Welcome to মাইজভান্ডারীদর্পন

Featured Post

হযরত গাউছুল আযম শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী বাবাভান্ডারী (ক:) এর জীবনাদর্শ ঃ
হযরত গাউছুল আযম শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী বাবাভান্ডারী (ক:) এর জীবনাদর্শ ঃ **হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলার পবিত্র দেহের গঠন বিবরণীঃ তিনি মধ্যম আকার বিশিষ্ট মানব ছিলেন,কিন’বিসত্মর লোকের মধ্যে দণ্ডায়মান...
Read More ...


Comment

Comment here if you like this plugin.

Member Login

Sign Up Now!

Forgot Password !

New password will be e-mailed to you.

Powered by

হযরত গাউছুল আযম বাবাভাণ্ডারী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান (ক.) মানব কল্যাণের পথিকৃৎ শাহ্জাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী

হযরত গাউছুল আযম বাবাভাণ্ডারী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান (ক.) মানব কল্যাণের পথিকৃৎ-
শাহ্জাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী
সাজ্জাদানশীন দরবার-এ-গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী,
মাইজভাণ্ডার শরীফ,ফটিকছড়ি,চট্টগ্রাম।

আল্লাহ্পাক যুগে যুগে মানুষকে কল্যাণ ও মুক্তির পথে আনয়ন করে দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি প্রদানের জন্য নবী,রাসূল,গাউছ-কুতুব,অলী-আবদালগণকে জগতের বুকে প্রেরণ করেছেন। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম এর পর নুবূওয়াতের দ্বার চিররুদ্ধ হয়ে গেলেও হিদায়তের দ্বার চির অব্যাহত রয়েছে আল্লাহর অলীদের মাধ্যমে।
আধ্যাত্মবাদ তথা সূফিজম ইসলামের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। সূফিতত্ত্বহীন ইসলাম প্রায়ই মানুষকে অকল্যাণের দিকে ধাবিত করে। ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। আর এর বাস্তবায়নতা নির্ভর করে আধ্যাত্মবাদ তথা সূফিজমের উপর। আল্লাহ্ পাক এরশাদ ফরমান ঃ “লিকুল্লিন যায়াল্না মিনকুম শিরয়াতান ওয়া মিন্হাযা” অর্থাৎ- আমি (আল্লাহ্) তোমাদের সকলের জন্য একটি সাধারণ পথ (শরীয়ত) এবং অপরটি মিনহাজ বা নিগুঢ় তত্ত্বের পথ (মা’রফত) সৃষ্টি করেছি। শেষোক্ত পথটিই হলো আধ্যাত্মবাদ।
নিগুঢ়তত্বের অনুশীলন ব্যতিরেকে মানবতার উৎকর্ষতা সাধন সম্ভব নয়। বাহ্যতঃ বহু জ্ঞানের অধিকারী ব্যাক্তিকেও মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হলো সে ব্যক্তি আত্মশুদ্ধির জন্য কোন অনুশীলনই করেনি। এ অনুশীলন শুধুমাত্র অলী আল্লাহদের দরবারেই হয়ে থাকে। আল্লাহ্ বলেনঃ “ক্বাদ আফলাহা মান যাক্কাহা” অর্থাৎ- যার আত্মা পরিশুদ্ধ হয়েছে সে সফলকাম হয়েছে। স্মর্তব্য যে,সূফী তত্ত্বের সম্পর্ক হলো আত্মার সঙ্গে,আত্মা সঠিক থাকলে অন্য সবকিছুই ঠিক থাকে। আর আত্মা বিনষ্ট হলে সব কিছুই বিনষ্ট হয়।
ত্বরীকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার পূর্ণতা দানকারী,হযরত গাউছুল আযম বাবাভাণ্ডারী (ক.ছি.আ.) গাউছিয়তের সুমহান প্রদীপ হাতে জগতকে উজালা করে অমানবতা,নিষ্ঠুরতা,বর্বরতা,সাম্প্রদায়িকতা,হিংসা,বিদ্বেষ দূরিভূত পূর্বক ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করেছেন। সারা বিশ্বে মানবতার সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করে তিনি শিক্ষনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছেন। ফলে বর্তমান বিবদমান পরিস্থিতিতেও কোন মাইজভাণ্ডারীর গায়ে সন্ত্রাস-জঙ্গী নামক কলংকের দাগ লাগেনি। তাই ত্বরীক্বায়ে মাইজভাণ্ডারীয়া সারা বিশ্বে এক সুমহান অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী ত্বরীক্বা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে।
আল্লাহ্ পাক কুরআন শরীফে এরশাদ ফরমান ঃ “ওয়া আছবাগা আলাইকুম নেয়্মাহু জাহিরাতান ওয়া বাতিনাতান” অর্থাৎ- এবং (আল্লাহ্) তোমাদেরকে পূর্ণ মাত্রায় দান করেছেন আপন অনুগ্রহ সমূহ,প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে।
বাহ্যিক নেয়ামত বা কল্যাণসমূহ চর্মচোখে দেখা যায়,কিন্তু অভ্যন্তরীণ নেয়ামতসমূহ আল্লাহ্পাক তাঁর নবী-রাসূল,ওলী-আউলিয়া,সূফী-দরবেশ প্রিয় ভাজনদের মাধ্যমে বিতরণ করেন;যা প্রায়ই বান্দার অনুভূতিতে আসেনা। আল্লাহ্পাক এরশাদ ফরমানঃ “ইন্না রাহমাতাল্লাহে ক্বরীবুম মিনাল মুহছিনীন” অর্থাৎ- নিশ্চয়ই আল্লাহ্র অনুগ্রহ আল্লাহ্র প্রিয় ভাজনদের নিকট বিদ্যমান।
‘মানবতা’ শব্দটি কোন বিশেষ জাতি,বংশ,গোত্র,ধর্ম,বর্ণ এর জন্য ব্যবহৃত হয়না বরং এটি সার্বজনীন। আল্লাহ্ পাক স্বয়ং অসাম্প্রদায়িক ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণকামী। এই নীতি আদর্শ নবী,রাসূল ও অলী আল্লাহ্দের মধ্যে বিদ্যমান। যারা এর বিরুদ্ধাচারণ করে তারা বাস্তবে আল্লাহ্র গুণে গুণান্বিত হতে পারেনা। তাদের ধর্মীয় জ্ঞান মানবতার কোন কল্যাণেই আসেনা বরং মানবতাকে অনেক সময়ই ভুলণ্ঠিত করে।
গাউছুল আযম হযরত বাবাভাণ্ডারী (ক.ছি.আ.) মানবতার প্রভূত কল্যাণে বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণভাবে এ পৃথিবীতে অগণিত নিদর্শন রেখে গেছেন। একদিকে তিনি তাঁর দরবারকে অবারিতভাবে সর্ব জাতি ও সর্বশ্রেণীর মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে তাঁর পবিত্র পরশে সকলকে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ফলে পথহারা,মোহান্ধ ও মানবতা বিরোধী গোষ্ঠীসহ সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলীর অসাধারণ বিকাশ ঘটে ও এই আদর্শ ভারতীয় উপমহাদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সর্বশ্রেণীর মানুষের ভিতর সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ভাব গড়ে উঠে। ফলে হানা-হানি,সংঘর্ষ ও রক্তপাত থেকে বিরাট সংখ্যক মানুষ নিরাপদ থাকে। মানবতার জন্য বাবাভাণ্ডারী (ক.ছি.আ.)’র এই অবদান বিশ্ব মানবতা চিরদিন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে। অদ্যাবধিও মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে বাবাভাণ্ডারী (ক.ছি.আ.)’র এই সুমহান আদর্শ বিদ্যমান রয়েছে। তাইতো দেখা যায় মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ লাখো লাখো হিন্দু,মুসলিম,বৌদ্ধ,খৃষ্টান,গারো,হাজং,শাওতাল,ঝুমিয়া প্রভৃতি জাতির মহামিলনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। আবহমান কাল ধরে দেশ-বিদেশের বহু পীর-মশায়েখ,ধর্মীয় নেতা,বুদ্ধিজীবি,পেশাজীবি,রাজনীতিবিদদের পদচারণায় নিত্য মুখরিত বাবাভাণ্ডারী (ক.ছি.আ.) এর রওজা শরীফ চত্বর।
অপরদিকে তাঁর বেলায়েতে উজমার ক্ষমতাবলে সমগ্র সৃষ্টির প্রতি অস্বাভাবিক মেহেরবাণী করেছেন তিনি। এই মহামানব তাঁর বেলায়েতি ক্ষমতায় অনেক সাধারণ মানুষকে অলীতে রূপান্তরিত করেছেন। তাঁর হাতের লাঠির প্রহারে,তাঁর ব্যবহার্য বদনার আঘাতে,কদমের চাপে,পবিত্র পদ-যুগলের আঘাতে অথবা তাঁর থুতু মোবারকের বরকতে হাজার হাজার মানুষের কল্যাণ সাধিত হয়েছে। তিনি হুজরা শরীফে অবস্থান কালে জলপাত্র দ্বারা তাঁর প্রসারিত ডান হস্ত মুবারকে অবিরত পানি ঢালার রেওয়াজ ছিল,হস্ত বিধৌত জল রোগমুক্তি,প্রাণ সঞ্চারসহ বহুবিধ মানবতার কল্যাণে ব্যবহৃত হতো। বাবাভাণ্ডারী (ক.ছি.আ.)’র নিকট থেকে অসংখ্য কেরামত প্রকাশ পেয়েছে। তন্মধ্যে মানব কল্যাণধর্মী কয়েকটি কেরামত যেমন ঃ মস্তিষ্ক বিকৃত বোবা ছেলেকে প্রহার পূর্বক বাকশক্তি ফিরিয়ে দেয়া,তাঁর কৃপাদৃষ্টিতে হতাশাগ্রস্ত ব্যাক্তির পুত্র সন্তান লাভ,স্বপ্নযোগে সতর্ক করার মাধ্যমে ভক্তকে অত্যাসন্ন বিপদ থেকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা প্রদান,আক্রমনকারীদের লাঠির আঘাত তাদের নিজেদের গায়ে লাগিয়ে আক্রমন থেকে ভক্তকে উদ্ধার। বাবাভাণ্ডারী (ক.ছি.আ.) নামের উছিলা নেওয়ার সাথে সাথে আগুনের লেলিহান শিখা থেকে ভক্তের দোকান রক্ষা পাওয়া,রওজা শরীফের জল পান পূর্বক চিকিৎসায় বিফল মহিলার রক্তক্ষরন বন্ধ হওয়া,স্বপ্নযোগে হাত বুলিয়ে দুরারোগ্য রুগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দেয়া ছাড়াও তিনি রূহানীভাবে অদৃশ্য জগত থেকে মানুষকে সাহায্য করার অসংখ্য প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে ।
তাঁর এ ধারাবাহিকতা নিরবিচ্ছিন্ন ও সম্প্রসারিত করার মানসে মানব কল্যাণধর্মী এ ত্বরীক্বার আদর্শ আল্লাহ্ প্রাপ্তির সহজ পদ্ধতিকে আরো আধুনিক যুগোপযোগী চিন্তা-চেতনায় সমৃদ্ধ করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন বাবাভাণ্ডারী কেবলা (ক.ছি.আ.)’র যোগ্যতম উত্তরসূরী পৌত্র,৩০তম আওলাদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম,শায়খুল ইসলাম,ইমামে আহলে সুন্নাত,গাউছুল ওয়ারা হযরতুল্হাজ্ব মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভাণ্ডারী (ক.ছি.আ.)। জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সর্ব ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের মাঝে পৌরহিত্য পূর্বক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান এবং সেখানে মীলাদ মাহফিল পরিচালনার মাধ্যমে তিনি শুধু মাইজভাণ্ডারী আধ্যাত্ম পরিমন্ডলে নয় বরং সমগ্র বাংলাদেশ ও জাতির ইতিহাসে কিংবদন্তী হয়ে আছেন। তাও বাবাভাণ্ডারী (ক.ছি.আ.)’র শুভ দৃষ্টির ফসল।
হযরত গাউছুল আযম বাবাভাণ্ডারী (ক.ছি.আ.) ছিলেন নবী বংশ ক্রমধারার ২৮তম আওলাদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম,অতি উঁচু স্তরের শেখে ফায়াল। তিনি মাত্র ২২/২৩ বছর বয়স থেকেই সংসারের প্রতি অতি বিরাগভাজন ছিলেন। আল্লাহ্র ওয়াহদানিয়াতের অপার সমুদ্রে তিনি নিজেকে নিমজ্জিত করে দিয়েছিলেন। তিনি খুব কম কথা বলতেন। ৪৮ বছর বয়স থেকে তিনি পূর্ণ নিরবতা পালন করেন। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় ঐশী ক্ষমতাবলে মানবতার প্রভূত মঙ্গল করে চির স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন। উদৃতিতে আছে- “মান লাহুল মওলা ফলাহুল কুল” অর্থাৎ- আল্লাহ্ পাক যার জন্য হয়ে যান সবকিছুই তার অধীনস্ত হয়ে যায়।
বর্তমান অশান্ত বিশ্বে বাবাভাণ্ডারী (ক.ছি.আ.)’র অসাম্প্রদায়িক আদর্শ অনুসরণ করা হলে সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষের জন্য সারা বিশ্ব হবে শান্তির মহা আবাসস্থল। তাই আসুন! আমরা তাঁর নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে জীবন ধন্য করি এবং মানবতার কল্যাণে ব্রতী হই। ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের ২২ চৈত্র সোমবার ৭১ বছর বয়সে এই নশ্বর জগত থেকে পর্দা করে পরজগতে তিনি তাঁর প্রেমাস্পদের সান্নিধ্যে চলে যান। প্রতি বছর ২২ চৈত্র চট্টগ্রাম ফটিকছড়িস্থ মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে বিশাল আয়োজনে,মহাসমারোহে তাঁর বার্ষিক ওরশ পালিত হয়। দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষ-লক্ষ আশেক-ভক্তের আল্লাহু আল্লাহু ধ্বনীতে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠে। আল্লাহ্ পাক তাঁর ফয়েজ,রহমত ও বরকত দিয়ে আমাদেরকে ধন্য করুন! আমীন।

No Comments