Welcome to মাইজভান্ডারীদর্পন

Featured Post

আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) প্রতি ভালবাসা ও আনুগত্য ছাড়া পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়া অসম্ভব-জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদে শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের ১০ম দিবসে সৈয়দ সইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)
জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদে শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের ১০ম দিবসে সৈয়দ সইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.) আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) প্রতি ভালবাসা ও আনুগত্য ছাড়া পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়া অসম্ভব চট্টগ্রাম ঃ জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে ২৮তম আš—র্জাতিক শাহাদাতে...
Read More ...


Comment

Comment here if you like this plugin.

Member Login

Sign Up Now!

Forgot Password !

New password will be e-mailed to you.

Powered by

রাজনীতি নয় দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কারবালার সংঘাত

রাজনীতি নয় দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কারবালার সংঘাত

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রগণ রাজনীতির একাধিক সংজ্ঞার সঙ্গে পরিচিত। ইংরেজী চড়ষরঃরপং শব্দের বাংলা রাজনীতি। রাজনীতির একটি আধুনিক সংজ্ঞা দিয়াছেন সাউদানের ক্যালিফোরনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসার বিখ্যাত রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ও লোক প্রশাসন বিশেষজ্ঞ জন এম্‌ ফিফ্‌নার এবং ফ্রেঙ্ক পি,সের উড। তাঁহারা বলেন,চড়ষরঃরপং রং ঃযব ঢ়ৎড়পবংং নু যিরপয ঢ়ড়বিৎ ধহফ রহভষঁবহপব ধৎব ধপয়ঁরৎবফ ধহফ বীবৎপরংবফ অর্থ্যাৎ রাজনীতি হইলে এমন একটি প্রক্রিয়া যাহারা দ্বারা ক্ষমতা ও প্রভাব অর্জন করা ও খাটান যায়। এই ক্ষমতা কি জিনিস? মেরি পার্কার ফলেট বলেন,চড়বিৎ সরমযঃ নব ফরভরহবফ ধং ংরসঢ়ষু ঃযব ধনরষরঃু ঃড় সধশব ঃযরহমং যধঢ়ঢ়বহ অর্থ্যাৎ ক্ষমতার সংজ্ঞা হইল কোন কিছুর ঘটাইবার শক্তিমাত্র আর চড়ৎবপবংং হইল দধ ংুংঃবসধঃরপ ংবৎরবং ড়ভ ধপঃরড়হ ফড়ৎবপঃবফ ঃড় ংড়সব বহফচ অর্থাৎ প্রক্রিয়া হইল কোন উদ্দেশ্য অর্জনের নিয়মাবদ্ধ ধারাবাহিক কার্যবলী । হযরত হোসেনের কোন পদক্ষেপই ঐ সংজ্ঞাগুলির আওতায় আসে না।
হযরত হোসেন ছিলেন মোহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়াসাল্লাম এ দৌহিত্র । যিনি সব-সময় আঁ –হযরতের আদর্শ অনুসরণ করিতেন। আঁ হযরত ১২ লক্ষ বর্গমাইল বিশিষ্ট রাজ্যের রাজ্যের মালিক হইয়াও খেজুর পাতার বিছানায় শুইতেন। তাঁহার মৃত্যুর সময় তাঁহার গায়ের কাপড় তালি যক্তি ছিল। তাহার মাতা ছিলেন হযরত ফাতেমা যাঁহার,তাঁহার পিতা ছিলেন হযরত আলী যিনি খলিফা হইয়াও ফকিরের মত জীবন যাপন করিতেন। হযরত হাসান,হযরত হোসেন,হযরত ফাতেমা যাহারা এবয় হযরত আলী ছিলেন আহ্লুল বায়েতের সদস্য পবিত্র কোরআনের ছুরা আহ্‌যাবের ৩৩নং বলা হইয়াছে,
অর্থঃ হে নবী পরিবার,আল্লাহ কেবল চাহেন তোমাদিগ হইতে সমন- অপবিত্রতা দূর করিতে এবং তোমাদিগকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও কলল্কমুক্ত করিতে। যেহেতু হযরত হোসেন আহলুল বায়েতের একজন সদস্য,আল্লাহর বাণী অনুযায়ী তিনি পবিত্র ও কল্কমুক্ত। যেতেতু ইহা আল্লাহর কালামের উপর প্রতিষ্ঠিত,উহা প্রত্যেক মুসলমাকেব বিশ্বাস করিতেই হইবে। আপনারা অনেকেই জানেন এই অয়াত কি অবস’ায় নাজেল হইয়াছিল। একদিন আঁ হযরত তাঁহার কন্যা হযরত ফাতেমা যাহারার ঘরে আগমন করিলে দিতি তাঁহার গায়ে একটি এমনি জুব্ব পরিধান করেন। এই জুব্বায় পর পর হযরত হাসান,হযরত হোসেন,হযরত ফাতেমা যাহারা এবং হযরত আলী প্রবেশ করেন। ঐ সময় আঁ হযরত তাঁহাদিগকে পবিত্র ও কলল্কমুক্ত করার জন্য আল্লাহর নিকট আরজি করেন,তখন উপরোক্ত আয়াতে করীমা নাজেল হয়। (সুত্র- জামাখশারী তাফসীর আল কাশাফ)
কোরআন শরীফের বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইউসুফ আলী কলেন,নবী পরিবার কলিতে আঁ হযরতের স্ত্রীগণ এবং হযরত হাসান,হযরত হোসেন,হযরত ফাতিমা যাহারা এবং হযরত আলীকে বুঝান হইয়াছে।
সুতারাং যেহেতু হযরত হোসেন আহ্লুল বায়েত বা আঁ হযরতের পরিবারভুক্ত ছিলেন আল্লাহ্‌ তাঁহাকে পবিত্র ও কলল্কমুক্ত করেন। এই অবস’ায় তাঁহার নিকট কোন জাগতিক লোভ-লালসা বা কোনরূপ অপবিত্রতা থাকিতে পারে না।
হারকেরা জামা যে এস্ক্‌ চাক্‌ শোধ
উজে হেরচ্‌ ও আয়েব কুল্লে পাকশোধ।
প্রেমের দরুন যাঁহার গায়েব বস্ত্র ছিন্ন হইয়া গিয়াছে,তিনি সমস- লোভ ও দোষ ক্রটি হইতে মুক্ত হইয়াছেন।
কারবালার সংঘাতের মূল কারণ কি ছিল? এই সম্বন্ধে যেই সমস- নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য রহিয়াছে উহা হইতে বুঝা যায় যে হযরত মোসেন ক্ষমতার জন্য নয়,দ্বীনের জন্য শাহদাত বরণ করেন। আঁ হযরতের তিরোধানের পর মুসলমানগণ দেশ শাসনের ব্যাপারে ব্যক্তি বিশেষের গুণাবলী বিবেচনা করিয়া খলিফা নির্বাচন করিতেন। এই নিয়মে আঁ হযরত মাবিয়ার (রাঃ) পূর্ব পর্যন- ইসনলামই ছিল শাসন প্রণালীর মূলনীতি। রাজ্য শাসনের চাবিকাঠি চিল ’’খিলাফত আল নবুয়াহ” অর্থাৎ নবীর খলিফা। এই খেলাফতকে ব্যাখ্যা করিতে গিয়া ইবনে খালদুন তাঁহার ’আল মুকাদ্দিমা’ তে বলেন ‘‘ খেলাফত অর্থ হইল ধর্মের সংরক্ষণ ও পার্থিব শৃঙ্খলা বিধানের জন্য ধর্ম প্রতিনিধিত্ব করা । ধর্ম প্রবর্ত্তক দুইটি বিষয়ে তৎপর হন,একটি হইল ধর্মীয় বিধি নিষেওধর যথাবিহিত প্রচারণা এবং মানুষকে তৎসম্পর্কে কর্তব্য পালনের করা উৎসাহিত করা,অন্যটি হইল মানব জীবনের কল্যাণকে সম্মুখে রাখিয়া পার্থিব শাসন ব্যবস’া প্রতিষ্ঠা করা।
খেলাফত যদি ইসলামী হয়,তাহা হইলে উহার মধ্যে রাজশক্তি মিশ্রিত অবস’ায় থাকে এবং কখনও উহার অনুসারীও হয়,কিন’উহা যদি উসলামী জীবন ব্যবন’ার বহির্ভূত হয়,তাহা হইলে উহা রাজশক্তি হইয়া দাঁড়ায়। খেলাফত সামগ্রিকভাবে জাতির ধর্মীয় ও পার্থিব অবস’াদির পর্যবেক্ষণ এবং তৎসম্পকীয় ধর্মীয় বিধি নিষেধ প্রবর্ত্তন করে। ’’ (আলমুকাদ্দিমা- ইবনে খাল্‌দুন- গোলাম সামদানী কোরায়শী অনূদিত পৃঃ -৩৭৯)
হযরত মাবিয়ার সময় ‘ খেলাফত আল নবুয়াহ্‌’র পরিবর্তন ঘটে এবং উহা মূলক বা জাগতিক সার্ব্বভৌত্বে অর্থাৎ ঞবসঢ়ড়ৎধষ ঝড়াবৎবরমযঃু তে পরিণত হয়। প্রথম চার খলিফা তাঁহাদের কোন উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করেন নাই । ইবনে খালদুন বলেন,‘‘ হযরত উমর ইবনে আল খত্তাব(রাঃ) যখন সিরিয়া উপসি’ত হইয়া হযরত মাবিয়াকে রাজশক্তি সুলভ বৈভব ও ভূষণ এবয় সভাসদও অনষদের মধ্যে দেখিতে পাইলেন,তখন দিনি বিরক্তি প্রকাশ করিয়া বলিয়াছিলেন,‘‘ ইহা কি পারস্য রাজের বেশ ভূষা নহে,হে মাবিয়া?’’ (আলমুকাদ্দিমা)
ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সমগ্র বিশ্বের মালিক আল্লাহ,অন্য কেহ উহার মালিক হইতে পারে না। হযরত মাবিয়ার সময়ের পর হতে এই নীতির বিচ্যুতি ঘটে। এয়াজিদের খলিফা হওয়ার উপযুক্ততা ছিল বিনা তাহা বিবেচনা করা প্রয়োজন। আমরা দেশে ও বিদেশে ওদখিতেছি,উপযুক্ত না হইলেও এবং সংখ্যা গরিষ্ঠ জনসাধারণের সমর্থন না থাকিলেও নানা কৌশনে কেহ কেহ শাসন কক্ষমতা দখল করে। হযরত মাবিয়ার পুত্র এয়াজিদের বেলায়ও হইয়াছিল হাতাই। তিনি ছলে,বলে,কৌশলে উবভধপঃড় অর্থাৎ অদিকার বলে হউক বা না হউক রাজা হইয়া গিয়াছিলেন। আপনারাপ জানেন ইহুদী ও খৃষ্টান লেখকগণ ইসলামকে হেয় করার জন্য প্রায় সময় ইসলামের শক্রকে বড় করিয়া দেখায়,কিন’আশ্চর্যের বিষয় এয়াজিদের চরিত্রহীনতার ব্যাপারে প্রায় সব ইহুদী ও খৃষ্টান লেখকগণ একমত। উদাহরণ স্বরূপ ঐরঃঃর (হিট্টি)তাঁহার ইতিহাস ঐরংঃড়ৎু ড়ভ ঃযব অৎধনং এ লিখিতেছেন ’’ ডযবহ ণধুরফ বিষষ শহড়হি ভড়ৎ যরং ভৎরাড়ষরঃু ধহফ ফরংংরঢ়ধঃরড়হ ংঁপপববফবফ ঃড় ঃযব ঃযৎড়হব ধনফঁষষধয ড়ঢ়বহঃষু ধমরহধংঃ ঃযব হব িঈধঢ়ষরযধ”অর্থঃ যখন এয়াজিদ যিনি তাঁহার চপলতা ও চরিত্রহীনতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন,সিংহাসন আরোহন করেন,তখন আবদুল্লাহ্‌ খোলা খুলিভাবে নিজকে নূতন খলিফার বিপক্ষে বলিয়া ঘোষণা করেন।
একজন মদ্যপায়ী দুশ্চরিত্র লোককে কোন প্রকৃত মুসলমান খলিফা কলিয়া মানিয়া নিতে পারে না। হযরত মোহাম্মদ মোস-াফা ছল্লাল্লহু
আলাইহে ওয়াছাল্লামের দৌহীত্র হযরত হোসেনের পক্ষে ইহা মানিয়া নেওয়া মোটেইড সম্ভব ছিল না। এয়াজিদ তাঁহাকে খলিফঅ মানিয়া নিবার জন্য হযরত হোসেনের উপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং তাহার হাতে বায়েত হইবার জন্য পত্র প্রেরণ করেন। হযরত হোসেন কি করিয়া একজন অপবিত্র চরিত্রহীন লোকের হাতে বায়েত গ্রহণ করিবেন? বায়েত শব্দটির অর্থ আপনারা অনেকেই জানেন। এই সম্বন্ধেইননে খালদুন তাঁহার ‘‘আলমুকাদ্দিমা’’ তে কি বলেন দেখুন,‘‘জানিয়া রাখুন আরবী বায়েত শব্দের অর্থ আনুগত্যের শপথ গ্রহণ। শপথ গ্রহণকারী তাহার সর্দ্দারকে এই বলিয়া প্রতিশ্রুতি দেয় যে,নিজের জন্য ও মুসলমানদের জন্য তাঁহার দৃষ্টিভঙ্গি মানিয়া লইবে এবং কোন ব্যাপারে তাঁহার সহিত কলহে প্রবৃত্ত হইবে না। এতদ্ব্যতীত সর্দ্দার তাহাকে যেই দায়িত্ব পালন করিতে দিবেন,তাহা ভাল হউক বা মন্দ হউক সে উহা পালন করিবে।
এইভাব তাহারা যখন কোন সর্দ্দারে আনুগত্য স্বীকার করিয়া শপথ গ্রহণ করে তখন বিষয়াটিকে গুরুত্ব সৃষ্টির জন্য তাঁহার হাতে তাহাদের ন্যস- করে। উহা যেন ক্রেতা বিক্রেতার সম্পর্কের মত হইয়া দাঁড়ায়। এই জন্য উহাকে বায়েত বলা হয়।
উহা ‘‘বা-আ’’ শব্দের ক্রিয়া বিশেষ্য এবং বায়েতের অর্থ হয় করমর্দ্দন। (আল মুকাদ্দিমা পৃঃ ৩৬৪)
চিন-া করিয়া দেখুন,হযরত হোসেনের পক্ষে উহা সম্ভব ছিল কিনা। তাঁহার পক্ষে উহার বিরোধিত করাই ছিল স্বাভাবিক। তিনি ইসলাম ধর্ম রক্ষার্থে উহার বিরোধিতা করেন। বছরাবাসীদের উদ্দেশ্যে লিখিত তাঁহার এক চিঠিতে তিনি পরিস্কারভাবে উল্লেখ করেন যে,হযরত মোহাম্মদ ছাল্লাল্লহু আলায়হি ওয়াছাল্লামের সুন্নত বিলুপ্ত হইয়া যাইতেছে। তিনি সকলকে দ্বীন রক্ষা করিতে অনুরোধ জানা। তিনি তাঁহার বিভিন্ন ভাষণে বার বার উল্লেখ করেন যে,তিনি ক্ষমতার লোভে নহেন। তিনি কেবল ইসলামকে রক্ষা করিতে চাহেন। একজন দুশ্চরিত্র মদ্যপায়ীকে মুসলমানদের খলিফা বানাইলে ইসলাম রক্ষা হইতে পারে না। আঁ হযরতের নাতি এজিদের হাতে বায়েত গ৯্রহণ করিলে সমগ্র জগতকে উহা অবনত মন-কে মানিয়া নিতে হইতে এবং কেয়ামত পর্যন- উহা একটি কলল্ক হিসাবে চিহিৃত হইয়া থাকিত। ইহা তিনি চাহেন নাই।আগেই বলা হইয়াছে,তিনি ক্ষমতার লোভে লোভী ছিলেন না। কুফাবাসীদের আমন্ত্রণক্রমে তিনি যখন কুফার দিকে রওনা হন,তখন তাঁহাদের মধ্যে যুদ্ধ করার বা যেই কোনরূপ সংঘাতে লিপ্ত হইবার মনোভাব ছিল না। যদি অন্যরূপ হইত তাহা হইলে তিনি পরিবার পরিজন ও দুগ্ধ
পোষ্য শিশু নিয়া কারবালায় উপসি’ত হইতেন না। তাঁহার হৃদয় ছিল সরল,স্বচ্ছ ও পবিত্র। তিনি ক্ষমতার জন্য কোন কিছু ঘটাইবার মানসে বাহির হন নাই। তিনি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হন। তাঁহাকে যখন চতুর্দ্দিক হইতে ঘিরিয়া রাখিয়া পানি বন্ধ করিয়া এবং তাঁহার সঙ্গীদের একের পর এককে বধ করিয়া তাঁ্‌হাকে হয়,তখন তিনি উহা রুখিয়া দাঁড়ান। তিনি তাঁহার জীবন বিসর্জ্জন করেন কিন’সত্যকে,ধর্মকে বা আদর্শকে বিসর্জ্জন দিতে অস্বীকার করেন। তিনি যাহা করিয়াছিলে তাহা একমাত্র আঁ হযরতের দৌহিত্রের পক্ষেই সম্ভব ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে,হযরত হোসেনের সঙ্গে যাঁহারা ছিলেন তাঁহাদের সংখ্যা ছিল মাত্র দুইশতঃ অপর পক্ষে এজিদের সৈন্য সংখ্যা ছিল চার হাজার। এই অসম এবং অন্যায় যুদ্ধের পরিণতি উপলদ্ধি করিয়াও হযরত ইমাম হোসেন আদর্মচ্যুত হন নাই। সত্যিকার মুসলমানদের কাজ হইল পাপ কাজে লিপ্ত স্বৈরাচারীও একনআয়কের বিরুদ্ধে আমরণ জিহাদ ঘোষণা করা।ইহাতে ইসলামের অমরত্ব নিহিত রহিয়াছে। এই জন্য বলা হয়,‘‘ ইসলাম জিন্দ হোতা হ্যায় হার কাবালা কি বাদ’’। প্রকৃতপক্ষে কারবালাপর ঘটনা হযরত ইমাম হোসেনকে অমর করিয়াছে আর এয়াজিদের মৃত্য আনয়ন করিয়াছে।
পৃথিবীর ইতহাসে ধর্মের জন্য প্রাণ বিসর্জ্জন করিয়াছেন এইররূপ মহাপুরুষের সংখ্যা যথেষ্ট। যাঁহারা প্রাণের বিনিময়ে ধর্মকে বা নিজের মতবাদকে রক্ষা করিয়াছেন তাঁহাদের মধ্যে হযরত ঈসা ও ইমাম আবু হানিফার না উল্লেখ করা যাইতে পারে। হযরত ঈমা যদি রোমান রাজার গভর্নর পন্টিয়াস পিলেট (২৬-৩৬খৃঃ) ও গেলিলির শাসনকর্তা হেরোডের কথামত চলিয়া তাঁহার ধর্মমত বিসর্জ্জন দিতেন,তাহা হইলে হয়ত বা তিনি প্রাণে বাঁচিতেন কিন’খৃষ্টান ধর্ম পৃথিবীতে থাকিত না। হযরত ইমাম আবূ হানিফা (৬৯৯-৭৬৭খৃঃ) যদি খলিফা আল মনসুরের কথামত জবনদসি-মূলক শাসন ব্যবস’ার প্রতি সমর্থন দিতেন,তাহা হইলে তাঁহাকে এগার বৎসর কারাগারে ধাকিয়া পরিশেষে বিষপানে প্রাণ দিতে হইত না। তিনি তাঁহার মতবাদে দৃঢ় না থাকিলে তাঁহার প্রবর্ত্তিত মজাহাবের প্রতি মানুষের আস’া থাকিত না এবং আমরা এতগুলো লোক তাঁহার অনুসারী ধাকিতাম না । কিন’বীরত্বও অন্যান্য সব দিক হইতে পৃথিবীর ইতিহাসে ইমাম হোসেনের শাহাদাতের কোন তুলনা নাই। আঁ হযরতের দৌহীত্র হইয়া তিনি যদি এয়াজিদের পাপাচারকে সমর্থন জানাইতেন,তাহা হইলে ইসলামের অপূরণীয় ক্ষতি হইত তিনি প্রাণের বিনিময়ে ইসলামকে রক্ষ করিয়াছে। এয়াজিদ যুদ্ধে জয়ী হইলেও ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ হইতে এবং সমগ্র জগতের
নিকট রোজ কেয়ামত পর্যন- সে একজন ঘৃণিত জীব হিসাবে পরিচিত থাকিবে। হযরত হোসেন ইসলাপমের গৌরব। তাঁহার শাহাদাতের পর লক্ষ লক্ষ লোক ইসলামের জন্য,ন্যায়ের জন্য,আদর্শের জন্য শাহাদত বরণ করিতে উদ্বুদ্ধ হইয়াছেন। ইহা না হইলে ইসলামের বিরুদ্ধে যেইসব ষড়যন- আগে চলিয়াছে এবং এখনও চলিতেছে উহা ইসলামকে ডুবাইয়া দিত। হযরত ইমাম হোসেন ধর্ম রক্ষার্থে সমগ্র মুসলিম উম্মার জন্য শাহাদতের যেই দৃষ্টান- রাকিয়া গিয়াছেন উহা ইসলামকে এই পর্যন- রক্ষা করিতে সহায়ক হইয়াছে এবং ভবিষ্যতে কেয়ামত পর্যন- সহয়ক হইবে। ইমাম হোসেন সমগ্র মানব জাতির হৃদয়ে বাঁচিয়ে আছেন। তাঁহাকে মুসলিম,খৃষ্টান,ইহুদী,হিন্দু,বৌদ্ধ,শিয়া,সুন্নী সকলেই শ্রদ্ধা করেন।
ইসলামের জন্য যাঁহার শহীদ হইয়াছেন,তাঁহার কোন দিনই মৃত্যু হয় না। ভূপৃষ্ঠের রেকর্ডে চিরকালের জন্য তাঁহাদের নাম লিপিবদ্ধ হইয়া গিয়াছে। হযরত হোসেন ৬১ হিজরীর ১০ই মহররম মোতাবেক ১০ই অক্টোবর ৬৮০ খৃষ্টাব্দে শাহাদত বরণ করেন।
আমি ১৯৮৯ ইংরেজীর ডিসেম্বর মাসে অর্থাৎ হযরত হোসেনের শাহাদতের এক হাজার তিনশত বৎসর পরে কারবালায় সপরিবারে তাঁহার মাজার জিয়ারত করিতে যাই। পৃথিবীতে যদি এমন কোন স’ান থাকে যেই স’ানে দিন রাত্রি বিরামহীন কান্না চলিতেছে ঐ স’ানটি হইল ইমাম হোসেনের শাহাদতের স’ান। ঐ স’ানটিকে রক্তাক্ত অনিকস পাথরে নির্মিত প্রাচীরে ঘিরিয়া রাখা হয়। উহাতে প্রবেশ করিলে মনে হয় যেন এই মাত্র হযরত হোসেন শাহাদত বরণ করিয়াছেন এবং তাঁহার পবিত্র রক্তের ছিটকানি মেঝেতে এবং দেওয়ানের গায়ে তাজা অবস’ায় লাইগিয়ে আছে। হাজার হাজার নারী ও পুরুষ বা দিনে ঐ স’ানে পৌছিতেছে এবং কান্নার রোল দুলিতেছে।
কত নেতা কত রাজা কত মহারাজা ও লোকজন যুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন করিয়াছেন এবং করিতেছেন কিন’সমগ্র পৃথিবীর লোক তাঁহাদের কাহারও জন্য অত ব্যাথা অনুভব করে না,যতখানি ব্যথা তাহারা ইমাম হোসেনের শাহদাতাতের জন্য অনুভব করে। করি,ঐতিহাসিক ও লেখক এই শাহাদতকে কেন্দ্র করিয়া বিভিন্ন যুগে,বিভিন্ন দেশে বিলাপ করিয়াছেন,কবিতা ও মর্সিয়া লিখিয়াছেন এবং উহাদের প্রত্যেকটাই করুণ ও অশ্রু উদ্রেককারী।

No Comments