Welcome to মাইজভান্ডারীদর্পন

Featured Post

সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ধর্ম ঃ পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ
সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ধর্ম ঃ পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম,নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি ওয়া নুছাল্লিমু আলা হাবীবিহিল কারীম ওয়া আলা আলিহী ওয়া সাহ্বিহি ওয়া আওলিয়াইহী আজমাঈন। আম্মাবাদ। সম্মানিত সভাপতি,প্রধান অতিথি,বিশেষ অতিথি,উপস্থিত সম্মানিত...
Read More ...


Comment

Comment here if you like this plugin.

Member Login

Sign Up Now!

Forgot Password !

New password will be e-mailed to you.

Powered by

সুফীবাদ ও মাইজভান্ডার প্রেমবাদঃ

সুফীবাদ ও মাইজভান্ডার প্রেমবাদঃ
“সুফী” শব্দটির উৎপত্তি সম্পকেৃ বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। তবে প্রধানতঃ ৬টি মতবাদই অধিক আলোচিত। প্রথমতঃ বলা হয় ‘সাত্তফ’ অর্থাৎ পশম শব্দ হতে সুফী ও সুফীবাদের উৎপত্তি। সুফীরা মোটা পশমের কাপড় পরিধান করতো বলে ঐ পশমি শব্দ থেকে এর উৎপত্তি। দ্বিতীয় মতবাদঃ হলো ‘সাফায়ী’ অর্থাৎ পরিচ্ছন্নতা থেকে শব্দটির উৎপত্তি। পুফীরা পংকিলতা মুক্ত,পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জীবন যাটন করতো বলে তাদেরকে সুফী ও তাদেও মতবাদকে সুফীবাদ বলা হলো। তৃতীয় মতবাদঃহলো ‘সুফী’ শব্দটি উৎপত্তিগত ভাবে ‘সুফ্‌ফা’ অর্থাৎ চাদোয়া হতে উৎপন্ন। রসুল (দঃ) এর মদিনার জীবন যাপন কালে কতিপয় সাহাবা সার্বক্ষণিক ভাবে দুনিয়াদারী পরিহার কওে মসজিদে নব্বীর বারান্দায় চাঁদোয়ার নীচে অবস’ান করতেন। রসুলে পাক প্রয়োজনে তাদেরকে তালিম দিতেন। তারা তাবলীগ,জিহাদ ও ইক্কামতের কাজে নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছিল। এই ‘আসহাবে সুফফা’ থেকে সুফী ও সুফিবাদেও উৎপত্তি। চতুর্থতঃ বলা হয় যে,‘সুফ’ তথা শ্রেনীবদ্ধ হওয়া থেকে সুফী শব্দের উৎপত্তি। সুফীয়া বিশুদ্ধ আচরনের দিক থেকে প্রথম কাতারের মুমিন। এই কাতার তথা শ্রেণী হতে সুফী শব্দ উৎপত্তি লাভ করেছে। এ সম্পর্কিত পঞ্চম মতবাদ হলো ‘সাফিয়া’ তথা জ্ঞানী বা সাধক শব্দ হতে সুফি শব্দের উৎপত্ত্‌ অির্থাৎ সুফীরা মোটআ পশমী কাপড় পরিধান করতেন এবং তাদেও আত্মাও চরিত্র ছিল পরিচ্ছন্ন,পরিশুদ্ধ ও নির্মল। মুসলিম দার্শনিক আল্লামা ইবনে খালদুনের মতামতও তাই। তার মতে পশমী পোষাক ও সাদা- সিদা পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন হতে এ শব্দদ্বয়ের বুৎপত্তিগত উৎপত্তি।
সুুফীবাদ বা তাসাউফের উৎস কোরান,হাদিস এবং হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর পরিত্র জীবন দর্শন। বোখারী শরীফোর ৯৫নং হাদিসে হযরত আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত আছেঃ হুজুর পাক (দঃ) এর নিকট হতে তিনি দু’প্রকার জ্ঞান অর্জন করেছেন-একটি বাইরের জ্ঞান অর্থাৎ জাহেরী এবং আর একটি ভিতরের জ্ঞান অর্থাৎ বাতেনী। এই বাতেনী জ্ঞান সকলের জন্য ছিলনা। হযরত আবু হোরায়রার মত কিছু সাহাবীর এটি জানা ছিল। এর এই বাতেনী তথা মা’রিফাত থেকে সুফীবাদেও প্রসার ও বিস-ার।
সুফীবাদ সূলতঃ পাপ-পংকিলতামুক্ত জীবন যাপন ও শরীয়াতের অন-র্নিহিত রহস্য ও তাৎপর্যেও উপলব্দি এবং প্রেম-মহব্বত ও একাগ্রচিত্তের সাথে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য এ চার সন’ষ্টি বিধানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ। স্বেচ্ছায় খোদা প্রেমের উত্তাল তরঙ্গে হৃদয়-মন সপে দেয়া। স্রষ্টার মর্জিও রেজামন্দিহাসিল হচ্ছে ‘তাসওউফ’ বা মা’রিফাত তথা সুফীবাদ। পবিত্র আল-কোরআনের বেশ কিছু আয়াতের গভীর বিশ্লেষণ সুফীবাদেও অন-র্নিহিত বক্তব্যের সমর্থক। যেমন আল কোরআনের সুরা ফজর-এর ২৭ ও ২৮ আয়াতে আপন প্রভুর দিকে ফিরে আস;তুমিও তাহার উপর সস’ষ্ট,তিনিও তোমার উপর সন’ষ্ট। আয়াতটি জ্ঞানীদেও জন্য ভাববার বিষয়,সুফীদেগর দকি নিদর্শন। বস’তঃ হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এবং অন্যান্য নবী-রাসুলের জীবন দর্শনেও সুফীবাদেও ইংগিত ও নিদর্শন রয়েছে। যেমন,হেরা গুহায় হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর ধ্যানমগ্ন হওয়া,বিরাট নেয়ামত ও বিরাট সাম্রাজ্যেতর অধিপতি হয়েও গায়ে তালি দেয়া জামা পরিধান করা,সময়-সময় উপবাসে থাকে,হযরত মুসা (আঃ) ও খিজির (আঃ) এর রহস্যময় কাহিনী ইত্যাদিতে বস’তঃসুফীবাদেও উৎস ও নিযুঢ় তত্ত্ব নিহীত। সুফী সাধকা দুনিয়ার স্বল্প স’ায়ী জীবনকে তুচ্ছ করে আখেরাতের চিরস’ায়ী জীবনের জন্য হাদিয়া সংগ্রহ ও স্রষ্টার সন’ষ্টির জীবন উৎসর্গ করেন। এই তৌফিক যারা পায় তারা ধন্য,যারা অনুসন্ধানে তারা শ্রদ্ধেয়। সুফীবাদ আলোচনায় অবশ্যম্ভাবীভাবে যেটি চলে মাসে তা হলো মাইজ ভান্ডারের প্রেমবাদ ও মাইজভান্ডারী দর্শন। চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি থানার একটি গ্রাম মাইজভান্ডার আজ শুধু বাংলাদেশেই নয়,পৃথিবীর মানচিত্রের বিভিন্ন দিগনে- নিজকে স’ান কওে নিয়েছে। মহাপুরুষদেও পূণ্যপদরেনু স্পর্শে ধন্য মাইজভান্ডারের পবিত্র পীঠস’ান জগতের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে সুন্দও ও প্রেমের সুষমায় মুগ্ধ করেছে। প্রেম ও সত্যিই এখানে সবার লক্ষ্য। ভক্তি ও প্রেম দ্বারাই সে স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করা যায়। শানি- নীড়ে অবস’ান করা যায় পৃথিবীর বুকে অশানি-ও,হিস্রতার ও বিদ্ধেষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে নৈতিকতাও মানবিক মূল্যবোধ আবার সহ-অবস’ানের ধারা প্রবর্তন করা যায়। মাইজভান্ডারী দর্শন তারই পথ প্রদর্শক। বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রানে- ও একবিংশ শতাব্দীর সূর্যোদয়ের মানে মানব সভ্যতা ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির চরম বিকাশেল সময় ও ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত বিদ্বেষ ও হানা-হানিতে প্রতি নিয়ত মানবচতার লাঞ্চনা বিবেকরানদের জন্য অসহনীয় মর্মপীড়ার কারণ এবং সভ্য সমাজের লজ্জ্বার বিষয়,এ প্রেক্ষিতে প্রেম ও সমপ্রীতির বাণী এবং এতদ সংক্রান- আদর্শের প্রচার ও পসার একান-ই কাম্য। ইসলাম ধর্মের চিরন-ন বাণী শানি–সমপ্রীতি,স্রষ্টার আত্ম সমর্পন,সৃষ্টিতে প্রেম সুফীবাদ ও মাইজভান্ডারী দর্শনের আধার। তাই পাওে অশান- পৃথিবীকে আলোর সন্ধান দিতে। মাইজভান্ডারী দর্শনের মূলে রয়েছে-১) মানব শ্রেষ্ঠত্ব ২) একাত্ববাদী ধর্ম- সাম্য ৩) বিচার সার্ম ৪) অর্গলমুক্ত ইসলামী প্রেমবাদ ৫) রহস্যময় কৌশল ও ৬) সপ্ত পদ্ধতির বিশ্বব্যবস’া। মাইজভান্ডারী দর্শন ও প্রেম-প্রীতরি এক নিদর্শন। এখানে প্রাণ দিয়ে প্রাণকে শাসন,আত্মা দিয়ে খোদা প্রেমের এক নৈশ্যনিক শিক্ষা দেয়া হয়। ভক্তি ও প্রেমের মাধ্যমে মেযন স্রষ্টকে পাওয়া যায় তেমনি বাহ্যিক দিকে এরই মাধ্যমে শানি- ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এই স্রষ্টা প্রাট্‌িত ও মানব কল্যাণ তথা সৃষ্টিকে ভালবাসা সুফিবাদেও তথা তাসাওউফের মুল ভিত্তি। বস’তঃআল কোরআনের বিশ্লেষন নামক দৃষ্টিতে বান্দা নাফসে আম্মারার প্রভাব মুক্ত হয়ে নাফসে লাওয়ামার স-র অতিক্রম কওে নাফসে মুতমায়িন্নার স-রে উন্নীত হওয়ার নাম,ই তাসাওউফ। অর্থাৎ মানুষকে কু-প্রবৃত্তির প্রভাব মুক্ত হয়ে বিবেকের স-রে,মানবতার স-রে আসতে হবে। সেখান থেকে পরিপূর্ণ আত্ম সর্ম্পন ও একনিষ্ঠ প্রেম মাধ্যমে মারিফতের প্রেম-সুধা পান করার স-রে পৌঁছাই হল সার্থকতা এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাঁন। ইসলাম ধর্মেও শানি-ও চিরন-ন বাণীও শ্বাশত রূপকে নির্মোহ ও নৈর্ব্যক্তিকভাবে যুগ যুগ ধরে সুফী-সাধকেরা প্রচার করে গেছেন এবং প্রচার করে চলছেন। এই ধারায় বার আউলিয়ার রদেশ চট্টগ্রাম এর মাইজভান্ডরী দর্শন এবং এর উপর অসমপ্রদায়িক ও প্রেমের বাণী সঠিক ভাবে ও কার্যকর পন’ায় পৃথিবীর দিকে দিকিে তুলে ধরে বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বেও মানব সভ্যতার বিকাশে,মানবিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠায় নতুন দিগনে-ও ধারা উম্মোচিত হোক,মাহে রবিউল আউয়াল মাসে ঈদ-এ-মিলাদুননবীতে এটাই হোক আমাদের প্রার্থনা। আমিন। সুফী-সাধকদের মাধ্যমেই মূলতঃ বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটে॥ সুফী সাধকদের কদও ও সম্মান তাই আজো অম্লান। কিন’কিছু গোষ্ঠি। ও শ্রেণীর স্বার্থে ধর্মেও ব্যবহার এ ধারায় কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কিন’এখনও দেশের সংখ্যাগুরু শানি- প্রয় ধর্মপ্রান মানুষের মধ্রে সুফীবাদেও আদর্শ,ধর্ম সহিষুতা ও কল্যাণের শিক্ষা দান কাটে। প্রয়োজন রয়েছে এ মনভাবকে আরো চাঙ্গা করা যাতে শানি- ও কল্যাণের পথে থেকে অশুভ শক্তি কালো থাবা বিস-ার না করতে পারে। সুফীবাদ কায়েম হোক এর কাঙ্খিত লক্ষ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত ভাবে। মাইজভান্ডারী দর্শন হোক জনপ্রিয় ও কল্যাণের পথের পাথেয়। এই আমাদেও কামনা। ছুম্মা-আমিন।

সূফীর ভাব

No Comments