সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) পবিত্র চেহলাম সম্পন্ন॥

সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) পবিত্র চেহলাম সম্পন্ন॥

সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) ছেহলাম শরীফ উপলক্ষে ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে লাখো ভক্তের আগমন ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আশেক ভক্ত অনুরক্তরা বিভিন্ন যান বাহন যোগে মাইজভান্ডারে এসেছেন। বিশ্বের প্রখ্যাত অলি গাউসুল আজম শাহসুফী ছৈয়দ গোলামুর রহগমান প্রকাশ বাবা ভান্ডারীর নাতি সায়খুল ইসলাম আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) এর ছেহলাম শরীফের দুইদিন ব্যাপী ওরশ চলছে।
গতকাল সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) ছেহলাম শরীফ ও স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন,
বিশ্বের দরবারে সুন্নিয়ত ও মাইজভান্ডারী তরিকার বিকাশে সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর (ক.) একজন বিশ্ব ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও সংস্কারক হিসেবে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণি ভুমিকার পালন করেছেন। তাঁর জীবন ইসলামের জন্য উৎসর্গ করেছেন। তিনি জাতি সংঘ কতৃক আয়োজিত ২০০০ সালের আর্ন্তজাতিক শান্তি ও সুফি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০৫ সালে ঘানা সরকার ও কতৃক আর্ন্তজাতিক সুফীজম কতৃক শান্তি পুরষ্কার পান। এছাড়াও তিনি আমেরিকাতে ও থাইল্যান্ডে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাশিয়াতে কমিনিষ্ট সরকার মুসলমানদের এবাদতের স্থান মসজিদ বন্ধকরে দেন। তাঁরই উদ্যোগে রাশিয়ান সরকার পুনরায় মসজিদ গুলো এবাদতের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। আওলাদে রাসুল (দ.) তথা বাবা ভান্ডারীর আওলাদ হিসেবে তিনি ছিলেন ইসলাম ও সুন্নিয়তের সঠিক পথ প্রদর্শক। তার জীবন চরিত্রে আকর্ষিত হয়ে জাতিসংঘের সাবেক সহাসচিব কপি আনানের উপদেষ্ঠা ড. আহাম্মদ মইনুদ্দিন তার কাছে বায়েত গ্রহণ করেছিলেন।
আনজুমানে রহমানিয়া মঈনিয়া মাইজভান্ডারীয়া কতৃক আয়োজিত ছেহলাম শরীফ ও স্মরণ সভায় লাখো ভক্ত অনুরক্তরা অংশগ্রহণ করেছেন। এতে সভাপতিত্ব করেন হুজুর কেবলার স্থলাভিষিক্ত খেলাফতপ্রাপ্ত ও শাজ্জাদানশীন শাহজাদা শাহছুফী ছৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ আলহাছানী আল মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ.)।

ছেলামশরিফ উপলক্ষে আনজুমানে রহমানিয়া মঈনিয়া মাইজভান্ডারীয়া মঞ্জিল ব্যপক কর্মসূচীর আয়োজন করেছে। খতমে কোরান, খতমে গাউছিয়া, রওজায় গিলাপ ছড়ানো, ওয়াজ মাহফিল মাহফিল, মিলাদ ওজিকির, ছেমা মাহফিল চলে। রাত গভীরে আল্লাহু আল্লাহু জিকিরে কম্পিত হয় মাইজভান্ডার এলাকা। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিন ব্যাপী চলে ওরশ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত অনুরক্তরা শত শত যান বাহন নিয়ে দরবারে এসেছেন। মাইজভান্ডারে বিশাল এলাকাজুরে আশেক ভক্তদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রহমানিয়া মঈনিয়া মঞ্জিলের শাজ্জাদানশীন শাহজাদা শাহছুফী ছৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ রহমত ও হেদায়তের উজ্জল ঠিকানা। এ দরবারে লক্ষ লক্ষ আশেখ ভক্ত প্রতিনিয়ত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর ফয়েজপ্রাপ্ত হচ্ছে। মানবপ্রেমই তরিকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার মুল সুর। আল্লামা ছৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ (ক.) এ প্রেমময় আবেদন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে বিশ্ববাসির হ্নদয়ে স্থান করে নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরে তিনি মুসলিম উম্মা দেশ জাতি ও সর্বমানবতার কল্যাণ কামনা করে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্টানের সমাপ্ত করেন। শনিবার সকাল থেকে ভক্তরা কাফেলা সহ যার যার বাড়ীতে ফিরে যান।
এতে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলার সাবেক এমপি আলহাজ্ব রফিকুল আনোয়ার, পি এইচ পি গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফী মিজানুর রহমান মাইজভান্ডারী, আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ার, সামির আহামদ খান, বোরহান উদ্দিন, নাজিমুদ্দৌলা , আনজুমান সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. আলমগীর খান। আলহাজ্ব মো ইকবাল চৌধুরী, আলহাজ্ব মো. কবির চৌধুরী, শাহজাদা মাওলানা ছৈয়দ সামসুল কবীর, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইববাল রিসালপুরী, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেন খান, এ এফ এম মাহমুদুর রহমান প্রমুখ।

This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

No Comments