Welcome to মাইজভান্ডারীদর্পন

Featured Post

শতাব্দীর সূফী- হুজুরে গাউছুল ওয়ারা আল্লামা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভাণ্ডারী (কাঃ ছিঃ আঃ)-শাহ্ এস এম আক্তারুজ্জামান মাইজভান্ডারী
শতাব্দীর সূফী- গাউসুল ওয়ারা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (কঃ)। শাহ্ এস এম আক্তারুজ্জামান মাইজভান্ডারী রাহমাতুল্লিল আলামীন আহমদে মুজতবা মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) এর ওফাতের মধ্য দিয়ে নবুয়তের ধারা বিলোপ হলেও তাঁর প্রবর্তিত ধর্মীয় দর্শন সাহাবায়ে কেরাম,তাবেয়ীন,...
Read More ...


Comment

Comment here if you like this plugin.

Member Login

Sign Up Now!

Forgot Password !

New password will be e-mailed to you.

Powered by

সুফীবাদের মর্মকথা ঃ

সুফীবাদের মর্মকথা ঃ

সমাজের অন্যান্য মানুষের মতো ইন্দ্রিয়-অভিজ্ঞতা ও খন্ডবুদ্ধির সাহায্যে জ্ঞানের সন্ধান না করে যারা মরমী অভিজ্ঞতা বা অতীন্দ্রিয় স্বজ্ঞার সাহায্যে পারমার্থিক জ্ঞানের সন্ধান করেন,যারা অবভাস ও প্রতিভাসের সত্মর ভেদ করে বিকারহণি শাশ্বত সত্রেল প্রত্যক্ষ প্রতীতি অর্জনে প্রয়াসী,ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনের ইতিহাসে তারাই মরমীবাদী বলে পরিচিত। মরমীবাদীদের মতে,মানবমনের গতানুগতিক শক্তি বলে নয,একধরনের প্রগাঢ় অনত্মদৃষ্টি বা অতীন্দ্রিয় অনুভবশক্তির সাহায্যেই কেবল পরাতাত্ত্বিক ও পারমার্থিক ঐশী জ্ঞানের সন্ধান পাওয়া সম্ভব। ইসলামের ইতিহাসে এভাবে যারা াতিপ্রাকৃত উপায়ে পরমসত্তা বা আল্লাহর সঙ্গে একাত্মতা অর্জনে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন তারা সুফী নামে পরিচিত। সুফীবাদের উৎপত্তি কোথায় এবং সুফীবাদের সঙ্গে যুক্ত মরমী ঐতিহ্য ইসলামে মূলনীতির অনত্মর্ভূক্ত কি না,এ নিয়ে দার্শনিক ও ধর্মবেত্তদাদের মধ্যে মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। কারো কারো মতে (যেমন নিকোলসন),সুফিবাদী ভাবধারা ইসলামের মৌল শাস্ত্রীয় নীতির পরিপন’ী। তাঁদের মতে,আল্লাহ সসীম নন,বরং এমন এক অসীম অীতবর্তী সত্তা যার সঙ্গে সসীম মানুষের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ স’াপন ও একাত্মতা অর্জনের সম্ভাবনা ইসলামের বিধি বিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ ছাড়া সুফীবাদের উপাসনাপদ্ধতি,তথা গোটা জীবনদশৃনে যে জবিনবিরাগী,নিষ্ক্রিয় ও পলায়ন পর মনোভাবের লখ্‌ষণ বিদ্যমান তা ইহলোক ও পরকাকের ধারাবাহিকতা বিষয়ক ইসলামী ধারণার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাবার এবং ক্ষণস’ায়ী পার্থিব জীবনকে এতটুকু উপেক্ষা না করে সুষ্ঠু ব্যবহারে জন্য কোরআনে সুস্পষ্ট তাগিদ দেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ ভিন্নতর ব্যাখ্যঅ নিয়ে উপসি’ত হয়েছেন অন্য কোনো কোনো চিনত্মাবিদ (যেমন ম্যাসিগনন)। তারা সুফিবাদের উৎপত্তি খুজে পেয়েছেন খোদ ইসলাম ধর্মে। তাদের মতে,যেসব ধ্যান ধারণা নিয়ে ইসলামের ইতিহাসে সুফিবাদের অঅবির্ভঅব,সেগুলোর মর্ম ও নির্যাস কোরআন ও হাদিসেই নিহিত। কোলাানের সঠিক আনত্মরিক আবৃতি ও অনুশীলন,এবং এ নিয়ে গভীর ধ্যান-অনুধ্যান থেকেই হয়েছে ইসলামী মরমীবাদ (সুংঃরপরংস) এর উদ্ভব ও বিকাশ। দারিদ্র (ফকর),ধ্যান (জিকর),ধৈর্য্য (সবর),ত্যঅগ (জেহাদ) এবং আল্লাহর প্রেম ও ধ্যাসহ সুফীদের অণুসৃত যাবতীয় অনুশীলন কোরআনের পারলৌকিক ও অনুধ্যানিক দিক থেকেই উদ্ভুত। মহানবীর হাদিসেও সুফিবাদী জীবনদর্শনের সমর্থন খুজে পাওয়া যায়। জগতে নিজেদের নিছক আগন’ক বা পথিক হিসেবে বিবেচনা করার জন্য মুসলমানদের প্রতিমহানবীল নির্দেশ এবং শাসত্ম্যয়ি বিধি বিধানের বাইরেও ধর্মের অপর একটি অতিরিক্ত উৎকর্ষের (ইহসান) দিক রয়েছে বলে হাদিসে সে উল্লেখ রয়েছে,এ সবই সুফীবাদের প্রতি মহানবীল (দঃ) সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে। সুফীবাদ যে ইসলামের মূলমর্মের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ তা ‘সুফী’ কথাটির উৎপত্তি থেকেও অনুমেয়। সুফী কথাটির আক্ষরিক অর্থ ‘পশমি পোশাক পরিধানকারী’। প্রাক্‌- ইসলামি যুগেও সুলভ পশমি পোশাককে সাদাসিধা অনাড়ম্বর আধ্যাত্মিক জবিনাচরণের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। স্বয়ং মহানবী উল্লেখ করেছেন,আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার সময মুসা নবী পশমি পোশাক পরিহিত ছিলেন। মহানবী নিজেও পশমি পোশাক পছন্দ করতেন বলে জানা যায়,এবং এ ও জানা যায় যে পশমি পোশাক পরিহিত অবস’ায়ই তিনি পরলোকগমন করেন। একথা ঠিক,পশমি পোশাক পরিধান সুফদিের কোনো একচেটিয়া অধিকার ছিল না,এবং তা দিয়ে সুফীবাদের স্বরূপ ব্যাখ্যার প্রচেষ্টাও কোনো ানিবার্য যৌক্তিক পদক্ষেপ নয়। তবে নিগূঢ় আধ্যাত্মিক উপাসনা এবং মরমি জীবনাচরণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সূফী নামকরণ অপেক্সাকৃত পরবর্ত িসময়ের ব্যাপারে। আর এ নামকরণের সময় পশমি পোশাকের সঙ্গে সূফী কথাটার উল্লিখিত ঐতিহাসিক যোগাযোগকে যে যথাযথই সদ্ব্যবহার করা হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ৩ অপর এক ভাষ্য অনুযায়ী সুফী কথাটির উৎপত্তি ‘সাফা’ (পবিত্রতা) শব্দ থেকে। এ মতে,চারিত্রিক পবিত্রতা বা বিশুদ্ধি সুফী জীবনের অলঙ্ঘনীয় মহান বৈশিষ্ট্য। এ বিশুদ্ধি বা পবিত্রতা অর্জণ তথা পরম বিশুদ্দ সত্তা আল্লাহর সাক্ষাৎলাভের লক্ষ্যে সুফীদরে যাবতীয় প্রয়াস প্রচেষ্টা নিয়োজিত ছিল বলেই সুফীদের এহেন নামকরণ। সুফীবাদের সারমর্ম নুফঠাবাদের মূল নির্যঅস খুজে পাওয়া যায় সত্তার একত্ব (ওয়াহাদাত আল উজউদ) তত্ত্বে। সুফদির মতে,এ নির্যাস কোনো অনৈসলামিক ব্যাপার নয়,বরং তা উদ্ভুত আল্লাহর ‘আল হক্ব’ (সত্য সত্তা) নাম থেকে। আল্লঅহই যে একমাত্র পরমসত্তা এবং তার সমকক্ষ আর যে কোনো সত্তা নেই,একথা প্রত্যেক মুসলমানকেই মেনে নিতে হয়ে বটে;কিন’সুফীরা একে শুধু বিশ্বাসের পর্যায়েই সীমিত রাখেন না,নিয়ে যান এর চূড়ানত্ম পরিনতির দিকে। তাদের মতে,শূন্যতা ও নাসিত্মত্বের বিপরীতে যে পরম বাসত্মব অীসত্মত্ব,তাই যথার্থ সত্য ও সত্তা,তা-ই পরম আরাধ্য মহান আল্লাহ। শুধু আল্লঅহই যদি পরমসত্তা হয়ে থাকেন,তা হলে শেষ বিশ্লেষনে এবং সত্যিকার অর্থে শুধু তিনিই আছেন। এ যুক্তির ওপরই প্রতিষ্ঠিত সুফীদের সত্তার একত্ববিষয়ক। ২। আল্লাহকে তোমাদের এমনভাবে উপাসনা করা উচিত যেন তোমরা ওকে প্রত্যক্ষভাবে দেখছ।” মুসলিম,ঈমান. ১ ৩। অ.ঔ. অৎনবৎৎু (বফ.). জবষরমরড়হ রহ ঃযব গরফফষব ঊধংঃ. ঠড়ষ.২. চ. ২৫৩) ধারণা। এই একত্বের অর্থ অবশ্য এ নয় যে,আল্লঅহ চলমান জগতের বস’ও ঘটনারাশির একটা নিছক সমষ্টি। এমন কথা বলার অর্থই হবে সর্বেশ্বরবাদে (চধহঃযবরংস) বিশ্বাস করা। কিন’সুফীদের একত্বতত্ত্ব তা নির্দেশ করে না। সুফী মতে,আল্লঅহ কোনো বস’সমষ্টি বা যৌগিক একত্ব নন,বরং সেই পরম এককসত্তা (আহাদ) যিনি স্বরূপতই অবিভাজ্য। অভিজ্ঞতার জগতের সব স্বতন্ত্র বস’ও ঘটনা তার আঙ্গিক অংশ নয়,বরং তার পরম এককসত্তার প্রাতিভাসিক প্রকাশমাত্র। কোরআনে বলা হয়েছে:“তুমি যেদিকেই তাকাবে সেখানেই দেখতে পাবে আল্লাহর মুখমণ্ডল” (২:১১৫)। কোরআনের এ বাণীকে আল-গাজালি তাঁর মিশকাত আল্‌ আনোয়ার গ্রনে’ব্যাখ্যঅ করেছেন এভাবে-“প্রত্যেক জিনিসের দু’টি দিক আছে একটি এর নিজের দিক এবং অপরটি এর প্রভু আল্লঅহর দিক। নিজের দিক থেকে নিজিসটি নিছক অবস’বা শূন্যতা:কিন’আল্লাহর দিক থেকে তা বাসত্মব। সুতরাং বোঝা যায় যে,আসলে আল্লাহ ব্যতীত আর কিছুই অীসত্মত্বশীল নয়।” এই অতীন্দ্রিয় পরম এককসত্তা আল্লাহকে সহজ ইন্দ্রিয় কিংবা খন্ডবুদ্ধি দ্বারা প্রত্যক্ষ করার বা জানার প্রশ্ন ওঠে না। তাকে জানতে এবং তার প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎলাভ করতে হলে চাই প্রগাঢ় ধ্যঅন,চাই প্রেম ও ভক্তিমিশ্রিত অনত্মর্দৃষ্টি।
সুফীবাদের আদি চারিত্র্য তবে এখানে বলে রাখা ভালো অনুধ্যানিক মরমিবাদ বলতে যা বোঝায় আদি সুফীদের মধ্যে তা খুব বেশি লক্ষীণয় ছিল না। অনুধ্যানের চেয়ে পরিত্যঅগ ও বৈরাগ্যের মনোভাবই তাদের মধ্যে ছিল অপেক্ষঅকৃত বেশি। কারো কারো মতে,এর অবশ্য একটা কারণ আছে। কোরআনে বেহেসত্ম ও দোজখের যে চিত্র দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ ও মানুষের সম্বন্ধকে যেভাবে বিচিত্রত করা হয়েছে,তা থেকে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের মধ্যে আল্লাহ ও পরলোক সম্বন্ধে এক অস্বাভাবিক ভীতির সঞ্চার হয়। ইসলামে মরমিবাদ সেই ভীতির ফলশ্রুতি। যেমন,কোরআন আল্লাহ বলেছেন,আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি জানি তার আত্মা তার কাছে কী বলে,এবং আমি তার ঘাড়ের রগের চেয়ে কাছাকাছি” (৫০ ঃ ১৫)। আল্লাহ অঅবার মানুষকে এই মর্মে সর্তক করে দিয়েছেন ঃ তোমরা কি দেখ না আসমানে ও জমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তার সবই জানেন? তারা (মানুষ) যেখানেই থাকুক না কেন আল্লাহ তাদের সঙ্গেই আছেন (৫৮ঃ ৮)। শুধু তা-ই নয়,আল্লাহর শেষ বিচারের দৃশ্য সম্পর্কে কোরআনে,বিশেষ মক্কীয় সূরাসমূহে যেসব ভীতিপ্রদ কথা বলা হয়েছে তাতে কারো কারো মনে সংসারবিরাগ িমনোভাব সৃষ্টি হওয়া বিচিত্র নয়। এ চাড়া কোরআনের কোনো কোনো সূরায় পরলোকের অননত্ম কল্যাণকর বিষয়াদির তুলনায় পার্থিব কর্মকান্ড ও অর্জনাদিকে নিতানত্মই মূল্যহীন বলেও বর্ণনা করা হয়েছে (৬ঃ ৯৯,১০ঃ২৫)। কারো কারো মতে,এসব বাণীর প্রভাবেই সুফীবাদের যাত্রা শুরু হয়। ঐশী-প্রেমের চেয়ে নিষ্ক্রিয় সন্ন্যাসজীবনে বেশি গুরুত্ব আরোপের মধ্য দিয়ে। বস’ত,নিষ্ক্রিয় সন্ন্যাসজীবনকে কোরআন ও হাদিসের অনেক জায়গায় দ্ব্যর্থহীনভাবে নিরুৎসাহিত করা সত্ত্বেও হয়তোবা উপরে উল্লিখিত বাণীসমূহের প্রভাবেই আবুজর আল গিফারী,(মৃ. ৬৫২) ও হুদায়ফা (মৃ. ৬৫৭),মহানবীর এ দু’জন সহচরসহ প্রথম দিকের বেশকিছু ধর্মপ্রাণ মুসলামান মরমিবাদী জীবন অবলম্বন করেছিলেন উত্তম জীবনাদর্শ হিসেবে। তবে ঐশীভীতি,বৈরাগ্য,পরিত্যাগ,দারিদ্র প্রভৃতির অনুশীলন যদিওবা সুফিদের মধ্যে লক্ষনীয়,এগুলোই যে সুফীবাদের সব,এমনকি মৌল উপকরণ,এমন কথা বলা চলে না। সুফী-অভিজ্ঞতার প্রগাঢ়তম মুহুর্তে আল্লাহর অপরোক্ষ জ্ঞানলাভ এবং আল্লাহর সঙ্গে একাত্মতা অর্জন সূপীর চূড়ানত্ম লক্ষ্য। আর এ অক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা যেসব উপকরণকে আবশ্যিক বলে মনে করেন সেগুলোর মধ্যে ভীতি (মাখাফা),প্রেম (মাহাব্বা) ও জ্ঞান (মারেফা) এই তিনটি কেন্দ্রীয় গুরুত্বের অধিকারী। এদের সমবায়েই ইতিহাসের বিভিন্ন পূর্বে সুফীরা রচনা করেছেন। ঐশী জ্ঞান ও সান্নিধ্য অর্জনের উপায়,যা কিনা সুফীপথ (তারিকা) নামে পরিচিত। সুফীপথ াীতক্রমণ এবং ঐশী জ্ঞান ও সাক্ষাৎকার লাভের লক্ষ্য অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপায় কিজর (আল্লাহর নাম স্মরণ ওউচ্চারণরণ)। অবশ্য কোরআনের আয়াত আবৃত্তির মাধ্যমে আল্লাহর জিকর ও এবাদত ধর্মপ্রাণ মুসলমান মাত্রই অনুশীলন করেন,এদিক থেকে তা সুফীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তবে এই একই অনুশীলন সুফীদের মধ্যে পরিগ্রহ করে এক বিশেষ রূপ ও চারিত্র্য। তারা যে পদ্ধতিতে এবং যত সময় ধরে এই অনুশীলনে ব্রতী থাকেন,তাতেই তাদের স্বাতন্ত্র লক্ষনীয় এ ছাড়া সাধারন মানুষ যেখানে জিকর অনুশীরন করেন একটি প্রচলিত ধর্মীয় আচার হিসেবে,সেখানে সুফীরা তাতে প্রবৃত্ত হন সচেতনভাবে,আল্লাহর সঙ্গে একাত্ম হওয়ার বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। সে যাই হোক,চারিত্রিক বিশুদ্ধি পবিত্রতার যে মহান বৈশিষ্ট্য নিয়ে সুফীবাদের যাত্রা শুরু এবং যা ছিল আদি সুফীদের এক অভিন্ন গুণ,পরবর্তী প্রজন্মের অনেক সূফীর মদ্যে তা অনুপসি’ত ছিল। আর একথা অকপটে স্বীকার করেছেন সুফীদেরই অনেকে। বস’ত,পরবর্তী সুফীদের আচার অনুশীলন সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষন করলে দেখা যায়,তাদের কেউ কেউ ইসলামি শরিয়া আইনকে উপক্ষো কিংবা অমান্য করে সুফীবাদে কিছু বিজাতীয় অনৈসলামিক উপকরণ সংযোজন করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ও লক্ষ্য করা যায় যে,পরমসত্তার সঙ্গে একাত্মতা অর্জনের লক্ষ্যে সুফীদের ানুসৃত মরমি প্রক্রিয়ায় শুধু শাস্ত্রীর বিধিনিষেধকেই নয়,এমনকি ঐশী প্রত্যাদেশের মাধ্যম হিসেবে মহানবী মোহাম্মদ (দঃ) কেও পরিত্যাগ করা হয়েছে। বিভ্রানত্ম ও বিপথগামী সুফীদের এই আচরণ যে অনুমদোনযোগ্য নয়,তা বলাই বাহুল্য। তবে পরবর্তী সুফীদের এই বিভ্রানিত্মকে কখনো সুফীবাদের মূল মর্মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। বিশেষত যাদের নিয়ে সূফীদের উদ্ভব ও অগ্রযাত্রার সূত্রপাত,সেই আদি সূফীরা কখনো ধর্মের রক্ষণশীল দিকটির প্রতি অনাস’াশীল ছিলেন না। যেমন,আল জুনায়েদের মতো একজন নিবেদতি প্রাণ সুফী (যার মধ্যে কেউ কেউ হিন্দু মরমিবাদের প্রভাব খুজে পেয়েছেন) ধর্মের আচারের দিকটিকে বাদ দিয়ে চলার পক্ষপাতী ছিলেন না। অবশ্য একথাও উল্লেখ করা দরকার যে,সুফীবাদী বিশ্বাসে যে অতীন্দ্রিয় অনুভূতির নিশ্চিতি এবং সুফীবাদী উপাসনায় যে অবিচলিত মনেনিবেশের ইঙ্গিত পাওয়া যায়,তা মুষ্টিমেয় সাধক অনুরাগী ব্যক্তির পক্ষেই অর্জন সম্ভব,সাধারন মানুষের পক্ষে নয়। আর এজন্যই অতীন্দ্রিয় আধ্যাত্মিক নিগূঢ় আদর্শকে সাধারন ধর্মপ্রাণ মানুষের উপর একটি বাধ্যতামূলক অঅচরণবিধি হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রশ্নও ওঠে না। এজন্যই সেই সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যনত্ম সুফীবাদী আদর্শকে দেখা হয়েছে মুষ্টিমেয় মুসলিম সাধকের ধর্মানুশীলনের একটি বিশেস ক্ষেত্রে হিসেবে;আর ইসলামের বিধিগত আচার অনুষ্ঠানের দিকটিকে ওলামা ও ধর্মবেত্তাদের তত্ত্বাবধানে বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে সাধারন মানুষের জন্য। একটি সুনির্দিষ্ট সংহত সঙ্ঘ হিসেবে সুফীবাদের আত্মপ্রকাশ কিন’পরবর্তীকালের ঘটনা। প্রথম চার খলিফার সময় অবধি কোনো সুফীসঙ্ঘের উদ্ভব ঘটেছে বলে জানা যায় না,এবং তা না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। তবে প্রারম্ভিক পূর্বেও মরমি বিষয়ে আলোচনার জন্র রসুসুল্লাহর সহচরদের কাছে কিছু কিছু কৌতুহলী ভক্তের গমাগম হতো। এ ধররে আলেচনায় বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন হযরত আলী (রাঃ)। আরীর মরমি আগ্রহ অত্যনত্ম গভীর ছিল বলে জানা যায়,এবং তার অনেক মরমি উক্তি আজও লিপিবদ্ধ রয়েছে। মহানবরি অন্যাণ্য সহচরের মধ্যে আলীর মতোই সুফীদের সম্মানের চোখে দেখতেন হযরত াঅবুবকর (রাঃ)। তিনি ঐশীজ্ঞান অর্জনে অভিজ্ঞতা বুদ্ধি প্রভৃতি জ্ঞানের বাহনের অক্ষমতা বর্ণনা করেছিলেন এবং মরমি অীভজ্ঞতাকে জ্ঞানের অব্যর্থ উৎস হিসেবে স্বীকার করেছিলেন।

No Comments