মসনবী শরীফের বাণী ও ভাষা

মসনবী শরীফের বাণী ও ভাষা

আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে হলে আউলিয়ার সান্নিধ্য যেতে হবে। মসনবী
“হরকে থাহাদ হাম নসিনি বা খোদা
গো নসিনদ দর হুজুরে আউলিয়া’’
অর্থ ঃ যে আল্লাহর সঙ্গে এক সাথে বসতে চয়ে, তাকে বলো সে যেন আউলিয়ার নিকট বসে।
মৌলানা রুমী এই কতাগুলি হযরত মুসা (আঃ) এর একটি কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন। একবার হযরত মুসা (আঃ) কে আল্লাহ ভৎর্সনা করে বললেন “ হে মুসা- আমি তোমাকে আমার নূরে নূরান্বিত করেছি অথচ আমি যখন রোগাক্রান- হলাম তুমি আমাকে দেখতে এলেনা, মুসা (আঃ) বললেন ‘হে আল্লাহ আপনি নিরাকার, আপনার আবার রোগ হয় কি করে? আমি এই কথাটি বুঝতে পারলাম’। আল্লাহ বললেন- “ আমার একজন খাস বান্দা ওলী রোগাক্রান- হয়েছিল। মনে রেখো সে শারীরিক দুর্বলতা, তাঁর অসুস’তা আমার অসুস’তা”। আল্লাহ ওলী আল্লাহতে বিলীন হয়ে যান।ওলী- আল্লাহ যখন আল্লাহর সঙ্গে এক হয়ে যায় তখন তাঁর হাত হয়ে যায় আল্লাহর হাত, তাঁর চোখে হয়ে যায় আল্লাহর চোখ, তাঁর কান হয়ে যায় আল্লাহর কান, সুতারাং আউুলয়ার নিকট বসার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নিকট বসা। কেহ যদি আল্লাহর নিকট বসতে চায় তাহলে তাঁর উচিত আউলিয়ার নিকট বসা। খ্রীস্টানদের বাইবেল ‘মথি’ নামক পুস-কের ২৫ অধ্যায়ের ৪২ নং শ্লেকে আছেঃ ঈশ্বর বলেন- “আমি ক্ষুধিত হয়েছিলেন, আর তোমরা আমাকে আহার দাওনি। আমি পিপাসিত হয়েছিলাম, আর তোমরা আমাকে আহার দওিনি। আমি পিপাসিত হয়েছিলাম, আমাকে পান করাওনি। অতিথি হয়েছিলাম, আমাকে আশ্রয় দাওুন। বস্ত্রহীন হয়েছিলাম, আমাকে বস্ত্র দাওনি। পীড়িত ও কারারুদ্ধ হয়েছিলাম, আর আমাকে তত্ত্বাবধান করনি”। তখন তার উত্তরে বলবে “প্রভু, কবে আপনাকে ক্ষুধিত, কি পিপাসিত, কি অতিথি, কি বস্ত্রহীন, কি পীড়িত, কি কারারুদ্ধ দেখে পরিচর্যা করিনি? তখন ঈশ্বর বললেন, “আমি সত্যি বলছি তোমরা এই ক্ষুধিত দিগের কোন একজনের প্রতি যখন ইহা করনি তখন আমারই প্রতি করনি”। এখানে ঈশ্বর তাঁর প্রিয় ব্যক্তির সঙ্গে নিজেকে ড়্গকে করে দেখেছেন্‌ বাইবেল অবশ্য হযরত মুসা (আঃ) ও আল্লাহর মধ্যে এ কথগুলি হয়েছিল বলে বলা হয়নি। মিৗলনা রুমী- হযরত মুসা (আঃ) এর সহিত আল্ল্‌হর এরূপ কথা হয়েছিল বলে কথাগুলিকে জোরালো করেছেন।
বিষয় ঃ একজন ওলির সেবা করা আল্লাহর সেবা করার সামিল।
মসনবী
“ঢ়ুঁ মেরাদিদি খোদারা দিদায়ি
গিরদে কাবায়ে ছিদ্‌ক বরগার দিদায়ি
খেদমতেমন তা আত ও হামদে খোদাস-
তা না পিন্দারি কে হক আজমন জুদাস-,
চশমেনেকু বাজকুন দরমান নিগর
নূওে হক আন্দও বশর
কাবারা এশবার ‘বায়তি’ গোপ্ত এয়ার
গোপ্ত মোরা এয়া আবদি হাপ্তাদ বার”।
অর্থঃ তুমি যখন আমাকে দেখছে তখন খোদাকে দেখছে। তুমি সত্যিকার কাবা গৃহের চারদিকে তরয়াফ চারিদিকে তরয়াফ করছে। আমার খেদমত আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী ও আল্লাহর প্রশংসা করার সমান। মনে করোনা আমি আল্লাহ তা”লা হতে জুদা (ভিন্ন)। তোমার মঙ্গল চক্ষু উম্মোচিত কর এবং আমার দিকে দৃষ্টিপাত কর, তাহলে তুমি আল্লাহর নূও মানুষের মধ্যে দেখতে পাবে। আল্লাহর কাবা ঘরকে কুরআনপাকে কেবল এশবার আমার ঘর বলেছেন। আর আমাকে সত্তর বার “ওহে আমার প্রিয় বান্দা” বলে সম্বোধন করেছেন।
মৌলানা রুমী হযরত বায়েজিদ বোস-ামী ও একজন দরবেশের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে একথা বলেছেন। হযরত বায়েজিত বোস-ামী একবার হজ্বে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি একজন দরবেশের সাক্ষাৎ পেলেন, দরবেশ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কোথায় যাচ্ছ? তিনি বললেন আমি হজ্ব করতে যাচ্ছি, দরবেশ তাঁকে বললেন, তোমার নিকট কত টাকা আছে? তিনি বললেন, আ্‌মার নিকট দুইশত রৌপ্য মুদ্রা আছে। দরবেশ বললেন, তুমি ঐ রৌপ্য মুদ্রাগুলি আমাকে দাও এবং আমার চারিদিকে সাতবার তওয়াফ কর। তুমি যখন আমাকে দেখেছ তখন খোদাকে দেখেছ এবং সত্যিকার কাবার চারিদিকে ঘুরেছ। মৌলানা এখানিে একটি প্রসিদ্ধ হাদীসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। হাদীসটে নিম্নরূপ মন রাআনি ফাকাদ রাআল হক” অর্থ আমাকে দেকা আর আল্লাহকে দেখা এক। মৌলানা পবিত্র হৃদয়কে কাবা ঘরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন পবিত্র কোরআনে আল্লাহএকবার মাত্র কাবা ঘরকে আমার ঘর’ বলে উল্লেখ করেছেন। সূরা বাকারায ১২৫ নং আয়াতে করিমে আল্লাহ বলেন যখন আমি গৃহকে মানুষের জন্য সম্মিলন স’ল ও শানি-র আলয় করলাম আর তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাজের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফে ও রুকু সেজদাকারীদের।
ত্বরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার বিকাশ ও বিশেষত্ব
পরম করুনাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্যই সকল প্রশংসা যিনি বিশ্ব ভ্রম্মান্ড কুল মকলূকাতের স্রষ্টা। যিনি নিখিল বিশ্বের প্রভু, যিনি বিচিার দিনের অধীশ্বর, চির দানশীল করুনা ময়, দয়ালু, দাতা, রহমান ও রহিম। সেই পবিত্র সত্ত্বা স্বয়ং প্রশংসাকারী ও স্বয়ং প্রশংসিত। তাঁর এককত্ব ও অদ্বিতীয় ঘোষণা করে তিনিই স্বয়ং বলেছেন তিনি (আল্লাহ) কারো থেকে জন্মগ্রহণ করেননি এবং তাঁর থেকেও কেউ জন্ম গ্রহণ করেনি অর্থাৎ তাঁর (আল্লাহ) কোন পিতা বা সন-ান নেই (লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ- সূরা ইখলাস), সর্ব প্রকার প্রশংসার একমাত্র উপযুক্ত আল্লাহ, যিনি ইশকে প্রণিাদিত হয়ে দয়া পরবশে সৃজন করেছেন মানবদানব ইত্যাদি। আল্লাহ তায়ালার এই ইচ্ছার কথাই- হযরত রসূলে করীম (দঃ) মুখ নিঃসৃত বালী হাদীনেসর মাধ্যমে উচ্চারিত হয়েছে- কুনতু কান্‌জান্‌ মাখফিয়ান ফা- আহ্‌বাবতু আন উরাফা, ফা খালাক্বতুল কালকা” অর্থাৎ আমি (আল্লাহ) গোপন ধনাগার ছিলাম, অতঃপ প্রেমাসক্ত হয়ে স্বীয় সত্ত্বা ও গুনাবলীর বিকাশের জন্য মানব সৃজন করলাম। তাই – ইশকই- যাবতীয় সৃষ্টি ও উপাসনার মূল আর অর্থাৎ আল্লাহর পরিচিতি লাভ ও প্রমংসা কীর্তনই সৃষ্টির প্রধান কর্তব্য।
আল্লাহ রহমানুর রহীম স্বীয় অনুগ্রহে বনী আদমকে (মানবজাতী) ধরার বুকে খেলাফতের দায়িত্ব দিয়ে খলিফা সম্বোধন করেছেন, আবার এই মানব জাতিকে আভিজাত্য দেয়ারে জন্য তাদের মাঝে নবীগণকে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ মানুষকে মবকিছু উপর সম্মানিত করেছেন, অর্থাৎ মানব আল্লাহর আভজাত সৃষ্টি বা আশরাফ’ল শখলুকাত”। আকল বা বিবেকই মানুষকে এ শ্রেষ্ঠত্ব করেছ্‌ পে্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দরতম অবয়বে মানব দেহের গঠন শৈলী। আল্ল্‌হ তা’লা পাক কুরআনে ইরশাদ করেছেন- আমি আল্লাহ মানুষকে সুন্দরতম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি”(সুরা ত্বীন, আয়াত৪), আল্লাহর সর্বোত্তম সৃষ্টি এই মানবের দিহ চির কৌশলী রব বা প্রভুর ইচ্ছায় ধরার বুকের মাটি, পানি, আগুন, বাতাস, আর, আতশ, খাক, বাদ) দিয়েই তৈরী হয়েছিল। তার খাদ্য ও জীবন ধারণের যাবতীয় উপকরণও এই পৃথিবীর বিভিন্ন বস’ দিয়ে গড়া।
শুধু তাই নয়, আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন উচ্চ মর্যাদাও। এ মর্মে পাক কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- আমি (আল্লাহ) আদম সন-ানকে মর্যাদা দানর করেছি”। (সুরা বণী ইসরাইল, আয়াত-৭০)। উপরন- আদম সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ফেরেশতাদের নিকট আল্লাহর ইচ্ছার কথা কুরআনে করিমে কি মর্যাদাপূর্ণ ভাবেই না ইরশাদ হচ্ছে” স্মরন কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, আমি (আল্লাহ) পৃুতিব তে প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’’ (সুরা বাকারা, আয়াত-৩০) সর্বোপরি অন্য সৃষ্টির মত কুন্‌ (হয়ে যাও) শব্দ ব্যবহার করে একবারে সৃষ্টি না করে বরং আল্লাহর স্বীয় অভিপ্রায় ানুযায়ী আদমের দেহাবয়বের আকৃতি বা কাঠামো নির্মাণ করে অতঃপর সেই দেহাবয়বের ভিতর স্বীয় শক্তি বআ রূহ ফুৎকার করে দিয়ে প্রণবন- করেছেন। এ মর্মে পাক কুরআনে আল্লাহ রাবুল আলামীন ইরশাদ করেছেন – উহাতে তিনি রূহ ফুঁকে দিয়েছেন তাঁর (আল্লাহ) নিকট হতে।” (সুরা সাজদা আয়াত-৯), অর্থাৎ পরমাত্মা হতে নিঃসৃত আত্মা বা রূহ দান করে দয়াময় আর্‌লাহ সৃষ্ট বান্দাকে স্বীয় শক্তি দ্বারা শক্তিমান করেছেন।
মানব জাতির আভিজাত্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে আরো সুস্পষ্টভাবে উপলব্ধি হয়, এই বাণী আদমের আদি পিতা বা হযরত আদম (আঃ) এর সূচনা পর্ব এবং বিবি হাওয় সহ বেহেশতে বিচরন বা অবস’ান এ কথাই প্রমাণ করে যে, মানুষের আদি আবাসস’ল ছিল স্বর্গ বা বেহেশত। আল্লাহর ইচ্ছার নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য এই মাটির ধরায় আগমন। মানবের সেই মর্যাদাপূর্ণ আদি অবস’া পুণঃ প্রতিষ্টিত করতে হলে তাকে আত্মার নিকৃষ্ট প্রবণতা সমূহের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে। কিন’ আল্লাহর তা’লার শ্রেষ্ঠ সুষ্টি মানবকে অন্ধকার ভ্রনি- পথগামীকরা তাঁর (আল্লাহ) মোটেই কাম্য নয়অ হযরত আদম (আঃ) যখন আল্লাহর ইচ্ছায় সৃষ্টি রহস্য বিকাশ কল্পে স্বর্গের সর্বোচ্চ সিংহাসন থেকে আলমে নাছুৃতে ৯পার্থিব জগত) এসে পড়লেন তখন তিনি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে পুণঃ তাঁর রহমানি মকাম’ অর্জনের জন্য ক্তরে কান্নয় রত হলেন। এতে আল্লাহ সন’ষ্ট হয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, তাঁর নির্দেশিত সুপথের মাধ্যমে পুণঃ সেই নৈকট্যের মকাম অর্জিত হবে। অতএব, এতে সরল সত্য ও সুগম পথ (সেরাতাল মুস-কিম) করে চলার জন্য জীবন সম্বন্ধে একটা ধারনার প্রয়োজন। পরম করুণাময় আল্লাহ যুগে যুগে মানুষের কাছে আল্লাহর এই মকবুল পথের নির্দেশক যুগোপযোগী বাণী প্রেরণ করে এবং সেই বাণী বার্তার মূর্ত প্রতীক নবী রাসূল প্রেরণ করে সুষ্পষ্ট ধারনা দিয়েছেন। আল্লাহ প্রদত্ত এবং নির্দেশিত এই পথ ও মতই ইসলাম”। ধর্মের দৃষ্টিতে ইসলামের ভাবার্থ আল্লাহর একান- অনুগত হওয়া বা মওলার প্রতি অনুগত্যের তোয়াল পরিধান করা’ আর আল্লাহ প্রণীত ও রচিত যুগোপযোগী যে আইন দপ্তর পাঠিয়ে আদম জাতিকে নসজাগ করেছেন ও সুপথ দেখিয়েছেন তা ছহিফঅ এবং কিতাবুল্লাহ নামে অভিহিত। তাই বিভিন্ন নবীর শরীয়ত বা ধর্মীয় নীতি নির্দেমনার কিছু কিছূ ভিন্নতা থাকলেও মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন অর্থাৎ স্রষ্টার ”ওয়াহদানিয়াত’ এবং নির্দেশিত হক ও সত্যপথে পরিচালিত হয়ে মহাপ্রভুর ’কুরবত’ বা নৈকট্য অর্জন তথা আল্লাহর পরিচিত লাভ করা, বান্দার নিকট আল্লাহর পরিচিত প্রদান ও কায়েম রাখার জন্য অসংখ্য নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন।
ইহা ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ও সর্বশেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম আল্লাহ তা’লাার একমাত্র সর্বোওম প্রিয় বন্ধু। তিনি সৃষ্টির আদি ও সৃষ্টিরঅন-। তিনি মহাপ্রভুর যোগ্যতম প্রতিনিধি হাবীবে কিবরিয়া এবং খাতেমুন্নবীয়ীন হিসেবে যুগোপযোগী ইসলামী নীতি মহাগ্রন’ কুরআন মজীদ প্রাপ্ত হন। প্রকৃতপক্ষ এই কুরআন আমাদের জন্য পরিপূর্ণ জীবন বিধান। শুধু তাই নয় রাসূলে পাকের জীবন শান ও আখলাক কুরআনে পাকের বাস-ব প্রতিফলন এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামাীন মানব জাতিকে অন্ধকার যুগেরঅভিাপ হতে মুক্তিরদিয়ে সরল সত্য পথে চলার অনুপ্রেরণঅ দেয়ার জন্য তাঁর অতি প্রিয়জন সৈয়দ মুরসালীন (দঃ) কে পম সত্যের আলোর দিশারী করে পাঠিয়ে দেন। প্রকৃত পক্ষে রব্বুল আলামীনের কাছে রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পুরনূর (দঃ) শুধযুমাত্র শ্রেষ্ঠ মর্যাদাবানই নন বরং কিনি হলেন আল্লাহ ও বান্দার সেতুবন্দন। ধারার বুকে এই আকার আকৃতির মানবকে নিরাকার অদৃশ্য (গায়েঁব) আল্লাহ পর্যন- পৌছতে হলে কিংবা আল্লাহ পরিচিত বা মারেফাত লাভ করতে হলে এই প্রধান মাধ্যম হুজুর পুরনূর (দঃ) ছাড়া বিক্‌প নেই; তাই আল্লাহ প্রেমিক বান্দাগণ মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ (দঃ) এর পথে ও তাঁকে একনিষ্ট ভালবাসার মধ্যেই অর্থাৎ জাহেরা শরীয়তের সাথে সাথে নবীজির আধ্যাত্মিক মারেফাত এর বাতেনী বৈশিষ্ট অনুধাবন করে অনুসন্ধানী পথেই পরম সত্যকে খুঁজে পেয়েছেন। এক কথায় নবীজির জাহেরী ও রূহানী শিক্ষা দীক্ষাই দ্বীনের পূর্ণতা ও আল্লাহ পরিচিতির জন্য আদর্শ দিক-নির্দেশনা পরিপূর্ণ ও সফলতার সহিত সম্পন্ন করে অর্থাৎ প্রিয় নবীর মাধ্যমে কুরআনুল করিমের অবতরণ ও প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হলে দ্বীন উসলামের পরিপূর্ণতা ঘোষিত হয় এবং প্রিয়নবী (দঃ) এর হায়অতে জিন্দেগীর কর্তব্য শেষে মাওলার মকামে যাত্রা নবুয়ত যুগের খাতেমা ঘোষিত হয়। রেছালত যুগের এই পরিসমাপ্তিতে যুগ যুগ ধরে শেষ দিবস (কেয়ামত) পর্যন- তাঁর উপযুক্ত প্রতিনিধি ইনসানে কামেল আউলিয়া কেরামের মাধ্যমে আল্লাহ প্রদত্ত প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজের ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে। তাই কুরআনে করীমে আল্লাহ তা’লা ইরশাদ করেছেন” তোমাদের মধ্যে একদল লোক হউক যারা কল্যাণের পথের দিকে আহবান করবে এবং সৎকাজে আদেশ দিবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে, এরাই তো সফলকাম” (সুরা আল এমরান, আয়াত-১০৪)। বস’ত; এ রূপ আল্লাহর মনোনীত কামেল বান্দারই গাইছ, কুতুব, আলী দরবেশরূপে মানব সমাজে আবির্ভূত হয়ে পতভ্রষ্ট মানুষকে সঠিক পথ প্রধর্শন করেন, তাঁদের সাধনাময় আদর্শ মহান জীবন মানুষের জন্য আলেঅকিবর্তিকাসম অনুসরণ যোগ্য। ইনারাই রাসূলে পাকের রেছালতের প্রতিনিধি তথা বেলায়তের ধারক বাহক অর্থাৎ আল্লাহর মনোনীত খলিফা এবং এ রকম আল্লাহ প্রেমিক সূফী, ইনসানে কামেল, হাদী বা পথ প্রদর্শকের অনুসৃত আল্লাহ পরিচিতির প্রাপ্তির পথই এক একটি বিশেষ বা খাছ পথ রা ত্বরীকা। মানুসের অধঃপতিত পার্থিব; জীবন শৃঙ্খল মুক্ত হয়ে সফলতা অর্জনের জন্যে আল্লাহর মনোনীত দ্বীন ইসলামে’ মূলত দু’টি পথ নির্ণিত হয়েছে। তা হল শরীয়ত ও মা রেফাত মানুষের ঈমান ও আকায়িদ ঠিক করার পর কাঙ্খিত লক্ষ অর্জনের সুবিধার্থে সাধরনের বিশ্বাস অনুশীলনের জন্য যে সহজ ও নির্দিষ্ট বিধি বিধান দেয়া হয়েছে তা শরীয়ত। অপরদিকে আল্লাহতে সমর্পিত হয়ে আল্লাহ পরিচিতি লাভের সুনিশ্চিত এবং কঠিন অথচ মধুর যেই পদ্ধতি তাহাই মা’রেফাত। এই স-রে মানুষের মধ্যে স্বর্গীয় গুনাবলীর অভ্যূদয় ঘটে, আল্লাহর সহিত আত্মার মিলন হয় এবং ইহা আল্লাহর সহিত প্রেম সৃষ্টির লক্ষ্যে আত্মার পবিত্রতা অর্জনের জন্য মানুষের উচিত এমন এক ভক্তি মিশ্রিত অনুধ্যানিক জীবন যাপন করা যার লক্ষ্যই হবে আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় নবীর প্রেম, ইশক্‌ বা প্রেম স্বর্গীয়। খোদা হতে আগত, খোদা পর্যন- ইহার প্রসার, প্রেমিককে মূহুর্তের মধ্যে প্রেমময় আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌছায়। প্রেম (ইশক) তড়িৎ (বিদ্যুৎ) অপেক্ষা দ্রুত গতি সম্পন্ন, ইহার পরশ বড়ই মধুর, বড়ই স্নিগ্ধা, ইহা মুহুর্তে অন-রে ইশকের দাহন প্রজ্জলিত করে, আর মুহুর্তে স্বর্গীয় শীতলতা, স্নিগ্ধা তা ও শানি-ধারা বর্ষণ করে।ক্করকম ইশকে ইলাহী লাভ করতে হলে প্রকৃত ভক্তির সহিত মাথা পেতে দেওয়াই বান্দার কর্তব্য এবং মনিবের আজ্ঞা মুহব্বতের সহিত শিরোধার্য্য করে নেয়াই গোলামের (বান্দার) প্রকৃত গোলামী বা বন্দেগী (ইবাদত)। ইশক ব্যতীত ঈমান পূর্ণ হতে পারে না। পাক কুরআনের আল্লাহ তা’লা সুস্পষ্টভাবে ইরশা; করেছেন-”যারা মুমিন বা বিশ্বাসী আল্লাহর প্রতি তাদের প্রেম দৃঢ়তর”। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৬৫) অনুরূপভাবে নবীপ্রেমও হতে হবে অন-রের অন-স’াল হতে গভীরতম। পার্থিব সুয়োগ সুবিধা লাভের জন্য যারা প্রকাশ্যে মুখে নবীর রেসারতের প্রতি বিশ্বাসী বলে দাবী করলের কপটতার আশ্রয় নিয়ে অভ্যান-রে মনে প্রানে যারা তাঁর প্রতি অবিশ্বাসী ছিল সেই অবিশ্বাসী কাফির, মুনাফিকদের পরিচয় তুলে ধরে পাক কুরইনে আল্লাহ রব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন-”(হে রাসূল) আপনার কাছে খান মুনাফকরা আসে তখন বলে আমরা সাক্ষ্য দিতেছি যে আপনিস আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ ও জানেন আপনি তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিতেছে যে, নিশ্চই মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী।’’ (সুরা মুনাফিকুন, আয়াত-১) এতে ইহাই পরিস্কার বুঝা যায় যে, হযরত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (দঃ) কে মৌখিকভাবে মামুলী তরিকাযয় রসূ বলে স্বীকার করার দাবী করাটাই প্রকৃতক মো মিন হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁকে অন-রর অন-ঃস’ল থেকে শ্রদ্ধার সহিত মানা ও স্বীকত্ম করার নামই ঈমাণ। উপরোক্ত কথার সমর্থনে রাসূলে পাক (দঃ) স্বয়ং হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে ইরশাদ করেছেন- যার হাতে আমার জীবন রয়েছে তাঁর কসম, তোমাদের কেহই ঈমানদার হব্‌ে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও পুত্র এবং সকলের চাইতে অধিকতর প্রিয় হই। (বোখারী শরীফ, কিতাবুল ঈমাণ অধ্যায়)।
অতএব রসিূলে পাকের সহিত বায়াত গ্রহণ করে যারা সঠিক পথের অনুসারী হয়েছে, তাদের জন্য রয়েছে অশুভ পরিনাম। কুরআনে করীমে এই মর্মে আল্লাহ তা’লা সুস্পষ্ট ভাবে ইরশাদ করেছেন- য়ারা আপনার (রাসূলের) বায়াত গ্রহণ করে, তারাতো আল্লাহরই বায়াত গ্রহণ করে। তাদের হাতের উপর আল্লাহরই হাত। যে উহা ভয্‌গ করে, উহা ভঙ্গ করার পরিণাম তারই যে আল্লাহর সহিত অঙ্গিকার পূর্ণ করে তিনি তাকে মহা পুরষ্কার দেব”, (সূরা ফাতাহ্‌, আয়াত -১০) রাসূল প্রেমে আত্ম নিকেদিত তথা আল্ল্‌হর পধে উৎসাহিত এহিন আল্লাহ প্রেমিকদের মধ্যে আসহাবে সুফিফার নামে এই পথের পুরোধা হিসেবে সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য, প্রকৃতপক্ষে যাদের থেকেই সূফীতত্ত্বের বিকাশ। এই সবত্যাগী আশেকহণ আল্লাহর প্রেমে ফানা হয়ে আত্ম নিবেদত দিওয়ানা রূপে রাসূল (দঃ) কো ঘিরেই জীবন উৎসর্গ করেছেন। তারা সর্বদা রাসূলের সয্‌েগ থাকতেন এবয় মসজিদ নববীতে অবস’ান করতেন। শেষ পর্যন- মসজিদে নববীর বান্দায় তাদের জন্য আস-ানা নির্মাণ করা হয়েছিল। তারা এমন ইশকে বিভোর ছিলেন যে, তাদের পরিধানের বস্ত্র এবং নিজের খাদ্য পানীয়ের ব্যবস্‌ধা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তারা জবাব দিতেন- রাসূলুল্লাহ (দঃ) এর পবিত্র চেহারা মোবারক চেয়ে থাকাই আমাদের খাদ্য-পানীয়।” তাদের পথ ছিল প্রেমের, প্রেমই ছিল তাদের সম্বল এবং একমাত্র অবলম্বন, বস’ত; স্রষ্টা ও সৃষ্টির মিলন সেতুই হল ইশক (নিষ্কুলুষ প্রেম), ইহা সত্য সন্ধানী প্রেমিক তথা সূফীকে নিজের ক্ষুদ্রতম অসি-ত্বকে জাতে পাকের মহান অসি-ত্বের মধ্যে বিলীন করে দিয়ে আল্লাহর পরিিিচতি অর্থাৎ মারেফাত অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে, প্রখ্যাত সূফী সাধক মহাত্ম হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রঃ) এর মতে বস’জগতের মোহ থেকে আপন প্রবৃত্তিকে প্রভাবমুক্ত রাখা, বিশ্ব প্রকৃতির ছলনা থেকে বিরত থাকা, চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন, প্রবৃত্তির প্রবঞ্চনা ও প্রতারণা থেকে মোহ আত্মাকে পুত-পবিত্র রাখা তথা আত্মিক উৎকর্ষ সাথন, অন-রের কুটিলতা পরিহার করে সদা সৎ চিন-ায় বিভোর থেকে জীবন মরন কেবলমাত্র আল্লাহর সন’ষ্টি উৎসর্গ করে দেয়াই প্রকৃত সূফী সাধকের ব্রত।

This entry was posted in Uncategorized, লেখনী সমূহ and tagged , , . Bookmark the permalink.

No Comments