লেখনি সমুহ

১।**ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (দঃ) মিল্লাতে ইসলামীয়ার চেতনার উৎস = আলহাজ্ব শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ আল হাসানী

কোন বিষয়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা উপলব্দি করতে হলে উক্ত বিষয় সম্পর্কে চেতনা থাকা বাঞ্চনীয়। চেতনা বিহীন কোন বিষয় অন-ঃসারশূণ্য। যেমন ধরা যাক আমাদের দেশের স্বাধীনতা বিষয় সম্পর্কে চেতনা। স্বাধীনতার মর্যাদা, গুরুত্ব ও স্বাধীনতা অর্জণ করতে যে অমানবিক কষ্ট এবং নির্যাতন আমাদেরকে সহ্য করতে হয়েছে সে সম্পর্কে চেতনা না থাকলে স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও প্রেরণা জাগবেনা। আর এর উৎস সম্পর্কে সু-স্পষ্ট ধারণা থাকলে চেতনা হবে অত্যন- প্রখর। আল্লাহপাক এরশাদ ফরমানঃ আল্লাহর নিকট একমাত্র পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস’া হচ্ছে ইসলাম। ইসলাম ধর্মের অনুসারীগন হচ্ছেন মুসলমান। এই মুসলিম মিল্লাতের চেতনা হবে তত প্রখর ধর্ম-সম্পর্কে চেতনা হবে যত সুস্পষ্ট। প্রকৃতপক্ষে ইসলামের বাস-ব ও জীবন- রূপ হচ্ছেন আমাদের প্রিয়নবী মোহাম্মদুর রাসুল্লাহ (দঃ)। ধর্ম তথা কোরআন-হাদীস, নামাজ, রোযা, ধর্মের যাবতীয় বিধি-বিধান ইত্যাদির মূল হচ্ছেন আমাদের প্রিয়নবী মোহাদুধুর রাসুলুল্লাহ (দঃ)। তিনি যদি ধরা ধামে না আসতেন, তাহলে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কোন রূপ চিনত্মা চেতনার কল্পনাও করা যেতনা। নবিজীর আগমন সম্পর্কে আল্লাহ পাক হাদীসে কুদসীতে ফরমানঃ “লাওলাকা লামা খালাকতুল আফলাক”। অর্থাৎ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে সৃষ্টি না করলে আমি কিছুই সৃষ্টি করতাম না।
সমগ্র জাহান এবং বিশেষ করে আরব জাহান ছিল ঘোর তমাসাচ্ছন্ন। জাহেরা ৫৭০ খৃষ্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে ধরাধামে নবীজীর (দঃ) আগমনের পূর্বে সমগ্র পৃথিবীতে এক নৈরাজ্যকর অবস’া বিরাজ করছিল। ঐতিহাসিক আমীর আলী যথার্থই বলেছেনঃ ঘবাবৎ রহ ঃযব যরংঃড়ৎু ড়ভ ঃযব ড়িৎষফ ধিং ঃযব হববফ ংড় মৎবধঃ, ঃযব ঃরসব ংড় ৎরঢ়ব ভড়ৎ ঃযব ধঢ়ঢ়বধৎধহপব ড়ভ ধ ফবষরাবৎবৎ. পৃথিবীর ইতিহাসে পরিত্রানকারীর আর্বিভাবের এমন উপযুক্ত ও পরিপক্ক সময় আর কখনও অনুভূত হয়নি। অর্থাৎ সমগ্র বিশ্বের মানুষ একজন পরিত্রানকারীর আবির্ভাবের জন্য হাহাকার ও আর্তনাদ করছিল। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নূরে মোহাম্মদীকে (দঃ) মানব ছুরতে ৫৭০ খৃষ্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিত্রানকারী রুপে প্রেরণ করেন। তাই ইসলামের প্রতিটি খুটি-নাটি বিষয় তথা প্রতিটি বিধান সম্পর্কে চেতনা পাওয়ার একমাত্র উৎস হচ্ছেন হুজুর পাক (দঃ) আল্লাহ পাক বলেনঃ আল্লাহ মুসলিম মিল্লাতের উপর বড়ই মেহেরবানী করেছেন যে তাদের কাছে স্বীয় নবী মোহাম্মদুর রাসুরুল্লাহ (দঃ) কে পাঠিয়েছেন। ঈদ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে আনন্দ। আর ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী শব্দের অর্থ নবী পাক (দঃ) এর বেলাদত উপলক্ষে আনন্দ। আমরা অনেকেই তাহকিক করিনা যে মুসলিম মিল্লাত কোন ঈদ বা আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পেতেন না, যদি নবীজিকে (সঃ) আল্লাহ পাক দুনিয়াতে না প্রেরণ করতেন। তাই ঈদ-ই-মিলাদুবীই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ট ঈদ। এই ঈদ ই মিল্লাদুন্নবী থেকেই আমরা সকল উৎসবের চেতনা খুজে পাই। আমরা নামাজ পড়ি আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ মোতাবেক। বলতে গেলে নামাজ বা সালাতের খুটি নাটি প্রতিটি বিষয়ই হুজুর পুরনুব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসৃত সুন্নাত বা আদর্শের অনুসরন মাত্র। কাজেই নামাজের মূল প্রেরণা বা চেতনার উৎস হচ্চেন আমাদের প্রিয় নবীজি (দঃ)। এমনিভাবে রোজা, হজ্জ, যাকাত, শরীয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফাত তথা পরিপূর্ণ ইসলামের সামগ্রিক চেতনার একমাত্র উৎস হচ্ছেন হযরত আহমদ মুজতবা মোহাম্মদ মোসত্মফা (দঃ)। নবীজির তিরোধানের পর যারা পৃথিবীতে স্মরনীয় বরনীয় হয়েছেন মুসলামানদের মধ্যে, তারা তাদের রিয়াজত ও ইবাতের চেতনা পেয়েছেন নবীজির (দঃ) বাসত্মব জীবন থেকে। শুধু তাই নয়, সমগ্র বিশ্বে আল্লাহ্‌ পাক যাদেরকে নবী রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছেন তারাও আমাদের প্রিয় নবীর জন্ম বা আবির্ভাব সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়ে গিয়েছেন নিজ নিজ উম্মতের কাছে। হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের বাণী পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত হয়েছে। আমি এমন রাসুলের শুভ সংবাদদাতা, যিনি আমার পর তাশরীফ আনয়ন করবেন, যাঁরা পবিত্র নাম “আহমদ”। শিশুর জন্মের পর নাম রাখা হয়। কিন’ নবীজী পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়ার লক্ষ লক্ষ বছর আগে স্বয়ং আল্লাহ্‌ প্রিয় নবীর নাম রেখে দিয়েছেন। সুতরাং আমরা শুধু মিল্লাতে ইসলামীয়া ৫৭০ খৃষ্টাব্দের ১২ই রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে ঈদ ই মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপন করি। কিন’ হাকিকতে লক্ষ লখ্‌ষ বছর আগ থেকে সকল নবী রাসুলগন আমাদের প্রিয়নবীর জন্মের আনন্দ করেছেন। এই কারণে আমরা বলতে পারি যে, মিলাদুন্নবী (দঃ) নবী রাসুলদের সুন্নাত। এক শ্রেণীর নামধারী আলেম এহেন মোবারক কাজকে বেদআত বলে আখ্যায়িত করতে একটু লজ্জা বোধ করে না। আল্লঅহ পাক ঘোষনা দিয়েছেন ঃ যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি তারা এই নবীকে (হুজুর পাকা দঃ) এমমনিভাবে চিনে, যেমনিভাবে মানুষ তার পুত্র-সনত্মানদের চিনে। এই আয়াত দ্বারা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে, ঈদের আনন্দের ন্যায় নবীজির আগমান তথা জন্মের সুসংবাদ সারা বিশ্বের আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে ছিল। তাই এই দৃষ্টিকোন থেকে আমরা বলতৈ পারি ঈদ ই মিলাদুন্নবী সমগ্র আলমের চেতনার উৎস। এহেন আনন্দ উৎসবের দিনে যাদের ভাল লাগেনা, তারা মিল্লাতে ইসলামীয়ার অনত্মর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হতে পারে না। নবী পাক সাল।রঅল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম উপলক্ষে যে যারা বিশ্বে আনন্দের জোয়ার নেমেছিল, সে সম্পর্কে নিম্নে কিছু উদ্ধুতি প্রদান করছি। হযরত ঈসা (আঃ) বলেনঃ ডযবহ ঃযব ংঢ়রৎরঃ ড়ভ ঃৎঁঃয পড়সবং, যব রিষষ মঁরফব ুড়ঁ ঁহঃড় ধষষ ঃযব ঃৎঁঃয. এখানে ঝঢ়রৎরঃ ড়ভ ঃৎঁঃয বা সত্যেল চেতনা বল াহয়েছে আমাদের প্রিয়নবীকে। ঈসা (আঃ) বলেনঃ যখন সেই সত্যের চেতনা আসবেন তখন তিনি তোমাদেরকে সকল সত্যের দিক নির্দেশনা প্রদান করবেন। খরংঃবহ রিঃয ৎবাবৎবহপব ঃযব যধঢ়ঢ়ু হবংি ঃযধঃ ঘধৎধংযধহংধয (গঁযধসসধফ ঝস) ঝযধষষ নব চৎধরংবফ. শ্রদ্ধার সাথে শ্রমন কর শুভ সংবাদ নরশংসা (মোহাম্মদ (দঃ)) প্রশংসিত হবেন। মুসা (আঃ) বলেনঃ গঁযধসসধফ (ঝস) ড়িঁষফ মবঃ ঃযব ছঁৎধহ ধঃ ঈধাব ঐবৎধ ড়হ গড়ঁহঃ ঘঁৎ রহ গধশশধয ধহফ ঃযধঃ যব ড়িঁষফ পড়হয়ঁবৎ গধশশধয রিঃয ১০ ঃযড়ঁংহধফ ঝধরহঃষু ভড়ষষড়বিৎং. অর্থাৎ মোহাম্মদ (দঃ) যাবালে নূরের হেরা গুহায় কোরআন প্রাপ্ত হবেন মক্কায় এবং তিনি দশ হাজার সাধু উম্মত (ছাহাবী) নিয়ে মক্কা জয় করবেন। মন্ত্র নামক প্রাচীণ ধর্ম গ্রনে’ উল্লেখিত রয়েছে ঃ ঐব ংযধষষ নব ….ঃযব নবংঃ ড়ভ সবহ ধহফ মঁরফব ভড়ৎ ঃযব বহঃরৎব সধহশরহফ ধহফ ঝঢ়ৎবধফ ঢ়বধপব রহ ঃযব ড়িৎষফ. অর্থাৎ ঃ তিনিই হবেন মানবাজাতির শ্রেষ্ঠ এবং সমগ্র মানবকুলের হেদায়াত দানকারী এবং তিনিই সারা বিশ্বে শানিত্ম ছড়িয়ে দিবেন। শিখ ধর্মের প্রবর্তক শুরু নানক বলেনঃ ঙ ঢ়রড়ঁং ঢ়বড়ঢ়ষব! ৎবপরঃব ঃযব কধষবসধয ড়ভ ঃযব ঈৎবধঃড়ৎ (ও.ঈ খধ ওষধযধ ওষষধষষধয), ধফফরংম, ঃড় রঃ ঃযব হধসব ড়ভ গঁযধসসধফ) অর্থাৎঃ হে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিবর্গ! তোমার আল্লঅহর কালেমা তথা ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পাঠ কর এবং উহার সাথে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম যুক্ত কর। তিনি আর ও বলেনঃ গঁংষরসং ধৎব ঝঁভভবৎরহম ভড়ৎ ফরংযড়হড়ঁৎরহম গঁযধসসধফ অর্থাৎঃ- মুসলামনরা নবীজিকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করার দরুন কষ্ট ভোগ করে আসছে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বৌদ্ধের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তাঁর একনিষ্ঠ শিষ্য ও অনুরুক্ত আনন্দ কান্নায় ভেংগে পড়েন। তখন গৌতম বৌদ্ধ তাঁকে শানত্মনা প্রদান করেন এবং মহানবীর (দঃ) শুভাগমনের সুসংবাদ প্রদান করেন। তখন আনন্দ আবেদন জানান, হে গুরু! আমি সেই মহা মানবকে কি করে চিনব? গৌতম বৌদ্ধ উত্তর দেনঃ ঙ অহধহফধ! ও ধস হড়ঃ ঃযব ড়হষু হড়ৎ ঃযব ষধংঃ ইঁফফযধ যিড় ধঢ়ঢ়বধৎবফ ড়হ ঃযরং বধৎঃয, রহ ফঁব ঃরসব ধহড়ঃযবৎ ইঁফফযধ রিষষ ধঢ়ঢ়বধৎ রহ ঃযব ড়িৎষফ. ঐব রিষষ নব শহড়হি ধং গধরঃৎৎুধ. অর্থাৎঃ হে আনন্দ! আমিই একমাত্র এবং শেষ বুদ্ধ নই যিনি পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন। যথা সময়ে আর একজন বুদ্ধ পৃথিবীতে আগমন করবেন যার নাম হবে মৈত্র। মৈত্র মানে সমগ্র জাতির প্রতি দয়া স্বরূপ। কোরআন শরীফেও অনুরূপ বানী এসেছেঃ অর্থাৎঃ হে নবী (দঃ)! আমি সমগ্র আলমের জন্য আপনাকে রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। তাই নিঃসন্দেহে সমগ্র আলমের জন্য ঈদ ই মিলাদুন্নবী (দঃ) চেতনার উৎস; মুসলিম মিল্লাতের জন্য তো বটেই। তাই আসুন! ঈদ-ই-মিল্লাদুন্নবীর খুশির দিনে আমরা সবাই কোরআনে পাকের আদেশ তথা আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের অঅদেশ পালনের মাধ্যমে আল্লাহর হাবিবের আগমনের জন্য আনন্দ ও শুকরিয়াহ্‌ আদায় করে দুনিয়া ও আখেরাতে সরফরাজী লঅভ করি। আল্লঅহ পাকের আদেশঃ অর্থাৎ হে নবী আপনি বলে দিন! তারা যেন আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত প্রাপ্ত হয়ে বেশি করে আনন্দ করে। আল্লাহর হাবিবকে আমাদের নবী হিসেবে প্রাপ্তির চেয়ে বেশি অনুগ্রহ ও রহমত আর কি হতে পারে? যারা এ ব্যাপারে অজ্ঞ ও যাদের এ ব্যাপারে চেতনার উদয় হয় না তাদেরকে আল্লাহ্‌ পাক জ্ঞান লাভ করার তৌফিক দান করুন।
***************************************************************************************** **বিশ্ব শানিত্ম স’াপনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর অবদান ও আজকের প্রেক্ষাপট।
প্রাথমকি কথাঃ তুব কেন দূরে সরে যায় মনজিল! কেন কেদে এঠে ব্যর্থ বেদনার মনদিল তবে কি ইমান ছেয়ে গেছে কম জোরে, দুশ্চিনত্মার মেঘ নামে বান্দরে। মতিউর রহমান মল্লিক শানিত্ম, শানিত্ম, শানিত্ম! কোথায় পবো শানিত্ম! চারিদিকে হায় শুধু অশানিত্ম আর ভ্রানিত্ম। মানুষ আজ শানিত্মর নেশায় পাগলপারা মাতোয়ারা। মানবজাতি মিথ্যঅমরিচিকার পেছনে ঘুরপাক করছে। বিশ্বের কত মনীষী ও রাষ্ট্রপতি শানিত্মর গান শুনিয়েছে, পায়না খুজে শানিত্ম। মনে হয় শানিত্ম যেন গলায় রশি বেধে আত্মহুতি দিয়েছে। বিশ্ব শানিত্ম দিবসের নামে আজ কত মিছিল মিটিং ঠিক শানিত্ম তখনই তাদের সাথে করছে সিটিং। সবাইতো সখী হতে চায়, দুঃখীর কাতারে কে দাড়াতে চায়। রূপ আর ঐশ্বর্যের অভাব নেই, তবে াঅজ মনেও কারো শানিত্ম নেই। যদি আমরা শানিত্ম চাই তাহলে রাসুল (দঃ) এর স্বর্ণালী যুগের দিকের ঘিরে যেতে হবে। রাসুল সহ অনেক পরিবার ছিল, না খেয়ে ঘুমাত, কিন’ শানিত্ম বিরাজ করছিল। যখন নরলোক নরপশুদের অত্যাচারে বিলান হচ্চিল, ঠিক তখনই শানিত্মর মশাল নিয়ে টুপি টুপি পদভরে শানিত্মর ছোড়া দিতে পদার্পণ করলেন বিশ্ব শানিত্মর জনক মুহাম্মদ (দঃ)। আসুন আমরা বিভিন্ন মনীষী জ্ঞানী গুনীদের দৃষ্টিকোন থেকে বিশ্ব শানিত্ম প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ (দঃ) এর অবদান আলোচনা করি। শানিত্ম সংজ্ঞা দানের মাধ্যমেই বুঝতে পারব যে, শানিত্ম বলতে কি বুঝায়। একজন কাঙ্খিত ব্যক্তি, বস’ বা বিষয় প্রাপ্তির পর সুখময় সৃতৃপ্তি অনুভূতি হলো শানিত্ম। অভাব মিটে গেলে, সমস্যঅর সমাধান মিটে গেলে, রোগ সেরে গেলে, গোলমাল মিটে গেলে, দাবি পূরন হলে শানিত্ম পাওয়া যায়। ব্যক্তি বিশেষে শানিত্মর ধরন ও বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। আমার মতে শানিত্ম হলো, ইনসাফের ভিত্তিতে একজন মানুষের চাহিদানুযায়ী তার কাঙ্খিত বস’ পাওয়ার মাধ্যমে উপভোগ করার নাম শানিত্ম। এ শানিত্মর উপকরণগুলো ব্যক্তি থেকে ব্যত্তিতে,দেশতেকে দেশানত্মরে, বিশ্ব থেকে বিশ্বের সর্বময় জনতার দুয়ারে পৌছে দেয়ার নাম হলো বিশ্বশানিত্ম। তবে, শানিত্মর আলোকপাত করতে গিয়ে আমার বিশ্বনবী শানিত্ম প্রতিষ্ঠার জনক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর একটি হাদীছ মনে মড়ে। তিনি বলেছেন “ধরনের সুখ প্রকৃত সুখ নয়, মনের সুখই হলো প্রকৃত সুখ।” জ্ঞানীর বলেছেন। ুঞযব ৎরপয ধৎব হড়ঃ ধষধিুং যধঢ়ঢ়ুচ বিশ্ব শানিত্ম প্রতিষ্ঠার জনক মুহাম্মদ (দঃ) বিশ্ব শানিত্ম ও জনগনের নিরাপত্তা, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে যিনি মানুষকে আবদ্ধ করেছেন, তিনি হলেন তরনী কান্ডারী গণ মানুষের মুক্তিদাতা, হযরত মুহাম্মদ (দঃ)। তিনি যেখানে যে মুহর্তে যে পরিবেশে জন্ম নিলেন, সেখানের মানুষের মনে অশানিত্মর অগ্নিশীখা দাউ দাউ করে জ্বলছিল। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ চলত ফি বছর। অকালে প্রাণ হারাত হাজার হাজার সনত্মান। কিন’, কেন এ যুদ্ধ? কেন এ নৃশংসতা? এ মানুষগুলোকি ভাল হবে না? এর কি কোন বিহীত সমাধান নেই? মহানবী (দঃ) কে দারুনভাবে অঅহত করে প্রতিবার। তাই তিনি অনেক জল্পনা কল্পনা করে বছর বয়সে আবাল বৃদ্দ বণিতাদের মতামতের ভিত্তিতে গড়লেন “হিলফ’ল ফুযুল” এর মত বলিষ্ঠ সংগঠন। নেতৃত্ব দেন তিনি? মুক্তি পেল যুদ্ধাহত মানুষ, বেঁচে গেল শিশু সনত্মান। মানুষ স্বাভাবিকভাবে বেঁচে গেলেও বা মুক্তি পেলেও চািত্িরক অধঃপতন থেকেই রেহাই পায়নি। তাই তাদের মৌলিকভাবে গঠন করার জন্য হেরা গুহায় ধ্যানমগ্নহন দয়াল নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ)।
মহানবী (দঃ) এর ধ্যান ধারনাঃ “হিলফুল ফুযুল” সংগঠন পরিপূর্ণ স্বার্থক হলো না এজন্য যে, এটা ছিল মহানবী (দঃ) এর পরিপূর্ণও ব্যক্তিগত উদ্যেঅগ। জ্ঞান ছাড়া মানুষের জ্ঞান দিয়ে কোন কাজের সফলতার সোপানে উন্নতি হতে পারে না। তাই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) হেরা গুহায় ধ্যান মগ্ন হয়ে মহিয়ানের দরবারের মানুষের মুক্তির জন্য মিনতি করতেন এবং অপেক্ষা করতে থাকেন অধীর আগ্রহে স্বর্গীয় প্রত্যঅদেশের জন্য। বিশ্বকবি কবিকুল সম্রাট আল্লামা ইকবাল সুন্দরভাবে বলেছেন ঃ- মহানবী (দঃ) হেরাগুহা থেকে এমন এক সমপ্রদায়ের নিকট এলেন, যে জাতি নিগৃহিত, ইসলামের আলো হতে বঞ্চিত। সাথে নিয়ে এলন মহাগ্রন’ আল কোরআন। তারপর সকল দুঃচিনত্মা ও দুর্ভাবনার অবসান ঘটল। সমাজে শানিত্মর ফোরারা বইতে লাগল কোরআনের মাধ্যমে।
বিশ্ব শানিত্ম প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার গুরুত্বঃ
আল্লাহর রাসূল (দঃ) যখন অবহেলিত সমাজের মুক্তির জন্য হেরা গুহায় ধ্যান মগ্ন ছিলেন। ঠিক তখন মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ তায়ালা জিব্রাইলের মাধ্যমে স্বর্গীয় বানী পাঠান, যা হলো ………… অজ্ঞাতার অন্ধাকারে নিমজ্জিত মানুষ মুক্তি দিলেন কোরআনের শিক্ষার মাধ্যমে। যদি তাদের মাঝে কোরানের শিক্ষা তাকত তাহলে তারা যুদ্দ করলে ও আগে লাভ ক্ষতি চিনত্মা করে দেখত। অন্যত্র আছে …………. বিশ্ব শানিত্ম প্রতিষ্ঠা করতে হলে মানুষের থেকে নিরক্ষতা দূর করে শিক্ষার বাহনে তুলে দিতে হবে। কারণ, জ্ঞানী হতে হলে শানিত্ম স’াপন করতে চাইলে শিক্ষার বিকল্প নেই। ধর্মীয় ক্ষেত্রে মহানবীর অবদানঃ ফলপ্রসু ইসলাম প্রচারঃ জাহেলি যুগে আরব উপদ্বীপ পৌত্তলিকতা, বস’পুজা ও ধর্মীয় কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিলেন। রিাসালতের পূর্ণ দায়িত্ব পালনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এতই সফল হয়েছিলেন যে, তারাজীবদ্দশাতেই সমগ্র াঅরব উপদ্বীপে ইসাম সার্বজনীনতা লাভ করে। কোরানের ভাষায় ঘোষিত হয়…
তাওহীদের ভিত্তিতে আদশৃ সমাজ বিনির্মানঃ- মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) সকল ধর্মীয় কুসংস্কার ও পৌত্তলিকার মূলোৎপাটন করে আল্লাহর একাত্ব বাদের ভিত্তিতে একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মান করেন। ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ রুপে প্রতিষ্ঠাঃ মহানবী (দঃ) এর জীবনের একমাত্র মিশনই ছিল দ্বীনকে আল্লাহর জমীনে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এবং তিনি তা বাসত্মবে রূপ্যয়িত করলেন। মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীনের বানী-………..

সামাজিক সংস্কারঃ
সামাজিক বৈদ বৈষম্য নির্মূল করেনঃ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) আভিজাতের গৌরব ও বংশ মযৃঅদার মূলে কুঠারঘাত করেন। মানুষে মানুষে সকল বেধাবেধ ও অসাম্য বিদূরিত করেন। তিনি ঘোষনা করলেন সকল মানুষ সমান। মানুষের মাঝে ঐ ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে, তাকওয়াবান। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানঃ আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে মানুষের জীবন ও সম্পদের কোন নিরাপত্তা ছিলনা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) জীবন ও সম্পদের জন্য একটি নতুন সামাজিক নিরাপত্তা বিধান চালু করেন। সমাজের সকল মানুষ এতে উপকৃত হয়।
দাসত্ব প্রথা উচ্ছেদ করনঃ-
বিশ্বের আপরাপর দেশের আরব সমাজে ও দাসপ্রথা চালু ছিল। মহানবী (দঃ) ভাবলেন, আ্‌লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন স্বাধীণ হিসাবে। অথচ এখানে মানুষ সমাজের দূর্বল মানুষদের গোলাম বানিয়ে রেখেছে। মানুষ পন্যেরমত বাজারে বিক্রি হত। নবী করীম (দঃ) ক্রীতদাস যায়েদ বিনা হারেছাকে প্রধান সেনাপতির দাযিত্ব দিয়ে এবং বিলালকে মুয়াযযিন বানিয়ে দাসপ্রথা উচ্ছেদ করেন। তাই তিনি ঘোষন করেন……..
নারীর মযার্দা দানঃ
জাহেলী নারীদের কোন মূল্যায়ন ছিল না। তারা ছিল ভোগের সামগ্রী। কন্যা সনত্মানদের জীবিত প্রথিতকরণ মোট কথা ছিল পুরুষদের খেলনার মতো, তাইতো মহান প্রভু ঘোষনা করেন, নবী করিম বলেন- তিনি আরো বলেন, আমার াছে তিনটি জিনিস বেশি প্রিয়, একটি হরেঅ আমার স্ত্রী। মূলতঃ সেব উদ্ধৃতির মাধ্যমে রাসূল (দঃ) নারী স্বাধণিতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠঅ করেছেন।

ইয়াতীম মিসকীণদের অীধকার প্রতিষ্ঠা করেন ঃ প্রাক ইসলামী যুগে ইয়অতীম মিসকীনদের কোন াীধকার ছিল না তিনি তাদের অীধকার প্রতিষ্ঠা করেন।
ভিক্ষাবৃত্তি মূলোচ্ছেদঃ
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) সকল মানুষকে স্বহসেত্ম উপার্জণ করার নির্দেশ দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির প্রতি নিরোৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) আরববাসীদের নৈতিক জীবনের আমূল পরিবতৃণ সাধন করেন। মদ্যপান,জুয়াখেলা, বেহায়া পনা, ব্যভিচার, সুদ, ঘুষ, লুটতরাজ, বেপর্দা ইত্যাাদিকে কোরণাী বিধানের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষনা করেন। ফলে শতাব্দীকাল ধরে প্রচলিত পাপাচার, অনাচার আরব সমাজ থেকে দূরীভূত হয়। তাই মাহন রবের দ্বীপ্তবানী———————
আদর্শ জাতি গঠনঃ
জাতি গঠনে মহানবী (দঃ) এর ভূমিকা অনস্বিকার্য। সর্বনিম্ন পর্যায়ে নৈতিক ও আদর্শিক ঐক্যমত প্রতিষ্ঠঅ করে আদর্শ জাতি গঠনের মত কঠিন কাজটি সম্পাদন করেন। ঐতিহাসিক হিট্রির ভাষায়ঃ ঞযরং ধিং ভরৎংঃ ধঃঃবসঢ়ঃ রহ ঃযব যরংঃড়ৎু ড়ভ অৎধনরধ ধঃ ধ ংড়পরধষ ড়ৎমধহরংধঃরড়হ রিঃয ৎধঃযবৎ ঃযধহ নষড়ড়ফ ধং রঃং নধংরং.
সুষ্ট শাসন ব্যবস’ার প্রবর্তনঃ সুষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠা করেন মহানবী (দঃ) মদীনায়। এ ইসলামী রাষ্ট্র মানবজাতির ইতিহাসে সর্বোত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আইনের চোখে মদীনা রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমান অধিকার ছিল।
অমুসলিমদের অধিকারঃ
রাসূল (দঃ) সামাজিকভাবে অমুসলিমদের জানা মাল, উজ্জত, অঅব্র ও ধন সম্পদের পূর্ণ সংরক্ষন করেন। মদীনা সনদ তিনি ঘোষনা করেনঃ হযরত মুহাম্মদ (দঃ) ৬২২ খ্রীঃ মক্কা হতে মদীনা হিজরত করার পর সেখানে সকল জাতির লোকদের নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত করেন।যা ঞযব পযধৎঃবৎ ড়ভ গবফরহধ নামে খ্যাক। অথবা, ঞযব ভরৎংঃ ৎিরঃঃবহ পড়হংঃরঃঁঃরড়হ, ড়ভ ঃযব ড়িৎষফ. বা প্রথম লিখিত সংবিধান। যার মাধ্যমে তিনি শানিত্ম স’াপন করতে সক্ষম হন। যার গুরুত্ব অপরিসীম।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানঃ
অর্থনৈতিক সমাধান ব্যতিরেকে ইসলাম কখনো পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস’া হতে পারে না। তাই আল্লাহর হাবীব (দঃ) অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান দিয়েছেন। দুঃখী গরীবদের জন্য তিনি যাকাত ব্যবস’া চালু করেন। মওজুদ দাবীল নিষিদ্ধতা ঘোষনা করেন এবং বলেন, “যে মওজুদ করল সে গুহানগার”। সুদ প্রথা, জুয়া, লটারী রহিত করেছেন। এবং সর্বপ্রকার শোষন মূলক ব্যবস’া চিরতরে হারামকরে অর্থনৈতিক ন্যায় চিার প্রতিষ্ঠা করেছেন। আল্লা তায়ালা বলেন,
রাজনৈতিক অবদানঃ
হযরত মুহাম্মদ (দঃ) ছিলেন সর্বকালের সেরা রাষ্ট্র নায়ক, রাজনীতিবিদ ও মনীষী। তৎকালীন সময়ে আরব সমাজে রাজণেতিক অবস’া ছিল অত্যনত্ম শোচনীয়। তিনি যুদ্ধ বিগ্রহ বন্ধ করে রাজণেতিক সি’তিীল স’াপন করেন। তাইতো বলা হয়, ঐধৎধৎধঃ (ংস) রং ঃযব মৎবধঃবংঃ ঢ়ড়ষরঃরপধষ ষবধফবৎ রহ ঃযব ড়িৎষফ.
হুদাইবিয়ার সন্ধিঃ
শানিত্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর অপর একটি পরিকল্পনা হল, হদাইবিয়ার সন্ধি। কুরআনের ভাষায় এ চুক্তিকে “ফাহহুম মুবীন” বলা হয়েছে এীতহাসিক হিশাম বলেন, ঞযব ৎবংঁষঃ ড়ভ ঃযরং ঃৎবধঃু রং ঃযধঃ যিবৎব ধং সফ. (ঝগ) বিহঃ ভড়ৎঃয ঃড় ঐঁফরনরুধয রিঃয ড়হষু ১৪০০ সবহ. ঐব ধিং ভড়ষষড়বিফ ঃড়ি ুবধৎং ষবঃবৎ রহ ঃযব ধঃঃধবশ ধঃ সধশশধয নু ঃবহ ঃযড়ঁংবহফ. ব্যক্তিগত গুনাবলীঃ হযরত মুহাম্মদ (দঃ) ছিলেন আদর্শবান এবং নিমূল চরিত্রের অধিকারী যদি তিনি সুন্দর গুনাবলী কোমল হৃদয়ের অধিকারী না হতেন তাহলে বিশ্ব শানিত্ম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো না। কুরআনের অমীয় বাণী,

মনীষীদের দৃষ্টিতে মুহাম্মদ (দঃ) উৎ. ঔড়ধফ বলেন, বি ধৎব ঃযড়ঁমযঃ ঃড় ভষু রহ ঃযব ংশু ষরশব নরৎফং ঃড় ংরিস রহ ধিঃবৎ. ইঁঃ যড় িঃড় ষরাব বি ফড়হ’ঃ শহড়.ি এর থেকে বুঝা যায়, শানিত্মময় জীবনের জন্যে হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর আদর্শের দিকে ফিরে যেতে হবে। ঞযব মৎবধঃ যঁহফৎবফ ঢ়ৎড়ঢ়যবঃ গ্রনে’ আছে, তিনি একজন অমুসলিম রাইটার হয়েও হযরত মুহাম্মদ (দঃ) কে একজন শ্রেষ্ঠমনীষীর সর্বাগ্রে স’ান দিয়েছেন।
শেষ কথা-

পরিশেষে আলোচনা প্রাপ্ত সীমানায় দাড়িয়ে একথাই মুখ থেকে বার বার প্রতিধ্বনিত হয়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) হলেন, পৃথিবীর মানুষকে শানিত্মর জয়গান শোনাতে, শানিত্মর ছোয়া ছায়া দানে একমাত্র অগ্র সেনা নায়ক। যার কাছে মানুষ এসে ব্যথাতুর হৃদয়ের প্রাণের পরশ খুজে পেত। খুজে পেত তার কাছে পরমাত্মীয়ের সন্ধান। তাইতো মানুষ সেকাল থেকে একার পর্যনত্ম এবং যতদিন মানুষ বাচবে পৃথিবী থাকবে তারই নামে দুরুদ পড়বে আর স্মরণ করবে শয়নে স্বপনে। তাইতো মহীয়ানের দ্বীপ্ত বানী মনে পড়ে এখানে।

*********************************************************************
৩।**অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক মাইজভান্ডার দরবার শরীফঃ
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ জাল্লাশানুহুর প্রতি এবং লাখো-কোটি দরুদ ও সালাম পেশ করছি পরাক্রমশালী ও দয়ালু আল্লাহর মহা সৃষ্টি আম্বিয়া কূল শিরোমণি ও রাহমাতুল্লিল আলামীণ হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর নূরানী দরবারে। আমার ভক্তিপূর্ণ ও অবনত মসতকে কদমবুসি জানাচ্ছি গাউছুল আযম শাহসুফি সৈয়দ মাওলানা আহমদ উল্লাহ (কঃ) মাইজভান্ডারী ও গাউছুল আযম ইউসুফে ছানী সৈয়দ মাওলানা গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী (কঃ) এর কদম মোবারকে। যাতে গাউসে ধনের “মাইজভান্ডার দরবার শরীফ” সম্পর্কে অধম দোয়া প্রার্থীকে উপযুক্ত জ্ঞান দান করেন। এ দরবার শরীফ উপমহাদেশের প্রধান আধ্যাত্মিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র এবং এটি কেবল একটি ত্বরীকা বা দর্শন, একটি পারলৌকিক সাধনা কিংবা একটি চেতনার নাম নয় বরং একটি মানবতাবাদী, অসামপ্রদায়িক এবং বিচার সাম্য মূলক সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রাম। অসামপ্রদায়িক ঐক্য এবং ইহ ও পারলৌকিক সাধনার মূর্ত প্রতীক। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ’ এর স্থপতি ও প্রাণ পুরুষ ত্বরীকার প্রবর্তক গাউছুল আযম শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) ও ভ্রাতুষ্পুত্র গাউছুল আযম ইউসুফে সানী সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী (কঃ) মাইজভান্ডারী দর্শনের পরিপূর্ণ রূপকার হিসেবে এ দরবার প্রতিষ্ঠা করেছেন। সবধরনের গোড়ামী ও মানবতা বিরোধী অশুভ শক্তির বিরুদ্দে একটি সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক বিপ্লব। ভৌগোলিক অবস’ানগত, ভাষাগত ও জাতীয়তার নিরিখে মাইজভান্ডার দরবার শরীফের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে। বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইমামূল আম্বিয়া নূরে মোজাচ্ছম রাসূলে করীম (দঃ) এর প্রচারিত শানি-র ধর্ম ইসলামের বাণীকে বিশ্ব মানবতার শানি-র জন্য বিবর্ত নিক ধারায় ত্বদীয় খলিফা খোলাফায়ে মাইজভান্ডারী আওলাদে রাসূল (দঃ) বা ত্বদীয় উত্তরাধিকারী গণের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রিয়নবী (দঃ) এর বেলায়াত শক্তি বিতরণের মাধ্যমে ত্রাণ কর্তৃত্ব ও কর্ম কর্তৃত্ব (গাউছিয়ত ও কুতুবিয়ত) জারি রেখেছেন। সূক্ষ্মতম ও চূড়ান্ত বিশ্লেষণে কেবল মানুষ নয়, মহান আল্লাহর সৃষ্টি সকল জীবই বিচার সাম্যের প্রত্যাশী। মাইজভান্ডারী জীবন দর্শনের এ চেতনা একদিকে যেমন মানবতাবাদী মানুষকে করেছে তুমূল আলোড়িত, অন্যদিকে তেমনি মাইজভান্ডারী সঙ্গীতের সূর বিশ্ব সংগীত জগতকে করেছে প্রভাবিত। এ মাইজভান্ডারী দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে শাশ্বত মরমী বাংলার লোক সংস্কৃতির অবয়বে নূতন রঙে নতুন ঢঙে, নতুন সুরে ও রুপে আবির্ভূত রয়েছে বিশ্বের লৌক সংস্কৃতির সুবিশাল চত্বর। মাইজভান্ডার দর্শনে ধর্ম সাম্যের যে বক্তব্য, তার বাস্তব প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয় মাইজভান্ডারী ত্বরীকার প্রবর্তক শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ)’র কর্ম কান্ডের ভেতরে। তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠি নির্বিশেষে স্ব-স্ব ধর্মে থেকে কাজ করার ও আল্লাহকে স্মরণ করার পরামর্শ দিতেন। সমপ্রদায় গত ভেদ বুদ্ধির উর্দ্বে তার কর্মকান্ড সকল সমপ্রদায়ের মানুষকে দারুনভাবে প্রভাবিত করে। এ কারনে দেখা যায় ধীরে ধীরে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ পরিণত হয়ে উঠে সকল ধর্মের মানুষের এক অপূর্ব মিলন কেন্দ্র রুপে। তাছাড়া হযরত কেবলা কাবার খলীফা নির্বাচনের প্রতিফলন সুস্পষ্ট । যেমন-হিন্দু মনমোহন দত্ত, কালাচান সাধ, কবিয়াল রমেশ শীল, বৌদ্ধ ধনঞ্জয় বড়-য়া, খ্রিষ্টান মাইকেল পেনারু প্রমুখকে আধ্যাত্ম অনুক’ল্য প্রাপ্ত সিদ্ধ পুরুষ হিসেবে পরিচিতি দান স’ান ও কালের বিচারে রীতিমত যুগান্তকারী ঘটনা মাইজভান্ডারী দর্শনের সমন্বয় ধর্মী, বিশ্বমানবতার মিলন মন্ত্রের যে বীজ রোপন করেছিলেন হযরত গাউছুল আযম মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্‌ মাইজভান্ডারী (কঃ) তার তিরোধানের পর তারই ভ্রাতুষ্পুত্র ও নয়নমনি ইউসুফে ছানী হযরত গাউছুল আযম সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী (কঃ) ফলে ফলে সুশোভিত করে বিশ্বব্যাপী পরিপূর্ণ বিকাশের ব্যবস্তা করে যথাযথ রূপদান করেছেন। বিগত শতাধিক বছর ধরে এ দরবার শরীফ পাপী-তাপী, শোষিত, নির্যাতিত, মোহান্ধ, অবহেলিত, রোগাক্রান্ত, দিশেহারা ও পথহারা নীতি হারা এবং অভাবগ্রস্ত’, দীনহীন মানবতার আশ্রয় স’ল, পথপ্রদর্শক, আল্লাহপাকের সন্ন্তোস্ষ্টি অর্জনের উপায় ও ধর্ম সাম্যের স্তুতি গেয়ে আধ্যাত্মিক লৌকিক, পারলৌকিক শানি-র ঠিকানা হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। এ দরবার শরীফে শায়িত আছেন গাউছুল আযম শাহ সূফী হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) গাউসুল আযম ইউসুফে ছানী সৈয়দ গোলামুর রহমান (কঃ) বাবা ভান্ডারী। যুগল গাউছুল আযম সহ অসংখ্য আহলাদে রাসূল (দঃ) এর আউলিয়া স’ান হিসেবেও মহিমান্বিত। বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলিম, খৃষ্টান ও ইহুদী সমপ্রদায়ের জন্য তীর্থ স’ান। কিন’ মাইজভান্ডার দরবার শরীফ জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত। প্রাণের তাগিদে, ত্রাণের তাগিদে তাই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফে।
ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলাদেশ ভূ-খন্ডের বার আউলিয়ার পূণ্য ভুমি চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবার শরীফ ধর্মের বাণী, প্রেমের বাণী ও ধর্ম সাম্যের নীতিতে প্রচারিত মাইজভান্ডারী দর্শনের এ উদার ও অসামপ্রদায়িক ঐক্যের মূর্ত প্রতীক বিশ্ববাসীকে বিতরণ করে যাচ্ছে অফুরন্ত খোদায়ী নিয়ামত। সর্বোপরি, সমন্বয়ধর্মী বক্তব্য বিশ্ববাসীর নিকট যথাযথভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হলে বিশ্ব মানবতার ও সভ্যতার বিকাশের নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। দীর্ঘকাল ধরে সূফী সাধকদের অসামপ্রদায়িক উদার মানবতাবাদী নীতি ও শিক্ষা বাঙালী জনজীবনের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিতার করে আছে, মাইজভান্ডার দরবার শরীফ তারই অন্যতম দৃষ্টান্ত। সূফী সাধকদের প্রবাহমান অবদানের ধারায় মাইজভান্ডার দৃষ্টি আর্কষণীয় ও উল্লেখযোগ্য হারে নতুন মাত্রার সংযোগ ঘটিয়েছে অসামপ্রদায়িক কর্মকান্ড দ্বারা। তাই এ দরবার শরীফে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের এক মহামিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আমরা মানবজাতির বিশ্বাস ও ইগু সম্পর্কিত ইতিহাস অধ্যয়ন করলে দেখতে পাই বিশ্বাস জনিত সংঘাতই ঐতিহাসিকভাবে এক চরম সংকট। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ক্রম:ধারায় সান-কাল, পাত্র ও বর্ণভেদে ভিন্ন ভিন্ন মত পার্থক্য গত বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে বিশ্বের কত লক্ষ-কোটি অধিবাসীকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে? তার হিসাব বের করা কঠিন। এখনো মানুষ মানুষকে হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। বিশ্বাস জনিত নানা দ্বন্দে। রাহমাতুল্লিল আলামীন ইসলামী জিহাদ যুগে প্রতিটি যুদ্ধের সেনাপতিদের পবিত্র কুরঅন্ ছুয়ে শপথ করাতেন যেন নিরীহ মানুষ হত্যা করা না হয়। (২) নারী ও শিশু হত্যা কোন অবস্থায় করা যাবে না। (৩) অসহায ও পঙ্গু ব্যক্তিদের কে হত্যা করা যাবে না। (৪) ধর্মের প্রতি চরম আঘাত না আনা পর্যন্ত বিধর্মী বা কাফেরদের প্রতি তলোয়ার চালানো যাবে না। (৫) ব্যক্তিগত আক্রোশে কাউকে অন্যায়ভাবে কতল করা যাবে না। (৬) ভূমি ধবংস, শস্যক্ষেত ধবংস বা উদ্ভিদরাজি তথা প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিপন্ন করা যাবে না। (৭) খাদ্য ও পানীয় জল নষ্ট করা যাবে না। অথচ সমপ্রতি আমাদের দেশের সীমান্ত রক্ষী গণ বাতিল ইসলামী গ্রুপের সদস্য জেএমবি দের ন্যায় পৈশাচিক ও শতাব্দীর নির্মম হত্রা কান্ড পরিচালনা করে দেশের মেধাবী,ত চৌকস ও নিবেদিত প্রাণ সেনাবাহিনীর অসংখ্য কর্মকর্তাকে কিতাবে ব্রাশ ফায়ার করতে পারল? তাদের কি একটুও বুক কাপল না? কিসের স্বার্থে সুশৃংখল সেনা কর্মকর্তাদের অমূল্য জীবন বংশ করেছিল? নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মের গূঢ় রহস্য সম্পর্কে তারা ওয়াকিফহাল আছে কি? যে প্রাণী পিঁপড়া তৈরি করতে অক্ষম সে কিতাবে আল্লাহর সৃষ্টিকে তছনছ করতে চায়? আল্লাহপাক বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতিকে ইহুদী-নাসারা চক্রের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। আমিন। ধর্মের নামে, বর্ণের নামে, জাতীয়তার নামে সংস্কৃতির নামে বর্বরতা অনাদিকাল থেকে আমাদের পৃথিবীকে অশান্ত ও বিপন্ন করেছে। হিংসা ও লোভের বিষাক্ত থাবায় বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি আদম সন্তান হত্যার শিকার হয়েছে। তারা জীবন র্দনকে জানবার, বুঝবার কিংবা উপভোগ করার পূর্বেই ঘৃণার তপ্ত আগুনে নিঃশেষ করেছে অগণিত প্রাণ। ধর্মমত বিশ্বাসে মানুষের মধ্যে দুই ধরনের সংঘাত রূপ ধারণ করে। যেমন-১. স্ব-স্ব র্ধরে কাঠামোর মধ্যে উপদলীয় কোন্দল ও হানাহানি। ২. নিজ ধর্মের প্রাধান্যতা ও অন্য ধর্মের প্রতি অজ্ঞতা প্রসূত অবজ্ঞা ও বিদ্বেষ জনিত হানাহানি। ধর্মীয় পরিমণ্ডল থেকে মানুষ নৈতিকতার শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন। অথচ ধর্মীয় পরিমন্ডলেল অন্তঃকলহ, পারস্পরিক ধর্মীয় প্রতিযোগিতার দ্বন্দ্ব, ধর্মীয় কৌলিন্যের সংঘাত সমগ্র ভাবে মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে- দাড় করিয়েছে। ধর্মের এহেন সংঘাতময় পরিস্তিতি থেকে উত্তরণের জন্য দরকার একজন খোদায়ী ছিফাত ধারী যুগ সংস্কারক। যিনি রুপে, গুনে ও কর্মকান্ডে অতুলনীয় ও অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয় গুনে গুণান্বিত হবেন। মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রাণ পুরুষ, রূপকার, দিক-পাল ও সংস্কারক হিসেবে এবং ত্রান কর্তৃত্ব ও কর্ম কর্তৃত্ব মত সম্পন্ন বুজর্গদের মধ্যেকার অসামপ্রদায়িক, ধর্ম সাম্য ও মানবতার রক্ষাকবচ নীতি বিশ্ববাসীকে দান করেছে অনুপম শানি- ও মানবিক গুনাবলী বিকাশের খনি। মহানবী (দঃ) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত রাসূল। ইসলাম ধর্ম শানি- ও মানবিক ধর্ম। আমাদের প্রিয় নবীজি কোন একক জাতি, সমপ্রদায় বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। আল্লাহ বারাক তা’য়ালা সমগ্র বিশ্ব মানবতার হেদায়েতের জন্য তাঁকে পাঠিয়েছেন, তাইতো তিনি সমগ্র জগতের জন্য রহমত বা আর্শীবাদ স্বরূপ। মানবজাতির জন্য রহমতের এ করুণাধারা ত্বদীয় বংশধর, সাহাবী ও বেলায়েত প্রাপ্ত প্রতিনিধিগণ কর্তৃক বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি আনাচে কানাচে পৌছানো হয় প্রিয়নবী (দঃ) এর বিদায় হজ্বের উদাত্ত আহ্বান। নির্দেশ ও সতর্ককারী বানী প্রত্যেকের কর্ণ কূহরে হস্তান্তরের মাধ্যমে। অতঃপর পবিত্র মদিনা মনোয়ারা থেকে দূর দূরানে-, এবং প্রত্যত্ম অঞ্চলের সর্বসাধারনের নিকট সূফী সাধকগণ কর্তৃক ইসলামের দাওয়াত প্রেরিত ও প্রচারিত হয়ে আসছে। ইসলামের চিরন্তন বাণী, শ্বাশত রূপকে সর্বসাধারণের নিকট অবিকৃতভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে পবিত্র সূফী সাধকেরা নির্মোহ ও নৈর্ব্যক্তিকভাবে যুগ যুগ ধরে ঐতিহাসিক গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটের সাথে সাথে সামঞ্জস্য রেখ স্থান, কাল ও পাত্র ভেদে প্রয়োজনে নতুন আঙ্গিকে, নতুন সূরে ধর্মের সার্বজনীন বানীকে জনসম্মুখে তুলে ধরেন নিরলস ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে এবং রুহানী শক্তি দিয়ে। সূফী গনের গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের সুমহান ধারায় মক্কা-মদিনার পবিত্র ভূমি থেকে মধ্য প্রাচ্য হয়ে গাউছুল আযম শায়খ সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল কাদের জিলানী আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী (রাঃ) থেকে ভারত বর্ষে সুধীদের ধারা এসে স্থানীয় প্রেক্ষাপট নতুন আঙ্গিকে, উপস্থাপনার কায়েদার, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। আজমীর শরীফে হিন্দের ওলী আতায়ে রাসূল গরীবে নেওয়াজ খাজা মইনুদ্দীণ চিশ্‌তী (রঃ) এ ধারায় বাংলাদেশে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রঃ), হযরত শাহ পরান (রঃ) চট্টগ্রামে বার আউলিয়া সহ অসংখ্য সূফী সাধকের আগমন ঘটে। কয়েক শতাব্দী ধরে চট্টগ্রামের মাটিতে এ সমস্ত সূফী সাধকদের উপস্থিতি, সাধনা, ওফাতের পর তাদের মাজার শরীফকে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিক সাধনায় নতুন যাত্রা যোগ হয়ে চট্টগ্রামের লোক সাহিত্যের ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মাহত্ন শরাফত সুফিবাদের ইতিহাসে যুগান্তকারী ও এক বিপ্লবী রূপান্তরের সূচনা করে। যেমন যেমন ধর্ম গত বা জাতিগত বিভাজন নয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষকে এক সৃষ্টি কর্তার বিশ্বাসী সকল আদম সন্তানকে একই পতাকাতলে সমবেত করার বক্তব্য নিয়েই শুরু করে মাইজভান্ডারিয়া ত্বরীকা ও দর্শন। এ দর্শণ ও ত্বরীকার প্রবর্তক গাউছুল আজম শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) এর নিকট প্রথম জীবনে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর লোকজনের আগমন ঘটলে, ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হবার ইচ্ছা পোষণ করলে তিনি বলতেন স্ব-স্ব র্ধমে থাকুন নিজ নিজ ধর্মে থেকে সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করুন। ধনঞ্জয় বড়-য়া নামক একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভক্ত জাহেরী জবানীতে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে চাইলে হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) বলেছিলেন “তুমি তোমার ধর্মে থাক! আমি তোমাকে মুসলমান বানালাম।” সচরাচর আমরা যা দেখি তা হল একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ধর্মীয়, নৈতিক ও মানসিক প্রশান্তি-ও অন্বেষণে মন্দিরে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বৌদ্ধ মন্দিরে, খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী গীর্জায় ও মুসলিম ধর্মাবলম্বী কেবল মসজিদে গমন করে পবিত্রতা অর্জন করার লক্ষ্যে। পক্ষান্তরে বল প্রয়োগ করেও একজন মুসলমানকে গীর্জায় বা মন্দিরে, বৌদ্ধ ভিক্ষুককে মসজিদে কিংবা হিন্দু ব্রাহ্মণ বা ধর্মগুরুকে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে গমনে বাধ্য করা যায় না বরং তা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভবও না। অথচ মাইজভান্ডার দরবার শরীফে অবাধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান বা উপজাতি গোষ্ঠী মহাতীর্থ স্থান রুপে গণ্য করে স্ব স্ব ধর্মের স্বকীয়তা বজায় রেখে মহান গাউছুল আজমের দরবারে সর্বপ্রকার উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য হাজিরা দিয়ে আসছেন শতাধিক বছর ধরে। কথিত আছে একদা ফটিকছড়ির শুয়াবিল এলাকার এক চাষা তার পেপে বাবাজান কেবলার জন্য নিয়ে যাবেন। কথামত বসনে-র এক দুপুর চাষা ২/৩টি বড় আকারের পেপে ঝুড়িতে করে বাবা জান কেবলার দরবারে আনার পথে গুরুদাস নামক বাবা জানের ভক্ত (এক হিন্দু সন্ন্যাসী) ঐ চাষার ঝুড়িতে থাকা পেপের একটি তাকে দিতে ধমক দেন। তারপর বাবা জানের দরবারে পেপে নিয়ে চাষীকে হাজির দেখে মুচকি হেসে বাবা জান চাষীকে বললেন-তুমি আমার গুরুদাস পাগলকে একটি পেপে দিয়ে আসতে পারতে। সেতো দুটো পেপের ফলই খেয়ে ফেলেছে। তুমি পেপে কেটে দেখ ভেতরের শাস সে খেয়ে ফেলেছে। যথারীতি পেপে কাটারপর দেখা গেল চামড়া বাইরে অবিকল আছে অথচ ভেতরের পাকা অংশ নেই। ঐ ঘটনার পর গুরুদাস পাগলা, গুরুদাস ফীকর নামে পরিচিতি লাভ করেন। সুক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় মাইজভান্ডার দরবার শরীফ অসামপ্রদায়িক ঐক্যের এক মূর্ত প্রতীক হিসেবে ধর্ম সাম্যের বক্তব্য নিয়ে আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে মানবতার জয়গান এ মুখরিত হিন্দু, মুসলিম বৌদ্ধ, খৃষ্টান সকল জাতির জন্য এক অপূর্ব মিলন কেন্দ্র। বিগত শতাধিক বছর ধরে এ দরবার শরীফ রীতিমতো এক সমন্বয় ধর্মী ঐতিহ্যের সৃষ্টি করেছে। এ দরবারের দুই মহান আধ্যাত্মিক পুরুষের শানে বা মাহাত্মে বর্ণনায় রচিত কয়েক সহস্র মাইজভান্ডারী গানের শিল্পী ও গীতিকার গন নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যেই সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি ও শানি-পূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে সঙ্গীত সাধনা করেছেন। তাদের মধ্যে মাওলানা আবদুল গণি কাঞ্চন পুরী, মাওলানা আবদুল হাদী, করিম বক্স, কবিয়াল রমেশ শীল,মনমোহন দত্তের নাম উল্লেখযোগ্য। আল্লাহ জাল্লাশানুহু সুরা আনামের ১৬২ নং আয়াতে কারীমায় ঘোষনা দিয়েছেন “বল নিশ্চয় আমার প্রার্থনা, আমার উৎসর্গ ও আমার যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আমার জীবন ও আমার মরণ জগত্সমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।পবিত্র কুরআন এর অন্যত্র বলা হয়েছে-“যারা বিশ্বাস করে, যারা ইহুদী এবং খৃষ্টান ও সাবিঈন, যারাই আল্লাহ ও শেষ দিবসে (কেয়ামত) বিশ্বাস করে ও সৎ কাজ করে তাদের জন্য পুরস্কার, তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে। তাদের কোন ভয় নেই, এবং তারা দুঃখিত ও হবে না। ” হযরত শায়েখ আকবর ইবনুল আরবীর (১১৬৫-১২৪০ খঃ) এর মতে “প্রেমই যাবতীয় ইবাদতের ভিত্তি”। মৌলানা জালালুদ্দীন রুমী (রঃ)র মত হল “সমস- সৃষ্টির মূলে রয়েছে প্রেম। প্রেমের রাজা সকলকে স্বাগতম জানাচ্ছে। “প্রেম সমপ্রদায় দুনিয়ার সমস- সমপ্রদায় হতে ভিন্ন।” যারা আল্লাহর প্রেমিক তাদের জন্য একমাত্র আল্লাহ-ই তাদের সমপ্রদায় এবং আল্লাহ-ই তাদের ধর্ম” এখানে হিন্দু মুসলিম, বৌদ্ধ খৃষ্টানের কোন ভেদাভেদ নেই কোন আপন পর পার্থক্য জ্ঞান নেই। মাইজভান্ডার দরবার শরীফে সব ধর্মের বিচার সাম্যের মরমী সূর শতাব্দীর অধিক সময আল্লাহর সৃষ্টি জগতের জন্য প্রবাহমান রয়েছে এবং কিয়ামত অবধি এ সিল সিলার ধারক ও বাহক গনের মাধ্যমে চলমান থাকবে। এ কথা সহজেই অনুমেয়। সর্বোপরি, এ দরবার শরীফের খলীফা বৃন্দ ও খেলাফত প্রাপ্ত আওলাদদের ভেতর দিয়ে অর্গল মুক্ত ঐশী প্রেমের বাণী বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে।
পরিশেষে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মাইজভান্ডারিয়া ত্বরিকায় ধর্ম-সাম্য ও অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেম বাদের ঘোষণার মধ্যে মূর্ত ঐক্যের অসামপ্রদায়িক বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে অতি সুন্দর ও সাবলীল জীবন ঘনিষ্ঠভাবে। যে কারণে এ দরবারের যুগল গাউছুল আজমের জীবদ্দশায় মুসলমান শিষ্যের পাশাপাশি হিন্দু বৌদ্ধ, খৃষ্টান স্ব-স্ব ধর্ম কাঠামোর মধ্যে থেকে এ ত্বরীকা ও ধর্ম থেকে স্ব-স্ব আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য প্রয়োজনিয় উপকরণ অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। যেমন-কবিয়াল রমেশ শীল গেয়ে উঠেছিলেন-“মাটির মূর্তির পূজা ছেড়ে মানুষ পূজা কর, সপ্ত দ্বীপ, আঠার আলম মানুষের ভেতর। ছাড় আভিজাত্যের খেদ, মানুষে মানুষে নাই জাতের ভেদাভেদ, ঘুচিলে মানুষের প্রভেদ দেখবি গুরু তার ভেতর।” অন্যত্র লিখেছেন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খৃষ্টান সকল ধর্মের এক কথা, নীতি রদ বদল মাত্র গন্তব্য স্থনে দুটি কোথা?”
*****************************************************************************************
৪।**মাজার শরীফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা শরীয়ত সম্মতঃ
ইব্‌নে তাইমেয়া নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম)এর রওজা মোবরক জিয়ারত করার উদ্দেশ্য সফর করাকে শিরক বলে অভিহিত করেছে। সে ছিল খারেজি সমপ্রদায় ভূক্ত। যুল খোয়াইছরা নামক জনৈক মুনাফিকের বংশে তার জন্ম। তার অনুসারী নজদের কুখ্যাত মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওহাব নজদী ও ভারতের মুরতাদ মৌলভী ইসমাঈল দেহলভী এবং তাদের অনুসারীগণ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করাকে হারাম বলে মনে করেন। এরা ভ্রান- ও গোমরা অর্থাৎ পথভ্রষ্ট। আউলিয়া-এ কেরামের মাজার শরীফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা শরীয়ত মতে জায়েজ ও সুন্নাত। জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর বলতে আমরা বুঝি জীবিত ও পরলোক গমন করেছেন এবং নবী, রাসূল, অলী, পিতা-মাতা অপরাপর মুসলমান নর-নারীর কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে গমন করাকে বুঝায়। (ওহাবী মজহাব জাওয়াহিরুল বিহার) সফরের উদ্দেশ্যে ও উপলক্ষ মোতাবেক ফসফরের হুকুম হয়ে থাকে। সফর পাঁচ প্রকার। যথাঃ ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, মোবাহ, হারাম। ১। উপলক্ষ যদি ওয়াজিব হয়, তাহলে এর জন্যে সফর করাও ওয়াজিব। যেমন। মান্নতি হজ্ব ওয়াজিব, সুতরাং এর জন্যে সফর করাও ওয়াজিব।
৩। উপলক্ষ যদি সুন্নাত হয়, তাহলে এর জন্যে সফর করাও সুন্নাত। ৪। উপলক্ষ যদি মোবাহ বা জায়েজ হয়, তাহলে এর জন্যে সফর করাও মোবহ এবং জায়েজ। যেমন-ব্যবসা বাণিজ্য ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে সাক্ষাতের জন্যে সফর করা।
৫। উপলক্ষ যদি হারাম ও নাজায়েজ হয়, তাহরে এর জন্যে সফর করাও হারাম ও নাজায়েজ। যেমন- চুরি করার জন্যে সফর করাও হারাম। যেহেতু চুরি করা অবৈধ ও মন্দ কাজ যেমন- উপরোক্ত শরীয়তের বিধান অনুযায়ী ওরশ শরীফের জন্যে সফর করা সুন্নাত। কেননা ওরশ শরীফে অংশ গ্রহণ করা জিয়ারতের উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে। কাজেই মাজার শরীফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কুরআন শরীফ. হাদীস শরীফ ও ফকিহসমূহের বিধি সম্মত এবং রাসূল পাক (দঃ) ও আউলিয়া-এ-কামেলিনদের সুন্নাত। সুতরাং এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে পাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেছেন- অর্থাৎ জলিলুল কদর পয়গাম্বর হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম) স্বীয় খাদেম ইউশা ইব্‌নে নূনকে সঙ্গে নিয়ে রোম ও পারস্য সাগরের মিলনায়তনে হযরত খিজীর (আলাইহিস সালাম)র নিকট হতে মরেফাতের বিদ্যা শিক্ষার জন্যে সাক্ষাত করে ছিলেন। সূরা কাহাফ, পারা-১৫, আয়াত-৬০) উল্লেখ থাকে, হযরত মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)র নিকট এ সাক্ষাতের নির্দেশ মূলত মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকেই ছিল। তাই উক্ত ঘটনা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, পূণ্যাত্মাদের সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে উপকৃত হওয়া স্বয়ং আল্লাহরই নির্দেশ। আউলিয়া এ কামেলিন এবং পূণ্যাত্মাদের মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্য সফল প্রসঙ্গে রাসূল পাক (দঃ) র বিশিষ্ট সাহাবী ও একনিষ্ঠ খাদেম হযরত আনাস বিন মালেক (রাদ্বিয়াল্লঅহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- দোজাহানের সরদার নবী করীম (দঃ) প্রতি বৎসরের প্রারম্ভে গমন করতেন। সেখানে তশরীফ নিয়ে তাদেরকে সম্বোধন করে বলতেন, হে শহীদগণ! তোমরা দৈর্য ধারণ করছ বিধায় তোমাদের ওপর শানিত্ম বর্ষিত হোক, তোমাদের জন্য পরকালের বাসস’ান কতই উত্তম। ইসলামের চার খলিফা ও অনুরূপ ভাবেই জিয়ারত করতেন। (তাফসীল কবির-৫ম খন্ড ২৭ পৃষ্ঠা, তাফসীর দোররে মানসুর ওয়াউল ওফা ২য় খন্ড ১১২ পৃষ্ঠা, ফাতেয়া-এ-শামী-১ম খন্ড ৬৬৫ পৃষ্ঠঅ দ্রষ্টব্য)। উল্লেখিত কোরান ও হাদীস শরীফ দ্বারা মাজার জিয়ারতের জন্যে সফর করা, প্রতি বৎসর ওরশ শরীফ পালন করা স্বয়ং শরীয়তের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (দঃ) ও খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাত হিসেবে উজ্জ্বল দৃষ্টান- ও প্রমাণ বহন করছে। বিশ্ব বরেণ্য হানাফী মজহাবের ফতোয়ার কিতাব দোররুল মোখতার নামক গ্রনে’র ভূমিকায় উল্লেখ আছে যে, শাফেয়ী মজহাবের প্রবর্তক ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) স্বীয় জন্মভূমি ফিলিসি-ন হতে বাগদাদের কুফা শহরে সফর করে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)র মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করে আসতেন ইমাম শাফেয়ী বলতেন; অর্থাৎ আমি ইমাম আবু হানিফা (রাঃ) হতে বরকত গ্রহণ করে থাকি এবং তার মাজার শরীফে আসি। আমি কোন সমস্যার সম্মুখীণ হলে তার মাজারের পার্শ্বে দুরাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহ তালার দরবারে তার উসিলায় সমস্যার সমধান প্রার্থনা করলে তা অতি সত্তর ফল পাওয়া যায়। উল্লেখ্য যে, ইমাম শাফেয়ী (রাঃ) এর ভাষ্য মতে মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা অলী আল্লাহদের মাজার হতে বরকত গ্রহণ করা ও পার্থিব জীবনের সমস্যার সমাধান চাওয়া এবং এতে ফল প্রসূ হওয়া দিবা লোকের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। সুতরাং যারা এ পূর্ণময় কর্মকান্ডকে শিরক, বিদায়াত ও হারাম বলে আখ্যায়িত করে নিঃসন্দেহে তারা নবী অলীর প্রকাশ্য শত্রু। আল্লাহ তাদের সকলকেই এ সমস- পথ হারা পথভ্রষ্ট দুশমনদের খপ্পর থেকে দ্বীন ও ঈমান হেফাজত করুন। আমিন।
**************************************************************************
৫।**আত্মিক উৎকর্ষ সাধনে মাইজভান্ডারী সূর সংগীতের প্রভাব
ইসলাম হচ্ছে সর্ব কালের সকল জিজ্ঞাসার জবাব। সকল সমস্যার সমধান। তা হচ্ছে একটি বিপ্লবী ঘোষনা। একটি সদা-সক্রিয় সু-সংগঠিত ও জীবন- আন্দোলন। মুসলমানরা হচ্ছে এ আন্দোলনের মুজাহিদ। বাহ্যিক ও আত্মিক দুটি ধারা প্রবাহে রয়েছে এ আন্দোলনের সার্থকতা এবং উভয় ধারার সমন্বয়ে মানব জাতির দিক দর্শন ও সংস্কার কার্যে যিনি আত্মোৎসর্গ করেন তিনি মুসলিম মনীষী রুপে ইসলামী সমাজে সমাদৃত। কুরআন সুন্নাহ, ইজমা কিয়াস এর ভিত্তিতে পরিচালিত উক্ত আন্দোলন বা পথ ও মতের কর্মধারা হবে ইসলামী সংস্কৃতির বাহন। এক্ষেত্রে তৌহিদ, ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, জিহাদ ঈদুল-আযহা, ঈদুল ফিতর উদযাপন, শবে মে’রাজ, শবে বরাত, শবে কদ্বর, ঈদে মিলাদুন্নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আশুরা, ওরশ শরীফ, ওয়াজ মাহফিল, দরুদ, মীলাদ, জিকির-আযকার, জন্ম, মৃত্যু, কুরবানী, বিবাহ, খৎনা, ইসলামী সংগঠন ইত্যাদি যেমন ইসলামী সংস্কৃতির ধারক বাহক ও বাস-ব রূপ, তেমনি জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, সাহিত্য, সং্‌গীত চর্চা, বক্তৃতা, চিত্রকলা, স’াপত্য, ভাস্কর্য, নৃত্য নাটক ইত্যাদিও ইসলামী সংস্কৃতির পরিপন’ী নয় বরং তা যদি ইসলামী নীতিমালার গন্ডীর ভিতরে থাকে তাহলে তা ইসলামী সংস্কৃতির অপরিহার্য অঙ্গও বটে। সংগীতের বেলায়ও যে সংগীত বা গান বাদ্য রাসূলে করীম (দঃ) কর্তৃক সমর্থিত, আউলিয়ায়ে কেরাম কর্তৃক আমলকৃত, যা ইসলামী ভাবধারায় প্রস্ফুটিত এবং আল্লাহ ও রাসূল (দঃ) এর প্রেম বর্ধক তা ইসলামী সংগীত হিসেবে ইসলামী সংস্কৃতিতে দৃশ্যমান। উদ্দেশ্য ভেদে সংগীত বৈধ ও অবৈধ হওয়া ন্যায় সঙ্গত। কিন’ তকে সম্পূর্ণ রুপে হারাম বা নিষিদ্ধ বলা যায় না। কেননা বহু সহীহ হাদীস শরীফে গান বাদ্য সম্পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে। বহু আউলিয়ায়ে কেরাম নির্মল সংগীত প্রিয় ছিলেন। যে সংগীত বা গান বাদ্যের দ্বারা মন গলে, বিনয় ও নম্রভাব, আল্লাহ তায়ালঅর নৈকট্য ও সাক্ষাত মিলন লাভের আগ্রহ, তার বিরহ, অসন’ষ্টি ও আজাবের ভয় অন-রে উদিত হয় উপরন’ আল্লাহ ও রাসূল (দঃ) এর প্রতি মহব্বত বাড়ায় দুনিয়ার মহব্বত কমিয়ে দেয় এবং পবিত্র আনন্দ দান করে এরূপ সংগীত বা গান গজল বৈধ ও উত্তম। আর এরূপ গানের সাথে বাজনাও বিধেয়। পক্ষান-রে যে সংগীত বা গান বাজনার দ্বারা আল্লাহ ও রাসূল (দঃ) প্রতি ভাব হতে বিরত বিরত রাখে, এবং অন-রে কু-ভাব, কু-ধারণা সৃষ্টির মাধ্যমে বিপথগামী করে তথা অশ্লীতাপূর্ণ তা সর্ববাদী সম্মত অবৈধ ও হারাম। আর সঙ্গত কারনেই ঐ রূপ গানের সাথে বাজনাও হারাম। কেননা নিয়ত বা উদ্দেশ্য ও প্রযোগ বিধি অনুসারে প্রত্যেক কাজ কর্মেরই উত্তম অধম, ভাল-মন্দ, হালাল হারাম দিক রয়েছে। তাই হাদীস শাস্ত্রের সর্ব প্রথম গ্রন’ বুখারী শরীফের সর্ব প্রথম হাদীসে পাক হলোঃ ইন্নামাল আ’মালু বিন নিয়াত” অর্থাৎ অবশ্যই কর্মের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর ইসলামী আইনের ক্ষেত্রে একটি সাধারন আইন হলোঃ আল ইমুরু বে মাক্বাদ্বেদেহা” অর্থাৎ “সমস- কার্যের হুকুম নিয়ত বা উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে। সুতরাং সৎ উদ্দেশ্যে সংগীত বা গান বাজনা হালাল এবং অসৎ উদ্দেশ্যে হারাম। অসৎ উদ্দেশ্যে শুধু গান বাজনা কোন কোরআন তিলাওয়াতও হারাম। (এহইয়াউলুমুদ্দিন, ইমাম গাজ্জালী) এমন কি ফরজ ইবাদত, নামাজ, রোজা ও শরীয়তের কারণ বা অবস’া মোতাবেক কখনো কখনো হারাম হয়ে যায়। মাইজভান্ডারী সংগীত বলতে ইসলামী মরমী বা ভক্তি মূলক সংগীতকে বুঝায়। আল্লাহ রাসুল ও পীর অলীদের শানে এবং তত্ত্ব জ্ঞানপূর্ণ ইসলামের মর্মকথা সূর ছন্দে প্রকাশ করাই মাইজভান্ডারী সংগীতের মূল বৈশিষ্ট। মাইজভান্ডারী সংগীত স্রষ্টা প্রেম, নবী প্রেম, মুর্শিদ প্রশানিত্ম ও ভক্ত প্রাণের অন-র মথিত করা আকুতি বিধৃত। মূলতঃ “ইশকে হাকীকী” তথা খোদা প্রেমের আবেগ সংগীতগুলো সংকৃত। মাইজভান্ডার গ্রাম থেকে মাইভান্ডার শরীফ, মাইজভান্ডার শরীফ থেকে মাইভান্ডারী ত্বরীকা, মাইজভান্ডারী ত্বরীকা থেকে মাইজভান্ডারী সংগীত যে দুইজন আধ্যাত্ম মহা পুরুষের বদৌলতে উদ্ভাবিত হয়েছে তারা হলেন লক্ষ কোটি আশেক ভক্তের প্রাণের ধন, প্রাণের কেবলা, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ আল হাসানী প্রকাশ হযরত কেবলা আল মাইজভান্ডারী (কঃ) ও গাউছুল আজম শায়খে ফা’য়াল শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান আল হাসানী প্রকাশ বাবাভান্ডারী কেবলা (কঃ)। এই যুগে শ্রেষ্ট দুই মহান সাধকের বিস্ময়কর সৃষ্টি মাইজভান্ডারী ত্বরীকা এবং বিস্ময়কর প্রভাব ও সম্মোহনী শক্তি স্বরূপ মাইজভান্ডারী সংগীত আপামর জন সাধারনকে স্রষ্টার প্রেমে উজ্জীবিত এং আত্ম সম্পূর্ণ ও আত্ম সংশোধন ও আত্মার বিপ্লব সাধনের মহা মন্ত্রে দীক্ষিত করেছে। মাইজভান্ডারী সংগীত আজ হতে প্রায় ‘শ’ দেড়শ বছর পূর্বের নতুন ও অপরিচিত কোন বিষয় নয়। মাইজভান্ডারী সংগীত তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সূর, তাল-ছন্দ নিয়ে সংগীত অঙ্গনে আলোময় স’ান করে নিয়েছেন। সূরের দেশ, গানের দেশ, বাউলের দেশ এই বাংলাদেশ। সবুজ শ্যামল পল্লীর দেশ ও দেশের মানুষের চলন, বলন ও মননের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সমপূর্ণ ইসলামী ও আত্যাত্মিক ভাব ধারায় মাইজভান্ডারী সংগীত বাংলাদেশের সংস্কৃতির এমন কি ইসলামী সংস্কৃতির এক মহা সম্পদে পরিণত হয়েছে। মাইজভান্ডারী সংগীত কিভাবে মানুষকে আল্লাহর প্রেম মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তুলে এবং মাইজভান্ডারী সংগীত মানুষের মনে কেন এবং কিরূপ প্রভাব পড়ে তা সুদুর প্রসারী আলোচনা প্রয়াস রাখে। মূলতঃ সঙ্গীত বলতে গান এবং বাদ্য যন্ত্রাদীর ঝংকারের মসষ্টিকে বুঝায়। তাল মান লয়সহ বিভিন্ন সূরের বাহনে ভাবের বহিঃপ্রকাশই সঙ্গীত। সাধারনত দুটি শ্রেণীতে সঙ্গীতকে বিভক্ত করা হয়েছে।
(১) কন্ঠ সঙ্গীতঃ এই সঙ্গীতে কণ্ঠস্বর প্রাধান্য লাভ করে। কিন’ বাদ্য যন্ত্রের ধ্বনি কণ্ঠস্বরের সাহায্যকারী হিসেবে থাকতে পারে। (২) যন্ত্র সংগীতঃ এই সঙ্গীতে কণ্ঠস্বর নেই, শুধু আছে বাদ্য যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়মিত ভাবে সূরের অপূর্ব খেলা। কন্ঠের যা যন্ত্রের আওয়াজ বিশেষ ভঙ্গিতে উচ্চ এবং নিম্ন ক্রমে আল্পুত ভাবে প্রকাশই সূরের খেলা। গানের প্রাণ হলো সূর। নিত্য-নতুন মহিমার অধিপতি জগতে স্রষ্টার অপূর্ব কৌশলে মানবের হৃদয় সাগরে প্রতি নিয়ত যে কত রূপ ভাব তরঙ্গের উত্থান-পতন হচ্ছে তার কোন সীমা সংখ্যা নেই। সাগর তরঙ্গ সংকুলান না হলে স্বভাবতই তাতে যেমন একটি কল্লোলের বা ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তদ্রুপ মানবের হৃদয় সাগরেও ঐ সকল ভাব তরুঙ্গের উত্থান-পতনের যে কল্লোল বা ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়ে থাকে তাকেই সূর বরা হয়। আর সূরের ধর্ম হলো স্বীয় সম্মোহীন শক্তি দ্বারা অনত্মরকে আকৃষ্ট করা। বিভিন্ন ভাবানত্মরের সৃষ্টি করে। এ জন্যই দেখা যায় কোন কোন সূর সঙ্গীত পরিবেশনে শ্রোতা আনন্দিত হয়, কোনটিতে অশ্রু বর্ষণ করে, আবার কোনটিতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আবার কোন কোন সূর সঙ্গীতে শ্রোতা ভাবে বিভোর হয়। তাছাড়াও লক্ষ করা যায় অনত্মরাত্মা যখন দু:খ তরঙ্গে আলোড়িত হয় তখন কষ্ট দিয়ে যে সূর নির্গত হয় তা দু:খ ব্যঞ্জক, আর হৃদয় সুখ তরঙ্গে উদ্বেলিত হলে তখন যে সূর নির্গত হয় তা মনোহর ও আনন্দ চিত্ত হয়ে থাকে। মানুষ স্বভাবতই সূর প্রিয়। সুন্দর ফুল দেখলে দৃষ্টি যেমন সে দিকে নিবন্ধ হয়, সূর শ্রবণে অনত্মরও তেমন আকৃষ্ট হয়। পবত্র কোরআনে করীমও সুন্দর, সুললীত, মার্জিত সূরে পাঠ করার নির্দেশ রয়েছে। যেমন হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছেঃ “লাইছা মিন্না মানলাম ইয়াতাগান্না বিল কোরআন” অর্থাৎ যে কোরআনকে সুললীত সূরে পাঠ না করে সে আমাদের দলভূক্ত নয়।” অর্থাৎ তোমরা কোআনকে তোমাদের কণ্ঠস্বর দ্বারা অলংকৃত কর। পবিত্র কোরআন শরীফের প্রতি গভীর দৃষ্টি দিলে দেখা যায় তা কবিতার ছন্দে বর্ণিত এবং ছন্দ ও সূরের মাধ্যমে পাঠ করার নির্দেশ দানের উদ্দেশ্য হলো; সূর বিহীন কর্কশ ষ।ভলৈ কালঅমে পাক পাঠ করলে শ্রোতার মন বিষায়িত হয়ে উঠতে পারে এবং পাক কালামের সৌন্দর্য্য এবং মহাত্ম খর্ব তথা অবমাননা করা হবে। মানব হৃদয়ের সাথে সূরের বন্ধন খুব অমীয় ও নিবিড়। মানব মাত্রই বিরহী বিরহ থেকে আসে ভাব এবং ভাবের বহি:প্রকাশই হলো সূর। সূফী কুল শিরমনি মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমী (রাহঃ) বিশ্ব বিখ্যত “মসনবী” শরীফের সূচনা করেছেন মানব বিরহের কাহিনী কর্ণনার মাধ্যমে। যেমন মসনবী শরীফের প্রথম শ্লোক হচ্ছে: অর্থাৎ বাঁশরী কি অবস’া বর্ণনা করতেছে কান পেতে শুন! সে বাঁশী বিরহ বিচ্ছেদের অভিযোগ করতেছে।” এখানে বাঁশী বলতে মানুষের রূহকে বুঝানো হয়েছে। রূহ হলো পবিত্র ও নূরানী জিনিস। তাঁর আদি বাস “আলমে আরওয়াহ” রুহের জগতে বিরহ বিচ্ছেদ বলতে রুহের জগত হতে মানব দেহে অবস’ানের কথা বলা হয়েছে। রুহ চিল সম্পূর্ণ পুতঃপবিত্র ও স্বাধীন। কিন’ মানব দেহে এসে পার্থিব কামনা বাসনা তথা দুনিয়ার মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে পরাধীনতার শৃংখলে বন্দী হয়েছে এবং উর্ধ্ব জগত হতে তথা ঐশী সত্ত্বার সান্নিধ্য হতে রুহ নিম্ন জগতে তথা এ ধরাধামে অবতরণ করেছে। সূফী সাধক, পূণ্যাত্মা মহা মনীষীগণ যাদের অন-র দৃষ্টি প্রখর ও কামেল পীরের দিক্ষা ও ছোহবতে অন-র হতে গাফলতির পর্দ্দা অপসারিত হয়েছে তারাই হৃদয় বা আত্মার বিরহ বিচ্ছেদ অনুভব করতে পারেন। আর যে মানব তা উপলদ্ধি করতে পারে না তাকে ধিক্কার দিয়ে সূফী সম্রাট রুমী (রহঃ) বলেন বাশীর (আত্মার) এই সূর অগ্নি সুলঙ্গ; মৃদু সমীরণ নহে, এই অগ্নি যার মধ্যে নেই তার মৃত্যু শ্রেয়।” সূফী সম্রাট রুমী (রহঃ) মানবাত্নাকে বাশীর সাথে তুলনা করার একাধিক কারণ রয়েছে। যেমন তিনি আহলে ছেমা বা গান বাদ্য প্রিয় ছিলেন। বাশীর সূর শুনলেই তার আজদ বা ভাবাবেশ অবস’া দেখা দিত এই অবস’ায় তিনি ইন্দ্রীয় জ্ঞান বর্হিভূত অনেক কিছু দেখতে, জানতে ও শুনতে পেতেন। তার থেকে প্রবর্তিত ত্বরীকার জ্ঞান হলো: মৌলভীয়া তরীকা’ এই তরীকায়ও গান বাদ্যের মাধ্যমে ঐশী প্রেমে বিভোর হওয়ার প্রচলন আছে। তাছাড়া মানবাত্মাকে বাশীর সাথে তুলনা করার বিশেষ বিশেষ কারণ হচ্ছে; বাশী ছয় ছিদ্র বিশিষ্ট হয়ে থাকে এই ছয় ছিদ্র দিয়ে ছয় প্রকার রাগ বা সূর নির্গত হয়। এক একটি রাগ এক একটি জিকিরের সমতালে ধ্বনিত হয়। তদ্রুপ মানুষের হৃদয় রাজ্যে ছয়টি লতিফা রয়েছে। ক্বলব, রুহ, ছের, খকি, আখফা ও নফছ এই ছয়টি লতিফা বা ষড় পদ্ম মানুষের অভ্যন-রে বিরাজমান আছে। ত্বরীকত সাধনা ও মুর্শিদের সাহায্যে লতিফা গুলোর পরিশুদ্ধি লাভ করে জিকির জারি হয়ে থাকে। সঙ্গীতের ছয় রাগ তা সূরের সাথে ছয় জিকিরের গল মিলে বলেই সঙ্গীত শ্রবণে হৃদয়বান মানুষের হৃদয় অপূর্ব অবস’ার প্রকাশ পায়। শিশু সন-ান যেমন পিতাকে খুজে না পেলে বাবা, বাপ, আব্বা ইত্যাদি বলে ক্রন্দন সুরে ডেকে তালাশ করতে থাকে। আল্লাহ প্রেমিক হৃদয়বান মানুষও তদ্রুপ আল্লাহ তায়ালা হতে বিচ্ছেদের অনুভূতি জাগ্রত হওয়ার পর হৃদয়ে বিরহ অনল সতেজ হয়ে তাদের হৃদয়সি’ত ছয় লতিফা হতে আল্লাহ সম্বোধন সূচক ছয়টি জিকির ছয় রাগের সহিত সমতালে ঘোষিত হয়ে থাকে। আর এ জন্যই মাওলানা রুমী (রাঃ) মানবাত্মা বা হৃদয়কে খোদায়ী বাশরী বলে আখ্যায়িত করেছেন। কেননা বাশী যেমন ফুৎকারের মাধ্যমে তার ক্রিয়া প্রকাশ করে তদ্রুপ আল্লাহপাকও মানব দেহে রুহ ফুকেছেন যেমন কোরআন পাকে বর্ণিত হয়েছে “ফানাফাখতু ফিহী মির রুহী” অর্থাৎ তার ভিতরে আমার থেকে রুহ ফুকলাম। আর তখনই মানবের ইন্দ্রীয় ক্রিয়ার বিকাশ ঘটল। প্রকৃতপক্ষে বাসত্মবিকই! সূরের ভিতর যে একটি আস্বাদ বা গুণ বর্তমান আছে তা সহজেই অনুমেয় এবং তা অস্বীকারও করা যায় না। সূরের মধ্যে যদি কোন রকম স্বাদ বা গুণ বর্তমান না থাকত তাহলে উহা অন-রকে আকৃষ্ট করতে পারত না। ক্রন্দনরত শিশু সুরের ঝংকারে সম্মোহিত হয়ে ক্রন্দন ভুলে যায়। কৃষক পল্লী গীতির সূর সুধা পানে ক্লানি- দূর করে। অন্ধকারে সঙ্গীহীন পথিক মন থেকে ভূতের ভয় দূর করার জন্য সুখের জাল বিস-ার করে। সূরের বারিধারায় শোকাতুরের শোকাগ্নি নির্বাপিত হয়। আর মহা সত্যের (স্রষ্টার) প্রেমিক তাপস সুরের পাখায় ভর করে আধ্যাত্মিক পথে ধাবিত হয় প্রিয়তমের মিলনে তীব্র আকাংখা বুকে নিয়ে। সূর যে কেবল মানব অন-রকেই আকৃষ্ট করে তা নহে তা জীব জন’র অন-রকেও প্রভাবিত করে। যেমন হযরত দাউদ (আঃ) যখন সুমিষ্ট সূরে “জাবুর” কিতাব পাঠ করতেন সেই সূরে মুগ্ধ হয়ে শুধু মানবকুল কেন, পশু পাখী এমনকি নদীর মৎস সমূহও সব কিছু ভুলে গিয়ে সে সূরের মাধুর্ষতা উপভােগ করত। বিষধর সর্প সূরের প্রভাবে তার হিংস্র স্বভাব পরিহার করে সূরের তালে হোলে দোলে খেলা করে। আর তাই বীণ বাজায়ে সর্পকে হস-গত করা হয়। উট চালকের সূরে মুগ্ধ হয়ে ভারী ভারী বোঝা বহন করে নিয়ে যায়। ঘন্টার ধ্বনি শুনে হাতী আনন্দে তালে তালে পা ফেলে চলে যায়। বস’ত সুরের ভিতর এমনই এক পবিত্র আস্বাদ বা আকর্ষণীয় গুণ বর্তমান আছে যা হৃদয়ের যাবতীয় কুলষতা দূর করে মন প্রাণকে আকৃষ্ট করে থাকে। রাসুলে খোদা (দঃ) সঙ্গীত উপভোগ করতেন এবং সুর তাকে আকৃষ্ট করতো। যেমন হুজুর (দঃ) হাসান বিন সাবিত (রাঃ) এর জন্য মসজিদে মিম্বর স’াপন করে এবং সেই মিম্বরে উঠে হাসান বিন ছাবেত (রাঃ) হুজুর (দঃ) এর গৌরব ও সৌভাগ্যের কবিতা মধুর কন্ঠে আবৃত্তি করতেন, এমনকি হুজুর (দঃ) তার কন্ঠে বিমগ্ধ হয়ে স্বীয় চাঁদর উপহার দিয়েছেন। হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে একবার রাসূল পাক (দঃ) এর দরবারে হযরত জিব্রাইল (আঃ) এসে বললেন: ইয়া রাসুল্লাল্লাহ আপনার গরীব উম্মতগন ধনী উম্মতগন হতে অর্ধ দিবস পূর্বে (যা এ দুনিয়ার পাচশত বৎসরের সমান) বেহেশতে গমন করবে। ইহা শ্রবণে রাসূলে খোদা (দঃ) অত্যন- আনন্দিত হযে উপসি’ত সাহাবাগনকে লক্ষ্য করে বললেন-“তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে আমাকে গান শুনাইতে পার? জনৈক বদবী (গায়ক) বলল, আমি শুনাইতে পারি। তখন সে নিম্নোক্ত গানটি পরিবেশন করল-কাব্যানুবাদঃ দংশিয়াছে প্রেম স্বর্প হৃদয়ে আমার, নাহি ডাক্তার আর নাহি মন্ত্রকার, কিন’ মন প্রাণ বিধি সকাশে যাহার, দাওয়াই আর মন্ত্র মোর আছে অনিবার” উক্ত গান শ্রবনে রাসুলে খোদা (দঃ) অজুদ বা ভাবাপন্ন অবস’ায় হেলতে দুলতে লাগলেণ, উপসি’ত সাহাবাগণও তাই করতে লাগলেন। এমনকি এমন ভাবাপন্ন অবস’ায় পৌছেছিলেন যে রাসূলে পাকের উভয় কাঁধ মোবারক হতে চাঁদর মোবারক খসে জমীনে পড়ে যায়। যখনই এই মহানন্দা পবিত্র নৃত্য সমাপন হলো, প্রত্যেক সাহাবায়ে কেরাম স্বীয় স’ানে বসলেন। তখন আবু সূফীয়ানের পুত্র হযরত মা’বীয়া (রাঃ) বললেন-“মা আহছানা লা’বুজুম ইয়া রাসুলাল্লাহ” অর্থাৎ ইয়া রাসুলাল্লাহ্‌ আপনাদের খেলা (নৃত্য) কি সুন্দর। প্রতি উত্তরে হুজুর পাক (দঃ) বললেন-যে কেহ প্রিয়তমের স্মরণে গানে অনুরূপ না হয় সে ভদ্র নহে।” পরে উপসি’ত সাহাবায়ে কেরামগণ রাসুলে পাকের উক্ত চাঁদর মোবারকখানা তবারুক হিসেবে চারশত টুকরায় ভাগ করে নেন। এতে প্রতিয়মান হয় যে উপসি’ত সাহাবায়ে কেরামের সংখ্যা ছিল চারশত। (তাফসীরাতে আহমদীয়া ৬০২ পঃ) হযরত খালদ বিন জাকওয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত হযরত বোরাই বিনতে মুয়াজ বর্ণনা করেন- আমি যখন স্বামী ঘরে নতুন বিবাহিতা হয়ে প্রবেশ করলাম তখন রাসূল (দঃ) এসে আমার বিছনায় এমন ভাবে বসে গেলেন যেমন তুমি আমার নিকট বসেছে। আমাদের পরিবারের নব যুবতীয়া দফ (ঢোল) বাজাইতেছিল। এবং আমাদের পূর্ব পুরুষগন যারা বদরের যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন তাদের বীরত্বের গান করতেছিল। তাদের মদ্যে একজন গাইতে লাগল, “আমাদের মধ্যে এমন একজন নবী আছেন যিনি ভবিষ্যতের কথা বলতে পারেন। “তখন হুজুর পাক (দঃ) ইহা না গেয়ে পূর্বে যা গাইতেছিলে তাহাই গাও।” (বুখারী ও তিরমিজি শরীফ) শুধুমাত্র রাসুলে খোদা (দঃ) এর সঙ্গীত প্রিয়তার নিদর্শণ হিসেবে উল্লেখিত হাদীস দ্বয়ের উল্লেখ করা হলো। মাইজভান্ডারী সঙ্গীত মানবের অন-ঃকরণে আল্লাহ ও রাসূল (দঃ), আহলে বায়াতে রাসূল, আউলিয়ায়ে কেরামগনের মহব্বত বাড়ায়, দুনিয়ার মহব্বত কমিয়ে দেয় এবং আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এরূপ সঙ্গীত মানবের জন্য অত্যন- উপকারী। অন্যান্য এবাদত বন্দেগীর সময় চির শত্রু শয়তানের প্ররোচনায় মনের একাগ্রতা ঠিক রাখা খুবই কঠিন। কিন’ ত্বরীকত পন’ীদের ছেমা বা সঙ্গীত এমনই এক ইবাদত যা অন্য সব দিক থেকে মন প্রাণকে ফিরায়ে আল্লাহ রাসূল ও আপন পীর মুর্শীদের দিকে রজ্জু রাখে। কারণ সূর মানব হৃয়কে গভীর ভাবে আকৃষ্ট করে একাগ্রতা এনে দেয়। যার হৃদয়ে সূরের সুজ্ঞান সৃষ্টি হয় সে কখনো নিষ্ঠুর প্রকৃতির হতে পারে না। সূরেলা অন-রে বিরাজ করে কোমলতা। আর সেথায় প্রবাহিত হয় নির্মল প্রেমের বর্ণনা। এই প্রেম প্রাথমিক স-রে সীমাবদ্ধ থেকে সৃষ্টির ভিতরে তার সসীমকে লংঘন করে গতিশীল হয়ে পড়ে রহস্য পূর্ণ অসীমের পথে। এই পথের প্রেমিক স্বার্থক পরিণতি লাভ করে সুমহান প্রেমস্পদের মাঝে নিজ সত্ত্বা বা আমিত্ত্বকে বিলীন করে। এ জন্য আধ্যাত্মিক জ্ঞান সম্পন্ন মহাপুরুষগণ একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, অমূল্য স্বগীয়দান সমূহের মধ্যে “সূর” তথা গান একটি বিশিষ্ট স’ানের অীধকারী এবং সৃষ্টিকর্তার গোপন রহস্যাবলীর অন্যতম। ভালবাসার অগ্নি শিখা প্রজ্জ্বলিত করতে সূর অত্যন- ক্ষমতাবান। যারা একথা স্বীকার করতে বাধ্য হবেন, ইহা শতসিদ্ধ যে, আল্লাহ তাযালা কোন কিছুরই মুখাপেক্ষী নন। কিন’ তিনি বান্দার প্রেম কামনা করেন। যা আল কোরআনকে নিয়ে গভীর গবেষণা করলেই সহজে অনুমেয় হয়ে উঠে। এজন্যই যে কোন এবাদতই হোক না কেন তা প্রেম রসে সিক্ত না হলে, প্রেমের মহাজন তা কবুল করেন না। কারণ বিশ্ব সৃষ্টির মূল রয়েছে পবিত্র প্রেমের অদম্য প্রেরণা। হাদীস কুদীতে তার সাক্ষ্য বহন করে। “কনতু কানজান মুখফিয়ান ফা আছবাবতু আন উরাফা ফা খালাকতুল খালকা লে উরাকা” অর্থাৎ আমি গুপ্ত ধন ডাক্তার স্বরূপ ছিলাম অতঃপর প্রেমাবেশে প্রেসাসক্ত হয়ে নিজেকে নিজে পরিচত করার জন্য এই সৃষ্টি মালার সূচনা করলাম যেন তারা আমাকে চিনে।
সূফীয়ে কেরাম প্রেমকে তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেনঃ ১. এশকে হাকীকী যা ঐশী প্রেম বা খোদা প্রেম।
২. জাগতিক প্রেম যেমন স্বামী স্ত্রী, মা বাবা ভাই বোন ইত্যাদি। ৩. এশকে ফাসেকী বা নিন্দনীয় প্রেম যা খোদা প্রেমের প্রতিবন্ধক।
এখানে যে প্রেমের কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে এশকে হাকীকী বা খোদা প্রেম। যার মন পুত:পবিত্র পার্থিব কামনা বাসনার উর্ধ্বে তার জন্যই প্রেম, ঐশী প্রেমই প্রকৃত প্রেম। আর কোমল অন-ঃকরণ হলো এ প্রেমের উৎস। প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে সেই প্রেমাগ্নি সুপ্ত অবস’ায় বিরাজ করে। যেমন পাথরে অগ্নি লুকায়িত থাকে ঘর্ষণে প্রকাশ পায়। তেমনি যখন কোন খোদা প্রেমিক আশেক ভক্তের সম্মুখে ঐশী ভাবাপন্ন গান, গজল বা সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় তখন তার হৃদয়ের সুপ্ত প্রেমাগ্নি জ্বলে উঠে এবং স্রষ্টার প্রেমে আত্মহারা হয়ে যায়।
ইমাম গাজ্জালী (রাঃ) এহইয়াউ উলুমুদ্দিন’ কিতাবে লিখেন “যার অন-রকে সঙ্গীতে আকৃষ্ট করে না, সে নীচের পতিত স্বভাবের অধিকারী , রুহানীয়ত হতে বঞ্চিত ও কুট চরিত্র বিশিষ্ট অনির্মল অন-ও, ভ্রষ্ট্র ও পাখীসমূহ হতেও নীচু এবং যাবতীয় পশু হতেও ঘৃণিত।” সূফী সম্রাট আল্লামা রুমী (রাঃ) বলেন-ছেমা বা সঙ্গীত হলো আশেকদের হৃদয়ের খোরাক।’
পীরানে পীর দস-গীর গাউছুল আযম আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ) নামক কিতাবের ১২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন “নিশ্চয় ছেমা বা সঙ্গীত কারো জন্য ফরজ, কারো জন্য সুন্নাত কারো জন্য বিদয়াত।” আল আনওয়ারোর রাহমানিয়া ফি তরীকাতিল কাদেরীয়া কাছনেজানীয়া কিতাবের ১৯৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-সর্বপ্রথম জিকিরের মজলিসে তবলা নামক বাদ্য বাজনা পীরানে পীর দস-গীর গাউছুল আজম আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ) প্রচলন করেন। উল্লেখ্য যে, গাউছুল আজম আবদুল কাদের জিলানীর (রাঃ) দরবারে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার বাদে এশা প্রত্যেক জু’মার নামাজের পর এবং প্রতি বৎসর রবিউসসানীর ১১ তারিখ ওরশ শরীফে ছেমা বা বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে সঙ্গীত, জিকির আজকারের মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আমি বিগত ১৯৯৮ হতে ৯৯ সাল পর্যন- বাগদাদ শরীফ লেখাপড়া করা অবস’ায় সাপ্তাহিক মাহফিল ও ওরশ শরীফে শরীক হয়ে ধন্য হয়েছি। এবং ২০০০ হতে ২০০৫ সাল পর্যন- মিশর আল্‌ আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি। সেখানে ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর পবিত্র ছের মোবারকের মাজার শরীফ যা আযহার বিশ্ব বিদ্যালয়ে সম্মুখে অবসি’ত লেখা আছে সরকারীভাবে ৭ দিন ব্যাপী ওরশ শরীফ হয় এবং মিশরের শ্রেষ্ঠ কাওয়াল গান বাদ্য বাজনার দ্বারা ছেমা বা কাওয়ালী মাহফিল করে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন অলী আল্লাহপাকের দরবারে বাদ্য বাজনা সহ ছেমা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সঙ্গীতের সূর ও বাদ্যবাজনার তালে অসংখ্য ভক্ত অনুরক্ত খোদার প্রেমে বিভোর থাকে, নৃত্য থাকে আল্লাহর জিকিরে। সৃষ্টির সূচনা লগ্ন হতেই সূর ও সঙ্গীত মানব হৃদয়ের সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমান সমাজ অপসংস্কৃতির করাল গ্লাসে নিমজ্জিত। মানব চরিত্র অপসংস্কৃতির ছোয়ায় ধ্বংসের অতল গহ্বরে চলে যাচ্ছে। ঠিক সে সময়ে মাইজভান্ডারীয়া ছেমা সংগীত ইসলামী সংস্কৃতি যদি সমাজের প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে পৌছানো যায়, তাহলে পরিবার, সমাজ, দেশ অপসংস্কৃতির কালো হাত হতে রেহাই পাবে এবং মানব মন আল্লাহ প্রেমে বিভোর থাকবে। নেমে আসবে দেশে, সমাজে ও পরিবারে সুখ, শানি- ও সমৃদ্ধি, মুক্তি পাবে আখেরাতে। আল্লাহপাক মাইজভান্ডারী সূর সঙ্গীত সমাজে প্রতিষ্ঠা করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

******************************************************************************************
৬।**কুরআন এবং আমাদের কর্মজীবনঃ
ইসলামের আবির্ভাব, ভূতপূর্ব বঙ্গদেশে তথা বর্তমান বাংলাদেশে কখন কীভাবে হয়েছিল, তৎসম্পর্কে ইতিহাসবেত্তাদের মধ্রে কিচুটা মতভেদ থাকলেও একথা প্রমাণিত সত্য যে, ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী এসে দ্বাদশ শতাব্দীতে বঙ্গীয় মুসলমাানদেরকে ব্রাহ্মণণ্যবাদী নিপীড়ন থেকে মুক্ত করার প্রায় ৪শত বছর পূর্বেই এদেশে ইসলামের আবির্ভাব ঘটেছিল। আর্যদের আগমনের পূর্ব থেকেই ইসলামের আবির্ভঅব আমাদের কৃষ্টি ও সভ্যতাকে সুবিন্যসত্ম ও পরিপাটি করে গড়ে তুলেছে। তাই আজকে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি বাংলাদেশে আত্মিক চৈতন্য, কৃষ্টি, সামাজিক মূর‌্যবোধ, রীতি প্রথা, আচার ব্যবহার, বস’নিষ্ঠতা ও সৃজনশীলতার বিকাশের ক্ষেত্রে কোরআন ও হাদীস শরীফ ভিত্তিক ধর্ময়ি বিশ্বাস তথা ইসলামী কৃষ্টির অনুপ্রেরনা মূখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বস’তঃ প্রাকৃতিক এই জগৎসংসারে সুন্দর ও কল্যাণের পথে চলতে গিয়ে, অসীম অননত্ম এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহকে বরণ করে তার সাথে আত্মার নিবিড় সংযোগ স’াপন করতে হলে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রেরিত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ মুসত্মফা (দঃ) এর মাধ্যমে মানুষের জন্য হেদাযেত ও সুপস্পষ্ট পথ নিদেৃশ আর ন্যায় অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী হিসেবে যে পবিত্র কোরআন মজিদ প্রেরণ করেছেন, তা গভীর যত্নের সঙ্গে াধ্যয়ন, অনুধাবন ও হৃদয়ঙ্গম করে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। তবে সেই মহতি অর্জনের লক্ষ্যে ব্যক্তিগত অধ্যয়নের চেয়েও বেশি ফলপ্রসু পদক্ষেপ নিশ্চয় সমষ্টিগত দরসুল কোরআন এর মত প্রশংসনীর উদ্রেঅগ। হুজুর নবী করিম (দঃ) যে কোরআন মজিদের হেদায়েতের আলো দ্বারা মিথ্যঅর উপর সত্যের, বাতিলের উপর হকের অক্যালণের উপর কল্যানের বৈষম্যের উপর সাম্যের, বর্বরতার উপর সভ্যথার, পাশবিকতার উপর মানবিকতার, অমার্যার উপর মর্যাদার, স্বেচ্ছাচারী নিগড়ের উপর আইনের শাসনের বিজয় প্রতিষ্ঠা করে মানবজাতিকে দুর্গতি, বিপর্যয় ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন, আমরাও সেই আলোক ধারাতে আমাদের জাতীয জীবনে একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারি। বস’তঃ কোরআন মজিদ এমন এক আলোকবর্তিকা, এক আসমানী নূর হিসেবে আলআহ সোবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে নাজিল করা হয়েছে-যার দ্বারা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে অর্থাৎ গোমরাহি থেকে হেদায়েতের দিকে নিয়ে আসা যায়। সূরা ইব্রাহিম এর প্রথম আয়অতে করীমায় এরশাদ হচ্চেন-“আমি এমন এক কিতাব আপনাকে দিয়েছি, যা দ্বারা আপনি মানব জাতিকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর পথে আনতে পারবেন।ঃ আল্লাহ তাবারাকা ওয়াতায়ালা এরশাদ ফরমাচ্ছেন ক্বাদ যা আকুম মিনাল্লাহে নূরুও ওয়া কিতাবুম মুবিন- অর্থাৎ নিশ্চই তোমাদের নিকট তশরীফ আনয়ন করেছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সমুজ্জ্বল নূর (জ্যোতি) এবং সুস্পষ্ট কিতাব। কাফের ও মুশরিকরা তথা ইসলাম বিরোধী শক্তি আল্লাহর এই জ্যোতিকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়, কিন’ তা তারা পারবে না। আল্লাহ্‌ পাক কোরআন মজিদের সুরা আচছফ এর অষ্টম ও নবম আয়াতে করীমায় এরশাদ ফরামাচ্ছেন “তারা মুখের ফুৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তার আলোকে পূর্ণরুপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। তিনি আল্লাহ তার রসূরকে পথ নির্দেশ ও সত্যধর্ম দিয়ে প্রেরণ করেছেন। যাতে একে ইসলামকে সব ধর্মের উপর প্রবল করে দেন যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করেঃ। এই সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব কোরআন মজিদ সত্য সত্যই আল্লাহ তাবারাকা ওয়াতায়ালার পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট ঐশীগ্রন’ এবং এই সমুজ্জ্বল কিতাব আর যার উপর নাজিল হয়েছে তিনি হচ্ছেন-সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম, সুন্দরতম, মহোতত্ত্বম, মাহবুবে খোদা, রাহমাতুলি।লল আলামীণ, সরকারে ক্বায়েনাত হুজুর হযরত মুহাম্মদ মোসত্মফা ছা্‌লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বস’তঃ আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা এমন পলিপূর্ণ ও সর্বগনের আকার হিসেবে আপন হাবীব (দঃ) কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন, যার সমকক্ষ হয়ে অতীতে কেউ দুনিয়াতে আগমন করেনি এবং ভবিষ্যতেও আসবেন না। আল্লাহ পাক আপন প্রিয়তম শখা মুহাম্মদ মোসত্মফা (দঃ) এর মধ্যে দিয়েই সৃজন ব্যগ্রতার প্রথমস্ফুরন ঘটিয়েছেন, নিজ নামের সাথে প্রিয়তম শখার নাম সংযোজন করে তাকে নিজ প্রেমাস্পদের মহিমায় মহিমান্বিত করেছেন, তার, স্মরণকে সমুন্নত করে আকাশে বাতাসে তার গুনগান ছড়িয়ে দিয়েছেন, আররশে আজীমে মন্ত্রণ করে নিযৈ গিয়ে দীদার দানে তাকে ধন্য করেছেন, মক্বামে মাহমুদরে সর্বোচ্চ মক্বামে উন্নীত করেছেন, রওজা পাকে চিরঞ্জীব রেয়েছেন, ময়দানে হাশরে শাফায়াতের চাবিকাঠি অর্পণ করেছেন এবং হাউজে কাওসার দ্বারা পুরস্কৃত করেছেন। খাতেমুন্নাবিয়্যিন, সাইয়্যেদুল মুরসালীন, শফিউল মুজনিবীন হযরত মুহাম্মদ মুসত্মফা ছাল্লাল্লঅহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্বন্ধে শুধু মসিলিম গবেষক নয়, অমুসলিম গবেষকরাও গবেষণা কর্মের মাধ্যমে এই সি’র সিদ্ধানেত্ম উপনিত হতে পারছেন যে তিনিই বিশ্বের সকল নবীদের নবী ও শ্রেষ্ঠ রাসুল এবং তিনিই সমগ্র পৃথিবীল জন্র শ্রেষ্ঠ ধর্ম প্রচারক। যেমন আমেরিকার প্রখ্যাত সাংবাদিক ও গবেষক মাইক্যাল হার্ট (গরপযধষ ঐধৎঃ) তাঁর বিখ্যঅত বই ঞযব গড়ংঃ ওহভষঁবহঃরধষ চবৎংড়হ রহ ঐরংঃড়ৎুচ এর মদ্যে ইসলাম ধর্মের প্রবর্ত্তক সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রসুল হযরত মুহাম্মদ মোসত্মফা আহমদ মুজতবা (দঃ) কে সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করতে বাধ্য হয়েছেন। লেখক মাইক্যাল হার্ট নিজে খ্রিষ্টান হয়েও হযরত ঈসা রুহুল্লা (আঃ) কে শ্রেষ্ঠ বলে উল্লেখ না করে মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ) কে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করলেন, যে বিষয়ৈ তিনি লিখেছেন ”অ ঝঃৎরশরহম বীধসঢ়ষব ড়ভ ঃযরং রং সু ৎধহশরহম গড়যধসসধবফ যরমযবৎ ঃযধহ ঔবংঁং, রহ ষবধৎমব ঢ়ধৎঃ, নবপধঁংব ড়ভ সু নবষরবাব ঃযধঃ গড়যধসসবফ যধফ ধ সঁপয মৎবধঃবৎ ঢ়বৎংড়হধষ রহভষঁবহপব ড়হ ঃযব ভড়ৎসঁষধঃরড়হ ড়ভ ঃযব গঁংষরস ৎবষরমরড়হ ঃযধহ ঔবংঁং যধফ ড়হ ঃযব ভড়ৎসঁষধঃরড়হ ড়ভ ঃযব ঈযৎরংঃরহরঃু. আসলে এই পৃথিবীতে যত নবী রাসুল তথা মহা মনীষী পরগম্বর আলাইহিমুসসালামগন এসেছেন, তাদের সবার উপরে মাহবুবে খোদা রাহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়অসাল্লামকে স’ান দিয়ে সেই প্রখ্যাত আমেরিকান সাংবাদিক ও গবেষক মাইক্যাল হার্ট প্রমাণ করলেন, যে, বর্তমান বিশ্বে একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম বা দ্বীন হচ্ছে ইসলাম এবং সর্ব উৎকৃষ্ট আদর্শ তথা খুলুকুন আজীম হচ্ছে হুজুর মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লঅহ্‌ আলাইহে ওয়াসাল্লাম। তাই একথা সুষ্পষ্টভাবে ঘোষনা করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার মনোনীত একমাত্র জীবন বিধান বা দ্বীন হচ্ছে আল ইসলাম (ইন্নাদ্দীনা এন্দাল্লাহিল ইসলাম) এবং বিশ্ব স্রষ্টা রাব্বুল আলামীন প্রিয়তম শখা হযরত মুহাম্মদ (দঃ) কে বিশ্ব জগতের সম্মুখে উপস’াপন করেছেন খুলুকুন আজিম হিসেবে। এরশাদ হয়েছে ইন্নাকা লা আলা খুলুকুন আজীম অর্থাৎ হে রাসুল আপনি তো চারিত্রিক মাধুর্যে সর্বশ্রেষ্ট। আরো এরাশাদ হয়েছে-ওয়অমা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতুল্লিল আলামীন আমি আপনাকে সময় জগতের জন্য রহমত তথা কল্যাণের মুর্ত প্রতীকরুপে প্রেরণ করেছি। তদুপরি পরওয়ার দেগারে আলম আপন বান্দার উদ্দেশ্যে এরশাদ ফরমাচ্ছেন লাক্কাদ কানা লাকুম ফি রাসুলিল্লাহে উসআতুন হাসানহ অর্থাৎ আমার পেয়ার। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামা তো তোমাদের জন্য উসওয়ায়ে হাসানা বা সর্বত্তোম আদর্শ। যার কথাকে স্বয়ং আল্লাহ পাকের বানী বলে আল্লাহ জাল্লাশানুহু কোরআন মাজিদে সুরা নাজমে ঘোষনা করেছেন। এরশাদ হয়েছেঃ “ওয়ামা ইয়ানুতিকু আনিল হাওয়া, ইন-হুয়া ওয়াহইউ ইউহা-অর্থাৎ তিনি নিজ থেকে কিছু বলেন না, যা কিছু বলেন তাতো তার উপর প্রত্যাদেশ হওয়া ওহীঃ। আল্লামা জাল্লালুদ্দীন রুমী আলাইহের রাহমাহ বলেন-গোফতায়ে উ গোফতায়ে আল্লাহ বাওয়াদ/গারচে আজ হুলকুমে আবদুল্লাহ বাওয়াছ তার কথা আল্লাহর কথা, যদিও আল্লাহর মাহবুব বান্দার মুখ থেকে তা নিঃসৃত হয়। মুখ নবীর কিন’ কথা আল্লাহর। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা বলেন-হুওয়াল আউআলু ওয়াল আখেরু ওয়াজ্জাহেরু ওয়াল বাতেন, ওয়াহুয়া বিকুল্লে শাইইন আলীমা অর্থাৎ তিনি আদি তিনি অনত্ম, তিনি প্রকাশ্য তিনি অপ্রকাশ্য আর তিনি সর্বজ্ঞানের আধার। কিন’ আল্লাহ পাকতো নিরাকার তাই তিনি তার পেয়ারা রাসুল (দঃ) কেও এই পাচটি গুনে গুনান্বিত করেছেন। আল্লঅহ্‌ হাকীকাতান আওয়াল অঅর তার রাসুল (দঃ) সৃষ্টিতে আওযাল, আল্লাহ্‌ আখের আর নবী প্রেরনের দিকে থেকে অঅখের, আল্লাহ যাহের বা প্রকাশ্য অর্থাৎ আল্লাহকে সৃষ্টির সকলইৈ চিনে এবং জানে, একইভাবে আল্লাহর রাসুল (দঃ) কেও সকল সৃষ্টিই চিনে এবং জানে। তনুবা তার আঙ্গুলীর ইশারায় চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হতোনা, সূর্য্য অসত্মমিত হয়ে আবার আসর ওয়াক্ত হয়ে উদিত হতোনা, পাথরগুলো নবুয়ত রেসালাতের স্বাক্ষী দিয়ে কলেমা পাঠ করতোনা। তাইতো নবীয়ে পাকের পবিত্র হাতে হাত দেয়অ মানে আল্লাহর কুদরতী হাতে হাত রাখা। এরশাদ হয়েছেঃ ইয়া দুল্লাহি ফঅওকা আইদিহিম। হুজুর আকরাম (দঃ) এর নিক্ষেপন স্বয়ং আল্লাহর নিক্ষেপন। এরশাদ হয়েছেঃ ওয়ামা রামাইতা ইজ রামাইতা অলাকিন্নাল্লাহা রামা অর্থাৎ ময়দানে বদরে শত্রু সৈন্যদের চোখে মুখে আপনি যখন এক মুষ্টি বালি কংকর নিক্ষেপ করেছিলেন, প্রকৃত পক্ষে তাতো আপনি নিক্ষেপ করেননি, আপনার হাতের মাধ্যমে স্বয়ং আল্লাহ নিক্ষেপ করেছেন। মুমীন মুসলমানদের আপন সত্তার চেয়ে, আত্মার চেয়েও নবী অীধক নিকটবর্তী, অধিকপ্রিয়। এরশাদ হয়েছেঃ ওয়ামা রামাইতা ইজ রামাইতা অলাকিন্নালাহ রামা অর্থাৎ ময়দানে বদরে শত্রু সৈন্যদের চোখে মুখে আপনি যখন এক মুষ্টি বালি কংকর নিক্ষেপ করেছিলেন, প্রকৃত পক্ষে তাতো আপনি নিক্ষেপ করেননি, আপনার হাতের মাধ্যমে স্বয়ং আল্লাহ্‌ নিক্ষেপ করেছেন। মুমীন মুসলমানদের আপন সত্তার চেয়ে, আত্মার চেয়েও নবী অধিক নিকটবর্তী, অধিকপ্রিয়। এরাশাদ হয়েছে ঃ আন্নবীউ আওলা বিল মুমিনিনা মিন আনফুসিহিম। হাদীসে কুদসীর রেওয়ায়েতে আল্লাহর রাসুল ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামার জিকির বা স্মরণকে আল্লাহরই স্মরণ বলা হয়েছে এরশাদ হয়েছেঃ “হাবীবী জিকরুকা। ঃ আল্লাহ্‌ পাক কোরআনে মজিদে এরশাদ ফরমান কুল ইন কুনতুম তুহিব্বুনাল্লাহা ফাত্তাবিউনী ইউহবিব কুমূল্লাহ অর্থাৎ হে রাসুল! আপনি বরে দিন, তোমরা যদি আল্লাকে ভালবাসতে চাও, তবে আমি নবীর অনুসরন/অনুকরন কর, তবে আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ্‌ মাফ করে দেবেন। আল্লাহপাক প্রিয় রাসুল (দঃ) কে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, কালামেপাকে এরশাদ হয়েছেঃ এয়া আইয়্যুহান নাবীউ ইন্না আরসালনাকা শাহিদাও ওয়ামুবাশশিরাও ওয়ানজিরা ওয়াদায়ীআন ইল্লাল্লাহী বিইজনিহী ওয়া সিরাজাম মুনিরা অর্থাৎ হে নবী আমি আপনাকে প্রেরন করেছি সাক্ষীরুপে, সুসংবাদ দাতারুপে সতর্ককারীরুপে আর আল্লাহর দিকে আহবানকারী আলোক বিকিরনকারী উজ্জ্বল প্রদীপ বা সূর্যারুপে। সুতরাং পেয়ারা নবী মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ্‌ আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিভাবক, তার চেয়ে অধিক দরদী এই জগৎ সংসার আর নাই। সূরা তাওবাহ্‌ এর মধ্যে এরশাদ হয়েছেঃ নিশ্চই তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের নিকট একজন মহান রাসুল এসেছেন। তোমাদের দুঃখ কষ্ট/বিপদ আপদ তিনি সহ্য করতে পারেন না। তিনি তোমাদের সকলের হিতাকাঙ্খী মোমীনদের প্রতি পরম স্নেহশীল ও দয়াময় (বিল মুমিনিনা রাউফড়্গ রহিম)। বস’তঃ কুফর শিরক, অজ্ঞতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার অশ্লীলতা ও চরিত্রহীনতার আকণ্ঠ নিমজ্জিত একটি জনগোষ্ঠিকে তৌহিদ ও রেসালতের শক্তিতে বলীয়ান করে, জ্ঞানের আলোকধারায় উদ্ভাসিত করে শৃঙ্খলাবদ্ধ বিস্ময়কর একটি বিম্বজয়ী জাতিতে পরিণত করেছেন যে মহামানব, তার চেয়ে বড় সংগঠক, বড় সংস্কারক, বড় সমরা নায়ক, বড় রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনৈতিক তেনৃতত্ব তথা সর্ব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ অনুকরনীয় আদর্শ আল্লাহর পেয়ারা রাসুল হযরত মুহাম্মদ মোসত্মফা (দঃ) ছাড়া আর কেই বা হতে পারবে? রাসুলুল্লাহ্‌ (দঃ) এর প্রদর্শিত কর্ম পদ্ধতি, রাজণিিত, রণনীীত ও কৌশল মুসলমানদেরকে গভীর যত্নসহকারে অধ্যযন করতে হবে, অনুধাবন করতে হবে। সৃষ্টিকে ভালবাসা, সৃষ্টির সেবা করা, আশরাফুল মাখলুক্বাত তথা সৃষ্টির সেরা মানুষকে সৎপথে, আদর্শের পথে পরিচালিত করা রাসুলুল্লাহ্‌ (দঃ) ওতার সাহাবাদের জীবনের সর্বাপেক্ষঅ বড় ব্রত ছিল। বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম মুজাহিদ, শ্রেষ্ঠতম আদিল বা ন্যায় বিচারক ও সৎসাহসী হিসেবে আল্লাহর প্রিয় হাবীব ও তার সাহাবাগণ অকুতোভরে আজীবন সমাজের সর্বপ্রকারের পাপারচার ও অন্যায়ের বিরুদ্দে নিষ্ঠার সাথে জেহাদ করে বৈষম্যমুক্ত একটি সমুন্নত ও ন্যায়ানুগ সমপ্রীতির সমাজ গঠন করেছিলেন। ডঃ আল্লামা ইকবাল আলাইহির রাহমাহ্‌ তার তুলুয়ে ইসলাম্ব বা ইসলামের অভূদ্যয় নামক কাব্যে লিখেছেনঃ সবক পড় ফের ছদাবতা আদালতকা, সুজা আত্‌কা, লিা জায়েগা তুজছে কামে দুনিয়াকী ইমামত্‌কা। এহি মকছুদে ফিতরাত হ্যায়, এহি রমজে মুসলমানি, ইখওয়াতকি জাহাগিরী, মহবত কি ফিদাবাণী। অর্থাৎ আবার প েসবক সত্য নিষ্ঠার, সুবিচাররের সাহসিকতার। এসব তোমাদেরকে নিয়ে যাবে দুনিয়ার কাজের নেতৃত্বে। এটাই সৃষ্টির উদ্দেশ্য। এটাই মুসলমানের চিহ্ন, এটাই হলো ভ্রাতৃত্ব বলয়ের গিদ্বিজয এবং এটাই হরেঅ প্রেমভক্তি। সত্য নিষ্ঠা, ন্যায় নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সেই অনুপ্রেরনার পত চলার যে আহ্বান মহান সাধক কবি জানিয়েছেন তা াাজকে বিশ্ব মুসলিমের বিপর্যস’ পরিসি’তি পূণঃ জাগরনের পূর্বশর্ত বলেই মনে হয়। বস’তঃ কোরআন মজিদ হলো মানুষের জন্য সর্ব্বোত্তম দিক নির্দেশনা ও সর্বোৎকৃষ্ট কিতাব এবং আল্লাহর প্রিয় হাবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর জীবন বিশ্ব মানবতার জন্য এক সর্বেঅত্তম আদর্শ। যতদিন বিশ্বের মুসলমান আল্লাহর রাসুল (দঃ) কে সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে অঅকড়ে ধরে থাকবে, ততদিনি সৎপথের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, হেদায়েত পেতে থাকবে আর যখন এই মহাশক্তিকে ছেড়ে দিবে তখন থেকে পতন শুরু হবে এবং ধ্বংসের দ্বারপ্রানেত্ম পৌছতে থাকবে। আল্লাহ্‌ পাককালামে এরশাদ করেছেন-এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করবে যা সর্বঅধিক সরল এবং সৎকর্ম পরায়ন মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার (১৭ঃ ৯)। মহান রাব্বুল ালামীনের বাণী সম্ভার কোরআনুল করীম যা সৃষ্টির সূচনা থেকেই লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত আছে, কিয়ামতের দিন পর্যনত্মঅনাগত বিশ্বমানরের হেদায়েত ও জীবন বিধানরুপে আল্লাহতায়ালা এই ঐশীগ্রন’কে মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ করেছেন এবং বান্দার প্রতি নিদের্শ দিয়েছেন যেন তার বিধি বিধান অক্ষরে অক্ষরে মান্য করা হয়। অন্যথায় শাসিত্মর ভয় প্রর্দন করে মহান আল্লাহ্‌ এরশাদ করেচেনঃ আফাতুম্ব মেনু বিবায়ুদিল কিতাবে ওয়াতাকুফুরুনা বিবায়দিন। ফামা জায়াউ মাই ইয়াফআল যালিকা মিনকুম, ইল্লা খিজইউন, ফিল হায়াতুদদুনীয়া ওয়াল আখেরা, ইন্নাকা লঅতুখলিফুল মিয়াদ- অর্থঅৎ যদি তোমরা কোরআনুল করীমের কিচু অংশ গ্রহণ করে কিছু অংশ বাদদিয়ে থাক, তবে আমি তোমাদের জন্য তোমাদের বসবাসের স’ানকে অশানিত্মর করে দেব এবং আখেরাতে উপযুক্ত শাসিত্মর দিকে নিক্ষেপ করব। আজকে কোরআনুল করীমের শিক্ষা বর্জণ করার কারনে আমাদের সামাজিক বিপর্যয় ও অশানিত্মর সৃষ্টি হয়েছে, তার কারণ নির্ণয় করতে গিয়ে আমাদেরকে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসের দিকে সৃষ্টি নিক্ষেপ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (দঃ) বলেনঃ যখন (১) রাষ্টীয় সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করা হবে। (২) আমানতের মাল (গচ্ছিত ধন-সম্পদ) গনীমত হিসেবে গন্য করা হবে। (৩) যাকাতকে জরিমানা বিবেচনা করা হবে। (৪) ইলম হাসিল (শিক্ষা গ্রহণ) করা হবে পার্থিব সম্পদ অর্জনের লক্ষ্যে (৫) স্বামী হবে স্ত্রীর আজ্ঞবহ (৬) সনত্মান হবে মাতার অবাধ্য (৭) পিতাকে করা হবে অবজ্ঞা (৮) বুদ্ধদের টেনে নেয়া হবে কাছে (৯) মসজিদে হৈ চৈ হট্টগোল সৃষ্টি করা হবে। (১০) পাপাচারীরা হবে সমপ্রদায়ের মোড়ল মাতব্বর। (১১) দূর্বৃত্ত দুরাচাররা হবে দেশের দণ্ডমুন্ডের নেতা। (১২) লেঅকেরা তাদের সম্মান দেভাবে কেবল নিজেদের মান উজ্জত হারানোর আশঙ্কায় (১৩) গান বাদ্রেল বিসত্মার ঘটবে। (১৪) মাদকাসক্তি ঘটবে। (১৫) জাতির উত্তরপুরুষরা পূর্ব পুরুষদের গালাগাল করবে। এই সময়ে অগ্নিবায়ু প্রবাহিত হবে, ভূমিকম্প হতে থাকবে, ভূমিধ্বস ঘটবে, মানবাকৃতির বিকৃতি ঘটবে, পাথর বৃষ্টি হবে এবং একের পর এক দৈবদুর্বিপাকে বিপর্যয় ঘটতে থাকবে। যেমন সুতো ছিড়ে গেলে তছবিহের দানা ঝরে পড়তে থাকে একের পর এক। সেই হাদীস শরীফটিকে সামনে রেখে বাংলাদেশের গ্রাম, শহর, বন্দর, নগর-মহানগরসহ সমগ্র দেশের দিকে তাকিয়ে উক্ত হাদীস শরীফে বর্ণিত লক্ষণগুলো মিলায়ে আমাদের অফিস আদালত, শিল্প, ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির অং্‌গনে বিরাজমান াবস’া পর্যালোচনা করলে দেশ জাতি রাষ্ট্রের হাল অবস’া পর্যালোচনা করলে মনে হবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) বাংলাদেশে এসে নিচ চোখে দেখেই বিরাজমান পরিসি’তির আলোকে এই হাদীসখানা এরশাদ করেছেন। আজকে দেশের সর্বত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলো খুনের নেশায় মতে েউঠেছে। ক্রমবর্ধমান বোমাবাজী, সনত্মাস, ছিনতাই চাঁদাবাজী, এসিড নিক্ষেপ, চোরাকারবারী হিরোইন সেবীদের দিৗরানেত্ম আর বিভিন্ন দেশী বিদেশী চ্যানেলে রাত্রি দিন প্রচারিত ব্লুফ্লিম, যৌন উত্তেজক অশ্লীল উলঙ্গ নাচ গান, ছায়াচবি, পর্ণোপুসিত্মকা ইত্যাদির কারণে আজকে আমাদের জাতীয় জীবনে খোদায়ী গজব নাজিল হওয়ার পরিসি’তি সৃষ্টি হয়েছে। মনে রাখতে হবে, খোদায়ী গজব বড়ই ভয়াবহ, পালানোর কোন পথ অবশিষ্ট থাকে না। আল্লাহ্‌ পাক কোরআনুল করীমে সুরা আনফালে ২৯তম আয়াতে এরশাদ করেন; হে মুসলমান ! যদি তোমরা আলআহকে ভয় কর, তাহলে পৃথিবীর বুকে তিনি তোমাদের সবচাইতে সম্মানিত ও উন্নত জাতিরুপে প্রতিষ্ঠিত করবেন। তদুপরি তোমাদের সবঅপরাধ মার্জনা করবেন এবং তোমাদের থেকে সব বিপদ আপদ দূরে রাখবেন। ইসলাম শুধু কতিপয় বিধি নিষেধ ও নীতিবাক্যের সমষ্টি মাত্র নয়, আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে একমাত্র ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) বিশ্ব ইতিহাসে সর্বপ্রথম অসাধারন ভূমিকা পালন রেছিলেন। আল্লাহর রাসুল (দঃ) মদিনায় ষষ্ঠ শতাব্দীতে “নিজে বাচ এবং অপরকে বাচতে দাওঃ এই নীতির ভিত্তিতে মদিনার সনদপত্র নামেখ্যাত সনদটি রচনার মাধ্যমে যে অপূর্ব ন্যায় নিষ্ঠা, উদারতা, পরমত সহিষ্ণুতার আদর্শিক বীজ বপন করে আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র ও মানবিক সমাজের সূচনা করেছিলেন তা এক বিস্ময়কর অধ্যায় হিসেবে মানব ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে। ইতিপূর্বে কোন দেশে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মধ্যে সদ্ভাব ও সমনাগরিকতা অীচনত্মনীয় চিল। হুজুর নবী করীম (দঃ) মনিদার সকল সমপ্রদায়ের নেতৃস’ানীয় ব্যক্তিবর্গকে ডেকে সভা করে আনত্মঃ সামপ্রদায়িক ঐক্য ও সমপ্রীতির প্রয়োজনয়িতা বুঝিয়ে দিয়ে একটি সনদ বা আনত্মর্জাতিক সন্ধিপত্র প্রস’ত করেন যাতে পরস্পরে দায়িত্ব ও কর্তব্য লিপিবদ্ধ করা হয়। তিনি বৃহত্তর মানব কল্যাণের লক্ষ্যে এমন আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র রচনায় উদ্যোগী হলেণ, যেখানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ ধর্ম, ঐতিহ্য ও কৃষ্টি বজায় রেখে একই দেশে পাশাপামি বাস করতে পারে। বস’তঃ ইসলামী রাষ্ট্র শরীয়তের কঠোরতা সম্ভব। মদিনার সনদের প্রথম বাক্যই ছিল মদিনার ইহুদী, পৌত্তলিক ও মুসলমান সকলেই এক দেশবাসী এবং সকলের নাগরিক অধিকার সমান। প্রত্যেক সমপ্রদায় সকলেই নিজ নিজ ধর্ম পালন করিবে, কেহ কারো ধর্মে হসত্মক্ষেপ করতে পারবেনা। যহরত মুহাম্মদ (দঃ) এর পূর্বে এমন মানবিক রাষ্ট্রের কথা কেহ কল্পনাই করেনি। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ উবপষধৎধঃরড়হ ড়ভ ঐঁসধহ জরমযঃং অর্থাৎ মানবাধিকারের ঘোষনা নামীয় সনদে যে কথা বলা হয়েছে তা আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (দঃ) সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষনা করে বলেছিলেন বিশ্বের সমসত্ম মানব সনত্মান স্বাধীন ও মুক্ত াবস’ায় নিষ্পাপ হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। আজকের আধুনিক বিশ্বে মানুষের মৌলিক অধিকার তথা মানবাধিকারের প্রায় সকল শর্ত ও গণতান্ত্রিক আদর্শিক শর্তাবলী বিশ্বনবীর চিনত্মা চেতনার ফসল। আসলে ইসলামও গণতন্ত্র-পরস্পরের বিরোধী নয়। পার্থক্য শুধু এইটুকু যে, অমুসলিম সমপ্রদায়ের রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়করা যে উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস’ার কথা বলে, মুসলিম বা ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজে যে গণতান্ত্রিক ব্যবস’া থাকবে, সেই সলামী গণতন্ত্র আল্লাহর আইনের অধীন হবে। সাধারন জনমতের ভিত্তিতে সরকার গঠন সরকার পরিচালনা ও পরিবর্তণ করাকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস’া বুঝালে, সেই গণতন্ত্রের সাথে ইসলামী শাসন ব্যবস’ার কোন পর্যায়ে নেই। কিন’ পাশ্চাত্য গণতন্ত্র থেকে ইসলামী গণতান্ত্রিক ব্যবস’া একটি সুনির্দিষ্ট জায়গায় একটু ভিন্নতা রয়েছে, তা হচ্ছে জনগনের রায়ের মাধ্যমে ইসলামের মৌলনীতির পরিবর্তন করা যাবে না। কোরআন হাদীস তথা ইসলামের সীমানার বাইরে গিয়ে কোন সিদ্ধানত্ম নেয়া যাবে না। যেমন ভোটের মাধ্যমে কোন হালাল বস’কে হারাম ও কোন হারাম বস’কে হালাল করা যাবে না। ইসলামী শাসন ব্যবস’ার মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রয়েছে, কিন’ গণতান্ত্রিক ব্যবস’ার দ্বারা ইসলাম নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি। গণতন্ত্রের মূল বিষয়গুলোর সাথে ইসলামী শাসনপদ্ধতির কোন বিশেষ পার্থক্য নেই। যেমন সকলের মত প্রকাশের অধিকার তথা ভোটাধিকার থাকবে, আইনের শাসন থাকবে, বিচার বিভাগীয় স্বচ্ছতা থাকবে, মৌলিক মানবাধিকার থাকবে ইত্যাদি। ডঃ আল্লামা ইকবাল ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস’াকে রুহানী গণতন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন, তার মতে গণতন্ত্রের বিত্তি যদি রুহানী ও নৈতিক হয়, তবে তা হবে সর্বোৎকৃষ্ট রাজনৈতিক পদ্ধতি আসলে শর্তাধীনে আমরা গণতন্ত্রের কতা বলতৈ পারি। এর ফলে হয়তঃ মুসলিম বিশ্বের রাজা বাদশা ও স্বৈরশাসকগন অনৈসলামিক অন্যায় শাসনের যাতাকল বন্ধ করার চিনত্মাভাবনা করতে পারে। হযরত রাসুলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছেন সমগ্র বিশ্বের শিক্ষকরুপে। তিনি এরশাদ করেছেন বুয়িসতু। মোয়ালিড়্গমান অর্থাৎ জগৎবাসীর শিক্ষকরুপেই আমি প্রেরিত হয়েচি। বস’তঃ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর শিক্ষা সমগ্র মানব জাতির জন্য এক অপূর্ব ইনকিলাব রচনা করেছে। একদিন যারা পরস্পর শত্রু ছিল, তারাই হযরতের শিক্ষা গ্রহণ করে আপন ভাইয়ে পরিণত হয়েছে। যেখানে সর্বত্র রক্তক্ষয়ী সংঘাত, খুন-খারাবীর লেলিহান শিখা দাবাণলের ন্যায় জ্বলে উঠেছিল, সেখানে নারীর শিক্ষার কারনেই সমঝোতা ও শানিত্মর ফুল ফুটেছিল। যেখানে জুলুম অত্যাচার, অন্যায় অবিচার, বর্বরতা ও মুর্খতার অন্ধকারে পুরো সমাজই নিমজ্জিত ছিল, সেখানে মহানবীর শ্‌িকষাই এনেছিল সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তা। সেই নির্ভূল ও পরিপূর্ণ শিক্ষাই অঅজকে আমাদের অন্ধকারে নিমজ্জিত সমাজ ও রাষ্ট্রকে আলোকিক করতে পারে। কারণ আল্লাহ্‌ স্বয়ং তার প্যিয়তম শখা হযরত মুহাম্মদ (দঃ) কে শিক্ষা দিয়া পরিপূর্ণ আদশৃরুপে আমাদের সামনে উপস’াপন করেছেন। কালামে পাকে ৫৩ তম সুরা নজমে এরশাদ হয়েছে ‘অসীম ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ তাকে (মুহাম্মদ (দঃ) কে) শিক্ষা দিয়েছেন। যেহেতু স্বয়ং আল্লাহ হুজুর নবী করিম (দঃ) এর ক্ষিক, সেহেতু তার শিক্ষা পরিপূর্ণ ও নির্ভূল হতে বাধ্য। তাই বিশ্বনবী হযরত রাসুলে করীম (দঃ) সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের মূর্তিমান াাদর্শ শিক্ষকরুপে, পথ প্রদর্শকরুপে গ্রহণ করে আমরা যদি পথ চলতে পারি, তবে আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে অবশ্যই সফলতা আসবে। আজকে আমাদের অধঃপতনের কারণ একটাই আল্লাহর রাসুল (দঃ) এর শিক্ষা ও আদর্শ থেকে আমরা বহুদুরে সরে গেছি। আল্লাহর রাসুল (দঃ) প্রদর্শিত আদর্শের পথে প্রত্যাবর্তন ছাড়া আমাদের মুক্তি নেই, কল্যাণ নেই। সে জন্যই, প্রখ্যাত কবি ও দার্শনিক ডাঃ আল্লামা ইকবাল মহান আল্লাহর ওয়াদা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেনঃ কী মুহাম্মদ চে ওয়াফা তুনে তু হাম তেরে হ্যায় ইয়ে জাহা চিজ হ্রায় কেয়া হ্যায় লওহ কলম তেরে হ্যায়, আল্লাহর রাসুল (দঃ) কে জীবনে বরণ করে নিতে পারলে নভোন্ডলের কর্তৃত্ব ও এসে যাবে তোমার করতলে। মুসলিম বিশ্বের বিরাজমান দুঃখজনক বিপর্যস’ পরিসিত্মতির দিকে দৃষ্টিপাতকরলে প্রথমেই মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক এবং ফিলিসত্মান সংকটের কথাই উঠে আসবে। ।সিলামের বহু গৌরবোজ্জল ও সৌর্য বীর্যের স্মৃতিধন্য লীলাভূমি, বিশ্বের সবচেযে প্রাচীন সমৃদ্ধশীল ও বিষ্ময়কর সভ্যতার উত্তরাধিকার ইরাকের উপর বিশ্বের দানবীর অপশক্তি, মানবতার ঘৃন্য শত্রু মার্কিন ব্রিটিশ জোট চক্র আনত্মর্জঅতিক আইন, বিশ্ব জনমত ও নীতি নৈতিকতা সম্পূর্ণ উপক্ষো ও আগ্রাহ্য করে তথাকথিত মিথ্যা নিরস্ত্রীকরণের াজুহাতে বিগত ২০ মার্চ ২০০৩ থেকে যে সাম্রাজ্যেবাদী আগ্রাসন, ধবংশযজ্ঞ ও নিবির্চারে গণহত্যা চারিয়ৈ নির্বঅচিত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করে গায়ের জোরে পূণ্যভূমি দখলদারিত্ব কায়েম করেছে, তার বিরুদ্ধে ইরাকী জনগন প্রতিদিনই রক্তঝরা প্রতিরোধ যুদ্ধ ও অগ্নিঝরা বিক্ষোভের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছে নতুন নতুন লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস। বস’তঃ রাক্ষুসের ঔরসে, ডাইনীল গর্ভে জন্ম নেয়া বুশ ব্লেয়ার ইঙ্গ-মার্কিন দানবীর অপশক্তি দ্বিতীয় গালফ যুদ্ধের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যস’ পরিসি’তি সৃষ্টি করেছে। জর্জ ডব্লিউ বুশ এর আর্শিবাদে অতিক্ষুদ্র ইসরাঈল রাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার পারমানবিক ও বিপুল অত্যাধুনিক অস্ত্রৈ সমৃদ্ধ হয়েছে। ইসলাইলের অস্ত্রভান্ডার পরমানু অস্ত্রসহ যে বিপুল অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ রয়েছে, সমগ্র মধ্যপট্রাচ্যের সকল রাষ্ট্রের সম্মিলিতভাবে তার এক চতুর্থাংশও নেই। মার্কিন মদদপুষ্ট এই ইসরাইল, প্রতিনিয়ত ফিলিসিত্মনীদের হত্যা করে প্যালেস্টাইন সংগ্রামের মুর্তপ্রতীক বিশ্ববিখ্যাত মোজাহিদ ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোরনাতে ইসরাইল ফিলিসিত্মনকে নিয়ে এক অবোধগম্য নিষ্ঠুর খেলার মেতে উঠেছে। বস’তঃ ইরাক প্যালেষ্টাইনে নৃশংস হত্যা ও ধবংশযজ্ঞ, একইভাবে বসনিয়া হারজেগোভিনার মুসলিম জনগোষ্ঠির উপর সার্ব অপশক্তির নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যাযজ্ঞ। ইরাক, প্যালেস্টাইন, আফগানিসত্মান, কাশ্মীর এর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় ও অনৈতিক আকাঙ্খা বাসত্মবায়নের জন্য জাতীসংঘের পক্ষপাতদুষ্ট, ন্যাক্কারজনক আচরন বড়ই বেদনাদায়ক। আজকে ইউনাইটেড নেশনস্‌ কঅর্গানাইজেশন (টঘঙ) ইঙ্গ মার্কিন ইসরাইলের মৈত্রী জোটের ইচ্ছা বাসত্মবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অথচা যুদ্ধমুক্ত নিরাপদ বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যৈ ক্ষুদ্র বৃহৎ প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা ও স্বাধীনতার প্রতি মর্যাদা প্রদর্শণ, সকল মানুষের সমান সমঅধিকার ও আত্মবিকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনসহ সর্বসত্মরে বর্ণবাদ ফ্যঅসিবাদ ও ধর্মীয় সামপ্রদায়িক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নিপীড়ন ও বৈষম্যমুক্ত মানবিক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্টঅর প্রত্যয় ১৯৪৫ সারে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বর্তমান বিম্ব রাজনীতির ধারণা সম্পর্কে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স এমনকি জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান পর্যনত্ম বলেছেন ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০১ সালের পূর্বের ও পরের বিশ্ব আর এক নয়, টুইন টাওয়ার ট্রাজেডীর পর সারাবিশ্ব পালটে গেছে। সুতরাং তারা কোন সমস্যাকে আর আগের দৃষ্টিতে বিচার করবেনা, বরং পরিবর্তিত পরিসি’তির বাসত্মবাতার নিরিখেই তারা সমস্যার সমধান খুজবেন। বিশ্ব মুসলিমের বিরুদ্ধে অপরাপর জাতিগোষ্ঠি ও শক্তির গড়ে উঠা ঐক্যমত্য কুরআনুল করীমের সুরা আল ইমরানের ২৮তম আয়াতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এরশাদ হচ্ছে লা ইয়াত্তা খিজিল মুম্বমেনুনাল কাফেরিনা আওলিয়া মিন দুনিল মুমেনিন, ওয়ামাইইয়াফ আল যালিকা ফালাইসা মিনাল্লাহে ফী শাইইন ইল্লা আনতা তাত্তাকু মিনহুম তুকাতাঃ অর্তাৎ মুমনিগণ যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোন কাফেরকে বন্ধুরুপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোন রূপ সম্পর্ক থাকবেনা। তবে অনিষ্টের আশংকা থাকলে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে। আল্লাহ তাদের সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন।
*****************************************************************************************
৭।**পিতামাতার মাহাত্ম এবং সনত্মানের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ
ভূমিকাঃ যে আত্মীয় যতই নিকটবর্তী হয় তার হকও ততই মজবুত এবং অধিক হয়। তম্মধ্যে পিতামাতার হক অসীম। তাদের সাথে যে ঘনিষ্টতা বিদ্যমান, তা সর্বপ্রকারের সম্পর্ক অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। শীতকালীন প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে যে পিতামাতার ডান দিকে প্রস্রাব করে দরিে তারা সনত্মানকে বাম দিকে নিয়ে যান, আবার বামে প্রস্রাব করে দিলে তারা সনত্মানকে বাম দিকে নিয়ে যান, আবার বামে প্রস্রাব করলে বুকের উপর উঠিয়ে রাখেন, সনত্মানের প্রয়েঅজনে যারা প্রায়শই রাতের আরামকে হারাম করে বিনিদ্র রজনী যাপন করেন, নিজেরা সাগ্রহে কাটা গলাধঃকরণ করে যারা সনত্মানকে মাছের অতি কোমল অংশটুকু খেতে দিয়ে তৃপ্তি পান, বুকের রক্ত পানি করে যারা সনত্মানদের খেদমত করতে গিয়ে তিরে তিলে নিজেদেরকে নিঃশেষ করে দেন তাদের প্রতি সনত্মানের দায়িত্ব কর্তব্য কতটুকু বা তাদের প্রতি সনত্মানদের কি পরিমান আনুগত্য থাকা দরকার তা পরিমাপ করবার কোন যন্ত্র এখনো আবিস্কৃত হয়নি। আসলে সনত্মান যতদনি বয়স্ক হয়ে নিজে পিতা বা মাতায় রূপানত্মরিত না হবে, ততদিন পিতামাতার মাহাত্ন্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে সঠিক ভাবে কোন কিছু বুঝতে পারা তার পক্ষে মোটেই সম্ভব হবে না। বস’তঃ পিতামাতাকে শ্রদ্ধা করা এবং তাদের আদেশ ও নিষেধ মেনে চলা ওয়াজেব। এ সম্পর্কে আল্লাহ জাল্লা শানুহু কালামে পাকে ঘোষণা করেনঃ (১) ওয়া বিলওয়ালদেইনে এহছানা। অর্থঅৎ এবং পিতামাতা সাথে সদ্ব্যবহার করবে। সূরা বাকারাহঃ আয়াত নং-৮৩ মধ্যাংশ। (২) ওয়া ছাহেমহুমা ফিদ্দুনিয়া মাম্বরুফা। অর্থাৎ “দুনিয়াতে তাদের সাথে সদয় ও সদ্ব্যবহার পূর্ণ সহ অবস’ান করবে। সূরা লোকমান, আয়াত নং-১৫-মধ্যাংশ। (৩) “আনিশকুরলী ওয়ালে ওয়ালে দাইকা। ঃ অর্থাৎ আমার শোকর কৃতজ্ঞতা আদায় কর এবং শোকর আদয় কর পিতামাতারও। ঃ সূরা লোকমানঃ াঅয়াত নং-১৪ শেষাংশ।
(৪) ওয়া কাদ্বা রাব্বুল আল্লা তাম্বুবুদু ইল্লঅ ইয়্যাহু ওয়া বিল ওয়ালে দাইনে এহছানা; ইন্না ইয়াবলুগান্না এনদাকাল কিবারা আহাদুহুমা আওকিলাহুমা ফালা তাকুললাহুমা উফফিওয়ালা তানহারহুমা ওয়া কুললাহুমা কাওলান কারীম। ওয়াখফেদ্বলাহুমা জানাহায্‌ যুল্লে মিনারে রাহমাতে ওয়া কুর রাব্বির হামহুমা কাবা রাব্বাইয়ানী ছাগীরা।ঃ অর্থাৎ তোমার প্রভু আদেশ করেছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারো এবাদাত করবে না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে; তাদের মধ্যে কেউ অথবাউভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয় তবে তাদেরকে উহ্‌ শব্দটিও বলবেনা এবং তাদেরকে ধমক দেবেনা এবং তাদের সাথে শিষ্টাচার পূর্ণভাবে কথা বলবে। তাদের সামনে ভালবাসার সাথে নম্রভাবে মাথা নত করে দেবে এবং বলবে ঃ “হে প্রভু! তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে ছোট বেলায় যত্ন সহকারে লালন পালন করেছিলেন। সূরা-বনী ইসরাঈল আয়াত নং-২৩ এবং ২৪। ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহে আলাইহে বলেনঃ এ আয়াত আল্লাহ তায়ালা পিতামাতার আদব, সম্মান এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করাকে নিজের এবাদতের সাথে একত্রিত করে ফরম করেছেন যেমন উপরে বর্ণিত সূরা লোকমানের ১৪ নং আয়াতের শেষাংশেও নিজের শোকরের সাথে পিতামাতার শোকরকে একীভূত করে তা অপরিহার্য করেছেন। বলা হয়েছেঃ আমার শোখর কর। এবং শোকর কর পিতামাতারও। এতে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তায়ালার এবাদতের পর পিতামাতার আনুগত্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং আল্লাহ পাকের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার ন্যায় পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়াও ওয়াজেব। ছহীহ্‌ বুখারী শরীফের একখানা হাদীস এর পক্ষে সাক্ষ্য দেয় যা পরে ১৬ নম্বরে বনিৃত হয়েছে। এছাড়া প্রবন্দের প্রথম দিকে যে অন্য দুম্বখানা আয়াতে কারীমার অংশ বিশেস উদ্ধুত হয়েছে তাতেও মোটামুটি একই কথা বলা হয়েছে। তাই সে সম্পর্কে আর আলোচনা দীর্ঘ করা হলনা। পিতামাতার প্রতি সনত্মানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে মহানবী হুজুর পোর নূর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বহু মূল্যবান বক্তব্য রেখে গেছেন যেগুলো সম্পূর্ণ উদ্ধার করা এ নরাধমের পক্ষে কোন ক্রমেই সম্ভব নয়।তথাপি সম্মানিত পাঠকবৃন্দের অবগতি হেদায়েতের জন্য এ সম্পর্কে তার মহামূল্যবান বাণীসমূহ থেকে কিছু বক্তব্য নিম্নে পেশ করা হলঃ সরকারে দুম্বআলম, রহমতে আলম, নুরে মুজাচ্ছম হুযুর আকরম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ (১) “সনত্মান তার পিতার হক আদায় করতে পারে না। তবে যদি তার পিতাকে ক্রীতদাস রুপে দেখতে পায় এবং তখন তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দেয়, তাহলে সে তার কিছু হক আদায় করেছে বলে গণ্য করা যায়। (২) বেররুল ওয়ালেদাইনে আফজালূ মিনাছছালাতে ওয়াছ ছাদাকাতে ওয়াছ ছাওমে ওয়াল হাজজে ওয়াল ওমরাতে ওয়াল জিহাদে ফী সাবিলিল্লাহ। অর্থাৎ “নামায, যাকাতও দান খয়রাত, রোজা, হজ্ব, ওমরাহ্‌ এবং আল্লাহর রাসত্মায় জেহাদ হতেও পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা উত্তম। (৩) “জান্নাতে সৌরভ ৫০০ বছরের ব্যবধান হতে পাওয়া যাবে; পিতামাতার অবাধ্য লোক এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী তা পাবে না। ঃ (৪) কেউ যদি হায়াত বৃদ্ধি ও রুজীতে বরকত চায তবে তার উচিত পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।(৫) কোন নেককার সনত্মান যদি তার পিতামাতার দিকে দয়া ও ভালবাসা সহকারে দৃষ্টিপাত করে তবে আল্লঅহপাক তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে তার আমলে নামায় এক একটি কবুলকৃত হজ্ব লিখে দেন। ছাহাবীগণ আরজ করলেন সে যদি দিনে এক’শ বার ঐরুপে দৃষ্টিপাত করে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, একশ বার দৃষ্টিপাত করলে একশ’টি হজ্বের ছওয়াবই লিখিত হবে, কেননা, আল্লাহ মহান ও পবিত্র।(৬) সমসত্ম গোনাহের শাসিত্মর ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা যেগুলো ইচ্ছা করেন কেয়ামত পর্যনত্ম পিছিয়ে নিয়ে যান। কিস’ পিতামাতার হক নষ্ট করা এবং তারে প্রতি অবাধ্য আচরণ করা এর ব্যতিক্রম। এর শাসিত্ম পরকালের পূর্বে ইহকালেও দেয়া হয়।ঃ (৭) যে ব্যক্তি পিতামাতাকে সন’ষ্ট করে প্রাতঃকালে গাত্রোত্থান করে, তার জন্য জান্নাতের দুম্বটি দরজা খোরে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা করে, তার জন্যও তদ্রুপই করা হয়। আর যদি সে একজনকে সন’ষ্ট করে, তবে তার জন্য এক দরজা উম্মুক্ত করা হয়। যে ব্যক্তি প্রাতে তার পিতামাতকে অসন’ষ্ট করে পাত্রোত্থান করে, তার জন্যও তাই করা হয়। আর যদি সে একজনকে অসন’ষ্ট করে, তবে তার জন্য এক দরজা উম্মুক্ত করা হয়। একথা শুনে জনৈক ছাহাবী প্রশ্ন করলেন-জাহান্নামের এ শাসিত্মবানী কি তখনও প্রযোজ্য যখন পিতা-+মাতা এই ব্যক্তিকে অত্যাচারও করে তবু এই শাসিত্ম বানী প্রযোজ্য। এর সারমর্ম এই যে, পিতামাতার কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহনের অধিকার আল্লাহতায়ালা সনত্মানকে দান করেননি। তাই তারা অত্যাচার বা জুলুম করলেও সনত্মান পিতামাতার সেবা যত্নে অবহেলা করে আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নিতে পারবেনা। (৮) “তোমার মাতাকে মান্যকর, তারপর তোমার পিতাকে, তোমার ভগ্নীকে, তোমার ভ্রাতাকে এবং তারপর নিকটতম আত্মীয়কে মান্য করাঃ (৯) “পিতা-মাতার খুশিতে আল্লাহর খুশী এবং পিতা মাতার না খুশীতে আল্লাহ না খুশী (১০) মায়ের পায়ের তলায় সনত্মানের বেহেশত। (১১) সনত্মানের জন্য মাতার দোয়া শীঘ্রই কবুল হয়। (১২) মাতার হক পিতার হক অপেক্ষা দ্বিগুণ। (১৩) আল্লাহর সাথে ান্য কাকেও শরীক করা, পিতামাতার নাফরমানী করা, নির্দোষ ব্যক্তিকে হত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া কবীরা গোনাহ।ঃ (১৪) তিন ব্যক্তির জন্য বেহেসত্ম হারাম ঃ (ক) যে সদাসর্বদা শরাব পান করে, (খ) যে পিতামাতাকে কষ্ট দেয় এবং (গ) যে বেশরম দাইয়্যুছ নিজ পরিবারে অপবিত্রতাকে স’ান দেয়।ঃ (১৫) তিনটি দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়ে থাকেঃ (ক) মজলুমের দোয়া, (খ) মুছাফিরের দোয়া এবং (গ) সনত্মানের প্রতি পিতামাতার দোয়া।ঃ (১৬) কোন এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলঃ- আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ কোনটি? তিনি বললেনঃ (মুসত্মাহাব) সময় হলে নামায পড়া। সে আবার প্রশ্ন করল এরপর কোন কাজটি সর্বাধিক প্রিয়? তিনি ইরশাদ করলেনঃ “পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার।ঃ (১৭) “এক ব্যক্তি রাসুলে খোদা ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করল সনত্মানের উপর পিতা-মাতার হক কি? তিনি বললেন তারা উবয়েই তোমার জান্নাত বা জাহান্নাম। এ কথার তাৎপর্য এই যে, তাদের আনুগত্য ও সেবাযত্ন সনত্মানকে জান্নাতে নিয়ে যায় এবং তাদের সাথে বে আদবীও তাদের অসন’ষ্টি সনত্মানকে জাহান্নামে পৌছৈ দেয়। (১৮) “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি আল্লঅহ তাআলা আনহু এর রেওয়ায়েতে বর্নিত রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ (ক) পিতা জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা। এখন তোমার ইচ্ছা, এর হেফাজত কর অথবা একে বিনষ্ট করে দাওঃ (খ) “আল্লাহর সন’ষ্টি পিতার সন’ষ্টির মধ্যে এবং আল্লাহর অসন’ষ্টি পিতার অসন’ষ্টির মধ্যে নিহিতঃ। এ হাদীস শরীফ দুম্বখানার মূল খতা হল এই যে, পিতাকে ডিঙ্গিয়ে বা তাকে অবহেলঅ করে নাজাত পাবার পন’া নেই। (১৯) একদা নবী পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুক্রবারে মিম্বরের তিন সিড়িতে কদম মোারক রাখবার সময় তিনবার আমীন বললেন। ছাহাবীগন এ আমীন বলার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ (আমি যখন প্রথম সিড়িতে পা রাখি তখন জিব্রাইল আলাইছিস সালাম বললেন-ঐ ব্যক্তির উপর লানত যে, রমজান মাস পেয়েও তার গোনাহ মাফ করাতে পারল না। আমি বললামঃ আমীন। এরপর যখন দ্বিতীয় সিড়িতে পা রাখলাম তখন জিব্রাইল আমীন বললেন ঐ ব্যক্তির উপর লানত যে অপনার নাম মুবারক শুনে দরুদ শরীফ পাঠ করল না। আমি বললাম আমীন। “আমি যখন তৃতীয় সিড়িতে পা রাখি তখন জিব্রাইল আমীন বললেন-ঐ ব্যক্তির উপর লানত যে তার পিতামাতা দুজনকেই পেল বা একজনকে পেল তবু তারা তার বেহেশত যাবার ওছিলা হল না। আমি বললাম আমীনঃ। (২০) “হযরত আবু ছাঈদ রাযি আল্লাহ তায়ালা আনহু বলেছেন যে, ইয়েমেন হতে এক ব্যক্তি জেহাদের উদ্দেশ্যে হিজরত করে অসলে নবী কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তাকে বললেনঃ “ইয়েমেনে কি তোমার পিতামাতা আছেন?ঃ সে বলল হাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ “তারা তোমার পিতামাতার নিকট চলে যাও এবং তাদের অনুমতি নিয়ে এস। তারা অনুমতি না দিলে যথাসাধ্য তাদের খেদমত করবে, কেননা, তওহীদের পরে যে সকল ছাওয়াব নিয়ে তুমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে তার মধ্যে পিতামাতার খেদমতই উত্তম।ঃ (২১) অন্য এক সময় এক ব্যক্তি যুদ্ধে যোগদান করার জন্য হযরতের নিকট পরামর্শ চাইতে আসলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “তোমার কি মাতা আছেন?ঃ সে বলল হা। তখন তিনি বললেনঃ তার নিকট থাক, কেননা, তোমার জান্নাত তার পদতলে অবসি’ত। ঃ (২২) অন্য এক ব্যক্তি হিজরতের বিষয়ে আনুগত্য নেয়ার জন্য হযরতের নিকট এসে বললঃ “আমি আসার সময় আমার পিতামাতা আমার জন্র ক্রন্দন করেছে। হযরত ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাদের নিকট ফিরে যাও এবং তাদেরকে আনন্দ দান কর যেরূপ তাদের কাঁদায়েছ। (২৩) হযরত মালেক বিন রাবিয়াহ রাদি আল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছেন-যখন আমরা রাসুলে কারীমের নিকট ছিলাম তখন বনু ছালমাহ সমপ্রদায়ের একজন লেঅক তার দরবারে এসে আরয করল-হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতামাতার মৃত্যুর পরও তাদের প্রতি আমার কর্তব্যের কোন বিষয় কি বাকী থাকে? তিনি বললেনঃ হাঁ এবং তা হল তাদের জন্র দোয়া করা,তাদের জন্র ক্ষমা প্রাথৃনা করা, তারে ওয়াদা পূর্ণ করা, তারে বন্ধুগনকে সম্মান করা এবং তাদের আত্মীয় স্বজনের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন টিকিয়ে রাখা। ঃ (২৪) “যখন কোন ব্যক্তি তার মুসলমান পিতামাতার জন্য কোন দান খয়রাত করার ইচ্ছা করে, এর ছওয়াব তার পিতামাতা পান এবং তার নিজের ছওয়াব তদ্রুপ হয়, পিতামাতার ছওয়াব হতে কোন াংশ কম হয় না।ঃ (২৫) “পিতামাতার জন্য সনত্মানের নেক দোয়া আখেরাতের জীবনে অমূল্য সম্পদ ভান্ডার হিসাবে বিবেচিত হবে।ঃ (২৬) তাবেয়ী মুহাম্মদ বিন নোমান রাযি আল্লাহ তায়ালা আনহু নবী কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম করে বলেন যে নবীজি বলেছেনঃ “যে বক্তি প্রত্যেক জুমা বারে আপন পিতামাতার অথবা তাদের মধ্যে একজনের কবর জিয়ারত করবে তাকে মাফ করে দেয়অ হবে এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারকারী বলে লিখা হবে।ঃ উপরে কালামে পাক ও হাদীস শরীফ থেকে কম্বখানা উদ্ধুতি পেশ করা হল। এখন অন্যাণ্য সূত্র থেকে পাওয়া অল্প সংখ্যক তথ্য সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে এবং সে গুলো হল ঃ (১) বর্ণিত আছে যে, আল্লাহতাযালা হযরত মুছা আলাইহিস সালামকে বলেছেনঃ “হে মুছা! যে ব্যক্তি তার পিতামাতাকে মান্য করে কিন’ আমার গোনাহ করে, তাকে পিতামাতার বাধ্যগত বলে আমি লিপিবদ্ধ করি।আর যে ব্যক্তি আমাকে মান্য করে কিন’ পিতামাতার অবাধ্য হয় আমি তাকে পিতামাতার অবাধ্য বলে লিপিবদ্ধ করি।ঃ (২) কথিত আছে যে, হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম একদা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম এর নিকট উপসি’ত হলে হযরত ইউসুফ আলাইহিসসালাম তার সম্মানার্থে উঠে দাড়াননি। তখন আল্লাহতায়ালা তার প্রতি ওহী পাঠালেনঃ “তোমার পিতার সম্মানার্থে তুমি দাড়াওনি কেন? আমার কছম, আমি তোমার বংশধরগন হতে কোন নবী করবনা। ঃ (৩) গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা মঈনউদ্দিন চিশতী রহমতুল্লাহে আলাইহে বলেছেন ঃ “পিতামাতার দিকে, কুরআন মাজীদ, কাব্যগৃহ, বুযুর্গ আলেম ও ওসত্মাদের দিকে ভুক্তিপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকানও এবাদত।ঃ উপসংহারঃ কালঅমে পাক ও হাদীস শরীফ থেকে পিতামাতার খিদমত, গুরুত্ব ও মর্যাদা এবং তাদের প্রতি সনত্মানের দয়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস’াপন করতে গিয়ে সেগুলোর যথার্থতার প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতে আমি চেষ্টার ত্রুটি করিনি। এ প্রবন্ধ খানা পাঠ করে সম্মানিত পাঠকবৃন্দ যদি সামান্যতম উপকারও পান তবেই আমি আমার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করব। পরম করুনাময়রে দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থণা করি তিনি আমাদের সবাইকে আমাদের পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযোগ্য ভাবে পালন করে পরকালে জান্নাত লাভ করার তৌফিক এনায়েত করুন। আমীন।

*************************************************************************************
৮।**সূফীবাদ, বাউলবাদ ও মানবতত্ত্ব ঃ
সূফীবাদ অনুসারে, প্রেমই মানুষের মূল পরিচয়, প্রেমই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। মানুষ আল্লাহর অননত্ম প্রেমের প্রতীক, আর এই প্রেমের মধ্য দিযেই বান্দার পক্ষে খোদার দিদার লঅভ সম্ভব। সম্ভব এজন্য যে, খোদা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার নিজের আদলে এবং মানুষের অনত্মরাত্মায় স’াপন করেছেন তার জাত ও সিফাত। তার মানে খোদা দূরে নয়; মানুষের মধ্যেই আছেন। অসীম কোধা ও সসীম বান্দার মধ্যে যে দূরত্ব তাই সূফীকে চালিত করে কোদার স্বরূপ উপলবিদ্ধ করার পর্যায়ে। এ পর্যায়ে (ফানা ও বাকা) উপনীত হয়েই মনসুর আল হাল্লাজ ঘোষনা করে দিলেন “আনাল হক্ক”। সূফীবাদ যেমন, বাউলবাদও তেমনি জোর দেয় প্রেমের ওপর। এই প্রেম দেহোত্তীর্ণ ও অতীন্দ্রিয় বটে; কিন’ এর সূত্রপাত মানবদেহ থেকেই খোদার পীরিত (ঐশীপ্রেম) উদ্ভুত ও বিকশিত হয় ভাবের পীরিত (দৈহিক প্রেম) থেকেই। বাউল সম্রাট লালন মাঞ (১৭৭৪-১৮৯০) এর মতে, মানুষের এসেন্স বা অনত্মঃসার তার দেহেই নিহিত, এবং মানবাত্মা ও পরমানত্মার মধ্যে কোনো ভেদ নেই। খোদার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে মানুষের দেহেই খুজে পাওয়া যায় পরমস্রস্টাকে কোধাকে, দেহ মন অনত্মরাত্মাকে জরীপ করেই এবং দেহসাধনার মধ্য দিয়েই অনুসন্ধান করতে হয় বিশ্ববিধাতাকে। এ প্রসঙ্গে লালন শাহের বিখ্যাত গানঃ খাচার ভিথর অচিন পাখি কেমনে আসে যায় ধরতে পারলে মন বেড়ী দিতাম তাহার পায়। আঠ কুঠরী নয় দরজা আটা মধ্যে মধ্যে ঝড়কা কাটা, তাহার উপর আছে সদর কোঠা আয়না মহল তায়। মন তুই রইলি খাচার আশে খাচা যে তোর তৈরী কাচা বাশে কোনদিন খাচা পড়বে খসে লালন কয়, খাচা খুলে সে পাখী কোন খানে পালায়। লালনের এই মতের সঙ্গে গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর মতের সাদৃশ্য দেখা যায়। একটু আগে আমরা দেখেছি প্লেটের মতে জড়দেহ আত্মার পিঞ্চার বা কয়েদখানাস্বরূপ। মৃত্যুতে দেহবিনাশের সঙ্গে আত্মার প্রজ্ঞাংশ মুক্ত হয়ে যায় দেহ থেকে এবং ফিরে যায় স্বর্গীয় আদি নিবাসে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের মধ্যেও এ মতের প্রতিধ্বনি শোনা যায়; সীমার মাঝে, অসীম, তুমি বাজাও আপন সুর। আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর।বস’ত, সৃষ্টির মধ্যেই নিহিত পরমস্রষ্টার সত্তা; সৃষ্টি ব্যতিরেকে স্রষ্টা ব্যতিরেকে সৃষ্টা মহাশুণ্য ছাড়া আর কিছুই নন। মুসলিম সুফিয়া মানুষকে দেখেছেন আল্লাহর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এবংয় বলেছেন মানুষ আল্লাহ থেকে দুরে থাকে শুধু ততক্ষণই, যতক্ষণ তার দৃষ্টি আচ্ছন্ন থাকে অজ্ঞতার অভিশাপ দ্বারা। অজ্ঞার এই আবরণ উম্মোচন করে মানুষ যখনই প্রবেশ করে জ্ঞানের আলোকে, তখনই বিলীন হয়ে যায় সসীম মানুষ ও অসীম স্রষ্টার যাবতীয় ভেদাভেদ এবং তখনই মানুষ নিজেকে শনাক্ত করে পরমস্রষ্টা আল্লাহর অবিচ্ছদ্য অংশ হিসেবে। একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায় ফকির লালন শাহের ধ্যান-ধারণা ও কর্মসাধনায়। এ প্রসঙ্গে তাঁর বাণীঃ ক্ষেপা তুই না জেনে তোর আপন খবর যাবি কোথায়? আপন ঘর না ভুজে বাহিরে খুজে পড়বি ধাধায়। অন্যন্য সূফী ও বাউরদের কাছে যেমন লালন শাহের কাছেও তেমনি ধর্ম-বর্ণ গোত্র নয়, মানুষ ই ছিল প্রধ্‌ন। চন্ডীদাসের সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। মূলত এই বাণী বিঘোষিত অধিকাংশ লালন গীতিতে। এ ধরনেরই একটি গানঃ এমন মাবন আর কি হবে মন যা কারো ত্বরায় কারো এই ভবে। অননত্ম রূপ সৃষ্টি করলেন সাই শুনি মানবের উত্তম কিছুই নাই, দেব দেবতাগন করে অঅরধন জন্ম নিতে মানবে। এই মানুষে হবে মাধুজ্জ ভজন তাইতো মানুষরূপ গটলৈ নিরঞ্জন। এবার ঠকলে অঅর না দেখি কিনার। অধীন লালন তাই ভাবে। লালন পরবর্তী মরমি কবি ও আধ্যাত্মিক সাধকদের মধ্যে পাঞ্জু শাহ (১৮৫১-১৯১৪) বিশেষ ভাবে পরিচিত। লালনের মৃত্যুর পর তার ভাবশিষ্য হিসেবে পাঞ্জুশাহ এ অঞ্চলের বাউল সূফি ফকির মহলে বিশেস মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। লালন শাহ যেমন পাঞ্জু শাহ ও তেমনি অসীম পরমসত্তাকে খুজে পেতে চান সসীম মানুষের মধ্যে, পরম প্রেমাস্পদকে শনাক্ত করেন আত্মসত্তার মধ্যে, নির্ভেজাল প্রেম ও সাধন-ভজনের মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে তার কয়েকটি অনবদ্য উক্তিঃ জগৎ কর্তা পতিত পাবন, এই মানুষে করে বিরাজমান আবার, এই মানুষে সেই মানুষ আছে, সে ঘরের মাঝে ঘর বাধিয়ে কাজল কোঠায় রয়াছে। বৈষ্ণব ও সূফিদের আধ্যাত্মিক সাধনা যেমন পাঞ্জু শাহের সাধনাও তেমনি ছিল প্রেম ভুক্তির সাধনা। দৃষ্টানত্মস্বরূপ, বৈষ্ণব মতে জ্ঞানে নয়, কর্মেও নয়, প্রেমভক্তির মাধ্যমেই কেবল পরমসত্মার সান্নিধ্য অর্জণ সম্ভব। আর এ লক্ষ্য হাসিল করতে হলে ভক্তের উচিত ভগবানের মাধুর্যরূপ প্রত্যক্ষ করা। ভগবানের রূপ সব বস’তে উপসি’ত, আর তাই তার ভারবাসার প্রথম সোপান হিসেবেই ভারবাসতে হবে জগতের সকলকে। পাঞ্জু শাহের অভিমত ও অনুরূপ। তার মতে, জ্ঞানের কথা বলি আর শক্তির কথাই বলি, উভয় দিক থেকেই পরমসত্তা অসীম অপার । ফলে সসীম মানুষের চলতি ইন্দ্রিয় কিংবা সামান্য ভেদবুদ্ধি দিেয় এই অননত্ম অসীম সত্তার নাগাল পাওয়া অসম্ভব। কিন’ প্রেমের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রেমলীলায় অসীম নিজেই এসে ধরা দেন সসীমকে। পরমস্রষ্টা আল্লাহ তারই সৃষ্ট মানুষের প্রেমাস্পদস্বরূপ; আর এজন্য। তাকে পেতে হয় প্রেমের পথে স্বজ্ঞা বা অপরোক্ষ প্রেমানুভূতির মাধ্যমে এ প্রসঙ্গে পাঞ্জু শাহের বাণীঃ দধূর কর তছবি মালা মন-মালায় ধন মিলে। মনের মানুষ দমে জপে, বসাও হৃদকমলে। বাংলাদেশের লোক কবি ও আধ্যঅত্মিক সাধকদের মধ্যে এরপর যার নাম উল্লেখ্য, তিনি হলেন বৃহত্তম সিলেট জেলার সুনামগঞ্জের জাতক হাসান রাজা (১৮৫৪-১৯২২)। গ্রাম বাংলার এই অখ্যঅত মনীষীর নাম ও মনীষা প্রথম শিক্ষিত মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মূলত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সৌজন্য ও আশীবাদে। উপলক্ষটা ছিল ১৯২৫ সালে বেনারসে অনুষ্ঠিত ভারতীয় দর্শন কংগ্রেরেসর প্রথম মহাসম্মেলন। ওই সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ যে লিখিত অভিভাষণ পাঠ করেন, তাতে তিনি আনুষ্ঠানিক দর্শন চিনত্মার বাইরেও গ্রাম বাংলায় বাউলবাদ নামে যে তত্ত্বচিনত্মার একটা স্বতন্ত্র লোকজ ধারা প্রচলিত আছে, তার কথা প্রশংসার সাথে উল্লেখ করেন। উক্ত ভাষনে রবীন্দ্রনাথ ইতিপূর্বে অপরিচিত লোক কবি হাসান রাজার কাব্য সংকলন থেকে কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করে তার মনীষার প্রশংষার করেন। যাই হোক, লালন ও পাঞ্জু শাহের গানগুলো যেমন হাসান রাজার গানগুলোও তেমনি দার্শনিক তত্ত্ব ও প্রসাদগুণে সমৃদ্ধ; এবং এ দুই পূর্বাচার্যের মতো তিনিও পরমসত্তা ও পরমাত্মার অনুসন্ধানের পাশাপাশি মানবসত্তা অহং আত্মত্ত্ব প্রভৃতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। আমরা জানি বাউল মতে, শেষ বিশ্লেষণে মানবাত্মা ও পরমাত্মার মধ্যে কোনো ভেদ নেই যেটুকু ভেদ প্রতীয়মান হয় তা মানুষী অজ্ঞতা বা জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে। এ মতেরই চমৎকার প্রতিধ্বনি শুনি হাসান রাজার গানেঃ আপন চিনিলে দেখ খোদা চেনা যায়। হাসান রাজায় আপন চিনিয়ৈ এই গান গায়। কিন’ নিজেকে চেনার মাধ্যমে পরমসত্তাকে চেনার এবং তার সঙ্গে মিলিত হওয়ার লক্ষ্যে অর্জণ সহজ কাজ নয় মোটেই; কারণ পাশ্চাত্য দার্শনিক প্লেটো এবং ফকির লালন শাহসহ অন্যান্য বাউলদের মতো হাসান রাজাও মনে করেন যে, সসীম মানবাত্মা বন্দি হয়ে আছে মানবদেহের পিঞ্জরে এবং এ থেকে মুক্তি পেতে হলে চাই যথার্থ প্রেমানুভুতি, চাই নির্ভেজাল সাধন ভজন। এ প্রসঙ্গে হাসন রাজার আক্ষেপ ঃ- মাটির পিঞ্জিরায় বন্দি হইয়া রে কান্দে হাসান রাজার মন ময়না রে। দেহের বন্ধনমুক্ত হয়ে পরমস্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের যে আকাঙ্খা প্রবলভাবে আন্দোলিত করে সূফি ও বৈষ্ণব মনকে, তা-ও বিশেষভাবে লক্ষণীয় হাসান রাজার গানেঃ আমি যাইমু ও যাইমু আল্লাহর সঙ্গে আল্লাহ বিনা হাসান রাজা কিছু নাহি সঙ্গে। বাউল মতে, মানবাত্মার মধ্যেই রয়েছে পরমাত্মার ঠাই, মানুষের মধ্যেই অনুসৃত আলেক সাই। এর অর্থ দাড়ায় এই যে মানবজীবনের ও মানবজ্ঞানের ভিত্তিতেই ও বিশ্বচরাচরের সবকিছু সত্য। এ মর্মবানীই বিঘোষিত হাসান রাজার গানেঃ মম আখি হইতে পয়দা আসমান জমিন কর্ণতে হইল পয়দা মুসলমানী দ্বীন শরীরে করিল পয়দা শক্ত আর নরম আর পয়দা করিয়াছে ঠান্ডা ও গরম নাকেতে করিল পয়দা খোশবয় বদবয় আমি হইতে সর্বোৎপত্তি হাসন রাজায় কয়। গানের আপাত অর্থ-বিশ্লেষন থেকে হাসন রাজাকে একজন আতমগত ভাববাদী বলে মনে হতে পারে। ক্তিু প্রকৃতপক্ষে তিনি তা নন। কারণ, তার মতে আত্মসত্তা পরমসত্তার আধার হলেও পরমসত্তার ব্যাপ্তি ও উপসি’ত আত্মসত্তার মদ্যেই সীমিত নয় তিনি পর বলছেন- মিসছামিছি বলি আমি, সর্বব্যাপী হওরে তুমি সকলই তুমি অনত্মর্যামী, তুমি ভিন্ন কিছু নয়রে। হাসন রাজা নামটি দিয়ে রহিয়াছ ছাপাইয়ে সবই কর পরদা দিযে, দোষের ভাগী হওনারে।
এর অর্থঃ সর্বব্যাপী ও অনত্মর্যামী সত্তাই একমাত্র সত্য। সে সতত্তাই বিশ্বকে সৃষ্টি করছে। বস’ত, হাসান াজার সর্বব্যাপী সত্তার ভিত্তিমূলক রয়েছে মানবসত্তা তার ইন্দ্রিয়সৃষ্ট জীবন এবং তার মনন, তার সামগ্রিক জীবন এই মানবিক ভাবধারায় হাসান রাজা সত্যিই অন্যান্য। এখানে এসে একাকার হয়ে যায় সূফীবাদ, বাউলবাদ, মাইজ মিসছামিছি বলি আমি, সর্বব্যাপী হওরে তুমি সকলই তুমি অনত্মর্যামী, তুমি ভিন্ন কিছু নয়রে। হাসন রাজা নামটি দিয়ে রহিয়াছ ছাপাইয়ে সবই কর পরদা দিযে, দোষের ভাগী হওনারে। এর অর্থঃ সর্বব্যাপী ও অনত্মর্যামী সত্তাই একমাত্র সত্য। সে সতত্তাই বিশ্বকে সৃষ্টি করছে। বস’ত, হাসান াজার সর্বব্যাপী সত্তার ভিত্তিমূলক রয়েছে মানবসত্তা তার ইন্দ্রিয়সৃষ্ট জীবন এবং তার মনন, তার সামগ্রিক জীবন এই মানবিক ভাবধারায় হাসান রাজা সত্যিই অন্যান্য। এখানে এসে একাকার হয়ে যায় সূফীবাদ, বাউলবাদ, মাইজ মিসছামিছি বলি আমি, সর্বব্যাপী হওরে তুমি সকলই তুমি অনত্মর্যামী, তুমি ভিন্ন কিছু নয়রে। হাসন রাজা নামটি দিয়ে রহিয়াছ ছাপাইয়ে সবই কর পরদা দিযে, দোষের ভাগী হওনারে। এর অর্থঃ সর্বব্যাপী ও অনত্মর্যামী সত্তাই একমাত্র সত্য। সে সতত্তাই বিশ্বকে সৃষ্টি করছে। বস’ত, হাসান াজার সর্বব্যাপী সত্তার ভিত্তিমূলক রয়েছে মানবসত্তা তার ইন্দ্রিয়সৃষ্ট জীবন এবং তার মনন, তার সামগ্রিক জীবন এই মানবিক ভাবধারায় হাসান রাজা সত্যিই অন্যান্য। এখানে এসে একাকার হয়ে যায় সূফীবাদ, বাউলবাদ, মাইজ মিসছামিছি বলি আমি, সর্বব্যাপী হওরে তুমি সকলই তুমি অনত্মর্যামী, তুমি ভিন্ন কিছু নয়রে। হাসন রাজা নামটি দিয়ে রহিয়াছ ছাপাইয়ে সবই কর পরদা দিযে, দোষের ভাগী হওনারে। এর অর্থঃ সর্বব্যাপী ও অনত্মর্যামী সত্তাই একমাত্র সত্য। সে সতত্তাই বিশ্বকে সৃষ্টি করছে। বস’ত, হাসান াজার সর্বব্যাপী সত্তার ভিত্তিমূলক রয়েছে মানবসত্তা তার ইন্দ্রিয়সৃষ্ট জীবন এবং তার মনন, তার সামগ্রিক জীবন এই মানবিক ভাবধারায় হাসান রাজা সত্যিই অন্যান্য। এখানে এসে একাকার হয়ে যায় সূফীবাদ, বাউলবাদ, মাইজভান্ডারী,তথা আধ্যাত্মিক মানবিক সাধনার সব স্রোতধারা।

*****************************************************************************************
৯।**কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পীর বুজুর্গকে বাবাজান সম্বোধন করা শরীয়ত সম্মত।
‘বাবা’ শব্দটির আভধানিক অর্থ হচ্ছে সস্মানিত ব্যক্তি। এ জগতে নবী, রাসুলদের পরে আল্লাহর অলিদের স’ান সবার উর্দ্ধে। বর্তমান বিশ্বে হক্কানী মুর্শিদ ও পরীরানে ত্বরিকত সবচেছে সম্মানিত ব্যক্তি। সুতরাং জন্ম দাতা পিতা-মাতা ছাড়াও পরী বুজর্গ, শিক্ষক, বযস্ক মুরুব্বীদেরকে শ্রদ্ধ ভরে বাবা বা বাবাজান বলে সম্বোধন করা শরীয়ত মতে জায়েজ। তদ্রুপ ছোটদেরকে স্নেহ ভরে বাব বলে ডাকা হয়। এতে কোন দোষ বা ত্রুটি নেই। আবরসহ যে কোন দেশেই এর প্রথা বা প্রচলন রয়েছে এবং বাব শব্দটি কেবল পিতার জন্যেই ‘খাছ’ বা নির্দিষ্ট নয়। অধিকন’ পীর বুজুর্গ ও শিক্ষকগন হলেন আধ্যাত্মিক পিতা স্বরূপ। আমরা প্রত্যেকটি জন্মদাতা জনককে পিতা, আব্বা, বাবা, বাবাজান ইত্যাদি বলে ডাকি। কিন’ কিছু সংখ্যক অজ্ঞ, অল্প বিদ্যার অধিকারী ব্যক্তি নিজেরা জ্ঞানী নাম ধারণ করে জন্ম দাতা পিতা ব্যতীত কাউকে বাবা বলে রাজী নয়। অথচ সচরাচর তারা নিজেরা অনেকেই বাব বলে ডাকেন। ঐ সকল স্ব-ষোষিত পন্ডিলবর্গসহ আমরা সকলেই নিজ সন-ান আপন শ্বশুর, ছোট বাচচা, পিতৃতুল্য মুরব্বী স্নেহাসম্পদ ছাত্র ও মুরিদদেরকে বাবা বলে ডাকি। অথচ তাদের কেউ আমাদেরকে জন্ম দেয়নি বা আমরা তাদের সন-ান নই। জন্মদাতা পিতা ছাড়া ও অনেককেই বাবা বলা যায়। তার বহু প্রমাণ কুরআন ও হাদিস শরীফে বিদ্যমান রয়েছে। পৃথিবীর সর্ব প্রথম মাবন হচ্ছেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মজিদে এভাবে ইরশাদ করেছেন- অর্থাৎ হে মানবগণ! নিজ প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে একই প্রাণী (হযরত আদম আঃ) থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং এ দু’জন থেকে বহু নর-নারীর বিস-ার লাভ করেছেন। উল্লেখ্য হযরত আদম (আঃ) কে আদি পিতা বলে আখ্যায়িত করি, যদিও তিনি মা হওয়া (আঃ)’র ওরশজাত সন-ান ব্যতীত আর কারও জন্ম দাতা জনক নহেন। আথচর আল্লাহ; রাব্বুল আলামীন সর্ব প্রথম তাঁর প্রিয় হাবীব (দঃ) এর নুর মোবারক সৃষ্টি করেন। আবার নূরে মুহাম্মদী (দঃ) থেকে মানব জাতিসহ সকল মাখলুক সৃষ্টি করেছেন। তাই জাহের বা প্রকাশ্য রাসূলে পাক (দঃ) হযরত আদম (আঃ) এর সন-ান, কিন’ হাক্বিকাতে রাসুল (দঃ) তিনি হযরত আদম (আঃ) এর পিতা হন। তাই রাসূলে পাক (দঃ) সম্পর্কে আল্লাহ তা’য়ালা কুরআন শরীফে ইরশাদ করেছেন- অর্থাৎ- নবী পাক (দঃ) মু’মিনদের প্রাণের চেয়েও অধিকতর নিকটবতী এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের (মুমিনদের) মাতা। (পারা-২১, সূরা আহযাব-আয়াত-৬) উল্লেখিত আয়াতে এখন প্রশ্ন জাগে নবী করীম (দঃ)’র পবিত্র স্ত্রীগণ যদি মুমিন মুসলমানের মাতা হন, তাহলে নবী করীম (দঃ) কি? নিঃসন্দেহে এ প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়, নবী পাক (দঃ) তা হলে বাবা। এই পিতৃত্বের সাথে রয়েছে আধ্যাত্মিক ও রুহানী সম্পর্ক। সুতরাং হযরত মুহাম্মদ (দঃ) হলেন সমগ্র মুমিন মুসলমান জাতির আধ্যাত্মিক পিতা। পৃথিবীর কোন মুমিন মুসলমান তথা মানবের রাসূলে পাক (দঃ) এর পবিত্র স্ত্রীগণকে বিয়ে করা শরীয়তের বিধান মতে সম্পূর্ণ হারাম। যদিও তাঁরা গর্ভধারিনী মাতা নহেন, তবুও পৃথিবীর প্রত্যেক মুমিন মুসলমান তাদেরকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করতে বাধ্য। এবং তাদনুযায়ী শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করা বাঞ্চনীয়। সর্বপ্রথম আল্লাহ তা’য়ালা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে মুসলমানদের ‘জনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তোমাদের (মুসলমানদের) ‘জাতির পিতা’। (পারা ১৭, সূরা আল-হজ্ব-আয়াত-৭৮) তাই কুরআন শরীফে ঘোষণা অনুযায়ী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কেও বাবা বলা যাবে। সুতরাং যারা বলে জন্মদাতা পিতা ব্যতীত অন্য কাউকে বাবা বলা যাবে না, তারা ভ্রান- ধারণার বশীভূত হয়ে বলে থাকেন। আল্লাহর প্রিয় বন্ধু অলি আল্লাহ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেছেন-অর্থাৎ সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহর অলিদের কোন ভয় নেই, আর তাঁরা চিনি-তও হবেন না। যারা ঈমান এনেছেন এবং মুক্তাকীন হয়েছেন, তাদের জন্য ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে সু-সংবাদ রয়েছে। আল্লাহর বানী সমূহ পরিবর্তন হতে পাওে না, আর সেটাই মহান সফলতা। (পারা-১১, সূরা ইফনুস-৬২) হযরত রাসূলে মকবুল (দঃ) পবিত্র হাদিস শরীফে আউলিয়া এ-কোরামের সম্পর্কে এরশাদ করেছেন-অর্থাৎ ঃ হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলে পাক (দঃ) এরশাদ করেন- আল্লাহর বান্দাগণের মধ্যে এমন কিছু সংখ্যক সাধক রয়েছেন যারা নবী ও শহীদ নয়। কিন’ কিয়ামত দিবসে দরবারে এলাহীতে তাঁদের উঁচু মর্যাদা দেখে নবী ও শহীদগণ ঈর্ষা করবেন। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম তারা কারা? রাসূলে পাক (দঃ) তার জবাবে বলেন-তাঁরা এমন এক সমপ্রদায় যারা আত্মীয়তার বন্ধন এবং সম্পদের প্রাচুর্য ছাড়াই আল্লাহর অনুগ্রহে মানুষের প্রিয়জন হয়েছেন। আল্লাহর শপথ! তাঁদের চেহারাগুলো হবে নূরানী আর তাঁরা হবেন নূরের উপর প্রতিষ্ঠিত। আর তাঁরা হবেন শংকামুক্ত, যখন সাধারণ মানুষ থাকবে ভীত সন্ত্রস- এবং তারা হবেন দূর্ভাবনা মুক্ত, যখন হাশরবাসী থাকবে চিনি-ত ও বিচলিত। অত:পর নিম্নোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করেন-
অর্থাৎ ঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর অলিদের কোন ভয় নাই, আর তাঁরা চিনি-তও হবে না। (মেশকাত শরীফ-৪২৬) সুতরাং উল্লেখিত কুরআন ও হাদিস শরীফ এবং শরীয়তের বিধান মতে অলি আল্লাহরদের শান-মান আল্লাহ এত বুলন্দ করেছেন যাদের সম্মান এত উর্দ্বে তাঁদেরকে সম্মান সূচক শ্বদ বাবা বলে সম্বোধন করা উচিত। এতএব, আপন পরী মুর্শিদকে বাব বা বাবাজান বলে ডাকা দোষ বা পাপ নয় বরং যারা একাকে অস্বীকার করে তারা আবশ্যই আউলিয়া এ কেরামের প্রকাশ্য শত্রু বা দুশমন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় হাবী (দঃ) ও আউলিয়া-এ-এ কেরামের উছিলায় আমাদেরকে যথাযথ জ্ঞান আর আমল করার তৈৗফিক দান করুন। আমিন। “কিছু সংখ্যক অজ্ঞ, অল্প বিদ্যার অধিকারী ব্যক্তি নিজেরা জ্ঞানী নাম ধারণ করে জন্মদাতা পিতা ব্যতীত কাউকে বাব বলতে রাজী নয়। অথচ সচরাচর তারা নিজেরা অনেককেই বাব বলে ডাকেন। ঐ সকল স্ব-ঘোষিত পন্ডিতবর্গসহ আমরা সকলেই নিজ সন-ান আপন শ্বশুর, ছোট বাচ্ছা, পিতৃতুল্য মুরব্বী স্নেহাস্পদ ছাত্র ও মুরিদদেরকে বাব বলে ডাকি। অথচ তাদের কেই আমাদেরকে জন্ম দেয়নি বা আমরা তাদের সন-ান নই। জন্মদাতা পিতা ছাড়া ও অনেককেই বাবা বলা যায়। তার বহু প্রমাণ কুরআন ও হাদিস শরীফে বিদ্যমান রয়েছে।”
****************************************************************************************
১০।**সুফীবাদ ও মাইজভান্ডার প্রেমবাদঃ
“সুফী” শব্দটির উৎপত্তি সম্পকেৃ বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। তবে প্রধানতঃ ৬টি মতবাদই অধিক আলোচিত। প্রথমতঃ বলা হয় ‘সাত্তফ’ অর্থাৎ পশম শব্দ হতে সুফী ও সুফীবাদের উৎপত্তি। সুফীরা মোটা পশমের কাপড় পরিধান করতো বলে ঐ পশমি শব্দ থেকে এর উৎপত্তি। দ্বিতীয় মতবাদঃ হলো ‘সাফায়ী’ অর্থাৎ পরিচ্ছন্নতা থেকে শব্দটির উৎপত্তি। পুফীরা পংকিলতা মুক্ত, পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জীবন যাটন করতো বলে তাদেরকে সুফী ও তাদেও মতবাদকে সুফীবাদ বলা হলো। তৃতীয় মতবাদঃহলো ‘সুফী’ শব্দটি উৎপত্তিগত ভাবে ‘সুফ্‌ফা’ অর্থাৎ চাদোয়া হতে উৎপন্ন। রসুল (দঃ) এর মদিনার জীবন যাপন কালে কতিপয় সাহাবা সার্বক্ষণিক ভাবে দুনিয়াদারী পরিহার কওে মসজিদে নব্বীর বারান্দায় চাঁদোয়ার নীচে অবস’ান করতেন। রসুলে পাক প্রয়োজনে তাদেরকে তালিম দিতেন। তারা তাবলীগ, জিহাদ ও ইক্কামতের কাজে নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছিল। এই ‘আসহাবে সুফফা’ থেকে সুফী ও সুফিবাদেও উৎপত্তি। চতুর্থতঃ বলা হয় যে, ‘সুফ’ তথা শ্রেনীবদ্ধ হওয়া থেকে সুফী শব্দের উৎপত্তি। সুফীয়া বিশুদ্ধ আচরনের দিক থেকে প্রথম কাতারের মুমিন। এই কাতার তথা শ্রেণী হতে সুফী শব্দ উৎপত্তি লাভ করেছে। এ সম্পর্কিত পঞ্চম মতবাদ হলো ‘সাফিয়া’ তথা জ্ঞানী বা সাধক শব্দ হতে সুফি শব্দের উৎপত্ত্‌ অির্থাৎ সুফীরা মোটআ পশমী কাপড় পরিধান করতেন এবং তাদেও আত্মাও চরিত্র ছিল পরিচ্ছন্ন, পরিশুদ্ধ ও নির্মল। মুসলিম দার্শনিক আল্লামা ইবনে খালদুনের মতামতও তাই। তার মতে পশমী পোষাক ও সাদা- সিদা পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন হতে এ শব্দদ্বয়ের বুৎপত্তিগত উৎপত্তি।
সুুফীবাদ বা তাসাউফের উৎস কোরান, হাদিস এবং হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর পরিত্র জীবন দর্শন। বোখারী শরীফোর ৯৫নং হাদিসে হযরত আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত আছেঃ হুজুর পাক (দঃ) এর নিকট হতে তিনি দু’প্রকার জ্ঞান অর্জন করেছেন-একটি বাইরের জ্ঞান অর্থাৎ জাহেরী এবং আর একটি ভিতরের জ্ঞান অর্থাৎ বাতেনী। এই বাতেনী জ্ঞান সকলের জন্য ছিলনা। হযরত আবু হোরায়রার মত কিছু সাহাবীর এটি জানা ছিল। এর এই বাতেনী তথা মা’রিফাত থেকে সুফীবাদেও প্রসার ও বিস-ার। সুফীবাদ সূলতঃ পাপ-পংকিলতামুক্ত জীবন যাপন ও শরীয়াতের অন-র্নিহিত রহস্য ও তাৎপর্যেও উপলব্দি এবং প্রেম-মহব্বত ও একাগ্রচিত্তের সাথে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য এ চার সন’ষ্টি বিধানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ। স্বেচ্ছায় খোদা প্রেমের উত্তাল তরঙ্গে হৃদয়-মন সপে দেয়া। স্রষ্টার মর্জিও রেজামন্দিহাসিল হচ্ছে ‘তাসওউফ’ বা মা’রিফাত তথা সুফীবাদ। পবিত্র আল-কোরআনের বেশ কিছু আয়াতের গভীর বিশ্লেষণ সুফীবাদেও অন-র্নিহিত বক্তব্যের সমর্থক। যেমন আল কোরআনের সুরা ফজর-এর ২৭ ও ২৮ আয়াতে আপন প্রভুর দিকে ফিরে আস; তুমিও তাহার উপর সস’ষ্ট, তিনিও তোমার উপর সন’ষ্ট। আয়াতটি জ্ঞানীদেও জন্য ভাববার বিষয়, সুফীদেগর দকি নিদর্শন। বস’তঃ হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এবং অন্যান্য নবী-রাসুলের জীবন দর্শনেও সুফীবাদেও ইংগিত ও নিদর্শন রয়েছে। যেমন, হেরা গুহায় হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর ধ্যানমগ্ন হওয়া, বিরাট নেয়ামত ও বিরাট সাম্রাজ্যেতর অধিপতি হয়েও গায়ে তালি দেয়া জামা পরিধান করা, সময়-সময় উপবাসে থাকে, হযরত মুসা (আঃ) ও খিজির (আঃ) এর রহস্যময় কাহিনী ইত্যাদিতে বস’তঃসুফীবাদেও উৎস ও নিযুঢ় তত্ত্ব নিহীত। সুফী সাধকা দুনিয়ার স্বল্প স’ায়ী জীবনকে তুচ্ছ করে আখেরাতের চিরস’ায়ী জীবনের জন্য হাদিয়া সংগ্রহ ও স্রষ্টার সন’ষ্টির জীবন উৎসর্গ করেন। এই তৌফিক যারা পায় তারা ধন্য, যারা অনুসন্ধানে তারা শ্রদ্ধেয়। সুফীবাদ আলোচনায় অবশ্যম্ভাবীভাবে যেটি চলে মাসে তা হলো মাইজ ভান্ডারের প্রেমবাদ ও মাইজভান্ডারী দর্শন। চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি থানার একটি গ্রাম মাইজভান্ডার আজ শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর মানচিত্রের বিভিন্ন দিগনে- নিজকে স’ান কওে নিয়েছে। মহাপুরুষদেও পূণ্যপদরেনু স্পর্শে ধন্য মাইজভান্ডারের পবিত্র পীঠস’ান জগতের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে সুন্দও ও প্রেমের সুষমায় মুগ্ধ করেছে। প্রেম ও সত্যিই এখানে সবার লক্ষ্য। ভক্তি ও প্রেম দ্বারাই সে স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করা যায়। শানি- নীড়ে অবস’ান করা যায় পৃথিবীর বুকে অশানি-ও, হিস্রতার ও বিদ্ধেষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে নৈতিকতাও মানবিক মূল্যবোধ আবার সহ-অবস’ানের ধারা প্রবর্তন করা যায়। মাইজভান্ডারী দর্শন তারই পথ প্রদর্শক। বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রানে- ও একবিংশ শতাব্দীর সূর্যোদয়ের মানে মানব সভ্যতা ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির চরম বিকাশেল সময় ও ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত বিদ্বেষ ও হানা-হানিতে প্রতি নিয়ত মানবচতার লাঞ্চনা বিবেকরানদের জন্য অসহনীয় মর্মপীড়ার কারণ এবং সভ্য সমাজের লজ্জ্বার বিষয়, এ প্রেক্ষিতে প্রেম ও সমপ্রীতির বাণী এবং এতদ সংক্রান- আদর্শের প্রচার ও পসার একান-ই কাম্য। ইসলাম ধর্মের চিরন-ন বাণী শানি–সমপ্রীতি, স্রষ্টার আত্ম সমর্পন, সৃষ্টিতে প্রেম সুফীবাদ ও মাইজভান্ডারী দর্শনের আধার। তাই পাওে অশান- পৃথিবীকে আলোর সন্ধান দিতে। মাইজভান্ডারী দর্শনের মূলে রয়েছে-১) মানব শ্রেষ্ঠত্ব ২) একাত্ববাদী ধর্ম- সাম্য ৩) বিচার সার্ম ৪) অর্গলমুক্ত ইসলামী প্রেমবাদ ৫) রহস্যময় কৌশল ও ৬) সপ্ত পদ্ধতির বিশ্বব্যবস’া। মাইজভান্ডারী দর্শন ও প্রেম-প্রীতরি এক নিদর্শন। এখানে প্রাণ দিয়ে প্রাণকে শাসন, আত্মা দিয়ে খোদা প্রেমের এক নৈশ্যনিক শিক্ষা দেয়া হয়। ভক্তি ও প্রেমের মাধ্যমে মেযন স্রষ্টকে পাওয়া যায় তেমনি বাহ্যিক দিকে এরই মাধ্যমে শানি- ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এই স্রষ্টা প্রাট্‌িত ও মানব কল্যাণ তথা সৃষ্টিকে ভালবাসা সুফিবাদেও তথা তাসাওউফের মুল ভিত্তি। বস’তঃআল কোরআনের বিশ্লেষন নামক দৃষ্টিতে বান্দা নাফসে আম্মারার প্রভাব মুক্ত হয়ে নাফসে লাওয়ামার স-র অতিক্রম কওে নাফসে মুতমায়িন্নার স-রে উন্নীত হওয়ার নাম,ই তাসাওউফ। অর্থাৎ মানুষকে কু-প্রবৃত্তির প্রভাব মুক্ত হয়ে বিবেকের স-রে, মানবতার স-রে আসতে হবে। সেখান থেকে পরিপূর্ণ আত্ম সর্ম্পন ও একনিষ্ঠ প্রেম মাধ্যমে মারিফতের প্রেম-সুধা পান করার স-রে পৌঁছাই হল সার্থকতা এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাঁন। ইসলাম ধর্মেও শানি-ও চিরন-ন বাণীও শ্বাশত রূপকে নির্মোহ ও নৈর্ব্যক্তিকভাবে যুগ যুগ ধরে সুফী-সাধকেরা প্রচার করে গেছেন এবং প্রচার করে চলছেন। এই ধারায় বার আউলিয়ার রদেশ চট্টগ্রাম এর মাইজভান্ডরী দর্শন এবং এর উপর অসমপ্রদায়িক ও প্রেমের বাণী সঠিক ভাবে ও কার্যকর পন’ায় পৃথিবীর দিকে দিকিে তুলে ধরে বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বেও মানব সভ্যতার বিকাশে, মানবিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠায় নতুন দিগনে-ও ধারা উম্মোচিত হোক, মাহে রবিউল আউয়াল মাসে ঈদ-এ-মিলাদুননবীতে এটাই হোক আমাদের প্রার্থনা। আমিন। সুফী-সাধকদের মাধ্যমেই মূলতঃ বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটে॥ সুফী সাধকদের কদও ও সম্মান তাই আজো অম্লান। কিন’ কিছু গোষ্ঠি। ও শ্রেণীর স্বার্থে ধর্মেও ব্যবহার এ ধারায় কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কিন’ এখনও দেশের সংখ্যাগুরু শানি- প্রয় ধর্মপ্রান মানুষের মধ্রে সুফীবাদেও আদর্শ, ধর্ম সহিষুতা ও কল্যাণের শিক্ষা দান কাটে। প্রয়োজন রয়েছে এ মনভাবকে আরো চাঙ্গা করা যাতে শানি- ও কল্যাণের পথে থেকে অশুভ শক্তি কালো থাবা বিস-ার না করতে পারে। সুফীবাদ কায়েম হোক এর কাঙ্খিত লক্ষ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত ভাবে। মাইজভান্ডারী দর্শন হোক জনপ্রিয় ও কল্যাণের পথের পাথেয়। এই আমাদেও কামনা। ছুম্মা-আমিন। পরলোক ও অমরত্ব ড. আমিনুল ইসলাম অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, প্রাক্তন ডীন, কলা অনুষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মরণের ফলে যখন দেহের বিন াশ ও ইহলোকের অবসান ঘটে, তখন প্রয়াত ব্যক্তির জীবনের সম্পূর্ণ পরিসমাপ্তি হয়, না তিনি লোকান-রিত হয়ে পরলোকের অধিকাসী হন? এ প্রশ্নটি সুপ্রাচীন কাল থেকে ভাবুক-দার্শনিকদের যেমন, সহজবুদ্ধি মানুষকেও তেমনি ভাবিয়ে তুলেছে। সব যুগের সব মানুষের তাই একই প্রশ্ন: মৃত্যুর পর মানুষ কি আবার হারানো জীবনের সন্ধান পাবে? এ প্রশ্নের প্রত্যুত্তওে পরলোকের সমর্থকরা যেমন যুক্তির পর যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন, সংশয়বাদীরাও তেমনি পরলোকের যেকোন চিন-া বা প্রত্যাশাকে অবাস-ব ও অমূলক বলে উড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস পেয়েছেন। এ থেকে একটি জিনিস অবশ্য পরিস্কার যে, মতামতের বিরোধ ভিন্নতা সত্ত্বেও দেশ-কাল নির্বিশেষে সব মানুষ পরলোক নিয়ে ভেবে এসেছে, এবং এর একটি সদুত্তর না পাওয়া পর্যন- অনাগত ভবিষ্যতের মানুষও ভাবতে থাকবে। পরলোকের চিন-া মানবজাতির ইতিহাসের সঙ্গে এতই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত যে, একে ঈশ্বরে বিশ্বাস মুখ্য নয়, কিন’ এমন কোন ধর্ম খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে পরলোক ও অমরত্বেও ধারণা কেন্দ্রীয় স’ানের অধিকারী নয়। মূলত এ যুক্তিতেই বিশিষ্ট মার্কিন দার্শনিক উইলিয়াম জেম্‌স মন-ব্য করেছেন; ধর্ম বলতে মানবজাতির বিপুর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ অমরত্ব এবং একমাত্র অমরত্বকেই বুঝে থাকে। নৃবিজ্ঞানীরা তাঁদেও গবেষণালব্ধ জ্ঞানের বরাত দিয়ে জানান, গুহায় বসবাসাকারী আদারে আদিম পূর্বপুরুষগণ জগতের স্রষ্টা ও নিয়ন-া ঈশ্বরের কথা ভাবার আগেই অমরত্বেও কথা ভেবেছেন। অমরত্বেও ধারণা যে ইশ্বরের ধারণার চেয়েও প্রাচীন, এর প্রমাণস্বূেপ তাঁরা কিছু আধুনিক উপজাতির দৃষ্টান- দিয়েছেন। আজও পৃথিবীতে এমন কিছু উপজাতি (যেমন সেন্ট্রাল অস্ট্রেলিয়ার নাঞ্জি উপজাতি) রয়েছে যারা ঈশ্বও সম্পর্কে কোন ধারনা রাখে না অথচ আত্মার অমরত্ব বিষয়ে বিশেষ মতবাদ পোষণ কওে থাকে। নাঞ্জিরা আজও কোন ধর্মমত গড়ে তুলতে পারে নি বটে; সকিন’ তারা এক ধরনের পূনর্জম্মে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। অমরত্বেও ধারণা মানবজাতির চিন-া ও চেতনায় এত বদ্ধমূল হবার কারণ সম্ভবত মৃত্যৃও অনিবার্য চিন-া। মানুষের কাছে মৃত্যু এমন একটি বাস-ব ঘটনা যার সম্পর্কে চিন-াশীল মানুষমাত্রই স্বাভাবিক কৌতুহল বোধ করে। অনিবার্য মৃত্যুও কথা ভাবতে গিয়ে সে আবর জগতে তার স’ান এবং মরণোত্তর অবস’া সম্বন্ধে ভাবতে বাধ্য হয়। মৃত্যুও এত গুুত্েব দেই, একই কারণে মৃত্যুও পরপার সম্বন্ধে এতবেশি ভাবি। এ ধরণের ভাবনা থেকেই ক্রমশ গড়ে উঠেছে পরলোক সম্বন্ধে মতবাদ ও পাল্টা মতবাদেও এক সুদীর্ঘ অনুক্রম। অমরত্বের ধারণার মুলে যে প্রত্যয়টি প্রথম থেকে মানুষের মনে বদ্ধমূল ছিল তা হলো এই যে, দেহের উর্ধ্বে ও অন-রালে ব্যক্তিসত্তার এমন একটি স’ায়ী উপাদন রয়েছে যা মৃত্যুতে দেহাবসানের পরও নিষ্ট হয় না। ব্যক্তিসত্তার এ অংশ স্বরূপগ্রতভাবে জড়দেহের চেয়ে স্বতন্ত্র, সুতরাং অমর ও অবিনশ্বও । মৃত্যুতে দেহ সর্বতোভাবে বিনষ্ট হয়ে যায়, বিন’ দেহাবসানের পরও যদি ব্যক্তিসত্তার এমন কোন অংশ মৃত্যুর হাত থেকে অব্যাহতি পেয়ে টিকে থাকতে পারে, তাহলে তা অবশ্যই জড়দেহের চেয়ে স্বতন্ত্র, এবং ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। বস’ত এ ধরনের ধারণা থেকেই মানুষ সিদ্ধান- উপনীত হয়েয়ে যে, আত্মা জড়ীয় নয়, আধ্যাত্মিক। দেহ বা জৈবশক্তি প্রাকৃতিক নিয়মের অধীন; কিন’ আত্মার অমরত্বেও বিষয়টি গুরযুত্ব লাভ করেছিল, তার দিনক্ষণ সঠিকভাবে নির্ণয় করা অসম্ভব। তবে পাশ্চাত্য দর্শনে সক্রেটিসই প্রথম এ বিষেয়ে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তিনি যে আত্মার অমরত্বে বিশ্বাসী ছিলেন তা তাঁর অনি-ম প্রয়াণের অব্যবহিত আগের একটি উক্তি থেকে সহজে অনুমেয়। বিচারকদের নির্দেশানুযায়ী হেমলক লতার বিষ পানের পর ত৭ার আসন্ন মৃত্যুচিন-ায় বিহবল শোকাভিভূত আত্মীয়-পরিজনদেও লক্ষ্য কওে তিনি বলেছিলেন: “তোমরা দুঃখ করো না। মনে রেখো, মৃত্যু কেবল আমার দেহকেই বিনাশ করবে, আত্মাকে নয়।” সক্রেটিসের এই সংক্ষিপত্র মতটিকেই পওে সুষ্টষ্ট লিখিত ূেপ দিয়েছিলেন ত৭ারই সুযোগ্য শিষ্য দার্শনিক প্লেটো। প্লেটো দর্শনের এক বড় অংশ আত্মার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফিডো ও ফিড্রাস গ্রনে’ এ বিষয়ে তিনি চিত্তাকর্ষক আলোচনা করেছেন। তার মতে পৃথিবীতে আত্মার আগমন এবং দেহে প্রবশে তার আদি নিবাস স্বর্গ থেকে পতনের ফল। এ জীবনে সৌন্দর্য অবলোকনের সময় আমরা যেু সুখের সাথে এক প্রচ্ছন্ন বেদনা অনুভব করি, প্লেটোর মতে তার এক গভীর কারণ আছে। কারণটি হলো এই: দেহলাভের আগে প্রকা্‌-জন্ম যে আদর্শ জগতে ছিল, এ জগতে সে সেই সৌন্দর্যানুভূতিএথকে বঞ্চিত। তাই পার্থিব সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করার সঙ্গে সঙ্গে তার সেই পুরনো অনুভূতি অস্পষ্ট বেদনার আকরে জেগে ওঠে। সৌন্দর্য ও শুভের প্রতি আমাদেও এই যে অব্যবহিত আকর্ষণ, প্লেটো একে অমরত্বে বিশ্বাসের এক অতি জোরালো ভিত্তি বলে অভিহিত করেছেন। প্লেটোর মতে, স্বরূপত আত্মা অজড়ীয় ও আধ্যাত্মিক এবং রিজন বা প্রজ্ঞা এর উচ্চতম বৃত্তি। প্রজ্ঞার সমবায়ে গঠিত আত্মা সরল, অমিশ্র ও অচ্ছেদ্য। আমরা জানি, মৃত্যু মানে মিশ্র পদার্থেও অন-র্ভুক্ত উপকরণাদিও বিচ্ছেদ। কিন’ যা অমিশ্র, এবং যাকে ক্ষুদ্রতর অংশে বিশ্লেষণ বা বিচ্ছেদ করা যায় না, মৃত্যু তাকে স্পর্শ করতে পাওে না; কারণ বিচ্ছিন্ন করার মতো একাধিক উপকরণ তাতে নেই। যেহেতু আত্মা একটি অমিশ্র দ্রব্য, সুতরাং এর বিনাশ বা মৃত্যু হয় না, হতে পারে না। পরবর্তীকলে টমাস একুইনাস এ যুক্তিটি গ্রহণ করেছিলেন এবং তা রোমন ক্যাথলিক ধর্মতত্তেবর একটি প্রাশাণিক মতবাদ হিসেবে ব্যাপকভাব গৃহীত হয়েছে। কিন’ বিভিন্ন মহল থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে যথেষ্ট। যেমন প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কানট্‌ বলেন, ধ্বংস বা মৃত্যু মানে শ্রি বস’ও অন’ভুক্ত উপকরণাদিও বিশ্লেষণ ও বিচ্ছেদ-প্লেটোর এই যে ধ্বংস-পদ্ধতি তা আবিস্কৃত হয়েছে জড়বস’ বিশ্লেষণের মাধ্যমে। কিন’ ঠিক একই ধ্বংস- প্রক্রিয়া যে আধ্যাত্মিক আত্মার বেলায় প্রয়োজ্য হবে তা হলফ কওে বলা যায় না। যেহেতু আত্মা জড়বস’ও চেয়ে স্বতন্ত্র স্বভাবের, সুতরাং এর ধ্বংস-প্রক্রিয়াও হবে ভিন্নতর। এ যুক্তিতেই কান্ট অজড়ীয় আধ্যাত্মিক আত্মার জন্য ভিন্ন ধরনের ধ্বংস প্রক্রিয়ার করা বলেছেন। তিনি বলেন: আত্মার বিস-ৃতিমূলক পরিমাণ রয়েছে। কারণ চেতনা বিভিন্ন সময়ে কম বা বেশী তীব্র হয়ে থাকে। যেমন কোন ব্যক্তি যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে, তখন তার চেতনার তীব্রতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়; আবার সেই ব্যক্তি যখন তন্দ্রা বা নিদ্রায় থাকেন তখন তাঁর চেতনার তীব্রতা হ্রাস পায়। এভাবে চেতনার তীব্রতা ক্রমশ হ্রাস কওে যদি ূন্যে নামিয়ে আনা যায়, তাহলেই বিচনাশ ঘটতে পাও আেত্মার। একটি গানের সুর যেমন ক্রমশ হ্রাস পেতে পেত্র বিলীন হয়ে যায়, আত্মার পক্ষেও তেমনি বিলীন হওয়া সম্ভব। বিস-ৃতিমূলক পরিমাণের অধিকারী আত্মাকেও তেমনি তার চেতনার তীব্রতা হ্রাস কও ধে্বংস করা যায়া। মন যে একটি সরল একত্ব, এবং এর অন-র্ভুক্ত উপকরণাদি বলাতে যে কিছু নেই, এ কথা আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরাও অস্বীকার করেছেন। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের মতে, মন কোন দ্রব্য নয়। আমরা যাকে মন বলি তা আসলে আপেক্ষিক ঐক্যের এমন একটি কাঠামো যা সচরাচর মোটামুটিভাবে স’ায়ী ও আঁট্‌সাটভাবে একীভূত থাকলেও অবস’ার চাপে বিভিন্ন সয়ে বিভিন্ন মাত্রায় বিভক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে পারে। সমকালীন মনোবিজ্ঞাানের দেয়া এ যুক্তি থেকে এটুকু পরিস্কার যে, আত্মাকে সরল দ্রব্য হিসেবে ধওে নেয়ার যে প্রচলিত ধারণা, তা কোন অভিজ্ঞতামূলক প্রায়োগিক যুক্তি-প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়, বরং একটি আধিবিদ্যকে বা পরাতাত্ত্বিক মতবাদ। আর এজন্যই একে অমরত্ব প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। হিন্দু ধর্ম ও হিন্দু দুর্শনের কেন্দ্রীয় ধারণা কর্মবাদ নামে পরিচিত। এ মতের প্রবক্তারা বলেন, কতিপয় জন্ম-জন্মান-ওে অনুষ্ঠিত সৎকর্ম ও পুণ্যানুষ্ঠানের ফলশ্রুতি হসিেবে ব্যক্তির আত্মা ঈশ্বর বা ব্রহ্মের সঙ্গে মিলিত হতে সক্ষম হয়। কোন বিশেষ আত্মা পরজন্মে কী হবে, তা নির্ভও করবে তার পূর্বজন্মে অর্জিত নৈতিক উৎকর্ষেও ওপর। বর্তমান জন্মেও পাপাচরের ফলে পরজন্মে মানুষ অধঃপতিত হয় নিম্নতন জীবনে, এমন কি ইতর প্রাণীর স-রে। সাধুতা, বিশ্বাস ও জ্ঞানের কল্যাণে উচ্চতর মর্যাদা অর্জনের মধ্য দিয়ে পরিণামে ব্যক্তি-আত্মা যখন বিশ্বাত্মার সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় এরপর তার আর কোন নতুন জীবন লাভের প্রযৈাজন হয় না। এটাই তার জীবনের পরম ঈঙ্গিত লক্ষ্য এটাই তার পরম কাম্য দিয়ে পরিণামে ব্যক্তি-আত্মা যখন বিশ্বাত্মার সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় এরপর তার আর কোন নতুন জীবন লাভের প্রয়োজন হয় না। এটাই তার জীবনের পরম ঈঙ্গিত লক্ষ্য এটাই তার পরম কাম্য। এ কর্মবাদও বিরুদ্ধে অন-ত একটি অভিযোগ করা যেতে পারে: পূর্ববর্তী জীবনের কর্মফলেজ জন্য যেকোন ধরনের পুরস্কার বা তিরস্কার অর্থবহ হবে তখনই, যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পূর্ববর্তী জীবনের সুস্পষ্ট স্মৃতি বা ধারণা রাখবে। পূর্বজন্মের মানুষকে পরবর্তী জীবনে পশু হিসেবে পাঠিয়ে শাসি- দেয়া ফলপ্রসু হবে তখনই, যখন সেই মানুষটি তার পূর্ববর্তী জীবনের কোন স্মৃতি বা চেতনা ব্যতিরেকে একজন মানুষকে শাসি- হিসেবে যদি পরজন্মে কুকুরের জীবনে দেয়া হয়, তাতে সেই প্রাক্তন মানুষ ও বর্তমান কুকরের কোন কষ্ট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ, মানুষের কাছে মনুষ্যত্ব যেমন কুকুরের কাছে কুকুরত্ব তেমনি এটি স্বাভাবিক ব্যাপার। অর্থাৎ কর্মেও মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য ও পরিচয় টিকিয়ে রাখার জন্য পূর্ববর্তী জীবনের কিছু-না-কিছু চেতন স্মৃতি আবশ্যক। জার্মান দার্শনিক লাইবনিজের একটি প্রশ্ন কৌতুকপ্রদ হলেও এখানে প্রাসঙ্গিক হবে বলে মনে করি: “জনাব, পূর্বজন্মে আপনি কি ছিলেন, তা ভূলে যাওয়ায় শর্তে যদি আপনাকে এ জন্মে চীনর দেশের রাজা করা হয়, তাহলে তাতে আপনার লাভ কী? এর অর্থ কি অনেকটা এরকম নয়, যে মুহূর্তে ঈশ্বও আপনাকে ধ্বয়স করেছিলেন, সেই মুহূর্তেই তাঁকে চীন পূর্বজন্মেও স্মৃতিবিবর্জিত পরবর্তী জীবন সম্পূর্ণ একটি নতুন জীবন। এ জীবনকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্ববর্তী জীবনের ধারাবাহিক রূপ বরঅ চলে না। যাই হোক, হিন্দু ধর্ম ও হিন্দু দর্শনের মূলকথা হলৈা, এ জীবন শাসি-স্বরূপ এবং সমগ্র জড়জগৎ অশুভ ও মায়া মাত্র। জীবন এমন একটি বোঝা, যার ভার আমাকে বহন করতে হয় জন্ম জন্মান-ও চক্রের মধ্য দিয়ে। এ ভার থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় জ্ঞান, বিশ্বাস ও সৎকর্মেও মাধ্যমে পরিশুদ্ধি অর্জন এবং পরিণামে ঈশ্বও বা ব্রহ্মের সঙ্গে মিলিত হওয়া। হিন্দু দর্শনের এই নৈরাম্যবাদী ধারাণাকে আও একধাপ এগিয়ে নেয়া হয়েছে বৌদ্ধ দর্শনে। বৌদ্ধ মতে, ব্রহ্মের সঙ্গে ব্যক্তির ভবিষ্যৎ মিলনের ধারণা অসম্ভব, সুতরাং পরিত্যাজ্য। জগতের অপরাপর সব সত্তার মতো ব্যক্তিসত্তাও নিয়ত পরিবর্তনশীল। আমাদেও আকার, অনুভূতি, প্রত্যক্ষণ ও বুদ্ধিমত্তা-এ সবই অস’ায়ী এবং অশুভ। স’ায়িত্বেও দাবিদার অহং বা আত্মা বলে কিছুই নেই; এ ধরনের বিকারহীন চেতনার ধারণাও নিছক কল্পনাবিলাস। এ সুক্তিতেই বৌদ্ধ দর্শনে চিরস’ায়ী পারলৌকিক জীবনর ধারণাকে নির্বোধদের মতবাদ বলে প্রত্যাখান করা হয়েছে। প্রশ্ন করা হয়েছে: যেখানে পর পর দুই মূহূর্তেও জন্য কোন ব্যক্তি এক ও অপরিবর্তিত থাকতে পারে না, পরিবর্তনই যেখানে জগং ও জীবনের মূল ধর্ম, সেখানে অনন-স’ায়ী পারলৌকিক জীবনের আশা অহেতুক নয় কি? এখানে উল্লেখ্য যে, প্রাচীন গ্রীক দর্শনে যেমন, হিন্দু দর্শনেও তেমনি ব্যক্তিগত অমরত্বের কোন অবকাশ নেই। পৃথিবঅর প্রধান ধর্মগুলোর মধ্যে ইহুদি ধর্মেই প্রথম ব্যক্তিগত অমরত্বেও স্বীকৃতি দেয়া হয়। ইহুদি মতের পটভুমি থেকেই ূেপ লাভ করেছে আত্মার অমরত্ববিষয়ক খ্রিষ্টীয় মতবাদ। অবশ্য ইহুদি চিন-ার প্রথম পবেৃ পরলোকের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, তা ছিল রীতিমত হতাশাব্যঞ্জক। বলা হয়েছিল পরলোক নয়, ইহলোকই অধিকতর উপভোগ্য; আর যতটুকু সম্ভব এ জীবনকেই উপভোগ করা মানুষের পক্ষেকাম্য। মৃত্যুও পরপাওে রয়েছে শেওল (ংযবড়ষ)। ওখানেস কোন শাসি-ও ব্যবস’া নেই বটে, কিন’ উপভোগ করারও কিছু নেই। আত্মার পক্ষে অনন-কাল ধওে ওখানে অবস’ান করা হবে এক একঘেঁয়ে ও বিরক্তিকর ব্যাপার।
এ নেবাশ্যবাদী পারলৌকিক ধারণা বদলে দিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেন জেরেমিয়া ও ইসায়া পয়গম্বও ত৭াদেও প্রাণবন- ও প্রেরণাদায়ক রচনায়। বিশেষত ইসায়া দ্বার্থহীন ভাষায় ঘোষনা করেন:
অধিশব ধহফ ংরহম, ণব ঃযধঃ ফবিষষ রহ ঃযব ফঁংঃ: ঞযু ফবধফ ংযধষষ ষরাব, সু ফবধফ নড়ফরবং ংযধষষ ধৎরংব. মৃত্যুও পর পরলোক ব্যক্তির পুনরুত্থান এবং ঈশ্বরের সন্নিধ্যসহ এক আনন্দঘন অনন- পাললৌকিক জীবনের যে আশ্বাস ইহুদি নবী-পয়গম্বারের দিলেন, তা থেকে গেড় ওঠে ইহুদি ধর্ম ও দর্শনে আত্মার অমরত্ব বিষয়ক মতবাদ। আগেই বলেছি, ইহুদি মতের পটভূমি থেকেই রূপ লাভ করেছিল আত্মার অমরত্ব নিষয়ক খ্রিষ্টীয় মতবাদ। দেহাবসানের পরও আত্মা অমর থেকে যাবে এই খ্রিষ্ট ধর্ম ও দর্শনের কেন্দ্রীয় বক্তব্য। এ মতে ব্যক্তি তার ব্যক্তিরত্বেও যাবতীয় বৈশিষ্ট্যসমেত অমর থাকে ও ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনের সুযোগ লাভ করে। এ অমরত্বের জন্য যা প্রয়োজন তা হলো নৈতিক দিক থেকে সৎ ও শুভ পার্থিব জীবন। নৈতিক দিক থেকে সৎ ও শুভ পার্থিব জীবনাযাপনের পুরস্কারস্বরূপ যারা অমরত্ব লাভ করেন, তাঁদেও জন্য মৃত্যু একটি আপতিক ঘটনা মাত্র; কারণ তাতে ত৭াদেও ব্যক্তিত্বেও অব্যাহত অসি-ত্ব বিঘ্নিত হয় না কোনমতেই। মৃত্যুও মাধ্যমে ইহলোক ও পরলোকের মধ্যে যোগসূত্র স’াফিত হয় এবং পূণ্যবানেরা পরলোকে তাঁদের স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে বেঁচে থাকেন। ব্যক্তির অমরত্বেও অবলম্বন যে তার আধ্যত্মিক আত্মা, এ গ্রীক ধারণা দ্বারা মুসলিম দার্শনিকদেও অনেকেই বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। আল-কিন্দি, আল-ফারাবী, ইব্‌নে সিনা প্রমুখ মুসলিম দার্শনিকেরা বলেন, মৃত্যুতে দেহাবসানের পর ব্যক্তি-আত্মা দেহের প্রভাবমুক্ত হয়ে নৈব্যক্তিক বিশ্বাত্মার সঙ্গে মিশে যায়। এ মতে দেহকে ব্যক্তিত্ব ও স্বাতন্ত্র্যের নির্দেশক বলে মতে করা হয়, আর তার আত্মাকে ধওে নেয়া হয় এমন এক সার্বিক বিশ্বাত্মার অংশ বলে যা থেকে তা সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও (পার্থিব জীবনে) মরণের পরে আবার মিলিত হবে। এই সার্বিক আত্মা ব্যক্তিক নয়। ব্যক্তিক, স্বতন্ত্র ও পৃথক হওয়া মানব জীবনের অপরিহার্য দুর্ভাগ্য। তবে এ দুর্ভাগ্র সহনীয় হয় কেবল এ প্রত্যাশায় যে, পরিণামে ব্যক্তি-আত্মা বিশ্বাত্মার সঙ্গে মিলিত হতে পারবে। ইসলাম ধর্মে দেহের মৃত্যুকে মানব জাতির অভিন্ন ও অলঙ্ঘনীয় নিয়তি বলে অভিহিত করা হয়েছে। পরলোক কসম্বন্ধে কোরান বলা হয়েছে: খোদা মাঠি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, মাটিতে সে পুনরায় বিলীন হবে, মাটি থেকেই আবার তাকে পুনরুত্থিত করা হবে। ঠিক কোনআকাওে মানুষ রোজ হাসওে পুনরুত্থিত হবে তা বলা যায় না, তবে হাসরের দিনের বর্ণনা প্রসঙ্গেকোরানে বরঅ হয়েছে: ঐদিন সব পাপীদেও চোখবন্ধ অবস’ায় খুবই বিমর্ষ এবং পূণ্যাত্মাদেও হর্ষোৎফুল্ল দেখা যাবে। এরপর সকলের আমরনামা খোলা হবে, এবং প্রত্যেকের স্মৃতিতে তার পার্থিব কার্যকলাপ ভেসে উঠবে। মানুষ তখন পরস্পর পরস্পরকে চিনতে পারবে, যদিও নিজেকে নিয়ে অতিশয় ব্যস- থাকার কারণে কেউ কারো কোন উপকারে আসার সুযোগ পাবে না। খোদা সকলের প্রতি পূণ ন্যায় ও সুবিচার করবেন এবং প্রত্যেক নিজ নিজ কৃতকর্মেও ফল ভোগ করবে। পাপীরা দোযখের আগুনের অসহনীয় যন্ত্রণা এবং পূর্ণাত্মারা বেহেশতের অনন- সুখের সৌভাগ্য অর্জন করবেন। মৃত্যুতে জীবনাবসানের পর মরণোত্তর জীবনের অসংখ্যা ব্যক্তিকে কি কওে পুনরুত্থিত করা হবে? এ প্রশ্নের জবাবে ইসলাম বলে, খোদা যদি প্রথমে শূন্য থেকে ধুলিকণা এবং ধুলিকণা থেকে রক্তমাংসের মানুষকে সৃষ্টি কওে থাকতে পারেন, তাহলে তাঁর পক্ষে মৃত্যুও পর ধ্বংসপ্রাপ্ত সেই মানুষকে তার পার্থিবরূপে পুনরায় সৃষ্টি করা কোন অসম্ভব ব্যাপার নয়। আরও বলা হয়েছে, যিনি জ্যোতিস্কমগুলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, সব জিনিসের ওপর যাঁর সর্বময় কর্তৃত্ব, সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার পক্ষে মৃতদেহে প্রাণ সঞ্চার করা অসম্ভব নয়। বিশ্বেও শুধু প্রধান ধর্মসমূহেই নয়, আধুনিক কালের বিশিষ্ট দার্শনিকদের অনেকেই অমরত্বেও অকুণ্ঠ সমর্থন করেছেন। যেমন, বিশিষ্ট ফরাসি দার্শনিক রুশো তাঁর বন্ধু ভলটেয়ারের কাছে লেখা এক চিঠিতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন: “এ জীবনে আমি এত বেশি দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছি যে, পরলোক প্রত্যাশা না কওে আমি পারি না। অধিবিদ্যার কোন কূটযুক্তি অমরত্ব ও ঈশ্বরের অসি-ত্ব সম্বন্ধে আমার মনে কোন সয়শয় সৃষ্টি করতে পারবে না। এ আমি জানি, এ আমি বিশ্বাস করি, এ আমি প্রত্যাশা করি এবং জীবনের শেস নিঃশ্বাস পর্যন- আমি এ বিশ্বাসে অটল থাকব।” রুশোর এই সিদ্ধানে-ও সদৃশ সিদ্ধানে- উপনীত হয়েছিলেন আধুনিক জার্মানির বিশিষ্ট দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট। তাঁর ‘শুদ্ধবুদ্ধিও সমীক্ষ’ (ঈৎরঃরঁিব ড়ভ চঁৎব জবধংড়হ) গ্রনে’ যুক্তির আলোকে ঈশ্বও, অমরত্ব এদেও কোনটিকেই প্রমাণ করতে না পেরে শেষ পর্যন- ব্যবহারিক বুদ্ধি ও নীতিবোধের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন: মানুষের সার্বভৌম প্রজ্ঞা ও সার্বিক নৈতিক স্বভাব দারি করে যে, সৎকর্মেও সঙ্গে সুরস্কার এবং দুস্কর্মের সঙ্গে তিরস্কার অনিবার্যভাবে যুক্ত থাকবে। অর্থাৎ সনীতিবান সৎলোকেরা জীবনে সুখে থাকবে, আর দুর্নীতিপরায়ণ অসৎ লোকেরা দুর্ভোগ পোহাবে। কিন’ পৃকৃতপক্ষেসচরাচর আমরা যা দেখি তা তার উল্টে। আমরা দেখি সৎ ও নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তিরা সুখের পরিবর্তে দুঃখ ভোগ করছে। আর অসৎ ব্যক্তিরা উত্তরোত্তর উন্নতি করছে। এতে নৈতিক নিয়মের উপযোগিতা সম্বন্ধে আমরা ভবনায় পড়ি, বড়ই হতাশ হই। কিন’ বিবেক আমাদেও বলছে যে সদ্‌গুণ পুরস্কারের এবয় পাপের সঙ্গে শাসি-ও সঙ্গতির জন্য পরলোক অবশ্যই থাকবে; আর তা ভোগ করার জন্য ইহলোকের পরও আমাদেও অব্যাহত অসি-ত্ব বা মরণোত্তর জীবন আবশ্যক। আগেই উল্লেখ করেছি, পরলোকের পক্ষে যেমন, বিরুদ্ধেও তেমনি প্রচুর যুক্তি দেয়া হয়েছে। দার্শনিক বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাঁরা পরলোকের ধারণা ও অমরত্বে বিশ্বাসকে অমূলক ও অবাস-ব প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন তাঁদেও যৌক্তিক অভিজ্ঞতাবাদী বলে অবিহিত করা হয়। তাঁদেও মতে চোখের সামনে মৃত্যুবরণের পরও প্রয়াত ব্যক্তি লোকচক্ষুর অন-রালে বেঁচে থাকে, পারলৌকিক জীবন যাপন করতে পারে-এ ধারণা রীতিমত হাস্যকর। এ থেকে তাঁরা প্রশ্ন করেন : আমি যখন বলি মৃত্যুর পরও আমি বেচে থাকব তাহলে ‘আমি’ কথাটি দ্বারা আমি কি বুঝাতে চাই? ‘আমি’ ‘তুমি’ প্রভৃতি ব্যক্তিব০াচক শব্দ চেয়ার, টেবিল ও আলু পটোলের চেয়ে স্বতন্ত্র স্বভাবের কিছু নয়। আর তা নয় বলেই তারা নির্দেশ করবে এমনসব সত্তাকে যারা কোন রহস্যেও আবরণে আবৃত নয়, বরং যে কোন জড়বস’ও মতোই ইদ্রিয়গ্রাহ্য; অর্থাৎ যাদেও দেখা, শোনা ও স্পর্শ করা যাবে। সহজ কথায়, ব্যক্তি বলতে আমরা কোন বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ও স্বতন্ত্রধর্মী সত্তাকে নয়, বরং এমন সত্তাকে নির্দেশ করব, যাকে জড়বস’ও মতো পদার্থিক উপায়ে বা প্রায়োগিক পদ্ধতিতে সনাক্ত করা যাবে। আত্মসত্তা সম্পর্কে যদি এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করা যায় তাহলে মরণের পর বেঁচে থাকার কিংবা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার প্রশ্ন উঠে না; কারণ মরণ মানেই দেহ বিনাশ, ব্যক্তিসত্ত ও চেতনার পূর্ণ অবসান। এখানে লক্ষণীয় যে, যৌক্তিক অভিজ্ঞতাবাদীরা ব্যক্তিসত্তা বলতে শুধু দেহকে এব ব্যক্তিগত ঐক্য বলতে দেহের সংহতিকে বুঝেছেন। দেহের অভ্যন-ওে বা অন-রালে আত্মা বা দেহের চেয়ে ভিন্ন স্বভাবের মন বরৈ যে কিছু থাকতে পারে, এ সম্ভাবনাকে ত৭ারা সুম্পষ্টভাবে বাতিল করে দিয়েছেন। কিন’ প্রশ্ন ওঠে: আত্মসত্তা ও দেহ, এ দুটি কি আসলেই এক ও অভিন্ন? সুখ-দুঃখ, আশা-প্রত্যাশা, বিশ্বাস-কল্পনার কর্তা প্রাণবন- ব্যক্তিকে স্রেফ পদার্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা যায় কি? আমার মনে হয় এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হবে ‘না’। এ কথা বলার অপেক্ষ রাখে না যে, স্বরূপগতভাবে মানসিক ঘটনাবলী, পদার্থিক বস’ ও ঘটনাবলীর চেয়ে স্বতন্ত্র। সুতরাং সঙ্গত কারণেই তাদেও পদার্থিক ঘটনাবলী, কিংবা দেহের আলোকে ব্যঅখ্যা করা যায় না, যেতে পারে না। যে মনস-াত্ত্বিক প্রক্রিয়া স্পষ্টতই দৈহিক প্রক্রিয়ার চেয়ে স্বতন্ত্র, তাদেও দেহের গুণ বা ধর্ম বলে আখ্যায়িত করা অয়ৌক্তিক। যেমন, স্বপ্নের ঘটনাবলী থেকে আমরা প্রমাণ পাই যে, দৈহিক প্রক্রিয় বন্ধ থাকা কালেও মানসিক প্রক্রিয়া চালু থাকতে পারে। আবার মন যে, মানসিক প্রক্রিয়া দৈহিক প্রক্রিয়ার অধীন; অন্যপক্ষে বরং এ-ও হতে পাওে যে, আমরা যাকে দেহ বলি তা মনের নিয়ন্ত্রক নয়, মানসিক প্রক্রিয়াবলীর সহায়ক মাত্র। ব্যক্তিমাত্রই দেহবিষ্টি সন্দেহ নেই; কিন’ এর অর্থ এই নয় যে, দেহ কেবলমাত্র দেহই ব্যক্তিত্বেও একমাত্র উপকরণ। অন-ত আমাদেও অভিজ্ঞতা তা সমর্থন কওে না। আমরা জানি যে, দেহ ছাড়াও ব্যক্তির মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাদেও পদার্থেও রূপ-রস-গন্ধ-শব্দ-স্পর্শেও মতো প্রয়োগিক উপায়ে প্রত্যক্ষ করা না গেলেও তাদের অসি-ত্ব ও গুরুত্ব উপায়ে প্রত্যক্ষ করা না। যেমন, ব্যক্তিমাত্রই সত্য সুন্দও শুভ ন্যায় প্রভৃতি মূল্যমানের লকে।ষ্য জীবনকে পরিচালিত করে, এবং এসব আদর্শ অনুশীলনের মাধ্যমে জীবনকে অর্থবহ ও মূল্যবেঅধ যতই বাস-ব ও গুরুত্বপূর্ণ হোক-না-কেন, এদও জড়ীয় বা পদার্থিক বলা যায় না। একই কারণৈ জড়ীয় বা পদার্থিক মানদণ্ডে এদও পরিমাপের প্রশ্নও ওঠে না। কিন’ যৌক্তিক অবিজ্ঞাতাবাদীরা এসব মানবীয় গুণ বা মূল্যবোধের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা স্বীকার না করে এদের অপরাপর পদার্থিক বস-ূও সমপর্যায়ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন, এবং এদের মূল্যায়নের জন্যও পদার্থিক মানদণ্ড ব্যবহারের প্রস-ার করেছেন। তাঁরা যদি মানবীয় গুণাবলীর স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করেছেন, তাহলে তাঁরা অবশ্যই বুঝতে পারতেন যে, আমি, তুমি, তিনি, প্রভৃতি যেসব শব্দ ব্যক্তির নির্দেশজক, তাদেও বস’ও নির্দেশক বলে মনে করা নিতান-ই এব হাস্যকর ব্যাপার। এখানে প্রশ্ন ওঠে: আলোচ্য সমালোচকেরা সনবসত্তার স্বতন্ত্র মর্যাদা স্বীকার করতে ব্যর্থ হলেন কেন? উত্তরে বলা যায় যে, তাঁরা আগেই মনগড়াভাবে ধরে নিয়েছেন যে, যা-কিছুকে জড়বস’ হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না, এবং যাদেও রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শেও মতো ঐন্দ্রিয়িক উপায়ে প্রত্যক্ষণ ও প্রতিপাদন করা যাবে না, তাদেও অসি-ত্বশীল হওয়ার কোন অধিকার থাকবে না। এ গোটা ধারণাটি রীতিমত স্বৈরতান্ত্রিক ও যথেচ্ছধর্মী। অভিজ্ঞতাকে ঐন্দ্রিয়িক বস’ও মধ্যে সীমিত করার এ প্রচেষ্টা অযৌক্তিক। আসলে বস’ও অসি-ত্বেও রূপ বা ধরন কেমন হবে, তার উপর আমরা কোন আদেশ জরি করতে পারি না। যা ইন্দ্রিয়গম্য নয়, তা জ্ঞানের যোগ্য নয়, এবং তা অসি-ত্বশীলও হতে পারে না। এ ধরনের কোন একতরফা ডিক্রিও আমরা জারি করতে পারে না। কারণ, একথা ভুলে গেলে চলবে না যে মানুষ হিসেবে আমরা বস’ও স্রষ্টা নয় আর তা নই বলেই কোনকিছুর অসি-ত্ব আমাদেও ইচ্ছাধীন হবে, এ দাবিও আমরা করতে পারে না। বিশ্লেষণী সমালোচকেরা আত্মসত্তাকে অজড়ীয় সত্তা হিসেবে গ্রহণ করুন, আর ন-িই করুন তাদেও আত্মসত্তর স্বাভাবিক রূপ পরিবর্তিত হবে না, এবং আমাদের ইচ্ছানিরপেক্ষভাবেই তা তার স্বগুণে বেং স্ব-অধিকাওে অসি-ত্বশীল থাকবে। আবার কেউ একে সনাক্ত করুক আর না- ই করুক, কেউ একে জড়ীয় বলুন আর আধ্যাত্মিক বলুক, তাতেও এর স্বরূপগতভাবে (আমাদেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে) আধ্যাত্মিক হয়ে থাকে, তাহলে কোন যুক্তির জোরেই আমরা এর অন্যথা সাধন করতে পাওে না; কারণ যুক্তিসঙ্গতভাবেই হোক, আর অযৌক্তিকভবেই হোক যা আছে, তা আছেই। কোন যুক্তির দোহাই দেয়ে আমরা এর অসি-ত্ব অস্বীকার করতে পারে না। এদিকে থেকে আত্মা বলে যদি আধ্যাত্মিকধর্মী কিছু থেকে থাকে, তার অসি-ত্ব খণ্ডন আমাদের যুক্তিবিচারের ক্ষমতাবহির্ভূত। বাস-বিক পকে।ষ যদি এ ধরনের আত্মা থেকেই থাকে, তাহলে তাকে প্রয়োগিক ও পদার্থিক উপায়ে সনাক্তক্ষম হতে হেব, অভিজ্ঞতাবাদীদেও এ দাবি হবে নিতান-ই অযৌক্তিক। অবশ্য এর অর্থ এই নয যে, আমি আধ্যাত্মিক আত্মার অসি-ত্বে বিশ্বাসী, এর অর্থ এ-ও নয় যে, আমি আধ্যাত্মিক আত্মার অসি-ত্ববিরোধী। আমি শুধু বুঝাতে চাচ্ছি যে, প্রয়োগিক পদ্ধতিতে, এমন কি বিশুদগ্ধ যুক্তির সাহায্যে, আমরা আত্মা সম্পর্কে কোন সুনিশ্চিত সমাধান দিতে পাওে না, এ বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে হলফ কওে কিছু বলতেও পারি না। যেকোন পরাতাত্ত্বিক বিষয়ের মতো এ বিষয়টির যে কোন সমাধান নিতান-ই আনুমানিক, এবং সে কারণেই সম্ভাব্য, সুনিশ্চিত নয়। পরলোকের স্বরূপ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন, দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তেমনি সাধারণ মানুষ ও ভাবুক-দার্শনিকদেও অনেকেই পরলোকের বাস-বতা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদেও কেউ কেউ পারলৌকিক জীবনের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। বলা হয়েছে, বর্তমান জীবন বহুলাংশে দুঃখ-দুর্ভোগ, অনিশ্চিতি ও অনিরাপত্তার জীবন। এ জীবনে অপূর্ণতা ও অসনে-াষের কারণে আমাদের মনে এমন এক উৎকৃষ্টতর পরলোকের প্রত্যয় ও অসনে-াষের কারণে আমাদেও মনে এমন এক উৎকৃষ্টতর পরলোকের প্রত্যয় ও অসনে-াষের কারণে আমাদের মনে এমন এক উৎকৃষ্টতর পরলোকের প্রত্যয় ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়, যেখানে আমরা ইহলোকের কোন দুঃখ-দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি দেখব না, বরং এক অনন- আনন্দময় জীবনের সন্ধান পাব। এ ব্যাপাওে বিভিন্ন ধর্ম আমাদের সৃনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছে এবং সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা ইহলোককে পরলোকের প্রস’তিপর্ব বলে ধওে নিয়ে পরলোকের অনন- সুখ- শানি-ও আশায় ইহলোকের দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-নির্য়াতনকে তুচ্ছ জ্ঞান করি। কিন’ এখানে প্রশ্ন থেকে যায় : পারলৌকিক জীবন কি আমাদের বর্তমান পার্থিব জীবনের অনন- দীর্ঘায়ন? তা-ই যদি হয়, তাহলে এ ইহলৌকিক জীবকে সীমাহীনভাবে দীর্ঘায়িত কারে আমরা কি আমাদের পরম ইপ্সিত দুঃখলেশহীন অভ্যাহত আনন্দ পাব? আমরা আমাদের ব্যক্তিগত অসি-ত্বের অনন- সি’তি আশা করি ঠিকই; কিন’ শৈশব, যৌবন ও বার্ধক্য-জীবনের এই তিন পর্বেও ঠিক কোন্‌টি অনন- দীর্ঘায়ন আমরা পরলোকে আশা করব? এ তিনটির সবগুলোই আমাদের বর্তমান পূর্ণ জীবনের আবশ্যিক পর্ব। এদের যেকোনটিকেই আমরা নির্বাচন করি না কেন, অনন-ভাবে ভোগ করার ফলে এর কি একঘেয়েও অস্বসি-কর হয়ে যাবে না? অনন- সুখের পারলৌকিক বীবন যত সুখের জবীনই হোক-না-কেন, অনন-কাল ধওে যদি আমরা সুখ ভোগ করি এবং দুঃখের কোন স্পর্শ অনুভব না করি, তাহলে এই বিরামহীন অনন- সুখ সত্যিই সুখকর বলে অনুভুত হবে কি? অর্থাৎ, বর্তমান পার্থিব জীবনকে অনন-ভাবে দীর্ঘায়িত করাই যদি আমাদের কাম্য কি-না, তা ভেবে দেখা দরকার বটে।
তহলে কী ধরনের পরলোক কাম্য? এ প্রশ্রে কোন বিজ্ঞানম্মত ও অভিজ্ঞতাপ্রসূত উত্তর জানা নেই। সঠিক খবর নেয়ার সদিচ্ছা নিয়ে একবার যদি পরলোকে যাবার চেষ্টা করি, তাহলে সেখান থেকে খবর নিয়ে পৃথিবীতে আবার হাজির হওয়ারও কোন সম্ভাবনা নেই। এ পরিসি’তিতে স্মরণাতীত কাল থেকে ভাবুক-দার্শনিকেরা বিচার-বিশ্লেষণ ও আন্দাজ-অনুমানের মাধ্যমে সমস্যাটির যে সমাধান হাজির করেছেন, আমরাও এর বেশি অগ্রসর হতে পারি না। সীমিকত সুযোগ-সুবিধার আওতায় এ গুরুতর প্রশ্নটি নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে যে, বর্তমান দেহের হুবহু পুনরুজ্জীবন এবং অবিনশ্বও আত্মার সঙ্গে এর পুনর্মিলনের মাধ্যমে পরলোকে আমরা যদি আমাদের নিজেদের পার্থিব সত্তা খুঁজে না- ও পাই তাতে হতাশ হবার কিছু নেই; কারণ দেহ-মনের হুবহু পুনরেুজ্জীবন সম্ভব না হলেও বর্তমান জীবনে অর্জিত আমাদেও অর্জিত নৈতিক উৎকর্ষ অনন-কালে না হলেও অনেকদিন টিকে থাকবে, এবং অন্যদের সৎকর্মেও প্রেরণার উৎস হবে-এ আশা আমরা করতে পারি। মোট কথা আমরা যে অমরত্ব নির্বিঘ্নে আশা করতে পারি তাকে যে বর্তমান জীবনের অবিকল কপি হতে হবে এমন কোন কথা নেই । আবার আমাদের যে বর্তমান দেহ নিয়েই পরলোক পুনরুত্থিত হতে হবে, নতুনভাবে বসবাস করতে হবে, এ আশাও অপরিহার্য নয়। দেহ ও আত্মার পুনরুত্থান বা মূর্ত অসি-ত্ব ছাড়াও নিছক স্মৃতির আকারেও এক ধরনের অমরত্ব আমরা আশা করতে পারি। দেহাবসানের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিসত্তর সব কিছু বিনষ্ট হয়ে যাবে- একথা আমরা মেনে নিতে এবং মরণকে সবকিছুর পরিসমাপপ্তি বলে স্বীকার করতে পারি না। তা যদি করি,. তাহলে এ জীবন অর্থহীন এবয় জীবনযাপন অসাধ্য হযে পড়ে। আগেই বলেছি, ব্যক্তি জীবনে দেহ ছাড়াও এমন কিছু সদ্‌গুন বা মূল্যমান রয়েছে যাদেও নিছক জড়ীয় পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা যায় না ঠিক, কিন’ তবু তারা আমাদের পরম কাম্য। যেমন, মানুষ জ্ঞান ও সত্যেও সন্ধান কওে, সুন্দও ও শুভের চর্চা করে। সত্য সুন্দও শুভ প্রভৃতি যেসব মূল্যবান ও মূল্যবোধের অনুশীলন ও অনুকরণের মাধ্যমে মানুষ তার জীবনকে অর্থবহ করার প্রয়াস পায়, যাদেও অভাবে মানবজীবন পাশবিক জীবনে অধঃপতিত হয়ে যায়, দেহাবসানের সাথে সেসব মূল্যবোধেও বিলুপ্ত হয়ে যাবে, এ আমরা মেনে নিতে পার না। সত্য সুন্দও শুভ প্রভৃতির যদি কোন কোন দেহাতিরিক্ত স’ায়ী মূল্য ও তাৎপর্য না থাকতো, তাহলে প্রতিকূল পরিবেশে দৈহিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য উৎসর্গ করে, এমন কি উৎপীড়ন-নিপীড়নের মুখেও মানুষ এদের সন্ধান ও অনুশীলনে অটল থাকতো না মানবদরদী দেশপ্রেমিক ব্যক্তিরা যে দেশের জন্য, সমাজের জন্য, ন্যায় ও সুবিচারের জন্য সংগ্রাম কও আেত্মবলি দিচ্ছেন তা অমূলক নয় হতে পাওে না। মোট কথা, ন্যায়, ধর্ম, সত্য ও সুন্দরসহ সব মূল্যমান ও মুল্যবোধের একটি স’ায়ী তাৎপর্য আছে-এ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। মরণের পরও এসব মূল্য যদি টিকে থাকে, তাহলে তারা থাকবে ব্যক্তির সেই ইচ্ছা ও আদর্শেও আকারে, যার সাহায্যে তার অর্জিত হয়েছে। ব্যক্তির সেই ইচ্ছা ও আদর্শ মরণোত্তর সি’তি লাভ করতে পাওে একাধিক উপায়ে। প্রথমত, তা সি’তি লাভ কর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সন-ানসন-তিসহ বিভিন্ন উত্তর পুরুষের মাধ্যমে। বিজ্ঞানীদেও মতে, ব্যক্তির জীবারুরর সমবায়ে গঠিত তাদেও বিনাশ নেই। এসব জীবানু পরিবর্তিত হয়ে বৎমানুক্রমে উত্তরপুরুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়ে পূর্বপুরুষদেও অর্জিত সদ্‌গুণ ও ভাবাদর্শকে টিকিয়ে রাকে। তাই স’ুল অর্থে মৃত্যুতে দেহ বিনষ্ট হলেও প্রকৃত প্রস-াবে ব্যক্তিসত্তা কখনো সর্বতোভাবে বিলীন হয় না। পরবর্তী বংশধরদেও মধ্যে প্রভাব বিস-ারের মাধ্যমে যেমন, মরণের পরে সমাজের অগণিত মানুষের স্মৃতির মধ্যেও তেমনি মানুষ যুগ-যুগান-ও ধও পে্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে। এ দিক থেকে হে ও আত্মার স্বরূপ ও পারস্পরিক সম্মন্ধবিষয়ক সীমাহীন বিতর্কে না গিয়েও আমরা বলতে পারি, প্লেটোর মতো ভাববাদী দার্শনিক যেমন, কার্ল মার্কসের মতো দ্ধান্দ্বিক বস’বাদী মনীষীও তেমনি মৃত্যুঞ্জয়ী, ইহলোক ত্যাগের পর পরলোকের অধিবাসী। তাঁদেও আত্মা বলে কোন সত্তা পরলোকে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে কি-না, এ বিতর্কে প্রবেশ না করেও আমরা বলতে পারি অগণিত মানুষের স্মৃতিতে তাঁরা অমর হয়ে আছেন এবং এ অর্থে সদগুণ ও সৎকর্মেও অধিকারী সব মানুষ অমরত্বের দাবিদার। আধ্যাত্মিক আত্মার রূপ-স্বূেপ বিষয়ে কোন পক্ষ সমর্থনের চেষ্টা না কওে এবং ধর্মে বণিত স্বর্গ-নরকরে ভাষ্য সম্পর্কেও কোন মন-ব্য না কওে, আমরা বরং এক মধ্যপথ অবলাম্বন করতে পারি। এ অর্থে পরলোক একটি আছে, কিন’ এ পরলোকইহলোকের সমান-রাল কোন নতুন জগৎ নয়, বরং একই ইহজগতের এক ধারাবাহিক নুতন পর্ব। ইহলোক থেকেই আমরা প্রয়াত ব্যক্তিদের জন্যে এটাই পরলোক; আর প্রয়াত হয়েও বিস্মৃত হন নি বলেই তাঁরা অমর। দেহ ও আত্মার পুরুত্থান এবং পার্থিব জীবনের হুবহু মূর্ত অসি-ত্ব ছাড়া নিছক স্মৃতির আকাওে যে অমরত্ব আশা করা যায়, সেই আশা নিয়ে এবং কবিগুরুর সুরে সুর মিলিয়ে বলি: মরিতে চাহি না আমি সুন্দও ভুবনে মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই।

বাবা ভান্ডারী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী ইদ-এ মিলাদুন্নবীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন

No Comments

You must be logged in to post a comment.