চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক ও সূফীতাত্ত্বিক মণীষী আওলাদে রাসূল (দ.) হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র দ্বিতীয় বার্ষিক ওরশ শরীফ পালিত।

হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র দ্বিতীয়
বার্ষিক ওরশে মাইজভাণ্ডার শরীফে লাখো ভক্ত জনতার ঢল
অশান্ত সংঘাত মুখর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আউলিয়ায়ে কেরাম
অনুসৃত ইসলামের সূফীতাত্ত্বিক দর্শনের বিকাশ ঘটাতে হবে

চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক ও সূফীতাত্ত্বিক মণীষী আওলাদে রাসূল (দ.) হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)’র দ্বিতীয় বার্ষিক ওরশ শরীফ দেশের দূর-দুরান্ত থেকে আগত লাখো ভক্তজনতার অংশগ্রহণে এবং দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-কল্যাণ কামনায় আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। আজ ১৭ আগস্ট শনিবার ওরশ শরীফের প্রধান দিবসে আয়োজিত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, হুযুর কেবলার স্থলাভিষিক্ত আওলাদ, রাহবারে শরীয়ত ও ত্বরীক্বত হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। ওরশ শরীফ উপলক্ষ্যে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানীর (ক.) রওজা শরীফে ভক্ত জনতা জিয়ারত, জিকির, কুরআন তেলাওয়াতসহ মিলাদ মাহফিলে শামিল হয়ে আল্লাহর অনুগ্রহ ও আপন মুর্শিদের করুণাধন্য হবার লক্ষ্যে অশ্র“সিক্ত আকুতি-ফরিয়াদ জানান। ওরশ শরীফের দিনব্যাপী কর্মসূচীতে ছিল রওজায় গিলাফ চড়ানো, মুর্শিদ কেবলার (ক.) জীবনদর্শনের ওপর আলোচনা, মিলাদ মাহফিল এবং জিকির, সালাত ও সালাম শেষে আখেরী মুনাজাত। ওরশ মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.) বলেন, মাইজভাণ্ডার দরবার আল্লাহর ওলীদের পরশধন্য একটি আধ্যাত্মিক প্রাণকেন্দ্র। এখানকার মহাত্মা ওলী-বুজুর্গগণ সর্বমানবতার কল্যাণ-শান্তি ও সমৃদ্ধির শ্রেষ্ঠতম ওসিলা। ঠিক তেমনি নিজের অসীম আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ও তুলনারহিত ব্যক্তিত্বের আকর্ষণে সর্বস্তরের অনুগ্রহ প্রত্যাশীদের হাজত মকসুদ পূরণের আধ্যাত্মিক ঠিকানা ছিলেন আওলাদে রাসূল (দ.) হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)। তিনি বলেন, ইসলামের আসল রূপ ও দর্শন হচ্ছে সূফীবাদ। মাইজভাণ্ডারী ত্বরীক্বা ও দর্শন ইসলামেরই নির্যাস মাত্র। যুগেযুগে সকল দেশে সূফীবাদী দর্শনের প্রচার-প্রসারে অতুলণীয় ভূমিকা রাখেন মানবশ্রেষ্ঠ আউলিয়ায়ে কেরাম। শান্তি-সম্প্রীতির বার্তাবাহী উদারনৈতিক সূফীতাত্ত্বিক দর্শন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ইসলামের নামে উগ্রবাদী মানবতাবিরোধী তৎপারতা চলতে থাকায় পৃথিবীজুড়ে আজ অশান্তি-সংঘাত লেগেই আছে। অশান্ত-সংঘাত মুখর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আউলিয়ায়ে কেরাম অনুসৃত সূফীতাত্ত্বিক দর্শনের বিকাশ ঘটাতে হবে। বিদ্বেষ, হানাহানি ও নৈরাজ্যপূর্ণ অবস্থা থেকে নি®কৃতি পেতে সূফীবাদ ও মাইজভাণ্ডারী দর্শনকে আজ গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। ওরশ মাহফিলে মুর্শিদ কেবলার (ক.) জীবন দর্শনের নানা দিক্ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের সচিব খলিফা আলহাজ্ব মহসিন চৌধুরী, আন্জুমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলহাজ্ব কবির চৌধুরী, মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী, অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম মুহাম্মদ খান সিরাজী, অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক কুতুবী, অধ্যক্ষ মাওলানা বাকের আনচারী, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ রেজা মিন্টু, দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী শহিদুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহের আলম, খলিফা মুহাম্মদ আজিম উদ্দিন প্রমুখ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট্য রাজনীতিবীদ আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ার, শাহজাদায়ে গাউছুল আযম আলহাজ্ব হযরত সৈয়দ মেহবুব-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী (ম.জি.আ.), শাহজাদায়ে গাউছুল আযম আলহাজ্ব হযরত সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী (ম.জি.আ.), শাহজাদায়ে গাউছুল আযম আলহাজ্ব হযরত সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। সালাত-সালাম পরিবেশন শেষে দেশ ও বিশ্ববাসীর কল্যাণ-সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর রহমত কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। তবরুক বিতরণের মধ্য দিয়ে ওরশ শরীফের কর্মসূচীর সমাপ্তি ঘটে।

This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

No Comments