হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.) এর ১ম বার্ষিক ওরশ ১৭ আগষ্ট’২০১২ শুক্রবার মাইজভান্ডার শরীফে পালিত হয়

ইসলামের মানবতাবাদী দর্শন প্রচারে ও মানব সেবায় শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)’র ত্যাগ ও অবদান যুগে যুগে স্মরণীয় হয়ে থাকবে
-শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)
বিশ্বনন্দিত আধ্যাত্মিক সূফী সাধক ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দিকপাল, হিজরী পঞ্চদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, শায়খুল ইসলাম, হযরত মাওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.) এর ১ম বার্ষিক ওরশ আজ ১৭ আগষ্ট’২০১২ শুক্রবার, মাইজভান্ডার শরীফে হাজার হাজার ভক্ত-জনতার অংশ গ্রহণে আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। হযরত শাহ্সুফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)’র বার্ষিক ওরশ শরীফে যোগ দিতে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন পরিবহনে আসা হাজার হাজার ভক্ত-জনতার উপস্থিতিতে মাইজভান্ডার শরীফে আধ্যাত্মিক আবহ ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার থেকেই মাইজভান্ডার শরীফ অভিমুখে জনস্রোত নামে। হযরত শাহসূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছ্.িআ.)’র রওজা শরীফকে ঘিরে জিকির, মাইজভান্ডারী মরমী সঙ্গীত, ছেমা’, মিলাদ, মাজার জিয়ারত ও দরূদ-মুনাজাতে শামিল হন ভক্ত-আশেকরা। এ সময় পুরো দরবার এলকায় ভাবগম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
আজ ১৭ আগষ্ট’২০১২ শুক্রবার ফজরের নামাজের পর হযরত শাহসূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)’র রওজা শরীফে গিলাফ চড়ানোর মধ্য দিয়ে ওরশ শরীফের কর্মসূচি শুরু হয়। ওরশ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ও মোন্তাজেম, আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার সভাপতি, আওলাদে গাউছুল আ’যম মাইজভান্ডারী হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আল্-মাইজভান্ডারী (ম.জ্.িআ.)। তিনি বলেন, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ বিশ্ব মানবতার জন্য আল্লাহর করুণা লাভের একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। দল-মত-শ্রেণী ও গোষ্ঠীগত পার্থক্য ভেদাভেদের উর্ধ্বে ওঠে মাইজভান্ডারী মহাত্মারা সর্বস্তরের মানুষকে তাওহিদ, রেসালত ও বেলায়তের শাশ্বত পথের দিকে আহবান করেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে সর্বজনীন মানব প্রেমের দীক্ষা দেয়াই মাইজভান্ডার শরীফের মহাত্মাদের জীবন দর্শন। তিনি আরো বলেন, সারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে শান্তি, গণকল্যান ও ইনসাফ ভিত্তিক মাইজভান্ডারী দর্শন সর্বোত্তমভাবে তুলে ধরেছিলেন শায়খুল ইসলাম শাহূসূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)। ইসলামের মানবতাবাদী দর্শন প্রচারে আজীবন নিজেকে নিবেদিত রাখেন এ মহান সূফী ব্যক্তিত্ব। তাঁর ত্যাগ ও অবদান যুগে যুগে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অশান্ত-দ্বন্দ্বমুখর আজকের দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে নাজাত পেতে হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)’র প্রদর্শিত শান্তি ও মানবিক সম্প্রীতির পথে সবাইকে ফিরে আসার আহ্বান জানান আল্লামা হাসানী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র আল্হাজ্ব এম. মন্জুর আলম, শাহ্জাদা সৈয়দ ফরাদ উদ্দীন আহমদ, শাহ্জাদা সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন, শাহ্জাদা সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন।
হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভান্ডারী (ক.ছি.আ.)’র জীবন দর্শনের উপর আলোচনায় অংশ নেন পীরানে পীর (রাদ্বি.)’র দরবার শরীফের প্রতিনিধি ও খাদেম সৈয়দ আবদুল্লাহ আবদুল কাদের, আন্জুমান সাধারণ সম্পাদক খলিফা শাহ্ মুহাম্মদ আলমগীর খান, সোবহানীয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হারুনুর রশীদ, কালুশাহ্ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম খান, এডভোকেট ওয়াজীউদ্দীন মিয়া, রহমানিয়া মইনীয়া র্দসে নেজামী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম মুহাম্মদ খান সিরাজী, মুফতী সালেহ সুফিয়ান ফরহাদাবাদী, মাওলানা বাকের আনসারী, মাওলানা রুহুল আমীন ভূঁইয়া মাইজভান্ডারী, মাওলানা শেখ সাদী আব্দুল্লাহ, সিঙ্গাপুরের খলিফা শাহ্ মুহাম্মদ মোতাহের, আরব আমিরাত আন্জুমান সভাপতি খলিফা আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ।
ওরশ শরীফে ইরাকের বাগদাদ শরীফের হযরত গাউছুল আ’যম সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী (রাদ্বি.) এর আওলাদ ও দরবার শরীফের প্রতিনিধি খাদেম আবদুল্লাহ আবদুল কাদের, দরবার শরীফের মসজিদের ইমাম ফরিদ সোহানী এবং মিশর থেকে আগত আবদুর রহিম হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.ছি.আ.)’র রওজা শরীফে গিলাফ চড়ানোর জন্য উপহার হিসেবে পীরানে পীর (রাদ্বি.)’র রওজা শরীফের গিলাফ শরীফ মাইজভান্ডার শরীফে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)’র নিকট হস্তান্তর করেন। এ সময় হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.) বাগদাদ থেকে আগত পীরানে পীর (রাদ্বি.)’র দরবারের প্রতিনিধি দলকে গাউছুল আ’যম আবদুল কাদের জিলানী (রাদ্বি.)’র রওজা মোবারকের চড়ানোর জন্য মাইজভান্ডার দরবার শরীফের পক্ষ থেকে একটি গিলাফ উপহার প্রদান করেন। এছাড়াও মালয়েশীয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, দুবাই, মিশর ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হজুর কেবলা (ক.ছি.আ.)’র ভক্ত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ওরশ শরীফে অংশ গ্রহণ করেন।
মাহফিলে বিশেষ অতিথী বাগদাদ গাউছুল আ’যম দরবার শরীফের আবদুল্লাহ আবদুল কাদের বলেন, বিশ্বব্যাপী মাইজভান্ডারী ত্বরীক্বার প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শাহূসূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আল্-মাইজভান্ডারী (ক.ছি.আ.)। তাঁকে হারিয়ে আজ আমরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছি। আল্লাহ্পাক যেন সবাইকে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণের তওফিক দান করেন।
রাতে সালাত-সালাম শেষে অশান্তি-দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ, দেশের অব্যাহত শান্তি-অগ্রগতি এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনায় আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আল্-মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ.)।
শান্তিপূর্ণভাবে ওরশ উদ্যাপনে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়ায় আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান হয়।

সুফি দেস্ক্
তারিখ ঃ ১৭/০৮/২০১২ ইং

This entry was posted in বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী. Bookmark the permalink.

No Comments