মাইজভান্ডার শরীফে গাউছুল আ’যম হযরত বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.) বার্ষিক ওরশ শরীফে লাখো ভক্ত জনতার অংশগ্রহণ

মাইজভান্ডার শরীফে গাউছুল আ’যম হযরত বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.)
বার্ষিক ওরশ শরীফে লাখো ভক্ত জনতার অংশগ্রহণ

গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (ক.) অসীম আধ্যাত্মিক
শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আজীবন মুক্তিপ্রত্যাশী মানুষের কল্যাণ করে গেছেন
-শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)

নূর-এ-রহমান চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ঃ দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ছুটে আসা লক্ষ লক্ষ ভক্ত জনতার অংশ গ্রহণে ফটিকছড়ি মাইজভান্ডার শরীফে গাউছুল আ’যম হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.) ৭৬তম বার্ষিক ওরশ শরীফ পালিত হয়েছে। মাইজভান্ডার শরীফের অন্যতম আধ্যাত্মিক প্রাণপুরুষ হযরত বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.)’র ২২ চৈত্র ৫ এপ্রিল’২০১২ ঈসাব্দ বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী ওরশ কর্মসূচীতে ছিল খত্মে কুরআন, খত্মে গাউসিয়া, দুঃস্থদের মাঝে ফ্রি-মেডিকেল চিকিৎসা প্রদান, রওজায় গিলাফ ছড়ানো, জেয়ারত, জীবনী আলোচনা, জিকির ও মিলাদ মাহফিল শেষে আখেরি মুনাজাত। ওরশ শরীফে অংশ গ্রহণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনযোগে আসা ভক্ত জনতার স্রোতে মাইজভান্ডার শরীফের পাঁচ বর্গ কিলোমিটার এলাকা লোকারণ্য হয়ে ওঠে। জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে মাইজভান্ডার শরীফ এলাকায় বিরাজ করে উৎসব মুখর আধ্যাত্মিক আমেজ। গাউছুল আযম হযরত বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.) করুণাধারায় সিক্ত হবার মাধ্যমে নিজেদের কৃত পাপ মোচন ও অশান্তি-দুর্যোগ থেকে নাজাত পাবার আশায় ভক্ত জনতা জেয়ারত, জিকির মুনাজাতে শামিল হয়। তাঁরা অশ্র“সিক্ত নয়নে আল্লাহর রহমত ও আউলিয়ায়ে কেরামের অনুগ্রহধন্য হবার ফরিয়াদ জানায়। এছাড়াও মাইজভান্ডার শরীফের বিরাট এলাকাজুড়ে বসে লোকজ গ্রামীণ মেলা। কুটির শিল্প, খাদ্য পন্যসহ বিভিন্ন পসরা নিয়ে বসা দোকানগুলোতে প্রচুর ভিড় দেখা যায়। বেচাকেনাও চলে জমজমাট। আজ ৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ওরশ শরীফের শেষ দিনে হযরত বাবাভান্ডারী (ক.ছি.আ)’র স্মরণে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও মোন্তাজেম আওলাদে গাউছুল আ’যম শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাইজভান্ডার শরীফ বিপন্ন সমস্যাগ্রস্ত মুক্তিকামী মানুষের বিশেষ আশ্রয়স্থল। এখানে এলে শত দুঃখ-দুর্দশা সত্ত্বেও মানুষ শান্তি ও স্বস্তি খুঁজে পায়। সমগ্র দুনিয়ায় আজ অশান্তি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। লোভ-হিংসার আগুনে পুড়ছে মানুষ। ক্ষমতাধরদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার নগ্ন মহড়ায় দেশে দেশে মুসলমানসহ নিরীহ মানুষের করুণ আর্তনাদ ভেসে আসে। এই অশান্ত হিংসা জর্জর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মানুষে মানুষে ঐক্য ও মিলনের বিকল্প নেই। মাইজভান্ডারী মহাত্মারা মানবিক সম্প্রীতিবোধ প্রতিষ্ঠা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দিকে মানুষকে উজ্জীবিত রেখেছেন। তিনি বলেন, গাউছুল আ’যম হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারী (ক.ছি.আ.) অসীম আধ্যাত্মিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আজীবন মুক্তিপ্রত্যাশী মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গীত করেছেন। তাঁর দর্শন হল শান্তি, সম্প্রীতি ও গণকল্যাণ। লোভ, হিংসা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার রেশ থেকে সৃষ্ট অশান্তি ও অরাজকতার বিষবাষ্প থেকে মুক্তি পেতে হলে আউলিয়ায়ে কেরামের প্রদর্শিত শান্তি ও গণকল্যাণ চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, মাইজভান্ডারী শান্তি ও সম্প্রীতির দর্শন বিশ্বসভায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দিকপাল, শায়খুল ইসলাম, হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ) এর বিরল অবদান বিশ্ব স্বীকৃত। তিনি মুর্শিদ কেবলার প্রদর্শিত পথে চলে জীবন ধন্য করতে ভক্ত-মুরিদদের প্রতি আহবান জানান। মাহফিলে হযরত বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.)’র জীবন দর্শনের ওপর আলোচনায় অংশ নেন শাহ্জাদা সৈয়দ ফরাদ আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.), বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব ফখরুল আনোয়ার, শাহ্জাদা সৈয়দ মাশুকে মইনুদ্দীন আল্-হাসানী, শাহ্জাদা সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী, আন্জুমান কেন্দ্রীয় মহাসচিব শাহ্ আলমগীর খান মাইজভান্ডারী, এডভোকেট ওয়াজিউদ্দীন মিয়া মাইজভান্ডারী, মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া, মাওলানা শেখ সাদী আব্দুল্লাহ, মাওলানা আবদুল সাত্তার, রহমানিয়া মইনীয়া দরসে নিজামী মাদরাসার অধ্যক্ষ জনাব গোলাম মুহাম্মদ খান সিরাজী, আমতল ছিদ্দিকীয়া মইনীয়া সুন্নীয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বাকের আনসারী, মুফতী মাওলানা আলী আযম রেজভী প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আন্জুমান সভাপতি খলিফা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আন্জুমান সাধারণ সম্পাদক খলিফা কাজী মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ্, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিফা মোজাহেরুল আলম, খলিফা মুহাম্মদ আজিমুদ্দীন, আন্জুমান কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক শাহ্ মুহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়া মাইজভান্ডারী প্রমুখসহ আন্জুমানের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। রাতে সালাত-সালাম শেষে মুসিলম উম্মাহর ঐক্য-সংহতি, বিশ্বশান্তি ও দেশ-জাতির ওপর আল্লাহর রহমত কামনায় আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন বাবাভান্ডারীর (ক.ছি.আ.) এর প্রপৌত্র, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীক্বত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আল্-মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.)।

This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

No Comments