ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা ধর্ম অবমাননার নামান্তর- ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ।

ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা ধর্ম অবমাননার নামান্তর-
ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ।

১৮ মে ২০১৩ শনিবার বিকালে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়া জেলা শাখার উদ্যোগে চান্দুরা ডাকবাংলা মাঠে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় বিশ হাজারেরও অধিক ধর্মপ্রান মুসলমানের উপস্থিতিতে মাওলানা ওয়াহিদ সাবুরীর সভাপতিত্বে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথী ছিলেন মাইজভান্ডার দরবারশরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন আওলাদে রাসুল (দঃ) হযরতুলহাজ্ব শাহ সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (মাঃ জিঃ আঃ)। বিশেষ অতিথী ছিলেন চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরী।স্থানীয সংসদ সদস্য জনাব মুক্তাদিও চৌধুরী অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথীর বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন- ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা ধর্ম অবমাননার নামান্তর। রাষ্ট্র যদি অস্থিতিশীল হয় সেখানে ধর্ম পালন কঠিন। ধর্ম কখনোই সন্ত্রাস,জঙ্গী আচরনের মাধ্যমে সমাজে ভয় ভীতী ছড়িয়ে কারো হীনস্বার্থ হাসিলকে প্রশ্রয় দেয় না। ধর্মীয় অনুশাসন পালন, ধর্ম চর্চা ও অনুশীলন সকলের নাগরিক অধিকার এবং তা সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মাণে অতুলনীয় ভূমিকা রাখতে পাওে কিন্তু জোড় করে ধর্মের নামে কোন বিশৃঙ্খলা হানাহানী, মারামারি, অকল্যানকরকে ধর্ম সমর্থন করে না। ধর্মের শিক্ষাই হলো ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি এবং সকলেই একই স্রষ্টার সৃষ্টি এই সত্যকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা। ধর্মের নামে মানবতাবাদী শান্তির পরম ধর্ম পবিত্র ইসলামকে ব্যবহার করে কতিপয় দেশী বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহল বাংলাদেশে সন্ত্রাসী জঙ্গীবাদী কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান,গোষ্ঠি এ ধরনের হীন কাজের সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। তিনি সুন্নীয়তের সকল পীর মাশায়েখ ও অনুসারীদের সূন্নী সূপ্রীম ওলামা মাশায়েখ কাউন্সিলএর পতাকাতলে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহব্বান জানান।
চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরী বলেন, নবী রাসূলগণের পরে ওলী আউলিয়ার আদর্শকে অনুসরণের মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি স্থাপন করা সম্ভব। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান যারা আল্লাহ ও রাসূলগণকে এবং অলি আউলিয়াকে সম্মানের সাথে স্মরণ করে তারা কখনও সন্ত্রসের পথ বেছে নেয় না, তারা রাষ্টের নাগরিক কর্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আজও এ দেশে শান্তি বিদ্যমান আছে। দূর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য কিছু নামধারী মুসলমানরা বিভিন্ন সময়ে ওহাবী মওদুদী হেফাজতী সহ বিভিন্ন নামে উগ্র আচরনের মাধ্যমে ধর্মের অবমাননা করছে। খোদাদ্রোহী-নবীদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারসহ ওহাবী-মওদুদী, হেফাজতীদের থাবা বিস্তারের পেছনে কোনো বিদেশি চক্রের হাত আছে কিনা তা তদন্ত করা সহ দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন মাওলানা সাইফুর রহমান নিজামী, আঃ করিম সিরাজনগরী,মাওলানা শেখ নাইম,মুফতী উবাইদুল মোস্তফা,মুফতী বাকী বিল্লাহ আজহারী, মাওলানা রহুল আমিন ভূইয়া চাঁদপুরী সহ বিভিন্ন দরবারের প্রতিনিধিগন।

This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

No Comments