Welcome to মাইজভান্ডারীদর্পন

Featured Post

পটিয়া আকবরিয়া দরবার শরীফে ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর চন্দ্র বার্ষিকী ওরশ শরীফ পালিত
পটিয়া আকবরিয়া দরবার শরীফে ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর চন্দ্র বার্ষিকী ওরশ শরীফ পালিত চট্টগ্রাম পটিয়া হাইদ গাঁও শাহ আকবরিয়া দরবার শরীফের উদ্দ্যোগ বিশ্ব আধ্যাত্মিক সূফী সাধক,ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দিকপাল,...
Read More ...


Comment

Comment here if you like this plugin.

Member Login

Sign Up Now!

Forgot Password !

New password will be e-mailed to you.

Powered by

নবী করিম (দঃ) কে ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান করার আবশ্যকতা

নবী করিম (দঃ) কে ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান করার আবশ্যকতা

আল্লাহ সুবহানাহুতা’য়ালা বলেন,হে নবী! নিশ্চয় আমিই আপনাকে (রাসূল বানিয়ে) প্রতক্ষদর্শী সাক্ষ্যদাতা ও সুসংবাদেও বাহক এবং সতর্ককারী হিসাবে পাঠিয়েছি যাতে (হে মুসলমানেরা!) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাছুলের উপর ঈমান আনবে,তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করবে তাঁর প্রতি আদব-সম্মান শ্রদ্ধা দেখাবে এবং সকাল সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করবে। (আল-ফাতহঃ ৯) হে ঈমানদারারা! (কোন ব্যাপারেই) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আগ বাড়িয়ে এগিয়ে যেও না। আল্লাহকে ভয় করো (যাতে কখনও রাসূলের সাথে বেআদবী না হয়ে যায়)। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শুনেন,সবকিছু জানেন। (হুজরাতঃ ৯) হে ঈমানদারারা! তোমরা নিজেদের আওয়াজ কণ্ঠস্বর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কণ্ঠস্বর থেকে উঁচু করো না। এমন উচ্চশব্দে কথা ও বলবে না যেভাবে তোমরা একে অপরের সাথে উঁচু গলায় বল। এমন যেন না হয় যে,তোমাদের সমস্ত আমলই (ঈমানসুন্ধ) বরবাদ হয়ে যাবে,আর তোমরা (তোমাদের ঈমান আমল বরবাদ হওয়ার ব্যাপারটি ঘুণাক্ষরেও টের পাবে না। নিঃসন্দেহে যেসব লোক আল্লাহর রাসূলের দরবারে কথা বলার সময় আদব রক্ষার্থে নিজেদের আওয়াজ নিচু রাখে আসলে তারা সেই লোক যাদের অন্তরকে আল্লাহ তাকওয়ার জন্য যাচাই করে বাছাই করে নিয়েছেন। এদেরই জন্য ক্ষমা ও বড় ধরনের পুরস্কার রয়েছে।
নিশ্চয়ই যারা আপনাকে হুজরাগুলোর বাইরে থেকে ডাকাডাকি করে এদের জন্য অধিকাংশই (আপনার উচ্চ মর্যাদা ও আপনাকে সম্মান জানানোর পন্থা ও পদ্ধতির ব্যাপারে) কিছুই বুঝে না।(হুজরাতঃ ৩-৪)
আল্লাহতা’য়ালা বলেন,(হে মুসলমান!) নিজেদের মাঝে রাসূলকে ডেকে আনাকে তোমাদের একে অপরকে ডেকে আনার মত ব্যাপার মনে করো না।(নুরঃ ৬৩)
ওপরের আয়াতসমূহ এ কথার স্পষ্ট দলিল প্রমান যে,আল্লাহতা’য়ালা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভক্তি শ্রদ্ধা করা এবং তাঁর প্রতি যথাযত ইজ্জত সম্মান দেখানো মুমিন মুসলমানের ওপর বাধ্যতামূলক ও অবশ্য পালনীয় করে দিয়েছেন। ওপরে উদ্ধৃত প্রথম আয়াতটিতে ঈমান আনার নির্দেশের সাথে সাথেই সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ব্যাপারটি উল্লেখ করেছেন। এর পরেই আল্লাহর তসবীহ তথা গুনগানের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ স্বয়ং নিজের তসবীহ তথা গুণগানের আগেই নিজের প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করেছেন।
এতে বুঝা যায়,নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্মান,শ্রদ্ধাবোধ ও চেতনা ঈমাননে সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আল্লাহ চান তাঁর হাবীবের প্রতি শ্রদ্ধা সহকারে বান্দাহ আল্লাহর তাসবীহ গুণগান তথা ইবাদত-বন্দেগী করুক। আল্লাহর ইচ্ছা ও পছন্দ এটাই। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন,‘তুআজ্জেরুহু’ অর্থাৎ তোমরা তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা কর। আরবী ভাষায় প্রখ্যাত মুফাসসির ও ব্যাকরণবিন ‘মুবরাদ’ এর অর্থ করেছেন তোমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও আতিশয্য করো। ‘আখফাশ’ বলেছেন এর অর্থ তোমরা তাকে সহায়তা সহযোগিতা কর। আল্লামা তাবারী এ থেকে নূসরত ও মদদ অর্ধ নিয়েছেন। কোন কোন কেরআতে ‘তুআজ্জেরুহু’ শব্দটি দু’টি যা (আরবি হরফ) সহকারে পাঠ নিয়ে এর অর্থ করা হয়েছে,তাকে ইজ্জত সম্মান কর। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর ছ’লবসহ অন্যান্য ভাষাবিদগণ বলেছেন,নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ‘আগ বাড়িয়ে যাওয়ার যে নিষেধাজ্ঞা’-এর অর্থ হচ্ছে- কোন কথা হুজুর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বলার আগেই না বলা অথবা হুজুরের সাথে কথাবার্তার সময় আগে আগে বলে বেআদবী না করা।
হযরত সাহল (রাঃ) বলেন,নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বলার আগে তোমরা বলে ফেলবে না। তিনি যখন কথা বলেন তখন কান লাগিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং চুপ থাকবে। মুসলমানদেরকে এ কথাও বলা হচ্ছে,কোন ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফয়সালা সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগেই তারাহুরা করে আগে আগে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিও না,তাদেরকে এও নিষেধ করা হয়েছে যে,যুদ্ধ কিংবা অন্যান্য যে কোন বিষয় ও দ্বীনি ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মতের পরিপন্থি কোন মত বা সিদ্ধান্ত যেকারো কাছ থেকে না নেয়। একই বক্তব্য হযরত হাসান বশরী,মুজাহিদ,দাহ্‌হাক,সুদ্দী এবং সুফিয়ান সওরী (রহঃ) সবার।
এরপর আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে এর পরিপন্থি কাজ যাতে না করে সে জন্য উপদেশ দিয়েছেন এবং সতর্কও করেছে। আল্লাহ বলেন,‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর,তিনি সবকিছু শুনেন সবকিছু জানেন’।(হুজরাতঃ ১)
ইমাম আবু মোহাম্মদ মক্কী (রহঃ) বলেন,কর্কশ ও অশোভন ভাষায় রাসূলের সাথে কথা বলার চেষ্টা করো না বরং তাঁর প্রতি সর্বোচ্চ মাত্রায় অত্যান্ত আদব ও ভদ্রতার সাথে তাকে ডাকবে যেমন ইয়া রাসূল্লাহ! ইয়া নবী আল্লাহ! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “তোমরা রাসূলাল্লাহকে এমনভাবে ডেকো না যেমন নিজেদের মধ্যে একে অপরকে ডাকো।” (নুরঃ ৬৩)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের রীতি প্রথাঃ–
সাহাবায়ে কেরাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। হযরত আমর ইবনে আস (রাঃ) বর্ননা করেন,আমার কাছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তুলনায় অধিক প্রিয় আর কেউ ছিলেন না। অত্যধিক ভক্তি শ্রদ্ধা ও সমীহ করার কারনে আমি জীবনে কখনও তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারিনি।
ইমাম তিরমিযী হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণণা করেছেন যে,নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘর থেকে বের হয়ে আসতেন তখন উপস্থিত সাহাবাদের দৃষ্টি নিচের দিকে নত হয়ে যেত।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সর্বাবস্থায় মনোযোগ নিবদ্ধ রাখা এবং তাঁর আনুগত্য করা প্রত্যেক ঈমানদারের উপর ফরজ।

মদীনা মুনওয়ারা

No Comments