মসনবী শরীফের বাণী ও ভাষা

মসনবী শরীফের বাণী ও ভাষা

আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে হলে আউলিয়ার সান্নিধ্য যেতে হবে। মসনবী
“হরকে থাহাদ হাম নসিনি বা খোদা
গো নসিনদ দর হুজুরে আউলিয়া’’
অর্থ ঃ যে আল্লাহর সঙ্গে এক সাথে বসতে চয়ে, তাকে বলো সে যেন আউলিয়ার নিকট বসে।
মৌলানা রুমী এই কতাগুলি হযরত মুসা (আঃ) এর একটি কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন। একবার হযরত মুসা (আঃ) কে আল্লাহ ভৎর্সনা করে বললেন “ হে মুসা- আমি তোমাকে আমার নূরে নূরান্বিত করেছি অথচ আমি যখন রোগাক্রান- হলাম তুমি আমাকে দেখতে এলেনা, মুসা (আঃ) বললেন ‘হে আল্লাহ আপনি নিরাকার, আপনার আবার রোগ হয় কি করে? আমি এই কথাটি বুঝতে পারলাম’। আল্লাহ বললেন- “ আমার একজন খাস বান্দা ওলী রোগাক্রান- হয়েছিল। মনে রেখো সে শারীরিক দুর্বলতা, তাঁর অসুস’তা আমার অসুস’তা”। আল্লাহ ওলী আল্লাহতে বিলীন হয়ে যান।ওলী- আল্লাহ যখন আল্লাহর সঙ্গে এক হয়ে যায় তখন তাঁর হাত হয়ে যায় আল্লাহর হাত, তাঁর চোখে হয়ে যায় আল্লাহর চোখ, তাঁর কান হয়ে যায় আল্লাহর কান, সুতারাং আউুলয়ার নিকট বসার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নিকট বসা। কেহ যদি আল্লাহর নিকট বসতে চায় তাহলে তাঁর উচিত আউলিয়ার নিকট বসা। খ্রীস্টানদের বাইবেল ‘মথি’ নামক পুস-কের ২৫ অধ্যায়ের ৪২ নং শ্লেকে আছেঃ ঈশ্বর বলেন- “আমি ক্ষুধিত হয়েছিলেন, আর তোমরা আমাকে আহার দাওনি। আমি পিপাসিত হয়েছিলাম, আর তোমরা আমাকে আহার দওিনি। আমি পিপাসিত হয়েছিলাম, আমাকে পান করাওনি। অতিথি হয়েছিলাম, আমাকে আশ্রয় দাওুন। বস্ত্রহীন হয়েছিলাম, আমাকে বস্ত্র দাওনি। পীড়িত ও কারারুদ্ধ হয়েছিলাম, আর আমাকে তত্ত্বাবধান করনি”। তখন তার উত্তরে বলবে “প্রভু, কবে আপনাকে ক্ষুধিত, কি পিপাসিত, কি অতিথি, কি বস্ত্রহীন, কি পীড়িত, কি কারারুদ্ধ দেখে পরিচর্যা করিনি? তখন ঈশ্বর বললেন, “আমি সত্যি বলছি তোমরা এই ক্ষুধিত দিগের কোন একজনের প্রতি যখন ইহা করনি তখন আমারই প্রতি করনি”। এখানে ঈশ্বর তাঁর প্রিয় ব্যক্তির সঙ্গে নিজেকে ড়্গকে করে দেখেছেন্‌ বাইবেল অবশ্য হযরত মুসা (আঃ) ও আল্লাহর মধ্যে এ কথগুলি হয়েছিল বলে বলা হয়নি। মিৗলনা রুমী- হযরত মুসা (আঃ) এর সহিত আল্ল্‌হর এরূপ কথা হয়েছিল বলে কথাগুলিকে জোরালো করেছেন।
বিষয় ঃ একজন ওলির সেবা করা আল্লাহর সেবা করার সামিল।
মসনবী
“ঢ়ুঁ মেরাদিদি খোদারা দিদায়ি
গিরদে কাবায়ে ছিদ্‌ক বরগার দিদায়ি
খেদমতেমন তা আত ও হামদে খোদাস-
তা না পিন্দারি কে হক আজমন জুদাস-,
চশমেনেকু বাজকুন দরমান নিগর
নূওে হক আন্দও বশর
কাবারা এশবার ‘বায়তি’ গোপ্ত এয়ার
গোপ্ত মোরা এয়া আবদি হাপ্তাদ বার”।
অর্থঃ তুমি যখন আমাকে দেখছে তখন খোদাকে দেখছে। তুমি সত্যিকার কাবা গৃহের চারদিকে তরয়াফ চারিদিকে তরয়াফ করছে। আমার খেদমত আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী ও আল্লাহর প্রশংসা করার সমান। মনে করোনা আমি আল্লাহ তা”লা হতে জুদা (ভিন্ন)। তোমার মঙ্গল চক্ষু উম্মোচিত কর এবং আমার দিকে দৃষ্টিপাত কর, তাহলে তুমি আল্লাহর নূও মানুষের মধ্যে দেখতে পাবে। আল্লাহর কাবা ঘরকে কুরআনপাকে কেবল এশবার আমার ঘর বলেছেন। আর আমাকে সত্তর বার “ওহে আমার প্রিয় বান্দা” বলে সম্বোধন করেছেন।
মৌলানা রুমী হযরত বায়েজিদ বোস-ামী ও একজন দরবেশের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে একথা বলেছেন। হযরত বায়েজিত বোস-ামী একবার হজ্বে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি একজন দরবেশের সাক্ষাৎ পেলেন, দরবেশ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কোথায় যাচ্ছ? তিনি বললেন আমি হজ্ব করতে যাচ্ছি, দরবেশ তাঁকে বললেন, তোমার নিকট কত টাকা আছে? তিনি বললেন, আ্‌মার নিকট দুইশত রৌপ্য মুদ্রা আছে। দরবেশ বললেন, তুমি ঐ রৌপ্য মুদ্রাগুলি আমাকে দাও এবং আমার চারিদিকে সাতবার তওয়াফ কর। তুমি যখন আমাকে দেখেছ তখন খোদাকে দেখেছ এবং সত্যিকার কাবার চারিদিকে ঘুরেছ। মৌলানা এখানিে একটি প্রসিদ্ধ হাদীসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। হাদীসটে নিম্নরূপ মন রাআনি ফাকাদ রাআল হক” অর্থ আমাকে দেকা আর আল্লাহকে দেখা এক। মৌলানা পবিত্র হৃদয়কে কাবা ঘরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন পবিত্র কোরআনে আল্লাহএকবার মাত্র কাবা ঘরকে আমার ঘর’ বলে উল্লেখ করেছেন। সূরা বাকারায ১২৫ নং আয়াতে করিমে আল্লাহ বলেন যখন আমি গৃহকে মানুষের জন্য সম্মিলন স’ল ও শানি-র আলয় করলাম আর তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাজের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফে ও রুকু সেজদাকারীদের।
ত্বরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার বিকাশ ও বিশেষত্ব
পরম করুনাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্যই সকল প্রশংসা যিনি বিশ্ব ভ্রম্মান্ড কুল মকলূকাতের স্রষ্টা। যিনি নিখিল বিশ্বের প্রভু, যিনি বিচিার দিনের অধীশ্বর, চির দানশীল করুনা ময়, দয়ালু, দাতা, রহমান ও রহিম। সেই পবিত্র সত্ত্বা স্বয়ং প্রশংসাকারী ও স্বয়ং প্রশংসিত। তাঁর এককত্ব ও অদ্বিতীয় ঘোষণা করে তিনিই স্বয়ং বলেছেন তিনি (আল্লাহ) কারো থেকে জন্মগ্রহণ করেননি এবং তাঁর থেকেও কেউ জন্ম গ্রহণ করেনি অর্থাৎ তাঁর (আল্লাহ) কোন পিতা বা সন-ান নেই (লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ- সূরা ইখলাস), সর্ব প্রকার প্রশংসার একমাত্র উপযুক্ত আল্লাহ, যিনি ইশকে প্রণিাদিত হয়ে দয়া পরবশে সৃজন করেছেন মানবদানব ইত্যাদি। আল্লাহ তায়ালার এই ইচ্ছার কথাই- হযরত রসূলে করীম (দঃ) মুখ নিঃসৃত বালী হাদীনেসর মাধ্যমে উচ্চারিত হয়েছে- কুনতু কান্‌জান্‌ মাখফিয়ান ফা- আহ্‌বাবতু আন উরাফা, ফা খালাক্বতুল কালকা” অর্থাৎ আমি (আল্লাহ) গোপন ধনাগার ছিলাম, অতঃপ প্রেমাসক্ত হয়ে স্বীয় সত্ত্বা ও গুনাবলীর বিকাশের জন্য মানব সৃজন করলাম। তাই – ইশকই- যাবতীয় সৃষ্টি ও উপাসনার মূল আর অর্থাৎ আল্লাহর পরিচিতি লাভ ও প্রমংসা কীর্তনই সৃষ্টির প্রধান কর্তব্য।
আল্লাহ রহমানুর রহীম স্বীয় অনুগ্রহে বনী আদমকে (মানবজাতী) ধরার বুকে খেলাফতের দায়িত্ব দিয়ে খলিফা সম্বোধন করেছেন, আবার এই মানব জাতিকে আভিজাত্য দেয়ারে জন্য তাদের মাঝে নবীগণকে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ মানুষকে মবকিছু উপর সম্মানিত করেছেন, অর্থাৎ মানব আল্লাহর আভজাত সৃষ্টি বা আশরাফ’ল শখলুকাত”। আকল বা বিবেকই মানুষকে এ শ্রেষ্ঠত্ব করেছ্‌ পে্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দরতম অবয়বে মানব দেহের গঠন শৈলী। আল্ল্‌হ তা’লা পাক কুরআনে ইরশাদ করেছেন- আমি আল্লাহ মানুষকে সুন্দরতম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি”(সুরা ত্বীন, আয়াত৪), আল্লাহর সর্বোত্তম সৃষ্টি এই মানবের দিহ চির কৌশলী রব বা প্রভুর ইচ্ছায় ধরার বুকের মাটি, পানি, আগুন, বাতাস, আর, আতশ, খাক, বাদ) দিয়েই তৈরী হয়েছিল। তার খাদ্য ও জীবন ধারণের যাবতীয় উপকরণও এই পৃথিবীর বিভিন্ন বস’ দিয়ে গড়া।
শুধু তাই নয়, আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন উচ্চ মর্যাদাও। এ মর্মে পাক কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- আমি (আল্লাহ) আদম সন-ানকে মর্যাদা দানর করেছি”। (সুরা বণী ইসরাইল, আয়াত-৭০)। উপরন- আদম সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ফেরেশতাদের নিকট আল্লাহর ইচ্ছার কথা কুরআনে করিমে কি মর্যাদাপূর্ণ ভাবেই না ইরশাদ হচ্ছে” স্মরন কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, আমি (আল্লাহ) পৃুতিব তে প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’’ (সুরা বাকারা, আয়াত-৩০) সর্বোপরি অন্য সৃষ্টির মত কুন্‌ (হয়ে যাও) শব্দ ব্যবহার করে একবারে সৃষ্টি না করে বরং আল্লাহর স্বীয় অভিপ্রায় ানুযায়ী আদমের দেহাবয়বের আকৃতি বা কাঠামো নির্মাণ করে অতঃপর সেই দেহাবয়বের ভিতর স্বীয় শক্তি বআ রূহ ফুৎকার করে দিয়ে প্রণবন- করেছেন। এ মর্মে পাক কুরআনে আল্লাহ রাবুল আলামীন ইরশাদ করেছেন – উহাতে তিনি রূহ ফুঁকে দিয়েছেন তাঁর (আল্লাহ) নিকট হতে।” (সুরা সাজদা আয়াত-৯), অর্থাৎ পরমাত্মা হতে নিঃসৃত আত্মা বা রূহ দান করে দয়াময় আর্‌লাহ সৃষ্ট বান্দাকে স্বীয় শক্তি দ্বারা শক্তিমান করেছেন।
মানব জাতির আভিজাত্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে আরো সুস্পষ্টভাবে উপলব্ধি হয়, এই বাণী আদমের আদি পিতা বা হযরত আদম (আঃ) এর সূচনা পর্ব এবং বিবি হাওয় সহ বেহেশতে বিচরন বা অবস’ান এ কথাই প্রমাণ করে যে, মানুষের আদি আবাসস’ল ছিল স্বর্গ বা বেহেশত। আল্লাহর ইচ্ছার নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য এই মাটির ধরায় আগমন। মানবের সেই মর্যাদাপূর্ণ আদি অবস’া পুণঃ প্রতিষ্টিত করতে হলে তাকে আত্মার নিকৃষ্ট প্রবণতা সমূহের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে। কিন’ আল্লাহর তা’লার শ্রেষ্ঠ সুষ্টি মানবকে অন্ধকার ভ্রনি- পথগামীকরা তাঁর (আল্লাহ) মোটেই কাম্য নয়অ হযরত আদম (আঃ) যখন আল্লাহর ইচ্ছায় সৃষ্টি রহস্য বিকাশ কল্পে স্বর্গের সর্বোচ্চ সিংহাসন থেকে আলমে নাছুৃতে ৯পার্থিব জগত) এসে পড়লেন তখন তিনি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে পুণঃ তাঁর রহমানি মকাম’ অর্জনের জন্য ক্তরে কান্নয় রত হলেন। এতে আল্লাহ সন’ষ্ট হয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, তাঁর নির্দেশিত সুপথের মাধ্যমে পুণঃ সেই নৈকট্যের মকাম অর্জিত হবে। অতএব, এতে সরল সত্য ও সুগম পথ (সেরাতাল মুস-কিম) করে চলার জন্য জীবন সম্বন্ধে একটা ধারনার প্রয়োজন। পরম করুণাময় আল্লাহ যুগে যুগে মানুষের কাছে আল্লাহর এই মকবুল পথের নির্দেশক যুগোপযোগী বাণী প্রেরণ করে এবং সেই বাণী বার্তার মূর্ত প্রতীক নবী রাসূল প্রেরণ করে সুষ্পষ্ট ধারনা দিয়েছেন। আল্লাহ প্রদত্ত এবং নির্দেশিত এই পথ ও মতই ইসলাম”। ধর্মের দৃষ্টিতে ইসলামের ভাবার্থ আল্লাহর একান- অনুগত হওয়া বা মওলার প্রতি অনুগত্যের তোয়াল পরিধান করা’ আর আল্লাহ প্রণীত ও রচিত যুগোপযোগী যে আইন দপ্তর পাঠিয়ে আদম জাতিকে নসজাগ করেছেন ও সুপথ দেখিয়েছেন তা ছহিফঅ এবং কিতাবুল্লাহ নামে অভিহিত। তাই বিভিন্ন নবীর শরীয়ত বা ধর্মীয় নীতি নির্দেমনার কিছু কিছূ ভিন্নতা থাকলেও মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন অর্থাৎ স্রষ্টার ”ওয়াহদানিয়াত’ এবং নির্দেশিত হক ও সত্যপথে পরিচালিত হয়ে মহাপ্রভুর ’কুরবত’ বা নৈকট্য অর্জন তথা আল্লাহর পরিচিত লাভ করা, বান্দার নিকট আল্লাহর পরিচিত প্রদান ও কায়েম রাখার জন্য অসংখ্য নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন।
ইহা ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ও সর্বশেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম আল্লাহ তা’লাার একমাত্র সর্বোওম প্রিয় বন্ধু। তিনি সৃষ্টির আদি ও সৃষ্টিরঅন-। তিনি মহাপ্রভুর যোগ্যতম প্রতিনিধি হাবীবে কিবরিয়া এবং খাতেমুন্নবীয়ীন হিসেবে যুগোপযোগী ইসলামী নীতি মহাগ্রন’ কুরআন মজীদ প্রাপ্ত হন। প্রকৃতপক্ষ এই কুরআন আমাদের জন্য পরিপূর্ণ জীবন বিধান। শুধু তাই নয় রাসূলে পাকের জীবন শান ও আখলাক কুরআনে পাকের বাস-ব প্রতিফলন এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামাীন মানব জাতিকে অন্ধকার যুগেরঅভিাপ হতে মুক্তিরদিয়ে সরল সত্য পথে চলার অনুপ্রেরণঅ দেয়ার জন্য তাঁর অতি প্রিয়জন সৈয়দ মুরসালীন (দঃ) কে পম সত্যের আলোর দিশারী করে পাঠিয়ে দেন। প্রকৃত পক্ষে রব্বুল আলামীনের কাছে রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পুরনূর (দঃ) শুধযুমাত্র শ্রেষ্ঠ মর্যাদাবানই নন বরং কিনি হলেন আল্লাহ ও বান্দার সেতুবন্দন। ধারার বুকে এই আকার আকৃতির মানবকে নিরাকার অদৃশ্য (গায়েঁব) আল্লাহ পর্যন- পৌছতে হলে কিংবা আল্লাহ পরিচিত বা মারেফাত লাভ করতে হলে এই প্রধান মাধ্যম হুজুর পুরনূর (দঃ) ছাড়া বিক্‌প নেই; তাই আল্লাহ প্রেমিক বান্দাগণ মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ (দঃ) এর পথে ও তাঁকে একনিষ্ট ভালবাসার মধ্যেই অর্থাৎ জাহেরা শরীয়তের সাথে সাথে নবীজির আধ্যাত্মিক মারেফাত এর বাতেনী বৈশিষ্ট অনুধাবন করে অনুসন্ধানী পথেই পরম সত্যকে খুঁজে পেয়েছেন। এক কথায় নবীজির জাহেরী ও রূহানী শিক্ষা দীক্ষাই দ্বীনের পূর্ণতা ও আল্লাহ পরিচিতির জন্য আদর্শ দিক-নির্দেশনা পরিপূর্ণ ও সফলতার সহিত সম্পন্ন করে অর্থাৎ প্রিয় নবীর মাধ্যমে কুরআনুল করিমের অবতরণ ও প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হলে দ্বীন উসলামের পরিপূর্ণতা ঘোষিত হয় এবং প্রিয়নবী (দঃ) এর হায়অতে জিন্দেগীর কর্তব্য শেষে মাওলার মকামে যাত্রা নবুয়ত যুগের খাতেমা ঘোষিত হয়। রেছালত যুগের এই পরিসমাপ্তিতে যুগ যুগ ধরে শেষ দিবস (কেয়ামত) পর্যন- তাঁর উপযুক্ত প্রতিনিধি ইনসানে কামেল আউলিয়া কেরামের মাধ্যমে আল্লাহ প্রদত্ত প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজের ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে। তাই কুরআনে করীমে আল্লাহ তা’লা ইরশাদ করেছেন” তোমাদের মধ্যে একদল লোক হউক যারা কল্যাণের পথের দিকে আহবান করবে এবং সৎকাজে আদেশ দিবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে, এরাই তো সফলকাম” (সুরা আল এমরান, আয়াত-১০৪)। বস’ত; এ রূপ আল্লাহর মনোনীত কামেল বান্দারই গাইছ, কুতুব, আলী দরবেশরূপে মানব সমাজে আবির্ভূত হয়ে পতভ্রষ্ট মানুষকে সঠিক পথ প্রধর্শন করেন, তাঁদের সাধনাময় আদর্শ মহান জীবন মানুষের জন্য আলেঅকিবর্তিকাসম অনুসরণ যোগ্য। ইনারাই রাসূলে পাকের রেছালতের প্রতিনিধি তথা বেলায়তের ধারক বাহক অর্থাৎ আল্লাহর মনোনীত খলিফা এবং এ রকম আল্লাহ প্রেমিক সূফী, ইনসানে কামেল, হাদী বা পথ প্রদর্শকের অনুসৃত আল্লাহ পরিচিতির প্রাপ্তির পথই এক একটি বিশেষ বা খাছ পথ রা ত্বরীকা। মানুসের অধঃপতিত পার্থিব; জীবন শৃঙ্খল মুক্ত হয়ে সফলতা অর্জনের জন্যে আল্লাহর মনোনীত দ্বীন ইসলামে’ মূলত দু’টি পথ নির্ণিত হয়েছে। তা হল শরীয়ত ও মা রেফাত মানুষের ঈমান ও আকায়িদ ঠিক করার পর কাঙ্খিত লক্ষ অর্জনের সুবিধার্থে সাধরনের বিশ্বাস অনুশীলনের জন্য যে সহজ ও নির্দিষ্ট বিধি বিধান দেয়া হয়েছে তা শরীয়ত। অপরদিকে আল্লাহতে সমর্পিত হয়ে আল্লাহ পরিচিতি লাভের সুনিশ্চিত এবং কঠিন অথচ মধুর যেই পদ্ধতি তাহাই মা’রেফাত। এই স-রে মানুষের মধ্যে স্বর্গীয় গুনাবলীর অভ্যূদয় ঘটে, আল্লাহর সহিত আত্মার মিলন হয় এবং ইহা আল্লাহর সহিত প্রেম সৃষ্টির লক্ষ্যে আত্মার পবিত্রতা অর্জনের জন্য মানুষের উচিত এমন এক ভক্তি মিশ্রিত অনুধ্যানিক জীবন যাপন করা যার লক্ষ্যই হবে আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় নবীর প্রেম, ইশক্‌ বা প্রেম স্বর্গীয়। খোদা হতে আগত, খোদা পর্যন- ইহার প্রসার, প্রেমিককে মূহুর্তের মধ্যে প্রেমময় আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌছায়। প্রেম (ইশক) তড়িৎ (বিদ্যুৎ) অপেক্ষা দ্রুত গতি সম্পন্ন, ইহার পরশ বড়ই মধুর, বড়ই স্নিগ্ধা, ইহা মুহুর্তে অন-রে ইশকের দাহন প্রজ্জলিত করে, আর মুহুর্তে স্বর্গীয় শীতলতা, স্নিগ্ধা তা ও শানি-ধারা বর্ষণ করে।ক্করকম ইশকে ইলাহী লাভ করতে হলে প্রকৃত ভক্তির সহিত মাথা পেতে দেওয়াই বান্দার কর্তব্য এবং মনিবের আজ্ঞা মুহব্বতের সহিত শিরোধার্য্য করে নেয়াই গোলামের (বান্দার) প্রকৃত গোলামী বা বন্দেগী (ইবাদত)। ইশক ব্যতীত ঈমান পূর্ণ হতে পারে না। পাক কুরআনের আল্লাহ তা’লা সুস্পষ্টভাবে ইরশা; করেছেন-”যারা মুমিন বা বিশ্বাসী আল্লাহর প্রতি তাদের প্রেম দৃঢ়তর”। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৬৫) অনুরূপভাবে নবীপ্রেমও হতে হবে অন-রের অন-স’াল হতে গভীরতম। পার্থিব সুয়োগ সুবিধা লাভের জন্য যারা প্রকাশ্যে মুখে নবীর রেসারতের প্রতি বিশ্বাসী বলে দাবী করলের কপটতার আশ্রয় নিয়ে অভ্যান-রে মনে প্রানে যারা তাঁর প্রতি অবিশ্বাসী ছিল সেই অবিশ্বাসী কাফির, মুনাফিকদের পরিচয় তুলে ধরে পাক কুরইনে আল্লাহ রব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন-”(হে রাসূল) আপনার কাছে খান মুনাফকরা আসে তখন বলে আমরা সাক্ষ্য দিতেছি যে আপনিস আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ ও জানেন আপনি তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিতেছে যে, নিশ্চই মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী।’’ (সুরা মুনাফিকুন, আয়াত-১) এতে ইহাই পরিস্কার বুঝা যায় যে, হযরত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (দঃ) কে মৌখিকভাবে মামুলী তরিকাযয় রসূ বলে স্বীকার করার দাবী করাটাই প্রকৃতক মো মিন হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁকে অন-রর অন-ঃস’ল থেকে শ্রদ্ধার সহিত মানা ও স্বীকত্ম করার নামই ঈমাণ। উপরোক্ত কথার সমর্থনে রাসূলে পাক (দঃ) স্বয়ং হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে ইরশাদ করেছেন- যার হাতে আমার জীবন রয়েছে তাঁর কসম, তোমাদের কেহই ঈমানদার হব্‌ে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও পুত্র এবং সকলের চাইতে অধিকতর প্রিয় হই। (বোখারী শরীফ, কিতাবুল ঈমাণ অধ্যায়)।
অতএব রসিূলে পাকের সহিত বায়াত গ্রহণ করে যারা সঠিক পথের অনুসারী হয়েছে, তাদের জন্য রয়েছে অশুভ পরিনাম। কুরআনে করীমে এই মর্মে আল্লাহ তা’লা সুস্পষ্ট ভাবে ইরশাদ করেছেন- য়ারা আপনার (রাসূলের) বায়াত গ্রহণ করে, তারাতো আল্লাহরই বায়াত গ্রহণ করে। তাদের হাতের উপর আল্লাহরই হাত। যে উহা ভয্‌গ করে, উহা ভঙ্গ করার পরিণাম তারই যে আল্লাহর সহিত অঙ্গিকার পূর্ণ করে তিনি তাকে মহা পুরষ্কার দেব”, (সূরা ফাতাহ্‌, আয়াত -১০) রাসূল প্রেমে আত্ম নিকেদিত তথা আল্ল্‌হর পধে উৎসাহিত এহিন আল্লাহ প্রেমিকদের মধ্যে আসহাবে সুফিফার নামে এই পথের পুরোধা হিসেবে সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য, প্রকৃতপক্ষে যাদের থেকেই সূফীতত্ত্বের বিকাশ। এই সবত্যাগী আশেকহণ আল্লাহর প্রেমে ফানা হয়ে আত্ম নিবেদত দিওয়ানা রূপে রাসূল (দঃ) কো ঘিরেই জীবন উৎসর্গ করেছেন। তারা সর্বদা রাসূলের সয্‌েগ থাকতেন এবয় মসজিদ নববীতে অবস’ান করতেন। শেষ পর্যন- মসজিদে নববীর বান্দায় তাদের জন্য আস-ানা নির্মাণ করা হয়েছিল। তারা এমন ইশকে বিভোর ছিলেন যে, তাদের পরিধানের বস্ত্র এবং নিজের খাদ্য পানীয়ের ব্যবস্‌ধা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তারা জবাব দিতেন- রাসূলুল্লাহ (দঃ) এর পবিত্র চেহারা মোবারক চেয়ে থাকাই আমাদের খাদ্য-পানীয়।” তাদের পথ ছিল প্রেমের, প্রেমই ছিল তাদের সম্বল এবং একমাত্র অবলম্বন, বস’ত; স্রষ্টা ও সৃষ্টির মিলন সেতুই হল ইশক (নিষ্কুলুষ প্রেম), ইহা সত্য সন্ধানী প্রেমিক তথা সূফীকে নিজের ক্ষুদ্রতম অসি-ত্বকে জাতে পাকের মহান অসি-ত্বের মধ্যে বিলীন করে দিয়ে আল্লাহর পরিিিচতি অর্থাৎ মারেফাত অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে, প্রখ্যাত সূফী সাধক মহাত্ম হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রঃ) এর মতে বস’জগতের মোহ থেকে আপন প্রবৃত্তিকে প্রভাবমুক্ত রাখা, বিশ্ব প্রকৃতির ছলনা থেকে বিরত থাকা, চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন, প্রবৃত্তির প্রবঞ্চনা ও প্রতারণা থেকে মোহ আত্মাকে পুত-পবিত্র রাখা তথা আত্মিক উৎকর্ষ সাথন, অন-রের কুটিলতা পরিহার করে সদা সৎ চিন-ায় বিভোর থেকে জীবন মরন কেবলমাত্র আল্লাহর সন’ষ্টি উৎসর্গ করে দেয়াই প্রকৃত সূফী সাধকের ব্রত।

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on মসনবী শরীফের বাণী ও ভাষা

আহলে বায়তের মর্যাদা

আহলে বায়তের মর্যাদা

নবী করিম (দঃ) এর আওলাদগণকে আহলে বায়ত রাসূল (দঃ) বলা হয়। ইসলামী দুনিয়ার আকাশে তাঁরা যেন সুউজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি। তাঁরা সর্বস-রের মানুষের আর্দশ। ইসলামের প্রতিটি নীতিমালা বাস-বায়ন হয় তাঁদের জীবনেই। তাঁরা মানবতার মুক্তি দিশারী। তাঁদের অনুসরণই ইসলাম, তাঁদের মানবতার মুক্তির দিশারী। তাঁদের অনুসরণই ইসলাম, তাঁদের প্রতি ভালবাসাই ঈমাণ। তাঁরা নবীজীর অসীম জ্ঞানসমুদ্র থেকে জ্ঞান আহরণ করেন। নবীজীর দেখানো পথে তাঁরা জীবন পরিচালিত করেন। তাঁরা চাল- চলনে কুরআন সুন্নাহ্‌ সমুজ্জ্বল। তাই তাঁদের চরিত্র অনুপম। তাঁরা কুরআন -সুন্নাহ্‌ সমুজ্জ্বল। তাই তাঁদের অনুপম। তাঁরা কুরআন সুন্নাহর ধারক বাহক। নবুয়তের সমাপ্তির পর থেকে কিয়ামতের ধারা অব্যাহত থাকবে। কিয়ামত পর্যন- তাঁদের মাধ্যমেই ইসলাম জীবিত থাকবে। ইসলামে তাঁদের সম্মমান ও মর্যাদা সুউচ্চ। কুরআন- সুন্নাহতে তাঁদের মান- মর্যাদার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা পোষন করা মুমিন মাত্রেই ওয়াজিব। তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা তাঁদেরকে মহব্বত করা মাইে রাসূল (দঃ) কে মহব্বত করা। আহএল বায়তে রাসূল (দঃ) ই সারা বিশ্বের আনাচে কানাচে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন, দেশ থেকে দেশান-রে ছুটে গিয়েছেন অসংখ্য মানুষকে ঈমাণের মত মহামূল্যবান নেয়ামত দান করেছেন। কুফরী- শিরকীর অন্ধকার থেকে মানব সমাজকে আল্লাহত্ম পথে নিয়ে এসেছেন। তাঁরা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় জান-মাল, ধন-সম্পাদ, আওলাদ পর্যন- কোরবানী দিতে দ্বিধা করেননি। যেখানে যা প্রায়োজন সেখানে তা-ই আল্লাহর বাস-ায় কোরবানী দিয়েছে। কারবালার হৃদযবিদারক ঘটনা তার উজ্জ্বল প্রমাণ। যেখানে হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) স্ব- পরিবারে শাহাদাত বরণ করেছেন। তাই মুসলমান মানেই তঁএদর নিকট ঋণী। আল্লাহ এবং রাসূলেরও নির্দেশ তাঁদেরকে মহব্বত করা, তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদশৃন করা। আল্লাহ তায়ালার বাণীঃ
অর্থাৎ হে হাবীব (দঃ)! আপনি বলুন, আমি তোমাদের কাছে আমার দাওয়াতের জন্য (দ্বীন প্রচারের বিনিময়ে) আমার আত্নায়- স্বজনের মহব্বত ব্যতীত কোন বিছুই চাই না । শুরা, আয়াত-২৩) সআন-রিকতাপূর্ণ নিস্কলুষ ভালবাসার এই দাবী মু’মিনের উপর কেবল মাহবুবে খোদা (দঃ) এর নিকটাত্মীয়ের জন্যই রাখা হয়েছে। অত্র আয়াতে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে মুমিনদেরকে নবী করিম (দঃ) ’র আত্মীয় তথা বংশধরদের প্রতি মহব্বত প্রদর্শন করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অতএব ঈমানদারের উপর আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল (দঃ) এর পরে আহএল বায়তে রাসূল (দঃ) এর প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করা একান- অপরিহার্য। এ আয়াতের আলোকে বিখ্যাত মুসলিম মনীষি ইমাম বদিউজ্জআমান সাইদ নুরসী (রঃ) বলেছেন- ”আল্লাহ তায়ালা ভাল করেই জানে যে, আহএল বায়তের মাধ্যমেই কিয়ামত পযৃন- মানুষ ইসলাম পাবে, তাঁদের অনুসরণের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবে। তাই পবিত্র কুরআনেই আল্লাহ তায়ালা তাঁদেতর মবব্বতকে অবধারিত করে দিয়েছেন। মূলতঃ স্বীয় স্বার্থেই মুমিনদের ঈমাণী জীবনে এটি এক অপরিহার্য কর্তব্য। আহলে বায়ত রাসূল (দঃ) সর্বদা মানবতার কল্যাণকামী, পূত পবিত্র তাঁদের ব্যক্তিসত্ত্বা, নিস্কলুষ তাঁদের জীবন চরিত। তাঁরা খোদাভীরু। তাঁরা সর্বদাই আল্লাহর নৈকট্য লাভে সচেষ্ট। তাঁরাই আল্লাহর পূন্যাত্ম বান্দা। আল্লাহ তায়ালা তাঁদের থেকে সব রকমের রাপাকী ও পঙ্কিলতা দূর করেছেন। এই মর্মে কুরআন পাকে তিনি ইরশাদ করেন-
“হে নবী পরিবারবর্গ! আল্লাহ তো তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে চান এবং তোমাদেরকে সর্বোতভাবে পবিত্র রাখতে চান। সর্বোতভাবে পবিত্র এবং আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়।
অত্র আয়াতে নবী করিম(দঃ) এর পরিবারবর্গের ফজিলত ও মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাঁদের মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছন এবং তাধেরকে সর্ব প্রকারের পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মু্‌ক্ত করে পূত পবিত্র করেছেন। এ প্রসংগে একটা বিষয় লক্ষণীয়। আয়াতে বল হয়েছে- আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে পবিত্র করতে ইচ্ছা করেন। বস’ত আল্লাহ তায়ালা যা ইচ্ছা তরেন বা করতে চান তা অবশ্যই করেন। যেমন- তিনি বলেছেন, “বস-ুত তাঁর সৃষ্টিকার্য এরূপ যে, যখন তিনি কোন কিছু সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকে বলেন হও, অমনি তা হয়ে যায়। (ইয়াসিন-৮২) অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন-
হে আহরে বায়ত! আল্লাহর রহমত ও বরকতসমূহ তোমাদের প্রতিই রয়েছে। নিঃসন্দেহে তিনিই সমস- প্রশংসার মালিক এবং সম্মানের অধিকারী।
বিশুদ্ধ মত অনুসারে আহলে বায়তে রাসূল (দঃ) গণ হচ্ছেন- খাতুনে জান্নাত ফাতেমাতুজ্জাহরা (রাঃ) ও শেরে খোদা ইমাম আলী (রাঃ) দম্পতির মাধ্যমে আওলাদে রাসেূলের যে বংশ ধারা অব্যাহত থাকবে। অথ্যাৎ ইমাম হাসান, ইমাম হোসাইন ও সৈয়দা যয়নব (রাঃ) এর বংশধরগণ। কোন কোন মনীষী, নবীজীর সহদর্মিণীগণ তথা উম্মাহাতুল মু’মিনীনগণকে আহলে বায়তের অন-র্ভূক্ত বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
আহলে বায়তে রাসূল (দঃ) এর ফজিলত
হুজুর নবী করীম (দঃ) এর আহলে বায়ত হওয়ার গৌরব অর্জন করা মানে দুনিয়া আখিরাতে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী হওয়া। কারণ রাসূলূল্লাহ (দঃ) এর বংশধারা হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ট ও সর্বোত্তম বংশধারা। কারণ তাঁরা সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও আল্লাহর তায়ালার প্রিয় হাবীবের (দঃ) সন-ান। তাঁদের সাথে রাসূল (দঃ)’র রক্তের সম্পর্ক। বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামগণ এ কথার উপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, আওলাদে রাসূল (দঃ) তথা সৈয়দজাদাগণ বংশের দিক থেকে সর্বোত্তম মানুষ। তবে শরীয়তের অন্যান্য হুকুম আহকামের ব্যাপারে তারা সাধারণ মানুষের মত। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহতে আহলে বায়তে রাসূল (দঃ) এর প্রশংসায় অনেক প্রমাণাদি বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, “(হে আহলে বায়তে রাসূল (দঃ) গণ!) আল্লাহ তায়ালা আপনাদের থেকে সকল প্রকার অপবিত্রতা দূরীভূত করতে ইচ্ছা করেছেন এবং তিনি আপনাদেরকে পূতঃ পবিত্র করবেন।”
বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামগণ বলেছেন, অত্র আয়াতে “আহলে বায়ত শব্দটি পরিবারের সদস্য ও বংশধরদের শামিল করে। তাই রাসূল (দঃ) সএর বিবিগণ তাঁর পরিবারের সদস্য হিসেবে আহলে বায়ত। আর তাঁর (দঃ) আত্মীয়-স্বজন বংশধর হিসেবে আহলে বায়ত।
এ প্রসঙ্গে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উক্ত আয়াতটি নাযিল হয়েছে নবী করিম (দঃ), হযরত আলী (রাঃ), হযরত ফাতেমা (রাঃ), হযরত ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (রাঃ)- এর প্রসঙ্গে। অর্থাৎ আয়াতে আহলে বায়ত দ্বারা তাঁদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এ অভিমতের সমর্থনে আরো বিশুদ্ধ হাদীস রয়েছে। যেমনঃ একদা নবী করিম (দঃ) ত৭াদেরকে নিয়ে এক জায়গায় বসে একটি চাদর দ্বারা আবৃত হলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বায়ত, এা আমার প্রিয় ভাজন। তাঁদের থেকে আপনি সব প্রকারের পঙ্কিলতা দূর করুন এবং তাঁদের পূতঃ পবিত্র করুন।” অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (দঃ) তাঁদের উপর চাদর রাখলেন এবং তাঁর হস- মোবারক তাঁদের উপর রেখে দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! এরা মুহাম্মদ (দঃ) এর পরিবারবর্গ। আপনার অফুরন- রহমত ও বরকতের ধারা তাঁদের প্রতি অহরহ বর্ষণ করুন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও অতীব সম্মানিত।
যে সমস- আয়াতে করীম আহলে বায়তে রাসূল (দঃ) এর ফজিলত বর্ণনা পূর্বক অবতীর্ণ হয়েছে তন্মধ্যে নিম্ন্‌াকে্ত আয়াতটি প্রনিধানযোগ্য। মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন-
“অতঃপর হে মাহবুব! যে ব্যক্তি আপনার সাথে ঈসা (আঃ) সম্পর্কে বিতর্ক করে আপনার নিকট ওহী আমার পরও তবে তাঁদেরকে বলে দিন, এসো আমরা ডেকে নিই আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের, আমাদের নারীদের এবং তোমাদের নারীদের এবং আমাদের নিজেদের ও তোমাদের নিজেদের। অতঃপর “মোকাবেলা” করি। তারপর মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লানত দিই।”
তাফসীরবেত্তাহণ বলেছেন, যখন উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হল তখন রাসূলুল্লাহ (দঃ) হযরত আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন (রাঃ) কে ডাকলেন। অতঃপর ইমাম হোসাইন (রাঃ) কে কোলে নিলেন এবং ইমাম হাসান (রাঃ) এর হাত ধরে চলতে লাহলেন। হযরত ফাতেমা (রাঃ) তাঁর পেছনে এবং হযরত আলী (রাঃ) উভয়ের পেছনে চলতে লাগলেন। এমতাবস’ায় রাসূলুল্লাহ (দঃ) দোয়া করলেন- হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বায়ত।
উপরোল্লিখিত আয়াত দ্বারা একথা সুস্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হয় যে, হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর আওলাদগণ এবং তাঁদের বংশধরদেরকেই রাসূলুল্লাহ (দঃ) এর আহলে বায়ত বলা হয়। তাঁদের বংশীয় ধারা রাসূল (দঃ) এর দিকে বিশুদ্ধ রূপে প্রবাহিতঅ আর এহেন বংশানক্রমিক ধারা তাঁদেরকে ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে উপকৃথ করবে।
কথিত আছে যে, একবার বাদশাহ হারুনুর রশীদ ইমাম মূসা কাজেম (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন আপনারা কিভাবে দাবী করেন যে আপনার রাসূল (দঃ) এর বংশধর? অথচ আপনার হযরত আলীর বংশধর। কারণ বংশের ুনসবত বা সম্পর্ক হয় দাদার দিকে, নানার দিকে নয়। উত্তরে তিনি নিম্নের আয়অতটি তেলাওয়াত করলেন-
আর তার সন-ানদের মধ্য থেকে দাউদ, সোলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূস িএবং হারুনকেও এবং আমি অনুরররূপভাবে প্রতিদান দিয়ে থাকি সৎকর্মপরায়নদের এবং যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা এবকং ইলিয়াসকেও। হযরত ঈসা (আঃ) এর পিতা ছিল না। এতদসত্বেও তাঁকে নবীগণের বংশধর বলে কুরআন পাকে বর্ণনা করা হয়েছে। আর তা করা হয়েছে মায়ের দিক থেকে। এভাবে আমরাও রাসূল (দঃ) এর সাথে আওলাদের সম্পর্কে সম্পৃক্ত হয়েছি আমাদের মা খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমাতুজ্জহরা (রাঃ) এর মাধ্যমে। হারুনুর রশীদকে সম্বোধন করে তিনি আরো বলেন, “হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন, যখন আয়াতে “মোকাবেলা” অবতীর্ণ হয়েছিল তখন রাসূলুল্লাহ (দঃ) কি হযরত আলী, ফাতেমা, হাসান, হোসাইন (রাঃ) ব্যতিত অন্য কাউকে ডেকে ছিলেণ?
পবিত্র কুরআনের পাশাপাশি আহলে বায়তে রাসূল (দঃ) এর ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনাপূর্বক অসংখ্য হাদীস শরীফও রয়েছে। যেমনঃ হযরত আবু ইয়ালা (রাঃ), হযরত মাসলা বিনতে আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (দঃ) ইরশাত করেছেন, “তানকারাজি আসমানবাসীদেরকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে, আমার আহলে বায়ত আমার উম্মতদেরকে বিভেদ-বিশৃঙ্খলা থেকে নিরাপদ রাখে।”
ইমাম আহমেদ (রঃ) এর অন্য বর্ণনায় আছে, নবী করিম (দঃ) ইরশাদ করেছেন, “আমার আহলে বায়তগণ যখন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তখনই দুনিয়াবাসীদের নিকট ঐ সমস- বালা-মুসিবকত আসবে, যেগুলোর ব্যাপারে তাদেরকে হুঁশিয়ারি করা হয়েছিল।” ইমাম হাকেম ৯রাঃ), হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (দঃ) ইরশাদ করেছেন, “আাল্লাহ তায়ালা আমারআহলে বায়তের ব্যাপারে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তারা যদি আল্লাহ তায়ালার ওয়াহদানিয়্যাত (ড়্গকেত্ববাদ) স্বীকার করে এবং আমাকে রাসূল হিসেবে মেনে নেয়, তাহলে তাঁদেরকে কোন ধরনের আজাবের সম্মুখীন হতে হবে না।”

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on আহলে বায়তের মর্যাদা

রাজনীতি নয় দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কারবালার সংঘাত

রাজনীতি নয় দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কারবালার সংঘাত

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রগণ রাজনীতির একাধিক সংজ্ঞার সঙ্গে পরিচিত। ইংরেজী চড়ষরঃরপং শব্দের বাংলা রাজনীতি। রাজনীতির একটি আধুনিক সংজ্ঞা দিয়াছেন সাউদানের ক্যালিফোরনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসার বিখ্যাত রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ও লোক প্রশাসন বিশেষজ্ঞ জন এম্‌ ফিফ্‌নার এবং ফ্রেঙ্ক পি, সের উড। তাঁহারা বলেন, চড়ষরঃরপং রং ঃযব ঢ়ৎড়পবংং নু যিরপয ঢ়ড়বিৎ ধহফ রহভষঁবহপব ধৎব ধপয়ঁরৎবফ ধহফ বীবৎপরংবফ অর্থ্যাৎ রাজনীতি হইলে এমন একটি প্রক্রিয়া যাহারা দ্বারা ক্ষমতা ও প্রভাব অর্জন করা ও খাটান যায়। এই ক্ষমতা কি জিনিস? মেরি পার্কার ফলেট বলেন, চড়বিৎ সরমযঃ নব ফরভরহবফ ধং ংরসঢ়ষু ঃযব ধনরষরঃু ঃড় সধশব ঃযরহমং যধঢ়ঢ়বহ অর্থ্যাৎ ক্ষমতার সংজ্ঞা হইল কোন কিছুর ঘটাইবার শক্তিমাত্র আর চড়ৎবপবংং হইল দধ ংুংঃবসধঃরপ ংবৎরবং ড়ভ ধপঃরড়হ ফড়ৎবপঃবফ ঃড় ংড়সব বহফচ অর্থাৎ প্রক্রিয়া হইল কোন উদ্দেশ্য অর্জনের নিয়মাবদ্ধ ধারাবাহিক কার্যবলী । হযরত হোসেনের কোন পদক্ষেপই ঐ সংজ্ঞাগুলির আওতায় আসে না।
হযরত হোসেন ছিলেন মোহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়াসাল্লাম এ দৌহিত্র । যিনি সব-সময় আঁ – হযরতের আদর্শ অনুসরণ করিতেন। আঁ হযরত ১২ লক্ষ বর্গমাইল বিশিষ্ট রাজ্যের রাজ্যের মালিক হইয়াও খেজুর পাতার বিছানায় শুইতেন। তাঁহার মৃত্যুর সময় তাঁহার গায়ের কাপড় তালি যক্তি ছিল। তাহার মাতা ছিলেন হযরত ফাতেমা যাঁহার, তাঁহার পিতা ছিলেন হযরত আলী যিনি খলিফা হইয়াও ফকিরের মত জীবন যাপন করিতেন। হযরত হাসান, হযরত হোসেন, হযরত ফাতেমা যাহারা এবয় হযরত আলী ছিলেন আহ্লুল বায়েতের সদস্য পবিত্র কোরআনের ছুরা আহ্‌যাবের ৩৩নং বলা হইয়াছে,
অর্থঃ হে নবী পরিবার, আল্লাহ কেবল চাহেন তোমাদিগ হইতে সমন- অপবিত্রতা দূর করিতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও কলল্কমুক্ত করিতে। যেহেতু হযরত হোসেন আহলুল বায়েতের একজন সদস্য, আল্লাহর বাণী অনুযায়ী তিনি পবিত্র ও কল্কমুক্ত। যেতেতু ইহা আল্লাহর কালামের উপর প্রতিষ্ঠিত, উহা প্রত্যেক মুসলমাকেব বিশ্বাস করিতেই হইবে। আপনারা অনেকেই জানেন এই অয়াত কি অবস’ায় নাজেল হইয়াছিল। একদিন আঁ হযরত তাঁহার কন্যা হযরত ফাতেমা যাহারার ঘরে আগমন করিলে দিতি তাঁহার গায়ে একটি এমনি জুব্ব পরিধান করেন। এই জুব্বায় পর পর হযরত হাসান, হযরত হোসেন, হযরত ফাতেমা যাহারা এবং হযরত আলী প্রবেশ করেন। ঐ সময় আঁ হযরত তাঁহাদিগকে পবিত্র ও কলল্কমুক্ত করার জন্য আল্লাহর নিকট আরজি করেন, তখন উপরোক্ত আয়াতে করীমা নাজেল হয়। (সুত্র- জামাখশারী তাফসীর আল কাশাফ)
কোরআন শরীফের বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইউসুফ আলী কলেন, নবী পরিবার কলিতে আঁ হযরতের স্ত্রীগণ এবং হযরত হাসান, হযরত হোসেন, হযরত ফাতিমা যাহারা এবং হযরত আলীকে বুঝান হইয়াছে।
সুতারাং যেহেতু হযরত হোসেন আহ্লুল বায়েত বা আঁ হযরতের পরিবারভুক্ত ছিলেন আল্লাহ্‌ তাঁহাকে পবিত্র ও কলল্কমুক্ত করেন। এই অবস’ায় তাঁহার নিকট কোন জাগতিক লোভ-লালসা বা কোনরূপ অপবিত্রতা থাকিতে পারে না।
হারকেরা জামা যে এস্ক্‌ চাক্‌ শোধ
উজে হেরচ্‌ ও আয়েব কুল্লে পাকশোধ।
প্রেমের দরুন যাঁহার গায়েব বস্ত্র ছিন্ন হইয়া গিয়াছে, তিনি সমস- লোভ ও দোষ ক্রটি হইতে মুক্ত হইয়াছেন।
কারবালার সংঘাতের মূল কারণ কি ছিল? এই সম্বন্ধে যেই সমস- নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য রহিয়াছে উহা হইতে বুঝা যায় যে হযরত মোসেন ক্ষমতার জন্য নয়, দ্বীনের জন্য শাহদাত বরণ করেন। আঁ হযরতের তিরোধানের পর মুসলমানগণ দেশ শাসনের ব্যাপারে ব্যক্তি বিশেষের গুণাবলী বিবেচনা করিয়া খলিফা নির্বাচন করিতেন। এই নিয়মে আঁ হযরত মাবিয়ার (রাঃ) পূর্ব পর্যন- ইসনলামই ছিল শাসন প্রণালীর মূলনীতি। রাজ্য শাসনের চাবিকাঠি চিল ’’খিলাফত আল নবুয়াহ” অর্থাৎ নবীর খলিফা। এই খেলাফতকে ব্যাখ্যা করিতে গিয়া ইবনে খালদুন তাঁহার ’আল মুকাদ্দিমা’ তে বলেন ‘‘ খেলাফত অর্থ হইল ধর্মের সংরক্ষণ ও পার্থিব শৃঙ্খলা বিধানের জন্য ধর্ম প্রতিনিধিত্ব করা । ধর্ম প্রবর্ত্তক দুইটি বিষয়ে তৎপর হন, একটি হইল ধর্মীয় বিধি নিষেওধর যথাবিহিত প্রচারণা এবং মানুষকে তৎসম্পর্কে কর্তব্য পালনের করা উৎসাহিত করা, অন্যটি হইল মানব জীবনের কল্যাণকে সম্মুখে রাখিয়া পার্থিব শাসন ব্যবস’া প্রতিষ্ঠা করা।
খেলাফত যদি ইসলামী হয়, তাহা হইলে উহার মধ্যে রাজশক্তি মিশ্রিত অবস’ায় থাকে এবং কখনও উহার অনুসারীও হয়, কিন’ উহা যদি উসলামী জীবন ব্যবন’ার বহির্ভূত হয়, তাহা হইলে উহা রাজশক্তি হইয়া দাঁড়ায়। খেলাফত সামগ্রিকভাবে জাতির ধর্মীয় ও পার্থিব অবস’াদির পর্যবেক্ষণ এবং তৎসম্পকীয় ধর্মীয় বিধি নিষেধ প্রবর্ত্তন করে। ’’ (আলমুকাদ্দিমা- ইবনে খাল্‌দুন- গোলাম সামদানী কোরায়শী অনূদিত পৃঃ -৩৭৯)
হযরত মাবিয়ার সময় ‘ খেলাফত আল নবুয়াহ্‌’র পরিবর্তন ঘটে এবং উহা মূলক বা জাগতিক সার্ব্বভৌত্বে অর্থাৎ ঞবসঢ়ড়ৎধষ ঝড়াবৎবরমযঃু তে পরিণত হয়। প্রথম চার খলিফা তাঁহাদের কোন উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করেন নাই । ইবনে খালদুন বলেন, ‘‘ হযরত উমর ইবনে আল খত্তাব(রাঃ) যখন সিরিয়া উপসি’ত হইয়া হযরত মাবিয়াকে রাজশক্তি সুলভ বৈভব ও ভূষণ এবয় সভাসদও অনষদের মধ্যে দেখিতে পাইলেন, তখন দিনি বিরক্তি প্রকাশ করিয়া বলিয়াছিলেন, ‘‘ ইহা কি পারস্য রাজের বেশ ভূষা নহে, হে মাবিয়া?’’ (আলমুকাদ্দিমা)
ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সমগ্র বিশ্বের মালিক আল্লাহ, অন্য কেহ উহার মালিক হইতে পারে না। হযরত মাবিয়ার সময়ের পর হতে এই নীতির বিচ্যুতি ঘটে। এয়াজিদের খলিফা হওয়ার উপযুক্ততা ছিল বিনা তাহা বিবেচনা করা প্রয়োজন। আমরা দেশে ও বিদেশে ওদখিতেছি, উপযুক্ত না হইলেও এবং সংখ্যা গরিষ্ঠ জনসাধারণের সমর্থন না থাকিলেও নানা কৌশনে কেহ কেহ শাসন কক্ষমতা দখল করে। হযরত মাবিয়ার পুত্র এয়াজিদের বেলায়ও হইয়াছিল হাতাই। তিনি ছলে, বলে, কৌশলে উবভধপঃড় অর্থাৎ অদিকার বলে হউক বা না হউক রাজা হইয়া গিয়াছিলেন। আপনারাপ জানেন ইহুদী ও খৃষ্টান লেখকগণ ইসলামকে হেয় করার জন্য প্রায় সময় ইসলামের শক্রকে বড় করিয়া দেখায়, কিন’ আশ্চর্যের বিষয় এয়াজিদের চরিত্রহীনতার ব্যাপারে প্রায় সব ইহুদী ও খৃষ্টান লেখকগণ একমত। উদাহরণ স্বরূপ ঐরঃঃর (হিট্টি)তাঁহার ইতিহাস ঐরংঃড়ৎু ড়ভ ঃযব অৎধনং এ লিখিতেছেন ’’ ডযবহ ণধুরফ বিষষ শহড়হি ভড়ৎ যরং ভৎরাড়ষরঃু ধহফ ফরংংরঢ়ধঃরড়হ ংঁপপববফবফ ঃড় ঃযব ঃযৎড়হব ধনফঁষষধয ড়ঢ়বহঃষু ধমরহধংঃ ঃযব হব িঈধঢ়ষরযধ”অর্থঃ যখন এয়াজিদ যিনি তাঁহার চপলতা ও চরিত্রহীনতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন, সিংহাসন আরোহন করেন, তখন আবদুল্লাহ্‌ খোলা খুলিভাবে নিজকে নূতন খলিফার বিপক্ষে বলিয়া ঘোষণা করেন।
একজন মদ্যপায়ী দুশ্চরিত্র লোককে কোন প্রকৃত মুসলমান খলিফা কলিয়া মানিয়া নিতে পারে না। হযরত মোহাম্মদ মোস-াফা ছল্লাল্লহু
আলাইহে ওয়াছাল্লামের দৌহীত্র হযরত হোসেনের পক্ষে ইহা মানিয়া নেওয়া মোটেইড সম্ভব ছিল না। এয়াজিদ তাঁহাকে খলিফঅ মানিয়া নিবার জন্য হযরত হোসেনের উপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং তাহার হাতে বায়েত হইবার জন্য পত্র প্রেরণ করেন। হযরত হোসেন কি করিয়া একজন অপবিত্র চরিত্রহীন লোকের হাতে বায়েত গ্রহণ করিবেন? বায়েত শব্দটির অর্থ আপনারা অনেকেই জানেন। এই সম্বন্ধেইননে খালদুন তাঁহার ‘‘আলমুকাদ্দিমা’’ তে কি বলেন দেখুন, ‘‘জানিয়া রাখুন আরবী বায়েত শব্দের অর্থ আনুগত্যের শপথ গ্রহণ। শপথ গ্রহণকারী তাহার সর্দ্দারকে এই বলিয়া প্রতিশ্রুতি দেয় যে, নিজের জন্য ও মুসলমানদের জন্য তাঁহার দৃষ্টিভঙ্গি মানিয়া লইবে এবং কোন ব্যাপারে তাঁহার সহিত কলহে প্রবৃত্ত হইবে না। এতদ্ব্যতীত সর্দ্দার তাহাকে যেই দায়িত্ব পালন করিতে দিবেন, তাহা ভাল হউক বা মন্দ হউক সে উহা পালন করিবে।
এইভাব তাহারা যখন কোন সর্দ্দারে আনুগত্য স্বীকার করিয়া শপথ গ্রহণ করে তখন বিষয়াটিকে গুরুত্ব সৃষ্টির জন্য তাঁহার হাতে তাহাদের ন্যস- করে। উহা যেন ক্রেতা বিক্রেতার সম্পর্কের মত হইয়া দাঁড়ায়। এই জন্য উহাকে বায়েত বলা হয়।
উহা ‘‘বা-আ’’ শব্দের ক্রিয়া বিশেষ্য এবং বায়েতের অর্থ হয় করমর্দ্দন। (আল মুকাদ্দিমা পৃঃ ৩৬৪)
চিন-া করিয়া দেখুন, হযরত হোসেনের পক্ষে উহা সম্ভব ছিল কিনা। তাঁহার পক্ষে উহার বিরোধিত করাই ছিল স্বাভাবিক। তিনি ইসলাম ধর্ম রক্ষার্থে উহার বিরোধিতা করেন। বছরাবাসীদের উদ্দেশ্যে লিখিত তাঁহার এক চিঠিতে তিনি পরিস্কারভাবে উল্লেখ করেন যে, হযরত মোহাম্মদ ছাল্লাল্লহু আলায়হি ওয়াছাল্লামের সুন্নত বিলুপ্ত হইয়া যাইতেছে। তিনি সকলকে দ্বীন রক্ষা করিতে অনুরোধ জানা। তিনি তাঁহার বিভিন্ন ভাষণে বার বার উল্লেখ করেন যে, তিনি ক্ষমতার লোভে নহেন। তিনি কেবল ইসলামকে রক্ষা করিতে চাহেন। একজন দুশ্চরিত্র মদ্যপায়ীকে মুসলমানদের খলিফা বানাইলে ইসলাম রক্ষা হইতে পারে না। আঁ হযরতের নাতি এজিদের হাতে বায়েত গ৯্রহণ করিলে সমগ্র জগতকে উহা অবনত মন-কে মানিয়া নিতে হইতে এবং কেয়ামত পর্যন- উহা একটি কলল্ক হিসাবে চিহিৃত হইয়া থাকিত। ইহা তিনি চাহেন নাই।আগেই বলা হইয়াছে, তিনি ক্ষমতার লোভে লোভী ছিলেন না। কুফাবাসীদের আমন্ত্রণক্রমে তিনি যখন কুফার দিকে রওনা হন, তখন তাঁহাদের মধ্যে যুদ্ধ করার বা যেই কোনরূপ সংঘাতে লিপ্ত হইবার মনোভাব ছিল না। যদি অন্যরূপ হইত তাহা হইলে তিনি পরিবার পরিজন ও দুগ্ধ
পোষ্য শিশু নিয়া কারবালায় উপসি’ত হইতেন না। তাঁহার হৃদয় ছিল সরল, স্বচ্ছ ও পবিত্র। তিনি ক্ষমতার জন্য কোন কিছু ঘটাইবার মানসে বাহির হন নাই। তিনি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হন। তাঁহাকে যখন চতুর্দ্দিক হইতে ঘিরিয়া রাখিয়া পানি বন্ধ করিয়া এবং তাঁহার সঙ্গীদের একের পর এককে বধ করিয়া তাঁ্‌হাকে হয়, তখন তিনি উহা রুখিয়া দাঁড়ান। তিনি তাঁহার জীবন বিসর্জ্জন করেন কিন’ সত্যকে, ধর্মকে বা আদর্শকে বিসর্জ্জন দিতে অস্বীকার করেন। তিনি যাহা করিয়াছিলে তাহা একমাত্র আঁ হযরতের দৌহিত্রের পক্ষেই সম্ভব ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, হযরত হোসেনের সঙ্গে যাঁহারা ছিলেন তাঁহাদের সংখ্যা ছিল মাত্র দুইশতঃ অপর পক্ষে এজিদের সৈন্য সংখ্যা ছিল চার হাজার। এই অসম এবং অন্যায় যুদ্ধের পরিণতি উপলদ্ধি করিয়াও হযরত ইমাম হোসেন আদর্মচ্যুত হন নাই। সত্যিকার মুসলমানদের কাজ হইল পাপ কাজে লিপ্ত স্বৈরাচারীও একনআয়কের বিরুদ্ধে আমরণ জিহাদ ঘোষণা করা।ইহাতে ইসলামের অমরত্ব নিহিত রহিয়াছে। এই জন্য বলা হয়, ‘‘ ইসলাম জিন্দ হোতা হ্যায় হার কাবালা কি বাদ’’। প্রকৃতপক্ষে কারবালাপর ঘটনা হযরত ইমাম হোসেনকে অমর করিয়াছে আর এয়াজিদের মৃত্য আনয়ন করিয়াছে।
পৃথিবীর ইতহাসে ধর্মের জন্য প্রাণ বিসর্জ্জন করিয়াছেন এইররূপ মহাপুরুষের সংখ্যা যথেষ্ট। যাঁহারা প্রাণের বিনিময়ে ধর্মকে বা নিজের মতবাদকে রক্ষা করিয়াছেন তাঁহাদের মধ্যে হযরত ঈসা ও ইমাম আবু হানিফার না উল্লেখ করা যাইতে পারে। হযরত ঈমা যদি রোমান রাজার গভর্নর পন্টিয়াস পিলেট (২৬-৩৬খৃঃ) ও গেলিলির শাসনকর্তা হেরোডের কথামত চলিয়া তাঁহার ধর্মমত বিসর্জ্জন দিতেন, তাহা হইলে হয়ত বা তিনি প্রাণে বাঁচিতেন কিন’ খৃষ্টান ধর্ম পৃথিবীতে থাকিত না। হযরত ইমাম আবূ হানিফা (৬৯৯-৭৬৭খৃঃ) যদি খলিফা আল মনসুরের কথামত জবনদসি-মূলক শাসন ব্যবস’ার প্রতি সমর্থন দিতেন, তাহা হইলে তাঁহাকে এগার বৎসর কারাগারে ধাকিয়া পরিশেষে বিষপানে প্রাণ দিতে হইত না। তিনি তাঁহার মতবাদে দৃঢ় না থাকিলে তাঁহার প্রবর্ত্তিত মজাহাবের প্রতি মানুষের আস’া থাকিত না এবং আমরা এতগুলো লোক তাঁহার অনুসারী ধাকিতাম না । কিন’ বীরত্বও অন্যান্য সব দিক হইতে পৃথিবীর ইতিহাসে ইমাম হোসেনের শাহাদাতের কোন তুলনা নাই। আঁ হযরতের দৌহীত্র হইয়া তিনি যদি এয়াজিদের পাপাচারকে সমর্থন জানাইতেন, তাহা হইলে ইসলামের অপূরণীয় ক্ষতি হইত তিনি প্রাণের বিনিময়ে ইসলামকে রক্ষ করিয়াছে। এয়াজিদ যুদ্ধে জয়ী হইলেও ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ হইতে এবং সমগ্র জগতের
নিকট রোজ কেয়ামত পর্যন- সে একজন ঘৃণিত জীব হিসাবে পরিচিত থাকিবে। হযরত হোসেন ইসলাপমের গৌরব। তাঁহার শাহাদাতের পর লক্ষ লক্ষ লোক ইসলামের জন্য, ন্যায়ের জন্য, আদর্শের জন্য শাহাদত বরণ করিতে উদ্বুদ্ধ হইয়াছেন। ইহা না হইলে ইসলামের বিরুদ্ধে যেইসব ষড়যন- আগে চলিয়াছে এবং এখনও চলিতেছে উহা ইসলামকে ডুবাইয়া দিত। হযরত ইমাম হোসেন ধর্ম রক্ষার্থে সমগ্র মুসলিম উম্মার জন্য শাহাদতের যেই দৃষ্টান- রাকিয়া গিয়াছেন উহা ইসলামকে এই পর্যন- রক্ষা করিতে সহায়ক হইয়াছে এবং ভবিষ্যতে কেয়ামত পর্যন- সহয়ক হইবে। ইমাম হোসেন সমগ্র মানব জাতির হৃদয়ে বাঁচিয়ে আছেন। তাঁহাকে মুসলিম, খৃষ্টান, ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধ, শিয়া, সুন্নী সকলেই শ্রদ্ধা করেন।
ইসলামের জন্য যাঁহার শহীদ হইয়াছেন, তাঁহার কোন দিনই মৃত্যু হয় না। ভূপৃষ্ঠের রেকর্ডে চিরকালের জন্য তাঁহাদের নাম লিপিবদ্ধ হইয়া গিয়াছে। হযরত হোসেন ৬১ হিজরীর ১০ই মহররম মোতাবেক ১০ই অক্টোবর ৬৮০ খৃষ্টাব্দে শাহাদত বরণ করেন।
আমি ১৯৮৯ ইংরেজীর ডিসেম্বর মাসে অর্থাৎ হযরত হোসেনের শাহাদতের এক হাজার তিনশত বৎসর পরে কারবালায় সপরিবারে তাঁহার মাজার জিয়ারত করিতে যাই। পৃথিবীতে যদি এমন কোন স’ান থাকে যেই স’ানে দিন রাত্রি বিরামহীন কান্না চলিতেছে ঐ স’ানটি হইল ইমাম হোসেনের শাহাদতের স’ান। ঐ স’ানটিকে রক্তাক্ত অনিকস পাথরে নির্মিত প্রাচীরে ঘিরিয়া রাখা হয়। উহাতে প্রবেশ করিলে মনে হয় যেন এই মাত্র হযরত হোসেন শাহাদত বরণ করিয়াছেন এবং তাঁহার পবিত্র রক্তের ছিটকানি মেঝেতে এবং দেওয়ানের গায়ে তাজা অবস’ায় লাইগিয়ে আছে। হাজার হাজার নারী ও পুরুষ বা দিনে ঐ স’ানে পৌছিতেছে এবং কান্নার রোল দুলিতেছে।
কত নেতা কত রাজা কত মহারাজা ও লোকজন যুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন করিয়াছেন এবং করিতেছেন কিন’ সমগ্র পৃথিবীর লোক তাঁহাদের কাহারও জন্য অত ব্যাথা অনুভব করে না, যতখানি ব্যথা তাহারা ইমাম হোসেনের শাহদাতাতের জন্য অনুভব করে। করি, ঐতিহাসিক ও লেখক এই শাহাদতকে কেন্দ্র করিয়া বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন দেশে বিলাপ করিয়াছেন, কবিতা ও মর্সিয়া লিখিয়াছেন এবং উহাদের প্রত্যেকটাই করুণ ও অশ্রু উদ্রেককারী।

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on রাজনীতি নয় দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কারবালার সংঘাত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (দ.) গুরুত্ব ও পিয় নবীর শান –মর্যাদা ঃ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (দ.) গুরুত্ব ও পিয় নবীর শান –মর্যাদা ঃ

মহা- পরাক্রমশালী, মহা- বিজ্ঞানময়, সর্বত্র বিরাজমান, সর্বজ্ঞাত, সর্বশ্রোতা, সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশী খুশী হন সেই বান্দার প্রতি যে কিনা তাঁরই প্রিয় হাবীব, নূরের নবী (দ.) কে আপন প্রাণের চেয়েও বেশী ভালোবাসেন । তদ্রুপ , যে ব্যাক্তি তাঁর প্রিয় বন্ধুর মান- শানের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনড়্গা হিংসা কওে অথবা তাঁর প্রিয় বন্ধুর প্রতি কোন প্রকার অসম্মান প্রদর্শন কওে, তবে আল্লাহ তার প্রতি ভীষণ নারাজ হন, পরকালে তার জন্য অপেক্ষা করে কঠিন আজাব।
মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম আপন নূও থেকে তাঁর প্রিয় হাবীবের নূও পৃথক করলেন এবং সেই নূরের অংশ থেকেই সারা বিশ্বজাহান সৃষ্টি করলেন। জাহেরী- বাতেনী অর্থাৎ প্রকাশ্য যেমন ঃ- বেহেস–দোযখ, ফেরেশতা, জ্বীন-পরী, মানব-মানবী, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব কিছুই সৃষ্টি করলেন নবীজীর নূও থেকেই।
নবীজী যে সৃষ্টিকূলের জন্য কত বড় মাধ্যম, কত বড় অবিচ্ছেদ্য নেয়ামত তা মুখে বলে শেষ করার সাধ্য, ক্ষমতা বা জ্ঞান কারোই নেই। তবু অল্প কয়েকটি দিক আলোচনা করলেই নবীজির মান-শান এবং গুরুত্ব যে কত অপরিসীম তা খুব সহজেই অনুমান করা যায়।
মানব জাতির আদি পিতা মাতা, “বা আদম এবং মা হাওয়া” নিজেদেও ভুলের জন্য প্রায় সাড়ে তিনশত বৎসরকাল আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি কও কে্ষমা প্রার্থনা করলেন, কিন’ আল্লাহর ক্ষমা করলেননা । যখন তাঁর প্রিয় হাবীব হযরত মহাম্মদ (দঃ) এর উছিলায় ক্ষমা চাইলেন তাঁদেও ক্ষমা কওে দিলেন।
মহান স্রষ্টা তাঁর প্রিয় হাবীবকে উদ্দেশ্য কওে বলেছেন “ও আমার প্রিয় হাবীব আপনি না হলে আমি কোন কিছুই সৃষ্টি করতাম না। পকিত্র কোরআন মাজীদে বলেছেনঃ যে ব্যক্তিই আমার হাবীবের তাবেদবরী কওে পক্ষান-ওে সে ব্যক্তি আমারই তাবেদারী কলে। কোরআন করিমে নবীজীকে সৃষ্টি করার কথা কোথাও লিখা নেই বরং পরিষ্কার ভাবে প্রেরণ করার কথাই লিখা আছে।
আল্লাহ বলেছেন তোমাদেও কাছে স্পষ্ট কিতাব ও নূও প্রেরণ করা হয়েছে। নূরের কোন ছায়া থাকার প্রশ্নই আসে না। আর তাইতো আমাদের নূরের নবী (দঃ) এর দেহ মোবারকের কোন ছায়া ছিল না(সোবহানাল্লাহ) । তিনি হলেন স্পষ্ট ও জীবন- কোরআন।
কাগজে লিখা কোরআন চিন-াশীল-জ্ঞানীরা আমলের মাধ্যমে নিজেদেও মাঝে জীবন- কওে তোলেন। আর লিখা কোরআনও নবীজির উছিলাতেই আমরা পেয়েছি। আল্লাহ – তাআলা কোরআনে বার- বার বলেছেন, তোমরা উছিলা তালাশ কর উছিলা তালাশ কর।
কোরআন ও হাদীস শরীফের মতে তাঁর প্রিয় হাবীব এবং তাঁর রেসালতের ধারা অর্থাৎ প্রধিনিধিত্বেও ধারা আহলুল বাযেতকে যারা ভালোবসেন , অলি আউলিয়াকে যারা ভালোবাসেন,মহান আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন এবং তাদেরকে সু-পথ প্রদর্শন করেন। মানব জাতির আদিকাল থেকেই আল্লাহ তাঁর হাবীব যে কত বড় উছিলা সেই শিক্ষাই দিয়ে আসছেন। তিনি কোন কিছু সৃষ্টির বহু পূর্ব থেকেই নবী ছিলেন। তিনি সব নবীগণেরও নবী । শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর প্রকৃত উম্মতরা যে কত বড় সৌভাগ্যবান তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হযরত ঈসা (আঃ) একজন নবী হয়েও শেষ নবীর (দঃ) এর উম্মত হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবাওে ফরিয়াদ করলেন পুনরায় পৃথিবীতে আসার জন্য। আল্লাহ ঈসা নবীর প্রার্থনা কবুল করলেন। সব নবী ও রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স’াপন করতে হবে। আর যিনি কিনা সম্‌স- কোরইন তাঁর জীবনাচার দিয়ে মানবজাতিকে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন, আল্লাহর সেই প্রিয় হাবীব, জীবন- কোরআন সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অবিশ্বাস করলে তাঁর প্রকৃত উম্মত হওয়া আশা করা যায় না। তিনি জীবনের বেশীর ভাগ সময় নিরিবিলিতে ও হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যান মগ্ন হয়ে গোপনে বা অপ্রকাশ্য ইবাদতে কাটি য়ে গেছেন। তারপর অল্প কিছুদিন বাহ্যিক বা প্রকাশ্য আচার – অনুষ্টান দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।
শুধু মুসলিম নাম ধারণ করে এবং পোশাক আশাক পরিধান কওে বাহ্যিক আচার অনুষ্ঠান পালন করেই কি আমরা নবীজীর প্রকৃত উম্মত হওয়ার আশা করতে পারি? নবীজীর ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের এুঁকু মানি আর ওট ুকু মনি না এই যদি হয় অবস’া তবে তা হবে সেই ব্যক্তির জন্য খুবই দুভাগ্যজনক । তিনি আমাদেও ‘মান আরাফা নাফসাহু- ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু (যে তার আপন নফস বা প্রবৃত্তিকে চিনলো সে তার রবকে চিনলো) বাস-বায়ন করে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। রাসূও (দঃ) এবং তিনি যাদের অনুসরণ করতে বলে গেছেন সেই সব আহলুল বায়েত এবং অলি- আউরিয়াদেও প্রদর্শিত পথেই মানুষের প্রকৃত মু্‌ক্িত নিহিত রয়েছে। নবীজী পরিষ্কার বলে গেছেন, “আল্লাহ যা বলেননি আমি তা কখনো তোমাদেও করতে বলিনি”।
কোরআনুল করিমের ঘোষনা (এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কার ) আল্লাহর সব কিছুই জোড়ায জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। আর নবী করিম (দঃ) হলেন আল্লাহর একমাত্র জোড়া- বন্ধু হাবীব। রাসুল (দঃ) এর নাম আল্লাহর নামের সাথে সংযুক্ত । প্রিয় নবীজীর উপর বেশী বেশী দরুদ পড়লে দোজখের আগুন হারাম হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবীবকে “ ও আমার প্রিয় হাবীব আমি আমার ফেরেস-াদের নিয়ে সদ – সর্বদা আপৃনার শানে দরুদ শরীফ পাঠ কওে চলছি। তিনি মানুষকে উদ্দেশ্য করে নির্দেশ দিচ্ছেন -“ হে আমার ঈমানদার মোমিন বান্দাগণ তোমরা আমার প্রিয় হাবীবের শানে বেশী বেশী কওে দরুদ পাঠ কর”। যে দিন কেয়ামত হবে, যখন মানুষ আল্লাহর নাম ভুলে যাবে তষনও খোদ আল্লাহ তার প্রিয় হাবীবের শানে দরুদ শরীফ পড়তে থাকবেন, যা খখনই বন্ধ হবে না, শেষ হবেনা। খোদ স্রষ্টাই আশেকে রাসূল (দঃ) । শেস বিচারের দিনে আল্লাহ যখন কাহ্‌হার রূপে কঠিন রূপে দেখা দিবেন তখন এক পর্যায়ে তিনি তাঁর প্রিয় হাবীবের দিকে দৃষ্টি দিবেন তখন তাঁর প্রিয় হাবীবের প্েরমে বিগলিত হযে,“রহমানুর রাহিম” হয়ে দেখা দিবেন। আর ক্ষমাশীল দয়াময় স্রষ্টা তাঁর প্রিয় হাবীবের সুপারিশে ভুল- ভ্রানি-তে নিমজ্জিত গুনাহগার উম্মতদেও ক্সমা কওে দিবেন।
রাসূল (দঃ) কে বাদ দিয়ে অৎানা হয় না। রাসুল(দঃ) এবং তাঁর আওলাদাগণের প্রতি সালাম ও দরুদ পেশ রা করলে নামাজ হয় না। রাসূল (দঃ) এর প্রতি দরুদ পাঠ না করে মোনাজাত করলে, সে মোনাজাত আর্‌লাহার দরবাওে কবুল হয় না। “বিসমিল্লাহী ওয়াআলা মিল্লাতি রাসল্লল্লাহি ” পড়ে লাশ দাফন করা হয়। পৃথিবীর যে কোন প্রান- থেকে নবীজীর প্রতি সালাম ও দরুদ পেশ করলে হায়াতুন্নবী – জিন্দা নবী (দঃ০ তার জবাব দেন। কোরআনুল করিমের স্পষ্ট ঘোষনা “ যে ব্যক্তি আমার প্রিয় হাবীবের দীদার পেল ( দেখা পেল) সে যেন আমাকেই দেখলো।” সোবাহানাল্লাহ । নবীজী (দঃ) এর কত বড় মান-শান।
হাদীস শরীফের বর্ণনা মতে“ আলমে আরওয়াহ” অর্থাৎ রুহের জগতে সর্বপ্রথম পবিত্র ঈদ- ই- মিলাদুন্নবী (দঃ) অনুষ্ঠানে পালিত হয়। আলোচনায় বিষয় ছিল – আল্লাহর প্রিয় হাবীব এর ধরাধামে শুভ আগমন সম্পর্কিত। উক্ত আলোচনার সভায় সভাপতিত্ব করেন খোদ আল্লা- জল্লা- শানুহু। সোবাহানাল্লা।
সৃষ্টির ইতিহসে মানবিক অবয়বে “নূও নবী হযরত মুহাম্মদ মোস-ফা (দঃ) এর এই নশ্বর ধরাধমে শুভ আগমন, মহান আল্লাহর তরফ থেকে মানবজাতির তথা সমগ্র সৃষ্টিক’লের জন্যে সব চাইতে বড় নেয়ামত। নবীজীর আগমনে সমগ্র সৃষ্টি জাহানের মাঝে বয়ে যায় আনন্দেও হিল্লোল- খুশীর জোয়ার । এই দিবসের থেকে আনন্দের আর খুশীর দিন কি হতে পারে? তিনি ছাড়া আল্লাহ কোন কিছুই সৃষ্টি করতেন না। তাই তিনি না হলে আমরা ঈদুল ফেতর অথবা ঈদুল আজহার আনন্দ কোনটাই উদ্‌যাপন করতে পারতাম না। তাইতো বলতেই হয় “ পবিত্র ঈদ – ই মিলাদুন্নবী (দঃ) উক্ত দুটি ঈদেরও ঈদ। নবীজীর শুভ আগমনের দিবসকে উপলক্ষ্যে কও উেম্মত মোহাম্মাদীয়া যে, “ পবিত্র ঈদ- ই – মিলাদন্নবী (দঃ) পালন কওে থাকে, ইয়া রাসুল্লাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ধ্বনিতে আকাশ – বাতাস মুখরিত কওে নবী প্রেমে উদ্বেলিত হয়ে যে ধর্মীয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা (জশনে জুলুশ) বের কওে, উপভোগ কওে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টি জাহানের রাব্বুল আলামিন। আর রাসূল (দঃ) হলেন সমগ্র সৃষ্টি জাহানের “রাহমাতাল্লিল আলামিন”। অন্যান্য নবীরা এসছিলেন কোন বিশেষ গোত্র বা দেশের মানুষের হেদায়েতের জন্য । আর রাসূল (দঃ) এসেছেন জ্বীন ইনসান তসহ সমগ্র সৃষ্টি জাহানের ত্রাণকর্তারূপে । তিনিই হবে তাঁর উম্মতের শাফায়াতকারী। যে হাযাতুন্নবীর (দঃ) জুতা মোবারকেব ধলির জন্য মহান স্রষ্টার আরশে আজিম ধন্য হয়ে যায়, এই একটি ঘটনা থেকেই বোঝা যায প্রিয হাবীবের প্রেমে আল্লাহ রাব্বুল – ইজ্জত কতখানি দিওয়ানা বিভোর । আর আল্লাহর কাছে নূর নবী (দঃ) এর মান শান যে কত উচ্চে তা সাধারণ মানুষতো দূরের কথা অসাধারণ জ্ঞানী ব্যাক্তিদের কাছেও কল্পনার বাইরে। তাঁকে বাদ দিয়ে আল্লাহর পরিচয় পাওয়ার আশা করা বাতুলতা ছাড়া আর কি ভন্ডামি আর ধোকাবাজি থেকে আল্লা- জাল্লা – শানহু আমাদেও সবার ঈমান আকিদাকে হেফাজত করুন।
এই যুগে মুসলমান লেবাসধারী কিছু সংখ্যক লোক যারা নবীজী (দঃ) সম্পর্কে এমন সব কথা বলে বা এমন অপপ্রচার চালায় যাদেও খপ্পওে পড়ে ধর্মভীরু মানুষ ঈমান হারা হযে অন্ধকজাওে চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তারা নবীজী সম্পর্কে এমন সব কথা বল যা কি না জাহেরিয়াত যুগের মোশরেক, মোনাফেক এমনকি কাফেররাও বলতে সাহস করেনি। ঐ সমস- লোকদের আল্লাহ তাআলা হেদায়েত দান করুন এবং তাদের ধোকা থেকে আমাদেও ঈমান আকিদাকে হেফাজত করুন । আমিন।

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (দ.) গুরুত্ব ও পিয় নবীর শান –মর্যাদা ঃ

প্রিয় নবী (দ:) এর সৃষ্টির রহস্যঃ

প্রিয় নবী (দ:) এর সৃষ্টির রহস্যঃ

এ কথা চির সত্য যে, যখন সৃষ্টি বলতেই কিছুই ছিল না, ছিল শুধু পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালা। ছিলনা আসমান, জমিন, তারা, চন্দ্র, সুর্য, আকাশ, বাতাস, ছিলনা ভূমণ্ডল আার নভোমণ্ডলের সাগর উপসাগর নিম্নজগত আর উর্দ্ধজগত, ঁিঁঁছলনা কোন ফেরেশতা আর নবী রাসূল, মানবতার অসি-ত্ব।আল্লহ তায়ালা সর্বপ্রথম স্বীয় মাহবুব হুজুর পুরনূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন এবং তারই উছিলায় সব কিছুই সৃষ্টির আঙ্গিনায় বিকশিত, প্রকাশিত। সুতরাং তিনিই সৃষ্টির শুরু। সমগ্র সৃষ্টির রহমত বা প্রাণকেন্দ্র।তাইতো আসমানের নূরানী ফেরেশতারা হরদম তার উপর দরুদ সালাম পাঠে মশগুল। নবীগনের মুখে তারই শান মর্যাদার আলোচনা। সকল আসমানী কিতাব তথা আল্লাহর কালাম সমূহে তার গুনগান। আরশ কুরছি বেহেশত ও আসমানের দরজায় তারই ঢংকা তার নামেরই পতাকা বিদ্যমান।পাহাড় পর্বত বৃক্ষলতা এমনকি পাথর পর্যন- তার সম্মানে সালাম আরজ করতে বাধ্য।হুজুরপুর নূর এর কিঞ্চিত পরিমান শানমান পাঠক সমাজের অনুধাবনের লক্ষ্যে নিম্নে কয়েকটি হাদীস’র অনুবাদ পেশ করলাম।
১নংহাদীস: হুজুর পাক ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম আমার নূরকে সৃজন করেছেন। উক্ত হাদিস বিশারদ শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ) স্বীয় রচিত ‘মাদারেজুন্‌নবুয়ত’ নামক কিতাবে ছহীহ বা শুদ্ধ হাদীস বলে আখ্যায়িত করেছেন। ফলে বিশ্বের অধিকাংশ মাশায়েখ ও আলেমগণ সর্ব সম্মতিক্রমে উক্ত হাদীসকে সাদরে গ্রহন করেছেন। কিন’ পরিতাপের বিষয় আমাদেও দেশে তথাকথিত কিছু সংখ্যক নামধারী মৌলভী মওদুদীর উল্টরসূরি উক্ত হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেষ্টায়রত। তাদের এহেন মনোভাব হুজুর করিম (দ.) এর প্রতি বিদ্বেষের বহিঃ প্রকাশ।
২নং হাদীসঃ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমি আল্লাহর নূর থেকে আর সবকিছু আমার নূর থেকে সৃজিত।(বায়হাকি ও অন্যান্য হাদীস গ্রন’)
৩নং হাদীসঃ বিশিষ্ঠ ছাহাবী হযরত জাবের (রাদ্বিঃ) এর এক প্রশ্নের জবাবে রাসুল(দ.) এরশাদ করেছেন, নিশ্চই আল্লাহ তা’য়ালা সকল বস’ সৃষ্টির পূর্বে তোমার নবীর নূরকে স্বীয় নূর থেকে সৃষ্টি করেন।তখন লৌহ কলম, বেহেশত-দোজখ, আসমান-জমীন, ফেরেস-া, চন্দ্র, সূর্য, জীন ইনসান এক কথায় কোন কিছু ছিলনা (বায় হাকী শরীফ)
৪নং হাদীসঃ পবিত্র হাদীসে কুদ্‌সীতে বর্ণিত আছে আল্লাহ পাক বলেন ‘হে হাবীব (দ.) যদি আমি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম তাহলে নভোমণ্ডল বা আকাশ মণ্ডলী কিছুই সৃষ্টি করতাম না।(মুস্‌তাদরাব)
৫নং হাদীসঃ বর্ণিত আছে, মানব পিতা আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করার পর ডাকলাম আবু মুহাম্মদ বলে ডাকার রহস্য কি? খোদা তা’য়ালা এরশাদ করলেন হে, আদম! শির উত্তোলন কর। তিনি মাথা উত্তোলন করে আরসে আযিমে হযরত মুহাম্মদ মুস-ফার নূও পাক অবলোকন করা মাত্রই খোদার দরবাও পে্রশ্ন করলেন উক্ত নূরে মুহাম্মদী সম্পর্কে। তদুত্তরে আল্লাহ পাক বলেন ইহা তোমার সন-ানের মধ্যে একজন মহান নবীর নূরে পাক। তার পবিত্র নাম হবে আকাশ মণ্ডলে আহমদ এবং ভূমণ্ডলে মুহাম্মদ(দ.) তাকে সৃষ্টি না করলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না, এ আসমান ও জমিনকেও সৃষ্টি করতাম না।(মাওয়াহেবে লাদুনিয়াহ-১ম খণ্ড)
৬নং হাদীসঃ হযরত সালমান ফারসী(রাদ্বিঃ)থেকে বর্ণিত একদা হযরত জিব্রাইল ফেরেশতা নবীজীর দরবাওে হাজির হয়ে সংবাদ প্রদান করলেন যে আল্লাহর রাসুল; আপনার প্রভু বলেছেন আমি ইব্রাহিমকে খলীল বা বন্দুরুপে মনোনীত করেছি।আর আপনাকে হাবীব হিেেব মনোনীত করেছি। আপনার চেয়ে উত্তম আর কিছুই সৃষ্টি করিনি ।আপনার মান সম্মান সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করার জন্য।আপনাকে সৃষ্টি না করলে দুনিয়া ও সৃষ্টি করতাম না।
উল্লেখিত হাদীসে পাকের আলোকে সুষ্পষ্টভাবে প্রমানিত হয় যে, হযরত নবী কারীম(দ.)সব কিছুর আগে আল্লাহর নূর থেকে সৃষ্টি। আর সকল বস’ তার উছিলায় সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই নিষ্ঠুর আবু জেহেলের হাতে যে পাথর ছিল ্‌ঐ পাথর নবীজীর কালেমা পড়েছিল। যদিও মানুষের মাঝে আবু জেহেলের জন্ম হয়েও ঐ পবিত্র কালিমা তার ভাগ্যে জুটেনি সত্য। ইহা বড়ই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার ।
৭নং হাদীসঃ হযরত জাবের ইবনে ছামুরা (রাদ্বিঃ)থেকে বর্ণিত রাসূল (দ.)এরশাদ করেন নিশ্চয়ই আমি মক্কা নগরীর এই পাথরকে জানি যে, পাথর আমার নবুয়ত প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে থেকে আমার উপর সালাম পাঠে রত ছিল। উক্ত পাথরকে এখনো আমি ভালভাবে জানি।(আননেমাতুল কুবরা আলাল আলম)
৮ নং হাদিস ঃ হযরত শেওে খোদা আলী মুরতাজা (রাদ্বি ঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা আমি হুজুরে পাক (দঃ) এর সাথে মক্কার কোন সফরের সাথী ছিলাম। আমি নিজেই দেখেছি যে, হুজুর কারিম যেদিকে যায় পার্শ্ববর্তী সমস- পাহড়- পর্বত, বৃক্ষলতা ঝুকিয়ে আল্লাহর প্রিয় হাবীবের সম্মানার্থে দরুদ পাঠ কওে ( আননোমাতুল কুবরা আলাল আলম)
অত্যন- দুঃখের সংগে বলতে হয় যে, কিছু সংখ্যক নামধারী মুসলমান সরলপ্রাণ মুসলমানকে বিভ্রান- করার উদ্দেশ্যে বড় গলায় ইসলামী হুকমত চালুর আওয়াজ তুলে সত্য । কিন’ নবীজীর প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা আর সম্মান প্রদর্শনের কথঅ বললে তাদেও ভাল লাগে না।
উল্লেখিত সপ্তম ও অষ্টম হাদীসের আলোকে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে এ রকম নামধারী ভ্রান- মুসলমানদের চেয়ে বৃক্ষলতা বা পাহাড়- পর্বত অনেক শ্রেয় । অবশ্যই সৃষ্টির আঙ্গিনায় হুজুর পুর নূও (দঃ) এর আগমন সকল নবীগণের শেষ ভাগে।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ কৃেরছেন, আমি শেস নবী আমার পও অেন্য কোননবীর আগমন ঘটবে না। তিনি বাহ্যিক দৃষ্টি ভঙ্গিহেত আমাদেও মত দু’ হাত, দু’পা, দু’ােচখ এক নাম, জেহাদ ও সংসার করেছেন। তাই বলে তিনি কি আমাদের মত সাধারণ মানুষ? এ কথাগুলো লোকমুখে শোনা যায় । কেউ কেউ সময় সুযোগে এরূপ বলতে দুঃসাহাস দেখায়। কিন’ তাদের স্মরণ রাখা দরকার যে, আমাদের নবী অন্য কোন নবীই আমাদেও সাথে তুলনীয় নয়। অবশ্য তাদেরকে আমাদেও মাঝে আমাদেরকে শিক্ষা- দীক্ষা দেয়ার জন্য আমাদেও কল্যাণের জন্য এবং আমাদেও মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য বিশেষত আমাদের নবীকুল সম্রাট হুজুর পাক (দঃ) কে দু’হাত দু’পা ইত্যাদি বিশিষ্ট হওয়া বিবাহ বা সংসার কার্যাদি সমাধান করা এবং অযু গোসল করা আমাদের জন্য শিক্ষা স্বরূপ। যদি হুজুর আকরাম (দ.) এর দ’পা দু’হাত না হত তাহলে গোসলের শিক্ষা, বিবাহ শাদীর পদ্ধতি এবং পার্থিব জগতের কার্যক্রম সমাধা করার ব্যবস’া সম্পর্কে কিভাবে জ্ঞাত হতাম। তদুপরি যদি তিনি হাটবাজাওে না যেতেন ও বিবাহ না করিতেন আমাদের জন্য কিভাবে তা হালাল হত। বস’ত ঃ নবীগণের বাহ্যিক আকৃতি আমাদের মত হওয়া এাঁ আমাদের জন্য বিরাট রহমত। তাই বলে এটা নয় যে, আমাদের মত সাধারণ মানুষ। মূলতঃ হুজুর পাক কি মানূষ নন সত্যিই তিনি মানুষ। মানুষ বলতে আমাদের মত নয়। তিনি সম্পূর্ন খোদার নূও থেকে সৃষ্টি নুরানী মানুষ, আমরা সাধারণত জ্বঅন ফেরেশতা অবলোকন করতে পারি না কিন’ তিনি তা পারেন। বরং জ্বীন ফেরেশতা ও তার সান্নিধ্য লাভে ধন্য হযেছেন। পার্থিব জগতে আল্লাহর দর্শন লাভ করা সাধারণত আমাদেও পক্ষে সম্ভব নয়। কিন’ তিনি মেরাজে ও পবিত্র রজনীতে সরাসরি আল্লাহ পাকের দর্শন লাভ করেছেন । সুতরাং তিনি আমাদেও মত নন। বরং সৃষ্টির আঙ্গিনায় হুজুরপুর নূও অলৌকিক ক্ষমতায় শক্তিশালী হয়ে নূরানী নবী হয়ে মাহবুবে খোদা বনে পৃথিবীতে আগমন করেছেন । তাঁর প্রতি লাখো দরুদ ও সালাম।

Posted in Uncategorized | Tagged , , , | Comments Off on প্রিয় নবী (দ:) এর সৃষ্টির রহস্যঃ

সুফীবাদের মর্মকথা ঃ

সুফীবাদের মর্মকথা ঃ

সমাজের অন্যান্য মানুষের মতো ইন্দ্রিয়-অভিজ্ঞতা ও খন্ডবুদ্ধির সাহায্যে জ্ঞানের সন্ধান না করে যারা মরমী অভিজ্ঞতা বা অতীন্দ্রিয় স্বজ্ঞার সাহায্যে পারমার্থিক জ্ঞানের সন্ধান করেন, যারা অবভাস ও প্রতিভাসের সত্মর ভেদ করে বিকারহণি শাশ্বত সত্রেল প্রত্যক্ষ প্রতীতি অর্জনে প্রয়াসী, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনের ইতিহাসে তারাই মরমীবাদী বলে পরিচিত। মরমীবাদীদের মতে, মানবমনের গতানুগতিক শক্তি বলে নয, একধরনের প্রগাঢ় অনত্মদৃষ্টি বা অতীন্দ্রিয় অনুভবশক্তির সাহায্যেই কেবল পরাতাত্ত্বিক ও পারমার্থিক ঐশী জ্ঞানের সন্ধান পাওয়া সম্ভব। ইসলামের ইতিহাসে এভাবে যারা াতিপ্রাকৃত উপায়ে পরমসত্তা বা আল্লাহর সঙ্গে একাত্মতা অর্জনে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন তারা সুফী নামে পরিচিত। সুফীবাদের উৎপত্তি কোথায় এবং সুফীবাদের সঙ্গে যুক্ত মরমী ঐতিহ্য ইসলামে মূলনীতির অনত্মর্ভূক্ত কি না, এ নিয়ে দার্শনিক ও ধর্মবেত্তদাদের মধ্যে মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। কারো কারো মতে (যেমন নিকোলসন), সুফিবাদী ভাবধারা ইসলামের মৌল শাস্ত্রীয় নীতির পরিপন’ী। তাঁদের মতে, আল্লাহ সসীম নন, বরং এমন এক অসীম অীতবর্তী সত্তা যার সঙ্গে সসীম মানুষের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ স’াপন ও একাত্মতা অর্জনের সম্ভাবনা ইসলামের বিধি বিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ ছাড়া সুফীবাদের উপাসনাপদ্ধতি, তথা গোটা জীবনদশৃনে যে জবিনবিরাগী, নিষ্ক্রিয় ও পলায়ন পর মনোভাবের লখ্‌ষণ বিদ্যমান তা ইহলোক ও পরকাকের ধারাবাহিকতা বিষয়ক ইসলামী ধারণার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাবার এবং ক্ষণস’ায়ী পার্থিব জীবনকে এতটুকু উপেক্ষা না করে সুষ্ঠু ব্যবহারে জন্য কোরআনে সুস্পষ্ট তাগিদ দেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ ভিন্নতর ব্যাখ্যঅ নিয়ে উপসি’ত হয়েছেন অন্য কোনো কোনো চিনত্মাবিদ (যেমন ম্যাসিগনন)। তারা সুফিবাদের উৎপত্তি খুজে পেয়েছেন খোদ ইসলাম ধর্মে। তাদের মতে, যেসব ধ্যান ধারণা নিয়ে ইসলামের ইতিহাসে সুফিবাদের অঅবির্ভঅব, সেগুলোর মর্ম ও নির্যাস কোরআন ও হাদিসেই নিহিত। কোলাানের সঠিক আনত্মরিক আবৃতি ও অনুশীলন, এবং এ নিয়ে গভীর ধ্যান-অনুধ্যান থেকেই হয়েছে ইসলামী মরমীবাদ (সুংঃরপরংস) এর উদ্ভব ও বিকাশ। দারিদ্র (ফকর), ধ্যান (জিকর), ধৈর্য্য (সবর), ত্যঅগ (জেহাদ) এবং আল্লাহর প্রেম ও ধ্যাসহ সুফীদের অণুসৃত যাবতীয় অনুশীলন কোরআনের পারলৌকিক ও অনুধ্যানিক দিক থেকেই উদ্ভুত। মহানবীর হাদিসেও সুফিবাদী জীবনদর্শনের সমর্থন খুজে পাওয়া যায়। জগতে নিজেদের নিছক আগন’ক বা পথিক হিসেবে বিবেচনা করার জন্য মুসলমানদের প্রতিমহানবীল নির্দেশ এবং শাসত্ম্যয়ি বিধি বিধানের বাইরেও ধর্মের অপর একটি অতিরিক্ত উৎকর্ষের (ইহসান) দিক রয়েছে বলে হাদিসে সে উল্লেখ রয়েছে, এ সবই সুফীবাদের প্রতি মহানবীল (দঃ) সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে। সুফীবাদ যে ইসলামের মূলমর্মের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ তা ‘সুফী’ কথাটির উৎপত্তি থেকেও অনুমেয়। সুফী কথাটির আক্ষরিক অর্থ ‘পশমি পোশাক পরিধানকারী’। প্রাক্‌- ইসলামি যুগেও সুলভ পশমি পোশাককে সাদাসিধা অনাড়ম্বর আধ্যাত্মিক জবিনাচরণের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। স্বয়ং মহানবী উল্লেখ করেছেন, আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার সময মুসা নবী পশমি পোশাক পরিহিত ছিলেন। মহানবী নিজেও পশমি পোশাক পছন্দ করতেন বলে জানা যায়, এবং এ ও জানা যায় যে পশমি পোশাক পরিহিত অবস’ায়ই তিনি পরলোকগমন করেন। একথা ঠিক, পশমি পোশাক পরিধান সুফদিের কোনো একচেটিয়া অধিকার ছিল না, এবং তা দিয়ে সুফীবাদের স্বরূপ ব্যাখ্যার প্রচেষ্টাও কোনো ানিবার্য যৌক্তিক পদক্ষেপ নয়। তবে নিগূঢ় আধ্যাত্মিক উপাসনা এবং মরমি জীবনাচরণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সূফী নামকরণ অপেক্সাকৃত পরবর্ত িসময়ের ব্যাপারে। আর এ নামকরণের সময় পশমি পোশাকের সঙ্গে সূফী কথাটার উল্লিখিত ঐতিহাসিক যোগাযোগকে যে যথাযথই সদ্ব্যবহার করা হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ৩ অপর এক ভাষ্য অনুযায়ী সুফী কথাটির উৎপত্তি ‘সাফা’ (পবিত্রতা) শব্দ থেকে। এ মতে, চারিত্রিক পবিত্রতা বা বিশুদ্ধি সুফী জীবনের অলঙ্ঘনীয় মহান বৈশিষ্ট্য। এ বিশুদ্ধি বা পবিত্রতা অর্জণ তথা পরম বিশুদ্দ সত্তা আল্লাহর সাক্ষাৎলাভের লক্ষ্যে সুফীদরে যাবতীয় প্রয়াস প্রচেষ্টা নিয়োজিত ছিল বলেই সুফীদের এহেন নামকরণ। সুফীবাদের সারমর্ম নুফঠাবাদের মূল নির্যঅস খুজে পাওয়া যায় সত্তার একত্ব (ওয়াহাদাত আল উজউদ) তত্ত্বে। সুফদির মতে, এ নির্যাস কোনো অনৈসলামিক ব্যাপার নয়, বরং তা উদ্ভুত আল্লাহর ‘আল হক্ব’ (সত্য সত্তা) নাম থেকে। আল্লঅহই যে একমাত্র পরমসত্তা এবং তার সমকক্ষ আর যে কোনো সত্তা নেই, একথা প্রত্যেক মুসলমানকেই মেনে নিতে হয়ে বটে; কিন’ সুফীরা একে শুধু বিশ্বাসের পর্যায়েই সীমিত রাখেন না, নিয়ে যান এর চূড়ানত্ম পরিনতির দিকে। তাদের মতে, শূন্যতা ও নাসিত্মত্বের বিপরীতে যে পরম বাসত্মব অীসত্মত্ব, তাই যথার্থ সত্য ও সত্তা, তা-ই পরম আরাধ্য মহান আল্লাহ। শুধু আল্লঅহই যদি পরমসত্তা হয়ে থাকেন, তা হলে শেষ বিশ্লেষনে এবং সত্যিকার অর্থে শুধু তিনিই আছেন। এ যুক্তির ওপরই প্রতিষ্ঠিত সুফীদের সত্তার একত্ববিষয়ক। ২। আল্লাহকে তোমাদের এমনভাবে উপাসনা করা উচিত যেন তোমরা ওকে প্রত্যক্ষভাবে দেখছ।” মুসলিম, ঈমান. ১ ৩। অ.ঔ. অৎনবৎৎু (বফ.). জবষরমরড়হ রহ ঃযব গরফফষব ঊধংঃ. ঠড়ষ.২. চ. ২৫৩) ধারণা। এই একত্বের অর্থ অবশ্য এ নয় যে, আল্লঅহ চলমান জগতের বস’ ও ঘটনারাশির একটা নিছক সমষ্টি। এমন কথা বলার অর্থই হবে সর্বেশ্বরবাদে (চধহঃযবরংস) বিশ্বাস করা। কিন’ সুফীদের একত্বতত্ত্ব তা নির্দেশ করে না। সুফী মতে, আল্লঅহ কোনো বস’সমষ্টি বা যৌগিক একত্ব নন, বরং সেই পরম এককসত্তা (আহাদ) যিনি স্বরূপতই অবিভাজ্য। অভিজ্ঞতার জগতের সব স্বতন্ত্র বস’ ও ঘটনা তার আঙ্গিক অংশ নয়, বরং তার পরম এককসত্তার প্রাতিভাসিক প্রকাশমাত্র। কোরআনে বলা হয়েছে: “তুমি যেদিকেই তাকাবে সেখানেই দেখতে পাবে আল্লাহর মুখমণ্ডল” (২:১১৫)। কোরআনের এ বাণীকে আল-গাজালি তাঁর মিশকাত আল্‌ আনোয়ার গ্রনে’ ব্যাখ্যঅ করেছেন এভাবে-“প্রত্যেক জিনিসের দু’টি দিক আছে একটি এর নিজের দিক এবং অপরটি এর প্রভু আল্লঅহর দিক। নিজের দিক থেকে নিজিসটি নিছক অবস’ বা শূন্যতা: কিন’ আল্লাহর দিক থেকে তা বাসত্মব। সুতরাং বোঝা যায় যে, আসলে আল্লাহ ব্যতীত আর কিছুই অীসত্মত্বশীল নয়।” এই অতীন্দ্রিয় পরম এককসত্তা আল্লাহকে সহজ ইন্দ্রিয় কিংবা খন্ডবুদ্ধি দ্বারা প্রত্যক্ষ করার বা জানার প্রশ্ন ওঠে না। তাকে জানতে এবং তার প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎলাভ করতে হলে চাই প্রগাঢ় ধ্যঅন, চাই প্রেম ও ভক্তিমিশ্রিত অনত্মর্দৃষ্টি।
সুফীবাদের আদি চারিত্র্য তবে এখানে বলে রাখা ভালো অনুধ্যানিক মরমিবাদ বলতে যা বোঝায় আদি সুফীদের মধ্যে তা খুব বেশি লক্ষীণয় ছিল না। অনুধ্যানের চেয়ে পরিত্যঅগ ও বৈরাগ্যের মনোভাবই তাদের মধ্যে ছিল অপেক্ষঅকৃত বেশি। কারো কারো মতে, এর অবশ্য একটা কারণ আছে। কোরআনে বেহেসত্ম ও দোজখের যে চিত্র দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ ও মানুষের সম্বন্ধকে যেভাবে বিচিত্রত করা হয়েছে, তা থেকে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের মধ্যে আল্লাহ ও পরলোক সম্বন্ধে এক অস্বাভাবিক ভীতির সঞ্চার হয়। ইসলামে মরমিবাদ সেই ভীতির ফলশ্রুতি। যেমন, কোরআন আল্লাহ বলেছেন, আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি জানি তার আত্মা তার কাছে কী বলে, এবং আমি তার ঘাড়ের রগের চেয়ে কাছাকাছি” (৫০ ঃ ১৫)। আল্লাহ অঅবার মানুষকে এই মর্মে সর্তক করে দিয়েছেন ঃ তোমরা কি দেখ না আসমানে ও জমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তার সবই জানেন? তারা (মানুষ) যেখানেই থাকুক না কেন আল্লাহ তাদের সঙ্গেই আছেন (৫৮ঃ ৮)। শুধু তা-ই নয়, আল্লাহর শেষ বিচারের দৃশ্য সম্পর্কে কোরআনে, বিশেষ মক্কীয় সূরাসমূহে যেসব ভীতিপ্রদ কথা বলা হয়েছে তাতে কারো কারো মনে সংসারবিরাগ িমনোভাব সৃষ্টি হওয়া বিচিত্র নয়। এ চাড়া কোরআনের কোনো কোনো সূরায় পরলোকের অননত্ম কল্যাণকর বিষয়াদির তুলনায় পার্থিব কর্মকান্ড ও অর্জনাদিকে নিতানত্মই মূল্যহীন বলেও বর্ণনা করা হয়েছে (৬ঃ ৯৯,১০ঃ২৫)। কারো কারো মতে, এসব বাণীর প্রভাবেই সুফীবাদের যাত্রা শুরু হয়। ঐশী-প্রেমের চেয়ে নিষ্ক্রিয় সন্ন্যাসজীবনে বেশি গুরুত্ব আরোপের মধ্য দিয়ে। বস’ত, নিষ্ক্রিয় সন্ন্যাসজীবনকে কোরআন ও হাদিসের অনেক জায়গায় দ্ব্যর্থহীনভাবে নিরুৎসাহিত করা সত্ত্বেও হয়তোবা উপরে উল্লিখিত বাণীসমূহের প্রভাবেই আবুজর আল গিফারী, (মৃ. ৬৫২) ও হুদায়ফা (মৃ. ৬৫৭), মহানবীর এ দু’জন সহচরসহ প্রথম দিকের বেশকিছু ধর্মপ্রাণ মুসলামান মরমিবাদী জীবন অবলম্বন করেছিলেন উত্তম জীবনাদর্শ হিসেবে। তবে ঐশীভীতি, বৈরাগ্য, পরিত্যাগ, দারিদ্র প্রভৃতির অনুশীলন যদিওবা সুফিদের মধ্যে লক্ষনীয়, এগুলোই যে সুফীবাদের সব, এমনকি মৌল উপকরণ, এমন কথা বলা চলে না। সুফী-অভিজ্ঞতার প্রগাঢ়তম মুহুর্তে আল্লাহর অপরোক্ষ জ্ঞানলাভ এবং আল্লাহর সঙ্গে একাত্মতা অর্জন সূপীর চূড়ানত্ম লক্ষ্য। আর এ অক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা যেসব উপকরণকে আবশ্যিক বলে মনে করেন সেগুলোর মধ্যে ভীতি (মাখাফা), প্রেম (মাহাব্বা) ও জ্ঞান (মারেফা) এই তিনটি কেন্দ্রীয় গুরুত্বের অধিকারী। এদের সমবায়েই ইতিহাসের বিভিন্ন পূর্বে সুফীরা রচনা করেছেন। ঐশী জ্ঞান ও সান্নিধ্য অর্জনের উপায়, যা কিনা সুফীপথ (তারিকা) নামে পরিচিত। সুফীপথ াীতক্রমণ এবং ঐশী জ্ঞান ও সাক্ষাৎকার লাভের লক্ষ্য অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপায় কিজর (আল্লাহর নাম স্মরণ ওউচ্চারণরণ)। অবশ্য কোরআনের আয়াত আবৃত্তির মাধ্যমে আল্লাহর জিকর ও এবাদত ধর্মপ্রাণ মুসলমান মাত্রই অনুশীলন করেন, এদিক থেকে তা সুফীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তবে এই একই অনুশীলন সুফীদের মধ্যে পরিগ্রহ করে এক বিশেষ রূপ ও চারিত্র্য। তারা যে পদ্ধতিতে এবং যত সময় ধরে এই অনুশীলনে ব্রতী থাকেন, তাতেই তাদের স্বাতন্ত্র লক্ষনীয় এ ছাড়া সাধারন মানুষ যেখানে জিকর অনুশীরন করেন একটি প্রচলিত ধর্মীয় আচার হিসেবে, সেখানে সুফীরা তাতে প্রবৃত্ত হন সচেতনভাবে, আল্লাহর সঙ্গে একাত্ম হওয়ার বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। সে যাই হোক, চারিত্রিক বিশুদ্ধি পবিত্রতার যে মহান বৈশিষ্ট্য নিয়ে সুফীবাদের যাত্রা শুরু এবং যা ছিল আদি সুফীদের এক অভিন্ন গুণ, পরবর্তী প্রজন্মের অনেক সূফীর মদ্যে তা অনুপসি’ত ছিল। আর একথা অকপটে স্বীকার করেছেন সুফীদেরই অনেকে। বস’ত, পরবর্তী সুফীদের আচার অনুশীলন সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, তাদের কেউ কেউ ইসলামি শরিয়া আইনকে উপক্ষো কিংবা অমান্য করে সুফীবাদে কিছু বিজাতীয় অনৈসলামিক উপকরণ সংযোজন করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ও লক্ষ্য করা যায় যে, পরমসত্তার সঙ্গে একাত্মতা অর্জনের লক্ষ্যে সুফীদের ানুসৃত মরমি প্রক্রিয়ায় শুধু শাস্ত্রীর বিধিনিষেধকেই নয়, এমনকি ঐশী প্রত্যাদেশের মাধ্যম হিসেবে মহানবী মোহাম্মদ (দঃ) কেও পরিত্যাগ করা হয়েছে। বিভ্রানত্ম ও বিপথগামী সুফীদের এই আচরণ যে অনুমদোনযোগ্য নয়, তা বলাই বাহুল্য। তবে পরবর্তী সুফীদের এই বিভ্রানিত্মকে কখনো সুফীবাদের মূল মর্মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। বিশেষত যাদের নিয়ে সূফীদের উদ্ভব ও অগ্রযাত্রার সূত্রপাত, সেই আদি সূফীরা কখনো ধর্মের রক্ষণশীল দিকটির প্রতি অনাস’াশীল ছিলেন না। যেমন, আল জুনায়েদের মতো একজন নিবেদতি প্রাণ সুফী (যার মধ্যে কেউ কেউ হিন্দু মরমিবাদের প্রভাব খুজে পেয়েছেন) ধর্মের আচারের দিকটিকে বাদ দিয়ে চলার পক্ষপাতী ছিলেন না। অবশ্য একথাও উল্লেখ করা দরকার যে, সুফীবাদী বিশ্বাসে যে অতীন্দ্রিয় অনুভূতির নিশ্চিতি এবং সুফীবাদী উপাসনায় যে অবিচলিত মনেনিবেশের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তা মুষ্টিমেয় সাধক অনুরাগী ব্যক্তির পক্ষেই অর্জন সম্ভব, সাধারন মানুষের পক্ষে নয়। আর এজন্যই অতীন্দ্রিয় আধ্যাত্মিক নিগূঢ় আদর্শকে সাধারন ধর্মপ্রাণ মানুষের উপর একটি বাধ্যতামূলক অঅচরণবিধি হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রশ্নও ওঠে না। এজন্যই সেই সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যনত্ম সুফীবাদী আদর্শকে দেখা হয়েছে মুষ্টিমেয় মুসলিম সাধকের ধর্মানুশীলনের একটি বিশেস ক্ষেত্রে হিসেবে; আর ইসলামের বিধিগত আচার অনুষ্ঠানের দিকটিকে ওলামা ও ধর্মবেত্তাদের তত্ত্বাবধানে বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে সাধারন মানুষের জন্য। একটি সুনির্দিষ্ট সংহত সঙ্ঘ হিসেবে সুফীবাদের আত্মপ্রকাশ কিন’ পরবর্তীকালের ঘটনা। প্রথম চার খলিফার সময় অবধি কোনো সুফীসঙ্ঘের উদ্ভব ঘটেছে বলে জানা যায় না, এবং তা না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। তবে প্রারম্ভিক পূর্বেও মরমি বিষয়ে আলোচনার জন্র রসুসুল্লাহর সহচরদের কাছে কিছু কিছু কৌতুহলী ভক্তের গমাগম হতো। এ ধররে আলেচনায় বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন হযরত আলী (রাঃ)। আরীর মরমি আগ্রহ অত্যনত্ম গভীর ছিল বলে জানা যায়, এবং তার অনেক মরমি উক্তি আজও লিপিবদ্ধ রয়েছে। মহানবরি অন্যাণ্য সহচরের মধ্যে আলীর মতোই সুফীদের সম্মানের চোখে দেখতেন হযরত াঅবুবকর (রাঃ)। তিনি ঐশীজ্ঞান অর্জনে অভিজ্ঞতা বুদ্ধি প্রভৃতি জ্ঞানের বাহনের অক্ষমতা বর্ণনা করেছিলেন এবং মরমি অীভজ্ঞতাকে জ্ঞানের অব্যর্থ উৎস হিসেবে স্বীকার করেছিলেন।

Posted in Uncategorized | Tagged | Comments Off on সুফীবাদের মর্মকথা ঃ

পরলোক ও অমরত্ব

পরলোক ও অমরত্ব

মরণের ফলে যখন দেহের বিন াশ ও ইহলোকের অবসান ঘটে, তখন প্রয়াত ব্যক্তির জীবনের সম্পূর্ণ পরিসমাপ্তি হয়, না তিনি লোকান-রিত হয়ে পরলোকের অধিকাসী হন? এ প্রশ্নটি সুপ্রাচীন কাল থেকে ভাবুক-দার্শনিকদের যেমন, সহজবুদ্ধি মানুষকেও তেমনি ভাবিয়ে তুলেছে। সব যুগের সব মানুষের তাই একই প্রশ্ন: মৃত্যুর পর মানুষ কি আবার হারানো জীবনের সন্ধান পাবে? এ প্রশ্নের প্রত্যুত্তওে পরলোকের সমর্থকরা যেমন যুক্তির পর যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন, সংশয়বাদীরাও তেমনি পরলোকের যেকোন চিন-া বা প্রত্যাশাকে অবাস-ব ও অমূলক বলে উড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস পেয়েছেন। এ থেকে একটি জিনিস অবশ্য পরিস্কার যে, মতামতের বিরোধ ভিন্নতা সত্ত্বেও দেশ-কাল নির্বিশেষে সব মানুষ পরলোক নিয়ে ভেবে এসেছে, এবং এর একটি সদুত্তর না পাওয়া পর্যন- অনাগত ভবিষ্যতের মানুষও ভাবতে থাকবে। পরলোকের চিন-া মানবজাতির ইতিহাসের সঙ্গে এতই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত যে, একে ঈশ্বরে বিশ্বাস মুখ্য নয়, কিন’ এমন কোন ধর্ম খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে পরলোক ও অমরত্বেও ধারণা কেন্দ্রীয় স’ানের অধিকারী নয়। মূলত এ যুক্তিতেই বিশিষ্ট মার্কিন দার্শনিক উইলিয়াম জেম্‌স মন-ব্য করেছেন; ধর্ম বলতে মানবজাতির বিপুর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ অমরত্ব এবং একমাত্র অমরত্বকেই বুঝে থাকে। নৃবিজ্ঞানীরা তাঁদেও গবেষণালব্ধ জ্ঞানের বরাত দিয়ে জানান, গুহায় বসবাসাকারী আদারে আদিম পূর্বপুরুষগণ জগতের স্রষ্টা ও নিয়ন-া ঈশ্বরের কথা ভাবার আগেই অমরত্বেও কথা ভেবেছেন। অমরত্বেও ধারণা যে ইশ্বরের ধারণার চেয়েও প্রাচীন, এর প্রমাণস্বূেপ তাঁরা কিছু আধুনিক উপজাতির দৃষ্টান- দিয়েছেন। আজও পৃথিবীতে এমন কিছু উপজাতি (যেমন সেন্ট্রাল অস্ট্রেলিয়ার নাঞ্জি উপজাতি) রয়েছে যারা ঈশ্বও সম্পর্কে কোন ধারনা রাখে না অথচ আত্মার অমরত্ব বিষয়ে বিশেষ মতবাদ পোষণ কওে থাকে। নাঞ্জিরা আজও কোন ধর্মমত গড়ে তুলতে পারে নি বটে; সকিন’ তারা এক ধরনের পূনর্জম্মে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। অমরত্বেও ধারণা মানবজাতির চিন-া ও চেতনায় এত বদ্ধমূল হবার কারণ সম্ভবত মৃত্যৃও অনিবার্য চিন-া। মানুষের কাছে মৃত্যু এমন একটি বাস-ব ঘটনা যার সম্পর্কে চিন-াশীল মানুষমাত্রই স্বাভাবিক কৌতুহল বোধ করে। অনিবার্য মৃত্যুও কথা ভাবতে গিয়ে সে আবর জগতে তার স’ান এবং মরণোত্তর অবস’া সম্বন্ধে ভাবতে বাধ্য হয়। মৃত্যুও এত গুুত্েব দেই, একই কারণে মৃত্যুও পরপার সম্বন্ধে এতবেশি ভাবি। এ ধরণের ভাবনা থেকেই ক্রমশ গড়ে উঠেছে পরলোক সম্বন্ধে মতবাদ ও পাল্টা মতবাদেও এক সুদীর্ঘ অনুক্রম। অমরত্বের ধারণার মুলে যে প্রত্যয়টি প্রথম থেকে মানুষের মনে বদ্ধমূল ছিল তা হলো এই যে, দেহের উর্ধ্বে ও অন-রালে ব্যক্তিসত্তার এমন একটি স’ায়ী উপাদন রয়েছে যা মৃত্যুতে দেহাবসানের পরও নিষ্ট হয় না। ব্যক্তিসত্তার এ অংশ স্বরূপগ্রতভাবে জড়দেহের চেয়ে স্বতন্ত্র, সুতরাং অমর ও অবিনশ্বও । মৃত্যুতে দেহ সর্বতোভাবে বিনষ্ট হয়ে যায়, বিন’ দেহাবসানের পরও যদি ব্যক্তিসত্তার এমন কোন অংশ মৃত্যুর হাত থেকে অব্যাহতি পেয়ে টিকে থাকতে পারে, তাহলে তা অবশ্যই জড়দেহের চেয়ে স্বতন্ত্র, এবং ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। বস’ত এ ধরনের ধারণা থেকেই মানুষ সিদ্ধান- উপনীত হয়েয়ে যে, আত্মা জড়ীয় নয়, আধ্যাত্মিক। দেহ বা জৈবশক্তি প্রাকৃতিক নিয়মের অধীন; কিন’ আত্মার অমরত্বেও বিষয়টি গুরযুত্ব লাভ করেছিল, তার দিনক্ষণ সঠিকভাবে নির্ণয় করা অসম্ভব। তবে পাশ্চাত্য দর্শনে সক্রেটিসই প্রথম এ বিষেয়ে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তিনি যে আত্মার অমরত্বে বিশ্বাসী ছিলেন তা তাঁর অনি-ম প্রয়াণের অব্যবহিত আগের একটি উক্তি থেকে সহজে অনুমেয়। বিচারকদের নির্দেশানুযায়ী হেমলক লতার বিষ পানের পর ত৭ার আসন্ন মৃত্যুচিন-ায় বিহবল শোকাভিভূত আত্মীয়-পরিজনদেও লক্ষ্য কওে তিনি বলেছিলেন: “তোমরা দুঃখ করো না। মনে রেখো, মৃত্যু কেবল আমার দেহকেই বিনাশ করবে, আত্মাকে নয়।” সক্রেটিসের এই সংক্ষিপত্র মতটিকেই পওে সুষ্টষ্ট লিখিত ূেপ দিয়েছিলেন ত৭ারই সুযোগ্য শিষ্য দার্শনিক প্লেটো। প্লেটো দর্শনের এক বড় অংশ আত্মার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফিডো ও ফিড্রাস গ্রনে’ এ বিষয়ে তিনি চিত্তাকর্ষক আলোচনা করেছেন। তার মতে পৃথিবীতে আত্মার আগমন এবং দেহে প্রবশে তার আদি নিবাস স্বর্গ থেকে পতনের ফল। এ জীবনে সৌন্দর্য অবলোকনের সময় আমরা যেু সুখের সাথে এক প্রচ্ছন্ন বেদনা অনুভব করি, প্লেটোর মতে তার এক গভীর কারণ আছে। কারণটি হলো এই: দেহলাভের আগে প্রকা্‌-জন্ম যে আদর্শ জগতে ছিল, এ জগতে সে সেই সৌন্দর্যানুভূতিএথকে বঞ্চিত। তাই পার্থিব সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করার সঙ্গে সঙ্গে তার সেই পুরনো অনুভূতি অস্পষ্ট বেদনার আকরে জেগে ওঠে। সৌন্দর্য ও শুভের প্রতি আমাদেও এই যে অব্যবহিত আকর্ষণ, প্লেটো একে অমরত্বে বিশ্বাসের এক অতি জোরালো ভিত্তি বলে অভিহিত করেছেন। প্লেটোর মতে, স্বরূপত আত্মা অজড়ীয় ও আধ্যাত্মিক এবং রিজন বা প্রজ্ঞা এর উচ্চতম বৃত্তি। প্রজ্ঞার সমবায়ে গঠিত আত্মা সরল, অমিশ্র ও অচ্ছেদ্য। আমরা জানি, মৃত্যু মানে মিশ্র পদার্থেও অন-র্ভুক্ত উপকরণাদিও বিচ্ছেদ। কিন’ যা অমিশ্র, এবং যাকে ক্ষুদ্রতর অংশে বিশ্লেষণ বা বিচ্ছেদ করা যায় না, মৃত্যু তাকে স্পর্শ করতে পাওে না; কারণ বিচ্ছিন্ন করার মতো একাধিক উপকরণ তাতে নেই। যেহেতু আত্মা একটি অমিশ্র দ্রব্য, সুতরাং এর বিনাশ বা মৃত্যু হয় না, হতে পারে না। পরবর্তীকলে টমাস একুইনাস এ যুক্তিটি গ্রহণ করেছিলেন এবং তা রোমন ক্যাথলিক ধর্মতত্তেবর একটি প্রাশাণিক মতবাদ হিসেবে ব্যাপকভাব গৃহীত হয়েছে। কিন’ বিভিন্ন মহল থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে যথেষ্ট। যেমন প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কানট্‌ বলেন, ধ্বংস বা মৃত্যু মানে শ্রি বস’ও অন’ভুক্ত উপকরণাদিও বিশ্লেষণ ও বিচ্ছেদ-প্লেটোর এই যে ধ্বংস-পদ্ধতি তা আবিস্কৃত হয়েছে জড়বস’ বিশ্লেষণের মাধ্যমে। কিন’ ঠিক একই ধ্বংস- প্রক্রিয়া যে আধ্যাত্মিক আত্মার বেলায় প্রয়োজ্য হবে তা হলফ কওে বলা যায় না। যেহেতু আত্মা জড়বস’ও চেয়ে স্বতন্ত্র স্বভাবের, সুতরাং এর ধ্বংস-প্রক্রিয়াও হবে ভিন্নতর। এ যুক্তিতেই কান্ট অজড়ীয় আধ্যাত্মিক আত্মার জন্য ভিন্ন ধরনের ধ্বংস প্রক্রিয়ার করা বলেছেন। তিনি বলেন: আত্মার বিস-ৃতিমূলক পরিমাণ রয়েছে। কারণ চেতনা বিভিন্ন সময়ে কম বা বেশী তীব্র হয়ে থাকে। যেমন কোন ব্যক্তি যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে, তখন তার চেতনার তীব্রতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়; আবার সেই ব্যক্তি যখন তন্দ্রা বা নিদ্রায় থাকেন তখন তাঁর চেতনার তীব্রতা হ্রাস পায়। এভাবে চেতনার তীব্রতা ক্রমশ হ্রাস কওে যদি ূন্যে নামিয়ে আনা যায়, তাহলেই বিচনাশ ঘটতে পাও আেত্মার। একটি গানের সুর যেমন ক্রমশ হ্রাস পেতে পেত্র বিলীন হয়ে যায়, আত্মার পক্ষেও তেমনি বিলীন হওয়া সম্ভব। বিস-ৃতিমূলক পরিমাণের অধিকারী আত্মাকেও তেমনি তার চেতনার তীব্রতা হ্রাস কও ধে্বংস করা যায়া। মন যে একটি সরল একত্ব, এবং এর অন-র্ভুক্ত উপকরণাদি বলাতে যে কিছু নেই, এ কথা আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরাও অস্বীকার করেছেন। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের মতে, মন কোন দ্রব্য নয়। আমরা যাকে মন বলি তা আসলে আপেক্ষিক ঐক্যের এমন একটি কাঠামো যা সচরাচর মোটামুটিভাবে স’ায়ী ও আঁট্‌সাটভাবে একীভূত থাকলেও অবস’ার চাপে বিভিন্ন সয়ে বিভিন্ন মাত্রায় বিভক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে পারে। সমকালীন মনোবিজ্ঞাানের দেয়া এ যুক্তি থেকে এটুকু পরিস্কার যে, আত্মাকে সরল দ্রব্য হিসেবে ধওে নেয়ার যে প্রচলিত ধারণা, তা কোন অভিজ্ঞতামূলক প্রায়োগিক যুক্তি-প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়, বরং একটি আধিবিদ্যকে বা পরাতাত্ত্বিক মতবাদ। আর এজন্যই একে অমরত্ব প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। হিন্দু ধর্ম ও হিন্দু দুর্শনের কেন্দ্রীয় ধারণা কর্মবাদ নামে পরিচিত। এ মতের প্রবক্তারা বলেন, কতিপয় জন্ম-জন্মান-ওে অনুষ্ঠিত সৎকর্ম ও পুণ্যানুষ্ঠানের ফলশ্রুতি হসিেবে ব্যক্তির আত্মা ঈশ্বর বা ব্রহ্মের সঙ্গে মিলিত হতে সক্ষম হয়। কোন বিশেষ আত্মা পরজন্মে কী হবে, তা নির্ভও করবে তার পূর্বজন্মে অর্জিত নৈতিক উৎকর্ষেও ওপর। বর্তমান জন্মেও পাপাচরের ফলে পরজন্মে মানুষ অধঃপতিত হয় নিম্নতন জীবনে, এমন কি ইতর প্রাণীর স-রে। সাধুতা, বিশ্বাস ও জ্ঞানের কল্যাণে উচ্চতর মর্যাদা অর্জনের মধ্য দিয়ে পরিণামে ব্যক্তি-আত্মা যখন বিশ্বাত্মার সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় এরপর তার আর কোন নতুন জীবন লাভের প্রযৈাজন হয় না। এটাই তার জীবনের পরম ঈঙ্গিত লক্ষ্য এটাই তার পরম কাম্য দিয়ে পরিণামে ব্যক্তি-আত্মা যখন বিশ্বাত্মার সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় এরপর তার আর কোন নতুন জীবন লাভের প্রয়োজন হয় না। এটাই তার জীবনের পরম ঈঙ্গিত লক্ষ্য এটাই তার পরম কাম্য। এ কর্মবাদও বিরুদ্ধে অন-ত একটি অভিযোগ করা যেতে পারে: পূর্ববর্তী জীবনের কর্মফলেজ জন্য যেকোন ধরনের পুরস্কার বা তিরস্কার অর্থবহ হবে তখনই, যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পূর্ববর্তী জীবনের সুস্পষ্ট স্মৃতি বা ধারণা রাখবে। পূর্বজন্মের মানুষকে পরবর্তী জীবনে পশু হিসেবে পাঠিয়ে শাসি- দেয়া ফলপ্রসু হবে তখনই, যখন সেই মানুষটি তার পূর্ববর্তী জীবনের কোন স্মৃতি বা চেতনা ব্যতিরেকে একজন মানুষকে শাসি- হিসেবে যদি পরজন্মে কুকুরের জীবনে দেয়া হয়, তাতে সেই প্রাক্তন মানুষ ও বর্তমান কুকরের কোন কষ্ট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ, মানুষের কাছে মনুষ্যত্ব যেমন কুকুরের কাছে কুকুরত্ব তেমনি এটি স্বাভাবিক ব্যাপার। অর্থাৎ কর্মেও মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য ও পরিচয় টিকিয়ে রাখার জন্য পূর্ববর্তী জীবনের কিছু-না-কিছু চেতন স্মৃতি আবশ্যক। জার্মান দার্শনিক লাইবনিজের একটি প্রশ্ন কৌতুকপ্রদ হলেও এখানে প্রাসঙ্গিক হবে বলে মনে করি: “জনাব, পূর্বজন্মে আপনি কি ছিলেন, তা ভূলে যাওয়ায় শর্তে যদি আপনাকে এ জন্মে চীনর দেশের রাজা করা হয়, তাহলে তাতে আপনার লাভ কী? এর অর্থ কি অনেকটা এরকম নয়, যে মুহূর্তে ঈশ্বও আপনাকে ধ্বয়স করেছিলেন, সেই মুহূর্তেই তাঁকে চীন পূর্বজন্মেও স্মৃতিবিবর্জিত পরবর্তী জীবন সম্পূর্ণ একটি নতুন জীবন। এ জীবনকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্ববর্তী জীবনের ধারাবাহিক রূপ বরঅ চলে না। যাই হোক, হিন্দু ধর্ম ও হিন্দু দর্শনের মূলকথা হলৈা, এ জীবন শাসি-স্বরূপ এবং সমগ্র জড়জগৎ অশুভ ও মায়া মাত্র। জীবন এমন একটি বোঝা, যার ভার আমাকে বহন করতে হয় জন্ম জন্মান-ও চক্রের মধ্য দিয়ে। এ ভার থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় জ্ঞান, বিশ্বাস ও সৎকর্মেও মাধ্যমে পরিশুদ্ধি অর্জন এবং পরিণামে ঈশ্বও বা ব্রহ্মের সঙ্গে মিলিত হওয়া। হিন্দু দর্শনের এই নৈরাম্যবাদী ধারাণাকে আও একধাপ এগিয়ে নেয়া হয়েছে বৌদ্ধ দর্শনে। বৌদ্ধ মতে, ব্রহ্মের সঙ্গে ব্যক্তির ভবিষ্যৎ মিলনের ধারণা অসম্ভব, সুতরাং পরিত্যাজ্য। জগতের অপরাপর সব সত্তার মতো ব্যক্তিসত্তাও নিয়ত পরিবর্তনশীল। আমাদেও আকার, অনুভূতি, প্রত্যক্ষণ ও বুদ্ধিমত্তা-এ সবই অস’ায়ী এবং অশুভ। স’ায়িত্বেও দাবিদার অহং বা আত্মা বলে কিছুই নেই; এ ধরনের বিকারহীন চেতনার ধারণাও নিছক কল্পনাবিলাস। এ সুক্তিতেই বৌদ্ধ দর্শনে চিরস’ায়ী পারলৌকিক জীবনর ধারণাকে নির্বোধদের মতবাদ বলে প্রত্যাখান করা হয়েছে। প্রশ্ন করা হয়েছে: যেখানে পর পর দুই মূহূর্তেও জন্য কোন ব্যক্তি এক ও অপরিবর্তিত থাকতে পারে না, পরিবর্তনই যেখানে জগং ও জীবনের মূল ধর্ম, সেখানে অনন-স’ায়ী পারলৌকিক জীবনের আশা অহেতুক নয় কি? এখানে উল্লেখ্য যে, প্রাচীন গ্রীক দর্শনে যেমন, হিন্দু দর্শনেও তেমনি ব্যক্তিগত অমরত্বের কোন অবকাশ নেই। পৃথিবঅর প্রধান ধর্মগুলোর মধ্যে ইহুদি ধর্মেই প্রথম ব্যক্তিগত অমরত্বেও স্বীকৃতি দেয়া হয়। ইহুদি মতের পটভুমি থেকেই ূেপ লাভ করেছে আত্মার অমরত্ববিষয়ক খ্রিষ্টীয় মতবাদ। অবশ্য ইহুদি চিন-ার প্রথম পবেৃ পরলোকের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, তা ছিল রীতিমত হতাশাব্যঞ্জক। বলা হয়েছিল পরলোক নয়, ইহলোকই অধিকতর উপভোগ্য; আর যতটুকু সম্ভব এ জীবনকেই উপভোগ করা মানুষের পক্ষেকাম্য। মৃত্যুও পরপাওে রয়েছে শেওল (ংযবড়ষ)। ওখানেস কোন শাসি-ও ব্যবস’া নেই বটে, কিন’ উপভোগ করারও কিছু নেই। আত্মার পক্ষে অনন-কাল ধওে ওখানে অবস’ান করা হবে এক একঘেঁয়ে ও বিরক্তিকর ব্যাপার।
এ নেবাশ্যবাদী পারলৌকিক ধারণা বদলে দিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেন জেরেমিয়া ও ইসায়া পয়গম্বও ত৭াদেও প্রাণবন- ও প্রেরণাদায়ক রচনায়। বিশেষত ইসায়া দ্বার্থহীন ভাষায় ঘোষনা করেন:
অধিশব ধহফ ংরহম, ণব ঃযধঃ ফবিষষ রহ ঃযব ফঁংঃ: ঞযু ফবধফ ংযধষষ ষরাব, সু ফবধফ নড়ফরবং ংযধষষ ধৎরংব. মৃত্যুও পর পরলোক ব্যক্তির পুনরুত্থান এবং ঈশ্বরের সন্নিধ্যসহ এক আনন্দঘন অনন- পাললৌকিক জীবনের যে আশ্বাস ইহুদি নবী-পয়গম্বারের দিলেন, তা থেকে গেড় ওঠে ইহুদি ধর্ম ও দর্শনে আত্মার অমরত্ব বিষয়ক মতবাদ। আগেই বলেছি, ইহুদি মতের পটভূমি থেকেই রূপ লাভ করেছিল আত্মার অমরত্ব নিষয়ক খ্রিষ্টীয় মতবাদ। দেহাবসানের পরও আত্মা অমর থেকে যাবে এই খ্রিষ্ট ধর্ম ও দর্শনের কেন্দ্রীয় বক্তব্য। এ মতে ব্যক্তি তার ব্যক্তিরত্বেও যাবতীয় বৈশিষ্ট্যসমেত অমর থাকে ও ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনের সুযোগ লাভ করে। এ অমরত্বের জন্য যা প্রয়োজন তা হলো নৈতিক দিক থেকে সৎ ও শুভ পার্থিব জীবন। নৈতিক দিক থেকে সৎ ও শুভ পার্থিব জীবনাযাপনের পুরস্কারস্বরূপ যারা অমরত্ব লাভ করেন, তাঁদেও জন্য মৃত্যু একটি আপতিক ঘটনা মাত্র; কারণ তাতে ত৭াদেও ব্যক্তিত্বেও অব্যাহত অসি-ত্ব বিঘ্নিত হয় না কোনমতেই। মৃত্যুও মাধ্যমে ইহলোক ও পরলোকের মধ্যে যোগসূত্র স’াফিত হয় এবং পূণ্যবানেরা পরলোকে তাঁদের স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে বেঁচে থাকেন। ব্যক্তির অমরত্বেও অবলম্বন যে তার আধ্যত্মিক আত্মা, এ গ্রীক ধারণা দ্বারা মুসলিম দার্শনিকদেও অনেকেই বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। আল-কিন্দি, আল-ফারাবী, ইব্‌নে সিনা প্রমুখ মুসলিম দার্শনিকেরা বলেন, মৃত্যুতে দেহাবসানের পর ব্যক্তি-আত্মা দেহের প্রভাবমুক্ত হয়ে নৈব্যক্তিক বিশ্বাত্মার সঙ্গে মিশে যায়। এ মতে দেহকে ব্যক্তিত্ব ও স্বাতন্ত্র্যের নির্দেশক বলে মতে করা হয়, আর তার আত্মাকে ধওে নেয়া হয় এমন এক সার্বিক বিশ্বাত্মার অংশ বলে যা থেকে তা সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও (পার্থিব জীবনে) মরণের পরে আবার মিলিত হবে। এই সার্বিক আত্মা ব্যক্তিক নয়। ব্যক্তিক, স্বতন্ত্র ও পৃথক হওয়া মানব জীবনের অপরিহার্য দুর্ভাগ্য। তবে এ দুর্ভাগ্র সহনীয় হয় কেবল এ প্রত্যাশায় যে, পরিণামে ব্যক্তি-আত্মা বিশ্বাত্মার সঙ্গে মিলিত হতে পারবে। ইসলাম ধর্মে দেহের মৃত্যুকে মানব জাতির অভিন্ন ও অলঙ্ঘনীয় নিয়তি বলে অভিহিত করা হয়েছে। পরলোক কসম্বন্ধে কোরান বলা হয়েছে: খোদা মাঠি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, মাটিতে সে পুনরায় বিলীন হবে, মাটি থেকেই আবার তাকে পুনরুত্থিত করা হবে। ঠিক কোনআকাওে মানুষ রোজ হাসওে পুনরুত্থিত হবে তা বলা যায় না, তবে হাসরের দিনের বর্ণনা প্রসঙ্গেকোরানে বরঅ হয়েছে: ঐদিন সব পাপীদেও চোখবন্ধ অবস’ায় খুবই বিমর্ষ এবং পূণ্যাত্মাদেও হর্ষোৎফুল্ল দেখা যাবে। এরপর সকলের আমরনামা খোলা হবে, এবং প্রত্যেকের স্মৃতিতে তার পার্থিব কার্যকলাপ ভেসে উঠবে। মানুষ তখন পরস্পর পরস্পরকে চিনতে পারবে, যদিও নিজেকে নিয়ে অতিশয় ব্যস- থাকার কারণে কেউ কারো কোন উপকারে আসার সুযোগ পাবে না। খোদা সকলের প্রতি পূণ ন্যায় ও সুবিচার করবেন এবং প্রত্যেক নিজ নিজ কৃতকর্মেও ফল ভোগ করবে। পাপীরা দোযখের আগুনের অসহনীয় যন্ত্রণা এবং পূর্ণাত্মারা বেহেশতের অনন- সুখের সৌভাগ্য অর্জন করবেন। মৃত্যুতে জীবনাবসানের পর মরণোত্তর জীবনের অসংখ্যা ব্যক্তিকে কি কওে পুনরুত্থিত করা হবে? এ প্রশ্নের জবাবে ইসলাম বলে, খোদা যদি প্রথমে শূন্য থেকে ধুলিকণা এবং ধুলিকণা থেকে রক্তমাংসের মানুষকে সৃষ্টি কওে থাকতে পারেন, তাহলে তাঁর পক্ষে মৃত্যুও পর ধ্বংসপ্রাপ্ত সেই মানুষকে তার পার্থিবরূপে পুনরায় সৃষ্টি করা কোন অসম্ভব ব্যাপার নয়। আরও বলা হয়েছে, যিনি জ্যোতিস্কমগুলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, সব জিনিসের ওপর যাঁর সর্বময় কর্তৃত্ব, সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার পক্ষে মৃতদেহে প্রাণ সঞ্চার করা অসম্ভব নয়। বিশ্বেও শুধু প্রধান ধর্মসমূহেই নয়, আধুনিক কালের বিশিষ্ট দার্শনিকদের অনেকেই অমরত্বেও অকুণ্ঠ সমর্থন করেছেন। যেমন, বিশিষ্ট ফরাসি দার্শনিক রুশো তাঁর বন্ধু ভলটেয়ারের কাছে লেখা এক চিঠিতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন: “এ জীবনে আমি এত বেশি দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছি যে, পরলোক প্রত্যাশা না কওে আমি পারি না। অধিবিদ্যার কোন কূটযুক্তি অমরত্ব ও ঈশ্বরের অসি-ত্ব সম্বন্ধে আমার মনে কোন সয়শয় সৃষ্টি করতে পারবে না। এ আমি জানি, এ আমি বিশ্বাস করি, এ আমি প্রত্যাশা করি এবং জীবনের শেস নিঃশ্বাস পর্যন- আমি এ বিশ্বাসে অটল থাকব।” রুশোর এই সিদ্ধানে-ও সদৃশ সিদ্ধানে- উপনীত হয়েছিলেন আধুনিক জার্মানির বিশিষ্ট দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট। তাঁর ‘শুদ্ধবুদ্ধিও সমীক্ষ’ (ঈৎরঃরঁিব ড়ভ চঁৎব জবধংড়হ) গ্রনে’ যুক্তির আলোকে ঈশ্বও, অমরত্ব এদেও কোনটিকেই প্রমাণ করতে না পেরে শেষ পর্যন- ব্যবহারিক বুদ্ধি ও নীতিবোধের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন: মানুষের সার্বভৌম প্রজ্ঞা ও সার্বিক নৈতিক স্বভাব দারি করে যে, সৎকর্মেও সঙ্গে সুরস্কার এবং দুস্কর্মের সঙ্গে তিরস্কার অনিবার্যভাবে যুক্ত থাকবে। অর্থাৎ সনীতিবান সৎলোকেরা জীবনে সুখে থাকবে, আর দুর্নীতিপরায়ণ অসৎ লোকেরা দুর্ভোগ পোহাবে। কিন’ পৃকৃতপক্ষেসচরাচর আমরা যা দেখি তা তার উল্টে। আমরা দেখি সৎ ও নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তিরা সুখের পরিবর্তে দুঃখ ভোগ করছে। আর অসৎ ব্যক্তিরা উত্তরোত্তর উন্নতি করছে। এতে নৈতিক নিয়মের উপযোগিতা সম্বন্ধে আমরা ভবনায় পড়ি, বড়ই হতাশ হই। কিন’ বিবেক আমাদেও বলছে যে সদ্‌গুণ পুরস্কারের এবয় পাপের সঙ্গে শাসি-ও সঙ্গতির জন্য পরলোক অবশ্যই থাকবে; আর তা ভোগ করার জন্য ইহলোকের পরও আমাদেও অব্যাহত অসি-ত্ব বা মরণোত্তর জীবন আবশ্যক। আগেই উল্লেখ করেছি, পরলোকের পক্ষে যেমন, বিরুদ্ধেও তেমনি প্রচুর যুক্তি দেয়া হয়েছে। দার্শনিক বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাঁরা পরলোকের ধারণা ও অমরত্বে বিশ্বাসকে অমূলক ও অবাস-ব প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন তাঁদেও যৌক্তিক অভিজ্ঞতাবাদী বলে অবিহিত করা হয়। তাঁদেও মতে চোখের সামনে মৃত্যুবরণের পরও প্রয়াত ব্যক্তি লোকচক্ষুর অন-রালে বেঁচে থাকে, পারলৌকিক জীবন যাপন করতে পারে-এ ধারণা রীতিমত হাস্যকর। এ থেকে তাঁরা প্রশ্ন করেন : আমি যখন বলি মৃত্যুর পরও আমি বেচে থাকব তাহলে ‘আমি’ কথাটি দ্বারা আমি কি বুঝাতে চাই? ‘আমি’ ‘তুমি’ প্রভৃতি ব্যক্তিব০াচক শব্দ চেয়ার, টেবিল ও আলু পটোলের চেয়ে স্বতন্ত্র স্বভাবের কিছু নয়। আর তা নয় বলেই তারা নির্দেশ করবে এমনসব সত্তাকে যারা কোন রহস্যেও আবরণে আবৃত নয়, বরং যে কোন জড়বস’ও মতোই ইদ্রিয়গ্রাহ্য; অর্থাৎ যাদেও দেখা, শোনা ও স্পর্শ করা যাবে। সহজ কথায়, ব্যক্তি বলতে আমরা কোন বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ও স্বতন্ত্রধর্মী সত্তাকে নয়, বরং এমন সত্তাকে নির্দেশ করব, যাকে জড়বস’ও মতো পদার্থিক উপায়ে বা প্রায়োগিক পদ্ধতিতে সনাক্ত করা যাবে। আত্মসত্তা সম্পর্কে যদি এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করা যায় তাহলে মরণের পর বেঁচে থাকার কিংবা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার প্রশ্ন উঠে না; কারণ মরণ মানেই দেহ বিনাশ, ব্যক্তিসত্ত ও চেতনার পূর্ণ অবসান। এখানে লক্ষণীয় যে, যৌক্তিক অভিজ্ঞতাবাদীরা ব্যক্তিসত্তা বলতে শুধু দেহকে এব ব্যক্তিগত ঐক্য বলতে দেহের সংহতিকে বুঝেছেন। দেহের অভ্যন-ওে বা অন-রালে আত্মা বা দেহের চেয়ে ভিন্ন স্বভাবের মন বরৈ যে কিছু থাকতে পারে, এ সম্ভাবনাকে ত৭ারা সুম্পষ্টভাবে বাতিল করে দিয়েছেন। কিন’ প্রশ্ন ওঠে: আত্মসত্তা ও দেহ, এ দুটি কি আসলেই এক ও অভিন্ন? সুখ-দুঃখ, আশা-প্রত্যাশা, বিশ্বাস-কল্পনার কর্তা প্রাণবন- ব্যক্তিকে স্রেফ পদার্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা যায় কি? আমার মনে হয় এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হবে ‘না’। এ কথা বলার অপেক্ষ রাখে না যে, স্বরূপগতভাবে মানসিক ঘটনাবলী, পদার্থিক বস’ ও ঘটনাবলীর চেয়ে স্বতন্ত্র। সুতরাং সঙ্গত কারণেই তাদেও পদার্থিক ঘটনাবলী, কিংবা দেহের আলোকে ব্যঅখ্যা করা যায় না, যেতে পারে না। যে মনস-াত্ত্বিক প্রক্রিয়া স্পষ্টতই দৈহিক প্রক্রিয়ার চেয়ে স্বতন্ত্র, তাদেও দেহের গুণ বা ধর্ম বলে আখ্যায়িত করা অয়ৌক্তিক। যেমন, স্বপ্নের ঘটনাবলী থেকে আমরা প্রমাণ পাই যে, দৈহিক প্রক্রিয় বন্ধ থাকা কালেও মানসিক প্রক্রিয়া চালু থাকতে পারে। আবার মন যে, মানসিক প্রক্রিয়া দৈহিক প্রক্রিয়ার অধীন; অন্যপক্ষে বরং এ-ও হতে পাওে যে, আমরা যাকে দেহ বলি তা মনের নিয়ন্ত্রক নয়, মানসিক প্রক্রিয়াবলীর সহায়ক মাত্র। ব্যক্তিমাত্রই দেহবিষ্টি সন্দেহ নেই; কিন’ এর অর্থ এই নয় যে, দেহ কেবলমাত্র দেহই ব্যক্তিত্বেও একমাত্র উপকরণ। অন-ত আমাদেও অভিজ্ঞতা তা সমর্থন কওে না। আমরা জানি যে, দেহ ছাড়াও ব্যক্তির মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাদেও পদার্থেও রূপ-রস-গন্ধ-শব্দ-স্পর্শেও মতো প্রয়োগিক উপায়ে প্রত্যক্ষ করা না গেলেও তাদের অসি-ত্ব ও গুরুত্ব উপায়ে প্রত্যক্ষ করা না। যেমন, ব্যক্তিমাত্রই সত্য সুন্দও শুভ ন্যায় প্রভৃতি মূল্যমানের লকে।ষ্য জীবনকে পরিচালিত করে, এবং এসব আদর্শ অনুশীলনের মাধ্যমে জীবনকে অর্থবহ ও মূল্যবেঅধ যতই বাস-ব ও গুরুত্বপূর্ণ হোক-না-কেন, এদও জড়ীয় বা পদার্থিক বলা যায় না। একই কারণৈ জড়ীয় বা পদার্থিক মানদণ্ডে এদও পরিমাপের প্রশ্নও ওঠে না। কিন’ যৌক্তিক অবিজ্ঞাতাবাদীরা এসব মানবীয় গুণ বা মূল্যবোধের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা স্বীকার না করে এদের অপরাপর পদার্থিক বস-ূও সমপর্যায়ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন, এবং এদের মূল্যায়নের জন্যও পদার্থিক মানদণ্ড ব্যবহারের প্রস-ার করেছেন। তাঁরা যদি মানবীয় গুণাবলীর স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করেছেন, তাহলে তাঁরা অবশ্যই বুঝতে পারতেন যে, আমি, তুমি, তিনি, প্রভৃতি যেসব শব্দ ব্যক্তির নির্দেশজক, তাদেও বস’ও নির্দেশক বলে মনে করা নিতান-ই এব হাস্যকর ব্যাপার। এখানে প্রশ্ন ওঠে: আলোচ্য সমালোচকেরা সনবসত্তার স্বতন্ত্র মর্যাদা স্বীকার করতে ব্যর্থ হলেন কেন? উত্তরে বলা যায় যে, তাঁরা আগেই মনগড়াভাবে ধরে নিয়েছেন যে, যা-কিছুকে জড়বস’ হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না, এবং যাদেও রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শেও মতো ঐন্দ্রিয়িক উপায়ে প্রত্যক্ষণ ও প্রতিপাদন করা যাবে না, তাদেও অসি-ত্বশীল হওয়ার কোন অধিকার থাকবে না। এ গোটা ধারণাটি রীতিমত স্বৈরতান্ত্রিক ও যথেচ্ছধর্মী। অভিজ্ঞতাকে ঐন্দ্রিয়িক বস’ও মধ্যে সীমিত করার এ প্রচেষ্টা অযৌক্তিক। আসলে বস’ও অসি-ত্বেও রূপ বা ধরন কেমন হবে, তার উপর আমরা কোন আদেশ জরি করতে পারি না। যা ইন্দ্রিয়গম্য নয়, তা জ্ঞানের যোগ্য নয়, এবং তা অসি-ত্বশীলও হতে পারে না। এ ধরনের কোন একতরফা ডিক্রিও আমরা জারি করতে পারে না। কারণ, একথা ভুলে গেলে চলবে না যে মানুষ হিসেবে আমরা বস’ও স্রষ্টা নয় আর তা নই বলেই কোনকিছুর অসি-ত্ব আমাদেও ইচ্ছাধীন হবে, এ দাবিও আমরা করতে পারে না। বিশ্লেষণী সমালোচকেরা আত্মসত্তাকে অজড়ীয় সত্তা হিসেবে গ্রহণ করুন, আর ন-িই করুন তাদেও আত্মসত্তর স্বাভাবিক রূপ পরিবর্তিত হবে না, এবং আমাদের ইচ্ছানিরপেক্ষভাবেই তা তার স্বগুণে বেং স্ব-অধিকাওে অসি-ত্বশীল থাকবে। আবার কেউ একে সনাক্ত করুক আর না- ই করুক, কেউ একে জড়ীয় বলুন আর আধ্যাত্মিক বলুক, তাতেও এর স্বরূপগতভাবে (আমাদেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে) আধ্যাত্মিক হয়ে থাকে, তাহলে কোন যুক্তির জোরেই আমরা এর অন্যথা সাধন করতে পাওে না; কারণ যুক্তিসঙ্গতভাবেই হোক, আর অযৌক্তিকভবেই হোক যা আছে, তা আছেই। কোন যুক্তির দোহাই দেয়ে আমরা এর অসি-ত্ব অস্বীকার করতে পারে না। এদিকে থেকে আত্মা বলে যদি আধ্যাত্মিকধর্মী কিছু থেকে থাকে, তার অসি-ত্ব খণ্ডন আমাদের যুক্তিবিচারের ক্ষমতাবহির্ভূত। বাস-বিক পকে।ষ যদি এ ধরনের আত্মা থেকেই থাকে, তাহলে তাকে প্রয়োগিক ও পদার্থিক উপায়ে সনাক্তক্ষম হতে হেব, অভিজ্ঞতাবাদীদেও এ দাবি হবে নিতান-ই অযৌক্তিক। অবশ্য এর অর্থ এই নয যে, আমি আধ্যাত্মিক আত্মার অসি-ত্বে বিশ্বাসী, এর অর্থ এ-ও নয় যে, আমি আধ্যাত্মিক আত্মার অসি-ত্ববিরোধী। আমি শুধু বুঝাতে চাচ্ছি যে, প্রয়োগিক পদ্ধতিতে, এমন কি বিশুদগ্ধ যুক্তির সাহায্যে, আমরা আত্মা সম্পর্কে কোন সুনিশ্চিত সমাধান দিতে পাওে না, এ বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে হলফ কওে কিছু বলতেও পারি না। যেকোন পরাতাত্ত্বিক বিষয়ের মতো এ বিষয়টির যে কোন সমাধান নিতান-ই আনুমানিক, এবং সে কারণেই সম্ভাব্য, সুনিশ্চিত নয়। পরলোকের স্বরূপ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন, দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তেমনি সাধারণ মানুষ ও ভাবুক-দার্শনিকদেও অনেকেই পরলোকের বাস-বতা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদেও কেউ কেউ পারলৌকিক জীবনের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। বলা হয়েছে, বর্তমান জীবন বহুলাংশে দুঃখ-দুর্ভোগ, অনিশ্চিতি ও অনিরাপত্তার জীবন। এ জীবনে অপূর্ণতা ও অসনে-াষের কারণে আমাদের মনে এমন এক উৎকৃষ্টতর পরলোকের প্রত্যয় ও অসনে-াষের কারণে আমাদেও মনে এমন এক উৎকৃষ্টতর পরলোকের প্রত্যয় ও অসনে-াষের কারণে আমাদের মনে এমন এক উৎকৃষ্টতর পরলোকের প্রত্যয় ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়, যেখানে আমরা ইহলোকের কোন দুঃখ-দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি দেখব না, বরং এক অনন- আনন্দময় জীবনের সন্ধান পাব। এ ব্যাপাওে বিভিন্ন ধর্ম আমাদের সৃনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছে এবং সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা ইহলোককে পরলোকের প্রস’তিপর্ব বলে ধওে নিয়ে পরলোকের অনন- সুখ- শানি-ও আশায় ইহলোকের দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-নির্য়াতনকে তুচ্ছ জ্ঞান করি। কিন’ এখানে প্রশ্ন থেকে যায় : পারলৌকিক জীবন কি আমাদের বর্তমান পার্থিব জীবনের অনন- দীর্ঘায়ন? তা-ই যদি হয়, তাহলে এ ইহলৌকিক জীবকে সীমাহীনভাবে দীর্ঘায়িত কারে আমরা কি আমাদের পরম ইপ্সিত দুঃখলেশহীন অভ্যাহত আনন্দ পাব? আমরা আমাদের ব্যক্তিগত অসি-ত্বের অনন- সি’তি আশা করি ঠিকই; কিন’ শৈশব, যৌবন ও বার্ধক্য-জীবনের এই তিন পর্বেও ঠিক কোন্‌টি অনন- দীর্ঘায়ন আমরা পরলোকে আশা করব? এ তিনটির সবগুলোই আমাদের বর্তমান পূর্ণ জীবনের আবশ্যিক পর্ব। এদের যেকোনটিকেই আমরা নির্বাচন করি না কেন, অনন-ভাবে ভোগ করার ফলে এর কি একঘেয়েও অস্বসি-কর হয়ে যাবে না? অনন- সুখের পারলৌকিক বীবন যত সুখের জবীনই হোক-না-কেন, অনন-কাল ধওে যদি আমরা সুখ ভোগ করি এবং দুঃখের কোন স্পর্শ অনুভব না করি, তাহলে এই বিরামহীন অনন- সুখ সত্যিই সুখকর বলে অনুভুত হবে কি? অর্থাৎ, বর্তমান পার্থিব জীবনকে অনন-ভাবে দীর্ঘায়িত করাই যদি আমাদের কাম্য কি-না, তা ভেবে দেখা দরকার বটে।
তহলে কী ধরনের পরলোক কাম্য? এ প্রশ্রে কোন বিজ্ঞানম্মত ও অভিজ্ঞতাপ্রসূত উত্তর জানা নেই। সঠিক খবর নেয়ার সদিচ্ছা নিয়ে একবার যদি পরলোকে যাবার চেষ্টা করি, তাহলে সেখান থেকে খবর নিয়ে পৃথিবীতে আবার হাজির হওয়ারও কোন সম্ভাবনা নেই। এ পরিসি’তিতে স্মরণাতীত কাল থেকে ভাবুক-দার্শনিকেরা বিচার-বিশ্লেষণ ও আন্দাজ-অনুমানের মাধ্যমে সমস্যাটির যে সমাধান হাজির করেছেন, আমরাও এর বেশি অগ্রসর হতে পারি না। সীমিকত সুযোগ-সুবিধার আওতায় এ গুরুতর প্রশ্নটি নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে যে, বর্তমান দেহের হুবহু পুনরুজ্জীবন এবং অবিনশ্বও আত্মার সঙ্গে এর পুনর্মিলনের মাধ্যমে পরলোকে আমরা যদি আমাদের নিজেদের পার্থিব সত্তা খুঁজে না- ও পাই তাতে হতাশ হবার কিছু নেই; কারণ দেহ-মনের হুবহু পুনরেুজ্জীবন সম্ভব না হলেও বর্তমান জীবনে অর্জিত আমাদেও অর্জিত নৈতিক উৎকর্ষ অনন-কালে না হলেও অনেকদিন টিকে থাকবে, এবং অন্যদের সৎকর্মেও প্রেরণার উৎস হবে-এ আশা আমরা করতে পারি। মোট কথা আমরা যে অমরত্ব নির্বিঘ্নে আশা করতে পারি তাকে যে বর্তমান জীবনের অবিকল কপি হতে হবে এমন কোন কথা নেই । আবার আমাদের যে বর্তমান দেহ নিয়েই পরলোক পুনরুত্থিত হতে হবে, নতুনভাবে বসবাস করতে হবে, এ আশাও অপরিহার্য নয়। দেহ ও আত্মার পুনরুত্থান বা মূর্ত অসি-ত্ব ছাড়াও নিছক স্মৃতির আকারেও এক ধরনের অমরত্ব আমরা আশা করতে পারি। দেহাবসানের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিসত্তর সব কিছু বিনষ্ট হয়ে যাবে- একথা আমরা মেনে নিতে এবং মরণকে সবকিছুর পরিসমাপপ্তি বলে স্বীকার করতে পারি না। তা যদি করি,. তাহলে এ জীবন অর্থহীন এবয় জীবনযাপন অসাধ্য হযে পড়ে। আগেই বলেছি, ব্যক্তি জীবনে দেহ ছাড়াও এমন কিছু সদ্‌গুন বা মূল্যমান রয়েছে যাদেও নিছক জড়ীয় পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা যায় না ঠিক, কিন’ তবু তারা আমাদের পরম কাম্য। যেমন, মানুষ জ্ঞান ও সত্যেও সন্ধান কওে, সুন্দও ও শুভের চর্চা করে। সত্য সুন্দও শুভ প্রভৃতি যেসব মূল্যবান ও মূল্যবোধের অনুশীলন ও অনুকরণের মাধ্যমে মানুষ তার জীবনকে অর্থবহ করার প্রয়াস পায়, যাদেও অভাবে মানবজীবন পাশবিক জীবনে অধঃপতিত হয়ে যায়, দেহাবসানের সাথে সেসব মূল্যবোধেও বিলুপ্ত হয়ে যাবে, এ আমরা মেনে নিতে পার না। সত্য সুন্দও শুভ প্রভৃতির যদি কোন কোন দেহাতিরিক্ত স’ায়ী মূল্য ও তাৎপর্য না থাকতো, তাহলে প্রতিকূল পরিবেশে দৈহিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য উৎসর্গ করে, এমন কি উৎপীড়ন-নিপীড়নের মুখেও মানুষ এদের সন্ধান ও অনুশীলনে অটল থাকতো না মানবদরদী দেশপ্রেমিক ব্যক্তিরা যে দেশের জন্য, সমাজের জন্য, ন্যায় ও সুবিচারের জন্য সংগ্রাম কও আেত্মবলি দিচ্ছেন তা অমূলক নয় হতে পাওে না। মোট কথা, ন্যায়, ধর্ম, সত্য ও সুন্দরসহ সব মূল্যমান ও মুল্যবোধের একটি স’ায়ী তাৎপর্য আছে-এ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। মরণের পরও এসব মূল্য যদি টিকে থাকে, তাহলে তারা থাকবে ব্যক্তির সেই ইচ্ছা ও আদর্শেও আকারে, যার সাহায্যে তার অর্জিত হয়েছে। ব্যক্তির সেই ইচ্ছা ও আদর্শ মরণোত্তর সি’তি লাভ করতে পাওে একাধিক উপায়ে। প্রথমত, তা সি’তি লাভ কর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সন-ানসন-তিসহ বিভিন্ন উত্তর পুরুষের মাধ্যমে। বিজ্ঞানীদেও মতে, ব্যক্তির জীবারুরর সমবায়ে গঠিত তাদেও বিনাশ নেই। এসব জীবানু পরিবর্তিত হয়ে বৎমানুক্রমে উত্তরপুরুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়ে পূর্বপুরুষদেও অর্জিত সদ্‌গুণ ও ভাবাদর্শকে টিকিয়ে রাকে। তাই স’ুল অর্থে মৃত্যুতে দেহ বিনষ্ট হলেও প্রকৃত প্রস-াবে ব্যক্তিসত্তা কখনো সর্বতোভাবে বিলীন হয় না। পরবর্তী বংশধরদেও মধ্যে প্রভাব বিস-ারের মাধ্যমে যেমন, মরণের পরে সমাজের অগণিত মানুষের স্মৃতির মধ্যেও তেমনি মানুষ যুগ-যুগান-ও ধও পে্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে। এ দিক থেকে হে ও আত্মার স্বরূপ ও পারস্পরিক সম্মন্ধবিষয়ক সীমাহীন বিতর্কে না গিয়েও আমরা বলতে পারি, প্লেটোর মতো ভাববাদী দার্শনিক যেমন, কার্ল মার্কসের মতো দ্ধান্দ্বিক বস’বাদী মনীষীও তেমনি মৃত্যুঞ্জয়ী, ইহলোক ত্যাগের পর পরলোকের অধিবাসী। তাঁদেও আত্মা বলে কোন সত্তা পরলোকে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে কি-না, এ বিতর্কে প্রবেশ না করেও আমরা বলতে পারি অগণিত মানুষের স্মৃতিতে তাঁরা অমর হয়ে আছেন এবং এ অর্থে সদগুণ ও সৎকর্মেও অধিকারী সব মানুষ অমরত্বের দাবিদার। আধ্যাত্মিক আত্মার রূপ-স্বূেপ বিষয়ে কোন পক্ষ সমর্থনের চেষ্টা না কওে এবং ধর্মে বণিত স্বর্গ-নরকরে ভাষ্য সম্পর্কেও কোন মন-ব্য না কওে, আমরা বরং এক মধ্যপথ অবলাম্বন করতে পারি। এ অর্থে পরলোক একটি আছে, কিন’ এ পরলোকইহলোকের সমান-রাল কোন নতুন জগৎ নয়, বরং একই ইহজগতের এক ধারাবাহিক নুতন পর্ব। ইহলোক থেকেই আমরা প্রয়াত ব্যক্তিদের জন্যে এটাই পরলোক; আর প্রয়াত হয়েও বিস্মৃত হন নি বলেই তাঁরা অমর। দেহ ও আত্মার পুরুত্থান এবং পার্থিব জীবনের হুবহু মূর্ত অসি-ত্ব ছাড়া নিছক স্মৃতির আকাওে যে অমরত্ব আশা করা যায়, সেই আশা নিয়ে এবং কবিগুরুর সুরে সুর মিলিয়ে বলি: মরিতে চাহি না আমি সুন্দও ভুবনে মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই।

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on পরলোক ও অমরত্ব

সুফীবাদ ও মাইজভান্ডার প্রেমবাদঃ

সুফীবাদ ও মাইজভান্ডার প্রেমবাদঃ
“সুফী” শব্দটির উৎপত্তি সম্পকেৃ বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। তবে প্রধানতঃ ৬টি মতবাদই অধিক আলোচিত। প্রথমতঃ বলা হয় ‘সাত্তফ’ অর্থাৎ পশম শব্দ হতে সুফী ও সুফীবাদের উৎপত্তি। সুফীরা মোটা পশমের কাপড় পরিধান করতো বলে ঐ পশমি শব্দ থেকে এর উৎপত্তি। দ্বিতীয় মতবাদঃ হলো ‘সাফায়ী’ অর্থাৎ পরিচ্ছন্নতা থেকে শব্দটির উৎপত্তি। পুফীরা পংকিলতা মুক্ত, পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জীবন যাটন করতো বলে তাদেরকে সুফী ও তাদেও মতবাদকে সুফীবাদ বলা হলো। তৃতীয় মতবাদঃহলো ‘সুফী’ শব্দটি উৎপত্তিগত ভাবে ‘সুফ্‌ফা’ অর্থাৎ চাদোয়া হতে উৎপন্ন। রসুল (দঃ) এর মদিনার জীবন যাপন কালে কতিপয় সাহাবা সার্বক্ষণিক ভাবে দুনিয়াদারী পরিহার কওে মসজিদে নব্বীর বারান্দায় চাঁদোয়ার নীচে অবস’ান করতেন। রসুলে পাক প্রয়োজনে তাদেরকে তালিম দিতেন। তারা তাবলীগ, জিহাদ ও ইক্কামতের কাজে নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছিল। এই ‘আসহাবে সুফফা’ থেকে সুফী ও সুফিবাদেও উৎপত্তি। চতুর্থতঃ বলা হয় যে, ‘সুফ’ তথা শ্রেনীবদ্ধ হওয়া থেকে সুফী শব্দের উৎপত্তি। সুফীয়া বিশুদ্ধ আচরনের দিক থেকে প্রথম কাতারের মুমিন। এই কাতার তথা শ্রেণী হতে সুফী শব্দ উৎপত্তি লাভ করেছে। এ সম্পর্কিত পঞ্চম মতবাদ হলো ‘সাফিয়া’ তথা জ্ঞানী বা সাধক শব্দ হতে সুফি শব্দের উৎপত্ত্‌ অির্থাৎ সুফীরা মোটআ পশমী কাপড় পরিধান করতেন এবং তাদেও আত্মাও চরিত্র ছিল পরিচ্ছন্ন, পরিশুদ্ধ ও নির্মল। মুসলিম দার্শনিক আল্লামা ইবনে খালদুনের মতামতও তাই। তার মতে পশমী পোষাক ও সাদা- সিদা পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন হতে এ শব্দদ্বয়ের বুৎপত্তিগত উৎপত্তি।
সুুফীবাদ বা তাসাউফের উৎস কোরান, হাদিস এবং হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর পরিত্র জীবন দর্শন। বোখারী শরীফোর ৯৫নং হাদিসে হযরত আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত আছেঃ হুজুর পাক (দঃ) এর নিকট হতে তিনি দু’প্রকার জ্ঞান অর্জন করেছেন-একটি বাইরের জ্ঞান অর্থাৎ জাহেরী এবং আর একটি ভিতরের জ্ঞান অর্থাৎ বাতেনী। এই বাতেনী জ্ঞান সকলের জন্য ছিলনা। হযরত আবু হোরায়রার মত কিছু সাহাবীর এটি জানা ছিল। এর এই বাতেনী তথা মা’রিফাত থেকে সুফীবাদেও প্রসার ও বিস-ার।
সুফীবাদ সূলতঃ পাপ-পংকিলতামুক্ত জীবন যাপন ও শরীয়াতের অন-র্নিহিত রহস্য ও তাৎপর্যেও উপলব্দি এবং প্রেম-মহব্বত ও একাগ্রচিত্তের সাথে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য এ চার সন’ষ্টি বিধানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ। স্বেচ্ছায় খোদা প্রেমের উত্তাল তরঙ্গে হৃদয়-মন সপে দেয়া। স্রষ্টার মর্জিও রেজামন্দিহাসিল হচ্ছে ‘তাসওউফ’ বা মা’রিফাত তথা সুফীবাদ। পবিত্র আল-কোরআনের বেশ কিছু আয়াতের গভীর বিশ্লেষণ সুফীবাদেও অন-র্নিহিত বক্তব্যের সমর্থক। যেমন আল কোরআনের সুরা ফজর-এর ২৭ ও ২৮ আয়াতে আপন প্রভুর দিকে ফিরে আস; তুমিও তাহার উপর সস’ষ্ট, তিনিও তোমার উপর সন’ষ্ট। আয়াতটি জ্ঞানীদেও জন্য ভাববার বিষয়, সুফীদেগর দকি নিদর্শন। বস’তঃ হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এবং অন্যান্য নবী-রাসুলের জীবন দর্শনেও সুফীবাদেও ইংগিত ও নিদর্শন রয়েছে। যেমন, হেরা গুহায় হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর ধ্যানমগ্ন হওয়া, বিরাট নেয়ামত ও বিরাট সাম্রাজ্যেতর অধিপতি হয়েও গায়ে তালি দেয়া জামা পরিধান করা, সময়-সময় উপবাসে থাকে, হযরত মুসা (আঃ) ও খিজির (আঃ) এর রহস্যময় কাহিনী ইত্যাদিতে বস’তঃসুফীবাদেও উৎস ও নিযুঢ় তত্ত্ব নিহীত। সুফী সাধকা দুনিয়ার স্বল্প স’ায়ী জীবনকে তুচ্ছ করে আখেরাতের চিরস’ায়ী জীবনের জন্য হাদিয়া সংগ্রহ ও স্রষ্টার সন’ষ্টির জীবন উৎসর্গ করেন। এই তৌফিক যারা পায় তারা ধন্য, যারা অনুসন্ধানে তারা শ্রদ্ধেয়। সুফীবাদ আলোচনায় অবশ্যম্ভাবীভাবে যেটি চলে মাসে তা হলো মাইজ ভান্ডারের প্রেমবাদ ও মাইজভান্ডারী দর্শন। চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি থানার একটি গ্রাম মাইজভান্ডার আজ শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর মানচিত্রের বিভিন্ন দিগনে- নিজকে স’ান কওে নিয়েছে। মহাপুরুষদেও পূণ্যপদরেনু স্পর্শে ধন্য মাইজভান্ডারের পবিত্র পীঠস’ান জগতের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে সুন্দও ও প্রেমের সুষমায় মুগ্ধ করেছে। প্রেম ও সত্যিই এখানে সবার লক্ষ্য। ভক্তি ও প্রেম দ্বারাই সে স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করা যায়। শানি- নীড়ে অবস’ান করা যায় পৃথিবীর বুকে অশানি-ও, হিস্রতার ও বিদ্ধেষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে নৈতিকতাও মানবিক মূল্যবোধ আবার সহ-অবস’ানের ধারা প্রবর্তন করা যায়। মাইজভান্ডারী দর্শন তারই পথ প্রদর্শক। বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রানে- ও একবিংশ শতাব্দীর সূর্যোদয়ের মানে মানব সভ্যতা ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির চরম বিকাশেল সময় ও ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত বিদ্বেষ ও হানা-হানিতে প্রতি নিয়ত মানবচতার লাঞ্চনা বিবেকরানদের জন্য অসহনীয় মর্মপীড়ার কারণ এবং সভ্য সমাজের লজ্জ্বার বিষয়, এ প্রেক্ষিতে প্রেম ও সমপ্রীতির বাণী এবং এতদ সংক্রান- আদর্শের প্রচার ও পসার একান-ই কাম্য। ইসলাম ধর্মের চিরন-ন বাণী শানি–সমপ্রীতি, স্রষ্টার আত্ম সমর্পন, সৃষ্টিতে প্রেম সুফীবাদ ও মাইজভান্ডারী দর্শনের আধার। তাই পাওে অশান- পৃথিবীকে আলোর সন্ধান দিতে। মাইজভান্ডারী দর্শনের মূলে রয়েছে-১) মানব শ্রেষ্ঠত্ব ২) একাত্ববাদী ধর্ম- সাম্য ৩) বিচার সার্ম ৪) অর্গলমুক্ত ইসলামী প্রেমবাদ ৫) রহস্যময় কৌশল ও ৬) সপ্ত পদ্ধতির বিশ্বব্যবস’া। মাইজভান্ডারী দর্শন ও প্রেম-প্রীতরি এক নিদর্শন। এখানে প্রাণ দিয়ে প্রাণকে শাসন, আত্মা দিয়ে খোদা প্রেমের এক নৈশ্যনিক শিক্ষা দেয়া হয়। ভক্তি ও প্রেমের মাধ্যমে মেযন স্রষ্টকে পাওয়া যায় তেমনি বাহ্যিক দিকে এরই মাধ্যমে শানি- ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এই স্রষ্টা প্রাট্‌িত ও মানব কল্যাণ তথা সৃষ্টিকে ভালবাসা সুফিবাদেও তথা তাসাওউফের মুল ভিত্তি। বস’তঃআল কোরআনের বিশ্লেষন নামক দৃষ্টিতে বান্দা নাফসে আম্মারার প্রভাব মুক্ত হয়ে নাফসে লাওয়ামার স-র অতিক্রম কওে নাফসে মুতমায়িন্নার স-রে উন্নীত হওয়ার নাম,ই তাসাওউফ। অর্থাৎ মানুষকে কু-প্রবৃত্তির প্রভাব মুক্ত হয়ে বিবেকের স-রে, মানবতার স-রে আসতে হবে। সেখান থেকে পরিপূর্ণ আত্ম সর্ম্পন ও একনিষ্ঠ প্রেম মাধ্যমে মারিফতের প্রেম-সুধা পান করার স-রে পৌঁছাই হল সার্থকতা এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাঁন। ইসলাম ধর্মেও শানি-ও চিরন-ন বাণীও শ্বাশত রূপকে নির্মোহ ও নৈর্ব্যক্তিকভাবে যুগ যুগ ধরে সুফী-সাধকেরা প্রচার করে গেছেন এবং প্রচার করে চলছেন। এই ধারায় বার আউলিয়ার রদেশ চট্টগ্রাম এর মাইজভান্ডরী দর্শন এবং এর উপর অসমপ্রদায়িক ও প্রেমের বাণী সঠিক ভাবে ও কার্যকর পন’ায় পৃথিবীর দিকে দিকিে তুলে ধরে বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বেও মানব সভ্যতার বিকাশে, মানবিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠায় নতুন দিগনে-ও ধারা উম্মোচিত হোক, মাহে রবিউল আউয়াল মাসে ঈদ-এ-মিলাদুননবীতে এটাই হোক আমাদের প্রার্থনা। আমিন। সুফী-সাধকদের মাধ্যমেই মূলতঃ বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটে॥ সুফী সাধকদের কদও ও সম্মান তাই আজো অম্লান। কিন’ কিছু গোষ্ঠি। ও শ্রেণীর স্বার্থে ধর্মেও ব্যবহার এ ধারায় কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কিন’ এখনও দেশের সংখ্যাগুরু শানি- প্রয় ধর্মপ্রান মানুষের মধ্রে সুফীবাদেও আদর্শ, ধর্ম সহিষুতা ও কল্যাণের শিক্ষা দান কাটে। প্রয়োজন রয়েছে এ মনভাবকে আরো চাঙ্গা করা যাতে শানি- ও কল্যাণের পথে থেকে অশুভ শক্তি কালো থাবা বিস-ার না করতে পারে। সুফীবাদ কায়েম হোক এর কাঙ্খিত লক্ষ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত ভাবে। মাইজভান্ডারী দর্শন হোক জনপ্রিয় ও কল্যাণের পথের পাথেয়। এই আমাদেও কামনা। ছুম্মা-আমিন।

সূফীর ভাব

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on সুফীবাদ ও মাইজভান্ডার প্রেমবাদঃ

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (দঃ) মিল্লাতে ইসলামিয়ার চেতনার উৎস

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (দঃ) মিল্লাতে ইসলামিয়ার চেতনার উৎস আলহাজ্ব শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ আল হাসানী

কোন বিষয়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা উপলব্ধি করতে হলে উক্ত বিষয় সম্পর্কে চেতনা থাকা বাঞ্ছনীয়। চেতনা বিহীন কোন বিষয় অন্তঃসারশূন্য। যেমন ধরা যাক আমাদের দেশের স্বাধীনতা বিষয় সম্পর্কে চেতনা। স্বাধীনতার মর্যাদা, গুরুত্ব ও স্বাধীনতা অর্জন করতে যে অমানবিক কষ্ট এবং নির্যাতন আমাদেরকে সহ্য করতে হয়েছে সে সম্পর্কে চেতনা না থাকলে স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও প্রেরণা জাগবেনা। আর এর উৎস সম্পর্কে সু-স্পষ্ট ধারণা থাকলে চেতনা হবে অত্যন্ত প্রখর। আল্লাহপাক এরশাদ ফরমান আল্লাহর নিকট একমাত্র পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্তা হচ্ছে ইসলাম। ইসলাম ধর্মের অনুসারী গন হচ্ছেন মুসলমান। এই মুসলিম মিল্লাতের চেতনা হবে তত প্রখর ধর্ম-সম্পর্কে চেতনা হবে যত সুস্পষ্ট। প্রকৃতপক্ষে ইসলামের বাস-ব ও জীবন- রূপ হচ্ছেন আমাদের প্রিয়নবী মোহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (দঃ)। ধর্ম তথা কোরআন-হাদীস, নামাজ, রোযা, ধর্মের যাবতীয় বিধি-বিধান ইত্যাদির মূল হচ্ছেন আমাদের প্রিয়নবী মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ)। তিনি যদি ধরা ধামে না আসতেন, তাহলে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কোন রূপ চিন্ত্মা চেতনার কল্পনাও করা যেতো না। নবীজির আগমন সম্পর্কে আল্লাহ পাক হাদীসে কুদসীতে ফরমান “লাওলাকা লামা খালাকতুল আফলাক”। অর্থাৎ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনাকে সৃষ্টি না করলে আমি কিছুই সৃষ্টি করতাম না।
সমগ্র জাহান এবং বিশেষ করে আরব জাহান ছিল ঘোর তমসাচ্ছন্ন। জাহেরা ৫৭০ খৃষ্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে ধরাধামে নবীজীর (দঃ) আগমনের পূর্বে সমগ্র পৃথিবীতে এক নৈরাজ্যকর অবস্থা বিরাজ করছিল। ঐতিহাসিক আমীর আলী যথার্থই বলেছেনঃ এযাবৎ রহ ঃযব যরংঃড়ৎু ড়ভ ঃযব ড়িৎষফ ধিং ঃযব হববফ ংড় মৎবধঃ, ঃযব ঃরসব ংড় ৎরঢ়ব ভড়ৎ ঃযব ধঢ়ঢ়বধৎধহপব ড়ভ ধ ফবষরাবৎবৎ. পৃথিবীর ইতিহাসে পরিত্রাণকারী আর্বিভাব এমন উপযুক্ত ও পরিপক্ক সময় আর কখনও অনুভূত হয়নি। অর্থাৎ সমগ্র বিশ্বের মানুষ একজন পরিত্রানকারীর আবির্ভাবের জন্য হাহাকার ও আর্তনাদ করছিল। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নূরে মোহাম্মদীকে (দঃ) মানব ছুরতে ৫৭০ খৃষ্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিত্রানকারী রুপে প্রেরণ করেন। তাই ইসলামের প্রতিটি খুটি-নাটি বিষয় তথা প্রতিটি বিধান সম্পর্কে চেতনা পাওয়ার একমাত্র উৎস হচ্ছেন হুজুর পাক (দঃ) আল্লাহ পাক বলেনঃ আল্লাহ মুসলিম মিল্লাতের উপর বড়ই মেহেরবানী করেছেন যে তাদের কাছে স্বীয় নবী মোহাম্মদুর রাসুরুল্লাহ (দঃ) কে পাঠিয়েছেন। ঈদ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে আনন্দ। আর ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী শব্দের অর্থ নবী পাক (দঃ) এর বেলাদত উপলক্ষে আনন্দ। আমরা অনেকেই তাহকিক করিনা যে মুসলিম মিল্লাত কোন ঈদ বা আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পেতেন না, যদি নবীজিকে (সঃ) আল্লাহ পাক দুনিয়াতে না প্রেরণ করতেন। তাই ঈদ-ই-মিলাদুবীই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ট ঈদ। এই ঈদ ই মিল্লাদুন্নবী থেকেই আমরা সকল উৎসবের চেতনা খুজে পাই। আমরা নামাজ পড়ি আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ মোতাবেক। বলতে গেলে নামাজ বা সালাতের খুটি নাটি প্রতিটি বিষয়ই হুজুর পুরনুব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসৃত সুন্নাত বা আদর্শের অনুসরন মাত্র। কাজেই নামাজের মূল প্রেরণা বা চেতনার উৎস হচ্চেন আমাদের প্রিয় নবীজি (দঃ)। এমনিভাবে রোজা, হজ্জ, যাকাত, শরীয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফাত তথা পরিপূর্ণ ইসলামের সামগ্রিক চেতনার একমাত্র উৎস হচ্ছেন হযরত আহমদ মুজতবা মোহাম্মদ মোসত্মফা (দঃ)। নবীজির তিরোধানের পর যারা পৃথিবীতে স্মরনীয় বরনীয় হয়েছেন মুসলামানদের মধ্যে, তারা তাদের রিয়াজত ও ইবাতের চেতনা পেয়েছেন নবীজির (দঃ) বাসত্মব জীবন থেকে। শুধু তাই নয়, সমগ্র বিশ্বে আল্লাহ্‌ পাক যাদেরকে নবী রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছেন তারাও আমাদের প্রিয় নবীর জন্ম বা আবির্ভাব সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়ে গিয়েছেন নিজ নিজ উম্মতের কাছে। হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের বাণী পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত হয়েছে। আমি এমন রাসুলের শুভ সংবাদদাতা, যিনি আমার পর তাশরীফ আনয়ন করবেন, যাঁরা পবিত্র নাম “আহমদ”। শিশুর জন্মের পর নাম রাখা হয়। কিন’ নবীজী পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়ার লক্ষ লক্ষ বছর আগে স্বয়ং আল্লাহ্‌ প্রিয় নবীর নাম রেখে দিয়েছেন। সুতরাং আমরা শুধু মিল্লাতে ইসলামীয়া ৫৭০ খৃষ্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে ঈদ ই মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপন করি। কিন’ হাকিকতে লক্ষ লখ্‌ষ বছর আগ থেকে সকল নবী রাসুলগন আমাদের প্রিয়নবীর জন্মের আনন্দ করেছেন। এই কারণে আমরা বলতে পারি যে, মিলাদুন্নবী (দঃ) নবী রাসুলদের সুন্নাত। এক শ্রেণীর নামধারী আলেম এহেন মোবারক কাজকে বেদআত বলে আখ্যায়িত করতে একটু লজ্জা বোধ করে না। আল্লঅহ পাক ঘোষনা দিয়েছেন ঃ যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি তারা এই নবীকে (হুজুর পাকা দঃ) এমমনিভাবে চিনে, যেমনিভাবে মানুষ তার পুত্র-সনত্মানদের চিনে। এই আয়াত দ্বারা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে, ঈদের আনন্দের ন্যায় নবীজির আগমান তথা জন্মের সুসংবাদ সারা বিশ্বের আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে ছিল। তাই এই দৃষ্টিকোন থেকে আমরা বলতৈ পারি ঈদ ই মিলাদুন্নবী সমগ্র আলমের চেতনার উৎস। এহেন আনন্দ উৎসবের দিনে যাদের ভাল লাগেনা, তারা মিল্লাতে ইসলামীয়ার অনত্মর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হতে পারে না। নবী পাক সাল।রঅল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম উপলক্ষে যে যারা বিশ্বে আনন্দের জোয়ার নেমেছিল, সে সম্পর্কে নিম্নে কিছু উদ্ধুতি প্রদান করছি। হযরত ঈসা (আঃ) বলেনঃ ডযবহ ঃযব ংঢ়রৎরঃ ড়ভ ঃৎঁঃয পড়সবং, যব রিষষ মঁরফব ুড়ঁ ঁহঃড় ধষষ ঃযব ঃৎঁঃয. এখানে ঝঢ়রৎরঃ ড়ভ ঃৎঁঃয বা সত্যেল চেতনা বল াহয়েছে আমাদের প্রিয়নবীকে। ঈসা (আঃ) বলেনঃ যখন সেই সত্যের চেতনা আসবেন তখন তিনি তোমাদেরকে সকল সত্যের দিক নির্দেশনা প্রদান করবেন। খরংঃবহ রিঃয ৎবাবৎবহপব ঃযব যধঢ়ঢ়ু হবংি ঃযধঃ ঘধৎধংযধহংধয (গঁযধসসধফ ঝস) ঝযধষষ নব চৎধরংবফ. শ্রদ্ধার সাথে শ্রমন কর শুভ সংবাদ নরশংসা (মোহাম্মদ (দঃ)) প্রশংসিত হবেন। মুসা (আঃ) বলেনঃ গঁযধসসধফ (ঝস) ড়িঁষফ মবঃ ঃযব ছঁৎধহ ধঃ ঈধাব ঐবৎধ ড়হ গড়ঁহঃ ঘঁৎ রহ গধশশধয ধহফ ঃযধঃ যব ড়িঁষফ পড়হয়ঁবৎ গধশশধয রিঃয ১০ ঃযড়ঁংহধফ ঝধরহঃষু ভড়ষষড়বিৎং. অর্থাৎ মোহাম্মদ (দঃ) যাবালে নূরের হেরা গুহায় কোরআন প্রাপ্ত হবেন মক্কায় এবং তিনি দশ হাজার সাধু উম্মত (ছাহাবী) নিয়ে মক্কা জয় করবেন। মন্ত্র নামক প্রাচীণ ধর্ম গ্রনে’ উল্লেখিত রয়েছে ঃ ঐব ংযধষষ নব ….ঃযব নবংঃ ড়ভ সবহ ধহফ মঁরফব ভড়ৎ ঃযব বহঃরৎব সধহশরহফ ধহফ ঝঢ়ৎবধফ ঢ়বধপব রহ ঃযব ড়িৎষফ. অর্থাৎ ঃ তিনিই হবেন মানবাজাতির শ্রেষ্ঠ এবং সমগ্র মানবকুলের হেদায়াত দানকারী এবং তিনিই সারা বিশ্বে শানিত্ম ছড়িয়ে দিবেন। শিখ ধর্মের প্রবর্তক শুরু নানক বলেনঃ ঙ ঢ়রড়ঁং ঢ়বড়ঢ়ষব! ৎবপরঃব ঃযব কধষবসধয ড়ভ ঃযব ঈৎবধঃড়ৎ (ও.ঈ খধ ওষধযধ ওষষধষষধয), ধফফরংম, ঃড় রঃ ঃযব হধসব ড়ভ গঁযধসসধফ) অর্থাৎঃ হে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিবর্গ! তোমার আল্লঅহর কালেমা তথা ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পাঠ কর এবং উহার সাথে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম যুক্ত কর। তিনি আর ও বলেনঃ গঁংষরসং ধৎব ঝঁভভবৎরহম ভড়ৎ ফরংযড়হড়ঁৎরহম গঁযধসসধফ অর্থাৎঃ- মুসলামনরা নবীজিকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করার দরুন কষ্ট ভোগ করে আসছে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বৌদ্ধের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তাঁর একনিষ্ঠ শিষ্য ও অনুরুক্ত আনন্দ কান্নায় ভেংগে পড়েন। তখন গৌতম বৌদ্ধ তাঁকে শানত্মনা প্রদান করেন এবং মহানবীর (দঃ) শুভাগমনের সুসংবাদ প্রদান করেন। তখন আনন্দ আবেদন জানান, হে গুরু! আমি সেই মহা মানবকে কি করে চিনব? গৌতম বৌদ্ধ উত্তর দেনঃ ঙ অহধহফধ! ও ধস হড়ঃ ঃযব ড়হষু হড়ৎ ঃযব ষধংঃ ইঁফফযধ যিড় ধঢ়ঢ়বধৎবফ ড়হ ঃযরং বধৎঃয, রহ ফঁব ঃরসব ধহড়ঃযবৎ ইঁফফযধ রিষষ ধঢ়ঢ়বধৎ রহ ঃযব ড়িৎষফ. ঐব রিষষ নব শহড়হি ধং গধরঃৎৎুধ. অর্থাৎঃ হে আনন্দ! আমিই একমাত্র এবং শেষ বুদ্ধ নই যিনি পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন। যথা সময়ে আর একজন বুদ্ধ পৃথিবীতে আগমন করবেন যার নাম হবে মৈত্র। মৈত্র মানে সমগ্র জাতির প্রতি দয়া স্বরূপ। কোরআন শরীফেও অনুরূপ বানী এসেছেঃ অর্থাৎঃ হে নবী (দঃ)! আমি সমগ্র আলমের জন্য আপনাকে রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। তাই নিঃসন্দেহে সমগ্র আলমের জন্য ঈদ ই মিলাদুন্নবী (দঃ) চেতনার উৎস; মুসলিম মিল্লাতের জন্য তো বটেই। তাই আসুন! ঈদ-ই-মিল্লাদুন্নবীর খুশির দিনে আমরা সবাই কোরআনে পাকের আদেশ তথা আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের অঅদেশ পালনের মাধ্যমে আল্লাহর হাবিবের আগমনের জন্য আনন্দ ও শুকরিয়াহ্‌ আদায় করে দুনিয়া ও আখেরাতে সরফরাজী লঅভ করি। আল্লঅহ পাকের আদেশঃ অর্থাৎ হে নবী আপনি বলে দিন! তারা যেন আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত প্রাপ্ত হয়ে বেশি করে আনন্দ করে। আল্লাহর হাবিবকে আমাদের নবী হিসেবে প্রাপ্তির চেয়ে বেশি অনুগ্রহ ও রহমত আর কি হতে পারে? যারা এ ব্যাপারে অজ্ঞ ও যাদের এ ব্যাপারে চেতনার উদয় হয় না তাদেরকে আল্লাহ্‌ পাক জ্ঞান লাভ করার তৌফিক দান করুন।
বিশ্ব শানিত্ম স’াপনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর অবদান ও আজকের প্রেক্ষাপট।
প্রাথমকি কথাঃ
তুব কেন দূরে সরে যায় মনজিল! কেন কেদে এঠে ব্যর্থ বেদনার মনদিল তবে কি ইমান ছেয়ে গেছে কম জোরে, দুশ্চিনত্মার মেঘ নামে বান্দরে। মতিউর রহমান মল্লিক শানিত্ম, শানিত্ম, শানিত্ম! কোথায় পবো শানিত্ম! চারিদিকে হায় শুধু অশানিত্ম আর ভ্রানিত্ম। মানুষ আজ শানিত্মর নেশায় পাগলপারা মাতোয়ারা। মানবজাতি মিথ্যঅমরিচিকার পেছনে ঘুরপাক করছে। বিশ্বের কত মনীষী ও রাষ্ট্রপতি শানিত্মর গান শুনিয়েছে, পায়না খুজে শানিত্ম। মনে হয় শানিত্ম যেন গলায় রশি বেধে আত্মহুতি দিয়েছে। বিশ্ব শানিত্ম দিবসের নামে আজ কত মিছিল মিটিং ঠিক শানিত্ম তখনই তাদের সাথে করছে সিটিং। সবাইতো সখী হতে চায়, দুঃখীর কাতারে কে দাড়াতে চায়। রূপ আর ঐশ্বর্যের অভাব নেই, তবে াঅজ মনেও কারো শানিত্ম নেই। যদি আমরা শানিত্ম চাই তাহলে রাসুল (দঃ) এর স্বর্ণালী যুগের দিকের ঘিরে যেতে হবে। রাসুল সহ অনেক পরিবার ছিল, না খেয়ে ঘুমাত, কিন’ শানিত্ম বিরাজ করছিল। যখন নরলোক নরপশুদের অত্যাচারে বিলান হচ্চিল, ঠিক তখনই শানিত্মর মশাল নিয়ে টুপি টুপি পদভরে শানিত্মর ছোড়া দিতে পদার্পণ করলেন বিশ্ব শানিত্মর জনক মুহাম্মদ (দঃ)। আসুন আমরা বিভিন্ন মনীষী জ্ঞানী গুনীদের দৃষ্টিকোন থেকে বিশ্ব শানিত্ম প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ (দঃ) এর অবদান আলোচনা করি। শানিত্ম সংজ্ঞা দানের মাধ্যমেই বুঝতে পারব যে, শানিত্ম বলতে কি বুঝায়। একজন কাঙ্খিত ব্যক্তি, বস’ বা বিষয় প্রাপ্তির পর সুখময় সৃতৃপ্তি অনুভূতি হলো শানিত্ম। অভাব মিটে গেলে, সমস্যঅর সমাধান মিটে গেলে, রোগ সেরে গেলে, গোলমাল মিটে গেলে, দাবি পূরন হলে শানিত্ম পাওয়া যায়। ব্যক্তি বিশেষে শানিত্মর ধরন ও বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। আমার মতে শানিত্ম হলো, ইনসাফের ভিত্তিতে একজন মানুষের চাহিদানুযায়ী তার কাঙ্খিত বস’ পাওয়ার মাধ্যমে উপভোগ করার নাম শানিত্ম। এ শানিত্মর উপকরণগুলো ব্যক্তি থেকে ব্যত্তিতে,দেশতেকে দেশানত্মরে, বিশ্ব থেকে বিশ্বের সর্বময় জনতার দুয়ারে পৌছে দেয়ার নাম হলো বিশ্বশানিত্ম। তবে, শানিত্মর আলোকপাত করতে গিয়ে আমার বিশ্বনবী শানিত্ম প্রতিষ্ঠার জনক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর একটি হাদীছ মনে মড়ে। তিনি বলেছেন “ধরনের সুখ প্রকৃত সুখ নয়, মনের সুখই হলো প্রকৃত সুখ।” জ্ঞানীর বলেছেন। ুঞযব ৎরপয ধৎব হড়ঃ ধষধিুং যধঢ়ঢ়ুচ বিশ্ব শানিত্ম প্রতিষ্ঠার জনক মুহাম্মদ (দঃ) বিশ্ব শানিত্ম ও জনগনের নিরাপত্তা, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে যিনি মানুষকে আবদ্ধ করেছেন, তিনি হলেন তরনী কান্ডারী গণ মানুষের মুক্তিদাতা, হযরত মুহাম্মদ (দঃ)। তিনি যেখানে যে মুহর্তে যে পরিবেশে জন্ম নিলেন, সেখানের মানুষের মনে অশানিত্মর অগ্নিশীখা দাউ দাউ করে জ্বলছিল। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ চলত ফি বছর। অকালে প্রাণ হারাত হাজার হাজার সনত্মান। কিন’, কেন এ যুদ্ধ? কেন এ নৃশংসতা? এ মানুষগুলোকি ভাল হবে না? এর কি কোন বিহীত সমাধান নেই? মহানবী (দঃ) কে দারুনভাবে অঅহত করে প্রতিবার। তাই তিনি অনেক জল্পনা কল্পনা করে বছর বয়সে আবাল বৃদ্দ বণিতাদের মতামতের ভিত্তিতে গড়লেন “হিলফ’ল ফুযুল” এর মত বলিষ্ঠ সংগঠন। নেতৃত্ব দেন তিনি? মুক্তি পেল যুদ্ধাহত মানুষ, বেঁচে গেল শিশু সনত্মান। মানুষ স্বাভাবিকভাবে বেঁচে গেলেও বা মুক্তি পেলেও চািত্িরক অধঃপতন থেকেই রেহাই পায়নি। তাই তাদের মৌলিকভাবে গঠন করার জন্য হেরা গুহায় ধ্যানমগ্নহন দয়াল নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ)।
মহানবী (দঃ) এর ধ্যান ধারনাঃ “হিলফুল ফুযুল” সংগঠন পরিপূর্ণ স্বার্থক হলো না এজন্য যে, এটা ছিল মহানবী (দঃ) এর পরিপূর্ণও ব্যক্তিগত উদ্যেঅগ। জ্ঞান ছাড়া মানুষের জ্ঞান দিয়ে কোন কাজের সফলতার সোপানে উন্নতি হতে পারে না। তাই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) হেরা গুহায় ধ্যান মগ্ন হয়ে মহিয়ানের দরবারের মানুষের মুক্তির জন্য মিনতি করতেন এবং অপেক্ষা করতে থাকেন অধীর আগ্রহে স্বর্গীয় প্রত্যঅদেশের জন্য। বিশ্বকবি কবিকুল সম্রাট আল্লামা ইকবাল সুন্দরভাবে বলেছেন ঃ- মহানবী (দঃ) হেরাগুহা থেকে এমন এক সমপ্রদায়ের নিকট এলেন, যে জাতি নিগৃহিত, ইসলামের আলো হতে বঞ্চিত। সাথে নিয়ে এলন মহাগ্রন’ আল কোরআন। তারপর সকল দুঃচিনত্মা ও দুর্ভাবনার অবসান ঘটল। সমাজে শানিত্মর ফোরারা বইতে লাগল কোরআনের মাধ্যমে।
বিশ্ব শানিত্ম প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার গুরুত্বঃ
আল্লাহর রাসূল (দঃ) যখন অবহেলিত সমাজের মুক্তির জন্য হেরা গুহায় ধ্যান মগ্ন ছিলেন। ঠিক তখন মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ তায়ালা জিব্রাইলের মাধ্যমে স্বর্গীয় বানী পাঠান, যা হলো ………… অজ্ঞাতার অন্ধাকারে নিমজ্জিত মানুষ মুক্তি দিলেন কোরআনের শিক্ষার মাধ্যমে। যদি তাদের মাঝে কোরানের শিক্ষা তাকত তাহলে তারা যুদ্দ করলে ও আগে লাভ ক্ষতি চিনত্মা করে দেখত। অন্যত্র আছে …………. বিশ্ব শানিত্ম প্রতিষ্ঠা করতে হলে মানুষের থেকে নিরক্ষতা দূর করে শিক্ষার বাহনে তুলে দিতে হবে। কারণ, জ্ঞানী হতে হলে শানিত্ম স’াপন করতে চাইলে শিক্ষার বিকল্প নেই। ধর্মীয় ক্ষেত্রে মহানবীর অবদানঃ ফলপ্রসু ইসলাম প্রচারঃ জাহেলি যুগে আরব উপদ্বীপ পৌত্তলিকতা, বস’পুজা ও ধর্মীয় কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিলেন। রিাসালতের পূর্ণ দায়িত্ব পালনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এতই সফল হয়েছিলেন যে, তারাজীবদ্দশাতেই সমগ্র াঅরব উপদ্বীপে ইসাম সার্বজনীনতা লাভ করে। কোরানের ভাষায় ঘোষিত হয়…
তাওহীদের ভিত্তিতে আদশৃ সমাজ বিনির্মানঃ- মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) সকল ধর্মীয় কুসংস্কার ও পৌত্তলিকার মূলোৎপাটন করে আল্লাহর একাত্ব বাদের ভিত্তিতে একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মান করেন। ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ রুপে প্রতিষ্ঠাঃ মহানবী (দঃ) এর জীবনের একমাত্র মিশনই ছিল দ্বীনকে আল্লাহর জমীনে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এবং তিনি তা বাসত্মবে রূপ্যয়িত করলেন। মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীনের বানী-………..

সামাজিক সংস্কারঃ
সামাজিক বৈদ বৈষম্য নির্মূল করেনঃ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) আভিজাতের গৌরব ও বংশ মযৃঅদার মূলে কুঠারঘাত করেন। মানুষে মানুষে সকল বেধাবেধ ও অসাম্য বিদূরিত করেন। তিনি ঘোষনা করলেন সকল মানুষ সমান। মানুষের মাঝে ঐ ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে, তাকওয়াবান। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানঃ আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে মানুষের জীবন ও সম্পদের কোন নিরাপত্তা ছিলনা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) জীবন ও সম্পদের জন্য একটি নতুন সামাজিক নিরাপত্তা বিধান চালু করেন। সমাজের সকল মানুষ এতে উপকৃত হয়।
দাসত্ব প্রথা উচ্ছেদ করনঃ-
বিশ্বের আপরাপর দেশের আরব সমাজে ও দাসপ্রথা চালু ছিল। মহানবী (দঃ) ভাবলেন, আ্‌লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন স্বাধীণ হিসাবে। অথচ এখানে মানুষ সমাজের দূর্বল মানুষদের গোলাম বানিয়ে রেখেছে। মানুষ পন্যেরমত বাজারে বিক্রি হত। নবী করীম (দঃ) ক্রীতদাস যায়েদ বিনা হারেছাকে প্রধান সেনাপতির দাযিত্ব দিয়ে এবং বিলালকে মুয়াযযিন বানিয়ে দাসপ্রথা উচ্ছেদ করেন। তাই তিনি ঘোষন করেন……..
নারীর মযার্দা দানঃ
জাহেলী নারীদের কোন মূল্যায়ন ছিল না। তারা ছিল ভোগের সামগ্রী। কন্যা সনত্মানদের জীবিত প্রথিতকরণ মোট কথা ছিল পুরুষদের খেলনার মতো, তাইতো মহান প্রভু ঘোষনা করেন, নবী করিম বলেন- তিনি আরো বলেন, আমার াছে তিনটি জিনিস বেশি প্রিয়, একটি হরেঅ আমার স্ত্রী। মূলতঃ সেব উদ্ধৃতির মাধ্যমে রাসূল (দঃ) নারী স্বাধণিতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠঅ করেছেন।

ইয়াতীম মিসকীণদের অীধকার প্রতিষ্ঠা করেন ঃ প্রাক ইসলামী যুগে ইয়অতীম মিসকীনদের কোন াীধকার ছিল না তিনি তাদের অীধকার প্রতিষ্ঠা করেন।
ভিক্ষাবৃত্তি মূলোচ্ছেদঃ
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) সকল মানুষকে স্বহসেত্ম উপার্জণ করার নির্দেশ দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির প্রতি নিরোৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) আরববাসীদের নৈতিক জীবনের আমূল পরিবতৃণ সাধন করেন। মদ্যপান,জুয়াখেলা, বেহায়া পনা, ব্যভিচার, সুদ, ঘুষ, লুটতরাজ, বেপর্দা ইত্যাাদিকে কোরণাী বিধানের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষনা করেন। ফলে শতাব্দীকাল ধরে প্রচলিত পাপাচার, অনাচার আরব সমাজ থেকে দূরীভূত হয়। তাই মাহন রবের দ্বীপ্তবানী———————
আদর্শ জাতি গঠনঃ
জাতি গঠনে মহানবী (দঃ) এর ভূমিকা অনস্বিকার্য। সর্বনিম্ন পর্যায়ে নৈতিক ও আদর্শিক ঐক্যমত প্রতিষ্ঠঅ করে আদর্শ জাতি গঠনের মত কঠিন কাজটি সম্পাদন করেন। ঐতিহাসিক হিট্রির ভাষায়ঃ ঞযরং ধিং ভরৎংঃ ধঃঃবসঢ়ঃ রহ ঃযব যরংঃড়ৎু ড়ভ অৎধনরধ ধঃ ধ ংড়পরধষ ড়ৎমধহরংধঃরড়হ রিঃয ৎধঃযবৎ ঃযধহ নষড়ড়ফ ধং রঃং নধংরং.
সুষ্ট শাসন ব্যবস’ার প্রবর্তনঃ সুষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠা করেন মহানবী (দঃ) মদীনায়। এ ইসলামী রাষ্ট্র মানবজাতির ইতিহাসে সর্বোত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আইনের চোখে মদীনা রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমান অধিকার ছিল।
অমুসলিমদের অধিকারঃ
রাসূল (দঃ) সামাজিকভাবে অমুসলিমদের জানা মাল, উজ্জত, অঅব্র ও ধন সম্পদের পূর্ণ সংরক্ষন করেন। মদীনা সনদ তিনি ঘোষনা করেনঃ হযরত মুহাম্মদ (দঃ) ৬২২ খ্রীঃ মক্কা হতে মদীনা হিজরত করার পর সেখানে সকল জাতির লোকদের নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত করেন।যা ঞযব পযধৎঃবৎ ড়ভ গবফরহধ নামে খ্যাক। অথবা, ঞযব ভরৎংঃ ৎিরঃঃবহ পড়হংঃরঃঁঃরড়হ, ড়ভ ঃযব ড়িৎষফ. বা প্রথম লিখিত সংবিধান। যার মাধ্যমে তিনি শানিত্ম স’াপন করতে সক্ষম হন। যার গুরুত্ব অপরিসীম।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানঃ
অর্থনৈতিক সমাধান ব্যতিরেকে ইসলাম কখনো পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস’া হতে পারে না। তাই আল্লাহর হাবীব (দঃ) অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান দিয়েছেন। দুঃখী গরীবদের জন্য তিনি যাকাত ব্যবস’া চালু করেন। মওজুদ দাবীল নিষিদ্ধতা ঘোষনা করেন এবং বলেন, “যে মওজুদ করল সে গুহানগার”। সুদ প্রথা, জুয়া, লটারী রহিত করেছেন। এবং সর্বপ্রকার শোষন মূলক ব্যবস’া চিরতরে হারামকরে অর্থনৈতিক ন্যায় চিার প্রতিষ্ঠা করেছেন। আল্লা তায়ালা বলেন,
রাজনৈতিক অবদানঃ
হযরত মুহাম্মদ (দঃ) ছিলেন সর্বকালের সেরা রাষ্ট্র নায়ক, রাজনীতিবিদ ও মনীষী। তৎকালীন সময়ে আরব সমাজে রাজণেতিক অবস’া ছিল অত্যনত্ম শোচনীয়। তিনি যুদ্ধ বিগ্রহ বন্ধ করে রাজণেতিক সি’তিীল স’াপন করেন। তাইতো বলা হয়, ঐধৎধৎধঃ (ংস) রং ঃযব মৎবধঃবংঃ ঢ়ড়ষরঃরপধষ ষবধফবৎ রহ ঃযব ড়িৎষফ.
হুদাইবিয়ার সন্ধিঃ
শানিত্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর অপর একটি পরিকল্পনা হল, হদাইবিয়ার সন্ধি। কুরআনের ভাষায় এ চুক্তিকে “ফাহহুম মুবীন” বলা হয়েছে এীতহাসিক হিশাম বলেন, ঞযব ৎবংঁষঃ ড়ভ ঃযরং ঃৎবধঃু রং ঃযধঃ যিবৎব ধং সফ. (ঝগ) বিহঃ ভড়ৎঃয ঃড় ঐঁফরনরুধয রিঃয ড়হষু ১৪০০ সবহ. ঐব ধিং ভড়ষষড়বিফ ঃড়ি ুবধৎং ষবঃবৎ রহ ঃযব ধঃঃধবশ ধঃ সধশশধয নু ঃবহ ঃযড়ঁংবহফ. ব্যক্তিগত গুনাবলীঃ হযরত মুহাম্মদ (দঃ) ছিলেন আদর্শবান এবং নিমূল চরিত্রের অধিকারী যদি তিনি সুন্দর গুনাবলী কোমল হৃদয়ের অধিকারী না হতেন তাহলে বিশ্ব শানিত্ম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো না। কুরআনের অমীয় বাণী,

মনীষীদের দৃষ্টিতে মুহাম্মদ (দঃ) উৎ. ঔড়ধফ বলেন, বি ধৎব ঃযড়ঁমযঃ ঃড় ভষু রহ ঃযব ংশু ষরশব নরৎফং ঃড় ংরিস রহ ধিঃবৎ. ইঁঃ যড় িঃড় ষরাব বি ফড়হ’ঃ শহড়.ি এর থেকে বুঝা যায়, শানিত্মময় জীবনের জন্যে হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর আদর্শের দিকে ফিরে যেতে হবে। ঞযব মৎবধঃ যঁহফৎবফ ঢ়ৎড়ঢ়যবঃ গ্রনে’ আছে, তিনি একজন অমুসলিম রাইটার হয়েও হযরত মুহাম্মদ (দঃ) কে একজন শ্রেষ্ঠমনীষীর সর্বাগ্রে স’ান দিয়েছেন।
শেষ কথা-

পরিশেষে আলোচনা প্রাপ্ত সীমানায় দাড়িয়ে একথাই মুখ থেকে বার বার প্রতিধ্বনিত হয়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) হলেন, পৃথিবীর মানুষকে শানিত্মর জয়গান শোনাতে, শানিত্মর ছোয়া ছায়া দানে একমাত্র অগ্র সেনা নায়ক। যার কাছে মানুষ এসে ব্যথাতুর হৃদয়ের প্রাণের পরশ খুজে পেত। খুজে পেত তার কাছে পরমাত্মীয়ের সন্ধান। তাইতো মানুষ সেকাল থেকে একার পর্যনত্ম এবং যতদিন মানুষ বাচবে পৃথিবী থাকবে তারই নামে দুরুদ পড়বে আর স্মরণ করবে শয়নে স্বপনে। তাইতো মহীয়ানের দ্বীপ্ত বানী মনে পড়ে এখানে।

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (দঃ) মিল্লাতে ইসলামিয়ার চেতনার উৎস

অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক মাইজভান্ডার দরবার শরীফঃ

অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক মাইজভান্ডার দরবার শরীফঃ

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ জাল্লাশানুহুর প্রতি এবং লাখো-কোটি দরুদ ও সালাম পেশ করছি পরাক্রমশালী ও দয়ালু আল্লাহর মহা সৃষ্টি আম্বিয়াকূল শিরোমণি ও রাহমাতুল্লিল আলামীণ হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর নূরানী দরবারে। আমার ভক্তিপূর্ণ ও অবনত মসতকে কদমবুসি জানাচ্ছি গাউছুল আযম শাহছুফী সৈয়দ মাওলানা আহমদ উল্লাহ (কঃ) মাইজভান্ডারী ও গাউছুল আযম ইউসুফে ছানী সৈয়দ মাওলানা গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কঃ) এর কদম কোবারকে। যাতে গাউছে ধনের “মাইজভান্ডার দরবার শরীফ” সম্পর্কে অধম দোয়া প্রার্থীকে উপযুক্ত জ্ঞান দান করেন। এ দরবার শরীফ উপমহাদেশের প্রধান আধ্যাত্মিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র এবং এটি কেবল একটি ত্বরীকা বা দর্শন, একটি পারলৌকিক সাধনা কিংবা একটি চেতনার নাম নয় বরং একটি মানবতাবাদী, অসামপ্রদায়িক এবং বিচার সাম্য মূলক সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রাম। অসামপ্রদায়িক ঐক্য এবং ইহ ও পারলৌকিক সাধনার মূর্ত প্রতীক। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ’ এর স’গিত ও প্রাণ পুরুষ ত্বরীকার প্রবর্তক গাউছুল আযম শাহচুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) ও ভ্রাতুস্পুত্র গাউছুল আযম ইউসুফে সানী সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কঃ) মাইজভান্ডারী দর্শনের পরিপূর্ণ রূপকার হিসেবে এ দরবার প্রতিষ্ঠা করেছেন। সবধরনের গোড়ামী ও মানবতা বিরোধী অশুভ শক্তির বিরুদ্দে একটি সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক বিপ্লব। ভৌগোলিক অবস’ানগত, ভাষাগত ও জাতীয়তার নিরিখে মাইজভান্ডার দরবার শরীফের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে। বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইমামূল আম্বিয়া নূরে মোজাচ্ছম রসূলে করীম (দঃ) এর প্রচারিত শানি-র ধর্ম ইসলামের বাণীকে বিশ্ব মানবতার শানি-র জন্য বিবর্তনিক ধারায় তদ্বীয় খলিফা খোলাফায়ে মাইজভান্ডারী আওলাদে রাসূল (দঃ) বা তদ্বীয় উত্তরাধিকারীগণের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রিয়নবী (দঃ) এর বেলায়াত শক্তি বিতরণের মাধ্যমে ত্রাণ কর্তৃত্ব ও কর্ম কর্তৃত্ব (গাউছিয়ত ও কুতুবিয়ত) জারি রেখেছেন। সুক্ষ্মতর ও চূড়ান- বিশ্লেষণে কেবল মানুষ নয়, মহান আল্লাহর সৃষ্টি সকল জীবই বিচার সাম্যের প্রত্যাশী। মাইজভান্ডারী জীবন দর্শনের এ চেতনা একদিকে যেমন মানবতাবাদী মানুষকে করেছে তুমূল আলোড়িত, অন্যদিকে তেমনি মাইজভান্ডারী সঙ্গীতের সূর বিশ্ব সংগীত জগতকে করেছে প্রভাবিত। এ মাইজভান্ডারী দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে শাশ্বত মরমী বাংলার লোক সংস্কৃতির অবয়বে নূতন রঙে নতুন ঢঙে, নতুন সুরে ও রুপে আবির্ভূত রয়েছে বিশ্বের লৌক সংস্কৃতির সুবিশাল চত্বর। মাইজভান্ডার দর্শনে ধর্ম সাম্যের যে বক্তব্য, তার বাসতব প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয় মাইজভান্ডারী ত্বরীকার প্রবর্তক শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ)’র কর্ম কান্ডের ভেতরে। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠি নির্বিশেষে স্ব-স্ব ধর্মে থেকে কাজ করার ও আল্লাহকে স্মরণ করার পরামর্শ দিতেন। সমপ্রদায়গত ভেদ বুদ্দির উর্দ্বে তার কর্মকান্ড সকল সমপ্রদায়ের মানুষকে দারুনভাবে প্রভাবিত করে। এ কারনে দেখা যায় ধীরে ধীরে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ পরিণত হয়ে উঠে সকল ধর্মের মানুষের এক অপূর্ব মিলন কেন্দ্র রুপে। তাছাড়া হযরত কেবলা কাবার খলীফা নির্বাচনের প্রতিফলন সুস্পষ্ট । যেমন-হিন্দু মনমোহন দত্ত, কালাচান সাধ, কবিয়াল রমেশ শীল, বৌদ্ধ ধনঞ্জয় বড়-য়া, খ্রিষ্টান মাইকেল পেনারু প্রমুখকে আধ্যাত্ম অনুক’ল্য প্রাপ্ত সিদ্ধ পুরুষ হিসেবে পরিচিতি দান স’ান ও কালের বিচারে রীতিমত যুগানতকারী ঘটনা মাইজভান্ডারী দর্শনের সমন্বয় ধর্মী, বিশ্বমানবতার মিলন মন্ত্রের যে বীজ রোপন করেছিলেন হযরত গাউছুল আযম মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্‌ মাইজভান্ডারী (কঃ) তার তিরোধানের পর তারই ভ্রাতুস্পুত্র ও নয়নমনি ইউসুফে ছানী হযরত গাউছুল আযম সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (কঃ) ফলে ফলে সুশোভিত করে বিশ্বব্যাপী পরিপূর্ণ বিকাশের ব্যবস’া করে যথাযথ রূপদান করেছেন। বিগত শতাধিক বছর ধরে এ দরবার শরীফ পাপী-তাপী, শোষিত, নির্যাতিত, মোহান্ধ, অবহেলিত, রোগাক্রানত, দিশেহারা ও পথহারা নীতিহারা এবং অভাবগ্রস’, দীনহীন মানবতার আশ্রয় স’ল, পদপ্রদর্শক, আল্লাহপাকের সন’ষ্টি অর্জনের উপায ও ধর্ম সাম্যের স’তি গেয়ে আধ্যাত্মিক লৌকিক, পারলৌকিক শানি-র ঠিকানা হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। এ দরবার শরীফে শায়িত আছেন গাউছুল আযম শাহসূফী হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজান্ডারী (কঃ) গাউসুল আযম ইউসুফে ছানী সৈয়দ গোামুর রহমান (কঃ) বাবাভান্ডারী। যুগল গাউছুল আযম সহ অসংখ্য আওলাদে রাসূল (দঃ) এর আউলিয়া স’ান হিসেবেও মহিমান্বিত। বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলিম, খৃষ্টান ও ইহুদী সমপ্রদায়ের জন্য তীর্থ স’ান। কিন’ মাইজভান্ডার দরবার শরীফ জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত। প্রাণের তাগিদে, ত্রাণের তাগিদে তাই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফে।
ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলাদেশ ভূ-খন্ডের বার আউলিয়ার পূণ্য ভুমি চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবার শরীফ ধর্মের বাণী, প্রেমের বাণী ও ধর্ম সাম্যের নীতিতে প্রচারিত মাইজভান্ডারী দর্শনের এ উদার ও অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক বিশ্ববাসীকে বিতরণ করে যাচ্ছে অফুরনত খোদায়ী নিয়ামত। সর্বোপরি, সমন্বয়ধর্মী বক্তব্য বিশ্ববাসীর নিকট যথাযথভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হলে বিশ্ব মানবতার ও সভ্যতার বিকাশের নতুন দিগনেতর দ্বার উম্মোচিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। দীর্ঘকাল ধরে সূফী সাধকদের অসমাপ্রদায়িক উদার মানবতাবাদী নীতি ও শিক্ষা বাঙালী জনজীবনের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিসতার করে আছে, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ তারই অন্যতম দৃষ্টানত। সূফী সাধকদের প্রবাহমান অবদানের ধারায় মাইজভান্ডার দৃষ্টি আকষণীয় ও উল্লেখযোগ্য হারে নতুন মাত্রার সংযোগ ঘটিয়েছে অসমপ্রাদায়িক কর্মকান্ড দ্বারা। তাই এ দরবার শরীফে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের এক মহামিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আমরা মানবজাতির বিশ্বাস ও ইগু সম্পর্কিত ইতিহাস অধ্যয়ন করলে দেখতে পাই বিশ্বাসজনিত সংঘাতই ঐতিহাসিকভাবে এক চরম সংকট। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ক্রম:ধারায় স’ান-কাল, পাত্র ও বর্ণভেদে ভিন্ন ভিন্ন মত পার্থক্যগত বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে বিশ্বের কত লক্ষ-কোটি অধিবাসীকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে? তার হিসাব বের করা কঠিন। এখনো মানুষ মানুষকে হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। বিশ্বাস জনিত নানা দ্বন্দে। রাহমাতুল্লিল আলামীন ইসলামী জিহাদ যুগে প্রতিটি যুদ্ধের সেনাপতিদের পবিত্র কুরলান ছুয়ে শপথ করাতেন যেন নিরীহ মানুষ হত্যা করা না হয়। (২) নারী ও শিশু হত্যা কোন অবস’ায় করা যাবে না। (৩) অসহায ও পঙ্গু ব্যক্তিদের কে হত্যা করা যাবে না। (৪) ধর্মের প্রতি চরম আঘাত না আনা পর্যনত বিধর্মী বা কাফেরদের প্রতি তলোয়ার চালানো যাবে না। (৫) ব্যক্তিগত আক্রোশে কাউকে অন্যায়ভাবে কতল করা যাবে না। (৬) ভূমি ধবংস, শস্যক্ষেত ধবংস বা উদ্ভিদরাজী তথা প্রকাৃতিক পরিবেশকে বিপন্ন করা যাবে না। (৭) খাদ্য ও পানীয় জল নষ্ট করা যাবে না। অথচ সমপ্রতি আমাদের দেশের সীমানত রক্ষীগণ বাতিল ইসলামী গ্রুপের সদস্য জেএমবিদের ন্যায় পৈশাচিক ও শতাব্দীর নির্মম হত্রা কান্ড পরিচালনা করে দেশের মেধাবী,ত চৌকস ও নিবেদিত প্রাণ সেনাবাহিনীর অসংখ্য কর্মকর্তাকে কিবাবে ব্রাশ ফায়ার করতে পারল? তাদের কি একটুও বুক কাপল না? কিসের স্বার্থে সুশৃংখল সেনা কর্মকর্তাদের অমূল্য জীবন ধবংশ করেছিল? নৈতিক মূর‌্যবোধ ও ধর্মের গুঢ় রহস্য সম্পর্কে তারা ওযাকিবহাল আছে কি? যে প্রাণী পিপড়া তৈরি করতে অক্ষম সে কিবাবে আল্লাহর সৃষ্টিকে তছনছ করতে চায়? আল্লাহপাক বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতিকে ইহুদী-নাসারা চক্রের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। আমিন। ধর্মের নামে, বর্ণের নামে, জাতীয়তার নামে সংস্কৃতির নামে বর্বরতাই অনাদিকাল থেকে আমাদের পৃথিবীকে অশানত ও বিপন্ন করেছে। হিংসা ও লোভের বিষাক্ত থাবায় বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি আদম সনতান হত্যার শিকার হয়েছে। তারা জীবন র্দনকে জানবার, বুঝবার কিংবা উপভোগ করার পূর্বেই ঘৃণার তপ্ত আগুনে নিঃশেস করেছে অগণিত প্রাণ। ধর্মগত বিশ্বাসে মানুষের মধ্যে দুই ধরনের সংঘাত রূপ ধারণ করে। যেমন-১. স্ব-স্ব র্ধরে কাঠামোর মধ্যে উপদলীয় কোন্দল ও হানাহানি। ২. নিজ ধর্মের প্রাধান্যতা ও অন্য ধর্মের প্রতি অজ্ঞতা প্রসূত অবজ্ঞা ও বিদ্বেষজনিত হানাহানি। ধর্মীয় পরিমন্ডল থেকে মানুষ নৈতিকতার শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন। অথচ ধর্মীয় পরিমন্ডলেল অনতঃকলহ, পারস্পরিক ধর্মীয় প্রতিযোগিতার দ্বন্দ্ব, ধর্মীয় কৌলিন্যের সংঘাত সমগ্রভাবে মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রানে- দাড় করিয়েছে। ধর্মের এহেন সংঘাতময় পরিসি’তি থেকে উত্তরণের জন্য দরকার একজন খোদায়ী ছিফাতধারী যুগ সংষ্কারক। যিনি রুপে, গুনে ও কর্মকান্ডে অতুলনীয় ও অনুসরনীয় এবং অনুকরণীয় গুনে গুনাণ্বিত হবেন। মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রাণ পুরুষ, রূপকার, দিক-পাল ও সংস্কারক হিসেবে এং ত্রান কর্তৃত্ব ও কর্ম কর্তৃত্ব মত সম্পন্ন বুজর্গদের মধ্যেকার অসমপ্রদায়িক, ধর্ম সাম্য ও মানবতার রক্ষাকবচ নীতি বিশ্ববাসীকে দান করেছে অনুপম শানি- ও মানবিক গুনাবলী বিকাশের খনি। মহানবী (দঃ) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত রাসূল। ইসলাম ধর্ম শানি- ও মানবিক ধর্ম। আমাদের প্রিয়নবীজি কোন একক জাতি, সমপ্রদায় বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। আল্লাহ বারাক তা’য়ালা সমগ্র বিশ্ব মানবতার হেদায়েতের জন্য তাঁকে পঠিয়েছেন, তাইতো তিনি সমগ্র জগতের জন্য রহমত বা আর্শীবাদ স্বরূপ। মানবজাতির জন্য রহমতের এ করুনাধারা তদ্বীয় বংশধর, ছাহাবী ও বেলায়েত প্রাপ্ত প্রতিনিধিগণ কর্তৃক বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের প্রতিটি আনাচে কানাচে পৌছানো হয় প্রিয়নবী (দঃ) এর বিদায় হজ্বের উদাত্ত আহ্বান। নির্দেশ ও সর্তককারী বানী প্রত্যেকের কর্ণ কূহরে হসতানতরের মাধ্যমে। অতঃপর পবিত্র মদিনা মনোয়ারা থেকে দূর দূরানে-, এবং প্রত্যত্ম অঞ্চলের সর্বসাধারনের নিকট সূফী সাধকগন কর্তৃক ইসলামের দাওয়াত প্রেরিত ও প্রচারিত হয়ে আসছে। ইসলামের চিরনতন বাণী, শ্বাশ্বত রূপকে সর্বসাধারণের নিকট অবিকৃতভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে পবিত্র সূফী সাধকেরা নির্মোহ ও নৈব্যিকৃতকভাবে যুগ যুগ ধরে ঐতিহাসিক গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা পরিবর্তিত পরিসি’তির প্রেক্ষাপটের সাথে সাথে সামঞ্জস্য রেখে স’ান, কাল ও পাত্র ভেদে প্রয়োজনে নতুন আঙ্গিকে, নতুন সূরে ধর্মের সার্বজনীন বানীকে জনসম্মুখে তুলে ধরেন নিরলস ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে এবং রুহানী শক্তি দিয়ে। সূফীগনের গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের সুমহান ধারায় মক্কা-মদিনার পবিত্র ভূমি থেকে মধ্য প্রাচ্য হয়ে গাউছুল আযম শায়খ সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল কাদের জিলানী আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী (রাঃ) থেকে ভারত বর্ষে সূফীদের ধারা এসে স’ানীয় প্রেক্ষাপট নতুন আঙ্গিকে, উপস’াপনার কায়েদার, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। আজমীর শরীফে হিন্দেল আলী আতায়ে রাসূল গরীবে নেওয়াজ খাজা মইনুদ্দীণ চিশ্‌তী (রঃ) এ ধারায় বাংলাদেশে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রঃ), হযরত শাহ পরান (রঃ) চট্টগ্রামে বার আউলিয়াসহ অসংখ্য সূফী সাধকের আগমন ঘটে। কয়েক শতাব্দী ধরে চট্টগ্রামের মাটিতে এ সমসত সূফী সাধকদের উপসি’তি, সাধনা, ওফাতের পর তাদের মাজার শরীফকে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিক সাধনায় নতুন যাত্রা যোগ হয়ে চট্টগ্রামের লোক সাহিত্যের ঐতিহ্রের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মাহত্ন শরাফত সূফীবাদের ইতিহাসে যুগানতকারী ও এক বিপ্লবী রূপানত্মরের সূচনা করে। যেমন যেমন ধর্মগত বা জাতিগত বিভাজন নয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিমেষে সকল মানুষকে এক সৃষ্টি কর্তার বিশ্বাসী সকল আদম সন-ানকে একই পতাকাতলে সমবেত করার বক্তব্য নিয়েই শুরু করে মাইজভান্ডারীয়া ত্বরীকা ও দর্শন। এ দর্শণ ও ত্বরীকার প্রবর্তক গাউছুল আজম শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) এর নিকট প্রথম জীবনে বিভিন্ন ধর্মাবলীর লোকজনের আগমন ঘটলে, ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হবার ইচ্ছা পোষণ করলে তিনি বলতেন স্ব-স্ব র্ধমে থাকুন নিজ নিজ ধর্মে থেকে সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করুন। ধনঞ্জয় বড়-য়া নামক একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভক্ত জাহেরী জবানীতে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে চাইলে হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) বলেছিলেন “তুমি তোমার ধর্মে থাক! আমি তোমাকে মুসলমান বানালাম।” সচরাচর আমরা যা দেখি তা হল একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ধর্মীয়, নৈতিক ও মানসিক প্রশানি-ও অন্বেষণে মন্দিরে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বৌদ্ধ মন্দিরে, খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী গীর্জায় ও মুসলিম ধর্মাবলম্বী কেবল মসজিদে গমন করে পবিত্রতা অর্জন করার লক্ষ্যে। পক্ষান-রে বল প্রয়োগ করেও একজন মুসলমানকে গীর্জায় বা মন্দিরে, বৌদ্ধ ভিক্ষুককে মসজিদে কিংবা হিন্দু ব্রাহ্মণ বা ধর্মগুরুকে অন্য ধর্মের উপসনালয়ে গমনে বাধ্য করা যায় না বরং তা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভবও না। অথচ মাইজভান্ডার দরবার শরীফে অবাধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান বা উপজাতি গোষ্ঠী মহাতীর্থস’ান রুপে গণ্য করে স্ব স্ব ধর্মের স্বকীয়তা বজায রেখে মহান গাউছুল আজমের দরবারে সর্বপ্রকার উদ্দেশ্যে হাছিলের জন্য হাজিরা দিয়ে আসছেন শতাধিক বছর ধরে। কথিত আছে একদা ফটিকছড়ির শুয়াবিল এলাকার এক চাষা তার পেপে বাবাজান কেবলার জন্য নিয়ে যাবেন। কথামত বসনে-র এক দুপুর চাষা ২/৩টি বড় আকারের পেপে ঝুড়িতে করে বাবাজান কেবলার দরবারে আনার পথে গুরুদাস নামক বাবাজানের ভক্ত (এক হিন্দু সন্নাসী) ঐ চাাষার ঝুড়িতে থাকা পেপের একটি তাকে দিতে ধমক দেন। তারপর বাবাজানের দরবারে পেপে নিয়ে চাষাকে হাজির দেখে মুচকি হেসে বাবাজান চাষাকে বললেন-তুমি আমার গুরুদাস পাগলকে একটি পেপে দিয়ে আসতে পারতে। সেতো দুটো পেপের ফলই খেয়ে ফেলেছে। তুমি পেপে কেটে দেখ ভেতরের শাস সে খেয়ে ফেলেছে। যথারীতি পেপে কাটারপর দেখা গেল চামড়া বাইরে অবিকল আছে অথচ ভেতরের পাকা অংশ নেই। ঐ ঘটনার পর গুরুদাস পাগলা, গুরুদাস ফীকর নামে পরিচিতি লাভ করেন। সুক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় মাইজভান্ডার দরবার শরীফ অসামপ্রদায়িক ঐক্যের এক মূর্ত প্রতীক হিসেবে ধর্ম সাম্যের বক্তব্য নিয়ে আধ্যাত্মিক পরিমন্ডলে মানবতার জয়গান এ মুখরিত হিন্দু, মুসলিম বৌদ্ধ, খৃষ্টান সকল জাতির জন্য এক অপূর্ব মিলন কেন্দ্র। বিগত শতাধিক বছর ধরে এ দরবার শরীফ রীতিমতো এক সমন্বয় ধর্মী ঐতিহ্যের সৃষ্টি করেছে। এ দরবারের দুই মহান আধ্যাত্মিক পুরুষের শানে বা মাহাত্মে বর্ণনায় রচিত কয়েক সহস্র মাইজভান্ডারী গানের শিল্পী ও গীতিকারগন নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যেই সমপ্রদায়িক সমপ্রীতি ও শানি-পূর্ণ সহাবস’ানের মাধ্যমে সঙ্গীত সাধনা করেছেন। তাদের মধ্যে মাওলানা আবদুল গণি কাঞ্চনপুরী, মাওলানা আবদুল হাদী, করিম বক্স, কবিয়াল রমেশ শীল, মনমোহন দত্তের নাম উল্লেখযোগ্য। আল্লাহ জাল্লাশানুহু সুরা আনামের ১৬২ নং আয়াতে কারিমায় ঘোষনা দিয়েছেন “বল নিশ্চয় আমার প্রার্থনা, আমার উৎসর্গ ও আমার যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।পবিত্র কুরআন এর অন্যত্র বলা হয়েছে-“যারা বিশ্বাস করে, যারা ইহুদী এবং খৃষ্টান ও সাবিঈন, যারাই আল্লাহ ও শেষ দিবসে (কেয়ামত) বিশ্বাস করে ও সৎ কাজ করে তাদের জন্য পুরস্কার, তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে। তাদের কোন ভয় নেই, এবং তারা দুঃকিত ও হবে না। ” হযরত শায়েখে আকবর ইবনুল আরবীর (১১৬৫-১২৪০ খঃ) এর মতে “প্রেমই যাবতীয় ইবাদতের ভিত্তি”। মৌলানা জালালুদ্দীন রুমী (রঃ)র মত হল “সমস- সৃষ্টির মূলে রয়েছে প্রেম। প্রেমের রাজা সকলকে স্বাগতম জানাচ্ছে। “প্রেম সমপ্রদায় দুনিয়ার সমস- সমপ্রদায় হতে ভিন্ন।” যারা আল্লাহর প্রেমিক তাদের জন্য একমাত্র আল্লাহ-ই তাদের সমপ্রদায় এবং আল্লাহ-ই তাদের ধর্ম” এখানে হিন্দু মুসলিম, বৌদ্ধ খৃষ্টানের কোন ভেদাভেদ নেই কোন আপন পর পার্থক্য জ্ঞান নেই। মাইজভান্ডার দরবার শরীফে সব ধর্মের বিচার সাম্যের মরমী সূর শতাব্দীর অধিক সময আল্লাহর সৃষ্টি জগতের জন্য প্রবাহমান রয়েছে এবং কিয়ামত অবধি এ সিলসিলার ধারক ও বাহকগনের মাধ্যমে চলমান থাকবে। এ কথা সহজেই অনুমেয়। সর্বোপরি, এ দরবার শরীফের খলীফাবৃন্দ ও খেলাফত প্রাপ্ত আওলাদগণের ভেতর দিয়ে অর্গল মুক্ত ঐশী প্রেমের বাণী বিশ্বব্যাপী বিস-ার লাভ করেছে।
পরিশেষে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মাইজভান্ডারীয়া ত্বরিকায় ধর্ম-সাম্য ও অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেমবাদের ঘোষণার মধ্যে মূর্ত ঐক্যের অসামপ্রদায়িক বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে অতি সুন্দর ও সাবলীল জীবন ঘনিষ্ঠভাবে। যে কারণে এ দরবারের যুগল গাউছুল আজমের জীবদ্দশায় মুসলমান শিষ্যের পাশাপাশি হিন্দু বৌদ্ধ, খৃষ্টান স্ব-স্ব ধর্ম কাঠামোর মধ্যে থেকে এ ত্বরীকা ও ধর্ম থেকে স্ব-স্ব আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য প্রয়োজনয়ি উপকরণ অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। যেমন-কবিয়াল রমেশ শীল গেয়ে উঠেছিলেন-“মাটির মূর্তির পূজা ছেড়ে মানুষ পূজা কর, সপ্তদ্বীপ, আঠার আলম মানুষের ভেতর। ছাড় আভিজাত্যের খেদ, মানুষে মানুষে নাই জাতের ভেদাভেদ, ঘুচিলে মানুষের প্রভেদ দেখবি গুরু তার ভেতর।” অন্যত্র লিখেছেন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খৃষ্টান সকর ধর্মের এক কথা, নীতি রদ বদল মাত্র গন-ব্য স’ান দুটি কোথা?”

Posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ | Tagged , , | Comments Off on অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক মাইজভান্ডার দরবার শরীফঃ