Welcome to মাইজভান্ডারীদর্পন

Featured Post

মইনীয়াঅন্যায় অবিচার জুলুম নির্যাতনের বির“দ্ধে ইমাম হোসাইনের শাহাদাত থেকে আমাদের কর্ম প্রচেষ্টার শি¶া নিতে হবে-মইনীয়া যুব ফোরামের শোহদায়ে কারবালা মাহফিলে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.)
মইনীয়া যুব ফোরামের শোহদায়ে কারবালা মাহফিলে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ম.জি.আ.) অন্যায় অবিচার জুলুম নির্যাতনের বির“দ্ধে ইমাম হোসাইনের শাহাদাত থেকে আমাদের কর্ম প্রচেষ্টার শি¶া নিতে হবে ফটিকছড়ি-রাঙ্গুনীয়া ঃ মইনীয়া সুন্নীয়া যুব ফোরাম রাঙ্গুনীয়া শাখার...
Read More ...


Comment

Comment here if you like this plugin.

Member Login

Sign Up Now!

Forgot Password !

New password will be e-mailed to you.

Powered by

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (দ.) গুরুত্ব ও পিয় নবীর শান –মর্যাদা ঃ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (দ.) গুরুত্ব ও পিয় নবীর শান –মর্যাদা ঃ

মহা- পরাক্রমশালী,মহা- বিজ্ঞানময়,সর্বত্র বিরাজমান,সর্বজ্ঞাত,সর্বশ্রোতা,সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশী খুশী হন সেই বান্দার প্রতি যে কিনা তাঁরই প্রিয় হাবীব,নূরের নবী (দ.) কে আপন প্রাণের চেয়েও বেশী ভালোবাসেন । তদ্রুপ ,যে ব্যাক্তি তাঁর প্রিয় বন্ধুর মান- শানের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনড়্গা হিংসা কওে অথবা তাঁর প্রিয় বন্ধুর প্রতি কোন প্রকার অসম্মান প্রদর্শন কওে,তবে আল্লাহ তার প্রতি ভীষণ নারাজ হন,পরকালে তার জন্য অপেক্ষা করে কঠিন আজাব।
মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম আপন নূও থেকে তাঁর প্রিয় হাবীবের নূও পৃথক করলেন এবং সেই নূরের অংশ থেকেই সারা বিশ্বজাহান সৃষ্টি করলেন। জাহেরী- বাতেনী অর্থাৎ প্রকাশ্য যেমন ঃ- বেহেস–দোযখ,ফেরেশতা,জ্বীন-পরী,মানব-মানবী,আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব কিছুই সৃষ্টি করলেন নবীজীর নূও থেকেই।
নবীজী যে সৃষ্টিকূলের জন্য কত বড় মাধ্যম,কত বড় অবিচ্ছেদ্য নেয়ামত তা মুখে বলে শেষ করার সাধ্য,ক্ষমতা বা জ্ঞান কারোই নেই। তবু অল্প কয়েকটি দিক আলোচনা করলেই নবীজির মান-শান এবং গুরুত্ব যে কত অপরিসীম তা খুব সহজেই অনুমান করা যায়।
মানব জাতির আদি পিতা মাতা,“বা আদম এবং মা হাওয়া” নিজেদেও ভুলের জন্য প্রায় সাড়ে তিনশত বৎসরকাল আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি কও কে্ষমা প্রার্থনা করলেন,কিন’আল্লাহর ক্ষমা করলেননা । যখন তাঁর প্রিয় হাবীব হযরত মহাম্মদ (দঃ) এর উছিলায় ক্ষমা চাইলেন তাঁদেও ক্ষমা কওে দিলেন।
মহান স্রষ্টা তাঁর প্রিয় হাবীবকে উদ্দেশ্য কওে বলেছেন “ও আমার প্রিয় হাবীব আপনি না হলে আমি কোন কিছুই সৃষ্টি করতাম না। পকিত্র কোরআন মাজীদে বলেছেনঃ যে ব্যক্তিই আমার হাবীবের তাবেদবরী কওে পক্ষান-ওে সে ব্যক্তি আমারই তাবেদারী কলে। কোরআন করিমে নবীজীকে সৃষ্টি করার কথা কোথাও লিখা নেই বরং পরিষ্কার ভাবে প্রেরণ করার কথাই লিখা আছে।
আল্লাহ বলেছেন তোমাদেও কাছে স্পষ্ট কিতাব ও নূও প্রেরণ করা হয়েছে। নূরের কোন ছায়া থাকার প্রশ্নই আসে না। আর তাইতো আমাদের নূরের নবী (দঃ) এর দেহ মোবারকের কোন ছায়া ছিল না(সোবহানাল্লাহ) । তিনি হলেন স্পষ্ট ও জীবন- কোরআন।
কাগজে লিখা কোরআন চিন-াশীল-জ্ঞানীরা আমলের মাধ্যমে নিজেদেও মাঝে জীবন- কওে তোলেন। আর লিখা কোরআনও নবীজির উছিলাতেই আমরা পেয়েছি। আল্লাহ –তাআলা কোরআনে বার- বার বলেছেন,তোমরা উছিলা তালাশ কর উছিলা তালাশ কর।
কোরআন ও হাদীস শরীফের মতে তাঁর প্রিয় হাবীব এবং তাঁর রেসালতের ধারা অর্থাৎ প্রধিনিধিত্বেও ধারা আহলুল বাযেতকে যারা ভালোবসেন ,অলি আউলিয়াকে যারা ভালোবাসেন,মহান আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন এবং তাদেরকে সু-পথ প্রদর্শন করেন। মানব জাতির আদিকাল থেকেই আল্লাহ তাঁর হাবীব যে কত বড় উছিলা সেই শিক্ষাই দিয়ে আসছেন। তিনি কোন কিছু সৃষ্টির বহু পূর্ব থেকেই নবী ছিলেন। তিনি সব নবীগণেরও নবী । শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর প্রকৃত উম্মতরা যে কত বড় সৌভাগ্যবান তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হযরত ঈসা (আঃ) একজন নবী হয়েও শেষ নবীর (দঃ) এর উম্মত হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবাওে ফরিয়াদ করলেন পুনরায় পৃথিবীতে আসার জন্য। আল্লাহ ঈসা নবীর প্রার্থনা কবুল করলেন। সব নবী ও রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স’াপন করতে হবে। আর যিনি কিনা সম্‌স- কোরইন তাঁর জীবনাচার দিয়ে মানবজাতিকে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন,আল্লাহর সেই প্রিয় হাবীব,জীবন- কোরআন সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অবিশ্বাস করলে তাঁর প্রকৃত উম্মত হওয়া আশা করা যায় না। তিনি জীবনের বেশীর ভাগ সময় নিরিবিলিতে ও হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যান মগ্ন হয়ে গোপনে বা অপ্রকাশ্য ইবাদতে কাটি য়ে গেছেন। তারপর অল্প কিছুদিন বাহ্যিক বা প্রকাশ্য আচার –অনুষ্টান দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।
শুধু মুসলিম নাম ধারণ করে এবং পোশাক আশাক পরিধান কওে বাহ্যিক আচার অনুষ্ঠান পালন করেই কি আমরা নবীজীর প্রকৃত উম্মত হওয়ার আশা করতে পারি? নবীজীর ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের এুঁকু মানি আর ওট ুকু মনি না এই যদি হয় অবস’া তবে তা হবে সেই ব্যক্তির জন্য খুবই দুভাগ্যজনক । তিনি আমাদেও ‘মান আরাফা নাফসাহু- ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু (যে তার আপন নফস বা প্রবৃত্তিকে চিনলো সে তার রবকে চিনলো) বাস-বায়ন করে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। রাসূও (দঃ) এবং তিনি যাদের অনুসরণ করতে বলে গেছেন সেই সব আহলুল বায়েত এবং অলি- আউরিয়াদেও প্রদর্শিত পথেই মানুষের প্রকৃত মু্‌ক্িত নিহিত রয়েছে। নবীজী পরিষ্কার বলে গেছেন,“আল্লাহ যা বলেননি আমি তা কখনো তোমাদেও করতে বলিনি”।
কোরআনুল করিমের ঘোষনা (এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কার ) আল্লাহর সব কিছুই জোড়ায জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। আর নবী করিম (দঃ) হলেন আল্লাহর একমাত্র জোড়া- বন্ধু হাবীব। রাসুল (দঃ) এর নাম আল্লাহর নামের সাথে সংযুক্ত । প্রিয় নবীজীর উপর বেশী বেশী দরুদ পড়লে দোজখের আগুন হারাম হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবীবকে “ ও আমার প্রিয় হাবীব আমি আমার ফেরেস-াদের নিয়ে সদ –সর্বদা আপৃনার শানে দরুদ শরীফ পাঠ কওে চলছি। তিনি মানুষকে উদ্দেশ্য করে নির্দেশ দিচ্ছেন -“ হে আমার ঈমানদার মোমিন বান্দাগণ তোমরা আমার প্রিয় হাবীবের শানে বেশী বেশী কওে দরুদ পাঠ কর”। যে দিন কেয়ামত হবে,যখন মানুষ আল্লাহর নাম ভুলে যাবে তষনও খোদ আল্লাহ তার প্রিয় হাবীবের শানে দরুদ শরীফ পড়তে থাকবেন,যা খখনই বন্ধ হবে না,শেষ হবেনা। খোদ স্রষ্টাই আশেকে রাসূল (দঃ) । শেস বিচারের দিনে আল্লাহ যখন কাহ্‌হার রূপে কঠিন রূপে দেখা দিবেন তখন এক পর্যায়ে তিনি তাঁর প্রিয় হাবীবের দিকে দৃষ্টি দিবেন তখন তাঁর প্রিয় হাবীবের প্েরমে বিগলিত হযে,“রহমানুর রাহিম” হয়ে দেখা দিবেন। আর ক্ষমাশীল দয়াময় স্রষ্টা তাঁর প্রিয় হাবীবের সুপারিশে ভুল- ভ্রানি-তে নিমজ্জিত গুনাহগার উম্মতদেও ক্সমা কওে দিবেন।
রাসূল (দঃ) কে বাদ দিয়ে অৎানা হয় না। রাসুল(দঃ) এবং তাঁর আওলাদাগণের প্রতি সালাম ও দরুদ পেশ রা করলে নামাজ হয় না। রাসূল (দঃ) এর প্রতি দরুদ পাঠ না করে মোনাজাত করলে,সে মোনাজাত আর্‌লাহার দরবাওে কবুল হয় না। “বিসমিল্লাহী ওয়াআলা মিল্লাতি রাসল্লল্লাহি ” পড়ে লাশ দাফন করা হয়। পৃথিবীর যে কোন প্রান- থেকে নবীজীর প্রতি সালাম ও দরুদ পেশ করলে হায়াতুন্নবী –জিন্দা নবী (দঃ০ তার জবাব দেন। কোরআনুল করিমের স্পষ্ট ঘোষনা “ যে ব্যক্তি আমার প্রিয় হাবীবের দীদার পেল ( দেখা পেল) সে যেন আমাকেই দেখলো।” সোবাহানাল্লাহ । নবীজী (দঃ) এর কত বড় মান-শান।
হাদীস শরীফের বর্ণনা মতে“ আলমে আরওয়াহ” অর্থাৎ রুহের জগতে সর্বপ্রথম পবিত্র ঈদ- ই- মিলাদুন্নবী (দঃ) অনুষ্ঠানে পালিত হয়। আলোচনায় বিষয় ছিল –আল্লাহর প্রিয় হাবীব এর ধরাধামে শুভ আগমন সম্পর্কিত। উক্ত আলোচনার সভায় সভাপতিত্ব করেন খোদ আল্লা- জল্লা- শানুহু। সোবাহানাল্লা।
সৃষ্টির ইতিহসে মানবিক অবয়বে “নূও নবী হযরত মুহাম্মদ মোস-ফা (দঃ) এর এই নশ্বর ধরাধমে শুভ আগমন,মহান আল্লাহর তরফ থেকে মানবজাতির তথা সমগ্র সৃষ্টিক’লের জন্যে সব চাইতে বড় নেয়ামত। নবীজীর আগমনে সমগ্র সৃষ্টি জাহানের মাঝে বয়ে যায় আনন্দেও হিল্লোল- খুশীর জোয়ার । এই দিবসের থেকে আনন্দের আর খুশীর দিন কি হতে পারে? তিনি ছাড়া আল্লাহ কোন কিছুই সৃষ্টি করতেন না। তাই তিনি না হলে আমরা ঈদুল ফেতর অথবা ঈদুল আজহার আনন্দ কোনটাই উদ্‌যাপন করতে পারতাম না। তাইতো বলতেই হয় “ পবিত্র ঈদ –ই মিলাদুন্নবী (দঃ) উক্ত দুটি ঈদেরও ঈদ। নবীজীর শুভ আগমনের দিবসকে উপলক্ষ্যে কও উেম্মত মোহাম্মাদীয়া যে,“ পবিত্র ঈদ- ই –মিলাদন্নবী (দঃ) পালন কওে থাকে,ইয়া রাসুল্লাল্লাহ,ইয়া হাবীবাল্লাহ ধ্বনিতে আকাশ –বাতাস মুখরিত কওে নবী প্রেমে উদ্বেলিত হয়ে যে ধর্মীয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা (জশনে জুলুশ) বের কওে,উপভোগ কওে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টি জাহানের রাব্বুল আলামিন। আর রাসূল (দঃ) হলেন সমগ্র সৃষ্টি জাহানের “রাহমাতাল্লিল আলামিন”। অন্যান্য নবীরা এসছিলেন কোন বিশেষ গোত্র বা দেশের মানুষের হেদায়েতের জন্য । আর রাসূল (দঃ) এসেছেন জ্বীন ইনসান তসহ সমগ্র সৃষ্টি জাহানের ত্রাণকর্তারূপে । তিনিই হবে তাঁর উম্মতের শাফায়াতকারী। যে হাযাতুন্নবীর (দঃ) জুতা মোবারকেব ধলির জন্য মহান স্রষ্টার আরশে আজিম ধন্য হয়ে যায়,এই একটি ঘটনা থেকেই বোঝা যায প্রিয হাবীবের প্রেমে আল্লাহ রাব্বুল –ইজ্জত কতখানি দিওয়ানা বিভোর । আর আল্লাহর কাছে নূর নবী (দঃ) এর মান শান যে কত উচ্চে তা সাধারণ মানুষতো দূরের কথা অসাধারণ জ্ঞানী ব্যাক্তিদের কাছেও কল্পনার বাইরে। তাঁকে বাদ দিয়ে আল্লাহর পরিচয় পাওয়ার আশা করা বাতুলতা ছাড়া আর কি ভন্ডামি আর ধোকাবাজি থেকে আল্লা- জাল্লা –শানহু আমাদেও সবার ঈমান আকিদাকে হেফাজত করুন।
এই যুগে মুসলমান লেবাসধারী কিছু সংখ্যক লোক যারা নবীজী (দঃ) সম্পর্কে এমন সব কথা বলে বা এমন অপপ্রচার চালায় যাদেও খপ্পওে পড়ে ধর্মভীরু মানুষ ঈমান হারা হযে অন্ধকজাওে চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তারা নবীজী সম্পর্কে এমন সব কথা বল যা কি না জাহেরিয়াত যুগের মোশরেক,মোনাফেক এমনকি কাফেররাও বলতে সাহস করেনি। ঐ সমস- লোকদের আল্লাহ তাআলা হেদায়েত দান করুন এবং তাদের ধোকা থেকে আমাদেও ঈমান আকিদাকে হেফাজত করুন । আমিন।

No Comments