Welcome to মাইজভান্ডারীদর্পন

Featured Post

পটিয়া আকবরিয়া দরবার শরীফে ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর চন্দ্র বার্ষিকী ওরশ শরীফ পালিত
পটিয়া আকবরিয়া দরবার শরীফে ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.) এর চন্দ্র বার্ষিকী ওরশ শরীফ পালিত চট্টগ্রাম পটিয়া হাইদ গাঁও শাহ আকবরিয়া দরবার শরীফের উদ্দ্যোগ বিশ্ব আধ্যাত্মিক সূফী সাধক,ত্বরীক্বায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দিকপাল,...
Read More ...


Comment

Comment here if you like this plugin.

Member Login

Sign Up Now!

Forgot Password !

New password will be e-mailed to you.

Powered by

পরলোক ও অমরত্ব

পরলোক ও অমরত্ব

মরণের ফলে যখন দেহের বিন াশ ও ইহলোকের অবসান ঘটে,তখন প্রয়াত ব্যক্তির জীবনের সম্পূর্ণ পরিসমাপ্তি হয়,না তিনি লোকান-রিত হয়ে পরলোকের অধিকাসী হন? এ প্রশ্নটি সুপ্রাচীন কাল থেকে ভাবুক-দার্শনিকদের যেমন,সহজবুদ্ধি মানুষকেও তেমনি ভাবিয়ে তুলেছে। সব যুগের সব মানুষের তাই একই প্রশ্ন:মৃত্যুর পর মানুষ কি আবার হারানো জীবনের সন্ধান পাবে? এ প্রশ্নের প্রত্যুত্তওে পরলোকের সমর্থকরা যেমন যুক্তির পর যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন,সংশয়বাদীরাও তেমনি পরলোকের যেকোন চিন-া বা প্রত্যাশাকে অবাস-ব ও অমূলক বলে উড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস পেয়েছেন। এ থেকে একটি জিনিস অবশ্য পরিস্কার যে,মতামতের বিরোধ ভিন্নতা সত্ত্বেও দেশ-কাল নির্বিশেষে সব মানুষ পরলোক নিয়ে ভেবে এসেছে,এবং এর একটি সদুত্তর না পাওয়া পর্যন- অনাগত ভবিষ্যতের মানুষও ভাবতে থাকবে। পরলোকের চিন-া মানবজাতির ইতিহাসের সঙ্গে এতই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত যে,একে ঈশ্বরে বিশ্বাস মুখ্য নয়,কিন’এমন কোন ধর্ম খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে পরলোক ও অমরত্বেও ধারণা কেন্দ্রীয় স’ানের অধিকারী নয়। মূলত এ যুক্তিতেই বিশিষ্ট মার্কিন দার্শনিক উইলিয়াম জেম্‌স মন-ব্য করেছেন;ধর্ম বলতে মানবজাতির বিপুর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ অমরত্ব এবং একমাত্র অমরত্বকেই বুঝে থাকে। নৃবিজ্ঞানীরা তাঁদেও গবেষণালব্ধ জ্ঞানের বরাত দিয়ে জানান,গুহায় বসবাসাকারী আদারে আদিম পূর্বপুরুষগণ জগতের স্রষ্টা ও নিয়ন-া ঈশ্বরের কথা ভাবার আগেই অমরত্বেও কথা ভেবেছেন। অমরত্বেও ধারণা যে ইশ্বরের ধারণার চেয়েও প্রাচীন,এর প্রমাণস্বূেপ তাঁরা কিছু আধুনিক উপজাতির দৃষ্টান- দিয়েছেন। আজও পৃথিবীতে এমন কিছু উপজাতি (যেমন সেন্ট্রাল অস্ট্রেলিয়ার নাঞ্জি উপজাতি) রয়েছে যারা ঈশ্বও সম্পর্কে কোন ধারনা রাখে না অথচ আত্মার অমরত্ব বিষয়ে বিশেষ মতবাদ পোষণ কওে থাকে। নাঞ্জিরা আজও কোন ধর্মমত গড়ে তুলতে পারে নি বটে;সকিন’তারা এক ধরনের পূনর্জম্মে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। অমরত্বেও ধারণা মানবজাতির চিন-া ও চেতনায় এত বদ্ধমূল হবার কারণ সম্ভবত মৃত্যৃও অনিবার্য চিন-া। মানুষের কাছে মৃত্যু এমন একটি বাস-ব ঘটনা যার সম্পর্কে চিন-াশীল মানুষমাত্রই স্বাভাবিক কৌতুহল বোধ করে। অনিবার্য মৃত্যুও কথা ভাবতে গিয়ে সে আবর জগতে তার স’ান এবং মরণোত্তর অবস’া সম্বন্ধে ভাবতে বাধ্য হয়। মৃত্যুও এত গুুত্েব দেই,একই কারণে মৃত্যুও পরপার সম্বন্ধে এতবেশি ভাবি। এ ধরণের ভাবনা থেকেই ক্রমশ গড়ে উঠেছে পরলোক সম্বন্ধে মতবাদ ও পাল্টা মতবাদেও এক সুদীর্ঘ অনুক্রম। অমরত্বের ধারণার মুলে যে প্রত্যয়টি প্রথম থেকে মানুষের মনে বদ্ধমূল ছিল তা হলো এই যে,দেহের উর্ধ্বে ও অন-রালে ব্যক্তিসত্তার এমন একটি স’ায়ী উপাদন রয়েছে যা মৃত্যুতে দেহাবসানের পরও নিষ্ট হয় না। ব্যক্তিসত্তার এ অংশ স্বরূপগ্রতভাবে জড়দেহের চেয়ে স্বতন্ত্র,সুতরাং অমর ও অবিনশ্বও । মৃত্যুতে দেহ সর্বতোভাবে বিনষ্ট হয়ে যায়,বিন’দেহাবসানের পরও যদি ব্যক্তিসত্তার এমন কোন অংশ মৃত্যুর হাত থেকে অব্যাহতি পেয়ে টিকে থাকতে পারে,তাহলে তা অবশ্যই জড়দেহের চেয়ে স্বতন্ত্র,এবং ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। বস’ত এ ধরনের ধারণা থেকেই মানুষ সিদ্ধান- উপনীত হয়েয়ে যে,আত্মা জড়ীয় নয়,আধ্যাত্মিক। দেহ বা জৈবশক্তি প্রাকৃতিক নিয়মের অধীন;কিন’আত্মার অমরত্বেও বিষয়টি গুরযুত্ব লাভ করেছিল,তার দিনক্ষণ সঠিকভাবে নির্ণয় করা অসম্ভব। তবে পাশ্চাত্য দর্শনে সক্রেটিসই প্রথম এ বিষেয়ে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তিনি যে আত্মার অমরত্বে বিশ্বাসী ছিলেন তা তাঁর অনি-ম প্রয়াণের অব্যবহিত আগের একটি উক্তি থেকে সহজে অনুমেয়। বিচারকদের নির্দেশানুযায়ী হেমলক লতার বিষ পানের পর ত৭ার আসন্ন মৃত্যুচিন-ায় বিহবল শোকাভিভূত আত্মীয়-পরিজনদেও লক্ষ্য কওে তিনি বলেছিলেন:“তোমরা দুঃখ করো না। মনে রেখো,মৃত্যু কেবল আমার দেহকেই বিনাশ করবে,আত্মাকে নয়।” সক্রেটিসের এই সংক্ষিপত্র মতটিকেই পওে সুষ্টষ্ট লিখিত ূেপ দিয়েছিলেন ত৭ারই সুযোগ্য শিষ্য দার্শনিক প্লেটো। প্লেটো দর্শনের এক বড় অংশ আত্মার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফিডো ও ফিড্রাস গ্রনে’এ বিষয়ে তিনি চিত্তাকর্ষক আলোচনা করেছেন। তার মতে পৃথিবীতে আত্মার আগমন এবং দেহে প্রবশে তার আদি নিবাস স্বর্গ থেকে পতনের ফল। এ জীবনে সৌন্দর্য অবলোকনের সময় আমরা যেু সুখের সাথে এক প্রচ্ছন্ন বেদনা অনুভব করি,প্লেটোর মতে তার এক গভীর কারণ আছে। কারণটি হলো এই:দেহলাভের আগে প্রকা্‌-জন্ম যে আদর্শ জগতে ছিল,এ জগতে সে সেই সৌন্দর্যানুভূতিএথকে বঞ্চিত। তাই পার্থিব সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করার সঙ্গে সঙ্গে তার সেই পুরনো অনুভূতি অস্পষ্ট বেদনার আকরে জেগে ওঠে। সৌন্দর্য ও শুভের প্রতি আমাদেও এই যে অব্যবহিত আকর্ষণ,প্লেটো একে অমরত্বে বিশ্বাসের এক অতি জোরালো ভিত্তি বলে অভিহিত করেছেন। প্লেটোর মতে,স্বরূপত আত্মা অজড়ীয় ও আধ্যাত্মিক এবং রিজন বা প্রজ্ঞা এর উচ্চতম বৃত্তি। প্রজ্ঞার সমবায়ে গঠিত আত্মা সরল,অমিশ্র ও অচ্ছেদ্য। আমরা জানি,মৃত্যু মানে মিশ্র পদার্থেও অন-র্ভুক্ত উপকরণাদিও বিচ্ছেদ। কিন’যা অমিশ্র,এবং যাকে ক্ষুদ্রতর অংশে বিশ্লেষণ বা বিচ্ছেদ করা যায় না,মৃত্যু তাকে স্পর্শ করতে পাওে না;কারণ বিচ্ছিন্ন করার মতো একাধিক উপকরণ তাতে নেই। যেহেতু আত্মা একটি অমিশ্র দ্রব্য,সুতরাং এর বিনাশ বা মৃত্যু হয় না,হতে পারে না। পরবর্তীকলে টমাস একুইনাস এ যুক্তিটি গ্রহণ করেছিলেন এবং তা রোমন ক্যাথলিক ধর্মতত্তেবর একটি প্রাশাণিক মতবাদ হিসেবে ব্যাপকভাব গৃহীত হয়েছে। কিন’বিভিন্ন মহল থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে যথেষ্ট। যেমন প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কানট্‌ বলেন,ধ্বংস বা মৃত্যু মানে শ্রি বস’ও অন’ভুক্ত উপকরণাদিও বিশ্লেষণ ও বিচ্ছেদ-প্লেটোর এই যে ধ্বংস-পদ্ধতি তা আবিস্কৃত হয়েছে জড়বস’বিশ্লেষণের মাধ্যমে। কিন’ঠিক একই ধ্বংস- প্রক্রিয়া যে আধ্যাত্মিক আত্মার বেলায় প্রয়োজ্য হবে তা হলফ কওে বলা যায় না। যেহেতু আত্মা জড়বস’ও চেয়ে স্বতন্ত্র স্বভাবের,সুতরাং এর ধ্বংস-প্রক্রিয়াও হবে ভিন্নতর। এ যুক্তিতেই কান্ট অজড়ীয় আধ্যাত্মিক আত্মার জন্য ভিন্ন ধরনের ধ্বংস প্রক্রিয়ার করা বলেছেন। তিনি বলেন:আত্মার বিস-ৃতিমূলক পরিমাণ রয়েছে। কারণ চেতনা বিভিন্ন সময়ে কম বা বেশী তীব্র হয়ে থাকে। যেমন কোন ব্যক্তি যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে,তখন তার চেতনার তীব্রতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়;আবার সেই ব্যক্তি যখন তন্দ্রা বা নিদ্রায় থাকেন তখন তাঁর চেতনার তীব্রতা হ্রাস পায়। এভাবে চেতনার তীব্রতা ক্রমশ হ্রাস কওে যদি ূন্যে নামিয়ে আনা যায়,তাহলেই বিচনাশ ঘটতে পাও আেত্মার। একটি গানের সুর যেমন ক্রমশ হ্রাস পেতে পেত্র বিলীন হয়ে যায়,আত্মার পক্ষেও তেমনি বিলীন হওয়া সম্ভব। বিস-ৃতিমূলক পরিমাণের অধিকারী আত্মাকেও তেমনি তার চেতনার তীব্রতা হ্রাস কও ধে্বংস করা যায়া। মন যে একটি সরল একত্ব,এবং এর অন-র্ভুক্ত উপকরণাদি বলাতে যে কিছু নেই,এ কথা আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরাও অস্বীকার করেছেন। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের মতে,মন কোন দ্রব্য নয়। আমরা যাকে মন বলি তা আসলে আপেক্ষিক ঐক্যের এমন একটি কাঠামো যা সচরাচর মোটামুটিভাবে স’ায়ী ও আঁট্‌সাটভাবে একীভূত থাকলেও অবস’ার চাপে বিভিন্ন সয়ে বিভিন্ন মাত্রায় বিভক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে পারে। সমকালীন মনোবিজ্ঞাানের দেয়া এ যুক্তি থেকে এটুকু পরিস্কার যে,আত্মাকে সরল দ্রব্য হিসেবে ধওে নেয়ার যে প্রচলিত ধারণা,তা কোন অভিজ্ঞতামূলক প্রায়োগিক যুক্তি-প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়,বরং একটি আধিবিদ্যকে বা পরাতাত্ত্বিক মতবাদ। আর এজন্যই একে অমরত্ব প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। হিন্দু ধর্ম ও হিন্দু দুর্শনের কেন্দ্রীয় ধারণা কর্মবাদ নামে পরিচিত। এ মতের প্রবক্তারা বলেন,কতিপয় জন্ম-জন্মান-ওে অনুষ্ঠিত সৎকর্ম ও পুণ্যানুষ্ঠানের ফলশ্রুতি হসিেবে ব্যক্তির আত্মা ঈশ্বর বা ব্রহ্মের সঙ্গে মিলিত হতে সক্ষম হয়। কোন বিশেষ আত্মা পরজন্মে কী হবে,তা নির্ভও করবে তার পূর্বজন্মে অর্জিত নৈতিক উৎকর্ষেও ওপর। বর্তমান জন্মেও পাপাচরের ফলে পরজন্মে মানুষ অধঃপতিত হয় নিম্নতন জীবনে,এমন কি ইতর প্রাণীর স-রে। সাধুতা,বিশ্বাস ও জ্ঞানের কল্যাণে উচ্চতর মর্যাদা অর্জনের মধ্য দিয়ে পরিণামে ব্যক্তি-আত্মা যখন বিশ্বাত্মার সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় এরপর তার আর কোন নতুন জীবন লাভের প্রযৈাজন হয় না। এটাই তার জীবনের পরম ঈঙ্গিত লক্ষ্য এটাই তার পরম কাম্য দিয়ে পরিণামে ব্যক্তি-আত্মা যখন বিশ্বাত্মার সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় এরপর তার আর কোন নতুন জীবন লাভের প্রয়োজন হয় না। এটাই তার জীবনের পরম ঈঙ্গিত লক্ষ্য এটাই তার পরম কাম্য। এ কর্মবাদও বিরুদ্ধে অন-ত একটি অভিযোগ করা যেতে পারে:পূর্ববর্তী জীবনের কর্মফলেজ জন্য যেকোন ধরনের পুরস্কার বা তিরস্কার অর্থবহ হবে তখনই,যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পূর্ববর্তী জীবনের সুস্পষ্ট স্মৃতি বা ধারণা রাখবে। পূর্বজন্মের মানুষকে পরবর্তী জীবনে পশু হিসেবে পাঠিয়ে শাসি- দেয়া ফলপ্রসু হবে তখনই,যখন সেই মানুষটি তার পূর্ববর্তী জীবনের কোন স্মৃতি বা চেতনা ব্যতিরেকে একজন মানুষকে শাসি- হিসেবে যদি পরজন্মে কুকুরের জীবনে দেয়া হয়,তাতে সেই প্রাক্তন মানুষ ও বর্তমান কুকরের কোন কষ্ট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ,মানুষের কাছে মনুষ্যত্ব যেমন কুকুরের কাছে কুকুরত্ব তেমনি এটি স্বাভাবিক ব্যাপার। অর্থাৎ কর্মেও মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য ও পরিচয় টিকিয়ে রাখার জন্য পূর্ববর্তী জীবনের কিছু-না-কিছু চেতন স্মৃতি আবশ্যক। জার্মান দার্শনিক লাইবনিজের একটি প্রশ্ন কৌতুকপ্রদ হলেও এখানে প্রাসঙ্গিক হবে বলে মনে করি:“জনাব,পূর্বজন্মে আপনি কি ছিলেন,তা ভূলে যাওয়ায় শর্তে যদি আপনাকে এ জন্মে চীনর দেশের রাজা করা হয়,তাহলে তাতে আপনার লাভ কী? এর অর্থ কি অনেকটা এরকম নয়,যে মুহূর্তে ঈশ্বও আপনাকে ধ্বয়স করেছিলেন,সেই মুহূর্তেই তাঁকে চীন পূর্বজন্মেও স্মৃতিবিবর্জিত পরবর্তী জীবন সম্পূর্ণ একটি নতুন জীবন। এ জীবনকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্ববর্তী জীবনের ধারাবাহিক রূপ বরঅ চলে না। যাই হোক,হিন্দু ধর্ম ও হিন্দু দর্শনের মূলকথা হলৈা,এ জীবন শাসি-স্বরূপ এবং সমগ্র জড়জগৎ অশুভ ও মায়া মাত্র। জীবন এমন একটি বোঝা,যার ভার আমাকে বহন করতে হয় জন্ম জন্মান-ও চক্রের মধ্য দিয়ে। এ ভার থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় জ্ঞান,বিশ্বাস ও সৎকর্মেও মাধ্যমে পরিশুদ্ধি অর্জন এবং পরিণামে ঈশ্বও বা ব্রহ্মের সঙ্গে মিলিত হওয়া। হিন্দু দর্শনের এই নৈরাম্যবাদী ধারাণাকে আও একধাপ এগিয়ে নেয়া হয়েছে বৌদ্ধ দর্শনে। বৌদ্ধ মতে,ব্রহ্মের সঙ্গে ব্যক্তির ভবিষ্যৎ মিলনের ধারণা অসম্ভব,সুতরাং পরিত্যাজ্য। জগতের অপরাপর সব সত্তার মতো ব্যক্তিসত্তাও নিয়ত পরিবর্তনশীল। আমাদেও আকার,অনুভূতি,প্রত্যক্ষণ ও বুদ্ধিমত্তা-এ সবই অস’ায়ী এবং অশুভ। স’ায়িত্বেও দাবিদার অহং বা আত্মা বলে কিছুই নেই;এ ধরনের বিকারহীন চেতনার ধারণাও নিছক কল্পনাবিলাস। এ সুক্তিতেই বৌদ্ধ দর্শনে চিরস’ায়ী পারলৌকিক জীবনর ধারণাকে নির্বোধদের মতবাদ বলে প্রত্যাখান করা হয়েছে। প্রশ্ন করা হয়েছে:যেখানে পর পর দুই মূহূর্তেও জন্য কোন ব্যক্তি এক ও অপরিবর্তিত থাকতে পারে না,পরিবর্তনই যেখানে জগং ও জীবনের মূল ধর্ম,সেখানে অনন-স’ায়ী পারলৌকিক জীবনের আশা অহেতুক নয় কি? এখানে উল্লেখ্য যে,প্রাচীন গ্রীক দর্শনে যেমন,হিন্দু দর্শনেও তেমনি ব্যক্তিগত অমরত্বের কোন অবকাশ নেই। পৃথিবঅর প্রধান ধর্মগুলোর মধ্যে ইহুদি ধর্মেই প্রথম ব্যক্তিগত অমরত্বেও স্বীকৃতি দেয়া হয়। ইহুদি মতের পটভুমি থেকেই ূেপ লাভ করেছে আত্মার অমরত্ববিষয়ক খ্রিষ্টীয় মতবাদ। অবশ্য ইহুদি চিন-ার প্রথম পবেৃ পরলোকের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল,তা ছিল রীতিমত হতাশাব্যঞ্জক। বলা হয়েছিল পরলোক নয়,ইহলোকই অধিকতর উপভোগ্য;আর যতটুকু সম্ভব এ জীবনকেই উপভোগ করা মানুষের পক্ষেকাম্য। মৃত্যুও পরপাওে রয়েছে শেওল (ংযবড়ষ)। ওখানেস কোন শাসি-ও ব্যবস’া নেই বটে,কিন’উপভোগ করারও কিছু নেই। আত্মার পক্ষে অনন-কাল ধওে ওখানে অবস’ান করা হবে এক একঘেঁয়ে ও বিরক্তিকর ব্যাপার।
এ নেবাশ্যবাদী পারলৌকিক ধারণা বদলে দিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেন জেরেমিয়া ও ইসায়া পয়গম্বও ত৭াদেও প্রাণবন- ও প্রেরণাদায়ক রচনায়। বিশেষত ইসায়া দ্বার্থহীন ভাষায় ঘোষনা করেন:
অধিশব ধহফ ংরহম,ণব ঃযধঃ ফবিষষ রহ ঃযব ফঁংঃ:ঞযু ফবধফ ংযধষষ ষরাব,সু ফবধফ নড়ফরবং ংযধষষ ধৎরংব. মৃত্যুও পর পরলোক ব্যক্তির পুনরুত্থান এবং ঈশ্বরের সন্নিধ্যসহ এক আনন্দঘন অনন- পাললৌকিক জীবনের যে আশ্বাস ইহুদি নবী-পয়গম্বারের দিলেন,তা থেকে গেড় ওঠে ইহুদি ধর্ম ও দর্শনে আত্মার অমরত্ব বিষয়ক মতবাদ। আগেই বলেছি,ইহুদি মতের পটভূমি থেকেই রূপ লাভ করেছিল আত্মার অমরত্ব নিষয়ক খ্রিষ্টীয় মতবাদ। দেহাবসানের পরও আত্মা অমর থেকে যাবে এই খ্রিষ্ট ধর্ম ও দর্শনের কেন্দ্রীয় বক্তব্য। এ মতে ব্যক্তি তার ব্যক্তিরত্বেও যাবতীয় বৈশিষ্ট্যসমেত অমর থাকে ও ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনের সুযোগ লাভ করে। এ অমরত্বের জন্য যা প্রয়োজন তা হলো নৈতিক দিক থেকে সৎ ও শুভ পার্থিব জীবন। নৈতিক দিক থেকে সৎ ও শুভ পার্থিব জীবনাযাপনের পুরস্কারস্বরূপ যারা অমরত্ব লাভ করেন,তাঁদেও জন্য মৃত্যু একটি আপতিক ঘটনা মাত্র;কারণ তাতে ত৭াদেও ব্যক্তিত্বেও অব্যাহত অসি-ত্ব বিঘ্নিত হয় না কোনমতেই। মৃত্যুও মাধ্যমে ইহলোক ও পরলোকের মধ্যে যোগসূত্র স’াফিত হয় এবং পূণ্যবানেরা পরলোকে তাঁদের স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে বেঁচে থাকেন। ব্যক্তির অমরত্বেও অবলম্বন যে তার আধ্যত্মিক আত্মা,এ গ্রীক ধারণা দ্বারা মুসলিম দার্শনিকদেও অনেকেই বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। আল-কিন্দি,আল-ফারাবী,ইব্‌নে সিনা প্রমুখ মুসলিম দার্শনিকেরা বলেন,মৃত্যুতে দেহাবসানের পর ব্যক্তি-আত্মা দেহের প্রভাবমুক্ত হয়ে নৈব্যক্তিক বিশ্বাত্মার সঙ্গে মিশে যায়। এ মতে দেহকে ব্যক্তিত্ব ও স্বাতন্ত্র্যের নির্দেশক বলে মতে করা হয়,আর তার আত্মাকে ধওে নেয়া হয় এমন এক সার্বিক বিশ্বাত্মার অংশ বলে যা থেকে তা সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও (পার্থিব জীবনে) মরণের পরে আবার মিলিত হবে। এই সার্বিক আত্মা ব্যক্তিক নয়। ব্যক্তিক,স্বতন্ত্র ও পৃথক হওয়া মানব জীবনের অপরিহার্য দুর্ভাগ্য। তবে এ দুর্ভাগ্র সহনীয় হয় কেবল এ প্রত্যাশায় যে,পরিণামে ব্যক্তি-আত্মা বিশ্বাত্মার সঙ্গে মিলিত হতে পারবে। ইসলাম ধর্মে দেহের মৃত্যুকে মানব জাতির অভিন্ন ও অলঙ্ঘনীয় নিয়তি বলে অভিহিত করা হয়েছে। পরলোক কসম্বন্ধে কোরান বলা হয়েছে:খোদা মাঠি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন,মাটিতে সে পুনরায় বিলীন হবে,মাটি থেকেই আবার তাকে পুনরুত্থিত করা হবে। ঠিক কোনআকাওে মানুষ রোজ হাসওে পুনরুত্থিত হবে তা বলা যায় না,তবে হাসরের দিনের বর্ণনা প্রসঙ্গেকোরানে বরঅ হয়েছে:ঐদিন সব পাপীদেও চোখবন্ধ অবস’ায় খুবই বিমর্ষ এবং পূণ্যাত্মাদেও হর্ষোৎফুল্ল দেখা যাবে। এরপর সকলের আমরনামা খোলা হবে,এবং প্রত্যেকের স্মৃতিতে তার পার্থিব কার্যকলাপ ভেসে উঠবে। মানুষ তখন পরস্পর পরস্পরকে চিনতে পারবে,যদিও নিজেকে নিয়ে অতিশয় ব্যস- থাকার কারণে কেউ কারো কোন উপকারে আসার সুযোগ পাবে না। খোদা সকলের প্রতি পূণ ন্যায় ও সুবিচার করবেন এবং প্রত্যেক নিজ নিজ কৃতকর্মেও ফল ভোগ করবে। পাপীরা দোযখের আগুনের অসহনীয় যন্ত্রণা এবং পূর্ণাত্মারা বেহেশতের অনন- সুখের সৌভাগ্য অর্জন করবেন। মৃত্যুতে জীবনাবসানের পর মরণোত্তর জীবনের অসংখ্যা ব্যক্তিকে কি কওে পুনরুত্থিত করা হবে? এ প্রশ্নের জবাবে ইসলাম বলে,খোদা যদি প্রথমে শূন্য থেকে ধুলিকণা এবং ধুলিকণা থেকে রক্তমাংসের মানুষকে সৃষ্টি কওে থাকতে পারেন,তাহলে তাঁর পক্ষে মৃত্যুও পর ধ্বংসপ্রাপ্ত সেই মানুষকে তার পার্থিবরূপে পুনরায় সৃষ্টি করা কোন অসম্ভব ব্যাপার নয়। আরও বলা হয়েছে,যিনি জ্যোতিস্কমগুলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন,সব জিনিসের ওপর যাঁর সর্বময় কর্তৃত্ব,সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার পক্ষে মৃতদেহে প্রাণ সঞ্চার করা অসম্ভব নয়। বিশ্বেও শুধু প্রধান ধর্মসমূহেই নয়,আধুনিক কালের বিশিষ্ট দার্শনিকদের অনেকেই অমরত্বেও অকুণ্ঠ সমর্থন করেছেন। যেমন,বিশিষ্ট ফরাসি দার্শনিক রুশো তাঁর বন্ধু ভলটেয়ারের কাছে লেখা এক চিঠিতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন:“এ জীবনে আমি এত বেশি দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছি যে,পরলোক প্রত্যাশা না কওে আমি পারি না। অধিবিদ্যার কোন কূটযুক্তি অমরত্ব ও ঈশ্বরের অসি-ত্ব সম্বন্ধে আমার মনে কোন সয়শয় সৃষ্টি করতে পারবে না। এ আমি জানি,এ আমি বিশ্বাস করি,এ আমি প্রত্যাশা করি এবং জীবনের শেস নিঃশ্বাস পর্যন- আমি এ বিশ্বাসে অটল থাকব।” রুশোর এই সিদ্ধানে-ও সদৃশ সিদ্ধানে- উপনীত হয়েছিলেন আধুনিক জার্মানির বিশিষ্ট দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট। তাঁর ‘শুদ্ধবুদ্ধিও সমীক্ষ’ (ঈৎরঃরঁিব ড়ভ চঁৎব জবধংড়হ) গ্রনে’যুক্তির আলোকে ঈশ্বও,অমরত্ব এদেও কোনটিকেই প্রমাণ করতে না পেরে শেষ পর্যন- ব্যবহারিক বুদ্ধি ও নীতিবোধের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন:মানুষের সার্বভৌম প্রজ্ঞা ও সার্বিক নৈতিক স্বভাব দারি করে যে,সৎকর্মেও সঙ্গে সুরস্কার এবং দুস্কর্মের সঙ্গে তিরস্কার অনিবার্যভাবে যুক্ত থাকবে। অর্থাৎ সনীতিবান সৎলোকেরা জীবনে সুখে থাকবে,আর দুর্নীতিপরায়ণ অসৎ লোকেরা দুর্ভোগ পোহাবে। কিন’পৃকৃতপক্ষেসচরাচর আমরা যা দেখি তা তার উল্টে। আমরা দেখি সৎ ও নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তিরা সুখের পরিবর্তে দুঃখ ভোগ করছে। আর অসৎ ব্যক্তিরা উত্তরোত্তর উন্নতি করছে। এতে নৈতিক নিয়মের উপযোগিতা সম্বন্ধে আমরা ভবনায় পড়ি,বড়ই হতাশ হই। কিন’বিবেক আমাদেও বলছে যে সদ্‌গুণ পুরস্কারের এবয় পাপের সঙ্গে শাসি-ও সঙ্গতির জন্য পরলোক অবশ্যই থাকবে;আর তা ভোগ করার জন্য ইহলোকের পরও আমাদেও অব্যাহত অসি-ত্ব বা মরণোত্তর জীবন আবশ্যক। আগেই উল্লেখ করেছি,পরলোকের পক্ষে যেমন,বিরুদ্ধেও তেমনি প্রচুর যুক্তি দেয়া হয়েছে। দার্শনিক বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাঁরা পরলোকের ধারণা ও অমরত্বে বিশ্বাসকে অমূলক ও অবাস-ব প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন তাঁদেও যৌক্তিক অভিজ্ঞতাবাদী বলে অবিহিত করা হয়। তাঁদেও মতে চোখের সামনে মৃত্যুবরণের পরও প্রয়াত ব্যক্তি লোকচক্ষুর অন-রালে বেঁচে থাকে,পারলৌকিক জীবন যাপন করতে পারে-এ ধারণা রীতিমত হাস্যকর। এ থেকে তাঁরা প্রশ্ন করেন:আমি যখন বলি মৃত্যুর পরও আমি বেচে থাকব তাহলে ‘আমি’ কথাটি দ্বারা আমি কি বুঝাতে চাই? ‘আমি’ ‘তুমি’ প্রভৃতি ব্যক্তিব০াচক শব্দ চেয়ার,টেবিল ও আলু পটোলের চেয়ে স্বতন্ত্র স্বভাবের কিছু নয়। আর তা নয় বলেই তারা নির্দেশ করবে এমনসব সত্তাকে যারা কোন রহস্যেও আবরণে আবৃত নয়,বরং যে কোন জড়বস’ও মতোই ইদ্রিয়গ্রাহ্য;অর্থাৎ যাদেও দেখা,শোনা ও স্পর্শ করা যাবে। সহজ কথায়,ব্যক্তি বলতে আমরা কোন বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ও স্বতন্ত্রধর্মী সত্তাকে নয়,বরং এমন সত্তাকে নির্দেশ করব,যাকে জড়বস’ও মতো পদার্থিক উপায়ে বা প্রায়োগিক পদ্ধতিতে সনাক্ত করা যাবে। আত্মসত্তা সম্পর্কে যদি এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করা যায় তাহলে মরণের পর বেঁচে থাকার কিংবা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার প্রশ্ন উঠে না;কারণ মরণ মানেই দেহ বিনাশ,ব্যক্তিসত্ত ও চেতনার পূর্ণ অবসান। এখানে লক্ষণীয় যে,যৌক্তিক অভিজ্ঞতাবাদীরা ব্যক্তিসত্তা বলতে শুধু দেহকে এব ব্যক্তিগত ঐক্য বলতে দেহের সংহতিকে বুঝেছেন। দেহের অভ্যন-ওে বা অন-রালে আত্মা বা দেহের চেয়ে ভিন্ন স্বভাবের মন বরৈ যে কিছু থাকতে পারে,এ সম্ভাবনাকে ত৭ারা সুম্পষ্টভাবে বাতিল করে দিয়েছেন। কিন’প্রশ্ন ওঠে:আত্মসত্তা ও দেহ,এ দুটি কি আসলেই এক ও অভিন্ন? সুখ-দুঃখ,আশা-প্রত্যাশা,বিশ্বাস-কল্পনার কর্তা প্রাণবন- ব্যক্তিকে স্রেফ পদার্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা যায় কি? আমার মনে হয় এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হবে ‘না’। এ কথা বলার অপেক্ষ রাখে না যে,স্বরূপগতভাবে মানসিক ঘটনাবলী,পদার্থিক বস’ও ঘটনাবলীর চেয়ে স্বতন্ত্র। সুতরাং সঙ্গত কারণেই তাদেও পদার্থিক ঘটনাবলী,কিংবা দেহের আলোকে ব্যঅখ্যা করা যায় না,যেতে পারে না। যে মনস-াত্ত্বিক প্রক্রিয়া স্পষ্টতই দৈহিক প্রক্রিয়ার চেয়ে স্বতন্ত্র,তাদেও দেহের গুণ বা ধর্ম বলে আখ্যায়িত করা অয়ৌক্তিক। যেমন,স্বপ্নের ঘটনাবলী থেকে আমরা প্রমাণ পাই যে,দৈহিক প্রক্রিয় বন্ধ থাকা কালেও মানসিক প্রক্রিয়া চালু থাকতে পারে। আবার মন যে,মানসিক প্রক্রিয়া দৈহিক প্রক্রিয়ার অধীন;অন্যপক্ষে বরং এ-ও হতে পাওে যে,আমরা যাকে দেহ বলি তা মনের নিয়ন্ত্রক নয়,মানসিক প্রক্রিয়াবলীর সহায়ক মাত্র। ব্যক্তিমাত্রই দেহবিষ্টি সন্দেহ নেই;কিন’এর অর্থ এই নয় যে,দেহ কেবলমাত্র দেহই ব্যক্তিত্বেও একমাত্র উপকরণ। অন-ত আমাদেও অভিজ্ঞতা তা সমর্থন কওে না। আমরা জানি যে,দেহ ছাড়াও ব্যক্তির মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাদেও পদার্থেও রূপ-রস-গন্ধ-শব্দ-স্পর্শেও মতো প্রয়োগিক উপায়ে প্রত্যক্ষ করা না গেলেও তাদের অসি-ত্ব ও গুরুত্ব উপায়ে প্রত্যক্ষ করা না। যেমন,ব্যক্তিমাত্রই সত্য সুন্দও শুভ ন্যায় প্রভৃতি মূল্যমানের লকে।ষ্য জীবনকে পরিচালিত করে,এবং এসব আদর্শ অনুশীলনের মাধ্যমে জীবনকে অর্থবহ ও মূল্যবেঅধ যতই বাস-ব ও গুরুত্বপূর্ণ হোক-না-কেন,এদও জড়ীয় বা পদার্থিক বলা যায় না। একই কারণৈ জড়ীয় বা পদার্থিক মানদণ্ডে এদও পরিমাপের প্রশ্নও ওঠে না। কিন’যৌক্তিক অবিজ্ঞাতাবাদীরা এসব মানবীয় গুণ বা মূল্যবোধের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা স্বীকার না করে এদের অপরাপর পদার্থিক বস-ূও সমপর্যায়ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন,এবং এদের মূল্যায়নের জন্যও পদার্থিক মানদণ্ড ব্যবহারের প্রস-ার করেছেন। তাঁরা যদি মানবীয় গুণাবলীর স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করেছেন,তাহলে তাঁরা অবশ্যই বুঝতে পারতেন যে,আমি,তুমি,তিনি,প্রভৃতি যেসব শব্দ ব্যক্তির নির্দেশজক,তাদেও বস’ও নির্দেশক বলে মনে করা নিতান-ই এব হাস্যকর ব্যাপার। এখানে প্রশ্ন ওঠে:আলোচ্য সমালোচকেরা সনবসত্তার স্বতন্ত্র মর্যাদা স্বীকার করতে ব্যর্থ হলেন কেন? উত্তরে বলা যায় যে,তাঁরা আগেই মনগড়াভাবে ধরে নিয়েছেন যে,যা-কিছুকে জড়বস’হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না,এবং যাদেও রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শেও মতো ঐন্দ্রিয়িক উপায়ে প্রত্যক্ষণ ও প্রতিপাদন করা যাবে না,তাদেও অসি-ত্বশীল হওয়ার কোন অধিকার থাকবে না। এ গোটা ধারণাটি রীতিমত স্বৈরতান্ত্রিক ও যথেচ্ছধর্মী। অভিজ্ঞতাকে ঐন্দ্রিয়িক বস’ও মধ্যে সীমিত করার এ প্রচেষ্টা অযৌক্তিক। আসলে বস’ও অসি-ত্বেও রূপ বা ধরন কেমন হবে,তার উপর আমরা কোন আদেশ জরি করতে পারি না। যা ইন্দ্রিয়গম্য নয়,তা জ্ঞানের যোগ্য নয়,এবং তা অসি-ত্বশীলও হতে পারে না। এ ধরনের কোন একতরফা ডিক্রিও আমরা জারি করতে পারে না। কারণ,একথা ভুলে গেলে চলবে না যে মানুষ হিসেবে আমরা বস’ও স্রষ্টা নয় আর তা নই বলেই কোনকিছুর অসি-ত্ব আমাদেও ইচ্ছাধীন হবে,এ দাবিও আমরা করতে পারে না। বিশ্লেষণী সমালোচকেরা আত্মসত্তাকে অজড়ীয় সত্তা হিসেবে গ্রহণ করুন,আর ন-িই করুন তাদেও আত্মসত্তর স্বাভাবিক রূপ পরিবর্তিত হবে না,এবং আমাদের ইচ্ছানিরপেক্ষভাবেই তা তার স্বগুণে বেং স্ব-অধিকাওে অসি-ত্বশীল থাকবে। আবার কেউ একে সনাক্ত করুক আর না- ই করুক,কেউ একে জড়ীয় বলুন আর আধ্যাত্মিক বলুক,তাতেও এর স্বরূপগতভাবে (আমাদেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে) আধ্যাত্মিক হয়ে থাকে,তাহলে কোন যুক্তির জোরেই আমরা এর অন্যথা সাধন করতে পাওে না;কারণ যুক্তিসঙ্গতভাবেই হোক,আর অযৌক্তিকভবেই হোক যা আছে,তা আছেই। কোন যুক্তির দোহাই দেয়ে আমরা এর অসি-ত্ব অস্বীকার করতে পারে না। এদিকে থেকে আত্মা বলে যদি আধ্যাত্মিকধর্মী কিছু থেকে থাকে,তার অসি-ত্ব খণ্ডন আমাদের যুক্তিবিচারের ক্ষমতাবহির্ভূত। বাস-বিক পকে।ষ যদি এ ধরনের আত্মা থেকেই থাকে,তাহলে তাকে প্রয়োগিক ও পদার্থিক উপায়ে সনাক্তক্ষম হতে হেব,অভিজ্ঞতাবাদীদেও এ দাবি হবে নিতান-ই অযৌক্তিক। অবশ্য এর অর্থ এই নয যে,আমি আধ্যাত্মিক আত্মার অসি-ত্বে বিশ্বাসী,এর অর্থ এ-ও নয় যে,আমি আধ্যাত্মিক আত্মার অসি-ত্ববিরোধী। আমি শুধু বুঝাতে চাচ্ছি যে,প্রয়োগিক পদ্ধতিতে,এমন কি বিশুদগ্ধ যুক্তির সাহায্যে,আমরা আত্মা সম্পর্কে কোন সুনিশ্চিত সমাধান দিতে পাওে না,এ বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে হলফ কওে কিছু বলতেও পারি না। যেকোন পরাতাত্ত্বিক বিষয়ের মতো এ বিষয়টির যে কোন সমাধান নিতান-ই আনুমানিক,এবং সে কারণেই সম্ভাব্য,সুনিশ্চিত নয়। পরলোকের স্বরূপ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন,দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তেমনি সাধারণ মানুষ ও ভাবুক-দার্শনিকদেও অনেকেই পরলোকের বাস-বতা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদেও কেউ কেউ পারলৌকিক জীবনের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। বলা হয়েছে,বর্তমান জীবন বহুলাংশে দুঃখ-দুর্ভোগ,অনিশ্চিতি ও অনিরাপত্তার জীবন। এ জীবনে অপূর্ণতা ও অসনে-াষের কারণে আমাদের মনে এমন এক উৎকৃষ্টতর পরলোকের প্রত্যয় ও অসনে-াষের কারণে আমাদেও মনে এমন এক উৎকৃষ্টতর পরলোকের প্রত্যয় ও অসনে-াষের কারণে আমাদের মনে এমন এক উৎকৃষ্টতর পরলোকের প্রত্যয় ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়,যেখানে আমরা ইহলোকের কোন দুঃখ-দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি দেখব না,বরং এক অনন- আনন্দময় জীবনের সন্ধান পাব। এ ব্যাপাওে বিভিন্ন ধর্ম আমাদের সৃনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছে এবং সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা ইহলোককে পরলোকের প্রস’তিপর্ব বলে ধওে নিয়ে পরলোকের অনন- সুখ- শানি-ও আশায় ইহলোকের দুঃখ-দুর্দশা,শোষণ-নির্য়াতনকে তুচ্ছ জ্ঞান করি। কিন’এখানে প্রশ্ন থেকে যায়:পারলৌকিক জীবন কি আমাদের বর্তমান পার্থিব জীবনের অনন- দীর্ঘায়ন? তা-ই যদি হয়,তাহলে এ ইহলৌকিক জীবকে সীমাহীনভাবে দীর্ঘায়িত কারে আমরা কি আমাদের পরম ইপ্সিত দুঃখলেশহীন অভ্যাহত আনন্দ পাব? আমরা আমাদের ব্যক্তিগত অসি-ত্বের অনন- সি’তি আশা করি ঠিকই;কিন’শৈশব,যৌবন ও বার্ধক্য-জীবনের এই তিন পর্বেও ঠিক কোন্‌টি অনন- দীর্ঘায়ন আমরা পরলোকে আশা করব? এ তিনটির সবগুলোই আমাদের বর্তমান পূর্ণ জীবনের আবশ্যিক পর্ব। এদের যেকোনটিকেই আমরা নির্বাচন করি না কেন,অনন-ভাবে ভোগ করার ফলে এর কি একঘেয়েও অস্বসি-কর হয়ে যাবে না? অনন- সুখের পারলৌকিক বীবন যত সুখের জবীনই হোক-না-কেন,অনন-কাল ধওে যদি আমরা সুখ ভোগ করি এবং দুঃখের কোন স্পর্শ অনুভব না করি,তাহলে এই বিরামহীন অনন- সুখ সত্যিই সুখকর বলে অনুভুত হবে কি? অর্থাৎ,বর্তমান পার্থিব জীবনকে অনন-ভাবে দীর্ঘায়িত করাই যদি আমাদের কাম্য কি-না,তা ভেবে দেখা দরকার বটে।
তহলে কী ধরনের পরলোক কাম্য? এ প্রশ্রে কোন বিজ্ঞানম্মত ও অভিজ্ঞতাপ্রসূত উত্তর জানা নেই। সঠিক খবর নেয়ার সদিচ্ছা নিয়ে একবার যদি পরলোকে যাবার চেষ্টা করি,তাহলে সেখান থেকে খবর নিয়ে পৃথিবীতে আবার হাজির হওয়ারও কোন সম্ভাবনা নেই। এ পরিসি’তিতে স্মরণাতীত কাল থেকে ভাবুক-দার্শনিকেরা বিচার-বিশ্লেষণ ও আন্দাজ-অনুমানের মাধ্যমে সমস্যাটির যে সমাধান হাজির করেছেন,আমরাও এর বেশি অগ্রসর হতে পারি না। সীমিকত সুযোগ-সুবিধার আওতায় এ গুরুতর প্রশ্নটি নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে যে,বর্তমান দেহের হুবহু পুনরুজ্জীবন এবং অবিনশ্বও আত্মার সঙ্গে এর পুনর্মিলনের মাধ্যমে পরলোকে আমরা যদি আমাদের নিজেদের পার্থিব সত্তা খুঁজে না- ও পাই তাতে হতাশ হবার কিছু নেই;কারণ দেহ-মনের হুবহু পুনরেুজ্জীবন সম্ভব না হলেও বর্তমান জীবনে অর্জিত আমাদেও অর্জিত নৈতিক উৎকর্ষ অনন-কালে না হলেও অনেকদিন টিকে থাকবে,এবং অন্যদের সৎকর্মেও প্রেরণার উৎস হবে-এ আশা আমরা করতে পারি। মোট কথা আমরা যে অমরত্ব নির্বিঘ্নে আশা করতে পারি তাকে যে বর্তমান জীবনের অবিকল কপি হতে হবে এমন কোন কথা নেই । আবার আমাদের যে বর্তমান দেহ নিয়েই পরলোক পুনরুত্থিত হতে হবে,নতুনভাবে বসবাস করতে হবে,এ আশাও অপরিহার্য নয়। দেহ ও আত্মার পুনরুত্থান বা মূর্ত অসি-ত্ব ছাড়াও নিছক স্মৃতির আকারেও এক ধরনের অমরত্ব আমরা আশা করতে পারি। দেহাবসানের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিসত্তর সব কিছু বিনষ্ট হয়ে যাবে- একথা আমরা মেনে নিতে এবং মরণকে সবকিছুর পরিসমাপপ্তি বলে স্বীকার করতে পারি না। তা যদি করি,. তাহলে এ জীবন অর্থহীন এবয় জীবনযাপন অসাধ্য হযে পড়ে। আগেই বলেছি,ব্যক্তি জীবনে দেহ ছাড়াও এমন কিছু সদ্‌গুন বা মূল্যমান রয়েছে যাদেও নিছক জড়ীয় পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা যায় না ঠিক,কিন’তবু তারা আমাদের পরম কাম্য। যেমন,মানুষ জ্ঞান ও সত্যেও সন্ধান কওে,সুন্দও ও শুভের চর্চা করে। সত্য সুন্দও শুভ প্রভৃতি যেসব মূল্যবান ও মূল্যবোধের অনুশীলন ও অনুকরণের মাধ্যমে মানুষ তার জীবনকে অর্থবহ করার প্রয়াস পায়,যাদেও অভাবে মানবজীবন পাশবিক জীবনে অধঃপতিত হয়ে যায়,দেহাবসানের সাথে সেসব মূল্যবোধেও বিলুপ্ত হয়ে যাবে,এ আমরা মেনে নিতে পার না। সত্য সুন্দও শুভ প্রভৃতির যদি কোন কোন দেহাতিরিক্ত স’ায়ী মূল্য ও তাৎপর্য না থাকতো,তাহলে প্রতিকূল পরিবেশে দৈহিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য উৎসর্গ করে,এমন কি উৎপীড়ন-নিপীড়নের মুখেও মানুষ এদের সন্ধান ও অনুশীলনে অটল থাকতো না মানবদরদী দেশপ্রেমিক ব্যক্তিরা যে দেশের জন্য,সমাজের জন্য,ন্যায় ও সুবিচারের জন্য সংগ্রাম কও আেত্মবলি দিচ্ছেন তা অমূলক নয় হতে পাওে না। মোট কথা,ন্যায়,ধর্ম,সত্য ও সুন্দরসহ সব মূল্যমান ও মুল্যবোধের একটি স’ায়ী তাৎপর্য আছে-এ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। মরণের পরও এসব মূল্য যদি টিকে থাকে,তাহলে তারা থাকবে ব্যক্তির সেই ইচ্ছা ও আদর্শেও আকারে,যার সাহায্যে তার অর্জিত হয়েছে। ব্যক্তির সেই ইচ্ছা ও আদর্শ মরণোত্তর সি’তি লাভ করতে পাওে একাধিক উপায়ে। প্রথমত,তা সি’তি লাভ কর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সন-ানসন-তিসহ বিভিন্ন উত্তর পুরুষের মাধ্যমে। বিজ্ঞানীদেও মতে,ব্যক্তির জীবারুরর সমবায়ে গঠিত তাদেও বিনাশ নেই। এসব জীবানু পরিবর্তিত হয়ে বৎমানুক্রমে উত্তরপুরুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়ে পূর্বপুরুষদেও অর্জিত সদ্‌গুণ ও ভাবাদর্শকে টিকিয়ে রাকে। তাই স’ুল অর্থে মৃত্যুতে দেহ বিনষ্ট হলেও প্রকৃত প্রস-াবে ব্যক্তিসত্তা কখনো সর্বতোভাবে বিলীন হয় না। পরবর্তী বংশধরদেও মধ্যে প্রভাব বিস-ারের মাধ্যমে যেমন,মরণের পরে সমাজের অগণিত মানুষের স্মৃতির মধ্যেও তেমনি মানুষ যুগ-যুগান-ও ধও পে্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে। এ দিক থেকে হে ও আত্মার স্বরূপ ও পারস্পরিক সম্মন্ধবিষয়ক সীমাহীন বিতর্কে না গিয়েও আমরা বলতে পারি,প্লেটোর মতো ভাববাদী দার্শনিক যেমন,কার্ল মার্কসের মতো দ্ধান্দ্বিক বস’বাদী মনীষীও তেমনি মৃত্যুঞ্জয়ী,ইহলোক ত্যাগের পর পরলোকের অধিবাসী। তাঁদেও আত্মা বলে কোন সত্তা পরলোকে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে কি-না,এ বিতর্কে প্রবেশ না করেও আমরা বলতে পারি অগণিত মানুষের স্মৃতিতে তাঁরা অমর হয়ে আছেন এবং এ অর্থে সদগুণ ও সৎকর্মেও অধিকারী সব মানুষ অমরত্বের দাবিদার। আধ্যাত্মিক আত্মার রূপ-স্বূেপ বিষয়ে কোন পক্ষ সমর্থনের চেষ্টা না কওে এবং ধর্মে বণিত স্বর্গ-নরকরে ভাষ্য সম্পর্কেও কোন মন-ব্য না কওে,আমরা বরং এক মধ্যপথ অবলাম্বন করতে পারি। এ অর্থে পরলোক একটি আছে,কিন’এ পরলোকইহলোকের সমান-রাল কোন নতুন জগৎ নয়,বরং একই ইহজগতের এক ধারাবাহিক নুতন পর্ব। ইহলোক থেকেই আমরা প্রয়াত ব্যক্তিদের জন্যে এটাই পরলোক;আর প্রয়াত হয়েও বিস্মৃত হন নি বলেই তাঁরা অমর। দেহ ও আত্মার পুরুত্থান এবং পার্থিব জীবনের হুবহু মূর্ত অসি-ত্ব ছাড়া নিছক স্মৃতির আকাওে যে অমরত্ব আশা করা যায়,সেই আশা নিয়ে এবং কবিগুরুর সুরে সুর মিলিয়ে বলি:মরিতে চাহি না আমি সুন্দও ভুবনে মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই।

No Comments