শতাব্দীর সূফী- হুজুরে গাউছুল ওয়ারা আল্লামা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী (কাঃ ছিঃ আঃ)-শাহ্ এস এম আক্তারুজ্জামান মাইজভান্ডারী

শতাব্দীর সূফী- গাউসুল ওয়ারা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (কঃ)।
শাহ্ এস এম আক্তারুজ্জামান মাইজভান্ডারী

রাহমাতুল্লিল আলামীন আহমদে মুজতবা মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) এর ওফাতের মধ্য দিয়ে নবুয়তের ধারা বিলোপ হলেও তাঁর প্রবর্তিত ধর্মীয় দর্শন সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন, আওলাদে রাসুল গন সহ অলী আউলিয়াদের মাধ্যমে যুগে যুগে মানুষকে সত্যের দিশা দান করেছে। রাসুল পরবর্তী মহান অলী আউলিয়াগণই যুগ-সংস্কারক হিসেবে মানব জাতির জন্য আবির্ভূত হয়েছেন এবং হবেন। আল্লাহকে চিনতে হলে রাসূল (সাঃ)কে চিনতে হবে এবং রাসূল (সাঃ) কে চিনতে হলে অলী-আউলিয়াদেরকে চিনতে হবে। কারণ অলীগণ হচ্ছেন রাসূল করিম (সাঃ)এর জীবনাদর্শের প্রতিচ্ছবি এবং তাঁরাই স্রষ্ঠা ও সৃষ্ঠির মাঝে সেতু বন্ধনের প্রচেষ্ঠাকে সাধারনের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন পথ অবলম্বন করেন যা পরবর্তিতে ত্বরীকত হিসাবে প্রকাশ পায়। ধর্ম বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ন দিক হল তাসাউফ বা সূফীতত্ব যা শরীয়ত (বাহ্যিক) ও মারিফত (আভ্যন্তরীন) বিষয়াবলী নিয়ে একটা পূর্নাঙ্গ বিধান যা অনুকরন ও অনুশীলনের মাধ্যমেই পরিপূর্নতা লাভ করা যায়। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ থেকেই সূফীবাদের উৎপত্তি যা অলী আউলিয়া গনের ধ্যান সাধনার মাধ্যমে স্রষ্ঠার সান্নিধ্যের বিশেষ কৌশল যোগ হয়ে পরিপূর্নতা পেয়েছে।

বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতে গড়ে উঠা একমাত্র ত্বরীক্বায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রবর্তক হলেন আওলাদে রাসুল (সাঃ) হযরত গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) এবং বিকাশক হলেন হযরত গাউসূল আযম সৈয়দ গোলামুর রহমান (বাবাভাণ্ডারী) (কঃ)। পরবর্তীতে সুন্নীয়ত ও ত্বরীকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার দর্শন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেন বাবাভাণ্ডারী কেবলার দ্বিতীয় পুত্র গাউসে জামান সৈয়দ আবুল বশর মাইজভাণ্ডারী (কঃ)’র তৃতীয় পুত্র জগতখ্যাত আধ্যাত্মিক সূফী সম্রাট বিশ্ব শান্তির দূত মানবতাবাদী প্রেমময়ী সংস্কারক গাউসুল ওয়ারা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী মাইজভান্ডারী (কঃ)।

সূফীবাদের পরম পর্যায়ে উন্নীত এই মহামনীষী মানবতাবাদ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও প্রেমের বানী সর্বত্র পেঁৗঁছে দিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় যে অগ্রনী ভূমিকা রেখেছেন তা আজ সর্বমহলে প্রশংশিত ও অনুকরনীয় দৃষ্ঠান্ত হয়ে রয়েছে। “প্রেমেই সৃষ্ঠি; প্রেমেই স্রষ্ঠাকে লাভ করা যায়” এই মহামূল্যবান বানীকে ধারন করেই পথ চলেছেন এই মহান সাধক যার কাছে ছিল না কোন জাত,ধর্মের বিচার,প্রেম বিলিয়েছেন সকলের মাঝে। প্রায়শঃই তিনি বলতেন- “আমার রাসুল(সাঃ) সৃষ্টি কুলের সকলের জন্য রহমত স্বরূপ জমিনে তশরীফ এনেছেন”,আমি তাঁর অনুসারী হয়ে কি করে বিশেষ কোন গোত্র বা কওমের জন্য কাজ করতে পারি। আমার কর্মে তো তাঁর আদর্শেরই প্রতিফলন থাকা উচিত। তিনি জাগতিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও আধ্যত্মিক শিক্ষায় যে প্রভূত উন্নতি লাভ করেছেন তার প্রতিফলন জীবনের সর্বত্র বিদ্যমান ছিল। তিনি যা করতেন বা বলতেন তা সকল কিছুই ছিল কল্যানমূখী কোরআন ও সূন্নাহ ভিত্তিক যার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর খিজিরী ও ইলমে লাদুনীর জ্ঞানের প্রভাব। আহলে বায়াতের পবিত্র রক্তের ধারায় আল্-হাসানী ও আল-হোসাইনী সিলসিলার মাধ্যমে যুগে যুগে আউলিয়া, গাউছ কুতুবগণ আবির্ভূত হয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে রাসূল (সাঃ)-এর প্রতিনিধিত্ব প্রবাহমান রয়েছে। ওলী আউলিয়াগণ হচ্ছেন রাসূল করিম (সাঃ) এর একান্ত কাছের প্রতিনিধি। তাঁরা বিভিন্ন পর্যায়ে কুতুবুল আকতাব, গাউছে জমান, মুুজাদ্দিদ,গাউসুল আজম বা গাউসুল ওয়ারা উপাধি লাভ করে স্রষ্টার পক্ষে রাসূল (সাঃ) এর তত্ত্বাবধানে সৃষ্ট জগতের নিয়ন্ত্রণ ও ত্রাণকর্তৃত্ব লাভ করেন। রাসূল (সাঃ) বলেন, “আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোক আছে, যিনি জ্ঞানগরিমা ও হিম্মতে আমার গূণে গুণান্বিত”। ওলীগণ রাসূলে করিম (সাঃ) এর রূহানী ফয়েজের ধারক ও বাহকরূপে জগতের বিভিন্ন স্থানে অধিষ্ঠিত হয়ে সৃষ্টির শৃঙ্খলা বিধান করেন এবং বিপথগামী লোকদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। রাসূল (সাঃ) বলেন, “আমার উম্মতের মধ্যে জ্ঞানীগণ বনী ইসরাইল বংশের নবীগণের মত মর্যাদা প্রাপ্ত”। জীবনকে পরিপূর্নতা দানের জন্য স্রষ্ঠা ও সৃষ্ঠির সেতুবন্ধন তৈরীকারী অলী আউলিয়াদের সাহচার্য একান্ত অপরিহার্য ।

পার্থিব লোভ, কামনাহীন অতি সাধারন জীবন যাপনকারী আধ্যাত্মিক সাধক সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (কঃ)’র মার্জিত ও প্রেমময় আচরণে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের বহু অমুসলিম ব্যক্তিও তাঁর হাতে পবিত্র ইসলাম গ্রহণ করেছেন, নিয়েছেন ত্বরীক্বতের দীক্ষা। জাতিসংঘ সহ বিশ্বের বিভিন স্থানে আয়োজিত সম্মেলনে বিশ্ব শান্তি স্থাপনে তাঁর দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য প্রনিধানযোগ্য যেখানে তিনি সকলকেই রাসুল(সাঃ) এর মদীনা সনদকে অনুসরন করার মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় উপস্থাপন করেন।২০০০ সালে তিনি জাতিসংঘ কর্তৃক আয়োজিত “দি মিলেনিয়াম ওয়ার্ল্ড সামিট অফ রিলিজিওন এন্ড স্পিরিচুয়াল লিডার্স-২০০০” সেমিনারে আর্ন্তজাতিক শান্তি রক্ষার সনদে সকলের সম্মতি ও যৌথ স্বাক্ষর প্রদানে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখেন যা সকলের কাছে প্রশংসনীয় হয়।বাংলাদেশ ও বহিঃবিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন-সংস্থা থেকে তাঁর কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৭ সালে “ইন্টারন্যাশনাল এ্যাসোসিয়েশন অব সূফীজম” আযোজিত সূফী সিম্পোজিয়ামে “শায়খুল ইসলাম”, ২০০৫ সালে ধর্মীয় ক্ষেত্রে তাঁর অমূল্য অবদানের জন্য “দ্যা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ঘানা” এবং ইউ এস বেইসড ইউনিভার্সেল ইসলামিক সেন্টার “বিশ্ব শান্তির দূত” সহ বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে। ২০০৪ সালে সূফী মজলিস আযোজিত সম্মেলনে তাঁকে সর্বোওম সূফী সম্মাননা প্রদান করা হয়। উচ্চ শিক্ষিত এই সাধক বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই সার্বজনীন ত্বরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দর্শন ও সূন্নীয়তকে সমুন্নত রাখতে নিরলস শ্রম দিয়েছেন। বাংলাদেশে ও বহিঃবিশ্বে গড়েছেন অসংখ্য ধর্মচর্চ্চা কেন্দ্র (খানকা,মসজিদ),শিক্ষার প্রসারে মাদ্রাসা,স্কুল,এতিমখানা,হেফজখানা,কারিগরী প্রশিক্ষন কেন্দ্র,ইমাম প্রশিক্ষন কেন্দ্র,মইনীয়া ক্যালিওগ্রাফী প্রশিক্ষন কেন্দ্র সামাজিক সংগঠন হিসাবে আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়া,মইনীয়া শিশু কিশোর মেলা,মইনীয়া দাতব্য চিকিৎসালয় সহ বহু প্রতিষ্ঠান। সকল ধর্মীয় অনুসারীদের নিয়ে গড়েছেন মানবতাবাদী আধ্যাত্মিক সংগঠন “আর্ন্তজাতিক সূফী ঐক্য সংহতি” সূফীজ। তিনিই সর্বপ্রথম রাজধানীতে জশনে জুলুস ইদ-এ মিলাদুন্নবীর আয়োজন করেন যা আজ সারা দেশব্যাপী রাসুল (সাঃ) এর তশরীফ আনয়নের দিন ১২ই রবিঊল আউয়ালে পালিত হয়। সমাজ বা রাষ্ট্রে কল্যানমূখী এমন কোন কাজ ছিলনা যেখানে তিনি তাঁকে সম্পৃক্ত করেননি।

জগতের পীর-মাশায়েখ আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বরা ওফাত পরবর্তীকালেও যাতে তাঁদের পদ্বতিগত ধ্যান সাধনা, হিদায়াত কর্ম, ত্বরীক্বতের ছিলছিলা নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রবাহমান থাকে সেজন্য জীবদ্দশাতেই যোগ্য উত্তর সূরী রেখে যান।আওলিয়া-এ-কেরামগণের উত্তর সূরী খলীফা নির্বাচন বা স্থলাভিষিক্ত মনোনয়নের অন্যতম ধর্মীয় বিধান অনুসরনে রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরিকত,ইমামে আহলে সুন্নাত, গাউছুল ওয়ারা হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী (কঃ ছিঃ আঃ) ত্বরীক্বায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার ছিলছিলার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে তাঁরই ওরশজাত আওলাদ শাহ্জাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী (মাঃ জিঃ আঃ) কে স্থলাভিষিক্ত করেন। তিনিও পিতার যোগ্যতম উত্তরসুরী হিসেবে অন্যান্য খলিফা আশেকান সহ দরবার-এ গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন। বিশাল প্রেমময়ী হৃদয়ের অধিকারী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী আজ লক্ষ কোটি আশেকানের জিম্মাদারী হয়ে ত্বরিকত ও সুন্নীয়তের প্রচার প্রসারে দেশ বিদেশে যে অবদান রাখছেন তা প্রশংসনীয়।

অতি মানবীয় গুণে গুণান্বিত ত্বরীক্বায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার দিকপাল, নবী বংশের ৩০তম আওলাদ , শায়খুল ইসলাম, হিজরী পঞ্চদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, হুজুরে গাউছুল ওয়ারা আল্লামা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী (কাঃ ছিঃ আঃ) যিনি বাংলা ২৭ মাঘ,১৩৪৪ ইংরেজী ১০ ফেব্র“য়ারী ১৯৩৮ রোজ বৃহস্পতিবার এই ধরাধামে তশরীফ আনেন। পিতৃ ও মাতৃ কুল থেকে তিনি ইমাম হাসান (রাঃ) ও ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর বংশীয় উত্তরসূরী। নিজ জন্মদাতা পিতা ও মুরশীদ কেবলা গাউসে জামান সৈয়দ আবুল বশর মাইজভান্ডারীর(কঃ) থেকে ১৯৬২ সালের ৫ এপ্রিল প্রাপ্ত খেলাফতের দায়িত্ব পালন শেষে বর্নাঢ্য সুন্নীয়ত ও ত্বরিকত জীবন শেষ করে বহু কারামতের অধিকারী এই মহাপূরুষ ২০১১ সালের ১৭ আগষ্ট,১৭ রমজান,বাংলা ২রা ভাদ্র ওফাত লাভ করেন। মানবতাবাদী এই যুগ সংস্কারকের আদর্শ ও কর্মকে ধারন করেই হোক আমাদের পথচলা। আমীন।
মোবাইলঃ০১৭১১৯৬০০৭০।

This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

No Comments