সম্প্রীতির বার্তাবাহী উদারনৈতিক সূফীতাত্ত্বিক দর্শন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ইসলামের নামে উগ্রবাদী মানবতাবিরোধী তৎপারতা চলতে থাকায় পৃথিবীজুড়ে আজ অশান্তি-সংঘাত লেগেই আছে। অশান্ত-সংঘাত মুখর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আউলিয়ায়ে কেরাম অনুসৃত সূফীতাত্ত্বিক দর্শনের বিকাশ ঘটাতে হবে। বিদ্বেষ, হানাহানি ও নৈরাজ্যপূর্ণ অবস্থা থেকে নি®কৃতি পেতে সূফীবাদ ও মাইজভাণ্ডারী দর্শনকে আজ গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। ওরশ মাহফিলে মুর্শিদ কেবলার (ক.) জীবন দর্শনের নানা দিক্ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের সচিব খলিফা আলহাজ্ব মহসিন চৌধুরী, আন্জুমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলহাজ্ব কবির চৌধুরী, মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী, অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম মুহাম্মদ খান সিরাজী, অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক কুতুবী, অধ্যক্ষ মাওলানা বাকের আনচারী, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ রেজা মিন্টু, দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী শহিদুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহের আলম, খলিফা মুহাম্মদ আজিম উদ্দিন প্রমুখ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট্য রাজনীতিবীদ আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ার, শাহজাদায়ে গাউছুল আযম আলহাজ্ব হযরত সৈয়দ মেহবুব-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী (ম.জি.আ.), শাহজাদায়ে গাউছুল আযম আলহাজ্ব হযরত সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী (ম.জি.আ.), শাহজাদায়ে গাউছুল আযম আলহাজ্ব হযরত সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। সালাত-সালাম পরিবেশন শেষে দেশ ও বিশ্ববাসীর কল্যাণ-সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর রহমত কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। তবরুক বিতরণের মধ্য দিয়ে ওরশ শরীফের কর্মসূচীর সমাপ্তি ঘটে।

Posted in Uncategorized | Comments Off on চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক ও সূফীতাত্ত্বিক মণীষী আওলাদে রাসূল (দ.) হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র দ্বিতীয় বার্ষিক ওরশ শরীফ পালিত।

১৭ আগষ্ট (শনিবার) বিশ্ব শান্তির দূত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর ২য় ওরশ শরীফ।

১৭ আগষ্ট (শনিবার) বিশ্ব শান্তির দূত
শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর ২য় ওরশ শরীফ।

আগামী ১৭ আগষ্ট (শনিবার) বিশ্ব শান্তির দূত, ত্বরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দিকপাল, আওলাদে রাসূল (দ.), শায়খুল ইসলাম, হুজুরে গাউছুল ওয়ারা হযরতুলহাজ্ব শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী (ক.)’র দ্বিতীয় ওরশ শরীফ উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক চর্চ্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র দরবার-এ গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী, ফটিকছড়ি, চট্রগ্রামে ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য্যতার সাথে অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষ্যে আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে দিনব্যাপী খতমে কোরআন, “বিশ্বব্যাপী শান্তি” স্থাপনে তাঁর কর্মময় জীবনীর উপর আলোচনা সভা,পবিত্র মাজারে গিলাফ চড়ানো,দুরুদ-সালাম ও সালাত, ওয়াজ, জিকির মাহফিল, তবারক বিতরন ইত্যাদি কর্মসুচী পালিত হবে।

আলোচনা সভা ও আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করবেন তাঁরই স্থলাভিষিক্ত সাজ্জাদানশীন দরবার-এ গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী ও আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সভাপতি হযরতুলহাজ্ব শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী মাইজভান্ডারী(মাঃ জিঃআঃ)।

উক্ত মহান ওরশ শরীফে জাতি,ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে আমন্ত্রন জানানো হচ্ছে।

Posted in Uncategorized | Comments Off on ১৭ আগষ্ট (শনিবার) বিশ্ব শান্তির দূত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর ২য় ওরশ শরীফ।

আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে আওলাদে হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র স্মরণসভা, বদর দিবস ও রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ইফতার মাহফিলঅনুষ্ঠিত।

আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার স্মরণসভায় বক্তারা
সুন্নীয়ত ও মাইজভাণ্ডারী দর্শন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সর্বোত্তমভাবে তুলে ধরেছেন সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)

আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে আওলাদে রাসূল (দ.) শায়খুল ইসলাম, হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র দ্বিতীয় চান্দ্রবার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে স্মরণসভা, বদর দিবস ও মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ইফতার মাহফিল ২৭ জুলাই শনিবার বিকেলে চট্রগ্রাম নগরীর জি ই সি মোড়ে কে স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সভাপতি পীরে ত্বরীক্বত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহিতা ও খোদাভীতির চেতনা জাগ্রত রাখাই মাহে রমজানের দর্শন। এ মাসের ১৭ রমজান সংঘটিত বদর যুদ্ধের মুসলমানদের বিজয়ের মাধ্যমে অন্যায়, মিথ্যা ও কুফরী শক্তির বিরুদ্ধে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পতাকা উড্ডীন হয়েছিল। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এবং দ্বীন-ইসলামের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করাই বদর দিবসের শিক্ষা। বদর যুদ্ধের চেতনায় সমাজ থেকে অশুভ ও মানবতবিরোধী শক্তির অপছায়া সরাতে হক্কানি দেশপ্রেমিক সুন্নি জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বক্তারা বলেন, সুন্নিয়ত ও মাইজভাণ্ডারী দর্শনই অশান্ত দ্বন্দ্বমুখর বিশ্বে শান্তির বাতাবরণ তৈরী করতে পারে।

সুন্নিয়ত প্রচারে ও মাইজভাণ্ডারী দর্শনকে আন্তর্জাতিকভাবে সর্বোত্তমভাবে তুলে ধরেছেন শায়খুল ইসলাম, গাউসুল ওয়ারা হযরতূল আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী(ক.)। তিনি আজীবন নিজেকে সুন্নীয়ত ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় উৎসর্গ করেন। তাঁর পদাংক অনুসরণের মাধ্যমে অনৈক্য দ্বন্দ্বে নিমজ্জিত মুসলিম উম্মাহ আত্মমর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র জীবন দর্শন ও বদর দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন, সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মুহাম্মদ আফজাল, পীরে ত্বরীক্বত আল্লামা হাফেজ সাইফুর রহমান নেজামী, খতিবে বাঙাল অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দীন আল-কাদেরী, পীরে ত্বরীক্বত আল্লামা ইলিয়াস রেজভী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ভিচি প্রফেসর ড. মইনুদ্দিন আহমদ খান, ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবীদ মাওলানা এম এ মতিন, অধ্যক্ষ আল্লামা এস এম ফরিদ উদ্দিন, প্রফেসর ড. এস এম রফিকুল আলম, অধ্যক্ষ আল্লামা হারুনুর রশিদ, অধ্যক্ষ আল্লামা এ এফ এম ফরিদ উদ্দিন, মাওলানা হোসাইন আহমদ ফারুকী, খলিফা এডভোকেট কাজী মুহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, আন্জুমানের সহসভাপতি আলহাজ্ব কবির চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যক্ষ আ ন ম দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভাণ্ডারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আল্লামা ক্বারী নূরুল আলম খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ার, অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক কুতুবী, মাওলানা শায়ের হারুনুর রশিদ, মাওলানা ইয়াছিন মাদানী, মাওলানা সালেহ সুফিয়ান ফরহাদাবাদী, মাওলানা কাজী তওহিদুল আলম, পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ ইদ্রিস, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা এ.টি.এম পেয়ারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ হারুন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এই দ্বীন-ইসলামকে প্রতিষ্ঠার জন্য যুগে যুগে আউলিয়ায়ে কেরাম নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। তেমনি সুন্নিয়ত প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত ছিলেন শাহ্সূফী মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)। আলোচক এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী আজ মুসলিম দেশগুলোতে হানাহানি ও মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য বিরাজ করছে। এই অপ্রীতিকর অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আল্লামা সাইফুর রহমান নিজামী বলেন, সুন্নী উলামা জনতাকে সুন্নিয়তের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার আজীবন চেষ্টা করে গেছেন গাউসুল ওযারা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওযার হোসাইনী মাইজভান্ডারী (ক.)। তিনি আমাদের উজ্জীবন ও প্রেরণার উৎস। অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দীন আল্-কাদেরী বলেন, নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে দ্বীন ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সতত প্রয়াস চালিয়ে যাওয়াই বদর দিবসের শিক্ষা। ড. মইনুদ্দীন আহমদ খান বলেন, বহুধা বিভক্ত মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করাই আজ আমাদের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত। কুরআন সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরলে মুসলমানরা হারানো গৌরব ও মর্যাদা ফিরে পাবে। মাওলানা এম এ মতিন বলেন, সুন্নিয়তের জন্য হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র ত্যাগ ও অবদান কখনো ভোলা যাবে না। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার প্রতি তাঁর বিশেষ সুদৃষ্টির কথা স্মরণ করেন তিনি। মাওলানা শায়ের হারুনুর রশিদের পরিবেশনায় সালাত মিলাদ কিয়াম শেষে দেশ ও বিশ্ববাসির শান্তি-কল্যাণ কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহসূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল- হাসানী মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.)।

Posted in Uncategorized | Comments Off on আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে আওলাদে হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র স্মরণসভা, বদর দিবস ও রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ইফতার মাহফিলঅনুষ্ঠিত।

পাবনা জেলার বেরা, দত্তকান্দিতে এক পবিত্র ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

“মাইজভান্ডারী ত্বরীক্বার প্রেমবাদ নীতি অনুসরণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব” -পাবনা জেলার বেরা উপজেলার দত্তকান্দিতে ওয়াজ মাহফিলে
মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

গত ২৫ মে’২০১২ ঈসাব্দ, জুমা’বার পাবনা জেলার বেরা, দত্তকান্দিতে এক পবিত্র ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন দরবারে গাউছুল আ’যম মাইজভান্ডারীর সাজ্জাদানশীন, আওলাদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মুরর্শিদে বরহক, হযরত মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)।

হুজুর ক্বেবলা কুরআন পাকের উদৃতি দিয়ে বলেন “ইয়া আইউহাল্লাজীনা আমানুত্তাকুল্লাহা ওয়া কূনূ মায়াস সাদেক্বীন” অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আল্লাহর আওলিয়া-এ-কেরামের সঙ্গ লাভ কর। অর্থাৎ আল্লাহ্ পাককে যথাযথভাবে ভয় করে আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের জন্য প্রথম সোপন হলো কামেল মুরর্শিদ অলি-আল্লাহর সঙ্গলাভ করা।

তিনি আরো বলেন আমাদের বিরাট সৌভাগ্য বাংলার জমিনে ইমামূল আওলিয়া হযরত গাউছুল আ’যম মাইজভান্ডারী শুভজন্ম লাভ করেছেন এবং ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়ার প্রবর্তন করেছেন। বাংলার জমিনে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরীক্বা হলো ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়া। সমসাময়িক কালে দেশের প্রসিদ্ধ আলেম ওলামাগণ এ ত্বরীক্বার অনুসারী ছিলেন। মানব প্রেমই এ ত্বরীক্বার মূল শুর তাই আমরা হযরত গাউছুল আ’যম মাইজভান্ডারীর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তাঁর প্রেমবাদ নীতি অনুসরণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি ও শৃংখলা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিশেষে মীলাদ কেয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি হয়।
সুফি দেস্ক্

Posted in Uncategorized | Comments Off on পাবনা জেলার বেরা, দত্তকান্দিতে এক পবিত্র ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

খোদাদ্রোহী-নবীদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারসহ ওহাবী-মওদুদীবাদীদের থাবা বিস্তারের পেছনে কোনো বিদেশি চক্রের হাত আছে কিনা তা তদন্ত হওয়ার দরকার -লালদীঘি ময়দানে সুন্নী মহাসমাবেশে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

খোদাদ্রোহী-নবীদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারসহ ওহাবী-মওদুদীবাদীদের থাবা বিস্তারের পেছনে কোনো বিদেশি চক্রের হাত আছে কিনা তা তদন্ত হওয়ার দরকার -লালদীঘি ময়দানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত আয়োজিত স্মরণকালের বৃহত্তম সুন্নী মহাসমাবেশে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

২০ এপ্রিল শনিবার দুপুর ২টা থেকে চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত আয়োজিত স্মরণকালের বৃহত্তম সুন্নী মহাসমাবেশে উলামা মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ ১২ দফা দাবি পেশ করে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত পরিবহনে আসা সর্বস্তরের লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সুন্নী মহাসমাবেশে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.) বলেছেন, ইসলাম ও মুসলমানদের ঘিরে সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর বহুমুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশে দেশে ধর্মবিরোধী নাস্তিক্যবাদী বিভীষিকা সৃষ্টির পাশাপাশি গোঁড়া কট্টরপন্থিদের লেলিয়ে দিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্বিচারে হত্যা ও পাশবিক উন্মত্ততা চলছে কেবল মুসলমানদের ওপর। তিনি আরও বলেন, সাম্রাজ্যবাদীরা একদিকে নাস্তিক্যবাদীদের উস্কানিদাতা, অন্যদিকে জঙ্গীদের প্রতিরোধের অজুহাতে জঙ্গী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। খোদাদ্রোহী-নবীদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারসহ ওহাবী-মওদুদীবাদীদের থাবা বিস্তারের পেছনে কোনো বিদেশি চক্রের হাত আছে কিনা তা তদন্ত হওয়ার দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। উলামা-মাশায়েখগণ বলেন, নাস্তিক ব্লগার ও জামায়াত-হেফাজতিদের মুখোমুখি অবস্থানের জের ধরে সৃষ্ট সংঘাত প্রতিকারবিহীনভাবে চলতে থাকলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে দেশের অভ্যন্তরে বিদেশী হস্তক্ষেপের আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই সংঘাত ও দাঙ্গা হাঙ্গামার যেকোনো ইন্ধনকেই দেশ ও জাতির স্বার্থে আমলে আনতে হবে। অথচ সরকার শুরুতে এই বিষয়টি আমলে না নেয়ায় নাস্তিক ব্লগারসহ নবীদ্রোহী ওহাবী মওদুদীবাদীরা আরো বেশি দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে। গত বছর হাইকোর্টের আদেশ মেনে দোষী ব্লগারদের আটক করা হলে আজ জঙ্গীবাদী হেফাজতিরা ধর্ম রক্ষার নামে এতটুকু আস্ফালন প্রদর্শনের সুযোগ পেত না। তারা আরও বলেন সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর আজ্ঞাবহ হেফাজত-জামায়াত চক্রের ইসলামের নামে সহিংসতা ও ভ্রান্ত মতবাদের বিস্তার রোধ ও এদের অপরাজনীতির স্বরূপ উন্মোচনের জন্য দেশপ্রেমিক হক্কানি উলামা-মাশায়েখদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। বক্তরা আফগানিস্তানের তালেবানি ধাঁচে উগ্রবাদী কার্যকলাপের মাধ্যমে মসনদ দখল করার হেফাজতি-জামায়াতিদের দুরভিসন্ধির ব্যাপারে সরকার ও দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম আল্লামা কাজী মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম হাশেমী (মা.জি.আ.), খতীবে বাঙাল অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দীন আল-কাদেরী, পীরে ত্বরীকত আল্লামা মুফতী ইদরিস রেজভী, পীরে ত্বরীক্বত আল্লামা আজিজুল হক আল-কাদেরী, শেরে মিল্লাত আল্লামা মুফতী ওবাইদুল হক নঈমী, পীরে ত্বরীকত আল্লামা সাইফুর রহমান নিজামী শাহ্, অধ্যক্ষ আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ নূরুল মুনাওয়ার প্রমুখ। সুন্নী মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহাসমাবেশ সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা এম এ মতিন। সদস্য সচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার ও মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ মহাসমাবেশ সঞ্চালনা করেন। সুন্নী মহাসমাবেশের ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন অধ্যক্ষ আল্লামা আবুল ফরাহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। সমবেত লক্ষ লক্ষ জনতা হাত তুলে ১২ দফা দাবির প্রতি সংহতি ও সমর্থন প্রকাশ করেন। সুন্নী মহাসমাবেশ থেকে ঘোষিত ১২ দফা দাবিতে রয়েছে সংবিধানে আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংযোজন করা, খোদাদ্রোহী নবী-ওলীদ্রোহী ওহাবী মওদুদীবাদীসহ নাস্তিক ব্লগারদের ইসলাম অবমাননার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান, মায়ানমারসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ওপর দমন নিপীড়ন বন্ধ করা, দেশঘাতী ধ্বংসাত্মক হরতাল-অবরোধ আইন করে নিষিদ্ধ করা, গৃহীত সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করা, নারী সাংবাদিকসহ গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতন বন্ধ করা, জামায়াতের আড়ালে বিদেশি জঙ্গীদের অনুপ্রবেশ রোধ করা ও তবলিগী কার্যক্রমে সরকারের নজরদারি বাড়ানো, প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে ইসলামী শিক্ষা পড়ানোর জন্য দক্ষ কামিল পাস শিক্ষক নিয়োগ দেয়া, নাস্তিক-ওহাবী-মওদুদী ও কাদিয়ানিদের সকল ভ্রান্ত মতবাদের ইসলাম অবমাননাকর প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করা, সুন্নী উলামা-মাশায়েখ ও মাজার খানকাহগুলোর নিরাপত্তা দেয়া, নিরীহ মানুষ, সংখ্যালঘু, পুলিশসহ সকল খুন, গুম, মানবাধিকার লংঘনে অভিযুক্ত ও সরকারি বেসরকারী স্থাপনায়-পরিবহনে হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানানো হয়। মহাসমাবেশে অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ত্বরীক্বত ফেডারেশনের সভাপতি পীরে ত্বরীক্বত হযরত সৈয়দ মজিবুর বশর মাইজভাণ্ডারী, পীরে ত্বরীক্ব আল্লামা আবদুল করিম সিরাজনগরী, পীরে ত্বরীক্বত আল্লামা আবদুস শাকুর নকশবন্দী, আন্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব পেয়ার মুহাম্মদ প্রমুখ। পরে সালাত-সালাম শেষে দেশ জাতি ও জাতি সর্বমানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়ার অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দীন আল-কাদেরী।

Posted in Uncategorized | Comments Off on খোদাদ্রোহী-নবীদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারসহ ওহাবী-মওদুদীবাদীদের থাবা বিস্তারের পেছনে কোনো বিদেশি চক্রের হাত আছে কিনা তা তদন্ত হওয়ার দরকার -লালদীঘি ময়দানে সুন্নী মহাসমাবেশে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

ওমান আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়ার মাহফিলে শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.) প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে-শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে-ওমান আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়ার মাহফিলে শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

ওমান আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার আমন্ত্রণে সপ্তাহব্যাপী সফরে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী গত ৬ জুলাই ওমান গমন করেন। তিনি সালালায় নবী হযরত ইমরান (আ.) এর মাজার, নবী হযরত সালেহ বিন হুদ (আ.), নবী হযরত আইয়ুব (আ.), সালালা মিরবাতি শহরে আওলাদে রাসুল (দ.) মোহাম্মদ (রহ.) এর মাজার শরীফ জিয়ারত করেন এবং ওমানের বিভিন্নস্থানে আয়োজিত মাহফিলে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আন্জুমান সংযুক্ত সুলতানাত অব ওমান শাখার উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) মাহফিল ১৩ জুলাই মাস্কটের গোল্ডেন গোল্ড হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। মুহাম্মদ আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সভাপতি রাহবারে শরীয়ত ও ত্বরীক্বত হযরত শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে দেশের অর্থনীতি আজ শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দেশ হতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন দেশে ছুটে যান পরিবারের সুখ শান্তির আশায়। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করতে প্রবাসীরা কঠোর পরিশ্রম করেন। কিন্তু প্রবাসীরা নানা সমস্যায় ও বিপদে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা পান না। সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, বিদেশে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে এবং দূতাবাসগুলোতে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ জনবল নিয়োগ করে প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে রাখতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা। তিনি প্রবাসে মাইজভাণ্ডারী দর্শনের প্রচারে ও সুন্নিয়ত চর্চা জোরদারে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাংগঠনিক তৎপরতা এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন। এছাড়া আন্জুমান হামিরিয়া শাখার উদ্যোগে মাস্কট টাওয়ার হলে, ওয়াদি কবির ও আল মোছেনা শাখার উদ্যোগে তরিফ দায়রা শরীফে এবং আশেকানে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মাহফিল সমূহে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.) প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। মাহফিলে উলামায়ে কেরামের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুফতী বাকি বিল্লাহ আল-আযহারী, হাফেজ মুহাম্মদ মফিজ। মাহফিল সমূহে আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মুহাম্মদ দিদারুল আলম, মুহাম্মদ সেলিম ভাণ্ডারী, মুহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস, মুহাম্মদ ওসমান আলী, মুহাম্মদ আব্দুর রব, মুহাম্মদ ফজল কাদের, মুহাম্মদ শফি, মুহাম্মদ তৌহিদ, মুহাম্মদ আবদুল খালেক মিঠু। মাহফিলগুলোতে দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহসূফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (মজিআ)।

Posted in Uncategorized | Comments Off on ওমান আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়ার মাহফিলে শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.) প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে-শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

বিশ্বব্যাপী মাইজভাণ্ডারী দর্শন তুলে ধরতে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে- ইউএই আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়ার কাউন্সিলে হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী

বিশ্বব্যাপী মাইজভাণ্ডারী দর্শন তুলে ধরতে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে-
ইউএই আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়ার কাউন্সিলেহযরত শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী

আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ইউএই কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও প্রতিনিধি সম্মেলন আজ ১৯ জুন আজমানস্থ রায়হান হোটেল মিলনায়তনে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মুহাম্মদ জানে আলম দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সভাপতি পীরে ত্বরীক্বত শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভাণ্ডারী (ম.জি.আ)। তিনি বলেন, অশান্ত সংঘাতমুখর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মাইজভাণ্ডারী দর্শনের ব্যাপক চর্চা ও অনুশীলন প্রয়োজন। শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতাবাদী চেতনায় পুষ্ট মাইজভাণ্ডারী দর্শনকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে পৌঁছে দিতে সাংগঠনিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাংগঠনিক মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীক্বার অনুসারীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার ও পরিশ্রম করে যেতে হবে। যেকোনো আদর্শিক প্রয়াস সফল করতে শক্তিশালী মজবুত সংগঠনের বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, সুন্নিয়ত প্রচার ও মাইজভাণ্ডারী দর্শন চর্চা যতো বেগবান করা যাবে ততোই বিশ্বব্যাপী শান্তি, জননিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। পাশাপাশি ইহ জীবনের কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তি হবে ত্বরান্বিত। প্রবাসীদেরকে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রেখে দেশের সুনাম বৃদ্ধি ও দেশের উন্নতিতে অবদান রাখার তাগিদ দেন তিনি। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, মুহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস মাইজভাণ্ডারী, আলহাজ্ব আহমুদুর রহমান মাইজভাণ্ডারী, মুফতী মাওলানা বাকী বিল্লাহ আজহারী, মাওলানা নূরুল আমিন, হাফেজ মুহাম্মদ জহির উদ্দিন, মুহাম্মদ ওসমান, মুহাম্মদ রুহুল আমিন পাখি, ইউ এ ই আন্জুমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ আফছার উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আজিম উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মুহাম্মদ জাবেদুল আলম জাফর। কাউন্সিলে ইউএই’র বিভিন্ন দেশ থেকে আন্জুমানের কর্মকর্তা ও সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে মুহাম্মদ আবদুল কুদ্দুসকে সভাপতি ও মুহাম্মদ ওসমান আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ইউএই আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়। শেষে দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহসূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ)।

Posted in Uncategorized | Comments Off on বিশ্বব্যাপী মাইজভাণ্ডারী দর্শন তুলে ধরতে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে- ইউএই আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়ার কাউন্সিলে হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী

ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা ধর্ম অবমাননার নামান্তর- ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ।

ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা ধর্ম অবমাননার নামান্তর-
ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ।

১৮ মে ২০১৩ শনিবার বিকালে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়া জেলা শাখার উদ্যোগে চান্দুরা ডাকবাংলা মাঠে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় বিশ হাজারেরও অধিক ধর্মপ্রান মুসলমানের উপস্থিতিতে মাওলানা ওয়াহিদ সাবুরীর সভাপতিত্বে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথী ছিলেন মাইজভান্ডার দরবারশরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন আওলাদে রাসুল (দঃ) হযরতুলহাজ্ব শাহ সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (মাঃ জিঃ আঃ)। বিশেষ অতিথী ছিলেন চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরী।স্থানীয সংসদ সদস্য জনাব মুক্তাদিও চৌধুরী অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথীর বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন- ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা ধর্ম অবমাননার নামান্তর। রাষ্ট্র যদি অস্থিতিশীল হয় সেখানে ধর্ম পালন কঠিন। ধর্ম কখনোই সন্ত্রাস,জঙ্গী আচরনের মাধ্যমে সমাজে ভয় ভীতী ছড়িয়ে কারো হীনস্বার্থ হাসিলকে প্রশ্রয় দেয় না। ধর্মীয় অনুশাসন পালন, ধর্ম চর্চা ও অনুশীলন সকলের নাগরিক অধিকার এবং তা সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মাণে অতুলনীয় ভূমিকা রাখতে পাওে কিন্তু জোড় করে ধর্মের নামে কোন বিশৃঙ্খলা হানাহানী, মারামারি, অকল্যানকরকে ধর্ম সমর্থন করে না। ধর্মের শিক্ষাই হলো ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি এবং সকলেই একই স্রষ্টার সৃষ্টি এই সত্যকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা। ধর্মের নামে মানবতাবাদী শান্তির পরম ধর্ম পবিত্র ইসলামকে ব্যবহার করে কতিপয় দেশী বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহল বাংলাদেশে সন্ত্রাসী জঙ্গীবাদী কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান,গোষ্ঠি এ ধরনের হীন কাজের সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। তিনি সুন্নীয়তের সকল পীর মাশায়েখ ও অনুসারীদের সূন্নী সূপ্রীম ওলামা মাশায়েখ কাউন্সিলএর পতাকাতলে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহব্বান জানান।
চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরী বলেন, নবী রাসূলগণের পরে ওলী আউলিয়ার আদর্শকে অনুসরণের মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি স্থাপন করা সম্ভব। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান যারা আল্লাহ ও রাসূলগণকে এবং অলি আউলিয়াকে সম্মানের সাথে স্মরণ করে তারা কখনও সন্ত্রসের পথ বেছে নেয় না, তারা রাষ্টের নাগরিক কর্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আজও এ দেশে শান্তি বিদ্যমান আছে। দূর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য কিছু নামধারী মুসলমানরা বিভিন্ন সময়ে ওহাবী মওদুদী হেফাজতী সহ বিভিন্ন নামে উগ্র আচরনের মাধ্যমে ধর্মের অবমাননা করছে। খোদাদ্রোহী-নবীদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারসহ ওহাবী-মওদুদী, হেফাজতীদের থাবা বিস্তারের পেছনে কোনো বিদেশি চক্রের হাত আছে কিনা তা তদন্ত করা সহ দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন মাওলানা সাইফুর রহমান নিজামী, আঃ করিম সিরাজনগরী,মাওলানা শেখ নাইম,মুফতী উবাইদুল মোস্তফা,মুফতী বাকী বিল্লাহ আজহারী, মাওলানা রহুল আমিন ভূইয়া চাঁদপুরী সহ বিভিন্ন দরবারের প্রতিনিধিগন।

Posted in Uncategorized | Comments Off on ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা ধর্ম অবমাননার নামান্তর- ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ।

সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ধর্ম ঃ পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ

সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ধর্ম ঃ পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম, নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি ওয়া নুছাল্লিমু আলা হাবীবিহিল কারীম ওয়া আলা আলিহী ওয়া সাহ্বিহি ওয়া আওলিয়াইহী আজমাঈন। আম্মাবাদ।

সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, উপস্থিত সম্মানিত সুধী মন্ডলী-আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্মাতুল্লাহ।
আন্তর্জাতিক সূফী ঐক্য সংহতি (সূফীজ) এর আয়োজনে দেশ ও জাতির এ সন্ধিক্ষনে এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য আমি আয়োজকবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আল্লাহ পাক জল্লাজালালুহু কুরআন মজিদে ইরশাদ করেন “মা ইন্দাকুম ইয়ানফাদু ওমা ইন্দাল্লাহি বাক্বীন।” অর্থাৎ- যা কিছু তোমাদের নিকট সঞ্চয় রয়েছে বা যা কিছু তোমাদের নিজের উদ্দেশ্যে করেছো তা সমুদয় ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে যাবে, বিলীন হয়ে যাবে। আর যা কিছু আল্লাহর কোষাগারে জমা রেখেছ যা আল্লাহর উদ্দেশ্যে করেছো তা সমুদয় বাকি থাকবে, সেগুলো অনাদিকাল অক্ষয় থাকবে। তাই চিরস্থায়ী ভাবে কর্মকে চলমান রাখতে হলে তা আল্লাহর নিমিত্তেই করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি কল্পেই করতে হবে। আল্লাহ তা’য়ালা মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাদের আবাস ভূমি রূপে এ পৃথিবী সৃজন করেছেন। সর্ব সৃষ্টিকে মানব কল্যানার্থে সৃজন করেছেন। সুন্দর জাগতিক প্রাকৃতিক পরিবেশও তিনি সৃষ্টি করে রেখেছেন। মানুষ সামাজিক ভাবেই সমাজবদ্ধ জীব।

সমাজ বলতে বুঝায় সুন্দর পরিবেশ; মানুষের নির্বিঘেœ বসবাস করার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা সহকারে সুন্দর জীবন যাপনের ক্ষেত্র। যেখানে মানুষের যাবতীয় মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়। মৌলিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে অন্ন-বস্ত্র বাসস্থান, এর সুবিধা। আর নাগরিক অধিকার যেমন-শিক্ষা, চিকিৎসা, নির্বিঘেœ পথ চলা, ধর্ম পালন, জীবিকা নির্বাহ, রুজি-রোজগার, খেয়ে পরে বেঁচে থাকা ইত্যাদি। এসব কিছুর একটিও যদি খর্ব হয় বা লংঘিত হয় তাহলে তা মানবাধিকার লংঘনের পর্যায়ে পড়ে। এসব সঠিকভাবে পালিত হলে সামাজিক স্থিতিশীলতাও বজায় থাকবে।
বর্ণিত সব কিছু যথাযথ ভাবে ভোগ করতে বা পালন করতে ধর্মকে অবলম্বন করতে হয়। কেননা এক্ষেত্রে ধর্মীয় গুরুত্ব সর্বাধিক। ধর্মাচার পালন, ধর্ম চর্চা ও অনুশীলন সুস্থ সমাজ বিনির্মানে ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অতুলনীয় ভূমিকা রাখে। কোন ধর্মেই অসামাজিকতাকে অনুমোদন করে না। হোক সেটা যে কোন ধর্ম। ধর্ম বর্জন, ধর্মত্যাগ, ধর্মাবহেলা, ধর্মবিরোধিতা, ধর্মান্ধতা, ধর্মহীনতা এসব কিছুই অধর্ম। অধর্মের কারনে নৈতিক অবক্ষয় ঘটে যা সমাজের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং তাতে সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়। সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়।

সমাজকে স্থিতিশীল রাখতে সমাজবদ্ধ মানুষগুলোর নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে হবে, মানুষকে কর্মমুখী করার সাথে সাথে ধর্ম পালনেও উদ্বুদ্ধ করতে হবে, তাদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা যত বেশী সৃষ্টি করা যাবে তত বেশী সমাজের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে। রক্ষা পাবে সমাজে স্থিতিশীলতা। এক্ষেত্রে পবিত্র ইসলাম ধর্মের আবেদন খুবই ফলপ্রসূ ও
বাস্তবমুখী। কেননা আল্লাহ পাক এর নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র ধর্ম হলো পবিত্র ইসলাম। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাকের ঘোষণা রয়েছে যে, “ইন্নাদ্বীনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম” (আল কুরআন) অর্থাৎ- সন্দেহাতীত ভাবে আল্লাহ তা’য়ালার নিকট মনোনীত একমাত্র ধর্ম হলো আল ইসলাম। ইসলাম অর্থ শান্তি ও আনুগত্য। সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ দুটি আবশ্যকীয় ভাবে প্রযোজ্য। কারণ শান্তি বিরাজ করলেই সমাজ সুষ্ঠু সুন্দর ও সুস্থরূপে স্থিতিশীল থাকবে। আর শান্তি পেতে হলে মহান আল্লাহ তা’য়ালার আনুগত্য করতে হবে। তাঁর নির্দেশিত জনেরও আনুগত্য করতে হবে। যেমন আল্লাহ পাক কুরআন হাকীমে ইরশাদ করেন- “ইয়া আইউহান্নাছু’ বুদুল্লাহ” অর্থাৎ- হে মানব মন্ডলী তোমরা আল্লাহরই ইবাদত বন্দেগি কর। এ ঘোষণাটি সমগ্র মানবগোষ্ঠির জন্য প্রযোজ্য। আবার নির্দিষ্ট ভাবে ঈমানদার মুমিনের প্রতিও আদেশ জারী করে আল্লাহ পাক তার পাক কালামে অন্যত্র ঘোষণা করেন- “ইয়া আইউহাল্লাজীনা আমানূ আত্বিয়ুল্লাহা ওয়া আত্বিয়ুর রাছুলা ওয়া উলিল আমরি মিনকুম”। অর্থাৎ- তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, আল্লাহর রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতা ইমামদের আনুগত্য কর।” আল্লাহ রাসূল ও আওলিয়া-এ কেরামের আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে শান্তি। বিশ্ব মানবমন্ডলী শান্তি-স্বস্থির অন্বেষায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় অহনিশি। কিন্তু তা অনেক ক্ষেত্রে সোনার হরিণ হয়ে থাকে। এ শান্তিকে জয় করতে হলে পবিত্র ইসলাম ধর্মের সুশীতল ছায়া তলে আমাদেরকে অবস্থান নিতে হবে। আর এ জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক কুরআন মজিদে ইরশাদ করেন “ওয়া’তাছিমু বিহাব্লিল্লাহি জামিয়াঁওঅ লা তাফাররাক” অর্থাৎ- তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে একত্রে আকড়ে ধরো, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না অথবা আল্লাহর রজ্জু হতে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। সুতরাং আল্লাহ পাক ঐক্যের জন্য আদেশ করেন, বিচ্ছিন্ন হতে নিষেধ করেন।

ঐক্যের জন্য প্রয়োজন সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, কাউকে অবজ্ঞা না করা, ইসলামের শিক্ষাকে নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করা, হিংসা, নিন্দা, পরচর্চা, বিদ্বেষ, হানাহানি, বিবাদ-বিসম্বাদ পরিহার করা। পরমত, সহিষ্ণু হওয়া, আত্ম সমালোচনা করা, পরদোষ পরিহার ও নিজ দোষ ধ্যান করা, ব্যক্তি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে পবিত্র ইসলামের আলোকে জীবন গঠন করা। কেননা কুরআন হাদিসের আদেশ নিষেধানুযায়ী জীবন ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য আল্লাহ পাকের ঘোষণা রয়েছে এভাবে যে- “মান লাম ইয়াহ্কুম বিমা আনজালাল্লাহু ইলাইকা ফাউলাইকা হুমুজ্জালিমুন” অপর আয়াতে ‘কাফিরুন’ অপর আয়াতে ‘ফাসিকুন’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ- যারা আল্লাহর অবতীর্ণ কৃত বিধান অনুযায়ী বিচার ফয়সালা করে না তারা (১) জালিম বা সীমা লংঘনকারী, (২) কাফির বা খোদাদ্রোহী, (৩) ফাসিক বা জঘন্য পাপীষ্ট। তাই সমাজের রন্ধে রন্ধে যদি পবিত্র ইসলামের শ্বাশ্বত বাণীর প্রতিফলন ঘটে, ইসলাম ধর্মের অনুসরণ অনুকরণের মাধ্যমে সমাজবদ্ধ মানুষ নির্বিঘেœ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এক অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

ধর্ম নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি নয়, অধর্মকে ধর্ম বলে প্রচার চালানোও নয়, ধর্মকে ব্যাঙ্গঁ উপহাস করাও নয়। এমনটি যদি হয় তাহলে সে ধর্মীয় মূল্যবোধ আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অনবদ্য ভূমিকা রাখবে তাতে সন্দেহ নাই। আবহমান কাল ধরে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজিত হয়ে আসছে। এ সংস্কৃতিকে ধারণ করে যুগযুগ ধরে এ দেশে সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় সম্প্রতি বাংলাদেশে কোন কোন মহলের পক্ষ থেকে ধর্মকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যাবহার করে হিংসাত্মাক ও আক্রমনাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত। তা কোনভাবেই কাম্য নয়। পবিত্র ধর্ম ইসলাম কোন পক্ষের বা গোষ্টির নয়। ইসলামের নামে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হীন উদ্দেশ্য নিয়ে হানা-হানি, মারামারি করে কোন ক্রমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা, ইসলামের শিক্ষা হলো ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির এবং সকল মানুষ একই আদমের সন্তান ও একই স্রষ্টার সৃষ্টি। সমাজে ফেৎনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি, সরল মনা ধর্ম বিশ্বাসী মানুষের ধর্ম বিশ্বাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করে সম্প্রীতি বিনষ্ট ও মানুষের মধ্যে সংঘাত উস্কে দিয়ে সমাজে শান্তি বিনষ্ট করা তা কোন ক্রমেই ইসলাম সমর্থন করে না। বাংলাদেশের জমিনে প্রবর্তিত অন্যতম ত্বরীক্বা ত্বরীক্বায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার আধ্যাত্মিকতা ও দর্শনের মধ্যেও ঐ ধর্মীয় অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। ফলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে ত্বরীক্বায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার উৎপত্তি ও বিকাশের সময় কাল থেকে এযাবৎ কালীন সময় পর্যন্ত জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লাখো লাখো আশেক ভক্ত জায়েরিন এর ঢল নামে প্রতিটি ওরশ-খোশরোজ শরিফের দিবস গুলোতে। এতদভিন্ন প্রতিনিয়ত নানা ধর্মের নানা জাতের দর্শনার্থী ভিড় জমায় মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফস্থ রওজা শরিফ গুলোতে আশীষ ও করুনা প্রত্যাশী হয়ে। বিশেষতঃ হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ, হযরত গাউছুল আযম বাবাভাণ্ডারী মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ গোলামুর রহমান কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এবং গাউছুল ওয়ারা হযরত মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ এর পাক রওজায় অসংখ্য জায়েরীন জিয়ারতের উদ্দেশ্যে হাজির হয়। এসব মহামনীষী পূণ্যাত্মারা হলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সর্ব ধর্ম বেষ্টনকারী অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেমবাদ ও আধ্যাত্মিকতা এ ত্বরীকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশের ভূমিতে ত্বরীক্বায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার আদর্শ ও ধর্মীয় চেতনার উম্মেষ ঘটলে এ দেশে সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রে পট পরিবর্তন হয়ে যাবে বলে আমার ধারণা । এই ত্বরীকার দিকপাল শায়খুল ইসলাম শাহ্সূফী হযরত মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আল্ মাইজভান্ডারী কাদ্দাছাল্লাহু ছিররাহুল আজিজ মাইজভান্ডারী ত্বরীকার প্রেমবাদ ও অসম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে জাতিসংঘ সহ সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়িয়েছেন শান্তি প্রতিষ্ঠায়। তাই আসুন! আমরা তারই চেতানাকে ধারন করে সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পবিত্র ধর্ম ইসলামের শান্তির শাশ্বত বানী নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল মতানৈক্যের উর্ধ্বে উঠে কাদে-কাদ মিলিয়ে কাজ করি। পরিশেষে উপস্থিত সকলকে আবারও ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানে সমাপ্ত করলাম। আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ।

Posted in Uncategorized | Comments Off on সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ধর্ম ঃ পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ

ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সংবাদ সম্মেলন।

ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সংবাদ সম্মেলন।
স্থানঃ ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি, ৮/৪/১-এ,তোপখানা রোড,সেগুনবাগিচা ঢাকা-১০০০।

প্রিয় সাংবাদিক ও উপস্থিত সূধীবৃন্দ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতাহু। আজ অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। কখনও কল্পনাও করি নাই যে এভাবে ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে দেশকে অস্তিতিশীল করার প্রতিবাদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হতে হবে। আপনারা বহুদিন থেকে লক্ষ্য করে থাকবেন যে, মানবতাবাদী শান্তির পরম ধর্ম পবিত্র ইসলামকে ব্যবহার করে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল সারা বিশ্বে এই মহান ধর্মকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশেও মাঝে মাঝে ধর্মের নামে এ সকল সন্ত্রাসী জঙ্গীবাদী কার্যক্রম মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও ইদানিং বেশ কিছুদিন ধরে হেফাজতে ইসলাম নামক একটি সংগঠন ও তাদের দোসররা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরীর জন্য বিভিন্নভাবে ধর্ম রক্ষার ধুয়া তুলছে। তাদের কর্মকান্ড কোন অবস্থাতেই ইসলাম সম্মত নয়। ইসলাম কোনভাবেই ধর্মীয় উম্মদনা সন্ত্রাস, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, নির্যাতন, নিপীড়ন সমর্থন করেনা। ইসলামে শান্তিপূর্ণভাবে সকল কিছুর সমাধানের পথ রয়েছে। কতিপয় নামধারী মুসলমানরা আজ ধর্মকে রক্ষা করার নাম করে যা করছে তা ইসলামকে কলংকিত করারই নামান্তর। আপনারা ইতিমধ্যে এ রকম ধর্মের নামে অধর্মীয় ক্রিয়াকলাপ লক্ষ্য করে থাকবেন। বর্তমানে হেফাজতে ইসলাম নামক সংগঠন ও তাদের সহযোগীদের আমির আহমদ শফির নিজেস্ব কতিপয় ইসলাম বিদ্বেষী বিষয়াবলী যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (দঃ) কে হেয় প্রতিপন্ন করার ধৃষ্টতা ছাড়া অন্য কিছু নয় এবং এ ধরনের কুফুরী নিঃসন্দেহে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমি কিছু বিষয় আপনাদের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
১। আল্লাহ মিথ্যা কথা বলতে পারেন কিন্তু বলেন না, আল্লাহ ওয়াদা খেলাফী করতে পারেন কিন্তু করেন না। (ভিত্তিহীন প্রশ্নাবলীর মূলোৎপাঠন পৃঃ ২/৩)
২। নবী শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো অদৃশ্যের সংবাদ দাতা অথচ আহমদ শফির বক্তব্য হলো যে নবী অদৃশ্যের জ্ঞান জানেন না। (সুন্নত ও বিদাতের সঠিক পরিচয় পৃঃ ১৩৪)

উপরোক্ত বিষয় ছাড়াও আরো আল্লাহ ও রাসূল বিরোধী অনেক বিষয়াবলী রয়েছে যা প্রকারান্তরে কুফুরী এবং মুসলমান নামধারী এ সকল ধর্ম বিকৃতকারীদের কারনে বর্তমানে নব্য নাস্তিকের জন্ম হচ্ছে। আমরা পূর্বেও এ সকল আল্লাহ ও রাসূল বিরোধীদের ব্যাপারে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছি এবং আজও করছি। যারা অপব্যখ্যাকারী তারা ইহুদী নাসারাদের দোসর। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী বলেই আমরা রাষ্ট্রের প্রতি আইন করে শাস্তি প্রদানের আহব্বান জানাচ্ছি।
আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান যারা আল্লাহ ও রাসূলগণকে অলি আউলিয়াকে সম্মানের সাথে স্মরণ করে তারা কখনও সন্ত্রসের পথ বেছে নেয় না, তারা রাষ্টের নাগরিক কর্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আজও এ দেশে শান্তি বিদ্যমান আছে। দূর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য এ সকল নামধারী মুসলমানরা বিভিন্ন ওহাবী মওদুদী হেফাজতী সহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে আহলে সুন্নাত ওয়াজ জামাতের অনুসারীদের নিগৃহীত করছে। এবং তাদের মত উগ্র হওয়ার জন্য প্ররোচিত করতে বিভিন্ন ভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

আপনার জানেন গত শুক্রবার হেফাজত ইসলামের নামে এই ধর্মান্দ গুষ্টি দেশের বিভিন্ন মসজিদ দেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারম সহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে যে ধরণের অপবিত্র কীর্তিকলাপ করেছে তেমনী চট্টগ্রামে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে জুম্মার নামাযের সময়ে মেহরাব লক্ষ্য করে জুতা পানির বোতল ছুড়ে মারে যা মসজিদে রক্ষিত পবিত্র কোরানে উপরেও পড়েছে তা ছাড়া আমাকে অশী­ল বাক্য ব্যবহার ও লাঞ্চিত করে কয়েক ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। মসজিদের পবিত্রতায় রক্ষায় তাদের কোনা দায় ছিল না? আপনারা জানেন মসজিদই ইবাদতের পবিত্রতম স্থান এবং তা মান্য করা সকল মুসলমানের ধর্ম। তাদের মসজিদকে কেন্দ্র করে হীন কৃতকলাপ কোন ধর্ম পালনীয় বিষয়ের পর্যায়ে পওে না।

জগতে নবী রাসূলগণের পরে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামতপ্রাপ্ত ব্যাক্তিগণেই অলি আউলিয়া নামে পরিচিত যারা মানুষকে বিভিন্নভাবে আল্লাহমূখী করায় ভুমিকা রাখেন। কিন্ত তাদেরকেই অপমান করতে এদের দ্বিধা নেই। আপনারা হয়তো ইতিমধ্যেই জেনে গেছেন যে, গত শুক্র ও শনিবার চট্টগ্রাম হাটহাজারী বাসস্টান্ড সংলগ্ন নোমানিয়া মাদ্রাসা,পার্শ্ববতী মসজিদ ও প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ইমামে আহলে সুন্নাত হযরতুল আল্লামা আজিজুল হক আল কাদেরী প্রকাশ শেরে বাংলা (রাঃ) মাজারের গ্লাস ভাংচুর সহ বিভিন্ন স্থানে সম্মানিত অলি বুজুর্গানদের মাজারে হামলা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সহ ধ্বংসাত্বক কার্যকলাপের মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করছে।

মানবপ্রেম সহমর্মিতা সহিষ্ণুতা সম্প্রীতির আদর্শ যা ইসলামের মুল শিক্ষা সেই চেতনাকে ধারন করে আমরা পথ চলতে চাই। রাষ্ট্রে ধর্মের নামে কোন বিশৃঙ্খলা চাই না। যে বা যারা এই ধরনের অপতৎপরতার সাথে জড়িত আছে বা ভবিষ্যতে জড়িত হবে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শা¯িত দাবি করছি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের সকলের সহায় হউন।

ওয়া আখের দাওয়ানা——————————–আলামিন।

Posted in Uncategorized | Comments Off on ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সংবাদ সম্মেলন।