কারবালার চেতনায় জেগে ওঠে সহিংসতা-জঙ্গিবাদ ও নৈরাজ্যের বির“দ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে-সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

ঢাকা বায়তুল মোকাররমে শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে
হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)
কারবালার চেতনায় জেগে ওঠে সহিংসতা-জঙ্গিবাদ
ও নৈরাজ্যের বির“দ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে
ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক গণমুখী শাসন প্রতিষ্ঠার সপ¶ে আপসহীন
সংগ্রামে অবতীর্ণ হন ইমাম হোসাইন (রা.)ঃ ইফা ডিজি সামীম আফজাল
মুসলমানদের অš—রে নবীপ্রেম ও আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) প্রতি
ভালোবাসা জাগ্রত করতে হবেঃ আল­ামা জালালুদ্দীন আল-কাদেরী
নূর-এ-রহমান প্রতিনিধি, ঢাকা ঃ শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে গত ২৩ নভেম্বর’২০১৩ শনিবার বিকেলে ঢাকা বায়তুল মোকাররম মসজিদে আহলে বায়তে রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াছাল­াম স্মরণে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ্ জাতীয় মসজিদের খতিব অধ্য¶ আল­ামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আল-কাদেরী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন মাইজভাÊার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন রাহ্বারে শরীয়ত ও ত্বরীকত হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী মাদ্দাজিল­ুহুল আলী। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল। মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, সমাজে মনুষ্য সৃষ্ট অন্যায়-মিথ্যা ও জুলুমতন্ত্র যখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখনই ইসলামের ইনসাফভিত্তিক দর্শনকে সমুন্নত রাখতে মুসলমানদের জেগে উঠতে হয়। দ্বীন ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ ¯^ীকার করাই শাহাদাতে কারবালার প্রকৃত শি¶া। কারবালার চেতনায় জেগে ওঠে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও সহিংস তৎপরতার বির“দ্ধে শাšি—পূর্ণ উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহŸান জানান তিনি। মাহফিলে বিশেষ অতিথি ইফা ডিজি বলেন, দেশ ও সমাজে বিরাজিত সকল অন্যায়, জুলুম ও অমানবিক তৎপরতা প্রতিরোধে প্রতিবাদী ও সাহসী ভূমিকা রাখাই কারবালার শি¶া। আহলে বায়তে রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াছাল­াম ও ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল­াহু তা’য়ালা আনহু ইয়াজিদি নিপীড়নমূলক-জুলুম নির্ভর শাসন মেনে না নিয়ে ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক গণমুখী শাসন প্রতিষ্ঠার সপ¶ে আপসহীন সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। তাই যুগে যুগে সত্যানুসন্ধিৎসু মুক্তি প্রত্যাশী মানুষের উজ্জীবন ও ঈমানী চেতনার প্রতীক হয়ে আছে কারবালার মর্মš—দ ঘটনা। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে ও আমাদের প্রিয় ¯^দেশে আজ ইসলামের মোড়কে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ-হানাহানি-সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অথচ সন্ত্রাস নির্মূল করা ও শাšি—পূর্ণ মানবিক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই ইসলামের নির্দেশনা। সভাপতির বক্তব্যে অধ্য¶ আল­ামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আল কাদেরী বলেন, চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ্ জাতীয় মসজিদে ২৮ বছর ধরে ব্যাপক আয়োজনে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল অনুষ্ঠানের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, মুসলমানদের অš—রে নবীপ্রেম ও আহলে বায়তে রাসূলের সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াছাল­াম প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জাগ্রত করা। শাহাদাতে কারবালা মাহফিল চট্টগ্রাম ও ঢাকায় শানদারভাবে আয়োজনে সহযোগিতাকারী সরকার-গণমাধ্যমসহ সংশি­ষ্ট সকলের প্রতি তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। মাহফিলে বিশেষ অতিথি ও আলোচক ছিলেন, ঢাকা বায়তুল মোকাররমের খতিব প্রফেসর আল­ামা মুহাম্মদ সালাউদ্দিন, ইসলামী চিš—াবিদ আলহাজ্ব সূফী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, ঢাকা মশুরি খোলা দরবারের সাজ্জাদানশীন পীরে ত্বরীকত আল­ামা মুহাম্মদ আহসানুজ্জামান, বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব অধ্য¶ সাব্বির আহমদ মোমতাজি, প্রফেসর ইয়াকুব হোসাইন, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর সভাপতি আলহাজ রহমত আলী, রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ঢাকা শাখা সেক্রেটারী আলহাজ সিরাজুল হক, মাওলানা মাসউদ হোসেন আল-কাদেরী, মুনাজেরে আহলে সুন্নত হযরতুল আল­ামা নূর“ল ইসলাম জামালপুরী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আল­ামা মুহাম্মদ নূর“ল ইসলাম ফার“কী, ঢাকা কাদেরিয়া তৈয়বিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্য¶ আল­ামা হাফেজ কাজী আবদুল আলিম রেজভী, উপাধ্য¶ আল­ামা আবুল কাশেম মুহাম্মদ ফজলুল হক, ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসার অধ্য¶ আল­ামা ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, অধ্য¶ আল­ামা আবু জাফর মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার মুফাস্সির আল­ামা মুহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন, আল­ামা মোশাররফ হোসাইন হেলালী, মাওলানা র“হুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী, প্রমুখ। বিশেষ অতিথি খতিব আল­ামা সালাহ উদ্দিন বলেন, নবীপ্রেম ও আহলে বায়তে রাসূলের সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াছাল­ামের প্রতি অকুন্ঠ মুহাব্বত অš—রে ধারণা করে ঈমান আক্বিদা ও আমলকে মজবুত করতে হবে। আলহাজ্ব সূফী মিজানুর রহমান বলেন, আহলে বায়তে রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াছাল­াম আমাদের ঈমানি চেতনার প্রতীক। দুনিয়া ও আখিরাতে নাজাত পেতে হলে আহলে বায়তে রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াছাল­ামের প্রদর্শিত পথে জীবন পরিচালনায় ব্রতী হতে হবে। পরে সালাত সালাম পরিবেশন শেষে দেশ ও জাতির ওপর আল­াহর রহমত কামনায় মুনাজাত করা হয়। হাজারো দ্বীনদার নবী ওলীপ্রেমী জনতা শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

No Comments