Welcome to মাইজভান্ডারীদর্পন

Featured Post

বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (রহঃ) ওফাত হয়েছেন।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত দরবার-এ গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর সাজ্জাদানশীন আওলাদে রাসুল (দঃ) বাবা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী (কঃ) গত ১৭ ই আগষ্ট ২০১১ ওফাত হন। তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় নামাজে জানাজা মাওলানা নুরুল...
Read More ...


Comment

Comment here if you like this plugin.

Member Login

Sign Up Now!

Forgot Password !

New password will be e-mailed to you.

Powered by

হযরত গাউছুল আযম শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী বাবাভান্ডারী (ক:) এর জীবনাদর্শ ঃ

হযরত গাউছুল আযম শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান আল্‌-হাসানী ওয়াল হোসাইনী বাবাভান্ডারী (ক:) এর জীবনাদর্শ ঃ

**হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলার পবিত্র দেহের গঠন বিবরণীঃ
তিনি মধ্যম আকার বিশিষ্ট মানব ছিলেন,কিন’বিসত্মর লোকের মধ্যে দণ্ডায়মান হইলে তাহাকে সব চাইতে লম্বা দেখাইত। তাঁহার পবিত্র দেহের রং ছিল গ্মন্দমী লালিমা যুক্ত,সময় সময় লাল জবা ফুলের মত। আবার কখনও তাহার পবিত্র দেহ কা’চা হলুদের রং পরিস্ফুট হইত। কোন সময় পূর্ণ চাদের সম উজ্জল দেখাইত। আবার কখনও ধুসর বর্ণ ধারণ করিত। ইহা তাহার জালালি,জামালি,ছলুকি এবং হায়রতি অবস’াদির অভিব্যক্তি ছিল। তাহার মধ্যম আকারের মসত্মকে কর্ণদ্বয়ের লতি পর্যনত্ম কৃষ্ণ বর্ণ মসৃন বাবরি কাটা চুলে সিংগার করিলে অতি সুন্দর দেখাহত। তিনি লিম্মা,জুম্মা,ও আফরা পদ্ধতির চুল রাখিতেন। শশিসন মনোরম জ্রেঅতি বিশিষ্ট জশসত্ম কপাল,অবিছিন্ন ভ্রুযুগল নব চন্দ্রের ব্যায় চিকন,চক্ষুদ্বয় বড় লজ্জাপূর্ণ সুরমা যুক্ত অক্ষি পুটদ্বয় পাতলা,মুখ সুশী,দনত্মপাটীদ্বয় মুক্ত ছড়ার ন্যায় সমান ও উজ্জল দেখাইত। নাসিকা সামান্য উচু ও মনোরম,গন্ডদ্বয় মাংসপূর্ণ,ওষ্ঠদ্বয় সরুলাল বর্ণ,দাড় মোবারক অনতিদর্ঘি ও ঘন এবং গ্রীবাদেশ মোটা ও লম্বা। তাহার হাতলীদ্বয় প্রসস’লালচে রং যুক্ত,বাহুদ্বয় আজানু লম্বিত আংগুলগুলি কলমি,নখগুলি কর্পূর রংধারী অংগ প্রত্যংগাদি মাংস পূর্ণ এবং উরুদ্বয় অল্প মাংস বিশিষ্ট ছিল। তাহার বক্ষস’ল প্রশসত্ম ও চওড়া,মাংশাল,লোম ও কেশবিহীন ছিল। ুদর চওড়া ও লম্বা এবং হাতার দেহের চামড়া কাগজের মত পাতলা ছিল। পিঠে লেঅম ছিল না। উদর ও পিঠ আয়নার মত পরিষ্কার ছিল। তাহার পদদ্বয় সরু ও পাতলা,পায়ের আঙ্মল লম্বা,চিকন ও অবিচ্ছিন্ন ছিল। পায়ের তালু রক্তিম বর্ণ ছিল। তিনি মস’র গতিতে চলিতেন। তিনি মিষ্টিভাষী ছিলেন,তাহার কন্ঠের আওয়াজ অতিমধুর ছিল। তিনি যেই পথ দিয়া চলিতেন সেই পথ গোলাবের সুঘ্রাণে পূর্ণ থাকিত। তাহার চক্ষুতে চুম্বকের মত এক মনোহর আকর্ষণী শক্তি বিদ্যামন ছিল। তাহার পোষাক পরিচ্ছেদ হিসাবে সাধারণতঃ সাদা মসৃণ কাপড়,চটিজুতা ও জবাকুসুম তৈল ব্যবহৃত হইত। তাহার পানাহারে কমলালেবু,চা,তামাক,মাগুর মাছ,সিমের দানা ব্যবহারে সন’ষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পাইত।
**হযরত বাবাভান্ডার িকেবলার পরলোক গমণের পূর্বাভাবঃ

বড় শাহজাদা সৈয়দ খায়রুল বশর সাহেব জনাব বাবাভান্ডারী কেবলার পরলোক গমণের কযেকদিন পূর্বাস্বপ্ন যোগে দেখের যে,“গাউছিয়া রহমান মনজিল” প্রবল ভূমি কম্পের দ্বারা ভষিণভাবে কাপিতেছে। এই দুঃস্বপ্ন দেখিয়অ তিনি জীবত হইয়া অত্যনত্ম ভতি হইলেন এবং স্বীয় কামরার দরজা খুলিয়া বারান্দায় পদার্পর্ণ করেন,তিখন মাওলানা সৈয়দ অঅবদুস ছালাম ইছাপুরী সাহেব মেহমান খানা হইতে বাহির হইয়া সেই বারান্দায় অতিক্রম করতঃ বাবা ভান্ডার িকেবলা কাবার হুজরা শরীফে যাইতেছিলেন। তখন রাত তিন ঘটিকা। শাহজাদা সাহেব তাহাকে দেখিয়া ব্যসত্মতার সহিত বলিলেন,“আসুন! আমি আপনাকে ডাকিতে মনস’করিয়াছি,আপনি নিজেই আসিয়াছেন,বেশ হইয়াছে। আপনার সহিত আমার বিশেষ আলাপ আছে।” ইছাপুরী সাহেব হুজুরা শরীফ হইতে আসিয়া আলাপ করিবেন বরিয়অ হুজুরা শরীফে প্রবেশ করিলেন। শাহজাদা সাহেবও হুজুরা শরীফের দরজায় থাকিয়া বাবাভান্ডারী কেবলাকে তাজিম করিলেন। ইছাপুরী সাহেব হুজরা শরীফে প্রবেশ করিয়া দেখেন যে,বাবাভান্ডারী কেবলা অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাহার দিকে তাকাইতেছেনে ইছাপুরী সাহেব বিনীতভাবে তাজিম করিলে বাবাভান্ডারী কেবলা তাহার দিকে তাকাইয়া চাঁদর দিয়া স্বীয় মুখমন্ডল আবৃত করিয়া লইলেন। পুনরায় তিনি তাজিম প্রদর্শণ করিয়া হুজরা শরীফ হইতে প্রস’ান করিয়া শাহজাদার কামরায় প্রবেশ করিবেন। শাহজাদা সাহেব তাহাকে সেই স্বপ্নের কথা বর্ণনা করিলেন। ইছাপুরী সাহেব বলিলেন,“বোধ হয় আপনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা হৃদয়ংগম করিতে পারিয়াছেন। আমার অনুমান বাবাভান্ডারী কেবলার পরলোকগমনের দিন অতি সন্নিকট।” শাহজাদা সাহেব বলিলেন,“আমিও তাহাই ভাবিয়াছি”। ময়মনসিংহ জিলার অনত্মর্গত করিমগঞ্জ নিবাসী আবদুল কাদের ভুইয়া বর্ণনা করিয়াছেন যে,তিনি একদা হুজুরা শরীফে জনাব বাবাভান্ডারী কেবলার সম্মুখে হাজির হইলে বাবাভান্ডারী তাহাকে বলেন যে,“তুমি আমার জন্য একখানা ঘর বানাইয়া দাও আমি সেই ঘরে থাকিতে চাই।” তাহার পরলোক গমনের পূর্বে এইরূপ আরও অসংখ্য আভাষ পাওয়া গিয়াছিল। বেচাল শরীফ আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বন্ধুদের পরলোক গমনের বিষয়ে পবিত্র কোরআনে গোষণা করিয়াছেন,“এবং যাহারা আল্লাহর পথে নিহত হইয়াছে,তাহাদিগকে মৃত বলিওনা,বরং তাহারা জীবিত,কিন’তোমরা তাহা অবগত নও।” সাধারণতঃ মানুষ ইহধাম পরিত্যাগ করিয়া পরধামে স’ানানত্মরিত হওয়াকে মৃত্যু বলা হয়। নবী,রাসুল,গাউছ এবং কুতুবগনের মৃত্যুকে বেচাল বলা হয়। নবী,রাসুল,গাউছ এবং কুতুবগনের মৃত্যুকে বেচাল বলা হয়। সমদুয় সৃষ্টির (মওজুদাত) জীবন িশক্তির মুল্যোৎপাটন হওয়া মৃত্যুনামে অভিহিত। মৃত্যু একখানা সেতু সদৃশ যাহা অত্রিম করার পর বন্ধু তাহার পরম বন্ধুর সহিত মিলিত হয়। সৃষ্টির আদিকাল হইতেই মৃত্যু উহার সাথে সাথে আসিয়া আদেশ অপেক্ষায় কাল অতিবাহিত করে। মৃত্যু দ্বারা সমদুয় সৃষ্টি লয় প্রাপ্ত (নিসত্ম) হয় না বরং তাহা স’ানানত্মরিত বা রূপানত্মরিত হয় মাত্র। অতঃপর তাহার জন্য বাহন প্রদান করা হয় যাহা,ধ্যানের জগতে (অঅরমে বরজখ) মৃত্যু ব্যক্তির উপযুক্ততা অনুসারে প্রদত্ত হয়। তাই সেই সৃষ্টি (মওজুদ বরজখ) মরে না,বরং চিরস’ায়ী জীবন প্রাপ্ত হয়। তাহার শরীরের অংশ সমূহ পৃথক হইয়া যায় না। ইহধামে যেই অবস’ায় ছিল,অনুরূপ অবস’ায় স’ায়িত্ব লাভ করে। ইহা নবী,রসুল ও অলি আরেফের ফজিলত। ১। কোরআন সুরা বাকারা,১৫৪ আয়াত। ২। ফছুছুল হেকম মহিউদ্দিন ইবনুল আরবী ১৬৯ পৃষ্ঠা। হযরত বাবাভান্ডরী কেবলা সুদীঘৃ একাত্তর বৎসর ছয় মাস কাল ইহধামে আধ্যাত্মিক লীলা সমাপন করিয়া ১৯৩৭ খৃষ্টাব্দের ৫ই এপ্রিল,১৩৫৬ হিজরী সালের ২২ শে মোহরম,১৩৪৩ বাংলার ২২শে চৈত্র,সোমবার ভোর ৭ টা ৫৫ মিনিটের সময়ে পরম প্রিয়তম মহান আল্লাহর সহিত শুভ মিলনার্থে বিশ্ববাসীকে ছাড়িয়া পবিত্র অমর ধামে শুভ যাত্রা করেন। তাহার পবিত্র মহান আতমআর উপর অবিরাম আল্লাহতায়ালার অফুরনত্ম শানিত্ম ও করুনাবারী বর্ষিত হউক। বাবাভান্ডারী নাই। বাবাভান্ডারী নাই। ধরণীর অনত্মস’ল হইতে একটা অস্ফুট আর্তনাদ উত্থিত হইয়া আকাশ বাতাস উতলা করিয়া তুলিল। এতদিন যাহাকে পাইয়া বিশ্ব প্রকৃতি শানত্ম হইয়াছিল,আজ আবার তাহাকেহারাইয়া হাহাকার করিতে লাগিল। মিলনোৎসবের প্রধান অতিথি চলিয়া গেলে সভাগৃহ যেমন নিষপ্রভ হইয়া যায়,বাগ-বাগিচা হইতে বুলবুল উড়িয়া গেলে যেমন করিয়া তরূপল্লবে বিরহ ঘনায়,বিশ্ব ধরণীরও আজ সেই দশা হইল। যাহার আগমন তোরণে প্রেরণে একদিন বাশী বাজিয়া ছিল নানা পত্র পুষ্পে যাহাকে অীভনন্দিত করা হইয়অ ছিল,দিকে দিকে আনন্দ মেলা বসিয়াছিল,সেই সম্মানিত অীতথি আজ চলিয়া গেলেন। উৎসব ভূমি আজ মলিন,নিষ্ট্রভ হইয়া পড়িল। জলে স’লে,লতায়,পাতায়,ফুলে,ফলে,তৃণে তৃণে শোকের ছায়া নামিল। সমসত্ম হাসি গান থামিয়া গেল;দিকে দিকে শুধু একটা করুন ক্রন্দনের সুর শুনা যাইতে লাগিল। জড় চেতনে আজ এমনি করিয়া শোকের মাতম উঠিল। সকলেই মনে করিতে লাগিল কী যোন তাহার নাই কি যেন সে আজ হারাইয়া ফেলিয়াছে,কোথায় যেন খানিকটা শুণ্র হইয়া গিয়অছে। মুহুর্তের মধ্যে টেলিগ্রাম যোগে হযরত বাবা ভান্ডারীর মৃত্যু সংবাদ পাক ভারত ও সুদৃর বার্মার চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িল,দেশ বিদেশে হইতে আশেকান ও মুরিদানের উপসি’তির অপৈক্ষায় ৪৮ ঘন্টা পর্যনত্ম তাহার দাফন কাফনের কাজ স’গিত রাখা হইল। বুধবার পূর্বাহ্ন আট ঘটিকায় তাহার লাশ মোবারক গোছলের কাজ সমাধা করেন। অতঃপর তাহার লাশ মোবারক সাদা সুতার কাপড়ের কাফনে আচ্ছাদিত করা হয় এবং তাহাকে তাহার পালষ্কের উপর স’াপন করতঃ হুজুরা শরীফের সামনের ময়দানে সামিয়নার তলে রাখা হয়। বেলা ১১ টার সময় তাহার লাশ মোবারক মহাসমারোহের সহিত লক্ষ কন্ঠে আল্লাহ আকবর ধ্বনি সহকারে বাড়ীদক্ষিণ দিকস’মাঠে লইয়া যাওয়া হয়। বড় শাহজাদা সৈয়দ খায়রুল বশর সাহেবের আদেশে শাহজাদা সৈয়দ আবুল বশর সাহেব জানাযার নামাযের ইমামতি করেন। অতঃপর তদীয় লাশ মোবারক পাক দরবারের ময়দানে সামিয়ানার তলে রাখা হয়। লাশ মোবারক বাহকগনের সকলেই একবাক্যে বর্ণনা করিয়াছিলেন যে,তাহার লাশ মোবারক বণৃনাতীত ভারী ছিল জোহরের নামাজ শেষে মাওলানা আবু সৈয়দ মোফায়েল আহম্মদ সাহেবের ইমামতিতে দ্বিতীয় বার জানাযার নামাজ সমাপন করা হয়। এই মাজায়াতেও প্রায় দশ হাজার লোক সামিল ছিল,তাহার কবরে নতুন পাটি,তোশক চাঁদর দুইটি বালিশ ওেয়ার জন্য সৈয়দ মোহাম্মদ হাশেম আদিষ্ট ছিলেন। তাই তাহা পালন করিতে দেওয়া হয়। মাইজভান্ডার ও আজিম নগর গ্রাম নিবাসীগন তাহার কবরের কাজে াংশ গ্রহণ করিয়াছিলেন। বাকলিয়া নিবাসী সুতার মিস্ত্রিগন ও রাজমিস্ত্রিগন যথাক্রমে সেগুন কাটেল তাবুত এবং কবর পাকা করার কাজ সমাধা করে। কবরের কাজ অল্পক্ষনের মধ্যে সমাধা করা হয়। তারপর অনুরক্ত ভুক্ত ও আশেকান আতর,গোলাপ কর্পূর তাজা ফুল ইত্যাদি নানা প্রকার সুগন্ধি দ্রব্যাদি মাটির সহিত মিশাইয়া দেয়। অতঃপর আল্লাহু আকবর ধ্বনি সহকারে দিক বিদিক মুখরিত করিয়া তাহার লাশ মোবারক তাবুতের আন্দর রাখা হয়। এই সময় উপসি’ত ভক্ত শিষ্যদের অবস’া এবং ঐ স’ানের দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। দাফনের কাজ সমাধা করার পর মাগরেবের নানাবিধ আলো প্রজ্বলিত হইলে রওজা পাকের চারিদেকে হাফেজ ক্কারী মৌলানা মৌলবীগন কোরআন তেলাওয়াত,তসবিহ তাহলির ও মিলাদ পাঠে মনোনিবেশ করেন। এই ভাবে চাহরম শরীফ পর্যণ্‌ত রওজা পাকে বিপুল জন সমাবেশ হইতে থাকে। তাহার বেচাল পর্বের তৃতীয় সাল ১৯৩৬৯ খৃষ্টাব্দের ৫ই এপ্রিল তারিখ তদানীনত্মন বৃটিশ সরকারের উজির কাজী মোশার ১। (ক) মদারেজুন নবুয়াত-মাওলানা আবদুল হক দেহলভী ২য় খন্ড ওফাতে রসুল করিম অধ্যায়ের ৮১৫ পৃষ্ঠা। (খ) মৃত্যুর দুয়ারে মানবতার রূপ মাওলানা আবদুল কামাল আজাদ,রেহাতরে করিম অধ্যায় ২৫ পৃষ্ঠা। রফ হোসেন পবিত্র রওজার ইমামরত কাজে ভিত্তি স’াপন করেন। ক্রমান্বয়ে রওজা মোবারকের কাজ সমাধা করা হয়। এই রওজা মোবারকের সংলগ্ন সত্মানের মাইজভখান্ডার শরীফে প্রতি বৎসর ২ শে চৈত্র তাহার পবিত্র ওরছ শরীফ মহাসমারোহের সহিত সমাপন করা হয়।

**হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা উত্তরাধিকারী আওলাদঃ
হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলার ইনেত্মকালের সময় তাহার চারি পুত্র ও দুই কন্যা উত্তরাধিকারী রাখিয়া যান। প্রথমপুত্র- শাহজাদা সৈয়দ খায়রুল বশর,দ্বিতীয়পুত্র- শাহজাদা সৈয়দ আবুল বশর,তৃতীয়পুত্র-শাহজাদা সৈয়দ মাহবুবুল বশর,চতুর্থপুত্র-শাহজাদা সৈয়দ শফিউল বশর,প্রথমকন্যা-শাহজাদী সৈয়দা মায়মুনা খাতুন,দ্বিতীয় কন্যা-শাহজাদী সৈয়দা সাজেদা খাতুন। ইহা ছাড়া অসংখ্য আধ্যাত্মিক ওয়ারেশ অলীয়ে কামেল তাহার উত্তারাধিকারী খলিফা বিদ্যমান আছে।

হযরত বাবা ভান্ডারীল বেচালের পর ফয়েজ ও রহমত দানঃ হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা ইহধাম ত্যাগ করিয়া পরলোক গমন করিয়াছেন বটে কিন’তাহার আধ্যাত্মিক প্রভাব,প্রেম প্রীতি ও আকর্ষণ পূর্বের মতই অপরিবর্তীত ভাবেই বিদ্যমান রহিয়াছে। সশরীরে তাহার দৈহিক দর্শন ও তাহার পবিত্র দেহের মিলনই মানব চোখের ানত্মরালে বিরাজ করিতেছে। তাহার অনুরক্ত ভক্ত ও আশেকান সকল সময় তাহার চোখের সামনে রহিয়াছে। তাহার ধ্যানের ঘোরে অথবা মোরাকবার আসরে তাহার বেলায় তের জ্যোতি প্রত্যক্ষ অবলোকন করিয়া যথারীতি তাহার অনুগ্রহ লাভ করিতেছে। তাহার স্বপ্নযোগে দৈববাণী যোগে তাহার নিকট হইতে াঅদেশ নির্দেশ লাভ করিয়া নিরাপদে জীবন যাপন করিতেছে। বলা বাহুল্য,আল্লাহর পথে যাহারা জীবন উৎসর্গ করিয়া মৃত্যু বরণ করিয়াছেন,তাহারা মরিয়অও অমর হইয়া আছেন। সেই অলি আল্লাহগন তাহাদের অনুরক্ত ভক্তদের সহিত কিরূপ সম্পর্ক রাখিবেন তাহা মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি (রঃ) তাহার মসনবী গ্রনে’বর্ণনা করিয়াছেন। গোফত জানম াঅজ মুহিবুবাদুর নিসত্ম লেকেবেরু আমদন দস’র নিসত্ম সেই অলিমগণের প্রাণ তা’হাদের শিষ্য ও বন্ধুবর্গের নিকট হইতে দুরে থাকিবে না। কিন’তাহা (স’ুল দৃষ্টিতে) দেখা যাওয়অর রীতি প্রচলন নাই,তাহা অনুভূতির বিষয়। এই প্রসংগে হযরত বাবাভান্ডারী কেবলার অনত্মর্ধামের পরের কিছু অলৌকিক কেরামত লিপিবদ্ধ করিলাম।

(১) চট্টগ্রাম জিলার পটিয়া থানার অনত্মর্গত নলআন্ধা নিবাসী হাফেজ আবু সৈয়দ শাহের বর্ণনাঃ
পটিয়া থানার ছনহারা মৌজা নিবাসী এজাহার মিঞা নামক এক ছেলে পাগল হওয়ার পর বোবায় পরিণত হয়। সে অমাার সাথে বাবাভান্ডারীর দরবারে যায়। সে দরবারে কেধমতে থাকিয়া রহমত লাভ করার অীভলাষে শাহজাদা সৈয়দ মাহবুবুল বশর সাহেবের কামরায় থাকে। সে তথায় থাকিয়া কিছু কিছু কেধমত কাজ নির্বাহ করিত। একদা কাজের ত্রুটির জন্য সে প্রহৃত হয় এবং কান্নার সাথে সাথে তাহার জবান খুরিয়া যায়। এখন সে নিয়মিত পরিস্কার ভাবে কথা বলিতৈ সক্ষাম। বাবাভান্ডারীল মহিমা বলে এই বোবা ছেলে জবান ফিরিয়া পাইল।
(২) শাহজাদা সৈয়দ আবুল বশর সাহেবের নিকট ডি এস পি ইউছুপ সাহেবের চিঠিঃ
তিনি লিখিয়াছেন,“আমি এখন আজমীর শরীফে আছি। একদিন দেখিলাম সদর রাসত্মার এক পার্শ্বে বাবাভান্ডারী কেবলা উপবিশষ্ট। তিনি আমাকে দেখিয়া বলিলেন “অমনাইয়া তামাক খাওয়াবি”। অর্থাৎ ওহে বৎস আমাকে তামাক পরিবেশন কর। তাহাকে অপ্রত্যাশিত ভাবে সদর রাসত্মার পাশ্বে দেখিতে পাইয়া বুঝিলাম তিনি আজমীর শরীফে াাসিয়াছেন। আমি এক দোকানদারকে একটি টাকা জমা দিয়া তাহার নিকট হইতে একটি হুক্কা সাজাইয়া আনি। ততক্ষনে বাবাভান্ডারী কেবলা ঐ স’ানে হইতে প্রস’ান করিয়াছেন। তারপর বেশ অনুসন্ধানের পর তাহার কোন সন্ধান পাওয়া গেল না। অতত্রব,আপনার নিকট জানিতে চাই যে,তিনি আজমীর শরীফ আসিয়া কোথায় আছেন? এই ঘটনার পূর্বে বাবাভান্ডারী কেবলা ইনেত্মকাল ফরমাইয়াছেন। অতত্রব,তাহার ইনেত্মকাল হওয়ার পর তাহাকে আজমীর শরীফে দেখিতে পাওয়া তাহার কেরামতে পরিগণিত হয়।
(৩) গুজরাটের অনত্মর্গত কাটিয়ার জিলা নিবাসী মসত্মান আহমদ সাহেবের বর্ণনাঃ
আমি মনোহরী মালের সওদাগর ছিলাম। ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার কিছুকাল পূর্বে হিন্দু মুসলমানের মধ্যে সামপ্রদায়িক দাংগা (জরড়ঃ) আরম্ভ হয়। হিন্দু মহল্লায় ছিল আমার দোকান। একদা হিন্দু গুন্ডার দল একত্রিত হইয়া ঐ মহল্লা নিবাসী মুসলমানগরের হাত পা বাধিয়া তাহাদিগকে ট্রাকে উঠাইতেছিল। সকলের সংগে াঅমিও তাহাদের হাতে বন্দী হইলাম। ট্রাকখানা ভর্তি হওয়ার পর রওয়ানা হইল। অল্পক্ষণের মধ্যে ট্রাকখানা হিন্দুদের শ্মাশানে আসিয়া পৌছিাল। তারপর ট্রাক হইতে মুসলমান বন্দীদিগকে নামাইয়অ হত্যা করার পূর্ব আরম্ভ হইল। তখন আমার মনের অবস’া কেমন হইয়াছিল তাহা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এমতাবস’ায় আমি বাবা ভান্ডারীর দরবারে আমার জীবন ভিক্ষা চাইতেছিলাম। অন্য সকল বন্দী গিদকে হত্যা করার পর আমার পালা আসিলেই তাহার। তাড়াতাড়ি করিয়া আমাকে নিহতদের মদ্যে ফেলিয়া ট্রাক লইয়া ছুটিয়া পালাইল। তারপর আমি হাতের বাধন দাতে কাটিয়া বহু কষ্টে গুজরাট শহর হইতে চট্টগ্রাম শহরে চলিয়া আসিলাম। এরপর বাবা ভান্ডারীর দরবারের হাজির হইয়অ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিলাম।
(৪) চট্টগ্রামের অনত্মগর্ত পূর্ব ষোলশহর নিবাসী হাফেজ কালাম আহমদের বর্ণনাঃ
আমি একজন সওদাগর। আমার গাছের ব্যবসায়ে যতেষ্ট উপার্জন আছে। আমার ঔরসে চারিটি মেয়ে সনত্মান জন্মগ্রহণ করে। আমার ধন-সম্পত্তি সামলাইয়াবার জন্য কোন পুরুষ আওলাদ না থাকায় আমি বিশেষ চিনিত্মত হইলাম। একদা চান্দগাও নিবাসী মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে আমার এই দুঃখের কথা বলিলাম। তিনি আমার কথা শুনিয়া অনুতপ্ত হইলেন। তাহার উপদেশ অনুসারে হযরত বাবা ভান্ডারীর দরবারে আমার এই ফরিয়াদ পেশ করার জন্য যথারীতি সব কিছু করিলাম। তারপর আমার একটি পুত্র সনত্মান জন্মগ্রহণ করে।
(৫) চট্টগ্রামের অনর্ত্মগত চান্দগাও নিবাসী জনাব ওবেদুর রহমান চৌধুরী সাহেবের বর্ণনাঃ
১৯৪৭ খ্রষ্টাব্দের কথা। তখন আমি কলিকাতা ও মাদ্রাজে কাপড়েরর ব্যবসায়ী ছিলাম। একদা বাবাবভান্ডারী কেবলা আমাকে স্বপ্নযোগে অঅদেশ করিলেন “তুমি চট্টগ্রাম চলিয়া যাও।” তখন মাদ্রাজে প্রায় চারি লক্ষ টাকা পাওনা আছি। এতগুলি টাকা আদয় না করিয়া কিভাবে চলিয়া আসি,তাহাই চিনত্মার বিষয় হইল। তার পরদিন পুনরায় বাবাভান্ডারী কেবলা আদেশ করিলেন,“তুমি চট্টগ্রাম চলিয়া যাও।” আমি তোমার রিজিকের মালিক। অতত্রব বিনাদ্বিধায় সপ্তাহের মধ্যে সমসত্ম মালপত্র গুছাইয়া ষ্টীমার যোগে চট্টগ্রাম পাঠাইয়া দিলাম। আমি টাকা পয়সা সংগেকরিয়া ট্রেনযোগে কলিকাতা হইতে চট্টগ্রাম আসিয়া পৌছিলাম। তখন হিন্দুস’ান ও পাকিসআনের মধ্যে কোন বিবাদ আরম্ভ হয় নাই এবং যাতায়াতের ব্যাপারেও কোন কড়াকড়ি নাই। আমি চট্টগ্রাম পৌছিবার পরদিনই ঘোষিত হয় যে,সরকারী অনুমোদন ছাড়া এক এলাকা হইতেঅন্য এলাকায় মালপত্র আনা নেওয়া নিষিদ্ধ। তখনই বুঝিতে পারিলাম বাবাভান্ডারী কেবলার হুকুমের মহিমা।

(৬) চট্টগ্রামের অনত্মর্গত সীতাকুন্ড নিবাসী মাইজভান্ডারী গানের সর্বপ্রথম বেতার শিল্পী মলকুতুর রহমানের বর্ণনাঃ
আমার প্রতিবেশী এক মাইজভান্ডারী ভক্ত নতুন দায়রা ঘর নিমার্ণ করিয়াছে। আমরা বারজন আশেকানে ভান্ডারী সেই দায়রার মিলাদ পাঠের পর ছেমা,হাল্কা ও অজদের মাহফিল আরম্ভ করিয়াছি। তখন রাত ১১টা গ্রামের তথাকথিত মৌলভীদের প্ররোচনায় প্রায় ৬০ জন লোক আমাদিগকে আক্রমন করিতে আসে তাহারা ঘরে প্রবেশ করিয়া সর্বপ্রথম আমার মাথার উপর লাঠির আঘাত করে। ফলে আমার মাথা ফাটিয়া রক্তধারা প্রবাহিত হইতে থাকে। আমি ঘর হইতে পিছন দরজা দিয়া পালাইতে ছিলাম। এমন সময় বাবাভান্ডারী গায়েবী আওয়াজে আমাকে নির্দেশ করিণে,“বাচ্চা মাত হটো”। সুতরাং আমি আর পালাইতে পারিলাম না। লাঠিয়ালগন শোর করিয়া বলিতেছিল,মার মলকুতকে,জোরে মার। তাহার কেবল মলকুতকে মারিতেছে অতছ একটি লাঠিও আর আমাকে আঘাত করিতেছে না। তাহাদের দলের কয়েকজন লোক মাথা ফাটিয়া মৃত প্রায় হইয়া পড়িল। অতঃপর তাহারা তাহাদের আহত লোকগিদকে লইয়া পলায়ন করিল। বাবাভান্ডারীল মহিমা বলে তাহারা মারিতে আসিয়া মার খাইল।
(৭) চট্টগ্রামের অনত্মর্গত চান্দগাও নিবাসী জহির আহমদ চৌধুরীর বর্ণনাঃ
১৯৬২ খৃষ্টাব্দের রমজানের রোজার দিনে চট্টগ্রামে শহরের লয়েল রোডের পার্শ্বের রিফিউজী ক্যাম্পে আগুন ধরিয়া যায়। রমজানের ঈদ উপলক্ষে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকার কাপড় আমার দোকানে মওজুদ ছিল। আগুন ক্রমঃসমপ্রসারিত হইতে থাকে। আমার দোকানের সামনে পরছাতি আগুনে পুড়িয়া যাওয়ার পর মূল দোকান গৃহে আগুন লাগার উপক্রম হইল। আমি অনন্যোপায় হইয়া বাবাভান্ডরীর সাহায্য প্রার্থণা করিতছিলা। তখন আগুন লাফ দিয়া অন্য দিকে চলিয়া গেল। বাবাভান্ডারীর মহিমা বলে আমার সম্পূর্ণ মাল ও দোকান এই প্রচন্ড অগ্নিকান্ড হইতে রক্ষা পাইল।
(৮) চট্টগ্রাম জিলার বোয়ালখালী থানার অনত্মর্গত গোমদণ্ডী গ্রাম নিবাসী কবিয়াল রমেশ চন্দ্রের পুত্র শ্রী জজ্ঞেশ্বরের বর্ণনাঃ
আমার বাড়ীর স্বাবিত্রী বালা শীল দুই তিন মাস ধরিয়া রক্ত স্রাবে বিশেষ কষ্টভোগ করিতেছিল। গ্রাম্য ডাক্তার কবিরাজ তাহার চিকিৎসা করিয়া ব্যর্থ হয়। অতিরিক্ত রক্তস্রাসের ফলে তাহার মুখ মন্ডলের রং বিবর্ণ হইয়া যায়। এইরুপে রোগীনি জীবন আশা পরিত্যাগ করিয়া হতাশ হইয়অ পড়ে। আমি ইহা শুনিয়া তাহাকে বাবাভান্ডালীর রওজা শরীফের কিছুজল পান করাইয়া দিলাম। অতঃপর বাবাভান্ডারী কেবলার করুনা বলে তাহার রক্তস্রাব বন্ধ হইয়া গেল এবং সে সুস’হইয়া পড়ে।
(৯) চট্টগ্রাম জিলার পাচলাইশ থানার অনত্মর্গত বহদ্দার বাড়ী নিবাসী মৌলভী ছেয়দুর রহান চৌধুরী সাহেবের বর্ণনাঃ
১৯৬৬ খৃষ্টাব্দের জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহের কথা। একদা আমি চকবাজারে পাক নর্দমায় পতিত হইয়া অজ্ঞান হইয়া পড়ি তারপর প্রায় তিন মাস ধরিয়া চিকিৎসা করার পর কোন প্রকার আরোগ্য রঅভ না করিয়া বিশেষ চিহ্নিত হইয়া পড়ি। এমতাবস’অয় এক রাতে বাবাভান্ডারী কেবলা স্বপ্নযোাগে আমাকে দেখা দেন এবং আমার মাথা ও ডান হাতের উপর তাহার পবিত্র হাত বুলাইয়া দেন। পরদিন হইতে আমি আরোগ্য লাভ করি।
(১০) জনাব মাহমুদুল হক,ই,পি,সি,এস (ডেপুটি সেক্রেটারী) ই,উ,্‌ খ,এ,উঊচঞঞ (পূর্ব পাকিসত্মান সরকার) নিম্নলিখিত বর্ণনা লিখিয়াছেনঃ
১৯৫৭/৫৮ সালে জমিদারী রাষ্ট্রায়ত্ব করণের জন্র সারা প্রদেশে যে সেটেলমেন্ট কার্য্যক্রম গ্রহণ করা হইয়াছিল তার াাওতায় আমি খুলনা জোনে সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্যে নিয়োজিত ছিলাম। একবার রেভেনিউ সার্কেল এবং সেটেলমেন্ট সার্কেলের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের যুক্তভাবে তদনত্ম করিবার জন্য খুলনা জিলার অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার মিঃ কাজমী সি,এস,পি এবং আমি ঐ জিলার সাতক্ষীরা এবং কলারোয়া থানায় এক যুক্ত ভ্রমন প্রোগ্রাম করি। ভ্রমনের যাত্রার দিনের পূর্বৈর রাত্রি আমি স্বপ্ন দেখি,বাবাজান কেবলা কাবা একটি অফিস কক্ষে একটি চেয়ারে উপবিষ্ট আছেন। তাহার সম্মুখে একটি টেবিল ও টেবিলের পাশে আমি দণ্ডায়মান। বাবাজান কেবলা আমাকে লক্ষ্য করিয়া ফরমাইলেন,তোমার আয়ুকঅর শেষ হইয়াছে দেখিতেছি। আমি উৎসুখ হইয়া টেবিেরল দিকে চাহিলে দেখিতে পাইলাম,একটা ছক আকা কাগজে বাবা জান কেবলা হিসাব মিলাইলেন। আমিও বুঝিলাম যে অঙ্কিত ছকের হিসাব ানুযায়ী আমার আয়ু আর নাই। পর্দায় যেমন ছবি দেখায়,এরূপ ভাবে আরও দেখিলাম কাজমী সাহেব এবং আমি একখানি জীপ গাড়ীতে ভ্রমন করিয়া আসিতেছি,সেটেলমেন্ট অফিসের পিয়ন সরাফত আলী ও ঐ গাড়ীতে আছে। আমাদের আগে আগে একটা ট্রাক গাড়ী চলিয়াছে। আমরা ট্রাক গাড়ীটি অতিক্রম করিয়া যাইবার চেষ্টা করিলেই এক দুর্ঘটনার পতিত হই এবং আমি প্রাণ হারাই। আমি এক অস্বসিত্মকর অবস’ার মধ্যে জিহআসু নেত্রে বাবাজার কেবলার দিকে তাকাইয়া রহিলাম। কিছু বলিবার সাহসও পাইতেছিনা এবং কি বলিব ভাবিয়াও পাইতেছি না। এমন সময় হযরতে আকদস আমার পাশে আসিয়া দাড়াইলেন। হযরতে আকদসকে দেখিয়া আমার মনে সাহসের সঞ্চার হইল। আমি হযরতে আকদসকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলাম,“হুজুর আমার আয়ু নাকি ফুরাইয়া গিয়াছে। “এ্যা? দেখি” এই বলিয়া হযরত আকদস টেবিলের উপরের কাগজে অংকিত ঐ ছকের হিসাব মিলাইলেন এবংউচ্চারণলণ করিলেণ “সত্যই তো।” আমি হযরতে আকদসের নিকট নিবেদন কলিাম “হুজুর তাহা হইলে কেমন হইবে।” হযরত আকদস বলিলেন,‘তাইতো!’ এবং বাবাজান কেবার দিকে ফিরিয়া বলিলেন” একটু ঠিক করিয়া দিলে………” এ পর্যনত্ম শুনার পরই আমার ঘুম ভাঙ্গিয়া যায়। একি দেখিলাম ও শুনিলাম আমি অনুধাবন করিতে থাকি। বাকী রাত অঅর ঘুমাইতে পারি নাই। আমি বেশ বুঝিতে পালিঅম যে আমার কাল ফুরাইয়াছে। হযরত আকদসের শেষ উক্তির ফল কি হইল তাহা জানিবার পূর্বৈই এমন কি উক্তিটা শেষ হইবার পূর্বেই আমি জাগিয়া গিয়াছিলাম। সুতরাং অনত্মরে কোন ভরসা পাইতেছিলামনা। পরেরদিন ভোরে অফিসে গিয়া আমার ব্যাংকে যা টাকা জমা চিল উঠাইয়া আনিলাম এবং আমার স্ত্রীর হাতে দিয়া বলিলাম আজ বিকাল বেলাই টু’র (ভ্রমণ) করিতে যাইতেছি। যান বাহনের ভ্রমণ আজকাল নিরাপদ নয়। যদি কোন অঘটন ঘটে,হৈচৈ না করিয়া,্‌এখানকার সংসার গুটাইয়া সোজা বাড়ী চলিয়া যাইবে। আমার স্ত্রী প্রশ্ন করিল হঠাৎ আজ একথা কেন? অঘটন ঘটিবার এমন কি কারণ আছে। তাকে বুঝাইতে ছেস্টা কলিাম যান বাহনে ভ্রমণে তো দূর্ঘটনা লেগৈই আছে,এরূপ ভ্রমণ সর্বদা নিরাপদ হয়না। রেল মোটর ইত্যাদির দুর্ঘটনা তো নতুন কিছু নয়। সে কিছুতেই বুঝতে চায়না,প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে এবং বলে যে,মটর ও জীব ইত্যাদিতে হারদম ই-তো ভ্রমণ করা হইতেছে,অঘটনের কথা আগোতো কোন দিন উঠে নাই। দুর্ঘটনা কোন ক্ষেত্রে হইলেও,ইহা এবার ঘটিতে পারে এরূপ সন্দেহ এবং টাকা আনিয়া হাতে দিয়া তার পরের ব্রবস’া কি কারিতে হইবে তাহার উপদেশ দেওয়া,এটা নেহায়েত নতুন। সুতরাং এর কি কারণ আছে তাহাকে জানিতেই হইবে। অগত্যা তাহাকে স্বপ্নের কাথা কুলিয়া বলিলাম। সে তখন বকলিল ভ্রমনই তাহা হইলে বন্ধ করিতে হইবে সেই দিন টুরে যাওয়া হইবেনা। টুরে না গেরৌ মরণের সমসয়ের এক মিনিট এদিক ওদিক হইবেনা একটু তাহাকে বুঝাইবার চেষ্টা করিলাম;সে বুঝিবেন না। ছেলেেেময়েদের আমার পিছনে লাগিয়ে দিল। অনন্যোপায় হইয়া কাজমী সাহেবকে সেইদিন সাতক্ষীরা ডাক বাংলায় গিয়অ অঅমা রজন্য অপেক্ষা করিতে অনুরোধ করিলাম যাতে পরের দিন গিয়া তথায় আমি তাহার সাক্ষাৎ পাই। পরের দিন যাত্রা করিলাম। আমার স্ত্রী জীপের ড্রাইভারকে আমার স্বপ্নের কথা বর্ণনা করিয়া সর্তকতার সহিত গাড়ী চালাইবার জন্য অনুরোধ করিলেন,সাতক্ষীরা নিরাপদেই পৌছিলাম। তথায় তদনত্ম কাজ সমাধা করিয়া সর্তকতার সহিত গাড়ী চালাইবার জন্য অনুরোধ করিলেন,সাতক্ষীরা নিরাপদেই পৌছিলাম। তথায় তদনত্ম কাজ সমাধা করিয়া কলারোয়া থানার অফিসের দিকে রওয়ানা হইবার সময় জাকমী সাহেব চাইলেন,আমরা দুজনে একই গাড়ীতে আলাপ আলোচনা করিতে করিতে যাই। আমি আমরা উভয়ের একই গাড়ীতে ভ্রমণ এড়াইবার জন্র,আমার কয়েক মিনিট দেরী হইবে বলিয়া তাহাকে কিছুক্ষণ আগেই রওয়ানা করাইয়া দিলাম। পরে কলারোয়া থানার কাজ শেস হইলে কাজমী সাহেব আমাকে তাহার গাড়ীতে যাইবার জন্য অনুরোধ করিয়া তাহার গাড়ীতে উঠিলেন। কিন’হঠাৎ যেন তাহার গাড়ী বিকল হইয়া গেল,কোন মতেই ষ্টার্ট নিল না। প্রায় ঘন্টা খানেক চেষ্টা করিয়াও তিনি বিফল হইলেন। গাড়ী কোন মতেই নড়িল না। এভাবে তাহাকে ওখানে ফেলিয়া আসা চরম অভদ্রতা হইবে বিধায় বাধ্য হইয়া তাহাকেও আমার গাড়ীতে উঠাইতে হইল। কাজমী সাহেব নিজে ড্রাইভ করিতে চাহিলেন। ড্রাইভিং এ তার হাত পাকাই ছিল। তবুও যৌবনের গতি চঞ্জলতার মাদকতায় বেপরোয়া জোরে গাড়ী চালাইলে দুর্ঘটনাকে টানিয়া আনা হইবে,এ অঅশংকায় আমি তাহাকে বারণ করিতে লাগিলাম। কিন’তিনি নাছোড়বান্দা,এ দেখিয়া ড্রাইভার তাহাকে স্বপ্নের কথা খুলিয়া বলিল। এইবার তিনি বিরত হইলেন বটে,বুঝাই গেল যে আমাদের সংস্কারের হেতুর যৌকতিকতায় তিনি বিশ্বাস স’াপন করিতে পারেন নাই। কলোরোয়া হইতে যশোহর পর্যনত্ম আসিয়া আমার আরও ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করিলাম। কাজমীসাহেবের ড্রাইভার তাহার জীপ গাড়ীটি নিয়অ আসিয়া পৌছিতে পারিল না। আবার একই গাড়ীতে খুলনার দিকে রওনা হইলাম। এবার কাজমী সাহেব বলিলেন,“হক সাহেব ততক্ষণে বোধ হয় আপনার স্বপ্নের বিপদ কাটিয়া গিয়াছে। আমি উত্তরে বলিলাম,“পথ এখনও ৪০ মাইলের মত বাকী আছে। তিনি আর জোর করিলেন না। যশোহর টাউন ছাড়িয়া ৫/৭ মাইল অঅসিতেই দেখিলাম আমাদের অঅগে আগে রাশি রাশি ধুলা উড়াইয়া একখানা ট্রাক গাড়ী চলিয়াছে। আমাদের গাড়ীর হর্ণটি ঐ জায়গায় আসিয়াই নষ্ট হইয়া গেল। কোনশব্দই হয়না ট্রাকের পিছন ভাগেও কোন লোক ছিল না যে ড্রাইভারকে জানাইয়অ দিবে যে,আমরা তার পিছনে ধুলা খাইতেছি। সুতরাং ট্রাকখানা আমাদের জন্য পথ ছাড়িতেছে না। আমাদের ড্রাইভার স্বপ্নের বৃত্তানত্ম স্মরণ করিয়া ট্রাক গাড়ীটাকে অতিক্রম করিবার কোন চেষ্টাই করিতেছে না,অথচ ধুলা বেশী চিল যে ট্রাকের পিছনে গাড়ী চালাইয়া যাওয়া শুধু বিরক্তিকর নয়,যথেষ্ট কষ্টদাযক এবং অস্বাস’্যকর ও ছিল। আমাদের ড্রাইভারকে অবশেষে বলতেই হলো যে রাসত্মা যথেষ্ট প্রশসত্ম পাওয়া গেলে,সে যেন পাশ কাটিয়া ট্রাকখানা অীতক্রম করিয়া যায়। কিছুদূর যাওয়ার পর বেশ প্রশসত্ম পার্শ্ব পাওয়া গেল এবং আমাদের ড্রাইভার ডান পাশ দিয়া গাড়ীর গতি বাড়াইয়া দিল। কিন’অমাাদের গাড়ী ট্রাকখানার বনেট বরাবর যাইতেই দেখি আমাদের গাড়ীর সামনে রাসত্মায় এক প্রশসত্ম ও গভীর কাটা খাদ। গাড়ীর বেগ তীব্রই ছিল ফলে ধপ করিয়া গাড়ী পড়িয়া ধাক্কা খাইল এবং এক লাফ দিল। আমার বুকে বেশ শক পাইলাম এবং ষ্টিয়ারিং হইতে ড্রাইভারে রহাত ছুটিয়া গেল। কিন’লাফ দিয়া উঠিবার সময় গাড়ী নিজে নিজেই বাম দিকে মোড় নিয়া রাসত্মার উপরই উঠিল। দৈবাৎ যদি গাড়ীটি ডান দিকে মোড় নিত এবং ডান পাশে রাসত্মার নায়ান জুলির খাদে পড়িত আমাদের আর রক্ষা ছিল না। গাড়ীর দুএকটি অংশ বাকিয়অ গেল বিশেষ করে টি,সি,রডটি অল।প এবং তার সিপ্রং একটি বাকা হইয়া গেল,গাড়ীটা সম্পূর্ণ অচল হইল না। আমাদের অবস’া দেখিয়া ট্রাক ড্রাইভার থামিয়া গিয়াছিল। কাজমী সাহেব নামিয়অ তাহাকে বকিতে আরম্ভ করিলেন। আমি তাহাকে ফিরাইয়া আনিলাম এবং বলিলাম “যা অদৃষ্টের লিখন ছিল তাহাই ঘটিয়া গেল প্রাণে বাচিয়া গিয়াছি এই যথেষ্ট। তিনি বলিলে হা আপনার স্বপ্ন সত্য হইয়াছে। আমার আর বুঝিতে বাকী রহিল না যে হযরত আকদসের সুপারিশে বাবাজান কেবলা আমার জীবনের চর পরিবতৃণ করিয়া দিয়াছেন এবং এ যাত্রা রক্ষা পেলাম।
11

12

১৩। হযরত আক্‌দস ও বাবা ভান্ডারী কেবলার জীবন চরিত্র প্রণেতা মৌলানা সৈয়দ আবদুস সালাম ইছাপুরী সাহেবের বর্ণনা।
একবার বাবা ভান্ডারী কেবলা মওলানা ইছাপুরীর চাচা ফারুখ আহমদ সাব রেজিষ্ট্রার সাহেবের অফিসে পালংকের উপর প্রায় মাসাধিক কাল অতিবাহিত করেন। সেইখানে প্রতিদিন বহু লোক তাহার খেদমতে হাজির হইত। রাতদিন বাড়ীতে লোকের ভীড় জমিয়া থাকিত। সর্বদা গানবাদ্য হাল্কা অজদ মাহফিল চলিত পিকরের মজলিশে সাধারণত কেবল মাইজভান্ডার দরবারের মুরিদানই উপসি’ত থাকিত। ইহাতে সাধারণ লোকেরা যোগদান করিত না। স’ানীয় আলেমগণ ঐ রূপ জিকিরের মজলিশ করা নাজায়েজ বলিয়অ প্রচার করিতে লাগিল ইহাতে সর্ব সাধারনের মধ্যে একটু চাঞ্চল্য সৃষ্টি হইল বাবা ভান্ডারী কেবলার সঙ্গে মৌলানা আমিনুল হক মাইজভান্ডারী প্রকাশ ছোট মৌলানা সাহেব,মৌলানা আবদুল গণি কাঞ্চনপুরী এবং আহলা নিবাসী মৌলানা আছদ আলী প্রমুখ প্রসিদ্ধ আলেমগণ ও ছিলেন। তাঁহারা রূপ হাল্কা ও জিকির জায়েজ বলিতেন এবং নিজেরাও করিতেন। তখন এক রাতে কয়েকজন আলেম বহু বিরুদ্ধবাদী লোক লইয়া মাইজভান্ডারী তারিকা পন’ী মওলানাগণের সহিত তকৃ করিতে আসিল। ছোট মওলানা সাহেব ও অন্যান্য মুরিদগণ পার্শ্বেও চৌচালা গৃহে ছিলেন সেইখানে বিপক্ষের মৌলানা আবদুস সাহেরগণ সগদলবলে প্রবশ করিয়া ছোট মওলানা সাহেবের সহিত তর্ক আরম্ভ করিল। এই সময়ে যাহারা বাবা ভান্ডারী কেবলার খেদমতে ছিল তাহার ও তর্ব শুলিবার জন্য যাইতে চাহিলে বাব ভান্ডারী কেবলা বলিলেন বাচা একটু পাখা হেলাও। তাই তিনি পাখা করিতে লাগেলেন। অল্পক্ষণের মধ্যে বাবা ভান্ডারী কেবলার চেহারা মোবারক সন্ধ্যাকালীন অস-ায়মান সমূর্যেও মত লোহিত বর্ণ ধারণ করিল তাঁহার দুই নয়ন হইতে যেন অগ্নি স্ফুলিঙ্গ বাহির হইতে এই হাল দেখিয় তিনি ভয়ে জড়সড় হইয়া অতি জোওে পাখা হেলাইতেছিলেন। ঐ দিকে মৌলভী সাহেবদের তর্ক ক্রমর্শ বৃদ্ধি পাইয়া ঝগড়ায় পরিণত হইল। কারণ গোড়া মৌলভী সাহেবগন ক্রোধের বশীভুত হইয়া তর্কের নিয়মাবলী ভুলিয়া পড়িয়অছে। তাহারা যুক্তি প্রমাণের ধার ধারে না নিজেরা বদ্ধমুল ধারণার বিপরীত কিছু কেহ কোরআন দিয়া প্রমাণা করিলেও তাহা তাহারা না মানিয়া উহার রিরুদ্ধে জেহাদেও নামে লড়িতে প্রস-ত হয়। বিপক্ষীয় জনৈক মৌলভী তর্ক করিতে করিতে অবশেষে রাগে অসি’ও হইয়া ক্রুদ্ধস্বরে চেঁচাইয়া উঠিল। মাইজভান্ডারী মুরীদগণ বেদায়াতহী মোশরেক কাফের তাহদের স্ত্রী তালাক হইয়াছে। ইত্যাদি অকথ্য প্রলাপ আরম্ভ করিল। ছোট মওলানা সাহেব ইহা শুনিয়া বাবা ভান্ডারীর সম্মুখে আসিয়া অভিমান স্বরে কাঁদিয়া বলিলেন,আমাদেও উপর এই অত্যাচার হইতেছে আর আপনি বসিয়া তামাসা দেখিতেছেন ইহা শুনা মাত্র বাবা ভান্ডারী কেবলা সিংহের মত গজন করিয়া ঘরের সিড়ির উপর আসিয়া দাঁড়াইলেন,মস-ক মোবারক হেলাইয়া বজ্য নিনাদে হক,হক,হম,বলিয়া এবং সকলের অজদ আরম্ভ হইল। তাহাদেও হক হক আওয়াজে ও পায়ের গুম্‌ গুম্‌ শব্দে সারা গ্রাম কাঁপিতে লাগিল। লোককারণ্য আর জনাব বাবা বান্ডারী কেবলা দক্ষিণমুখী হইয়া দাঁড়াইয় আছেনর। ত৭াহার সূর্য কান- মণি সদূশ বদন মোবারকের উপর পুণ শশধরের কিরণ পতিত হইয়া অপূর্ব সৌন্দর্য ধারণ করিয়াছে। তাহার মস-ক সঞ্চালনের সঙ্গে আকর্ণ লম্বিত মসৃণ কেশরাশি ঈষৎ হেলিয়া দুলিয়া যেন নৃত্য করিতেছে। তদ সঙ্গে সপক্ষের ও বিপক্ষের শত শত লোক তাঁহার দিকে তাকাইয়া হক হক আওয়াজ করিয়া অজদ করিতেছে। নানপুর নিবাসী মৌলভী আবুল ফজল প্রকাশ কালা মিয়া ডাক্তার অজদরত ভক্তগণের ঈমাম স্বরূপ সকলের সম্মখের কাতাওে ছিলেন। তিনি আল্লাহু আকবর আকবর বলিয়া সিজদায় পতিত হইলে তাহার পাছেন সব লোক উচ্চস্বও আেল্লাহু আকবর বলিয়া দাঁড়াইয়া অজদ আরম্ভ করিল। ইতিমধ্যে বিরুদ্ধবাদী মৌলভীগণ অন্য কে কোন দিকে পালাইল উহার পাত্তা রহিল না্‌ বিরুদ্ধবাদী মৌলভীদের অন্য তম সদস্য মৌলভী আবদুল লতীফ প্রকাশ মৌলভী বাচা সাহেবও এই হাল্কায় যোগদান করেন্‌ অতপর যে কেহ ময়দানে আসিতে লাগিল তাহার অজদ আরম্ভ হইল। পটিয়া থানা নিবাসী ডাকতার কমল কাপ্ত নামক হিন্দু ব্রাক্ষণ সেই স’ানে এক ঘরে থাকিতেন। তিনি এই অপূর্ব দৃশ্য দেখিয়া ভয়ে কামড়ার দরজা বন্ধ করিয়া দিলেন। সেইখানেই তাহার অজদ আরম্ভ হইলা্‌ ইহা দেখিয়া সমাগত হিন্দুগণ বলিতে লাগিল পালা ও পালাও । ফকির সাহের মক্কা চালান দিয়াছেন। এইখানে যে থধাকিবে তাহার এই অবস’া ঘটিবে মৌলানা আবদুস ছালাম ইছাপুরী সাহেব বাবা ভান্ডারী কেবলাকে পাখা করিতেছিলেন তাহার কলবেও গুরু গুরু শব্দ হইতে ছিল। তাহার চাচা সাব রেজিষ্ট্রার সাহেব ঘরের এক কোনে চেয়াওে বসিয়াছিলেন সেইখানে তাঁহার ও অজদ হয়। অতঃপর বাবা ভান্ডারী কেবলা মৃদুগতিতে নিজ আসনে গিয়া বসিলেন এবং মৌলানা আবদুস ছালাম ইছাপুরীকে আদেশ করিলেন বাচা একটু তামাক সাজাও। তিনি তাড়াতাড়ি তামাক সাজাইয়া দিলেন বাবা ভান্ডারী কেবলা কিছুক্ষণ তামাক সেবন করিয়া হো হো করিয়া হাসিয়অ আপাদমস-কে চাদও আবৃত করিয়া শয়ন করিলেন ঐ দিকে হাল্কা অজদ থামিয়া গেল। ঐ দিনের পর হইতে বাবা বান্ডারী কেবলা যেই বাড়ীতেই যাইতেন সেইখানে ছেমা,হাল্কা ও অজদের মাইফিল হইতে লাগিল। প্রকাশ থাকে যে,এর পূর্বে হযরত আকদসের সম্মুখে এবয় বাবকা ভান্ডারীর সামনে খাছ মুরিদগণই কেবল ছেমা,হাল্কা ও অজদের মাহফিল করিতেন। এই ঘটনার পর হইতেই ভক্ত সাধারণের মধ্যে ও ছেমা হাল্কা এবং অজদ মাইফিলের প্রচলন হইল।
১৪. কুমিল্লা জিলার অন-র্গত কদমতলী গ্রাম নিবচাসী দেওয়ান মৌলভী আবুল কাসেম মুহাম্মদ ইয়াসিন শাহের বণনাঃ
আমি একবার দেশ হইতে আটজন লোকসহ রওয়ানা করিয়া বারিয়া ঢালার নিকটস’ষ্টেশনে রেলগাড়ী হইতে অবতরণ করি। বারিয়া ঢালার পাথে মাইজভান্ডার শরীফের দিকে যাত্রা করিলাম। কিছুদুর অগ্রসর হওয়ার পর দেখিতে পাইলাম প্রায় পাঁচশত হনুমান পথের উপর লাফালাফি করিয়া ক্রীড়া করিতেছে। ইহা দেখিয়অ আমরা একটু ভীত হইলাম। এমন সময় বাবা ভান্ডারী কেবালার কৃপায় একটা গায়েবী কালাম প্রাপ্ত হইলাম এবং তিনি আদেশ কলিলেন তুমি উহা বলা আমি সেই পবিত্র কামাম পাঠ করার সাথে সাথেই হনুমান দল সেজদায় পড়িয়া আসিলাম। তখন ও হনুমান দল সেজদায় পড়িয়া থাকে। তখন আর একটি কালাম প্রাপ্ত হইলাম। উহা পাঠ করা মাত্রই হনুমানগুলি জঙ্গলে পলাইয়া গেল।
১৫। রংপুর জিলার অন-র্গত লালমাই নিবাসী বসিরুদ্দিন ফকিরের (প্রকাশ রংপুরী) বর্ণনাঃ-
আমি পাটের ব্যবসায়ী ছিলাম। একবার জ্বও আেক্রান- হইয়া অত্যন- দুবর্ল হইয়া পড়ি। এমন অবস’ায় একদিন দ্বিপ্রহরে বন্ধ করিয়া জানালার পাশে বসিয়া নানা বিষয়ে চিন-া করিতেছিলাম। হঠাৎ জানালার পার্শ্বে আসিয়া এক সুপুরুষে অতি মিষ্টি ভাষায় আমার সিকট এক গ্লাস পানি চাহিলেন। তাহাকে জবাবে বলিলাম,“উঠিতে পারিতেছিনা। তবও তিনি আবার পানি চাহিলেন। অগত্যা অতি কষ্টে উঠিয়া ত’াহাকে এক গ্লাস পানিস দিলাম। তিনি ইহা দেখিয়া বলিলেন যে,থাক জল পান করিব না। তোমার পরিশ্রমের পারিতোষিক একটি বস- দিতেছি ইহা গ্রহন কর বলিয়া হস- প্রসারিত করিলেন। আমি হাত বাড়াইয়া সেই বস-টি লইতে উদ্যত হইরৈ তাহা মাটিতে পড়িয়া অদৃশ্য হইয়া যায়। তখন তিনি বলিলেন যে,তুমি এ জিনিশটি বহু কষ্টের পর আবার ফিরিয়া পাইবে। এই বলিযয়া তিনি অদৃশ্য হইয়া যান। আমি কয়েক দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করিলাম। অতঃপর সেই মহাপুরুষের সন্ধানে কুচবিহার,আসাম,জয়ন-ী ডিগবয় ইত্যাদি স’ান ঘুরিয়া ফিলিয়া ভগ্ন হৃদয়ে বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম। তারপর সেই একদিন মনকিরচর গ্রামের রহিমুদ্দিনের নিকট্‌ একখানা গানের বইয়ে মাইজভান্ডার শরীপের বর্ণনা দেখিতে পাই। তথায় নোয়াখালী নিবাসী জনৈক দর্জিও সাক্ষাতে মাইজভান্ডার শরীফে যাওয়ার বিস-ারিত কথা জান্‌িয়া খোদার নামের উপর ভরসা করিয়া যাত্রা করিলাম। মাইজভান্ডার শরীফে আসিয়া পৌঁছিলাম। অত্যন- পরিতাপের বিষয়,দৈনিক হাজার হাজার লোক এইখানে আসিয়া বাবা ভান্ডারীর দর্শন লাভ করতঃ স্বীয় মনস্কাম পূর্ন করিয়া চলিয়া যায়। কিন’আমি হতভাগ্য যখন ত’াহাকে দেখিবার জন্য হুজুরা শরীফে প্রবেশ করি,তখন ত’াহাকে পালংকের উপর দেখিরতে পাই না। আমার পরিতাপের আর সীমা রহিল না। অবশেষে এক সপ্তাহকাল পরে। তিনি দয়াপরবশ হইয়া এই অধমকে দর্শন দান করিয়া কৃতার্থ করিলেন্‌ ত’াহাকে দেখিবা মাত্রই চিনিতে পারিলাম। তিনি সেই মুসাফির মহাপুুেষ,যিনি কিছুকাল পূর্বে আমার বাড়ীর জানালার ধাওে দাড়াইয়া এক গ্লাস পানি চাহিয়াছিলেন। তারপর হইতে ত’াহার মুসাফির খানায় বাবুর্ছিও পদে কাজ করিয়া প্রায় ৩৫ বৎসরকাল অতিবাহিত করি।
১৬। মযমনসিংহ জিলা নিবাসী মন-ান ইউসুফ আলীর বণর্না
আমি প্রথম মহাযুদ্ধে বৃটিশ সরকারের সিপাহী দলে চাকরী গ্রহন করি। একদা দুপুর বেলায় আমরা ট্রেঞ্চে ঘুমাইতে ছিলাম। সেইখানে স্বপ্নযোগে বাবা ভান্ডারী কেবলা আমাকে বলিলেন,“ইউসুফ আলী,উঠ এবং ত্রিতলায় চলিয়া যাও,অল্পক্ষণ পর এইখানে জার্মানীর বোমা পগিড়বে। আমি ঘুম হইতে জাগিয়া দেখি আমার পাশেই বাবা ভান্ডারী দাড়াইয়া আছেন। আমি তাহাকে দেখিয়া সম্মান সুচক অভিবাদন জানাইলাম এবং বলিলাম বাবাজান ঐ ত্রিতলায় যাইতে পারিব না। ইহা শুনিয়া তিনি আমাকে জোওে টানিয়া সেই ত্রিতলায় পৌঁছাইয়া দিয়া অদৃশ্য হইয়া যান। অল্পক্ষনের মধ্যে জার্মানীর বোমা বিস্ফোরিত হইল। সেই ট্রেঞ্চের উপর। ট্রেঞ্চে অবস’ানরত সিপাহীগণ নিহত হইল।
১৭। হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলার সহোদও ভ্রাতা সৈয়দ আবদুল ওহাব সাহেবের বর্ণনাঃ-
আমি একবার বাবা ভান্ডারীর আদেশক্রমে দুইজন মস-ানকে উট কিনার জন্য দারোয়ানী মেলায় পাঠাইলাম। তারপর আমি সফওে বাহির হইয়া পড়ি। অল্পদিনের মধ্যে দারোয়ানী মেলার নিকটস’গ্রামে দাওয়াত গ্রহন করি। সেইখানে আমার আগমন সংবাদ জানিয়া সেইমস-ানদ্বয় বিষন্ন বদনে হাজির আমাকে জানাইল যে মেলা ম্যাহিষ্টেট্র উট ক্রয়ের অনুমতি দিতেছেন না। এই সংবাদ পাওয়ার অল্পক্ষণ পরই একজন মজজুব পাগল আসিয়া জানাইয়া গেল,!মেলায় ওলাওঠা ছড়াইয়াকে। মেলার এনে-জাম ভার আপনার উপর র্অপিত হইয়াছে।” আমি সেই মজজুবের কথা শুনিয়া মেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের স্ত্রী মারাত্মকভাবে কলেরায় আক্রান- হইয়াছে। মেলার এনে-জাম ভার আপনার উপর র্অপিত হইয়াছে।” আবাসস’লে উপসি’ত হইলাম। মেলার ডাকতার হতাশ হইয়া পড়িয়াছে। কারণ মেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সহিত পরিচিত হইয়া তাহার অনুমতিক্রমে রোগিনীকে দেখিতে যাই। হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলার হস- স্পৃষ্ট কয়েক ফোটা জল রোগিনীকে পান করাইলাম,হযরত আক্‌দসের পরিত্যক্ত পুরানো জুতা তাহার বক্ষের উপর রাখিয়া দিলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগিনীর জ্ঞান ফিরিয়া আসিল। তখন সে পানি চাহিলে বাবা ভান্ডারী হস-স্পৃষ্ট আরও কয়েক ফোটা পানি পান করাইলাম। অল্পক্ষণ পরই রোগীনি বলিয়া উঠিল,বাবা আমাকে বসাইয়া দেন আমি তাহাকে বসাইয়া দিলাম। ডাক্তার আসিয়া রোগিনীর নাড়ী পরীক্ষা করিয়া,বলিল রোগিনীর বিপদসীমা অতিক্রম হইয়াছে,তখন আমি মেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে আদেশ করিলাম যে,বাবা ভান্ডারীর দরবারের জন্য একটি উট দিতে হইবে। তিনি একটি উট কিনিয়া দিলেন। আমি এই উটসহ পাক দরবারে ফিরিয়া আসিলাম।
১৮। চট্টগ্রাম জিলার পাচঁলাইশ নিবাসী মৌলভী আবদুস ছোবহান শাহেন বর্ণনাঃ-
হাটহাজারী থানার অন-র্গত বুড়িশ্চর গ্রাম নিবাসী আলা মিয়া চৌধুরী বেঙ্গুর শহরে বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তাহার চারি খানা জাহাজ রেঙ্গুন হইতে মান্‌দিলী লাইনে যাতায়াত করিত পাইন্যা গাঁও নামক স’ানে তাহার অফিস ছিল। একদা দুপুর বেলায তাঁহার পায়খানার উদ্ধেগ হয়। তখন গ্রীস্মকাল ছিল। অত্যধিক গরম পড়িতেছিল তাই তিনি টিনের নির্মিত পায়খানায় না যাইয়া কিছুদুরে ঝোপের আড়ালে যাইতে ছিলেন। এমন সময় বাবা ভান্ডারী কেবলা গায়েবী আওয়াজে আদেশ করিলেন,“আলা মিয়া,সে দিকে যাইও না কাল নাগিণী ওম পাতিয়াছে।” বাবা ভান্ডারীর এই গায়েবী ডাক শুনিয়া তাঁহার সারা দেহ থর থর করিয়া কাপিতে লাগিল। তিনি পায়খানা করার কথা ভুলিয়া গিয়া অফিসের বারান্দায় দাঁড়াইয়া পুব দিকে তাকাইয়া সেই বন পথ ধরিয়া অফিসের দিকে আসিতেছিল। সেইখানে এক ভীষন কাল নাগিনী বাহির হইয়া পালের বড় মহিষটিকে দংশন করিল। তৎক্ষনাৎ মহিষটি ধরাশায়ী হইয়া নিহিত হইল। পালের অন্য মহিষ গুলি ডাক ছাড়িয়া ছুটিয়া পলায়ন করিল। তারপর রাখাল ছেলেটিাকেও দংশন করিল। সে সেইস’ানে আর্তনাদ করিয়া মৃত্যূমুখে পতিত হইল।
১৯। উপরোক্ত বর্ণনাকারীর দ্বিতীয় বর্ণনাঃ-
চট্টগ্রাম নিবাসী জনাব আবদুল বারী চৌধুরী বেঙ্গল ষ্টীমার কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টও ছিলেন। চট্টগ্রাম ও রেঙ্গুন ষ্টীমার লাইনে বেঙ্গল কোম্পারী ও বলুক ব্রাদার্সেও মধ্যে ভয়ানক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরম্ভ হজয়। বলুক ব্রাদার্স বিনরা টিকেটে যাত্রী বহন করিয়া বিশেষ ক্ষতিগ্রস’হইয়া পড়ে। সেই বিদেশী কোম্পানী আবদুল বারী চৌধুরী সাহেবচকে নিধন করিবার ষড়যন্ত্র করিয়া তাহার জেরবাদী পালক পুত্রকে হাত করেন। একদা চৌধুরী সাহেব দুপুর বেলায় পানাহার করার জন্য অফিস হইতে আবাসগৃহে ফিরিয়া আসেন। খাবার তৈরীর কাজে একটু বিলম্ভ হওয়াও তিনি আরাম কেদারায় শুইয়া একটু বিশ্রাম নিতেছিলেন। ইহাতে তাহার একটু তন্দ্রার ভাব আসিয়াছিল। তখন সেই পালক পুত্র উম্মুক্ত ছুরি হাতে করিয়া তাহেক বধ করিতে উদ্যত হয়। সেই সময়ে বাবা ভান্ডার ী কেবলা গায়েরী আওয়াজে বলিলেন,“আবদুল বারী,তোম ছোতে হো,তোমকো কতল করতা হ্যায়।” চৌধুরী সাহেব বাবা ভান্ডারীর সেই গায়েবী আওয়াজ শুনিয়া চমকিয়া উঠেন এবং দেখিলেন সত্যই তাহার পালক পুত্র উম্মুক্ত ছুরি হাতে তাহার পাশে দাড়াইয়া আছে। তিনি জোর পূর্বক তাহার হাত হইতে ছুরি কাড়িয়া লন। এই ঘটনার পর তিনি তাহাকে তাড়াইয়া দেন।
২০। চট্টগ্রাম জিলার বোয়ালখালী থানার অন-র্গত কোলাগাঁও নিবাসী ফকির আলী আহমদ মিস্ত্রীর বর্ণনাঃ-
আমি প্রথম মহাযুদ্ধে জাহাজের ড্রাইবার হিসাবে বৃটিশ কোম্পানীর মিলিটারী দফতরে চাকুরী গ্রহন করিয়া বসরা যাই। একদা দুপুর বেলায় বসরা খাড়িতে জাহাজ নঙ্গর করিয়াছি। এমন সময় বাবা ভান্ডারী কেবলা গায়েবী আওয়াজে বলিলেন “আলী আহাম্মদ,কুলে উঠিয়া খেজুর বাগানে ঢুকিয়া পড়।” আমি কাল বিলম্ভ না করিয়া সহকমীগণ সহ খেজুর বাগানে পড়ি। এমন সময় জাহাজ খানার উপর জার্মানরা বোমা বিস্ফোরণ করিয়া ইহাকে চুর্ণ বিচুণৃ করিয়া দিল।
২১। কুমিল্লা জিলা অন-র্গত রাজাপুর নিবাসী জনাব মওলানা অলি উল্লাহ শাহ রাজাপুরীর বর্ণনাঃ-
হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা পূর্ব পাহাড় ভ্রমণ কালে আমি কয়েকদিন তাহার সংগে ছিলাম। একদা তিনি এক পাহাড়ের শৃঙ্গে ঊপবিষ্ট ছিলেন,তখন তিনি আমাকে আদেশ করিয়া ছিলেন “পানি লও।” পাহাড়ের পাদদেশের ছোট ছড়া হইতে পারি আনিতে ছুটিয়া গিয়াছিলাম। সেই স’ানে এক নেকড়ে বাঘ আমার দিকে শিকারে বসিয়াছিল। আমি সেই দিকে না তাকাইয়া পানি লইয়া তাহার খেদমতে হাজির হইলাম এবং আবার পারি আনিতে আদেশ করিলেন,এইভাবে ক্রমান্বয়ে তিনবার পানি আনিয়া তাহার হাত মোবারকে পারি ঢালিতে থাকি। বাবা ভান্ডারীর আদেশের মহিমাবলে সেই নেকড়ে আমার উপর আক্রমণ করিল না।
২২। চট্টগ্রাম জিলার অন-র্গত বড় উঠান নিবাসী জনাব বদরুও হক খাঁন এডভোকেট সাহেব বর্ণনা করেনঃ-
হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা দেয়াং পাহাড় ভ্রমণকালে হামিদ আলী খাঁ সাহেবের বাড়ী তশরীফ লইয়া যান। খাঁ সাহেবের ভ্রাতুস্পুত্র আজিজুর রহমান খাঁ বিবাহের উপযুক্ত হইয়াছিল। তাই আনোয়ার খানের কণিষ্ঠা শালীর সহিত তাহার বিবাহ সম্বন্ধ সি’র করার জন্য ঘটক উকিলগন তদবির করিতেছিল। আনোয়ার আলী খান এই বিবাহে সম্মত ছিলেন না। এমতাবস’ায় জনাব বাবা ভান্ডারী কেবলা হমিদ আলী খানের আন্দর বাড়ী প্রবেশ করেন । সেইখানে তিনি একখানা ধুতি কাপড় মেয়ে লোকের মত পরিধান করিয়া পুকুর হইতে এক কলসী জল উঠাইয়া তাহাদের রান্নাঘরে রাখেন। তারপর সেই কাপড় বদলাইয়া তথা হইতে তিনি প্রস’ান করেন। এরপরই আনোয়ার আলী খান সেই বিবাহে সম্মতি প্রদান করেন এবং বিবাহ কার্য সমাধা করা হয়।
২৩। চট্টগ্রাম জিলার অন-গর্ত চান্দগাঁও নিবচাসী মওলানা মুহাম্মদ আলী সাহেবের বর্ণনাঃ-
মওলানা আমিনুল হক হারবাংগিরি শাহ বাবা ভান্ডারী কেবলার বিশিষ্ট খলিফা ছিলেন। তিনি রেঙ্গুন ছফরে যাইবার জন্য বাবা ভান্ডারী কেবলার দরবারে আরজ পেশ করেন। বাবা ভান্ডারী কেবলা তাহাকে একটি মোমবাতি জ্বালাইয়া দিয়া বিদায় করেন। তার পর তিনি রেঙ্গুন সফওে যান। সেইখানে তাহার বেলায়েত জ্যোতি ছড়াইয়া পড়িল। তিনি সেইখানে কিছুকাল ধরিয়া তরিকতের প্রদীপ জ্বালাইয়া অনি-ম শয্যায় শায়িত হন। তথায় চট্টগ্রাম জিলার অন-র্গত কুলগাঁও নিবাসী মওলানা অলি আহমদ সাহেব তাহার মাজার পাকা করিয়া দেন। সেই হইতে প্রতি বছর তাহার ওরছ করা হয়।
২৪। কুমিল্লা জিলার অন-র্গত ঘিলাতলা নিবাসী মওলানা বেশারত আলী শাহ ছাহেবের বর্ণনাঃ-
তিনি কুমিল্লা মাদ্রাসায় লিখাপড়া শেষ করিয়া হিন্দুস’ান ইউপির রামপুর মাদ্রাসায় হাদীসের কালেম জামায়াতে লেখা পড়া করিতে যান। তিনি কামেল পরীক্ষায় কৃতার্থী ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম হইয়াছিলেন। তারপর রামপুর মাদ্রাসায় কিছুকাল অধ্যাপনার কাজ নির্বাহ করেন। তিনি ১৩২০ বাংলায় রামপুরে ষ্টেটের খানকাহে এনায়েতীয়া আলীয়া মোজাদ্দিদীয়ায় প্রসিদ্ধ পীর খাজা হাফেজ এনায়েত উল্লা খান (রঃ) এর হাতে নকশেবন্দীয়া এবং মোজাদ্দিদীয়া তারিকায় বায়আত গ্রহন করেন। ২৩২৪ বাংলার কথা। একদা তিনি ফয়রের নামাজ শেষ করিয়া যথারীেিত মোরাকবায় ধ্যানমগ্ন ছিলেন। এমতাবস’ায় তিনি এলহাম যোগে জ্ঞাত হইলেন মাইজভান্ডার যাওয়অর কথা। চট্টগ্রাম নিবাসী মওলানা ছফিয়ুর রহমান সাহেব তাহার সহপাঠী বন্ধু ছিলেন। মওলানা ছফিয়ুর রহমান সাহেব উক্ত এল হামের কথা শ্রবণ কলিয়া মাইজভান্ডার শরীফ সমপর্কে বিস-ারিত আলোচনা করিলেন। অতঃপর তিনি ১৩৩৫ বাংলায় মাইজভান্ডার শরীফে হাজির হইয়া হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলার ছোহবত লাভ করিয়া কৃতার্থ হন।
২৫। চট্টগ্রাম শহরের মিয়াখান নগর নিবাসী জনাব আলহাজ্ব মিয়াখান সওদাগর সাহেবের প্রথম পুত্র জনাব আলহাজ্ব ছালামত আলী খান সাহেবের বর্ণনাঃ-
তখন আমি চট্টগ্রাম সরকারী মুসলিম হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র। বার্ষিক পরীক্ষা সন্নিকট। তাই পরীক্ষায় পাশ করার জন্য দোয়াপ্রার্থী হইয়া মইজভান্ডার শরীফে যাই। তখন হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা বিদ্যমান ছিলেন। আমি তাহাকে সাধারণ ফকির মনে করিয়া তাহার কামালিয়ত (পরিপুর্ণতা) পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আল্‌ কোরআনের কিছু আয়াত পাঠ করিয়া এক লোটা পানি লই এবং ইহা তাহার হাতের তালুর উপর ঢালিতে থাকে। এমন সময় তিনি এক কোশ পানি আমার চোখের দিকে ছিটাইয়া নিক্ষেপ করেন। আশ্চর্যের বিষয়,পানির বিচ্ছুরিত বিন্দু আমার চোখের উপর বিদ্যুতের আলোর ন্যায় বিচ্ছুরিত হইল। ইহা আমার চোখ ঝলসাইয়া দিল। আমি ভীত হইলাম্‌ অপরিণত বয়সের হেতুতে ইহার রহস্য বুঝিয়া উঠিতে পারিলাম না। তাই পানির লোটা জনৈক খাদেমের হাতে দিয়ো সরিয়া পড়িলাম। এই ঘটনার পর পাঁচ বৎসরের মধ্যে আমি আর মাইজভান্ডার শরীফ যাই নাই। তারপর আমি খাজা মঈনউদ্দিন চিশতী (রঃ) এর আদেশক্রমে আবার মাইজভান্ডার শরীফ আসি। তারপর বাবা ভান্ডারী কেবলা কবার সহচর্য লাভ করিয়া কৃতর্থি হই।
২৬। চট্টগ্রাম নিবাসী প্রাঙ্গনস প্রাদেশিক যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব সুলতান আহমদ সাহেবের বর্ণনাঃ
তিনি ১৯৬৮ খৃষ্টাব্দে মাইজভান্ডার শরীফ জেয়ারতে যান তথায় তিনি বিশিষ্ট জনগনের সমাবেশে বলেন যে,তিনি এর পূর্বে তার পাঠ্য জীবনে। সেই সময়ে মাইজভান্ডের যাওয়ার ভাল কোন রাস-া ছিল না। তাই তাহাকে নৌকাযোগে আসিতে হইয়াছিল। তাহার নৌকা যখন মাইজভান্ডার আসিয়া টৌঁছে তখন সন্ধ্যা ঘনাইয়াছিল। তিনি ও তাহার চাচা,তাহাদেও আনিত সামগ্রী লইয়া হযরত বাবা ভান্ডরী কেবলার হুজরা শরীফে প্রবেশ করেন এবয় দোয়া প্রার্থী হন। হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলা তাহার আসনে উপরিষ্ট ছিলেন। তনি িতাহার আনিত ঢাকাই কুল হইতে কয়টি গ্রহন করিয়াছিলেন। মন্ত্রী সাহেব অতি ভক্তির সহিত বলেন যে। তিনি সেই সময়ে হযরত বাবা ভান্ডারী কেবলায় পবিত্র কপাল হইতে প্রভাতরাগের অনুরূপ রঙ্গিনর আলো উদ্ভাসিত হইতে দেখিয়াছিলেন। উহা তাহাকে অভিভুত করিয়াছিল। আজও সেই দৃশ্য তাহার মানসনয়নে ভাসিতেছে।

Baba Bhandari's Rawja

No Comments