প্রিয় নবী (দ:) এর সৃষ্টির রহস্যঃ

প্রিয় নবী (দ:) এর সৃষ্টির রহস্যঃ

এ কথা চির সত্য যে, যখন সৃষ্টি বলতেই কিছুই ছিল না, ছিল শুধু পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালা। ছিলনা আসমান, জমিন, তারা, চন্দ্র, সুর্য, আকাশ, বাতাস, ছিলনা ভূমণ্ডল আার নভোমণ্ডলের সাগর উপসাগর নিম্নজগত আর উর্দ্ধজগত, ঁিঁঁছলনা কোন ফেরেশতা আর নবী রাসূল, মানবতার অসি-ত্ব।আল্লহ তায়ালা সর্বপ্রথম স্বীয় মাহবুব হুজুর পুরনূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন এবং তারই উছিলায় সব কিছুই সৃষ্টির আঙ্গিনায় বিকশিত, প্রকাশিত। সুতরাং তিনিই সৃষ্টির শুরু। সমগ্র সৃষ্টির রহমত বা প্রাণকেন্দ্র।তাইতো আসমানের নূরানী ফেরেশতারা হরদম তার উপর দরুদ সালাম পাঠে মশগুল। নবীগনের মুখে তারই শান মর্যাদার আলোচনা। সকল আসমানী কিতাব তথা আল্লাহর কালাম সমূহে তার গুনগান। আরশ কুরছি বেহেশত ও আসমানের দরজায় তারই ঢংকা তার নামেরই পতাকা বিদ্যমান।পাহাড় পর্বত বৃক্ষলতা এমনকি পাথর পর্যন- তার সম্মানে সালাম আরজ করতে বাধ্য।হুজুরপুর নূর এর কিঞ্চিত পরিমান শানমান পাঠক সমাজের অনুধাবনের লক্ষ্যে নিম্নে কয়েকটি হাদীস’র অনুবাদ পেশ করলাম।
১নংহাদীস: হুজুর পাক ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম আমার নূরকে সৃজন করেছেন। উক্ত হাদিস বিশারদ শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ) স্বীয় রচিত ‘মাদারেজুন্‌নবুয়ত’ নামক কিতাবে ছহীহ বা শুদ্ধ হাদীস বলে আখ্যায়িত করেছেন। ফলে বিশ্বের অধিকাংশ মাশায়েখ ও আলেমগণ সর্ব সম্মতিক্রমে উক্ত হাদীসকে সাদরে গ্রহন করেছেন। কিন’ পরিতাপের বিষয় আমাদেও দেশে তথাকথিত কিছু সংখ্যক নামধারী মৌলভী মওদুদীর উল্টরসূরি উক্ত হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেষ্টায়রত। তাদের এহেন মনোভাব হুজুর করিম (দ.) এর প্রতি বিদ্বেষের বহিঃ প্রকাশ।
২নং হাদীসঃ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমি আল্লাহর নূর থেকে আর সবকিছু আমার নূর থেকে সৃজিত।(বায়হাকি ও অন্যান্য হাদীস গ্রন’)
৩নং হাদীসঃ বিশিষ্ঠ ছাহাবী হযরত জাবের (রাদ্বিঃ) এর এক প্রশ্নের জবাবে রাসুল(দ.) এরশাদ করেছেন, নিশ্চই আল্লাহ তা’য়ালা সকল বস’ সৃষ্টির পূর্বে তোমার নবীর নূরকে স্বীয় নূর থেকে সৃষ্টি করেন।তখন লৌহ কলম, বেহেশত-দোজখ, আসমান-জমীন, ফেরেস-া, চন্দ্র, সূর্য, জীন ইনসান এক কথায় কোন কিছু ছিলনা (বায় হাকী শরীফ)
৪নং হাদীসঃ পবিত্র হাদীসে কুদ্‌সীতে বর্ণিত আছে আল্লাহ পাক বলেন ‘হে হাবীব (দ.) যদি আমি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম তাহলে নভোমণ্ডল বা আকাশ মণ্ডলী কিছুই সৃষ্টি করতাম না।(মুস্‌তাদরাব)
৫নং হাদীসঃ বর্ণিত আছে, মানব পিতা আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করার পর ডাকলাম আবু মুহাম্মদ বলে ডাকার রহস্য কি? খোদা তা’য়ালা এরশাদ করলেন হে, আদম! শির উত্তোলন কর। তিনি মাথা উত্তোলন করে আরসে আযিমে হযরত মুহাম্মদ মুস-ফার নূও পাক অবলোকন করা মাত্রই খোদার দরবাও পে্রশ্ন করলেন উক্ত নূরে মুহাম্মদী সম্পর্কে। তদুত্তরে আল্লাহ পাক বলেন ইহা তোমার সন-ানের মধ্যে একজন মহান নবীর নূরে পাক। তার পবিত্র নাম হবে আকাশ মণ্ডলে আহমদ এবং ভূমণ্ডলে মুহাম্মদ(দ.) তাকে সৃষ্টি না করলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না, এ আসমান ও জমিনকেও সৃষ্টি করতাম না।(মাওয়াহেবে লাদুনিয়াহ-১ম খণ্ড)
৬নং হাদীসঃ হযরত সালমান ফারসী(রাদ্বিঃ)থেকে বর্ণিত একদা হযরত জিব্রাইল ফেরেশতা নবীজীর দরবাওে হাজির হয়ে সংবাদ প্রদান করলেন যে আল্লাহর রাসুল; আপনার প্রভু বলেছেন আমি ইব্রাহিমকে খলীল বা বন্দুরুপে মনোনীত করেছি।আর আপনাকে হাবীব হিেেব মনোনীত করেছি। আপনার চেয়ে উত্তম আর কিছুই সৃষ্টি করিনি ।আপনার মান সম্মান সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করার জন্য।আপনাকে সৃষ্টি না করলে দুনিয়া ও সৃষ্টি করতাম না।
উল্লেখিত হাদীসে পাকের আলোকে সুষ্পষ্টভাবে প্রমানিত হয় যে, হযরত নবী কারীম(দ.)সব কিছুর আগে আল্লাহর নূর থেকে সৃষ্টি। আর সকল বস’ তার উছিলায় সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই নিষ্ঠুর আবু জেহেলের হাতে যে পাথর ছিল ্‌ঐ পাথর নবীজীর কালেমা পড়েছিল। যদিও মানুষের মাঝে আবু জেহেলের জন্ম হয়েও ঐ পবিত্র কালিমা তার ভাগ্যে জুটেনি সত্য। ইহা বড়ই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার ।
৭নং হাদীসঃ হযরত জাবের ইবনে ছামুরা (রাদ্বিঃ)থেকে বর্ণিত রাসূল (দ.)এরশাদ করেন নিশ্চয়ই আমি মক্কা নগরীর এই পাথরকে জানি যে, পাথর আমার নবুয়ত প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে থেকে আমার উপর সালাম পাঠে রত ছিল। উক্ত পাথরকে এখনো আমি ভালভাবে জানি।(আননেমাতুল কুবরা আলাল আলম)
৮ নং হাদিস ঃ হযরত শেওে খোদা আলী মুরতাজা (রাদ্বি ঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা আমি হুজুরে পাক (দঃ) এর সাথে মক্কার কোন সফরের সাথী ছিলাম। আমি নিজেই দেখেছি যে, হুজুর কারিম যেদিকে যায় পার্শ্ববর্তী সমস- পাহড়- পর্বত, বৃক্ষলতা ঝুকিয়ে আল্লাহর প্রিয় হাবীবের সম্মানার্থে দরুদ পাঠ কওে ( আননোমাতুল কুবরা আলাল আলম)
অত্যন- দুঃখের সংগে বলতে হয় যে, কিছু সংখ্যক নামধারী মুসলমান সরলপ্রাণ মুসলমানকে বিভ্রান- করার উদ্দেশ্যে বড় গলায় ইসলামী হুকমত চালুর আওয়াজ তুলে সত্য । কিন’ নবীজীর প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা আর সম্মান প্রদর্শনের কথঅ বললে তাদেও ভাল লাগে না।
উল্লেখিত সপ্তম ও অষ্টম হাদীসের আলোকে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে এ রকম নামধারী ভ্রান- মুসলমানদের চেয়ে বৃক্ষলতা বা পাহাড়- পর্বত অনেক শ্রেয় । অবশ্যই সৃষ্টির আঙ্গিনায় হুজুর পুর নূও (দঃ) এর আগমন সকল নবীগণের শেষ ভাগে।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ কৃেরছেন, আমি শেস নবী আমার পও অেন্য কোননবীর আগমন ঘটবে না। তিনি বাহ্যিক দৃষ্টি ভঙ্গিহেত আমাদেও মত দু’ হাত, দু’পা, দু’ােচখ এক নাম, জেহাদ ও সংসার করেছেন। তাই বলে তিনি কি আমাদের মত সাধারণ মানুষ? এ কথাগুলো লোকমুখে শোনা যায় । কেউ কেউ সময় সুযোগে এরূপ বলতে দুঃসাহাস দেখায়। কিন’ তাদের স্মরণ রাখা দরকার যে, আমাদের নবী অন্য কোন নবীই আমাদেও সাথে তুলনীয় নয়। অবশ্য তাদেরকে আমাদেও মাঝে আমাদেরকে শিক্ষা- দীক্ষা দেয়ার জন্য আমাদেও কল্যাণের জন্য এবং আমাদেও মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য বিশেষত আমাদের নবীকুল সম্রাট হুজুর পাক (দঃ) কে দু’হাত দু’পা ইত্যাদি বিশিষ্ট হওয়া বিবাহ বা সংসার কার্যাদি সমাধান করা এবং অযু গোসল করা আমাদের জন্য শিক্ষা স্বরূপ। যদি হুজুর আকরাম (দ.) এর দ’পা দু’হাত না হত তাহলে গোসলের শিক্ষা, বিবাহ শাদীর পদ্ধতি এবং পার্থিব জগতের কার্যক্রম সমাধা করার ব্যবস’া সম্পর্কে কিভাবে জ্ঞাত হতাম। তদুপরি যদি তিনি হাটবাজাওে না যেতেন ও বিবাহ না করিতেন আমাদের জন্য কিভাবে তা হালাল হত। বস’ত ঃ নবীগণের বাহ্যিক আকৃতি আমাদের মত হওয়া এাঁ আমাদের জন্য বিরাট রহমত। তাই বলে এটা নয় যে, আমাদের মত সাধারণ মানুষ। মূলতঃ হুজুর পাক কি মানূষ নন সত্যিই তিনি মানুষ। মানুষ বলতে আমাদের মত নয়। তিনি সম্পূর্ন খোদার নূও থেকে সৃষ্টি নুরানী মানুষ, আমরা সাধারণত জ্বঅন ফেরেশতা অবলোকন করতে পারি না কিন’ তিনি তা পারেন। বরং জ্বীন ফেরেশতা ও তার সান্নিধ্য লাভে ধন্য হযেছেন। পার্থিব জগতে আল্লাহর দর্শন লাভ করা সাধারণত আমাদেও পক্ষে সম্ভব নয়। কিন’ তিনি মেরাজে ও পবিত্র রজনীতে সরাসরি আল্লাহ পাকের দর্শন লাভ করেছেন । সুতরাং তিনি আমাদেও মত নন। বরং সৃষ্টির আঙ্গিনায় হুজুরপুর নূও অলৌকিক ক্ষমতায় শক্তিশালী হয়ে নূরানী নবী হয়ে মাহবুবে খোদা বনে পৃথিবীতে আগমন করেছেন । তাঁর প্রতি লাখো দরুদ ও সালাম।

This entry was posted in Uncategorized and tagged , , , . Bookmark the permalink.

No Comments