০৯ জুন ২০১২ ইং শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ মাইজ ভান্ডারী ক্যালিগ্রাফি ফাউন্ডেশন’ এক ব্যতিক্রমী ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে

‘ক্যালিগ্রাফি’ মুসলিম শিল্পকলার অন্যতম মাধ্যম । ইংরেজি শব্দ ‘calligraphy’ এসেছে গ্রীক শব্দ ‘kalligraphia’ থেকে।

এর অর্থ দাঁড়ায় ‘kallos’ মানে সৌন্দর্য ও ‘graphein’ মানে লেখা। ক্যালিগ্রাফি হচ্ছে মূলত: নান্দনিক হস্তলিখন পদ্ধতি বা সংক্ষেপে লিপিকলা ।

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, প্রাচীন মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক্সের নান্দনিক শিলালিপি হচ্ছে ‘ক্যালিগ্রাফি’র প্রাথমিক প্রচেষ্ঠা। ইসলামী লিপিকলার উন্মেষ ও এর প্রসার ঘটেছিল ইসলাম ধর্মের প্রচারের পাশাপাশি। আরবি ভাষায় লিখিত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআনের অনুলিপি তৈরি ও প্রচারের প্রয়োজনেই বিকশিত হয়েছিল ইসলামী লিপিকলা। পরবর্তী সময়ে এই চর্চা ধর্মীয় প্রচারণার সঙ্গে কাঁচ ও মৃৎশিল্প, ধাতুশিল্প, বয়নশিল্প, মুসলিম স্থাপত্য, সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্প মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

অতীতে মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে প্রসার ঘটেনি ক্যালিগ্রাফি শিল্পের। দেশের মূলধারার শিল্পচর্চায় যুক্ত হতে পারেনি এই ক্যালিগ্রাফি। তবে আশার কথা হচ্ছে, ধীরে ধীরে এই ক্যালিগ্রাফি চর্চায় এগুচ্ছে বাংলাদেশ। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতাও হচ্ছে।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এমনি এক প্রতিযোগিতার। ব্যতিক্রমী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ‘সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ মাইজ ভান্ডারী ক্যালিগ্রাফি ফাউন্ডেশন’।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় চার ক্যাটাগরির শিল্পীরা। এরা হচ্ছেন, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ‘ক’ ক্যাটাগরি, পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ‘খ’ ক্যাটাগরি, একাদশ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত ‘গ’ ক্যাটাগরি ও ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন বয়েসের প্রতিযোগিদের জন্য উন্মূক্ত থাকে।

সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারী ক্যালিগ্রাফি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী প্রতিযোগিতা আয়োজনের নানাদিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম পরিপূর্ণতা নিয়েই এসেছে। সুস্থ সংস্কৃতিচর্চাকে সমর্থন করে ইসলাম। ক্যালিগ্রাফি ইসলামী সংস্কৃতির একটি অংশ। এসকল ইসলামিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটলে জঙ্গিবাদের মতো অপসংস্কৃতির হাত হতে আমরা রক্ষা পাবো। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকেও রক্ষা পাবো আমরা।’

ক্যালিগ্রাফি চর্চা ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত প্রজন্মের জন্য আর্থিক সম্বৃদ্ধি আনায়নের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের ক্যালিগ্রাফি বিদেশে বিক্রি হত, যার মধ্যে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারি। তাছাড়া ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যারা স্বল্প বেতনে মাদ্রাসা-মসজিদে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাদের জন্যও ক্যালিগ্রাফি চর্চা খুবই সহায়ক হতে পারে। এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি শিল্পমাধ্যম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা ক্যালিগ্রাফি চর্চায় অত্যন্ত পারদর্শীতা প্রদর্শন করছে। তারা যাতে ইরান, তুরস্ক প্রভৃতি দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে পারে, সেজন্য সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারী ক্যালিগ্রাফি ফাউন্ডেশন সহায়তা দেবে।’

চার ক্যাটগরিতে এই প্রতিযোগিতায় ৫০ জন প্রতিযোগি অংশ নেয়। ১২ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত এসব আঁকা ক্যালিগ্রাফি জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে প্রদর্শিত হবে।

This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

No Comments