মুসলিম মিল্লাতে ঈদুল ফিতর এর প্রভাব

মুসলিম মিল্লাতে ঈদুল ফিতর এর প্রভাব
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম রেজভী
আরবী প্রভাষক গর্জনীয়া রহমানিয়া ফাযিল মাদরাসা
ও খতিব মুবারকখান চৌধুরী জামে মসজিদ।

মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন, এই মহা বিশ্বের নিয়ন্দ্রন কর্তা, সৃষ্টিকর্তা-লালনকারী, পালন কারী, তাই তিনি সৃষ্টি জগত সৃষ্টি করে এর বিধান ও নিয়ন্ত্রনের জন্য খলিফা বা প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করার সুন্দর নিয়ম নীতি দিয়ে এই বিশ্বকে তড়িৎ প্রলয় থেকে রক্ষা করেছেন। সৃষ্টির বিস্তার করার ও ব্যাপকতার জন্য আদম আলাইহিস্ সালামকে সর্ব প্রথম মহামানব হিসাবে ভূ-পৃষ্টে পাঠিয়াছেন এই ভাবে ভূ-পৃষ্টে প্রথম মানবের বিচরণ। এই মানব মন্ডলী দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকেন, বৃদ্ধি পেতে পেতে মানুষ অসমাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে এর থেকে পরিত্রানের জন্য আল্লাহ্ তা’য়ালা পূর্ণাঙ্গ শরীয়তের প্রচারক নবী হিসেবে নুহ আলাইহিস্ সালামকে প্রেরণ করেন। এরই ধারা বাহিকতায় আল্লাহ্ তা’য়ালা বিভিন্ন নবী রাসূলের মাধ্যমে ঐশী বানির ফাল্গুদ্বারা এই পৃথিবীতে প্রসার করেন। এই ঐশী বাণীর শেষ দ্বারা প্রিয় নবী হুজুর করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অর্পন করে আল্লাহ্ তা’য়ালা সমগ্র বিশ্বের মানব-দানব এর জন কল্যাণের বিধান হিসাবে মহাগ্রন্থের মত মহা নিয়ামত বিশ্ববাসীকে উপহার দেন। পবিত্র কুরআনের বৃহত্তম সূরা বাক্বারা শরীফের মধ্যে মানব কল্যাণও হিত সাধনের জন্য দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এর শেষে ঈদুল ফিতরের মত একটি মহা সমাবেশের ব্যবস্থা করেন যা দুনিয়ার অপরাপর সমাবেশের চেয়ে উন্নত পূত: পবিত্র রহমতের ফাল্গুদ্বারার প্রবাহমাণ, যা দুনিয়ার অন্য যে কোন সমাবেশের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অনন্য। এই ঈদুল ফিতর সুখের আনন্দের সম্প্রীতির বন্ধরচনার যে সমাবেশে সত্যর বাণীর প্রয়োগের বাস্তব উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায়, থাকে না ভেদা-ভেদ হিংসা-বিদ্বেষ কলহ-মারামারি। মানুষের অন্তরে প্রেম-স্নেহ বন্ধনের ঢেউ প্রবাহিত হয়। ঈদ গাহের সমাবেশকে লক্ষ্যে করে মহান আল্লাহ্ ফেরেশতাদের আহ্বান করে বলবেন হে আমার ফেরেশতারা একজন পরিপূর্ণ শ্রমব্যয় করে যদি কোন মালিকের দেয়া দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করে তাঁর কি পারিশ্রমিক হয় বা দেয়া যায়? তাঁরা বলবেন পরিপূর্ণ পারিশ্রমিক দেয়া। আল্লাহ্ বলবেন তোমরা সাক্ষী থাকো আজ ঈদ গাহে রোজা পালন শেষে আগত আমার রোজাদার বান্দাদেরকে আমি নিষ্পাপ নব জাতকের ন্যায় করে দিলাম। “ঈদ” আরবি শব্দ। এর অর্থ আনন্দ, খুশি। এই আনন্দ, উৎসব, খুশি অর্থ শব্দটির প্রয়োগ কুরআনে করিমে দেখতে পাওয়া যায়। পবিত্র হাদীস শরীফে ও শব্দটি আনন্দ, খুশি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অপর দিকে ঈদ শব্দটি “অউদুন” হতে নির্গত হতে পারে। এর অর্থ ফিরে আসা। এই অর্থে “ঈদ” বলতে ঐ আনন্দ উৎসব কে বুঝায় যা প্রতি বৎসর ফিরে আসে। ঈদের উৎপত্তি ও ইতিবৃত্ত সম্পর্কে হাদীস শরীফ থেকে জানা যায় যে, প্রখ্যাত সাহাবী খাদেমে রাসূল হযরত সৈয়ুদুনা আনাদা রাদিআল্লাহ্ আনহু হতে বর্ণিত আছে তিনি বর্ণনা করেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা শরীফে হিজরত করার পর দেখতে পান; মদীনাবাসী বৎসরে দুইটি দিবসকে আনন্দ উৎসবের দিন রূপে জাকজমকের সাথে পালন করছে। তিনি তাদের কাছে জানতে চাইলেন তোমরা এই দুইটি দিন কে কেন উৎসবের দিন রূপে গুরুত্ব সহকারে পালন করে থাক? তখন তাঁরা বলল জাহিলিয়া (বরবর) যুগে আমরা এ দুদিনের উৎসব করতাম, সেটাই এই উৎসবের দিন সমূহ, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন মহান আল্লাহ্ তা’য়ালা সে দুদিনের পরিবর্তে তদাপেক্ষা উত্তম দুটি দিন তোমাদেরকে দান করেছেন (মিশকাত শরীফ)।
এই ঈদের উৎসব সরাসরি কুরআনে পাওয়া যায় যা আনন্দ উৎসব অর্থে ব্যবহৃত। হযরত ঈসা আলাই হিস্সালাম তাঁর কপটবিশ্ববাসী অনুসারীদের অনুরোধে আল্লাহ্ তা’য়ালার দরবারে আসমান হতে খাদ্য সহ একটি “দস্তুর খান” নাজিল করার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। যাতে করে পূর্বাপর সকলের জন্য এদিনটি পৌন পৌনিক ঈদ বলে পালিত হয়। ইরশাদ হচ্ছে মরিয়ম তনয় ঈসা বললেন হে আল্লাহ্! আমাদের প্রতিপালক। আমাদের জন্য আসমান হতে একটি খাদ্যপূর্ণ খাবাঞ্জা বা দস্তরখান নাজিল করুন, এটা আমাদের এবং আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য আনন্দোৎসব স্বরূপ ও আপনার নিকট হতে নির্দশন স্বরূপ হবে এবং আমাদের জীবিকা দান করুন অবশ্যই আপনি উত্তম জীবিকা দাতা (সূরা মায়েদা)।

এ আয়াত থেকে স্পষ্ট ভাবে বুঝা যায় যে, ঈদ বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মাঝে প্রচলিত একটি উৎসব-আনন্দ যা বিভিন্ন জাতির কাছে খুব বেশী মর্যাদা পূর্ণ পালনীয় উৎসব। মুসলিম মিল্লাতের মাঝে এ উৎসব প্রতি বছর আবেগঘন মুহুর্তে আমেজ-আনন্দ হিল্লোল নতুন পরশ প্রীতির বন্ধন নিয়ে আগমন করে। মদীনা বাসীরা ঈদের পূর্বে দুটি উৎসব পালন করত। একটির নাম ‘নওরোজ’ অপরটির নাম ‘মেহেরজান’।
ঈদুল ফিতর রমজানের সিয়াম সাধনের পরের উৎসব। হিজরী ২য় সালে সর্ব প্রথম উম্মতে মুহাম্মদীর উপর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামায ওয়াজিব করা হয়। হিজরী ২য় সালের শাবান মাসে যাকাত ফরয হওয়ার পূর্বে সদক্বা-এ-ফিতর ওয়াজিব হয়। ঈদের দিনের পূর্বে ‘সদক্বায়ে ফিতর’ আদায় করা না হলে ঐ দিন নামাজ আদায়ের পূর্বেই তা আদায় করতে হয় বিধায় এ উৎসবকে ঈদুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এমনকি হাদীস শরীফে ঈদের দিবসে রোজা পালন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। কেননা ঈদের দিবসে রোজা পালন করলে আনন্দ-উৎসবে ভাটা পড়বে যাতে সার্বজনীন খাবার গ্রহণ উপহার উপটোকন আদান-প্রদানের মাধ্যমে ঈদের প্রকৃত বাস্তবতা পাওয়া যায় তাই ঈদের দিবসে রোজা রাখা নিষেধ। ঈদের দিবসে থাকে না হিংসা-বিদ্বেষ। মানুষের মাঝে প্রীতির বন্ধন দেখা যায় শুধু ঈদে। এরূপ বন্ধন অন্য কোন দিবসে দেখা যায় না এজন্য ঈদুল ফিতর মুসলিম মিল্লতের উপর বড়ই প্রভাব ফেলে, যা অন্য কোন অনুষ্ঠানে পরিলক্ষিত হয় না। সবার জন্য ঈদ উৎসব সমান আনন্দ করে তোলার জন্য মহান আল্লাহ্ ধনীর উপর সদক্বায়ে ফিতর ওয়াজিব করে দিয়েছেন যাতে ঈদের আনন্দে দরিদ্র ব্যক্তি পরিবারের সদস্যরাও অংশ গ্রহণ করতে পারে। যুগে যুগে এ ঈদের আনন্দ ছিল আছে বাঙলা সাহিত্যের বিভিন্ন কবিদের কবিতায়ও পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে উনবিংশ শতাব্দীর একেবারে শেষের দিকে বিশেষ করে বিংশ শাতাব্দীর শুরুর কাল থেকে মুসলিম সম্পাদিত পত্র পত্রিকা বের হতে থাকে ঈদ উপলক্ষ্যে। সৈয়দ এমদাদ আলীর (১৮৮০-১৯৬৫) কবিতা গ্রন্থ ‘ডালি’র দ্বিতীয় সংস্করণে (১৯৬৬) ‘ঈদ’ নামে দু’টি কবিতা আছে প্রথমটির প্রথমছত্র ‘কুহেলী তিমিরসরায়ে দূরে’ এবং দ্বিতীয়টির প্রথমছত্র বিশ্ব জুড়ে মুসলিমের গৃহে গৃহে আজি।
কুহেলি তিমির সরায়ে দূরে
তরুণ অরুণ উঠিছে ধীরে
রাঙিয়ে প্রতি তরুর শিরে
আজ কি হর্ষ ভরে।
আজি প্রভাতের মৃদুল রায়
রঙে নাচিয়া যেন কয়ে যায়
মুসলিম জাহান আজি একতায়
দেখ কত বল ধরে।
এটা ১৯০৩ ঈসাব্দে প্রথম প্রকাশিত সৈয়দ এমদাদ আলী সম্পাদিত নবনূর পত্রিকায় প্রকাশিতে ঈদ সংখ্যা প্রকাশ করে। এই কবিতার মাধ্যমে কবি বুঝাতে চেয়েছেন তরুণ অরুণের ধমণীতে ঈদের আনন্দে আমেজের বর্ণনা দিয়ে বুঝায়ে দেন যে, প্রত্যেকের শিরায় শিরায় আনন্দ উৎসের কোলাহল, এবং ঈদের দিবসের প্রভাতে আনন্দের হিমেল প্রবাহিত হয়ে রঙে রঙে নাচিয়ে যেন মুসলিম জাহান একাকার হয়ে যায় সম্প্রীতির বন্ধনে।
অপর আরেক বিখ্যাত বাঙালী কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) এর কবিতায় দেখা যায় ঈদের বর্ণনা। তিনি লিখেছেন-
এই ঈদ বিধাতার কিসে শুভ উদ্দেশ্য মহান,
হয় সিদ্ধ, বুঝে না তা স্বার্থপর মানব সন্তান।
এ নহে শুধু ভবে আনন্দ উৎসব ধূলো খেলা,
এ শুধু জাতীয় পূণ্য মিলনের এক মহা মেলা।
ভুলে যাও হিংসা- দ্বেষ, দলাদলি শত্র“তা ভীষণ,
মুসলিম জগতে আজি বিশ্বব্যাপী মহা সম্মেলন।
এ কবিতায় কবি মহান আল্লাহর এক মহা নেয়ামত ঈদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কবি এ লেখনীর মাধ্যমে মুসলমানদের জাগ্রত করতে তিনি লিখেছেন যে-
আজি এই ঈদের দিনে হয়ে সবে এক মনঃ প্রাণ,
জাগায়ে মুসলিম সবে গাহ আজি মিলনের গান।
ডুবিয়ে না ভরে আর ঈদের এ জ্যোতিষ্মান রবি,
জীবন সার্থক হবে, ধন্য হইবে এ দরিদ্র কবি।
কবি মোজাম্মেল হক (১৯৬০-১৯৩২) ঈদ কবিতায় লিখেছেন যে-
মোসলেমের আজ ঈদ শুভময়
আজ মিলনের দিন,
গলায় গলায় মাখামাখি
আমীর ফকীর হীন।
আজ সবারি হস্ত পূত
ধোওয়া স্বরূপ নীরে,
তাইরে চুমোর ভিড় লেগেছে
নম্র নত শিরে।
শেখ ফজলুল করিম (১৮৮২-১৯৩৬) ঈদ কবিতায় লিখেছেন যে-
অলস অধম মোরা এখনো কি অবহেলে
যার রসাতলে?
অদৃষ্টের উপহাস এখনো কি আনিবে না
চেতান ফিরিয়া?
এখনো লাঞ্চিত মোরা বুঝিবেনা হিতাহিত
রহিব ঘুমিয়া?
জীবন প্রভাত আজি বিস্ময়ে দেখরে চাহি
মহা জাগরণ,
সাহসে বাধিয়া বুক হও অগ্রসর
নতুবা মরণ।
কবি কাজী কাদের নেওয়াজ ঈদ বিষয়ক একটি কবিতায় লিখছেন যে-
কিসমিস আঙ্গুরর খোর্ম্মার নির্যাস
পান করি অঙ্গেতে দাও আতরের বাস।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম ঈদুল ফিতর কবিতায় লিখেছেন যে-
কোথা মক্কা- মায়াজ্জমা মদিনা কোথায়
প্রাণ কেন্দ্র এ মহা সাম্যের
কোথা আমি ভারতের প্রান্ত তটে ক্ষুদ্র ঈদগাহে।
সিন্ধু-মরু-গিরি-দরী কান্ডার তটিনী,
রচিয়াছে ব্যবধান দুর্জয় বিপুল
তবু শুনি বায়ুস্তুরে দুর্জয় তরঙ্গদোলায়
ভেসে আসে উদাও মন্দ্রিত নির্ঘোষ
সাম্যের দিশারী আমি-আমি মুসলমান
দেশ-কাল-পাত্র মোর সর্ব একাকার
বহুত্বে একক আমি
আত্মার আত্মীয় মোর দুনিয়া জাহান,
গোলাম মোস্তফার ঈদ উৎসব কবিতায় লেখছেন যে-
সকল ধরা মাঝে বিরাট মানবতা মুরতি লভিয়াছে হর্ষে
আজিকে প্রাণে প্রাণে যে ভাবে জাহিয়াছে, রাখিতে হবে সারাবর্ষে;
এ ঈদ হোক আজি সফল ধন্য
নিখিল ক্ষানবের মিলন জন্য

অন্যত্রে কবি নজরুল তাঁর ঈদ মোবারক কবিতায় লেখছেন যে-
আজি ইসলামী ডঙ্কা গরজে ভরি জাহান
নাই বড়ছোট সকল মানুষ এক সমান
রাজা প্রজা নয় কারো কেহ।
ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই
সুখ-দুঃখ সমভাগ করে নেব সকলে ভাই
নাই অধিকার সঞ্চয়ের।
কারো আাঁখি জলে কারো কারো ঝারে
কি করে জ্বলিবে দ্বীপ?
দুজনার হবে বুলন্দ নসিব।
লাখে লাখে হবে বদনসিব,
এনহে বিধান ইসলামের ।
ঈদুল ফিতর শীর্ষক কবিতায় কবি শাহাদত হোসেন লেখছেন যে-
আরবের আরছায়া ধীরে সৌরে গেল
পশ্চিমের চাঁদোয়ার বুকে
স্বচ্ছ নীলিমায়
অপরূপ রূপালী স্বপনে
দেখা দিল শাওয়ালের চাঁদ।
খুশির সালামে
আনন্দের আবেদনে করিল নিখিল।
পূণ্য চাঁদে ব্রত উদ্যাপন
অবসান রমযান
দরুদ গুঞ্জনে
আল বেদায় ধ্বনিল জাহান।
কবি গোলাম মোস্তফা বাঙলা সাহিত্যে ইসলামী ভাবধারার আরেক রূপকার।
তিনি “ঈদ উৎসব” শীর্ষক কবিতায় লেখছেন যে-
আজিকে আমাদের জাতীয় মিলনের পূণ্য দিবসের প্রভাতের
কে গো ঐ দ্বারে ডাকিয়া সবাকারে ফিরিছে
বিশ্বের সভাতে
পুলকে সদা তাঁর চরণ চঞ্চল
উড়িছে বায়ু ভরে বসন অঞ্চল
সকল তসু তাঁর শুভ্র সুকুমার
স্নিগদ্ধ প্রভাতের আলোতে।
মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ (১৯৭৪) ঈদুল ফিতরের বর্ণনা দিয়ে লেখছেন যে-
তোমার মৃত্যু সমুদ্র মোহনায়
জীবনের আস্বাদ,
তোমার জীবন রমজান সাধনায়
স্বপ্ন ঈদের চাঁদ–(সিরাজামমুনীরা)

কবি কাজী আবদুল ওদুধ (১৯৮৪-১৯৭০) ঈদুল ফিতর প্রবন্ধের মধ্যে লেখছেন যে-
সর্ব প্রকারের জড়তা থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ যোগ্য ভাবে ধর্ম পালন করুক,
পালন করে উৎকর্ষ লাভ করুক,
ঈদুল ফিতরের দিনে এই প্রার্থনা কারি।
কবি তালিম হোসেন মোবারক নামক কবিতায় লেখছেন যে-
ঈদ মোবারক! হেবন্ধু, এই খুশির দিন
নূতন সজ্জা, নব আনন্দ, নয়ালীচিন;
প্রাণের ভবনে উৎসব করে তৃপ্তি সুখ
আজি জাগরণী নূতন দিনের ক্ষুন্নী হীন।
তাঁর আরেকটি ঈদের ফরিয়াদ শীর্ষক কবিতায় লেখছেন যে-
ঈদগাহ হতে ফিরিয়া এসেছি পিছনের সারি হতে
ঘরেতে আমার ঈদ হয় নিকো, ফিরিয়াছি পথে পথে।
উনানে আজিও হাঁড়ি চড়েনিকো, ঈমাণের মায়া নিয়ে
ঈদের প্রহরে গৃহিনী বসেছে জায়নামাযেতে গিয়ে।
বাচ্চারে তাঁর পাঠায়ে দিয়েছে বাহিরে নাঙ্গা গায়ে
দুটি পয়সার ফিৎরা যাগিতে দৌলতীদের পায়ে।
কবি আহসান হাবীব ঈদের উৎসব কবিতায় লেখছেন যে-
পাখার কুঞ্চন তলে কেপে ওঠে কৃপ আলোকে
তারি ফাঁকে দেখায় যায় বর্ণহীন পুরানো পালক
এখনি করিয়া যাবে মিথ্যা প্রত্যয়ের পবিরাহ,
এ আলো ওদের তরে দীপ্তি নয় এনেছে প্রদাহ
এ আলো কুটিল আর এ আলোর দৃষ্টি অভিজাত
এ আলোর মহিমায় হবে আজ আনন্দ নিবিড়
নিবিড় আঁধার তবু ঘিরে রবে এদ্বীপের তার।
কবি সৈয়দ আলী আহসান (ঈদ সংখ্যা ১৩৫০) লেখছেন যে-
এসেছে নতুন দিন
ভয় নাই প্রিয়, দ্বারে কারো করাঘাত
শল্কাহরণ অভয়মন্দ্র শোনো শোনো কামপাতি।
বনভূমি আজ চর্কিত হােিসত হঠাৎ পেয়েছে সাড়া
সুরমা মেঘেছে আখির কোণায় কন্ঠে তুলেছে গান
পঙ্গু আহত বির্মষ দিন হঠাৎ পেয়েছে প্রাণ।
কবি সুফিয়া কামালের কবিতায় ঈদের ও
ইসলামের সাম্যের প্রতিফলন ঘটেছে
কাল ঈদ গাহে ধনী-দরিদ্র মিলিবে যে বুকে বুকে
কাল ঈদ গাহে ধনীর ধনের দীন ও হবে ভাগীদার
পুরাতে হইবে কত দিবসের খালী অঞ্জলী ভার।

এভাবে অগনিত কবিতা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষায় ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য প্রস্ফুটিত হয়েছে। এ ঈদুল ফিতর মুসলিমের সবচেয়ে ধর্মীয় মিলন মেলা। এ মেলার দৃশ্য সাম্য ভ্রাতৃত্ব অন্য কোন অনুষ্ঠানে উৎসবে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। তাই ঈদুল ফিতরের প্রভাব বিভিন্ন ভাষা-ভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে ঐক্য-সাম্য-ভ্রাতৃত্ব বোধ প্রতিষ্ঠার অনন্য উৎসব।
ঈদের দিনে পুরানো ঝগড়া-বিবাদ ভুলে গিয়ে নতুন ভাবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ঘোটা পৃথিবীর মানুষ যেন বন্ধনের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেছে সে রকম অনুভব হয়। ঈদুল ফিতর মুসলিমে মিল্লাতের ঐক্যের প্রতীক ও বড় সমাবেশের মাধ্যমে মুসলিম শক্তির প্রচার-প্রসার ঘটে তাই ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম।

This entry was posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ. Bookmark the permalink.

No Comments