Welcome to মাইজভান্ডারীদর্পন

Featured Post

নবী করিম (দঃ) কে ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান করার আবশ্যকতা
নবী করিম (দঃ) কে ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান করার আবশ্যকতা আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা বলেন,হে নবী ! নিশ্চয় আমিই আপনাকে (রাসূল বানিয়ে) প্রতক্ষদর্শী সাক্ষ্যদাতা ও সুসংবাদেও বাহক এবং সতর্ককারী হিসাবে পাঠিয়েছি। যাতে (হে মুসলমানেরা!) তোমরা...
Read More ...


Comment

Comment here if you like this plugin.

Member Login

Sign Up Now!

Forgot Password !

New password will be e-mailed to you.

Powered by

খোদাদ্রোহী-নবীদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারসহ ওহাবী-মওদুদীবাদীদের থাবা বিস্তারের পেছনে কোনো বিদেশি চক্রের হাত আছে কিনা তা তদন্ত হওয়ার দরকার -লালদীঘি ময়দানে সুন্নী মহাসমাবেশে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

খোদাদ্রোহী-নবীদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারসহ ওহাবী-মওদুদীবাদীদের থাবা বিস্তারের পেছনে কোনো বিদেশি চক্রের হাত আছে কিনা তা তদন্ত হওয়ার দরকার -লালদীঘি ময়দানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত আয়োজিত স্মরণকালের বৃহত্তম সুন্নী মহাসমাবেশে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

২০ এপ্রিল শনিবার দুপুর ২টা থেকে চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত আয়োজিত স্মরণকালের বৃহত্তম সুন্নী মহাসমাবেশে উলামা মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ ১২ দফা দাবি পেশ করে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত পরিবহনে আসা সর্বস্তরের লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সুন্নী মহাসমাবেশে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.) বলেছেন,ইসলাম ও মুসলমানদের ঘিরে সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর বহুমুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশে দেশে ধর্মবিরোধী নাস্তিক্যবাদী বিভীষিকা সৃষ্টির পাশাপাশি গোঁড়া কট্টরপন্থিদের লেলিয়ে দিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্বিচারে হত্যা ও পাশবিক উন্মত্ততা চলছে কেবল মুসলমানদের ওপর। তিনি আরও বলেন,সাম্রাজ্যবাদীরা একদিকে নাস্তিক্যবাদীদের উস্কানিদাতা,অন্যদিকে জঙ্গীদের প্রতিরোধের অজুহাতে জঙ্গী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। খোদাদ্রোহী-নবীদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারসহ ওহাবী-মওদুদীবাদীদের থাবা বিস্তারের পেছনে কোনো বিদেশি চক্রের হাত আছে কিনা তা তদন্ত হওয়ার দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। উলামা-মাশায়েখগণ বলেন,নাস্তিক ব্লগার ও জামায়াত-হেফাজতিদের মুখোমুখি অবস্থানের জের ধরে সৃষ্ট সংঘাত প্রতিকারবিহীনভাবে চলতে থাকলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে দেশের অভ্যন্তরে বিদেশী হস্তক্ষেপের আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই সংঘাত ও দাঙ্গা হাঙ্গামার যেকোনো ইন্ধনকেই দেশ ও জাতির স্বার্থে আমলে আনতে হবে। অথচ সরকার শুরুতে এই বিষয়টি আমলে না নেয়ায় নাস্তিক ব্লগারসহ নবীদ্রোহী ওহাবী মওদুদীবাদীরা আরো বেশি দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে। গত বছর হাইকোর্টের আদেশ মেনে দোষী ব্লগারদের আটক করা হলে আজ জঙ্গীবাদী হেফাজতিরা ধর্ম রক্ষার নামে এতটুকু আস্ফালন প্রদর্শনের সুযোগ পেত না। তারা আরও বলেন সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর আজ্ঞাবহ হেফাজত-জামায়াত চক্রের ইসলামের নামে সহিংসতা ও ভ্রান্ত মতবাদের বিস্তার রোধ ও এদের অপরাজনীতির স্বরূপ উন্মোচনের জন্য দেশপ্রেমিক হক্কানি উলামা-মাশায়েখদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। বক্তরা আফগানিস্তানের তালেবানি ধাঁচে উগ্রবাদী কার্যকলাপের মাধ্যমে মসনদ দখল করার হেফাজতি-জামায়াতিদের দুরভিসন্ধির ব্যাপারে সরকার ও দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম আল্লামা কাজী মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম হাশেমী (মা.জি.আ.),খতীবে বাঙাল অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দীন আল-কাদেরী,পীরে ত্বরীকত আল্লামা মুফতী ইদরিস রেজভী,পীরে ত্বরীক্বত আল্লামা আজিজুল হক আল-কাদেরী,শেরে মিল্লাত আল্লামা মুফতী ওবাইদুল হক নঈমী,পীরে ত্বরীকত আল্লামা সাইফুর রহমান নিজামী শাহ্,অধ্যক্ষ আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ নূরুল মুনাওয়ার প্রমুখ। সুন্নী মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহাসমাবেশ সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা এম এ মতিন। সদস্য সচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার ও মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ মহাসমাবেশ সঞ্চালনা করেন। সুন্নী মহাসমাবেশের ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন অধ্যক্ষ আল্লামা আবুল ফরাহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। সমবেত লক্ষ লক্ষ জনতা হাত তুলে ১২ দফা দাবির প্রতি সংহতি ও সমর্থন প্রকাশ করেন। সুন্নী মহাসমাবেশ থেকে ঘোষিত ১২ দফা দাবিতে রয়েছে সংবিধানে আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংযোজন করা,খোদাদ্রোহী নবী-ওলীদ্রোহী ওহাবী মওদুদীবাদীসহ নাস্তিক ব্লগারদের ইসলাম অবমাননার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান,মায়ানমারসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ওপর দমন নিপীড়ন বন্ধ করা,দেশঘাতী ধ্বংসাত্মক হরতাল-অবরোধ আইন করে নিষিদ্ধ করা,গৃহীত সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করা,নারী সাংবাদিকসহ গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতন বন্ধ করা,জামায়াতের আড়ালে বিদেশি জঙ্গীদের অনুপ্রবেশ রোধ করা ও তবলিগী কার্যক্রমে সরকারের নজরদারি বাড়ানো,প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে ইসলামী শিক্ষা পড়ানোর জন্য দক্ষ কামিল পাস শিক্ষক নিয়োগ দেয়া,নাস্তিক-ওহাবী-মওদুদী ও কাদিয়ানিদের সকল ভ্রান্ত মতবাদের ইসলাম অবমাননাকর প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করা,সুন্নী উলামা-মাশায়েখ ও মাজার খানকাহগুলোর নিরাপত্তা দেয়া,নিরীহ মানুষ,সংখ্যালঘু,পুলিশসহ সকল খুন,গুম,মানবাধিকার লংঘনে অভিযুক্ত ও সরকারি বেসরকারী স্থাপনায়-পরিবহনে হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানানো হয়। মহাসমাবেশে অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ত্বরীক্বত ফেডারেশনের সভাপতি পীরে ত্বরীক্বত হযরত সৈয়দ মজিবুর বশর মাইজভাণ্ডারী,পীরে ত্বরীক্ব আল্লামা আবদুল করিম সিরাজনগরী,পীরে ত্বরীক্বত আল্লামা আবদুস শাকুর নকশবন্দী,আন্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ মহসিন,সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন,গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব পেয়ার মুহাম্মদ প্রমুখ। পরে সালাত-সালাম শেষে দেশ জাতি ও জাতি সর্বমানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়ার অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দীন আল-কাদেরী।

No Comments